এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  সমোস্কিতি

  • প্রথম দফায় কী ভাবছে বাংলা - নির্বাচনী ইস্যুর প্লেয়িং ইলেভেন

    তন্ময় সিংহ
    সমোস্কিতি | ২২ এপ্রিল ২০২৬ | ৩৩ বার পঠিত


  • পশ্চিমবঙ্গে ২০২৬ এর নির্বাচন যেন ভারতীয় রাজনীতিতে এক হটস্পট। বাংলার গরমের সাথে পাল্লা দিয়ে দিল্লির তরফে গরম বাড়ানো হচ্ছে বাংলায়। সেন্ট্রাল বাহিনীর উর্দীধারীদের মিটিং এর ছবি ফলাও করে প্রচার হচ্ছে, রাস্তায় বিভিন্ন ধরনের সাঁজোয়া গাড়ি দেখা যাচ্ছে তবুও মানুষ চুপচাপ। শাসক দলের সভাতে যেভাবে বাংলার মানুষ আগেও ভিড় করে এসেছে সেই ভিড় এখনো অব্যাহত, ২০১৯ এর পর থেকে বিজেপির পালে যে হাওয়া লেগেছিল ২০২১ এর পরে যে ভাটার হাওয়া চলছে, প্রকাশ্যে এখনো তা অব্যাহত শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রীর সভাতে লোক হচ্ছে যথেষ্ট। এই সবকিছু মিলিয়ে পশ্চিমবাংলা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এক অভূতপূর্ব নির্বাচনে ভোট দিতে চলেছে। এখন দেখার এবারের এই ভোটের প্রচারে এবং পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের প্রচারে কী নজর কাটলো এবং এই নির্বাচনের যদি আমরা প্লেয়িং ইলেভেন ইস্যুভিত্তিক তুলে ধরি সেগুলি কী ছিল।

    পশ্চিমবঙ্গ যে মেরুকরণের রাজনীতির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হতে চলেছে তা হঠাৎ করে মানুষ বুঝতে পারে ২০১৯ এর নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার সাথে সাথে। প্রথম দফায় যে ১৫২ টি আসনে ১৬ টি জেলায় ভোট হতে চলেছে সেখানে বিজেপি পেয়েছিল ৮৪ টি আসন ২০১৯ সালে, তৃণমূল ৫৯ টি। কিন্তু ২০১৯ এর লোকসভা ভোটের পর বিজেপির দাপাদাপি এবং দিল্লী বাসীদের অতিরিক্ত উৎসাহ ও তৃণমূল ত্যাগ করে নেতাদের বিজেপিতে যোগদান করার হিড়িকে তিতিবিরক্ত মানুষ ২০২১ শে ওই একই ১৫২ টি বিধানসভায় মাত্র ৫৯ টি দিয়েছিল বিজেপিকে এবং ৯২ টি তৃণমূলকে। ২০২৪ এর লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি আরো কমে হয় ৫৭টি এবং তৃণমূল মোটামুটি শক্তি ধরে রাখে জয়লাভ করে ৮৩ টি তে। বিধানসভাতে খাতা না খুলতে পারলেও লোকসভা গুলিতে কংগ্রেস এবং বামফ্রন্ট এগিয়েছিল ১০-১২ টি আসনে। এই পটভূমিকায় পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬ এর ফলাফল কি হতে চলেছে তা যে নির্ধারণ করবে এই প্রথম দফার ভোট অন্তত বিজেপি শিবিরের জন্য সে সম্পর্কে কোন শিবির এই সন্দেহ নেই। তাই শেষ মুহূর্তে প্রস্তুতি তুঙ্গে সমস্ত দলেরই অন্যদিকে সিপিএমের লড়াই শুধুমাত্র খাতা খোলার এবং কংগ্রেসের ক্ষেত্রে মালদা, উত্তর দিনাজপুর,মুর্শিদাবাদ এবং পুরুলিয়াতে ত্রিমুখী লড়াইয়ে নিজেদের ভোটব্যাঙ্কে ধরে রেখে বিশেষত সংখ্যালঘু মানুষকে কংগ্রেস মুখী করে ডাবল ডিজিটে পৌঁছানো। নির্বাচন ঘোষণার পর থেকে পশ্চিমবঙ্গের ভোটারদের সাথে দলগুলি যে জন মুখী কর্মসূচি গুলো নিয়েছিল তার ফ্যাক্টরগুলো আলোচনা করলেই আমরা এই প্রথম দফার নির্বাচনে বাংলা কী ভাবছে সেই সম্পর্কে একটা ধারণা পাবো।

