মুঘল আমলে প্রায় সব বইপত্র-ই মূলত হাতে লেখা হতো এবং লেখার মাধ্যম ছিল প্রধানত কাগজ। তবে কাগজই একমাত্র মাধ্যম ছিল না।কী কী জিনিসে লেখা হতো?১. কাগজ — সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণমুঘল যুগে ভারতীয় উপমহাদেশে কাগজের ব্যবহার ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল।তুলো, পুরনো কাপড়ের তন্তু ইত্যাদি থেকে তৈরি উন্নতমানের হাতে-তৈরি কাগজ ব্যবহৃত হতো।রাজদরবারের পাণ্ডুলিপিতে কখনও অত্যন্ত মসৃণ ও দামি কাগজ ব্যবহার করা হতো।ফারসি, আরবি, সংস্কৃতসহ বিভিন্ন ভাষার গ্রন্থ কাগজে লেখা হয়েছে।২. তালপাতা। কাগজের পাশাপাশি বিশেষ করে পূর্ব ও দক্ষিণ ভারতে তালপাতায় পুঁথি লেখার ঐতিহ্য ছিল। তবে মুঘল দরবারের ফারসি গ্রন্থে কাগজই বেশি প্রচলিত।৩. কাপড় কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি বা ধর্মীয়/আচার সংক্রান্ত লেখায় কাপড়ও ব্যবহার করা হতো, ... ...
বাঙালির জীবনে দুটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—এক, খাওয়া; দুই, খাওয়ার পর আবার কী খাওয়া হবে তা নিয়ে আলোচনা। পৃথিবীর অনেক জাতি বেঁচে থাকার জন্য খায়, কিন্তু বাঙালি খাওয়ার জন্যই যেন বেঁচে থাকে!সকালে ঘুম থেকে উঠেই বাঙালির প্রথম চিন্তা, “চা হয়েছে?” চা হাতে পেলেই দ্বিতীয় প্রশ্ন, “আজ জলখাবারে কী?” লুচি-আলুর দম হলে মুখে হাসি, আর ওটস বা কর্নফ্লেক্স দেখলে মনে হয় যেন জীবনের সব আনন্দ এক মুহূর্তে শেষ হয়ে গেল।বাঙালির বাড়িতে অতিথি এলে বিপদ। অতিথি যতই বলুন, “না না, কিছু লাগবে না”, গৃহকর্ত্রী ততই দৃঢ়স্বরে বলবেন, “ওসব হবে না, একটু মুখে দিতেই হবে।” সেই ‘একটু’ বলতে সাধারণত চার-পাঁচ রকমের মিষ্টি, মাছের ঝোল, মাংস, চাটনি এবং শেষে দই বোঝায়। অতিথি যখন হাঁফাতে হাঁফাতে বলেন, “আর পারছি না”, তখন উত্তর আসে, “এই তো না... কিছুই খেলেন না!”মাছ বাঙালির আবেগ। ইলিশের মরসুম এলে সংবাদপত্র, টেলিভিশন, বাজার—সব জায়গায় একটাই আলোচনা। মনে হয় না যেন মাছ এসেছে, মনে হয় কোনো আন্তর্জাতিক সম্মেলন বসেছে। আবার চিংড়িপ্রেমীরাও কম যান না। তাদের মতে, চিংড়ি মাছ নয়। সে এক যেন শিল্পকর্ম। যা পাতে পাতে সেজে ওঠে মালাইকারি রূপে। চিংড়ি যাতেই দাও তার স্বাদ বাড়িয়ে আকাশ ছুঁইয়ে দেবে।বিয়েবাড়িতে বাঙালির আসল প্রতিভা প্রকাশ পায়। নিমন্ত্রণপত্র হাতে পাওয়ার পর থেকেই মেনু নিয়ে গবেষণা শুরু হয়। অনুষ্ঠানে গিয়ে কেউ কনের গয়না দেখেন, কেউ সাজসজ্জা দেখেন। কিন্তু অধিকাংশ বাঙালির চোখ থাকে ক্যাটারারের দিকে। “মাটনটা কেমন হয়েছে?”, “ফিশ ফ্রাই কয় পিস দিচ্ছে?”, "লুচি না ভাত?”, "ক'রকম মিষ্টি করেছে? পান্তুয়া আছে তো?" "কি আইসক্রিম হয়েছে?" ইত্যাদি ইত্যাদি—এসবই প্রধান আলোচ্য বিষয়।