পার্থদা, আড়াইশো মুড়ির একটা প্যাকেট দেবে আর একটা সিগ্রেট দিও প্রলয়কে দুটো জিনিস বাড়িয়ে দিয়ে পার্থ দোকানের ঝাঁপ বন্ধ করতে উদ্যোগী হল। এবারের পুজোর ফাংশনে তুমি গাইলে না কেন? প্রলয় পয়সা গুনতে গুনতে পার্থর দিকে প্রশ্নটা ছুঁড়ে দিলো। আমি গান গাওয়া ছেড়ে দিয়েছি রে.. পার্থর গলায় খেদোক্তি। আরো কিছুক্ষণ প্রলয়ের সঙ্গে গান ছেড়ে দেয়া নিয়ে বাদানুবাদ সেরে দোকানের দরজায় তালাগুলো ঝুলিয়ে পার্থ হাতের ঝোলাটা নিয়ে বাড়ির পথ ধরল। মনে মনে হিসেব কষছিল, কাল ছেলের কলেজের ফিস্ জমা দিতে হবে। ছেলেটার পরীক্ষা এগিয়ে আসছে। তমালিকার দুটো ওষুধও কদিন হল একদমই শেষ হয়ে গেছে। সে দুটোর দামও নেহাত কম নয়। এই দু ... ...
সোগাদা অর্থাৎ সোগেন্দ্রনাথ সাহার জন্য অগত্যা বইমেলায় গেছলুম। আমি বইমেলায় যাইনা। আমার না যাওয়াই ভাল ভেবে যাইনা। কারণ রেস্তোরাঁর সামনে হরেক কিসিমের সুখাদ্যের গন্ধ শুঁকে পালিয়ে যাওয়ার মত দুঃখের কিছু নেই। আমার কাছে বইমেলা ব্যাপারটাও ঐ ধাঁচের। থরে থরে সাজানো বই, নেড়েচেড়ে দেখে চলে আসো... কারণ বইয়ের যা দাম তা কেনার সামর্থ্য আমার মত অর্থনৈতিক দুর্বলের কাছে সোনা কেনার মতই। যাইহোক, বছর দুয়েক হল সোগাদার সাহিত্য জগতে বিশাল নাম। সোগাদার লেখা ভূত, পেত্নী, মামদো, ব্রহ্মদত্যি ইত্যাদি তো আছেই। তার সাথে সোগাদার দোকানে আরও মেলে অলৌকিক ও তন্ত্রমন্ত্র। মানে ভৌতিক, অলৌকিক ও তান্ত্রিক সাহিত্যের বিশাল ভান্ডার। প্রতিমাসে কোনো না কোনো প্রকাশক ... ...
[এক]গুহ বাড়ির বৌরা যে খুব আরামেই থাকে একথা সব্বাই মানে। কত বড় বাড়ি, কত টাকাপয়সা। গুহদের বিশাল ব্যবসা। পুরো গুহ এন্ড সন্স ইন্ডাস্ট্রিজের মালিক তারা। রণজিত গুহ আর তার ছেলেরা এই ব্যবসা চালায়। এ বাড়িতে সবাই যে তাদের মেয়েদের বিয়ে দিতে চাইবে এ নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। নিজের একটি মাত্র মেয়ের জন্য এমন একটি বাড়িই তো সুমন্তবাবু চেয়েছিলেন। সুমন্ত বাবুর এক মেয়ে, এক ছেলে। ছেলে বড়, মেয়ে ছোট। ছেলের নাম রাতুল আর মেয়ের নাম রীমা। ছোট মেয়ে দেখতে সুন্দর, পড়াশোনাতেও বেশ ভালো। আগের বছর M.B.A. পাস করেছে। গোটা ইউনিভার্সিটির মধ্যে সবথেকে বেশি নাম্বার পেয়ে ফার্স্টক্লাস ফার্স্ট হয়েছিল সুমন্ত বাবুর ছোট ... ...