    ইস্যু ১ : লক্ষীর ভান্ডার বনাম অন্নপূর্না ভান্ডার:: সারাদেশে একক ভাবে চলা কোন সর্ববৃহৎ সরাসরি অর্থ প্রদানের প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গের লক্ষ্মীর ভান্ডার যাতে প্রায় আড়াই কোটি মহিলা মাসে দেড় হাজার টাকা এবং জনজাতি হলে ১৭০০ টাকা পায়। অন্যান্য সময় ভোট এলেই এই টাকাটিকে ভিক্ষা বলে এক শ্রেণীর দল কটাক্ষ করলেও ২০২১ এবং ২০২৪ এ তৃণমূলের ভোট বাক্সে মহিলা ভোট উজাড় করে পড়ে যাওয়া কি আটকাতে বিজেপি এবারে নিয়ে এসেছে জুন মাস থেকে চালু করবে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার যাতে মাসিক ৩০০০ টাকা পাবে মহিলারা এরকম একটি প্রতিশ্রুতি। কিন্তু লক্ষীর ভান্ডার যেভাবে গ্রামের এবং প্রান্তিক শহরের মহিলাদেরও স্বশক্তিকরণ করেছে সেখানে প্রতিশ্রুতি কতটা এই মোবাইল ফোনের জমানায় দাঁড়িয়ে মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে, সে সম্পর্কে সন্দেহ আছে। তৃণমূলের তরফ থেকে প্রচার করা হচ্ছে যে বিজেপির প্রচার করেও বিভিন্ন জায়গাতে এই টাকা দেয়নি এবং তার উদাহরণ হাতের কাছে আছে বিহার, ওড়িশা এবং দিল্লী। দুটি দলেরই আইটি সেলের তরফ থেকে প্রচার এবং পাল্টা প্রচারে পশ্চিমবঙ্গের ভোটের অন্যতম নির্ণায়ক হতে চলেছে মহিলা ভোট কোন দিকে থাকবে তা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। অন্তত এই ১৬ টি জেলার ১৫২ টি বিধানসভায় ক্ষেত্রে এই মহিলা ভোট যে এবারেও বেশিরভাগটাই তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে যাবে সে সম্পর্কে বিরোধীদল অবহিত তাই নির্বাচন চলাকালীন তারা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের জন্য ফর্ম ফিলাপ শুরু করেছে কিন্তু তবু দিনের শেষে অন্নপূর্ণার থেকে অ্যাডভান্টেজ লক্ষীই।