আর মিষ্টি? বাঙালির কাছে মিষ্টি হলো ভোজনের পূর্ণচ্ছেদ। রসগোল্লা, সন্দেশ, মিষ্টি দই—এসব ছাড়া খাবার শেষ হয়েছে বলে মনে হয় না। ডায়াবেটিস ধরা পড়ার পরেও অনেকে বলেন, “ডাক্তার মিষ্টি খেতে বারণ করেছেন, তবে একটা ছোট রসগোল্লা খেলে কিছু হবে না!” সেই ‘একটা’ যে কবে তিনটে হয়ে যায়, তা কেউ টের পায় না।তবে বাঙালির খাওয়ার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো—খাওয়ার সময় খাওয়া নিয়ে আলোচনা, আর খাওয়া শেষ হলে পরের খাওয়ার পরিকল্পনা। তাই বলা যায়, বাঙালির ইতিহাস, ভূগোল, সাহিত্য—সবকিছুর মাঝখানে কোথাও না কোথাও একটা গরম ভাত, মাছের ঝোল আর মিষ্টির প্লেট নিশ্চয়ই লুকিয়ে আছে।শেষ কথা, বাঙালিকে যদি সত্যিই খুশি করতে চান, তাহলে বড় বড় বক্তৃতা নয়—এক প্লেট ভালো খাবার সামনে রাখুন। তারপর দেখুন, কীভাবে তার মুখে ফুটে ওঠে সেই চির চেনা তৃপ্তির হাসি!বাঙালির খাওয়াদাওয়া — এক শিব্রামীয় পর্যবেক্ষণবাঙালির দুটি প্রধান অঙ্গ আছে—একটি মুখ। অন্যটি পেট। মাঝখানে যে শরীরটা রয়েছে, সেটি মূলত এই দুটির যোগাযোগ রক্ষার জন্যই ঈশ্বর তৈরি করেছেন।আমি ছোটবেলা থেকেই লক্ষ্য করেছি, বাঙালি খেতে বসার আগে খাবার নিয়ে আলোচনা করে। খাওয়ার সময় খাবার নিয়ে সমালোচনা করে। আর খাওয়ার পরে পরের বেলার খাবার নিয়ে পরিকল্পনা করে। অর্থাৎ খাওয়া যতক্ষণ না হচ্ছে, ততক্ষণ খাওয়ার চিন্তা; আর খাওয়া হয়ে গেলে খাওয়ার স্মৃতি।একবার এক বাঙালি ভদ্রলোককে জিজ্ঞেস করলাম, “আপনার শখ কী?”তিনি বললেন, “খাওয়া।”আমি বললাম, “আপনার পেশা?”তিনি একটু ভেবে বললেন, “ওটাও মোটামুটি খাওয়াই। একটি অফিসে চাকরি করি, যাতে খেতে পারি।”বাঙালির সঙ্গে মাছের সম্পর্ক খুবই নিবিড়। অনেকের ধারণা, ডারউইনের বিবর্তন তত্ত্বে কোথাও একটা ধাপ বাদ পড়েছে। বাঁদর থেকে মানুষ নয়, বাঙালির ক্ষেত্রে মাছ থেকে মানুষ হয়েছে। নইলে মাছ দেখলে এত আবেগ আসে কী করে?বিশেষত ইলিশ। ইলিশের প্রতি বাঙালির শ্রদ্ধা এমন যে, তাকে মাছ বলা অন্যায়। ইলিশ একটি অনুভূতি। বাড়িতে ইলিশ এলে তার জন্য আলাদা অভ্যর্থনা হওয়া উচিত। আমার তো মনে হয়, অনেক বাঙালি আত্মীয়স্বজনের চেয়েও ইলিশকে বেশি ভালোবাসে। আত্মীয় এলে জিজ্ঞেস করে, “কতদিন থাকবে?” আর ইলিশ এলে বলে, “আর একটু নেব?”