এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  আলোচনা  সিনেমা

  • শুভদীপ ঘোষের ছবি- মনন, নীরবতা ও অন্বেষণের শিল্পভাষা

    সোমনাথ ঘোষ
    আলোচনা | সিনেমা | ০৫ এপ্রিল ২০২৬ | ৩৬ বার পঠিত


  • শুভদীপ ঘোষকে আমরা চিনি মূলত তাঁর লেখা সিনেমা ও অন্যান্য বিষয়ের উপর গভীর প্রবন্ধের জন্য। বিদগ্ধ এই লেখকের প্রথম প্রেম যদিও সিনেমা এবং এই মাধ্যমটি নিয়ে তাঁর প্রায় দীর্ঘ পঁচিশ বছরের চর্চা। তাঁর সিনেমা পরিচালনার যাত্রা শুরু স্মৃতি (২০২৩), সত্তা (২০২৪) ও অনিঃশেষ (২০২৫), এই তিনটি স্বল্প দৈর্ঘ্যের ছবি দিয়ে। প্রথম দুটি ছবি (স্মৃতি ও সত্তা) স্মৃতি-সত্তা-ভবিষ্যৎ ট্রিলজির অন্তর্গত। বিষ্ণু দের বিখ্যাত কবিতা স্মৃতি-সত্তা-ভবিষ্যৎ থেকে ছবিগুলির নাম নেওয়া, কিন্তু কবিতার সাথে সিনেমার নামটুকু বাদে তেমন কোন সম্পর্ক নেই। ট্রিলজির তৃতীয় ছবি “ভবিষ্যৎ” এখনও নির্মিত হয়নি।



    স্মৃতি ছবির মূল চরিত্র (যার নাম ছবিতে উল্লেখ নেই) অসুস্থতা, ব্যর্থ সম্পর্ক ও একাকিত্বের বদ্ধ পরিসরে জীবন অতিবাহিত করছে। মানুষটি পরিশীলিত, চিন্তাশীল, এক নিজস্ব চিন্তার জগৎ আছে, বোধ আছে, কিন্তু যেন সেই জগৎ থেকে সে বিচ্ছিন্ন। সম্পর্কের ভাঙন, নিঃসঙ্গতা ও নিরন্তর একঘেয়ে জীবনের জেরে মানুষটি যেন বিষাদগ্রস্ত। সে যেন এমন এক সময়ের মধ্য দিয়ে চলেছে যেখানে এই একঘেয়ে জাগতিক জীবন তাকে টেনে চলতে হয়, মেনে নিতে হয়। তার নিজের জগতে সে একাকী, হয়তো বা বিষাদগ্রস্তও বটে। কিন্তু সে যেন কোন উত্তর খোঁজে, হয়তো তা জীবনের অর্থ, কিংবা তার যাপনের উদ্দেশ্যহীনতার কারণ। এমন এক উদ্দেশ্যহীন ও mundane জীবনের শৃঙ্খলে আবদ্ধ হয়ে পড়া, নিজের প্যাশন থেকে ধীরে ধীরে দূরে সরে যাওয়া ও একঘেয়ে জীবনকে মেনে নেওয়া, এ যেন তামাম sensitive ও sensible মানুষের জীবনগাঁথা।


    “স্মৃতি”- ঘরের ভিতরের এক দৃশ্য


    স্মৃতি আদতে একটি ম্যুড নির্ভর ছবি, কাহিনী নির্ভর নয়। চরিত্রের দীর্ঘদিন কোমরের ব্যাথায় ভোগা, তার সম্পর্কের ভাঙন এই সবকিছু তার মানসিক অবস্থানকে নির্দেশ করছে। তার জীবন যেন বাসস্থানের মধ্য দিয়েই পরিস্ফুট হয়ে উঠছে। লং টেক ও একাধিক স্ট্যাটিক শটে শুরু হয় ছবিটি, যেই বাড়িতে protagonist এর বাস, তার সাথে আমরা পরিচিত হই। একটি সাধারণ বাড়ি, ঘরের ভিতরের আলো অন্ধকার পরিবেশ, দেয়ালের রঙ, ছায়া ও ম্লান আলোর মিশেল যেন ছবির ম্যুডকে নির্ধারণ করে দেয়। পুরনো ফ্যানের একঘেয়ে ঘড়ঘড় শব্দ, যা নিস্তব্ধতার ভিতরেও এক অদ্ভুত চাপা অস্বস্তি ও একঘেয়েমি তৈরি করে। একদিকে ঘরের ভিতরে এই আলো-অন্ধকার আর যান্ত্রিক শব্দের পুনরাবৃত্তি, অন্যদিকে বহির্দৃশ্যে পৃথিবী- প্রকৃতির চলমানতা লক্ষণীয় যা কিনা জীবনের স্বাভাবিক গতি। কিন্তু চরিত্রটি সেই প্রবাহের থেকে যেন বিচ্ছিন্ন, সে যেন এক “learned helplessness” এর শিকার। ছবিতে সংলাপ যৎসামান্য, ফলে দৃশ্য-শব্দের আবহ যেন হয়ে উঠেছে ভাষা। এই বিষয়ে প্রথম ছবিতেই অসাধারণ মুন্সিয়ানার পরিচয় রেখেছেন পরিচালক।