    ইস্যু ২ : বাংলার ডোল বনাম ডাবল ইঞ্জিনের ডোল:: পশ্চিমবঙ্গের ২০২৬-এর নির্বাচনের প্রথম দফার অন্যতম বড় ইস্যু ছিল শাসকদলের জনমুখী পরিকল্পনা। মমতা ব্যানার্জির সরকারের মানবিক প্রকল্প এবং মানুষের কাছে সরাসরি সরকারি সুযোগ-সুবিধা গুলো পৌঁছে দেওয়া যে সারা পশ্চিমবঙ্গে জনমত দলনির্বিশেষে বাস্তবায়িত হয়েছে সে সম্পর্কে বিরোধী দলগুলোও স্বীকার করে একবাক্যে। কেন্দ্রের সাথে সম্পর্ক ঠিক না থাকার জন্য কৃষক বন্ধু, স্বাস্থ্য সাথী যেমন কেন্দ্রীয় সরকারের বিকল্প তেমনি সারা পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে বিনামূল্যে চাল দেওয়া কেন্দ্রীয় সরকারকে সাথে নিয়ে রাজ্য সরকারের একটি অভাবনীয় পদক্ষেপ। এর সুফল ভোট বাক্সে পড়বেই এ আশা শাসক শিবির করে। কেন্দ্রীয় সরকারের টাকা না পাওয়াই রাজ্য সরকার নিজেরাই এক লক্ষ কুড়ি হাজার টাকা করে দিয়ে গ্রামে যে বাড়ি তৈরির প্রকল্প নিয়েছে তার সুফল অনেক মানুষ পেলেও এই টাকাতে বাড়ি হচ্ছে না এই ধারণাও সাধারণ মানুষকে খুব একটা সরকারের প্রতি আস্থাশীল রাখতে পারেনি। চাষীদের ফসলের দাম ঠিকঠাক না পাওয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ থাকলেও, সারের দাম বৃদ্ধি নিয়ে এবং কালোবাজারি নিয়ে বাংলার কৃষক সমাজ কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি আস্থাশীল নয়। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের বরাদ্দ না থাকায় ১০০ দিনের কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং গ্যাসের দাম বৃদ্ধি সহ অন্যান্য ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা কম এটা অস্বীকার করার জায়গা নেই। এই সরকারি সুবিধা পাওয়ার জন্য মানুষের ভরসা যে বর্তমান তৃণমূল সরকারের প্রতি বেশি সে সম্পর্কে নিঃসংশয় শাসক শিবির।

    ইস্যু ৩ : বহিরাগত বনাম ঘুষপেটিয়া :: নির্বাচনের ন্যারেটিভ ঠিক করার জন্য নিজস্ব যন্ত্র কে কাজে লাগিয়ে তৈরি করা হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ রোহিঙ্গাতে ভরে গেছে। নির্বাচন তালিকা সংশোধন হলে প্রায় দেড় কোটি রোহিঙ্গা ধরা পড়বে। এস আই আর এর প্রথম পর্বে প্রায় ৬০ লক্ষ মানুষ মৃত অথবা স্থানান্তরিত হিসেবে বাদ যায়, রোহিঙ্গা মুক্ত পশ্চিমবঙ্গের লক্ষ্যে শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গেই পরবর্তীকালে লজিক্যাল ডিস্ক্রিমিনেন্সি নিয়ে আসা হয় এবং তাতে আরো ২৭ লক্ষ মানুষকে বাদ দেওয়া হয়। যদিও সবমিলিয়ে দেখা যায় মোট বাতিল ভোটারের প্রায় ৭০ শতাংশই হিন্দু। ৯০ লক্ষ মানুষের মধ্যে ৬৩ লক্ষ হিন্দু এবং ২৭ লক্ষ মুসলমানের নাম বাদ যায়‌। এই এস আই আর পর্বে সাধারণ মানুষকে যেভাবে তাদের তথ্যের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অথবা নাকানি চোপানি খেতে হয়েছে, তাতে এস আই আর এর শুরুতে যে সমস্ত মানুষজন ভাবছিল যে রোহিঙ্গা ধরা পড়বে কিন্তু দিনের শেষে মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষদের ওপর যেভাবে নাম বাদের খাড়া নেমে এসেছে তাতে ন্যারেটিভ হিসেবে যতই আকর্ষণীয় লাগুক না কেন ঘুসপেটিয়া শব্দটি এস আই আর পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে অযথা হয়রানির দিকে ঠেলে দিয়েছে বলে ওয়াকিবহাল মহলের মত তাই এর সুফল কতটা শাসকদলের বিপক্ষে বিরোধী দলের কাছে যাবে, এ সম্পর্কে সন্দিহান সব পক্ষই। তবে বিভিন্ন বিধানসভা নির্বাচন যেগুলি ২০২১ এ কম মার্জিনে ফলাফল হয়েছিল, সেখানে এই নাম বাদ যাওয়া এবং যদি তা এক শ্রেণীর বিশেষত হয় তাহলে শাসকদলের কাছে চিন্তার এর সম্পর্কে কোন সন্দেহ নেই। আবার খড়গপুর এবং উত্তর চব্বিশ পরগনার কিছু আসনে হিন্দু ভোট বেশি মাত্রায় বাদ পড়ে শাসক শিবির কে যে অ্যাডভান্টেজ দিচ্ছে সে সম্পর্কেও কোন সন্দেহের অবকাশ নেই।

