এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  •  ফাজি লজিক: রাজার নতুন শিক্ষানীতি  অধ্যায় ৪: ফাজি লজিকের নিয়ম —

    albert banerjee লেখকের গ্রাহক হোন
    ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ২৮ বার পঠিত
  • 1 | 2 | 3 | 4
    লিলির যুক্তির খেলা

    আগের অধ্যায়গুলোতে আমরা শিখেছিলাম ফাজি লজিকের মৌলিক ধারণা, ফাজি সেট আর ফাজি রিলেশন। লিলি আর মিমি এখন বুঝতে পেরেছে, কীভাবে অস্পষ্ট জিনিসগুলোকে গাণিতিক ভাষায় লেখা যায়। আজকের অধ্যায়ে আমরা শিখব ফাজি লজিকের নিয়ম — কীভাবে ফাজি AND, OR, NOT আরও জটিলভাবে কাজ করে, আর কীভাবে ফাজি যুক্তি দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।

    গল্প শুরু করি সেখান থেকে, যেখানে আগের অধ্যায় শেষ হয়েছিল।

     সকালবেলার ঘটনা

    পরদিন সকালে লিলি তার মায়ের কাছে গিয়ে বলল, "মা, আমরা ফাজি সেট আর ফাজি রিলেশন শিখেছি। কিন্তু ফাজি লজিক দিয়ে কীভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়? যেমন — আমি আজ বাইরে যাব কিনা, সেটা ঠিক করতে ফাজি লজিক কীভাবে কাজ করে?"

    মা বললেন, "ভালো প্রশ্ন। ফাজি লজিকের সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য কিছু নিয়ম আছে। আজ আমরা সেগুলো শিখব।"

    মিমি বলল, "নিয়ম? যেমন কী?"

    মা বললেন, "যেমন — যদি-তবে ধরনের নিয়ম। কিন্তু এখানে 'যদি' আর 'তবে' দুটোই ফাজি হতে পারে।"

    লিলি বলল, "তাহলে শুরু করি?"

     ফাজি লজিকের মৌলিক অপারেটর

    মা প্রথমে ফাজি লজিকের মৌলিক অপারেটরগুলো মনে করিয়ে দিলেন। তিনি বললেন, "আমরা আগে শিখেছি, ফাজি লজিকে AND, OR, NOT এইভাবে কাজ করে:

    - ফাজি AND: μ(A ∧ B) = min(μ(A), μ(B))
    - ফাজি OR: μ(A ∨ B) = max(μ(A), μ(B))
    - ফাজি NOT: μ(¬A) = 1 - μ(A)

    লিলি বলল, "এটা তো মনে আছে। min, max আর ১ থেকে বিয়োগ।"

    মা বললেন, "ঠিক। কিন্তু এগুলো ছাড়াও আরও অনেক অপারেটর আছে। যেমন — প্রোডাক্ট অপারেটর, বাউন্ডেড অপারেটর ইত্যাদি।"

    মিমি বলল, "এতগুলো আবার কী?"

    মা বললেন, "চলো একে একে দেখি।"

     প্রোডাক্ট অপারেটর

    মা প্রথমে প্রোডাক্ট অপারেটর দেখালেন। তিনি বললেন, "প্রোডাক্ট অপারেটরে AND-কে গুণ দিয়ে দেখানো হয়।"

    μ(A ∧ B) = μ(A) × μ(B)

    উদাহরণ: A = ০.৭, B = ০.৮ হলে,
    A AND B = ০.৭ × ০.৮ = ০.৫৬

    লিলি বলল, "এটা min অপারেটরের চেয়ে ছোট মান দিচ্ছে। min ছিল ০.৭, আর এটা ০.৫৬।"

    মা বললেন, "হ্যাঁ। min অপারেটর বেশি রক্ষণশীল, আর প্রোডাক্ট অপারেটর বেশি কঠোর।"

    মিমি বলল, "কোনটা ব্যবহার করব?"

