অন্ধকার মঞ্চ। একপাশে একটি খাট। তার ওপর কম্বল মুড়ি দিয়ে শুয়ে আছেন ছবি বিশ্বাস। সেটা উপস্থিত দর্শক জানে। তাঁকে খুঁজে বের করবেন নৃপতি চ্যাটার্জি। এই ছিল নাটকের দৃশ্য। নৃপতিবাবু মঞ্চে এলেন। খোঁজাখুঁজি শুরু হল। মঞ্চের ওপর শুরু হল ধুন্ধুমার খোঁজাখুঁজির পালা। নৃপতিবাবু সর্বত্র খুঁজছেন শুধু খাটের ওপর কম্বলটি ছাড়া। নৃপতিবাবুর খোঁজার ধরনে দর্শক হেসে কুটিপাটি। আর ওদিকে গরমকাল, তায় মঞ্চের আলো... কম্বলের নিচে ছবি বিশ্বাস দরদর করে ঘামছেন। দৃশ্যটি তিন মিনিটে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নৃপতিবাবুর দৌলতে সেই দৃশ্য দশ মিনিট কেটে গেলেও ছবি বিশ্বাসকে কিছুতেই কম্বল থেকে উদ্ধার করা হচ্ছে না। গরমের জ্বালায় ছবি বিশ্বাসের প্রাণ ওষ্ঠাগত প্রায়। কিন্তু ... ...
নীরবতার ভিতর থেকেও আর্তনাদ শোনা যায়—যদি কান খোলা থাকে। আরাবল্লী আজ ঠিক তেমনই নীরব এক আর্তনাদ। হাজার হাজার বছরের পুরোনো এই পর্বতমালা, যে পর্বত ভারতীয় উপমহাদেশের জলবায়ু, জীববৈচিত্র্য ও সভ্যতার ভারসাম্য রক্ষা করে এসেছে, আজ সে নিজেই অস্তিত্বের সংকটে। “আরাবল্লী পর্বত বাঁচাও”—এটা আর কোনো আবেগী স্লোগান নয়, এটা জাতীয় বিবেকের কাছে তোলা এক কঠিন প্রশ্ন।রাজস্থানের শুষ্ক ভূমিকে মরুভূমির গ্রাস থেকে রক্ষা করেছে আরাবল্লী। দিল্লি–এনসিআরের ফুসফুস হিসেবে কাজ করেছে এই পাহাড়ি অরণ্য। বৃষ্টির জল ধরে রেখে ভূগর্ভস্থ জলস্তরকে জীবিত রেখেছে সে। অথচ আজ এই পর্বতকে কেটে, চিবিয়ে, চূর্ণ করে আমরা বানাচ্ছি সিমেন্ট, পাথর, কংক্রিটের নগর। উন্নয়নের নামে আমরা যে খনন চালাচ্ছি, ... ...
এখানে পিঞ্জর সিনেমায় সেই বেকার যুবকটিকে মনে পড়ছে? মফস্বল থেকে চাকরির খোঁজে কলকাতায় এসে যিনি অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত হয়ে পড়েছিলেন। ছবিটিতে অভিনয়ে উত্তমকুমারের সাথে পাল্লা দিয়েছিলেন। কিংবা রাতের রজনীগন্ধা ছবির কথাই ভাবুন। সেখানে বহুল আলোচিত এক মস্তানের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। পর্দায় যাঁর প্রথম উপস্থিতি নাগড়াই জুতো দেখানো দিয়ে শুরু হয়েছিল। বিচিত্র পোশাক আর গগলস সেই সময়ের বাংলা ছবির দর্শকের চোখ ধাঁধিয়ে দিয়েছিল। আবার কাঁচের স্বর্গ ছবিটিতে ... ...
কোয়ালপাড়ায় একটি অল্পবয়সী ছেলে, নাম পীতাম্বর নাথ। তাকে মা দীক্ষা দিয়েছিলেন। সে একদিন মাকে বাড়ির উঠান থেকে প্রণাম করছে। সেকালে পল্লী সমাজে তাদের স্থান প্রায় অস্পৃশ্যতার পর্য্যায় পড়ত। মা তাকে দেখে বললেন, 'বাবা, তুমি কেন সঙ্কোচ করছো? তুমি এস আমার কাছে, এসে পা ছুঁয়ে প্রণাম কর। তুমি যে ঠাকুরের গণ-ঠাকুর আর আমার সন্তান তুমি। ঘরের ছেলে ঘরে এসেছ, কিসের সঙ্কোচ তোমার। তোমায় যখন দীক্ষা দিয়েছি, তখন কি তোমার জাতের বিচার করেছি?' মা তাঁর সব সন্তানকে এইভাবে 'ঠাকুরের গণ' অর্থাৎ ঠাকুরের পরিবারের অন্তর্ভুক্ত করে নিতেন। অবহেলিত মানুষকে এমন মানবতার মহিমা কজন দিয়েছেন? মানুষকে মানুষের এমন মর্যাদা কজন দেয়?ঘাটাল, থেকে একদল মানুষ ... ...