    ইস্যু ৪ :: কেন্দ্রীয় এজেন্সি বনাম রাজ্য প্রশাসন :: পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন ঘোষণা হওয়ার সাথে সাথে যেভাবে কেন্দ্রীয় এজেন্সি গুলি ইলেকশন কমিশন অফ ইন্ডিয়ার অধীনে এবং কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে পশ্চিমবঙ্গে হিংসা মুক্ত নির্বাচন করার কথা বলছে, এবং তা আসলে রাজ্য প্রশাসনকে যে চাপে রাখছে সে সম্পর্কে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই। অন্যান্য রাজ্যের মতন না হলেও পশ্চিমবঙ্গের শাসক দলের তৈরি করা রাজ্য প্রশাসনের উপর থেকে নিচ পর্যন্ত যেভাবে বদলি করে নাড়া দিয়েছে নির্বাচন কমিশন এবং তাতে রাজ্য প্রশাসনকে কার্যত অসহায় লেগেছে সে সম্পর্কে ওয়াকিবহাল শাসক শিবির। আঘাত আসতে পারে এ সম্পর্কে আগাম ধারণা থাকা সত্ত্বেও ব্যাপকতা আন্দাজ করতে পারেনি তারা। যদিও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাঁজোয়া বহরের সাথে সাথে, বিজেপির পালে হাওয়া লাগছে বলে ভাসিয়ে দেওয়ার যত চেষ্টাই হোক না কেন ২০১১ এর পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে ভয় মুক্ত পরিবেশ তৈরি করেছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী সে সম্পর্কে কোন সন্দেহ নেই। তবে প্রশাসন নির্ভর শাসনকার্য পরিচালনা করার পরে নির্বাচনের মুহূর্তে শাসক শিবির কিছুটা ব্যাকফুটে এ সম্পর্কে কোন দ্বিমত নেই।


    ছবি: ইন্টারনেট


    ইস্যু ৫ : শাসক শিবিরের নেতৃত্বের অভাব বনাম বিরোধী শিবিরের মুখের অভাব :: পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে স্থানীয় নেতার অভাব দুই শিবিরেই খুব স্পষ্ট। প্রশাসনে ঝাঁকুনির পরে তাকে সামাল দেওয়ার মতো নেতৃত্ব এই মুহূর্তে বেশিরভাগ ব্লকে জেলাতে শাসক শিবিরে নেই তা বুঝতে পেরেছে শাসক। বিভিন্নভাবে বিভিন্ন প্যাক কে ম্যানেজ করে নেতৃত্বে থাকা অংশ যে আদতে জনবিচ্ছিন্ন এবং সামনে দাঁড়িয়ে কোন সমস্যা সমাধানে অক্ষম, সব কিছুই কলকাতার কেন্দ্রিক আদেশের প্রতিফলন এটা পরিষ্কার। তবু নির্বাচনের দিনের যে মেশিনারি, ভোট দাতাদের সাথে নিরন্তর যোগাযোগের সেখানে শাসনে থাকায় সুবিধা পাচ্ছে তৃণমূল। অন্যদিকে সিপিএমের শেষের জমানাতে তৃণমূলে যেভাবে বিকল্প মুখ এবং মানুষের ভরসার বিকল্প তৈরি হয়ে গিয়েছিল। প্রায় সাত বছর পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম বিরোধী দল হয়েও পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি এখনো তাদের সংগঠন পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারিনি বুথ স্তরে। স্থানীয়ভাবে আস্থাশীল কোন মুক্তি বিরোধী শিবিরে বেশিরভাগ অংশেই নিয়ে আসতে পারেনি সিপিএমের একটি অংশ আজও সক্রিয় বিরোধী শিবিরে। যাদের ও যার পরিবারের অত্যাচারের ইতিহাস আজও মানুষ ভুলতে পারেনি। তাই এবারের নির্বাচন সংগঠন ভিত্তিক না হলেও শাসনে থাকার সুবিধা পাবে শাসকদল।