    মা বললেন, "এটা নির্ভর করে সমস্যার ওপর।"

     বাউন্ডেড অপারেটর

    মা এবার বাউন্ডেড অপারেটর দেখালেন। তিনি বললেন, "বাউন্ডেড অপারেটরে AND-কে ম্যাক্স(০, A+B-1) দিয়ে দেখানো হয়।"

    μ(A ∧ B) = max(0, μ(A) + μ(B) - 1)

    উদাহরণ: A = ০.৭, B = ০.৮ হলে,
    A AND B = max(0, ০.৭+০.৮-১) = max(0, ০.৫) = ০.৫

    লিলি বলল, "এটা ০.৫ দিচ্ছে — min (০.৭) আর প্রোডাক্ট (০.৫৬) এর মাঝামাঝি?"

    মা বললেন, "আসলে এটা ০.৫, যা প্রোডাক্টের চেয়ে একটু কম। বাউন্ডেড অপারেটর আরও কঠোর।"

    মিমি বলল, "OR-এর জন্যও কি এরকম অপারেটর আছে?"

    মা বললেন, "হ্যাঁ।"

     বাউন্ডেড OR

    মা বাউন্ডেড OR দেখালেন:

    μ(A ∨ B) = min(1, μ(A) + μ(B))

    উদাহরণ: A = ০.৭, B = ০.৮ হলে,
    A OR B = min(1, ০.৭+০.৮) = min(1, ১.৫) = ১

    লিলি বলল, "এটা ১ দিচ্ছে — max অপারেটরও ০.৮ দিয়েছিল। এটা বেশি দিচ্ছে।"

    মা বললেন, "হ্যাঁ। বাউন্ডেড OR বেশি উদার।"

    মিমি বলল, "আমার মাথা ঘুরছে! এত অপারেটর!"

    মা বললেন, "আস্তে আস্তে সব মনে হবে।"

     ড্রাস্টিক অপারেটর

    মা এবার ড্রাস্টিক অপারেটর দেখালেন। তিনি বললেন, "এটা সবচেয়ে কঠোর অপারেটর।"

    ড্রাস্টিক AND:
    - যদি A = ১ হয়, তাহলে B
    - যদি B = ১ হয়, তাহলে A
    - না হলে ০

    ড্রাস্টিক OR:
    - যদি A = ০ হয়, তাহলে B
    - যদি B = ০ হয়, তাহলে A
    - না হলে ১

    লিলি বলল, "এটা বুলিয়ান অপারেটরের মতো, কিন্তু ফাজি মানের জন্যও কাজ করে?"

    মা বললেন, "হ্যাঁ। এটা খুব কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়।"

    উদাহরণ: A = ০.৭, B = ০.৮ হলে,
    ড্রাস্টিক AND = ০ (কারণ কেউই ১ না)
    ড্রাস্টিক OR = ১ (কারণ কেউই ০ না)

    মিমি বলল, "এটা তো অনেক চরম সিদ্ধান্ত!"

    মা বললেন, "ঠিক। ড্রাস্টিক অপারেটর খুব কম ব্যবহার করা হয়।"

     ইমপ্লিকেশন — যদি-তবে নিয়ম

    মা এবার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শেখালেন — ফাজি ইমপ্লিকেশন। তিনি বললেন, "ফাজি লজিকে 'যদি A হয় তবে B' — এই ধরনের নিয়মগুলোকে ইমপ্লিকেশন বলে।"

    বুলিয়ান লজিকে ইমপ্লিকেশন: A → B = ¬A ∨ B

    ফাজি লজিকেও একই সূত্র ব্যবহার করা যায়, কিন্তু মান ফাজি হবে:

    μ(A → B) = max( 1-μ(A), μ(B) )

    উদাহরণ: A = ০.৭, B = ০.৮ হলে,
    A → B = max( ১-০.৭=০.৩, ০.৮ ) = ০.৮

    লিলি বলল, "মানে এই নিয়মের সত্যতা ০.৮?"