যা চলছে চলুক। যা হচ্ছে হোক। আমার কী এসে যায়..! ঠিক বেঠিক ভাবুক অন্য কেউ। আমার তো দিব্য চলে যাচ্ছে। শিব্রামিয় ভাষায় যাকে বলে,"ফার্স্ট ক্লাস"। আমরা যে যার বৃত্তে মগ্ন। ভূত কিংবা ভবিষ্যত দেখার সংজ্ঞা পাল্টে গেছে। চারিদিকে অরাজকতা দেখলে বাপ জ্যাঠাদের দিবারাত্র বলতে শুনেছি, যা খুশি তাই করবে ভেবেছে? বাপের জমিদারি পেয়েছে... ইত্যাদি। ইত্যাদি। এখন সে সব অতীত। ঐ জাতীয় চিন্তা ভাবনার মানুষগুলো আজকের দিনে দুর্লভ। কারণ ওঁদের পরবর্তী প্রজন্ম তো আমরা। আমরা সব মুখবুজে সহ্য করতে শিখে গেছি। কোনটা ভাল জানলেও মন্দের প্রতি প্রতিবাদ করিনা। জীবনে অশান্তি কে-ই বা ভালোবাসে! ওঁরা অন্যায় অবিচার সহ্য করতেন না বলেই সমাজ ... ...
কোনো সেলিব্রিটি গায়ক গায়িকা কিংবা নায়ক নায়িকা অথবা লেখক লেখিকাকে দেখেছেন মানুষের হয়ে কথা বলতে! সরকারের বিপক্ষে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করতে! হয়ত দেখেছেন। কিন্তু সংখ্যায় খুবই কম। বেশিরভাগ সেলিব্রিটিরা শাসকের হাতে তামাক খেতেই অভ্যস্ত। বরং শাসকের গুণগান করে নিজের নিরাপত্তার আসন পাকা করতেই ব্যস্ত থাকে। এমনকি নিজের কাজের মধ্যেও শাসক বিরোধী কোনো প্রতিফলিত চিত্র খুঁজে পাওয়া যায় না। পাছে শাসক রুষ্ট হয়ে যায়। পাছে তার আসন টলে যায়। সেই ভয়ে। শাসক তো চাইবেই অধীনে থাকা প্রত্যেকটি প্রজা যেন তার হয়েই কথা বলে। তারই জয়ধ্বনি দেয়। বিপক্ষবাদ শাসকের কখনোই পছন্দের হতে পারে না। কিন্তু শাসকের ভুল ধরানোর জন্য কিংবা মানুষের হয়ে কথা ... ...
মোর কোনো জাতি নাই। মোর কোনো ধর্ম নাই। মোর কোনো ভগবান নাই। মই কা..ঞ্চ...ন..জ..ঙ্ঘা..আমি কাঞ্চনজঙ্ঘা। জুবিন গর্গ। আসামের আকাশে বাতাসে ধ্বনিত একটাই নাম... জুবিনদা! ভারতবর্ষের ইতিহাসে একটি মানুষের মৃত্যুতে তিনদিনে প্রায় পঞ্চাশ লক্ষ মানুষকে পথে নামতে কেউ কখনও দেখেনি। এত ভালোবাসা মানুষের বুকে ছিল। হারানোর হাহাকার কোন পর্যায়ে গেলে মানুষ লাশের পিছু পিছু হাঁটে জুবিন দেখিয়ে দিয়েছেন। এত সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি বিশ্বে চার নম্বরে স্থান পেয়েছে। প্রথম স্থানাধিকারী মাইকেল জ্যাকসন। মৃত্যুর কয়েকদিন আগের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল... যাতে অসমীয়া ভাষায় জুবিনকে বলতে শোনা যায়, "সোনু নিগম কুমার শানু আমার ভাল বন্ধু। ওরা প্রচুর গান গেয়েছে। খুব ভাল গেয়েছে। কিন্তু সোনু ... ...
