এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  আলোচনা  রাজনীতি

  • বিজেপি ও কংগ্রেস বিরোধী সমীকরন

    তরমুজ
    আলোচনা | রাজনীতি | ২৩ এপ্রিল ২০২৬ | ১৮ বার পঠিত
  • বিজেপির প্রধান শত্রু হল কংগ্রেস। কারন কংগ্রেস এবং ডি এম কে সর্বভারতীয় স্তরে বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ করার জায়গায় আছে। কংগ্রেসের রাজ্য ও দেশকে সঠিক ভাবে পরিচালনার যোগ্যতা আছে। শুধু তাই নয়। মোদিজীর জমানাতেও কংগ্রেস শাসিত রাজ্যগুলি তুলনামূলক বেশি উন্নতি করেছে। যদিও গোটা দেশের অবস্থাই খারাপ। এবং অর্থনীতি থেকে শুরু করে দেশের সর্বাঙ্গীন উন্নয়ন করার যোগ্যতা কংগ্রেসেরই আছে। তাছাড়া কংগ্রেস যদি একটু একটু করে শক্তিশালী হয়ে ওঠে, তাহলে সাধারন মানুষের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে(কোন্ সরকারের আমলে দেশ কেমন চলেছে) কংগ্রেস অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠবে। এবং সেটাই বিজেপির সবচেয়ে বড় সমস্যা। জনগনের মতামতের ভিত্তিতে বর্তমানে কংগ্রেস দেশের মধ্যে সব থেকে বেশি জনপ্রিয় দল(তামিল নাড়ুতে ডি এম কে ছাড়া)। সি পি এম, টি এম সি, এরা কোন ফ্যাক্টর নয়। সে জন্যই বিজয়ন হঠাৎ হঠাৎ করে কংগ্রেসের কুৎসা করে। পরে যা বিজেপির পক্ষেই যায়।

    এছাড়া দেশজুড়ে রাজ্যে রাজ্যে বিভেদ আজ যে জায়গায় পৌছেছে, তা আগে কোন দিন দেখা গেছে? ভাষায় ভাষায় মারামারি আজ যে চূড়ান্ত জায়গায় পৌছেছে, তা আগে দেখা যায় নি। ভাষা ভিত্তিক বা রাজ্য ভিত্তিক সমস্যা যে আগে ছিল না, সেটা নয়। কিন্তু এখন অনেকটা ইচ্ছাকৃত ভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে। এই সব গোলমেলে ব্যাপারের মধ্যে থেকে যে মূল বিষয়টা উঠে আসছে সেটা হল, কেন্দ্র সরকারের দেশের মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার ধারনাটা পাল্টে দেওয়া। এমন একটা ধারনা তৈরি করা হয়েছে যেখানে মনে করা হচ্ছে যে, দেশের উন্নতি বা অবনতির সব দায় রাজ্য সরকারগুলির। কেন্দ্রের কোন দায় নেই। কিন্তু যদি কেউ নুন্যতম পড়াশোনা করে থাকে তাহলে সে বা তারা বুঝবে, অর্থনীতি থেকে শুরু করে দেশের সর্বাঙ্গীন উন্নতির মূল দায় ও ক্ষমতা কেন্দ্রের হাতেই।...... সুতরাং এমন এক অদ্ভুৎ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে কেন্দ্র শুধু অপরিসীম ক্ষমতা ভোগ করবে। আর জনগণের দায় নেবে শুধু রাজ্য সরকার।

