এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • বড় অস্থির এ সময়

    Rajat Das লেখকের গ্রাহক হোন
    ০৫ এপ্রিল ২০২৬ | ৩৫ বার পঠিত
  • সভ্যতার ইতিহাস অতি পুরোনো হয়ে গেলে বোধহয় সবকিছু থেকেই মিষ্টতা হারায়। জীবনটাই কেমন যেন পানসে কিংবা আলুনি হয়ে যেতে শুরু করে। মাথা খাটিয়ে ধৈর্য ধরে জানবার শোনবার চেনবার প্রবণতা কমতে শুরু করে। সবই কেমন ধর তক্তা মার পেরেক গোছের স্থূলতার ওপরে দাঁড়িয়ে থাকে। রাজনীতি থেকে সাহিত্য, সঙ্গীত থেকে সিনেমা সর্বত্রই রসকষ হীন কাষ্ঠগদ্যের সমাহার। প্রতিপদে সূক্ষ্মতার অভাব।

    প্রথমেই আসা যাক রাজনীতির কথায়। যেখানে নীতি শূন্য অবস্থানে যিনি রবেন, তাঁর মূল্য তত বেশি। সক্রিয় রাজনীতিতে আজ থেকে বিশ ত্রিশ বছর পিছিয়ে গেলেই মিলত ঝুড়ি ঝুড়ি সৌজন্যের উদাহরণ। মাঠে ময়দানে পরিশীলিত ভাষায় একে অপরের কাপড় ধরে টানাটানি করলেও আদতে ব্যবহারিক সৌজন্যে কেউ পেছাত না। এখন শাসক ও বিরোধীদের সাপে নেউলের সম্পর্কে এসে ঠেকেছে। শাসকদলের কেউকেটারা কেউটে সেজে বিরোধীদের শুধু কামড়াতে বাকি থাকে। শুধুমাত্র খিস্তি খেউড় করেই শান্ত হয়না। বিরোধীপক্ষের নেতা-কর্মীদের জন্য প্রতিনিয়ত আদালতে জমা হয় মিথ্যে মামলার পাহাড়। নীতি নৈতিকতা আদর্শ ফাদর্শর জলাঞ্জলি। আজকের রাজনীতিতে ওসব খুঁজতে যাওয়াই অর্থহীন। তিন চারবার দল বদলায়নি এমন নেতা তাই দূরবীন দিয়ে খুঁজতে হয়।

    বিনোদনের দুনিয়াতেও হারিয়ে গেছে নরমসরম মিষ্টি মিষ্টি ব্যাপারগুলো। সিনেমাওয়ালারা এখনকার দিনে প্রেম রোম্যান্স এসব বিষয়ে সিনেমা বানাতে ভুলে গেছে। তাদের কাছে মারকাটারি বিষয় হল খুন, ধর্ষণ, উচ্চমার্গীয় হিংসা জনিত রক্তপাত ইত্যাদি। বলিউডি কর্তারা কয়েকশো কোটি টাকা খরচ করে তাই "অ্যানিম্যাল" "ধুরন্ধর" জাতীয় ফিল্ম বানান। যেসব ফিল্মে অভিনেতার গলা কেটে গলগলিয়ে ফিনকি দিয়ে রক্ত ছোটে। পাথর কিংবা লোহা দিয়ে মাথা থেঁতলে দেওয়া দেখানো হয়। ভারী বাজারে এখন কেউ ঝুমকা খোঁজে না। বরং মুণ্ডু কেটে ফুটবল খেললে দর্শকরা পৈশাচিক উল্লাসে ফেটে পড়ে। মিষ্টি রোম্যান্টিক দৃশ্য বা গান কোনওটাই আজ আর তৈরি হয়না। সদাসর্বদা জগঝম্প উদ্বেলিত কড়া ডোজের হিংসা ছেয়ে থাকলেই নাকি হাজার কোটিতে ফিল্মটির বেওসা ছোঁবে। কিছু বছর আগেও ফিল্মি গান মুখে মুখে ফিরত। এখন গোটা বছরের যেকোনো একটি ফিল্মের কোনো গান যদি সিনেমা হ'ল থেকে বেরিয়ে কারোর মনে থাকে তাহলে তাকে নির্ঘাত পুরস্কৃত করা উচিত। অথচ এখনকার সুরকারদের পারিশ্রমিক নাকি কোটি কোটি টাকা।

    এ তো গেল হিন্দি ছবির কথা। বাংলা তো আর এককাঠি সরেস। টলিউড এখনও ইন্ডাস্ট্রি হয়ে উঠতে না পারলেও রাজনীতিতে দুকদম এগিয়ে। এখানে ক'বছর আগেও প্রায় নব্বই থেকে একশোটি সিনেমা হত বলে শুনেছি। তন্মধ্যে দশ বিশটা হিট সুপারহিটের মুখ দেখত। একটা দুটো ব্লকব্লাস্টারও হত। যেমন উত্তমকুমার পরবর্তী যুগে শত্রু বা গুরুদক্ষিণা জাতীয় সিনেমা। সেই বাংলা বাজারে সিনেমা তৈরির সংখ্যাটাই এখন নাকি ত্রিশ চল্লিশে নেমে গেছে। তার মধ্যে ব্লকব্লাস্টার শব্দটাই অতীত ইতিহাস হয়ে গেছে। খুব যদি ভুল না করি তাহলে বাংলা ছবির শেষ ব্লকব্লাস্টার ফিল্ম, সদ্যপ্রয়াত রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় অভিনীত, রাজ চক্রবর্তী পরিচালিত "চিরদিনই... তুমি যে আমার"। বাংলা ছবিতে গ্রামবাংলার গল্প বলা ভুলে গেছে। শেষ কোন সুপারহিট ছবি গ্রামবাংলার পটভূমিতে নির্মিত হয়েছিল, আমার মনে পড়ছে না।

    এখন বাংলায় হেমন্ত, শ্যামল, সন্ধ্যা, আরতিদের মত গায়ক গায়িকা তৈরি হয় না। সেই সব মন কেমন করা গানের সুরস্রষ্টারা কালের অতলে হারিয়ে গেছেন। তরুণ মজুমদার, যাত্রিক, অরবিন্দ মুখোপাধ্যায় কিংবা অঞ্জন চৌধুরীদের মত একশো শতাংশ ব্যবসা সফল ছবি করিয়েদের বড্ড অভাব। এখন ছবির প্রচারে এসে পরিচালক কিংবা অভিনেতাদের বলতে শোনা যায়, "বাংলা ছবির পাশে দাঁড়ান"। রাজনৈতিক প্রভুরা যদি ঠিক করে দেন, কোন শিল্পী বা কলাকুশলী কিংবা পরিচালক স্টুডিওতে কাজ পাবেন, তাহলে বাংলা ছবির হাল নিম্নগামীই হবে... এতে আর সন্দেহ কিসের!
    ___________
    ©রজত দাস
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। পড়তে পড়তে মতামত দিন