kk, সোমনাথবাবু, হীরেনবাবু, আপনাদের আলোচনা পড়ে ভারি ভাল লাগল, উৎসাহ পাচ্ছি লেখাটাকে আরেকটু এগিয়ে নিয়ে যাবার।
কেকের SOFA র কথায় বলি, এই acronym টি সবসময় মনে রাখার, বিশেষ করে রান্নায় ম্যরিনেশনের সময়, বিশেষ করে আমাদের ভারতীয় বা বাঙালী রান্নায় তো বটেই, এমনকি অন্যান্য রান্নার ক্ষেত্রেও খাটে। কি S, কি O, F, A এবং কতটা তার ওপর যে কতকিছু নির্ভর করে!
সোমনাথবাবু, রান্নার, ঔপনিবেশিকতা, এবং ভারতীয় জনজীবন এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তনের ফলে যে কতরকমের প্রভাব পড়েছে, বিশেষ করে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে, তার ্ইয়ত্তা নেই, ভারতে ডায়াবিটিসের বাড়বাড়ন্ত কে বিচার করে দেখুন না কেন। আমাদের প্রাক-উপনিবেশিক খাওয়া দাওয়া আর জীবনযাত্রায় কায়িক পরিশ্রমের সঙ্গে খাবার মানিয়ে নেবার একটা ব্যাপার ছিল, আজকের ভারতের দিকে তাকালে দেখবেন সে সব উল্টে পাল্টে গেছে। আমাদের সমাজে আমরা যে সমস্ত খাবার দাবার খুঁটিয়ে দেখে তবে গ্রহণ করতাম এক সময়ে, এখন সেই বোধ অনেকাংশে হারিয়েছে, ফলে খাবার জনিত নানান আধিব্যাধি গ্রাস করছে। এ শুধু ভারত বলে নয়, তাবৎ বিশ্বের যেখানে কলোনাইজেশন হয়েছে, সর্বত্র এই ব্যাপার দেখবেন। ফিজি, সামোয়া, সর্বত্র, আফ্রিকার দেশগুলো, যেখানে দেখবেন। খাবার খাওয়া রান্নাবান্নার ওপর অনেকাংশে নির্ভর করে। গত বছর ল্যানসেট পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রবন্ধ এবং তৎসংক্রান্ত একটি লেখা উল্লেখ করলাম, দেখুন:
এরা লিখছেন,
"As we look to transform our food system for the future, we will surely require diverse solutions from yet-to-be-developed agricultural techniques to alternative proteins and more. But right now, with no need for further invention, there are thousands of plant-rich meals, recipes and culinary techniques, developed and refined over centuries by home cooks around the world. This delicious heritage is often hiding in plain sight, just waiting to be discovered, tasted, and shared."
আমি আপনার সঙ্গে একমত যে "রন্ধন বিদ্যাটি যথার্থই শিল্পের পর্যায়ে পড়ে", কোন রান্না কীভাবে করব, শুধু তাই নয়, কিভাবে তাকে পরিবেশন করব, কিভাবে গ্রহণ করব, শিল্পীর নিপুণতার ব্যাপার। বিশেষ করে খাওয়াদাওয়া প্রায় নাচ গানের মতই শিল্পের পর্যায়ে ভাবা যেতে পারে। বহু মন্দিরে যেমন প্রসাদ খাবার আগে ঘন্টা বাজানো হয়, প্রার্থনা করা হয়, খাবার খাওয়ার পরিবেশ তৈরী করা হয়, জাপানীদের যেমন এ বিষয়ে নানান রকমের প্রথা লক্ষণীয়, তেমনি আবার পশ্চিমে আজকালকার দিন বললে শিকাগোর অ্যালিনিয়া হোটেলের কথা সবিশেষ প্রণিধানযোগ্য, এক ভদ্রলোক লিখছেন,
"
Above the table, a series of elegant tiles hung suspended — seemingly decorative, almost sculptural. Little did we know, they were part of the act. While a touch of culinary sleight of hand unfolded in the kitchen, the dining room itself was quietly re-staged. With impeccable timing and a dash of misdirection, those tiles descended and transformed into an entirely new seating arrangement — the stage reset, the curtain lifted, and the next course revealed in plain sight.
It was pure theater — the kind that makes you smile before the first bite ever reaches your lips."
আপনার পিপুল মরীচ ও চই নিয়ে আরেকটু লেখার আছে, এখন থাক। চই আমার মনে হয় অনেকটা সেঝুয়ান মরীচের মতন, ঝাল এবং তার সঙ্গে ঝাঁঝ, আবার সেঝুয়ান মরীচ যেমন জিভ অবশ করে দেয়, অনেকটা peppermint এর মতন। এককালে তার ব্যবহার লক্ষণীয় ছিল। আবার কলকাতা গেলে দেখব বাজারে পাই কি না।
হীরেন বাবুকে আবারো অসংখ্য ধন্যবাদ, এমন অকুন্ঠ ভালবাসা জানানোর জন্য। তবে আপনার কমেনট টি নিয়ে সত্যি ভাববার মতন ব্যাপার,
"যে ডাচ একদিন মশলার বানিজ্যের লোভে ম্যানহাটান বেচে দিয়েছিল তাদের রান্নায় মশলার ব্যবহার দেখা যায় না কেন? ইংরেজের রান্নায় তো নয়ই
তাহলে ডাচ ইংরেজ সপ্যানিশ মশলার কারবার করলো শুধু ? চেখে দেখলো না ? "
সত্যি অদ্ভুত সামাজিক মানসিকতা। কারো কারো মতে ডাচরা একসময় মশলার দাম ইউরোপে এত কমিয়ে আনে যে মশলা তখন লোকের ঘরে ঘরে, ফলে উন্নাসিক exclusivity ছিল না বলে নাকি তারা মশলার ব্যবহার বন্ধ করে দেয়, কে জানে? থিওরির তো শেষ নেই, :-)
এখানে যেমন একজন লিখেছেন,
তো চলুক আমাদের গল্প, আলোচনা।
বেজায় উৎসাহ পেলাম।