    “স্মৃতি” ছবির এক দৃশ্য


    স্মৃতি ছবিতে চরিত্রের নাম আমরা জানি না, চরিত্রের এই নামহীনতা যেন দর্শককে চরিত্রের সাথে assimilate করে দেওয়ার এক প্রচেষ্টা। sensible দর্শক হয়ত এই চরিত্রের সাথে নিজের মিল খুঁজে পেতে পেরেন। আমরা সাধারণত বলি, “এ চরিত্রটি যেন আমারই কথা বলছে।” কিন্তু “স্মৃতি”-তে এই ‘যেন’-এর প্রয়োজন হয়না। নামহীনতার ফলে চরিত্রের জায়গায় দর্শক নিজের নাম বসিয়ে নিতে পারেন, নিজের একাকিত্ব, যন্ত্রণা বা স্মৃতিকে সেই পর্দার মানুষটির মধ্যে খুঁজতে পারেন। মনে হয়ে পরিচালক এই liberty নিছক কাকতালীয় ভাবে দেননি, যেন জেনেবুঝেই দর্শককে দেওয়া এই ছবিতে, যাতে ছবিটি একটি আখ্যান না থেকে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় রূপান্তরিত হয়।
    শুভদীপের ছবি বাস্তব ও কল্পনার মিশেল। ওর প্রতিটি ছবিতেই আদতে বাস্তব ও কল্পনার জগতের অভিসার ঘটে। স্মৃতির শেষ যেন তেমনই, এ যেন শুধু ব্যক্তি অভিজ্ঞতায় সীমাবদ্ধ থাকে না, চেতন অবচেতনের সীমাকে মিলিয়ে দেয়। ছবির শেষে ঘরে কে আসল আর কেই বা গেল আমরা জানতে পারি না। পরিচালক জেনেবুঝেই দর্শকদের কল্পনার স্রোতে ছেড়ে দিয়েছেন। এ যেন এমন এক অনুভূতি যা ইয়ুং-এর ভাষায় , “strange something that derives its existence from the hinterland of man’s mind.”।



    “The concept…. This is from a personal experience……You will feel that there are several kinds of relationships that cannot be repaired.” কিছু সম্পর্ক ভেঙে যায়, সম্পর্কের মৃত্যু ঘটে, যা হয়ত আর আগের মত পুনরায় হয় না, কিন্তু আমরা শেষ অবধি বুঝি না যে সম্পর্কের মৃত্যুর জন্য শুধু অপর পক্ষেরই দোষ ছিল কি না। এই দ্বন্দ্ব যেন সর্বদাই থেকে যায়। এই দ্বন্দ্ব যেন আমাদের চিরকাল বিব্রত করে, লড়াইয়ে জিতে যাওয়ার পর মনে হয় এর কি আদৌ প্রয়োজন ছিল, মনে হয় যেন এই হার-জিত সবই বৃথা, সবশেষে যেন থেকে যায় বেদনা, বিষন্নতা। সত্তা ছবিটি যেন এমনই এক সম্পর্কের অন্বেষণ। নীলাদ্রি কৌশিকের বাড়িতে দীর্ঘদিন বাদে আসে, কোন এক সামান্য ছুতোয়, হয়ত সম্পর্কের অস্তিত্বের টের পেতে। নীলাদ্রির এই আকস্মিক আগমনে কৌশিক আদৌ খুব একটা খুশি হয়নি, আমরা বুঝতে পারি দুই পরিবারের ঝামেলার কারণে কৌশিকের মনে যেন দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভূত ক্ষোভ। ছবির প্রারম্ভে এই চাপা টেনশন অনুভূত হয়। পরিচালক তার স্বকীয় স্টাইলে খুব কম সংলাপে এই পরিবেশের সৃষ্টি করেন। কৌশিকের দাদা বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ, প্রায় শয্যাশায়ী। তাকে আমরা শোয়া অবস্থায় দেখি, কিন্তু তার চেহারা দেখতে পাই না। নীলাদ্রি বাড়িতে এসে এদিক ওদিককার অপ্রাসঙ্গিক কথা বলতে থাকে। একটা সময়ে কৌশিকের ধৈর্যচ্যুতি হয় এবং নীলাদ্রির প্রতি রাগের বিস্ফাট ঘটে।