মিষ্টির ক্ষেত্রেও বাঙালির আত্মসংযম বিস্ময়কর। চারটে রসগোল্লা খাওয়ার পর সে ঘোষণা করে, “না না, আর পারব না।” তারপর সৌজন্যবশত আরও দুটো খেয়ে নেয়। কারণ, মিষ্টি নষ্ট করা পাপ।বিয়েবাড়িতে বাঙালির প্রকৃত চরিত্র প্রকাশ পায়। কনে কে, বর কে, তাদের পরিচয় কী—এসব গৌণ বিষয়। প্রধান প্রশ্ন হলো, ফিশ ফ্রাই কয় পিস? মাটনটা কেমন? আইসক্রিম আছে তো?অনেককে দেখেছি, বিয়ে থেকে ফিরে বলছেন, “ছেলেটা কী করে জানি না, তবে চিংড়ির মালাইকারিটা জাস্ট ফাটাফাটি ছিল।”খাবার নিয়ে বাঙালির স্মৃতিশক্তিও প্রবল। স্কুলের ইতিহাসের শিক্ষক যতই চেষ্টা করুন, পলাশীর যুদ্ধের সাল অনেকেই ভুলে যেতে পারে। কিন্তু ১৯৯৮ সালের এক আত্মীয়ের বিয়েতে পরিবেশিত কাশ্মীরি আলুর দমের স্বাদ আজও মনে আছে।আর বাঙালির রান্নাঘরে আলুর স্থান তো প্রায় মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর মতো। মাছে আলু, মাংসে আলু, ডিমে আলু, শুধু চায়ে আলু দেওয়া এখনও শুরু হয়নি। তবে সময় বড়ই শক্তিশালী জিনিস—ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কিছু বলা যায় না।সবশেষে বলি, পৃথিবীর বিভিন্ন জাতি নানা কারণে বিখ্যাত কেউ শিল্পে, কেউ বিজ্ঞানে, কেউ বাণিজ্যে। বাঙালিও এসব ক্ষেত্রে কিছু কম নয়, কিন্তু খাওয়াদাওয়ার প্রতি তার নিষ্ঠা একেবারেই অনন্য। তাই যদি কখনও কোনো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা হয়—‘বিশ্ব খাদ্যচিন্তা অলিম্পিক’—তবে বাঙালির সোনার পদক প্রায় নিশ্চিত।কারণ বাঙালি শুধু খায় না, খাওয়াকে ভালোবাসে; শুধু ভালোবাসে না, তাকে নিয়ে আলোচনা করে; আর শুধু আলোচনা করে না, সেই আলোচনা করতে করতেই আবার খেতে বসে যায়।"এসো বসি আহারে" ... ...
টিনটিন, বাঁটুল, হাঁদা ভোঁদা কিংবা অরন্যদেব... এক সময়ে এদের জন্য হাপিত্যেশ করে বসে থাকতাম। "কমিক্স পড়ে সময় নষ্ট হয়"—এই অভিযোগ শুনে বড় হয়নি, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। অথচ মজার ব্যাপার হলো, যাঁরা একসময় এই অভিযোগ করতেন, তাঁদের অনেককেই পরে নাতি-নাতনির সঙ্গে বসে কমিক্স পড়তে দেখা যায়! কারণ, কমিক্সের আকর্ষণ বয়স মানে না। আট থেকে আশি—সবাইকে একই পাতায় এনে বসানোর অদ্ভুত ক্ষমতা রয়েছে এই শিল্পমাধ্যমের।কমিক্স আসলে কী? শুধু কয়েকটি ছবি আর তার মধ্যে বেলুনে লেখা সংলাপ? মোটেই নয়। কমিক্স হলো ছবি, গল্প, ছন্দ, নাটক, সিনেমাটিক ফ্রেমিং এবং সাহিত্য—সব কিছুর এক অভিনব মেলবন্ধন। একটি ভালো কমিক্সে যেখানে একটি সংলাপ শেষ হয়, সেখানে ... ...