    মা বললেন, "হ্যাঁ। এটা বলে, 'যদি A হয় তবে B' — এই বক্তব্যটি ০.৮ মাত্রায় সত্যি।"

    মিমি বলল, "আরেকটা উদাহরণ দাও।"

    মা দিলেন: A = ০.২, B = ০.৪ হলে,
    A → B = max( ০.৮, ০.৪ ) = ০.৮

    A = ০.৯, B = ০.৩ হলে,
    A → B = max( ০.১, ০.৩ ) = ০.৩

     আরও ইমপ্লিকেশন অপারেটর

    মা বললেন, "ইমপ্লিকেশনের আরও অনেক রকম আছে। যেমন — মামদানি ইমপ্লিকেশন, লারসেন ইমপ্লিকেশন ইত্যাদি।"

    মামদানি ইমপ্লিকেশন: μ(A → B) = min( μ(A), μ(B) )

    লারসেন ইমপ্লিকেশন: μ(A → B) = μ(A) × μ(B)

    গডেল ইমপ্লিকেশন:
    - যদি μ(A) ≤ μ(B) হয়, তাহলে ১
    - না হলে μ(B)

    লিলি বলল, "এত রকম! কোনটা ব্যবহার করব?"

    মা বললেন, "এটা নির্ভর করে সমস্যার ওপর। মামদানি বেশি জনপ্রিয়।"

    মিমি বলল, "মামদানি আবার কে?"

    মা বললেন, "ইব্রাহিম মামদানি — একজন ইরানি বিজ্ঞানী, যিনি ফাজি কন্ট্রোল সিস্টেমের জন্য বিখ্যাত।"

     লিলির নিজের উদাহরণ — বাইরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত

    লিলি তার নিজের জীবনে ফাজি ইমপ্লিকেশন ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিল। সে বানাল নিয়ম:

    "যদি (আবহাওয়া ভালো হয়) আর (হোমওয়ার্ক শেষ থাকে) তবে (আমি বাইরে যাব)"

    ধরো,
    A = আবহাওয়া ভালো = ০.৮
    B = হোমওয়ার্ক শেষ = ০.৬

    তাহলে A ∧ B = min(০.৮, ০.৬) = ০.৬

    এখন ইমপ্লিকেশন: (A ∧ B) → C, যেখানে C = বাইরে যাওয়া

    মামদানি ইমপ্লিকেশন: μ(C) = min(০.৬, μ(C)) — কিন্তু এটা ঠিক না। আসলে ইমপ্লিকেশন দিয়ে আমরা আউটপুট পাই না, আমরা পাই একটা ফাজি সেট।

    মা বুঝিয়ে বললেন, "ইমপ্লিকেশন দিয়ে আমরা একটা নিয়মের সত্যতা পাই, কিন্তু আউটপুট পেতে গেলে আরও কিছু ধাপ লাগে। সেটা পরে শিখবে।"

     ফাজি নিয়মের ভিত্তি

    মা তাদের ফাজি নিয়মের মূল কথা বুঝাতে লাগলেন। তিনি বললেন, "ফাজি লজিকের সবচেয়ে বড় ব্যবহার হলো ফাজি নিয়ম তৈরি করা। যেমন — 'যদি চা গরম হয় তবে একটু ঠাণ্ডা করো'। এই নিয়মে 'গরম' আর 'একটু ঠাণ্ডা' দুটোই ফাজি ধারণা।"

    লিলি বলল, "তাহলে কীভাবে এই নিয়ম কাজ করে?"

    মা বললেন, "প্রথমে ইনপুটের ফাজি মান বের করা হয়। তারপর সেই মান দিয়ে নিয়মের সত্যতা বের করা হয়। তারপর সেই সত্যতা দিয়ে আউটপুট ফাজি সেট বের করা হয়।"

    মিমি বলল, "এটা অনেক ধাপের ব্যাপার!"