    নীলাদ্রি



    কৌশিক


    সম্পর্ক পুনরুদ্ধার হয় না, হয়ত নীলাদ্রির এই আগমনই সম্পর্কের শেষ ছিল। কিন্তু এভাবে যেন কেউই শেষ হতে দিতে চায়নি। নীলাদ্রির পাশের ইজিচেয়ারটা কৌশিকের দাদার, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতার কারণে পরিত্যক্ত। আসলে যেন কৌশিকের দাদাও এই সম্পর্কের সাথে জড়িত, এক ঝাপসা দৃশ্যে আমরা দেখি গায়ে চাদর পরিহিত হয়ে ওই চেয়ারে বসতে, সে হয়ত কৌশিকের দাদাই। প্রথম ছবির মতই বাস্তব-কল্পনা-বাস্তবের খেলা চলতে থাকে। কৌশিকের একসময় ধৈর্যচ্যুতি ঘটে ও নীলাদ্রিকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে বলে, বিষণ্ণ নীলাদ্রি চলে যায়। নীলাদ্রি কি চেয়েছিল পরিণতি এমন হোক, কৌশিক কি আদৌ চেয়েছিল নীলাদ্রি চলে যাক, নীলাদ্রি চলে গেলে কৌশিক দাদার ঘর থেকে বেরিয়ে আবার নীলাদ্রিকে খুঁজতে কেন দরজার বাইরে আসে? মেন দরজাটা খোলাই থাকে, ব্যাকগ্রাউন্ডে আমরা শুনতে পাই কারোর হাঁপানোর শব্দ, আর ধীরে ধীরে দৃশ্য ডিসল্ভ হয়, ছবি শেষ হয়। ছবির অন্তটা খুবই মর্মস্পর্শী, মনে হয় সম্পর্ক ভেঙে গেলেও আবেগের পরিধি শেষ হয় না। হয়ত অনেক প্রশ্ন থেকে যায়, কিন্তু সবশেষে থেকে যায় সম্পর্কের অবসানের দুঃখ, বেদনা ও বিষণ্ণতা। ঠিক এখানেই যেন আঘাত করে সত্তা ছবিটি।



    বাস্তব ও কল্পনার জগতে অনায়াস আসাযাওয়া শুভদীপের ছবির এক প্রধান বৈশিষ্ট্য। বাস্তব ও কল্পনার সময় যেন তার শিল্পকর্মে একে অপরের জগতে ক্রমাগত বিচরণশীল। অনিঃশেষ ছবিটি যেন এই চারণভূমির পরাকাষ্ঠা। এই ছবিটি যেন বাস্তব ও কল্পনার অনবদ্য মিশেল, যেন তাঁর শিল্পকর্মের সর্বশ্রেষ্ঠ উদাহরণ। অজিতেশ জীবনকে বৈষয়িক ও পারিবারিক দিক থেকে গুছিয়ে নিয়েছে, জীবনে মোটামুটি প্রতিষ্ঠিত, কিন্তু কোথাও যেন একটা অপূর্ণতা রয়ে গিয়েছে। “এ এক অদ্ভুত অস্থিরতা”, কোন আপন কিছুর থেকে দূরে থাকার অস্থিরতা, এ অস্থিরতা যেন স্বপনে মননে প্রোথিত। অজিতেশের এই অস্থিরতা যেন সব চিন্তাশীল মানুষেরই জীবনকথা। অ্যারিস্টটলের কথায় এ যেন Bios Praktikos ও Bios Theoretikos এর দ্বন্দ্ব। Elliott লিখছেন,
    “We had the experience but missed the meaning,
    And approach to the meaning restores the experience
    In a different form, beyond any meaning
    We can assign to happiness.”