জিভ পোড়ানো গরম হতে হবে। বাদামী রঙা কড়া করে ভাজা.. বিস্কুটের গুঁড়ো ও আরও নানাবিধ উপাদান দিয়ে কোটিং করা আসলি ভেটকির ফিলে বা ফিলেটকে ডোবা তেলে ভেজে খাওয়ার মাধুর্য যা এক তুরীয় অনুভূতি। স্বর্গীয় সুখ বললে কোনো অংশে অত্যুক্তি হবে না। যার জন্য এ স্বাদের ভাগ হবে না, এই আপ্তবাক্যটি খুব সহজেই বলে ফেলা যায়। এহেন ফিশফ্রাই সাধারণত কাসুন্দি ও স্যালাড সহযোগে মোক্ষম জমে। ভাল গুণমানের অর্থাৎ অথেনটিক দোকানের অথেনটিক ফিশফ্রাই খেতে হলে, এই দুর্মূল্যের বাজারে বেশ ভালোই মূল্য দিতে হয়। কলকাতার এক নামী রেস্তোরাঁর ডায়মন্ড(চৌকোনা বরফি আকারের) ফিশফ্রাইয়ের দাম তিনশোর আশেপাশে ঘোরাফেরা করে। ভাল ফিশফ্রাইয়ের স্বাদ পেতে হলে ভাল ... ...
আমার এক বন্ধু ছিল। অমলকান্তি। এ অমলকান্তি কিন্তু কবির সেই অমলকান্তি নয়। ও খুবই সাধারণ ছিল। ঐ অমলকান্তির মত ও কখনও রোদ্দুর হতে চায়নি। আমার বন্ধু অমলকান্তি, রবি ঠাকুরের কবিতা আবৃত্তি করত। নিজেও কবিতা লিখত। নাটকে অভিনয় করত। বাঁশি বাজাতো। অমলকান্তি ছিল আধা গ্রাম আধা শহর মফঃস্বলের এক সরল সাদাসিধে ছেলে। বড় শহরের ইট কাঠ পাথরের ঝনঝনানি ওর সহ্য হত না। ও ভালোবাসত পাহাড়, জঙ্গল, নদীনালা, দিঘি.. এইসব। পড়াশোনার কচকচানিও অমলকান্তির পছন্দ ছিল না। স্কুলে ক্লাস চলার সময় ও জানলা দিয়ে বাইরে অন্যমনস্কভাবে তাকিয়ে থাকত। আমাদের স্কুলের পাশে দিগন্ত বিস্তৃত একটি সবুজ মাঠ ছিল। সেই মাঠে গরু চরত। অমলকান্তি পড়া ... ...
সভ্যতার ইতিহাস অতি পুরোনো হয়ে গেলে বোধহয় সবকিছু থেকেই মিষ্টতা হারায়। জীবনটাই কেমন যেন পানসে কিংবা আলুনি হয়ে যেতে শুরু করে। মাথা খাটিয়ে ধৈর্য ধরে জানবার শোনবার চেনবার প্রবণতা কমতে শুরু করে। সবই কেমন ধর তক্তা মার পেরেক গোছের স্থূলতার ওপরে দাঁড়িয়ে থাকে। রাজনীতি থেকে সাহিত্য, সঙ্গীত থেকে সিনেমা সর্বত্রই রসকষ হীন কাষ্ঠগদ্যের সমাহার। প্রতিপদে সূক্ষ্মতার অভাব। প্রথমেই আসা যাক রাজনীতির কথায়। যেখানে নীতি শূন্য অবস্থানে যিনি রবেন, তাঁর মূল্য তত বেশি। সক্রিয় রাজনীতিতে আজ থেকে বিশ ত্রিশ বছর পিছিয়ে গেলেই মিলত ঝুড়ি ঝুড়ি সৌজন্যের ... ...