(চলুন ঘুরে আসা যাক জাদুকরদের অজানা দুনিয়ায়)আদি যুগ থেকেই ভারতীয়রা চিরকাল জাদুবিদ্যার ভক্ত। তারফলেই ভৌতিক আধাভৌতিক তন্ত্র মন্ত্র কালাজাদু ইত্যাদির এদেশে বোলবালা। প্রাচীনকাল থেকেই বিজ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে সন্ন্যাসী এবং সাধুসন্তরা অলৌকিকতা প্রক্ষেপণ কে জাদুবল দেখিয়ে আসছেন। অশিক্ষিত অর্ধশিক্ষিত ভারতবাসীর কাছে সেই জন্যেই সন্ন্যাসী ও সাধুসন্তদের চিরকাল প্রাধান্য। যাঁরা বিজ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে সেই জাদুকে মানুষের মনোরঞ্জনে ব্যবহার করেছেন তাঁরাই জাদুকর নামে পরিচিত হয়েছেন। জাদুবিদ্যা বলে আপাতদৃষ্টিতে কিছু হয়না। মানুষের অজানা বিজ্ঞান আর দৃষ্টি বিভ্রমকেই জাদুকররা সুনিপুণভাবে কাজে লাগিয়ে এক আশ্চর্য্য চমকের সৃষ্টির মধ্যে দিয়ে দর্শকের মনোরঞ্জন করে থাকেন। জাদুকরদের ইতিহাস সম্পর্কে অজ্ঞান বা প্রায় অশিক্ষিত বাঙালিদের জীবনে সর্বশ্রেষ্ঠ এবং বিশ্ববিখ্যাত জাদুকর ... ...
"পাঁচে নয় সাতে আছি।" এক সময়ে শহর জুড়ে বড় বড় হোর্ডিংয়ে এইরকম লেখা আমরা অনেকেই দেখেছি। বাংলার এক বিখ্যাত সংবাদপত্রের পাঠক সংখ্যা কত, তার হিসেব জানানোর বিজ্ঞাপন ছিল ঐ ভাষায়(৭ লক্ষ পাঠক)। প্রায় দশ বছর হতে চলল ঐ জাতীয় বিজ্ঞাপন শহরে আর চোখে পড়েনা। কারণ সংবাদপত্রের পাঠক আর বাড়ছে না, ক্রমশ কমছে। আগে জনসংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে অন্যসব পণ্যের মতোই সংবাদপত্রের সার্কুলেশন বাড়তো। কিন্তু স্মার্ট ফোনের দৌরাত্মের যুগে সংবাদপত্রের সার্কুলেশন ক্রমহ্রাসমান। একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম বোধহয় শেষ পর্যায়ের দিন গুনছে। পরিচিত অনেক মাধ্যম আজ বিলুপ্তির পথে অথবা বিলুপ্ত হয়েই গেছে। যেমন ট্র্যাডিশনাল রেডিও। এখন কজন মানুষ কলকাতা ক কিংবা বিবিধ ভারতীর অনুষ্ঠান ... ...
নিজের দেওয়ালে উৎপটাং কিছু লেখালিখি করাটাই আমার নেশা। অন্য কোনোরকম নেশার দাস আমি নই। অনেক আগে লিখতুম দেওয়াল পত্রিকায়। যেগুলো কলেজে কিংবা লাইব্রেরির দেওয়ালে টাঙানো থাকত। তার পরের দিকে গ্রামগঞ্জের কয়েকটি লিটিল ম্যাগাজিনে। সেই তখনই বকুপিসির কানে গিয়েছিল, আমি নাকি চাদ্দিকের রাজনৈতিক খবরাখবর নিয়ে লেখালিখি করছি। যা করা নাকি অত্যন্ত বিপজ্জনক। শুরু হয়েছিল বকুপিসির নিত্য ধমকাধমকি। তার জ্বালায় অতিষ্ঠ হয়ে লিটিল ম্যাগাজিনে লেখালিখি ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছিলুম। তারও বেশ কিছু পরে দু একটি ছোটখাটো সংবাদপত্রে সম্পাদকীয় লিখতে শুরু করি। সেও অবিশ্যি রাজনীতি নিয়েই। কে যেন সেই কাগজগুলো বকুপিসিকে দেখিয়ে দিয়েছিল। সেইসব লেখা দেখে বকুপিসি বলল, হ্যাঁ রে তোর এত সাহস কিসের? ... ...