

গতকাল প্রথম দফার নির্বাচনে সারা ভারতের নির্বাচনী ইতিহাসে পশ্চিমবঙ্গ সবচেয়ে ভোটের যে রেকর্ড যে সৃষ্টি করেছে, তার জন্য অন্যতম একটি কারণ হলো এই বুলডোজার এবং সাঁজোয়া ভ্যানের দাপাদাপি রাজপথে মানুষকে অনেকটা ইমার্জেন্সির কথা মনে করিয়েছে। চিরকালীন স্বাধীনতায় অভ্যস্ত বাঙালি জাতি গতকালের ভোট এস আই এর পরবর্তীতে তার মধ্যে সৃষ্টি হওয়া ভীতির পাশাপাশি এই অতি সক্রিয়তার বিরুদ্ধেও দিয়েছে বলে ধারণা সরকার পক্ষের। আসলে নির্বাচন কমিশনের বদান্যতায় যে নির্বাচন সূচী পশ্চিমবঙ্গের ঘোষণা হয়েছিল তার মূল লক্ষ্য ছিল একটাই, ২০১৯ সালে বিজেপির উর্বর জমিতে তাদের ফলাফলের পুনরাবৃত্তি করে দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে ঝাঁপিয়ে পড়া। কিন্তু প্রথম দফার নির্বাচনের এই ঐতিহাসিক ভোটের হার প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার না এস আই আরের নির্যাতনের বিপক্ষে এ সম্পর্কে তর্কের অবকাশ থাকলেও চড়া রোদ উপেক্ষা করে মহিলাদের প্রধান যে মমতা ব্যানার্জির হাত শক্ত করছে সে সম্পর্কে নিঃসংশয় সব পক্ষই। প্রথম দফার নির্বাচনে ফসল ঘরে তুলবে কারা সে সম্পর্কে চার তারিখ চূড়ান্ত চিত্র জানা গেলেও এই মুহূর্তে যে দুপক্ষই সমানে সমানে প্রথম দফায় লড়াই করেছে তা নিয়ে নিসংশয় সব পক্ষই।
প্রথম দফার নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের মানুষেরা কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নজরের মধ্যেও সারা ভারতের নির্বাচনের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ভোট দিয়ে যে নজির সৃষ্টি করল, তার প্রতিক্রিয়া নিয়ে আত্মবিশ্বাস দুপক্ষ হলেও এই নির্বাচনে এই ভোটদানের কারণ শুধুমাত্র দিদির পক্ষে মহিলাদের রায় অথবা প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা অর্থাৎ পরিবর্তন এটা ভেবে নেওয়া অতি সরলীকরণ হবে। পশ্চিমবঙ্গের ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গের নয় সারা ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি মাইলস্টোন হতে চলেছে। যে নির্বাচনে বিরোধী শিবির কেন্দ্রীয় সরকারে থাকার সুবিধার নিয়ে, সমস্ত ফ্রন্টে রাজ্য সরকারকে উৎখাত করার প্রচেষ্টা করছে তাতে নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোও তাদের ঐতিহ্য ভেঙ্গে জড়িয়ে পড়ে গনতন্ত্রের পক্ষে ভুল বার্তা দিচ্ছে বলে জনমানসে ধারণা তৈরি হয়েছে। ১৫ বছরের সরকারে থাকার ব্যর্থতা গুলি এই নির্বাচনে গৌণ। সাধারণ মানুষের মধ্যে বেকারত্ব ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে থাকা ক্ষোভের প্রতিফলন ভোট বাক্সে যাওয়ার বদলে এসআইআর এ নাম কেটে যাওয়ার কিংবা লজিক্যাল ডিসক্রিমিনেন্সির ভয় কাজ করছে। পশ্চিমবঙ্গের প্রথম দফা নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছে যে ঘটনাগুলি সেগুলি আলোচনা করলেই আমরা বুঝতে পারব প্রথম পান নির্বাচনের গতি প্রকৃতি কোন দিকে।