পার্থদা, আড়াইশো মুড়ির একটা প্যাকেট দেবে আর একটা সিগ্রেট দিও প্রলয়কে দুটো জিনিস বাড়িয়ে দিয়ে পার্থ দোকানের ঝাঁপ বন্ধ করতে উদ্যোগী হল। এবারের পুজোর ফাংশনে তুমি গাইলে না কেন? প্রলয় পয়সা গুনতে গুনতে পার্থর দিকে প্রশ্নটা ছুঁড়ে দিলো। আমি গান গাওয়া ছেড়ে দিয়েছি রে.. পার্থর গলায় খেদোক্তি। আরো কিছুক্ষণ প্রলয়ের সঙ্গে গান ছেড়ে দেয়া নিয়ে বাদানুবাদ সেরে দোকানের দরজায় তালাগুলো ঝুলিয়ে পার্থ হাতের ঝোলাটা নিয়ে বাড়ির পথ ধরল। মনে মনে হিসেব কষছিল, কাল ছেলের কলেজের ফিস্ জমা দিতে হবে। ছেলেটার পরীক্ষা এগিয়ে আসছে। তমালিকার দুটো ওষুধও কদিন হল একদমই শেষ হয়ে গেছে। সে দুটোর দামও নেহাত কম নয়। এই দু ... ...
সোগাদা অর্থাৎ সোগেন্দ্রনাথ সাহার জন্য অগত্যা বইমেলায় গেছলুম। আমি বইমেলায় যাইনা। আমার না যাওয়াই ভাল ভেবে যাইনা। কারণ রেস্তোরাঁর সামনে হরেক কিসিমের সুখাদ্যের গন্ধ শুঁকে পালিয়ে যাওয়ার মত দুঃখের কিছু নেই। আমার কাছে বইমেলা ব্যাপারটাও ঐ ধাঁচের। থরে থরে সাজানো বই, নেড়েচেড়ে দেখে চলে আসো... কারণ বইয়ের যা দাম তা কেনার সামর্থ্য আমার মত অর্থনৈতিক দুর্বলের কাছে সোনা কেনার মতই। যাইহোক, বছর দুয়েক হল সোগাদার সাহিত্য জগতে বিশাল নাম। সোগাদার লেখা ভূত, পেত্নী, মামদো, ব্রহ্মদত্যি ইত্যাদি তো আছেই। তার সাথে সোগাদার দোকানে আরও মেলে অলৌকিক ও তন্ত্রমন্ত্র। মানে ভৌতিক, অলৌকিক ও তান্ত্রিক সাহিত্যের বিশাল ভান্ডার। প্রতিমাসে কোনো না কোনো প্রকাশক ... ...
[এক]গুহ বাড়ির বৌরা যে খুব আরামেই থাকে একথা সব্বাই মানে। কত বড় বাড়ি, কত টাকাপয়সা। গুহদের বিশাল ব্যবসা। পুরো গুহ এন্ড সন্স ইন্ডাস্ট্রিজের মালিক তারা। রণজিত গুহ আর তার ছেলেরা এই ব্যবসা চালায়। এ বাড়িতে সবাই যে তাদের মেয়েদের বিয়ে দিতে চাইবে এ নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। নিজের একটি মাত্র মেয়ের জন্য এমন একটি বাড়িই তো সুমন্তবাবু চেয়েছিলেন। সুমন্ত বাবুর এক মেয়ে, এক ছেলে। ছেলে বড়, মেয়ে ছোট। ছেলের নাম রাতুল আর মেয়ের নাম রীমা। ছোট মেয়ে দেখতে সুন্দর, পড়াশোনাতেও বেশ ভালো। আগের বছর M.B.A. পাস করেছে। গোটা ইউনিভার্সিটির মধ্যে সবথেকে বেশি নাম্বার পেয়ে ফার্স্টক্লাস ফার্স্ট হয়েছিল সুমন্ত বাবুর ছোট ... ...
মনে পড়ছে ১৯৮২ সালে রিলিজ, শরৎ চন্দ্র রচিত প্রফুল্ল উপন্যাসের চলচ্চিত্র রূপ। যার প্রধান চরিত্র যোগেশ ঘোষ। সেই চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন দিলীপ রায়। অসাধারন বললেও কম বলা হবে। আশির দশকে তৈরি হওয়া ত্রিশ চল্লিশের দশকের গল্পের অসামান্য চিত্ররূপে দিলীপ রায় প্রাণ ঢালা অভিনয় করে বলা যায় মাত করে দিয়েছিলেন। সেটে আলো পড়েছে। ক্যামেরার চোখ অস্থির। গল্প এগোচ্ছে, সংলাপ চলছে, আবেগের ঢেউ ধাক্কা খাচ্ছে। অথচ ফ্রেমের এক কোণে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটি ... ...