    ইস্যু ৬ : ঝালমুড়ি বনাম বাঙালি অস্মিতা :: বাঙালিরা ঝালমুড়ি খেতে ভালোবাসে না চপ মুড়ি খেতে ভালোবাসে, কাতলা খেতে ভালোবাসে না ইলিশ, পশ্চিমবঙ্গের ২০২৬ এর নির্বাচনের অন্যতম বড় ইস্যু এটি। মাছে ভাতে বাঙালির যে পরিচয়, তা বিজেপি এলে থাকবে না এ প্রচার বাড়ি বাড়ি পৌঁছে যাচ্ছে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে। ২০২১ এর কুফল ভোগ করা বিজেপি তাই প্রচার করছে, হাতে মাছ নিয়ে। গতবারে বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে নিরামিষ ভোজনের যে জনসংযোগ প্রক্রিয়া চালিয়েছিল বিজেপি, তা সম্পূর্ণ বন্ধ। অন্যদিকে শাসক শিবির বিভিন্ন রাজ্যে বিজেপির জারি করা ফতেয়া গুলি প্রচার করছে আগামীদিনের জন্য। বাঙালি অস্মিতার প্রচার ২০২১ এর মত তাদের দিকে রাখতে বদ্ধপরিকর শাসক শিবির। অন্যদিকে বিজেপিও বহিরাগত বাঙ্গালীদের পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে আসছে ভোটদানের জন্য শাসক শিবির প্রচার করছে বাইরের বিজেপি রাজ্যগুলিতে যে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর অত্যাচারের ঘটনাগুলো। সবে মিলিয়ে কে বেশি বাঙালি হতে পারে সেই নিয়ে জমজমাট নির্বাচন। নির্বাচনের প্রথম দফা তে ঝাড়গ্রামে দাঁড়িয়ে ঝালমুড়ি খেয়ে সেই বাঙালিয়ানা কেই ভালবাসতে চাইলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী।