মনে পড়ছে ১৯৮২ সালে রিলিজ, শরৎ চন্দ্র রচিত প্রফুল্ল উপন্যাসের চলচ্চিত্র রূপ। যার প্রধান চরিত্র যোগেশ ঘোষ। সেই চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন দিলীপ রায়। অসাধারন বললেও কম বলা হবে। আশির দশকে তৈরি হওয়া ত্রিশ চল্লিশের দশকের গল্পের অসামান্য চিত্ররূপে দিলীপ রায় প্রাণ ঢালা অভিনয় করে বলা যায় মাত করে দিয়েছিলেন। সেটে আলো পড়েছে। ক্যামেরার চোখ অস্থির। গল্প এগোচ্ছে, সংলাপ চলছে, আবেগের ঢেউ ধাক্কা খাচ্ছে। অথচ ফ্রেমের এক কোণে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটি ... ...
অন্ধকার মঞ্চ। একপাশে একটি খাট। তার ওপর কম্বল মুড়ি দিয়ে শুয়ে আছেন ছবি বিশ্বাস। সেটা উপস্থিত দর্শক জানে। তাঁকে খুঁজে বের করবেন নৃপতি চ্যাটার্জি। এই ছিল নাটকের দৃশ্য। নৃপতিবাবু মঞ্চে এলেন। খোঁজাখুঁজি শুরু হল। মঞ্চের ওপর শুরু হল ধুন্ধুমার খোঁজাখুঁজির পালা। নৃপতিবাবু সর্বত্র খুঁজছেন শুধু খাটের ওপর কম্বলটি ছাড়া। নৃপতিবাবুর খোঁজার ধরনে দর্শক হেসে কুটিপাটি। আর ওদিকে গরমকাল, তায় মঞ্চের আলো... কম্বলের নিচে ছবি বিশ্বাস দরদর করে ঘামছেন। দৃশ্যটি তিন মিনিটে শেষ হওয়ার কথা ... ...
নীরবতার ভিতর থেকেও আর্তনাদ শোনা যায়—যদি কান খোলা থাকে। আরাবল্লী আজ ঠিক তেমনই নীরব এক আর্তনাদ। হাজার হাজার বছরের পুরোনো এই পর্বতমালা, যে পর্বত ভারতীয় উপমহাদেশের জলবায়ু, জীববৈচিত্র্য ও সভ্যতার ভারসাম্য রক্ষা করে এসেছে, আজ সে নিজেই অস্তিত্বের সংকটে। “আরাবল্লী পর্বত বাঁচাও”—এটা আর কোনো আবেগী স্লোগান নয়, এটা জাতীয় বিবেকের কাছে তোলা এক কঠিন প্রশ্ন।রাজস্থানের শুষ্ক ভূমিকে মরুভূমির গ্রাস থেকে রক্ষা করেছে আরাবল্লী। দিল্লি–এনসিআরের ফুসফুস হিসেবে কাজ করেছে এই পাহাড়ি অরণ্য। বৃষ্টির জল ধরে রেখে ভূগর্ভস্থ জলস্তরকে জীবিত রেখেছে সে। অথচ আজ এই পর্বতকে কেটে, চিবিয়ে, চূর্ণ করে আমরা বানাচ্ছি সিমেন্ট, পাথর, কংক্রিটের নগর। উন্নয়নের নামে আমরা যে খনন চালাচ্ছি, ... ...
এখানে পিঞ্জর সিনেমায় সেই বেকার যুবকটিকে মনে পড়ছে? মফস্বল থেকে চাকরির খোঁজে কলকাতায় এসে যিনি অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত হয়ে পড়েছিলেন। ছবিটিতে অভিনয়ে উত্তমকুমারের সাথে পাল্লা দিয়েছিলেন। কিংবা রাতের রজনীগন্ধা ছবির কথাই ভাবুন। সেখানে বহুল আলোচিত এক মস্তানের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। পর্দায় যাঁর প্রথম উপস্থিতি নাগড়াই জুতো দেখানো দিয়ে শুরু হয়েছিল। বিচিত্র পোশাক আর গগলস সেই সময়ের বাংলা ছবির দর্শকের চোখ ধাঁধিয়ে দিয়েছিল। আবার কাঁচের স্বর্গ ছবিটিতে ... ...