    অজিতেশ ও মাধুরী (অজিতেশের স্ত্রী)


    অনিঃশেষের অজিতেশের সাথে যেন স্মৃতি ছবির চরিত্রের মিল খুঁজে পাই। মনে হয়, অজিতেশ যেন সেই চরিত্রটিরই পরিণত রূপ—একটি বিবর্তনের ধারা, স্মৃতির যুবক যেন অজিতেশেরই অর্ধেক জীবন। নিঃসঙ্গতা, জীবনের দিকনির্দেশহীনতা যেন অজিতেশ কাটিয়ে উঠেছে, স্মৃতির চরিত্রের মত “learned helplessness” এর শিকার সে আর নয়, কিন্তু তবু, কোথাও গভীরে, এক অস্থিরতা রয়ে গিয়েছে। নিরাপদ জীবনের স্থিতিশীলতায় তার এই অস্থিরতা, এই খোঁজ হয়ত অবচেতনের গভীরে চলে গিয়েছিল, কিন্তু এ যেন এক ছাইচাপা আগুন। তার এই অস্থিরতা যেন ব্যবহারিক জীবন ব্যতিরেকে জীবনের এক আধ্যাত্মিক অর্থ অন্বেষণের প্রতি।


    অজিতেশের বাড়ির ছাদ থেকে রাস্তার দৃশ্য


    স্মৃতির মতই অনিঃশেষ ছবিটি দেখলে মনে হয় এ যেন কোন এক ব্যক্তির বিচ্ছিন্ন জীবনকথা নয়, এ যেন সব সৃজনশীল, সৃষ্টিশীল মানুষেরই আত্মকথা। সফল শিল্পের সার্থকতা এখানেই, তা যতই কোনো ব্যক্তিমানুষকে কেন্দ্র করে হোক না কেন, অনেক মানুষই সেই চরিত্রের যাত্রায় নিজের জীবনের প্রতিধ্বনি উপলব্ধি করেন। মনে হয় স্মৃতির মতোই অনিঃশেষ ছবিটিও যেন আত্মজৈবনিক, শুভদীপের নিজস্ব যাত্রা, তাঁর অন্তর্লৌকিক অস্থিরতা ও আত্ম-অন্বেষণের প্রতিচ্ছবি। এই আত্ম অন্বেষণ, নিজেকে প্রকাশ করার ইচ্ছা, এ যেন এক ক্রমাগত প্রক্রিয়া। তাই যেন ছবির নাম অনিঃশেষ। তাই তো ছবির শেষে অজিতেশ তার উপলব্ধিতে বলে, “সেই সমুদ্রের পাড় ছেড়ে, চল আমাদের শহরে ফিরে যাই, চল, ফিরে যাই আরেকটু আলোর মধ্যে”, এবং ছবি শেষ হয় রিল টাইম ও রিয়েল টাইমের মেলবন্ধনে।