    ইস্যু ৭: যুবসাথী বনাম দুর্নীতি:: পশ্চিমবঙ্গে সরাসরি যুব সমাজকে আকৃষ্ট করার জন্য ১৮ থেকে ৪০ বছরের মাধ্যমিক পাস বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য রাজ্য সরকার চালু করেছে যুব সাথী যেখানে দেড় হাজার টাকা মাসিক ভাতা পাঁচ বছর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আসলে শিক্ষা ক্ষেত্রে দুর্নীতির পরে পশ্চিমবঙ্গে দুর্নীতি যেন সমার্থক হয়ে গেছে এটা একটা ধারণা সাধারণ মানুষেরও। রাজ্যে চাকরি নেই বেসরকারি শিল্প গড়ে ওঠেনি স্বয়ং একজন জনপ্রিয় এমপি একটি ইংরেজি ভাষার সাক্ষাৎকারে বলছিলেন যতজন এম এসএমই অর্থাৎ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হিসেবে নিজেদেরকে নথিভুক্ত করেছেন তারা চাকুরিজীবী এই অনুযায়ী ৯৩ লক্ষ MSME হয়েছে। তার নিজের মুখের এক্সপ্রেশনই বলে দিচ্ছিল এই একটা বিষয়ে তিনি কত অসহায়। অন্যতম বিরোধী শিবিরের প্রচারের মূল অস্ত্র পশ্চিমবঙ্গে বেকারত্ব এবং দুর্নীতি সে সম্পর্কে কোন সন্দেহ নেই। সাধারণ মানুষ এই প্রচার গ্রহণ করছে কিন্তু গ্রামের দিকে প্রান্তিক মানুষদের জন্য সেখানে নিয়মিত ভাতার ব্যবস্থা থাকায় একটি পরিবারের সংসার চালাতে যেটুকু দরকার তা ভাতার থেকে হয়ে যাচ্ছে এটি প্রতিষ্ঠিত সত্য হওয়ায় বেকার যুবকেরা এই দেড় হাজার টাকা কে সরকারের তরফ থেকে তাদের জন্য নিয়মিত মাসোহারা ভেবে সরকারের পক্ষে থাকবে না এই সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি এবং কর্মসংস্থানের ইস্যুতে বিরোধী শিবিরে যাবে, তা নির্বাচনে এস আই আরের প্রভাব কার পক্ষে যাবে তার মতনই জটিল একটি ধাঁধা।

    ইস্যু ৮: ভাইজান বনাম নিরাপত্তা:: পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে শাসক শিবিরের পক্ষে সব দিন থেকে এসেছে সংখ্যালঘু সমাজ। ২০১৯ এর পর থেকে এই সংখ্যালঘু সমাজকে শাসকদের থেকে দূরে সরিয়ে নেওয়ার জন্য কখনো ভাইজান কখনো বাবরি মসজিদ প্রতিষ্ঠা নিয়ে বিভিন্ন ইস্যুতে নতুন সংখ্যালঘু নেতার ও দলের বেড়ে ওঠা দেখেছে পশ্চিমবঙ্গ। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলাগুলিতে প্রায়শই রাজনৈতিক প্ররোচনায় দাঙ্গা ও ভাঙ্গচুরের সাক্ষী থেকেছে পশ্চিমবঙ্গ। মোথাবাড়ির ঘটনা নির্বাচনের আগে তার একটি উল্লেখযোগ্য প্রমাণ অন্যদিকে এস আই আর এর মাধ্যমে সংখ্যালঘু সমাজকে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী তালিকা থেকে বাদ দেয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ তুলছে শাসক পক্ষ। সবে মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ৩০% ভোট যে শতাধিক আসনে নির্ণায়কের ভূমিকা পালন করবে সে সম্পর্কে নিশ্চিত সব পক্ষই। নির্বাচনের আগে বিভিন্ন ইস্যুতে হুমায়ুন কবির, মিম, নৌশাদ সিদ্দিকী সহ কংগ্রেস এবং সিপিএমেরও একটা অংশ যে সংখ্যালঘুদের সাথে সক্রিয় হচ্ছিল এবং নিজেদের জনপ্রিয়তা বাড়াচ্ছিল সে সম্পর্কে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু এসআইআর এবং পরবর্তীকালে একটি গোপন ভিডিও পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে এই সংখ্যালঘু ভোটকে আবার তৃণমূলের দিকে সম্পূর্ণ রূপে ফিরিয়ে দিয়েছে বিক্ষিপ্তভাবে কংগ্রেসের প্রার্থী নির্ভর কিছু বিধানসভা ছাড়া,এ সম্পর্কে নিশ্চিন্ত শাসক শিবির। বিরোধী শিবির যতই "দুধেল গাই" হিসেবে প্রচার করুক, যোগী ও হেমন্ত বিশ্ব শর্মার মতো নেতাকে এনে পশ্চিমবঙ্গে মেরুকরণ করুক ২০২৬ এও এই ৩০ শতাংশের আশীর্বাদ প্রায় সম্পূর্ণরূপে শাসক শিবির পাবে সে সম্পর্কে কোন সন্দেহ নেই।