কোয়ালপাড়ায় একটি অল্পবয়সী ছেলে, নাম পীতাম্বর নাথ। তাকে মা দীক্ষা দিয়েছিলেন। সে একদিন মাকে বাড়ির উঠান থেকে প্রণাম করছে। সেকালে পল্লী সমাজে তাদের স্থান প্রায় অস্পৃশ্যতার পর্য্যায় পড়ত। মা তাকে দেখে বললেন, 'বাবা, তুমি কেন সঙ্কোচ করছো? তুমি এস আমার কাছে, এসে পা ছুঁয়ে প্রণাম কর। তুমি যে ঠাকুরের গণ-ঠাকুর আর আমার সন্তান তুমি। ঘরের ছেলে ঘরে এসেছ, কিসের সঙ্কোচ তোমার। তোমায় যখন দীক্ষা দিয়েছি, তখন কি তোমার জাতের বিচার করেছি?' মা তাঁর সব সন্তানকে এইভাবে 'ঠাকুরের গণ' অর্থাৎ ঠাকুরের পরিবারের অন্তর্ভুক্ত করে নিতেন। অবহেলিত মানুষকে এমন মানবতার মহিমা কজন দিয়েছেন? মানুষকে মানুষের এমন মর্যাদা কজন দেয়?ঘাটাল, থেকে একদল মানুষ ... ...
যা চলছে চলুক। যা হচ্ছে হোক। আমার কী এসে যায়..! ঠিক বেঠিক ভাবুক অন্য কেউ। আমার তো দিব্য চলে যাচ্ছে। শিব্রামিয় ভাষায় যাকে বলে,"ফার্স্ট ক্লাস"। আমরা যে যার বৃত্তে মগ্ন। ভূত কিংবা ভবিষ্যত দেখার সংজ্ঞা পাল্টে গেছে। চারিদিকে অরাজকতা দেখলে বাপ জ্যাঠাদের দিবারাত্র বলতে শুনেছি, যা খুশি তাই করবে ভেবেছে? বাপের জমিদারি পেয়েছে... ইত্যাদি। ইত্যাদি। এখন সে সব অতীত। ঐ জাতীয় চিন্তা ভাবনার মানুষগুলো আজকের দিনে দুর্লভ। কারণ ওঁদের পরবর্তী প্রজন্ম তো আমরা। আমরা সব মুখবুজে সহ্য করতে শিখে গেছি। কোনটা ভাল জানলেও মন্দের প্রতি প্রতিবাদ করিনা। জীবনে অশান্তি কে-ই বা ভালোবাসে! ওঁরা অন্যায় অবিচার সহ্য করতেন না বলেই সমাজ ... ...
কোনো সেলিব্রিটি গায়ক গায়িকা কিংবা নায়ক নায়িকা অথবা লেখক লেখিকাকে দেখেছেন মানুষের হয়ে কথা বলতে! সরকারের বিপক্ষে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করতে! হয়ত দেখেছেন। কিন্তু সংখ্যায় খুবই কম। বেশিরভাগ সেলিব্রিটিরা শাসকের হাতে তামাক খেতেই অভ্যস্ত। বরং শাসকের গুণগান করে নিজের নিরাপত্তার আসন পাকা করতেই ব্যস্ত থাকে। এমনকি নিজের কাজের মধ্যেও শাসক বিরোধী কোনো প্রতিফলিত চিত্র খুঁজে পাওয়া যায় না। পাছে শাসক রুষ্ট হয়ে যায়। পাছে তার আসন টলে যায়। সেই ভয়ে। শাসক তো চাইবেই অধীনে থাকা প্রত্যেকটি প্রজা যেন তার হয়েই কথা বলে। তারই জয়ধ্বনি দেয়। বিপক্ষবাদ শাসকের কখনোই পছন্দের হতে পারে না। কিন্তু শাসকের ভুল ধরানোর জন্য কিংবা মানুষের হয়ে কথা ... ...