    মা বললেন, "হ্যাঁ। কিন্তু পরের অধ্যায়ে আমরা এটা বিস্তারিত দেখব।"

     ফাজি নিয়মের প্রকার

    মা তাদের ফাজি নিয়মের বিভিন্ন প্রকার দেখালেন:

    ১. সিঙ্গেল ইনপুট-সিঙ্গেল আউটপুট: যেমন — যদি চা গরম হয় তবে ঠাণ্ডা করো।

    ২. মাল্টিপল ইনপুট-সিঙ্গেল আউটপুট: যেমন — যদি চা গরম হয় আর দুধ কম হয় তবে ঠাণ্ডা করো।

    ৩. মাল্টিপল ইনপুট-মাল্টিপল আউটপুট: যেমন — যদি চা গরম হয় আর দুধ কম হয় তবে ঠাণ্ডা করো আর চিনি দাও।

    লিলি বলল, "জটিল থেকে জটিলতর!"

    মা বললেন, "হ্যাঁ। কিন্তু বাস্তব সমস্যার সমাধান এভাবেই হয়।"

     ফাজি নিয়মের উদাহরণ — ফ্যান কন্ট্রোল

    মিমি একটা ফাজি নিয়মের উদাহরণ দিতে চাইল। সে বলল, "আমার ফ্যানের গতি নিয়ন্ত্রণের জন্য আমি নিয়ম বানাতে চাই।"

    তিনটা নিয়ম:
    ১. যদি তাপমাত্রা বেশি হয় তবে ফ্যানের গতি বেশি দাও।
    ২. যদি তাপমাত্রা মাঝারি হয় তবে ফ্যানের গতি মাঝারি দাও।
    ৩. যদি তাপমাত্রা কম হয় তবে ফ্যানের গতি কম দাও।

    লিলি বলল, "এটা তো খুব সহজ!"

    মিমি বলল, "কিন্তু 'বেশি', 'মাঝারি', 'কম' — এগুলো ফাজি। কীভাবে ঠিক করব?"

    মা বললেন, "এখানেই ফাজি লজিক আসে। প্রতিটি 'বেশি' এর জন্য একটা মেম্বারশিপ ফাংশন থাকবে। ইনপুট তাপমাত্রা থেকে বের করা হবে কতটা 'বেশি', কতটা 'মাঝারি', কতটা 'কম'। তারপর সেই মান দিয়ে আউটপুট বের করা হবে।"

    লিলি বলল, "এটা পরের অধ্যায়ের বিষয় মনে হচ্ছে।"

    মা বললেন, "ঠিক। আজ আমরা শুধু নিয়মগুলো দেখছি।"

     ফাজি নিয়মের বৈশিষ্ট্য

    মা তাদের ফাজি নিয়মের কিছু বৈশিষ্ট্য বললেন:

    ১. সমান্তরালতা: একসাথে অনেকগুলো নিয়ম কাজ করতে পারে।

    ২. অস্পষ্টতা: নিয়মগুলো অস্পষ্ট ধারণা নিয়ে কাজ করে।

    ৩. নমনীয়তা: নিয়মগুলো সহজে পরিবর্তন করা যায়।

    ৪. মানব-বান্ধব: মানুষের ভাষায় লেখা যায় — 'যদি', 'তবে' দিয়ে।

    ৫. রোবাস্টনেস: ইনপুটে সামান্য পরিবর্তন হলে আউটপুটে খুব বেশি পরিবর্তন হয় না।

    মিমি বলল, "এটাই তো ফাজি লজিকের সবচেয়ে বড় সুবিধা!"