    ছবি: ইন্টারনেট


    ইস্যু ৯ : হিংসা ও মেরুকরণ:: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নির্বাচন মানেই হিংসা এবং মানুষের প্রাণহানি এই ধারণাটা বিগত কয়েকটি নির্বাচনে আরো দৃঢ় হয়েছে কিছু বিক্ষিপ্ত ঘটনাতে। দু একটি জেলাতে নিজেদের মধ্যে এই ঘটনা সারা ভারতের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন নিয়ে একটি ভুলবার্তা দিয়েছে যারই প্রতিফলন আজকে স্বয়ং সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি কেউ বলতে হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের মতো মেরুকরণ সারা ভারতে কোথাও হচ্ছে না। এই মেরুকরণে সুফল তুলতে সারা ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে সমস্ত হিন্দু হৃদয় সম্রাটরা এসে সভা করে যাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গে। তাদের বুলডোজার রাজনীতি পশ্চিমবঙ্গের প্রয়োগ করবার জন্য তারা সাহায্য চাইছেন হিন্দু সমাজের। ‌ এ কথা অনুস্বীকার্য কিছু সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলাতে এবং সীমান্তবর্তী জেলা তে হিন্দু সমাজ যে কিছুটা হলেও ধর্মীয় দাপাদাপি ও জোর জুলুমে এবং আইনের শাসন সবক্ষেত্রে না থাকায় তারা ভীত। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে তাই এস আই আর এ সংখ্যালঘু সমাজের নাম বাদ দিয়ে এবং ভোট চলাকালীন কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রয়োগ করে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করে সমস্ত হিন্দু সমাজের ভোট নিজেদের দিকে একত্রিত করতে বদ্ধপরিকর কেন্দ্রীয় সরকার। পার্শ্ববর্তী রাজ্য আসামের মতো পশ্চিমবঙ্গেও তাদের রাজনৈতিক উর্বর ভূমি তে পরিণত করেছে বিজেপি। উত্তরবঙ্গ এবং সীমান্তবর্তী এলাকা গুলিতে এর সুফল তারা এই নির্বাচনে পাবে এ সম্পর্কে নিশ্চিন্ত সবাই।

    ইস্যু ১০: মুখ ও প্রতিপক্ষ :: একদা মোহন ভাগবত স্বয়ং মমতা ব্যানার্জিকে মা দুর্গার সাথে তুলনা করেছিলেন এবং এখনো কান পাতলে শোনা যায়, আরএসএসের নেতৃত্বের সাথে শাসক দলের সখ্যের চর্চা। পশ্চিমবঙ্গে কিভাবে অবাধে নিজেদের সংগঠন বিস্তার করেছে আরএসএস এ সম্পর্কে বাম দলগুলি সব সময় আঙ্গুল তুলে শাসকের দিকে। যাই হোক পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে শাসকদলের প্রধান মুখ স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রত্যেক বারের মতন তিনি অনেকটা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ধাঁচে ঘোষণা করেছেন, সমস্ত বিধানসভাতে তিনি প্রার্থী তাই তৃণমূল কে ভোট দেয়া মানে দিদিকে ভোট দেওয়া।তাকে অনুসরণ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ঘোষনা করেছেন সমস্ত বিধানসভাতে তিনি প্রার্থী, তাই বিজেপিকে ভোট দেয়া মানে তার হাতকে শক্ত করা। লড়াইটা ২০২৬-এ দাঁড়িয়েও দিদি ভার্সেস মোদি। গতবারের মতন আর দিদি ও দিদি নয় বরং নামই উচ্চারণ করছেন না প্রধানমন্ত্রী, নেত্রী হিসেবে বাংলার মানুষের সাথে মমতা ব্যানার্জির আজো যে সখ্যতা সে সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থেকেই তার সরকারকে আক্রমণ করছেন তিনি। বাংলার উন্নতির জন্য ডাবল ইঞ্জিন সরকারের জন্য চাকরির জন্য ভোট চাইছেন বিজেপির হয়ে। অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ভোট চাইছেন তাকে আর একবার সুযোগ দিতে যাতে বাংলার মানুষকে তিনি আরো ভালো রাখতে পারেন। লড়াই রাজায় রাজায়, এবং এখনো সরাসরি দাদা এবং দিদির লড়াইয়ে কেউ কাউকে নিয়ে কটুক্তি করেননি, সেই অর্থে। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে মানুষ দাদা এবং দিদির মধ্যে কাকে চাইবে বা ভালোবাসবে, তার উত্তর পাওয়া যাবে আগামী দিনে। তবে দুজনেরই সভায় মানুষের ভিড় হচ্ছে ব্যাপক এবং দুজনেরই ভাষণ শুনে উচ্ছাসে ফেটে পড়ছে জনতা। ভোট বাক্সে তারা বাংলার মেয়েকে চায় না মোদীজি কে পাঁচ বছর দিতে চায় তার ওপর নির্ভর করবে পশ্চিমবঙ্গের ফলাফল।