    শুভদীপের সিনেমা নিতান্তই shoestring বাজেটে নির্মিত, অবশ্য সে কারণে পূর্ণদৈর্ঘ্যের ছবির বদলে শর্ট ফিল্ম বানানো, ব্যাপারটা এমন নয়, বরং শুভদীপ শর্টফিল্মকে এক স্বতন্ত্র মাধ্যম হিসেবে দেখেন। শর্ট ফিল্ম নিয়ে আরও এক্সপেরিমেন্ট করার পরিকল্পনা আছে ওঁর, সাম্প্রতিকতম প্রয়াস ওঁর পরিচালিত “অ্যাটম সিনেমা” সিরিজ, যেখানে একেকটি ছবি মিনিট দশেকের কমবেশি সময়কালের। সীমিত বাজেট, সীমিত সময় কিংবা প্রযুক্তিগত সংযম তাঁর জন্য কখনো প্রতিবন্ধকতা নয়, এতদসত্ত্বেও তাঁর ছবি শিল্পের পূর্ণতা পেয়েছে। ছবির কলা-কুশীলবদের উল্লেখ ব্যতিত এই লেখা অপূর্ণ রয়ে যাবে। ‘অনিঃশেষ’ ছবিতে ঋতম ব্যানার্জি ও সুনিপা দেব ছাড়া, অন্য ছবিগুলির সব অভিনেতাই সিনেমার অভিনয়ে নবাগত। বিশ্বজিৎ, সম্বরণ বা সৌম্য- সকলেরই অভিনয় চরিত্রের প্রয়োজন অনুযায়ী নিখুঁত ও সাবলীল। ক্যামেরায় পার্থ রাহার কাজ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। ছবির নির্মাণশৈলীর প্রসঙ্গে লিখতে গেলে Orson Welles এর সেই বিখ্যাত উক্তিটির কথা মনে পড়ে যায়, “A film is never really good unless the camera is an eye in the head of a poet.”। বাস্তব ও কল্পনার সীমারেখা মুছে ফেলে যেন শুভদীপের সিনেমা হয়ে ওঠে দৃশ্যকাব্য। চিত্র, শব্দ ও নীরবতা মিলে গড়ে তোলে অস্তিত্বের এক কাব্যিক বিন্যাস। সফল শিল্পের অন্তিম নির্জাস হল তার রস, তার রেশ, তার lingering after effect। রসের উদ্ভবই শিল্পের প্রাণ। তাঁর ব্যতিক্রমী নির্মাণশৈলী সেই রসসৃষ্টি করতে সক্ষম, সমঝদার দর্শক তাঁর শৈল্পিক নিপুণতায় মুগ্ধ হবেন, মনে হয় এ যেন এক visual poetry। একইসাথে মনে হয় তাঁর ছবি যেন শুধু আখ্যান নয়, এক আধ্ম্যাতিক অনুসন্ধানও বটে। ছবিতে মেসেজ বা বার্তা দেওয়ার কোন চেষ্টা একেবারেই নেই, বরং তিনি দর্শককে নিজ নিজ অনুভবের ভেতর দিয়ে চলার স্বাধীনতা দিয়েছেন।

    বর্তমান বাংলা ছবির পরিসরে এমন প্রচেষ্টা সত্যই বিরল। শুভদীপের ছবি দেখলে মনে হয় না এ কোন নতুন শিল্পীর প্রয়াস, বরঞ্চ মনে হয় এ যেন এক পরিণত পরিচালকের ছবি। ছবির ধরণ বা স্টাইলের জন্য বাংলা ছবির জগতে ভবিষ্যতে তাঁর সিনেমার mass appeal হয়ত নাও হতে পারে, তাঁর সিনেমা এক পরিণত মনস্ক niche audience এর জন্য, যাদের কাছে সিনেমা শুধুমাত্র entertainment নয়, বরঞ্চ এক প্রকৃত শিল্পমাধ্যম। বাণিজ্যিকতার ভিড়ে যেখানে শিল্পচেতনা হারিয়ে যায়, আর অতিরিক্ত পরীক্ষানিরীক্ষায় যেখানে শিল্পের সংবেদন লোপ পায়, সেখানে শুভদীপের কাজ তৈরি করে এক স্বতন্ত্র পরিসর—যেখানে সিনেমা হয়ে ওঠে মনন, নীরবতা ও অন্বেষণের শিল্পভাষা।

    পুনশ্চঃ উপরোক্ত তিনটি ছবি কোন দর্শক দেখতে আগ্রহী থাকলে পরিচালকের সাথে ই-মেলের মাধ্যমে (s.kino1980@gmail.com) যোগাযোগ করতে পারেন। ছবিগুলির youtube প্রাইভেট লিঙ্ক আগ্রহী দর্শকদের সাথে শেয়ার করা হবে। পরিচালকের অ্যাটম সিনেমা সিরিজ মূলত পাঁচটি শর্ট ফিল্ম নিয়ে পরিকল্পিত। সিরিজের প্রথম তিনটি ছবি পর্যায়ক্রমে ইউটিউবে সবার জন্য রিলিজ করা হয়েছে। ছবিগুলির লিঙ্ক এখানে দেওয়া হল।


    ছবির লিঙ্কঃ




    ছবির লিঙ্কঃ




    ছবির লিঙ্কঃ




    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক।
  • আলোচনা | ০৫ এপ্রিল ২০২৬ | ৩৬ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। বুদ্ধি করে প্রতিক্রিয়া দিন