    মা বললেন, "হ্যাঁ। ফাজি লজিক সিস্টেম খুব স্থিতিশীল।"

     ফাজি নিয়মের সীমাবদ্ধতা

    মা তাদের ফাজি নিয়মের কিছু সীমাবদ্ধতাও বললেন:

    ১. নিয়ম নির্ধারণ কঠিন: কে ঠিক করবে কোন নিয়মগুলো হবে? এটা বিশেষজ্ঞের ওপর নির্ভর করে।

    ২. অপ্টিমাইজেশন কঠিন: অনেক নিয়ম থাকলে সেগুলোকে অপ্টিমাইজ করা কঠিন।

    ৩. লার্নিং ক্ষমতা নেই: ফাজি সিস্টেম নিজে থেকে শিখতে পারে না — নিয়ম আগে থেকে ঠিক করে দিতে হয়।

    ৪. কম্পিউটেশনাল খরচ: অনেক নিয়ম থাকলে হিসাব করতে সময় লাগে।

    লিলি বলল, "কিন্তু নিউরাল নেটওয়ার্ক তো শিখতে পারে?"

    মা বললেন, "হ্যাঁ। তাই আধুনিক সিস্টেমে ফাজি লজিক আর নিউরাল নেটওয়ার্ক একসাথে ব্যবহার করা হয় — একে বলে নিউরো-ফাজি সিস্টেম।"

     ফাজি লজিকের বাস্তব ব্যবহার

    মা তাদের ফাজি লজিকের আরও কিছু বাস্তব ব্যবহার দেখালেন:

    ১. এয়ার কন্ডিশনার: তাপমাত্রা আর আর্দ্রতা অনুযায়ী কুলিং লেভেল ঠিক করা।

    ২. অটোমেটিক ট্রান্সমিশন: গাড়ির গতি আর ইঞ্জিনের আরপিএম অনুযায়ী গিয়ার বদলানো।

    ৩. ক্যামেরা অটোফোকাস: দূরত্ব আর আলো অনুযায়ী ফোকাস ঠিক করা।

    ৪. রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট: ব্যাংকিংয়ে ঋণ দেওয়ার সময় ঝুঁকি মূল্যায়ন।

    ৫. স্টক মার্কেট প্রেডিকশন: শেয়ার বাজারের প্রবণতা বিশ্লেষণ।

    মিমি বলল, "এত জায়গায় ফাজি লজিক!"

    মা বললেন, "হ্যাঁ। ফাজি লজিক এখন পৃথিবীর সব জায়গায়।"

     লিলির নিজের নিয়ম — চা তৈরির মেশিন

    লিলি তার নিজের জন্য একটা ফাজি নিয়ম সেট বানাল — চা তৈরির মেশিনের জন্য:

    নিয়ম ১: যদি চা খুব গরম হয় তবে ঠাণ্ডা করো বেশি।
    নিয়ম ২: যদি চা একটু গরম হয় তবে ঠাণ্ডা করো একটু।
    নিয়ম ৩: যদি চা ঠাণ্ডা হয় তবে গরম করো বেশি।
    নিয়ম ৪: যদি চা একটু ঠাণ্ডা হয় তবে গরম করো একটু।
    নিয়ম ৫: যদি চা ঠিক হয় তবে কিছুই করো না।

    মিমি বলল, "৫টা নিয়ম! এতগুলো দরকার?"

    লিলি বলল, "হ্যাঁ। চা ঠিকঠাক বানাতে অনেক নিয়ম লাগে।"

    মা বললেন, "ঠিক। বাস্তব সিস্টেমে ১০-২০টা নিয়ম থাকে।"

     ফাজি নিয়মের মূল্যায়ন

    মা তাদের ফাজি নিয়ম কীভাবে মূল্যায়ন করতে হয়, তা দেখালেন। তিনি বললেন, "ধরো, তাপমাত্রা ইনপুট ৭০°C। আমরা বের করি:

    - 'খুব গরম' এর মেম্বারশিপ = ০.৮
    - 'একটু গরম' এর মেম্বারশিপ = ০.৪
    - 'ঠিক' এর মেম্বারশিপ = ০.০
    - 'একটু ঠাণ্ডা' এর মেম্বারশিপ = ০.০
    - 'খুব ঠাণ্ডা' এর মেম্বারশিপ = ০.০

    তাহলে শুধু নিয়ম ১ আর ২ সক্রিয় হবে। নিয়ম ১ এর সক্রিয়তা = ০.৮, নিয়ম ২ এর সক্রিয়তা = ০.৪।

    এই সক্রিয়তা দিয়ে আউটপুট বের করতে হবে।"

    লিলি বলল, "এটা পরের অধ্যায়ের বিষয়?"

    মা বললেন, "হ্যাঁ। ইনফারেন্স আর ডিফাজিফিকেশন — সেগুলো পরের অধ্যায়ে।"

     ফাজি লজিকের নিয়মের সারাংশ

    মা তাদের আজকের পড়ার সারাংশ দিলেন:

    ১. ফাজি AND-এর বিভিন্ন রূপ:
       - মিন: min(A,B)
       - প্রোডাক্ট: A×B
       - বাউন্ডেড: max(0, A+B-1)
       - ড্রাস্টিক: A if B=1, B if A=1, else 0

    ২. ফাজি OR-এর বিভিন্ন রূপ:
       - ম্যাক্স: max(A,B)
       - বাউন্ডেড: min(1, A+B)
       - ড্রাস্টিক: A if B=0, B if A=0, else 1

    ৩. ফাজি NOT: 1-A

    ৪. ফাজি ইমপ্লিকেশন:
       - ক্লাসিক: max(1-A, B)
       - মামদানি: min(A, B)
       - লারসেন: A×B
       - গডেল: 1 if A≤B, else B

    ৫. ফাজি নিয়ম: যদি-তবে আকারে লেখা, যেখানে 'যদি' আর 'তবে' দুটোই ফাজি হতে পারে।

    লিলি আর মিমি এই সারাংশ খাতায় লিখে রাখল।

     রাতের খাবারের মজা

    রাতে খাবার টেবিলে লিলি আর মিমি তাদের বাবাকে ফাজি লজিকের নিয়ম শেখাতে লাগল।

    লিলি বলল, "বাবা, আমরা আজ ফাজি ইমপ্লিকেশন শিখেছি। যেমন — 'যদি তুমি ক্লান্ত হও তবে তুমি ঘুমাবে' — এই নিয়মের সত্যতা কত?"

    বাবা বললেন, "আমি ক্লান্তি ০.৯, ঘুমানোর দরকার ০.৮ — তাহলে?"

    মিমি বলল, "মামদানি ইমপ্লিকেশন হলে min(০.৯, ০.৮) = ০.৮। ক্লাসিক ইমপ্লিকেশন হলে max(১-০.৯=০.১, ০.৮) = ০.৮। দুটোই ০.৮ দিচ্ছে!"

    বাবা বললেন, "তা হলে আমি আজ ০.৮ মাত্রায় ঘুমাব?"

    সবাই খুব হাসল।

    মা বললেন, "ওরা এখন ফাজি লজিকের ওস্তাদ হয়ে যাচ্ছে।"

     শোওয়ার আগে

    রাতে শোওয়ার আগে লিলি আর মিমি তাদের আজকের পড়া রিভাইজ করল।

    লিলি লিখল:
    - ফাজি AND এর রূপ: min, product, bounded, drastic
    - ফাজি OR এর রূপ: max, bounded, drastic
    - ফাজি NOT: 1 - A
    - ফাজি ইমপ্লিকেশন: ক্লাসিক (max(1-A,B)), মামদানি (min(A,B)), লারসেন (A×B), গডেল (1 if A≤B else B)

