হারামির হাতবাক্স কী? শান্তিনিকেতনের লাল মাটি—না, মাটি বলা ভুল—সেই রক্তরাগা ধুলো, যেন কোনো প্রাচীন দেবতার চূর্ণ হয়ে যাওয়া হৃদয়ের গুঁড়ো, সেই ধুলোর প্রতিটি কণায় মিশে ছিল এক বিদ্রোহী নেশা। অবাধ্যতা? না, অবাধ্যতা শব্দটা অতি সভ্য, অতি নাগরিক। এ ছিল নিরুদ্দেশের টান, ছিল সব বাঁধন ছিঁড়ে ফেলার এক উন্মত্ত আকাঙ্ক্ষা। সেই লাল ধুলোয় পা রেখেই মনটা হুস করে উড়ে যেত—কোথায়? কোনো নির্দিষ্ট জায়গায় নয়, উড়ে যেত শুধু দূরে, অনেক দূরে, যেখানে কোনো নাম নেই, ঠিকানা নেই, শুধু আছে এক অসীম শূন্যতা। বোলপুরের সোনাঝুরি। নামটাই যেন এক স্বপ্নের টুকরো। সেখানকার বাউলের আখড়া—আখড়া বললে ভুল হবে, ওটা ছিল এক জাদুঘর, এক পাগলখানা, এক মন্দির, এক শ্মশান, সবকিছু ... ...
বাংলার মুখ্যমন্ত্রী যখন পনেরো বছরের রিপোর্ট কার্ড বের করেন, তখন বুঝতে হবে নির্বাচন কাছে এসে গেছে। আমরা বাঙালিরা রিপোর্ট কার্ড দেখতে ভালোবাসি—স্কুলে ছেলেমেয়েদের, সরকারের, এমনকি প্রতিবেশীর বউয়ের রান্নার। এবার সাত হাজার কোটি টাকা থেকে বাষট্টি হাজার কোটি টাকা—সংখ্যাটা শুনলে মনে হয় আমরা সিঙ্গাপুরে আছি। কিন্তু হাসপাতালে গেলে এখনও সিরিয়াল পেতে রাত জাগতে হয়, স্কুলে বাচ্চাদের বেঞ্চ নেই, রাস্তায় গর্ত আছে যেখানে পুকুর বানানো যায়। তবু আমরা বিশ্বাস করি। কারণ বিশ্বাস না করলে আমাদের আর কী-ই বা আছে? চুরানব্বইটা সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প—এই সংখ্যাটা শুনে মনে হয় আমরা প্রত্যেকে একেকটা প্রকল্পের ভাগীদার। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কন্যাশ্রী, কৃষক বন্ধু—এই নামগুলো শুনলে মনে হয় দেবী লক্ষ্মী ... ...
■ প্রথম দিন: রাস্তার শুরু বাসটা যখন শহরের শেষ চেকপোস্ট পার করল, আমি বুঝতে পারলাম যে আমি এমন এক জায়গায় যাচ্ছি যেখান থেকে ফিরে আসার রাস্তাটা হয়তো এত সহজ হবে না। জানালা দিয়ে দেখা যাচ্ছিল ধুলোমাখা রাস্তা, দু'পাশে শুকনো গাছ আর মাঝে মাঝে ভাঙা দোকান। সহযাত্রীরা চুপচাপ বসে ছিল, যেন সবাই কোনো অলিখিত চুক্তি মেনে নিয়েছে—এখানে কথা বলা নিরাপদ নয়। আমার পাশের সিটে বসা লোকটির মুখে তিন দিনের দাড়ি, চোখে একটা অদ্ভুত শূন্যতা। সে একবারও আমার দিকে তাকায়নি। তার হাতে একটা প্লাস্টিকের ব্যাগ, ভেতরে কী আছে বোঝা যাচ্ছে না। কিন্তু সে ব্যাগটা এমনভাবে ধরে রেখেছে, যেন ওটাই তার একমাত্র সম্পদ। বাসের ড্রাইভার—একজন মধ্যবয়সী ... ...
আমার বন্ধু হরিপদ-গোপালপদ্দা (নাম পরিবর্তিত, কারণ উনি এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় খুবই সক্রিয় এবং আমার ওপর রাগ করলে ব্লক করে দেবেন) দশ বছর আগে আমায় প্রশ্ন করতেন - "মোদী পারবে কানহাইয়ার সাথে ডিবেটে?"আমি তখন বলেছিলাম, "দাদা, এ যেন জিজ্ঞাসা করা - পদ্মলোচন-হরবোলা পারবে কি সাঁতার প্রতিযোগিতায় যে জীবনে জলে নামেনি?"কিন্তু হরিপদ-গোপালপদ্দার কথা ছিল - "তুই বুঝিস না! ডিবেট মানে রাজনীতির আসল পরীক্ষা!"আমি ভাবলাম, হ্যাঁ ঠিক। আর নির্বাচনে জেতা মানে নিশ্চয়ই ফুটবলে গোল দেওয়া। দুটোর কোনো সম্পর্ক নেই!এদিকে দশ বছর কেটে গেল। দেখতে দেখতে। যেমন আমার চুল পড়ে গেল, তেমনি কিছু রাজনৈতিক তত্ত্বও।এখন শুনছি, কানহাইয়া যেখানে যেখানে বক্তৃতা দিয়েছেন, সেখানে সেখানে কংগ্রেস ... ...