    ইস্যু ১১: দুই পক্ষের কুশীলবরা:: পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে দুই পক্ষের কুশীলবদের লড়াই চোখে পড়ার মতো। অভিষেক ব্যানার্জীর নেতৃত্বে মমতা ব্যানার্জির দলের হয়ে যারা ক্যাম্পেইন করছেন তাদের মধ্যে অন্যতম দেব, সায়নী ঘোষ, মহুয়া মৈত্র, জুন মালিয়া সহ অনেকে। মোটামুটি রাজনীতির লোক না হলেও তাদের দেখতে মানুষ আসছে উৎসাহ নিয়ে এবং দেবের সভায় ভিড় চিন্তায় রাখছে বিরোধীপক্ষকে। অন্যদিকে ২০২১ এর মতন বিজেপির সাথে এবারে তারকার ভিড় নেই বরং তাদের হয়ে আট মুখ্যমন্ত্রী প্রচারে নেমেছে। যোগী আদিত্যনাথ হেমন্ত বিশ্ব শর্মা হিন্দুত্বের প্রচার করছেন আবার অমিত শাহ পুরো প্রচার টিকে নিয়ন্ত্রণ করছেন সুকান্ত মজুমদার,শমিক ভট্টাচার্যের মতন নেতাদের নিয়ে। তবে পশ্চিমবঙ্গেও কত পাঁচ বছরে বিরোধী দলনেতা হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী তো চষে বেরিয়েছেন গোটা পশ্চিমবঙ্গ। এই নির্বাচনে বিজেপির স্টার ক্যাম্পেনার এবং হবু মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে অলিখিত নিজের দাবি রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ভবানীপুরে গিয়ে লড়াই করার কথা বলে। সবে মিলিয়ে অভিষেক এবং শুভেন্দুর নেতৃত্বে দ্বিতীয় প্রজন্মের নেতাদের এই লড়াই যে ২০২৬ এর নির্বাচনে অন্যতম বড় সহায়ক হতে চলেছে জেতা হারায় মানুষকে প্রভাবিত করতে সে সম্পর্কে কোন সংশয় নেই। এই কুশীলবদের প্রচারে যাদের সাথে মানুষ একাত্ম হতে পারবে, ভোট বাক্সে প্রতিফলন ঘটবে তাদের হয়েই। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের ইস্যুর প্লেয়িং ইলেভেন এটাই।

    লেখক এপেক্স রিসার্চ সলিউশনের জনমত সমীক্ষার সাথে যুক্ত


    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • সমোস্কিতি | ২২ এপ্রিল ২০২৬ | ৩৩ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। খেলতে খেলতে মতামত দিন