    মিমি লিখল:
    - ফাজি নিয়ম: IF (ফাজি শর্ত) THEN (ফাজি আউটপুট)
    - ফাজি নিয়মের বৈশিষ্ট্য: সমান্তরাল, নমনীয়, মানব-বান্ধব
    - বাস্তব ব্যবহার: AC, ট্রান্সমিশন, ক্যামেরা, রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট
    - সীমাবদ্ধতা: নিয়ম নির্ধারণ কঠিন, অপ্টিমাইজেশন কঠিন

    লিলি বলল, "কাল আমরা ফাজি ইনফারেন্স সিস্টেম শিখব। সেটা আরও মজা হবে।"

    মিমি বলল, "মানে কীভাবে সব নিয়ম একসাথে কাজ করে?"

    লিলি বলল, "হ্যাঁ।"

    তারা ঘুমিয়ে পড়ল।

    টিপস

    তোমরাও লিলি আর মিমির মতো ফাজি লজিকের নিয়ম শিখে ফেললে। এখন তুমি জানো, ফাজি AND, OR, NOT-এর একাধিক রূপ আছে। আর জানো ফাজি ইমপ্লিকেশন দিয়ে কীভাবে 'যদি-তবে' নিয়ম তৈরি করতে হয়।

    তোমার চারপাশ থেকে ফাজি নিয়মের উদাহরণ বের করতে পারো। যেমন:

    - যদি তাপমাত্রা বেশি হয় তবে ফ্যান চালাও।
    - যদি বৃষ্টি হয় তবে ছাতা নাও।
    - যদি পরীক্ষা কাছাকাছি হয় তবে বেশি পড়ো।
    - যদি সময় থাকে তবে খেলতে যাও।
    - যদি ক্লান্ত লাগে তবে ঘুমাও।

    এভাবে প্রতিদিন ৫টা করে ফাজি নিয়ম বানানোর অভ্যাস করো।

    মনে রাখার মূল কথা:
    - ফাজি AND এর একাধিক রূপ — min সবচেয়ে সহজ
    - ফাজি ইমপ্লিকেশন দিয়ে নিয়ম তৈরি হয়
    - ফাজি নিয়ম মানুষের ভাষায় লেখা যায়
    - একসাথে অনেক নিয়ম কাজ করতে পারে

     শেষ কথা

    এই অধ্যায়ে আমরা শিখলাম ফাজি লজিকের নিয়ম। আমরা দেখলাম, ফাজি AND, OR, NOT-এর একাধিক রূপ আছে — মিন, ম্যাক্স, প্রোডাক্ট, বাউন্ডেড, ড্রাস্টিক। আমরা শিখলাম ফাজি ইমপ্লিকেশন — কীভাবে 'যদি-তবে' নিয়ম তৈরি করতে হয়। দেখলাম মামদানি, লারসেন, গডেল ইমপ্লিকেশনের বিভিন্ন রূপ। আর শিখলাম ফাজি নিয়মের বৈশিষ্ট্য, সুবিধা আর অসুবিধা।

    লিলি আর মিমি তাদের নিজের জীবন থেকে অসংখ্য ফাজি নিয়মের উদাহরণ দিয়েছে — চা তৈরির মেশিন, ফ্যান কন্ট্রোল, বাইরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত — সবকিছুর জন্য। তারা দেখিয়েছে, কীভাবে ফাজি নিয়ম বাস্তব সমস্যা সমাধান করে।

    পরের অধ্যায়ে আমরা শিখব ফাজি ইনফারেন্স সিস্টেম। সেখানে আমরা দেখব, কীভাবে এই নিয়মগুলো একসাথে কাজ করে, আর কীভাবে ইনপুট থেকে আউটপুট বের করা যায়।

    ততক্ষণে, তোমরা নিজেরা নিজেদের জীবন থেকে ফাজি নিয়ম বের করতে থাকো।
     
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
    1 | 2 | 3 | 4
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। আদরবাসামূলক মতামত দিন