বলরাম বসুর জীবনী নিয়ে এত তথ্য! কিন্তু এই তথ্যের সত্যতা নিয়ে আপনারাই নিজেই সন্দিহান, তাই না? আচ্ছা, আপনারা বলছেন উনি সন্ন্যাসী নন, অথচ রক্তজবা পরেন। তাহলে কি উনি অভিনেতা? নাকি রাজনৈতিক ম্যাজিশিয়ান - এক মুহূর্তে টিভি মেকানিক, পরের মুহূর্তে কট্টর আরএসএস সমর্থক? আপনারা যে প্রগতিশীলদের সমালোচনা করছেন, সেটা কি আপনাদের নিজের প্রগতিশীলতার প্রমাণ? নাকি আপনারাও সেই দলেই পড়েন যারা পোশাক দেখে মানুষ ... ...
"The Diary of West Bengal" এই ডায়েরিতে লেখা আছে - "কীভাবে একটা সিনেমা না দেখিয়ে হৈচৈ করা যায়!"পশ্চিমবঙ্গে রিলিজ না করার কারণ বোধহয় এইটাই - অজন্তা চটি কোম্পানির লোকেরা চা-বিস্কুট খেতে খেতে যে জঘন্য সমালোচনা করতো! তার চেয়ে ভয়ংকর কিছু ভাবতে পারেনি প্রযোজকরা! আর, সেন্সর বোর্ডের (CBFC) সার্টিফিকেট? ওরা বোধহয় ... ...
"ছাত্র আন্দোলনে এত বয়স্ক লোক গেল কেন? তারা কি ছাত্র?" ― গতকাল মিছিলের পর এই প্রশ্ন'টা মাথায় মাথায় ঘুরছে! শুনুন মশাই, ছাত্রের বয়স নিয়ে মজা করে লাভ নেই। পিসির উপস্থিতিতে ছাত্রজীবন চিরস্থায়ী। পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস, চাকরি হারাম - শুধু চা-চপে পিএইচডি! আর, বয়স? ওটা তো শুধু সংখ্যা মাত্র! ... ...
আজ কলকাতা পুলিশ প্রমাণ করল: তাদের নৈতিকতা বিকিয়ে দিয়েছে দুর্নীতিগ্রস্তদের কাছে। আইনের রক্ষক আজ অপরাধীর দালাল। তিলোত্তমার হত্যা আর ধর্ষণের প্রমাণ লোপাট করে ন্যায়বিচারের বদলে অপরাধীর পক্ষ নেওয়া, বোধহয় এটাকেই বলে!এ কোন বিকৃত আইনের শাসন? রক্তের দাগ মুছে ফেলা সহজ, কিন্তু বিবেকের ... ...
'উত্তরবঙ্গ সংবাদ' আর 'আনন্দবাজার পত্রিকা' নাকি এখন নবান্নের রান্নাঘর থেকে পরিবেশন হচ্ছে! তা দাদা, দুটো আলাদা থালা কেন? একটা বাটিতেই 'চটি পক্ষ' পরিবেশন করে দিন না কেন! প্রথম সংস্করণে প্রথম পাতার হেডলাইন হবে: 'পুলিশি গু খেয়ে বকের আত্মত্যাগ!' কারণ, আজকাল কলকাতা পুলিশ প্রমাণ লোপাটের মহাযজ্ঞে মেতেছে! তাদের এই মাঠে-ঘাটে, অপাচ্য কর্মকাণ্ড হজম করতে গিয়ে বেচারা বক প্রাণ দিল! তবে চিন্তার কিছু নেই, পরের সংস্করণে লিখবে - 'মৃত বকের পেট থেকে উদ্ধার হলো হারানো প্রমাণ!' ... ...
৭৬, ৩৬, ৩৯, ২৯, ৩৫*… কোনও ক্রিকেটদলের মাঝের সারির ব্যাটারদের রানের পরিসংখ্যান নয়। ২০০৩ সাল থেকে শুরু করে এইবারের পঞ্চায়েত নির্বাচন অবধি, এই হল মোট পাঁচটি নির্বাচনে মৃতের সংখ্যার খতিয়ান। ২০২৩-এর সংখ্যাটির উপর তারাচিহ্ন (*) বসিয়ে রেখেছি কারণ এই লেখা শুরুর সময়ে মৃত্যুর সংখ্যা ৩৫। লেখা শেষ হতে হতে সেই সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার প্রভূত আশঙ্কা ও সম্ভাবনা রয়েছে। সেই আশঙ্কা ভুল প্রমাণিত হলে আমি নিজেই যে সবচেয়ে বেশি খুশি হব, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সবদিক দিয়েই এখনও অবধি হিংসার নিরিখে ২০১৮ সালের শেষ পঞ্চায়েত নির্বাচনকে ছাপিয়ে গেল ২০২৩-এর হিসেব। শেষবারের সেই নির্বাচনে প্রাণ হারিয়েছিলেন ২৯ জন। ভোটের দিনে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ২০২৩-এর ... ...