    এই দিক থেকে বিজেপির পাতা ফাঁদে তৃণমূলও পা দিয়েছে। কারন রাজ্যে ক্ষমতায় এসে তৃণমূল এমন এক ন্যারেটিভ তৈরি করেছে যে, রাজ্য তৃণমূল জমানায় এক অসাধারন জায়গায় পৌছে গেছে। এবং এর সব কৃতিত্ব তৃণমূলের। বিচক্ষনতা দেখিয়ে এটা বলতে পারেনি, কেন্দ্রে মনমোহন সিংয়ের মত এক জন প্রধান মন্ত্রী থাকা সত্ত্বেও সি পি এম রাজ্যের ততটা উন্নতি করতে পারেনি। সুতরাং সব কৃতিত্ব যখন তৃণমূলের। তো সব ব্যর্থতাও তৃণমূলের। এই ধারনাটা ওনারা নিজেরাই প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

    অন্য দিকে দেশজুড়ে ভাষায় ভাষায় মারামারি। কে কোথায় কাজ করবে, কে কোথায় ব্যবসা করবে, তার দাদাগিরি। 2014 র আগে রাজ্যে শিল্পের প্রয়োজন অনুভব করা গেছিল। কিন্তু দেশের অন্য প্রান্তে পরিযায়ী শ্রমিকদের মারধর। এই অবস্থাটা ছিল না। বরং দেশের অন্য প্রান্তে গিয়ে কাজ করা, সেখান কার মানুষের সাথে মেলামেশা, তাদের সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার এক অন্য উদাহরন তৈরি হয়েছিল। যেটা বিজ্ঞান সম্মত। কারন সব রাজ্যে একই ধরনের শিল্পায়ন মোটেও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্মত নয়। ঠিক যেমন মানুষের দেহের প্রতিটা অঙ্গের কাজ আলাদা। একই ভাবে ভৌগলিক পরিবেশ ও ক্ষেত্র বিশেষে শিল্পের ধরনও আলাদা। এগুলো সব মিলিয়ে একটি দেশ, একটি সংস্কৃতি।

    এবং শিল্পের চেয়েও বড় বিষয় অর্থনীতি। কারন অর্থনীতিই শিল্পের ভাগ্য নির্ধারন করে। শিল্প কেবল দ্রব্য বা সেবামূলক(সার্ভিস) চাহিদার যোগান দেয়। অর্থনীতি ঠিক করে চাহিদা ও যোগানের বিষয়গুলি। শুধু তাই নয়, গবেষনামূলক বিষয়গুলিও অর্থনীতির উপর নির্ভর করে। এটি ম্যাক্রো ইকোনমিকাল বিষয়।..... প্রথম বিশ্বের দেশগুলিকে দেখে অনেক সময় মনে হতে পারে মুক্ত বাজার অর্থনীতিই শ্রেষ্ঠ। কিন্তু প্রথম বিশ্বের দেশগুলির অর্থনীতিতে প্রাথমিকভাবে সরকারি হস্তক্ষেপের প্রয়োজনই হয় নি। সরকার প্রয়োজন অনুসারে হস্তক্ষেপ করেছে। কিন্তু তৃতীয় বিশ্বের ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে সরকারি হস্তক্ষেপের প্রয়োজন আছে।....... সুতরাং বিষয়গুলিকে মুক্ত বাজার অর্থনীতি বা বেসরকারিকরনের সাথে গুলিয়ে ফেললে চলবে না।

    2014 র পর দেশজুড়ে কোন সংগঠন গুলোর আধিপত্য বেড়েছে, দেখা যাক,
    ১. উগ্র সাম্প্রদায়িক সংগঠন।
    ২. উগ্র ভাষা ভিত্তিক সংগঠন।
    ৩. মন্দির সংগঠন।
    ৪. পুরুষ অধিকার সংগঠন।

    এবং আমার মনে হয় এই প্রতিটি সংগঠনই কোন না কোন জায়গায় বিজেপি ও আর এস এস এর সঙ্গে কোন না কোন ভাবে, সজ্ঞানে বা অজান্তে জড়িত। আর এর ফলে ফায়দা তোলে বিজেপি। আর দুর্বল হয় কংগ্রেস। 'ডিভাইড অ্যান্ড রুল'।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভালবেসে মতামত দিন