এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • ফাজি লজিক: রাজার নতুন শিক্ষানীতি  অধ্যায় ৮: ফাজি লজিকের বিখ্যাত ধাঁধা —

    albert banerjee লেখকের গ্রাহক হোন
    ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ৪২ বার পঠিত
  • 1 | 2 | 3 | 4 | 5 | 6 | 7 | 8 | 9 | 10
     
    লিলির যুক্তির আসর

    আগের অধ্যায়গুলোতে আমরা ফাজি লজিকের প্রায় সবকিছু শিখে ফেলেছি — ফাজি সেট, ফাজি রিলেশন, ফাজি নিয়ম, ফাজি ইনফারেন্স সিস্টেম, ফাজি কন্ট্রোলার, আর নিউরো-ফাজি সিস্টেম। লিলি আর মিমি এখন ফাজি লজিকের ওস্তাদ হয়ে গেছে। আজকের অধ্যায়ে আমরা ফাজি লজিক ব্যবহার করে কিছু মজার ধাঁধা সমাধান করব। এখানে দেখা যাবে, কীভাবে ফাজি লজিক বাস্তব জীবনের অস্পষ্ট সমস্যাগুলো সমাধান করতে পারে।

    গল্প শুরু করি সেখান থেকে, যেখানে আগের অধ্যায় শেষ হয়েছিল।

     সকালবেলার ঘটনা

    পরদিন সকালে লিলি আর মিমি তাদের বন্ধুদের নিয়ে একটা যুক্তির আসর বসানোর সিদ্ধান্ত নিল। তারা ঠিক করল, ফাজি লজিক ব্যবহার করে কিছু মজার ধাঁধা সমাধান করবে।

    লিলি বলল, "আমরা তো ফাজি লজিক শিখেছি। কিন্তু এটা দিয়ে কি ধাঁধা সমাধান করা যায়?"

    মিমি বলল, "অবশ্যই যায়। ফাজি লজিক শুধু মেশিন কন্ট্রোলের জন্য না — এটা যুক্তির সমস্যা সমাধানেও কাজ করে।"

    তাদের মা বললেন, "তোরা ঠিক বলছিস। ফাজি লজিক দিয়ে অনেক মজার ধাঁধা সমাধান করা যায়। আজ আমি তোদের কিছু ধাঁধা দেব।"

    লিলি বলল, "তাহলে শুরু করি!"

     ধাঁধা ১: লিলির চা-পান

    লিলি চা খেতে চায়। তার চায়ের জন্য তিনটা শর্ত:
    - চা গরম হতে হবে (তাপমাত্রা ৬০-৮০°C এর মধ্যে)
    - চায়ে দুধ থাকতে হবে (দুধের পরিমাণ ২০-৪০ মিলি)
    - চায়ে চিনি থাকতে হবে (চিনির পরিমাণ ৫-১৫ গ্রাম)

    কিন্তু লিলির কাছে থার্মোমিটার, মেজারিং কাপ নেই। সে শুধু বলতে পারে:
    - চা "একটু গরম", "বেশি গরম", "ঠাণ্ডা"
    - দুধ "কম", "ঠিক", "বেশি"
    - চিনি "কম", "মাঝারি", "বেশি"

    এখন লিলি চা বানাল। সে অনুভব করল:
    - চা "একটু গরম" (০.৬)
    - দুধ "ঠিক" (০.৮)
    - চিনি "মাঝারি" (০.৫)

    প্রশ্ন: লিলির চা কতটা ভালো হলো?

    সমাধান:

    প্রথমে প্রতিটি শর্তের জন্য ফাজি সেট তৈরি করি:

    তাপমাত্রার জন্য ফাজি সেট:
    - ঠাণ্ডা: ০-৪০°C
    - একটু গরম: ৩০-৭০°C (সর্বোচ্চ ৫০°C)
    - বেশি গরম: ৬০-১০০°C

    দুধের জন্য ফাজি সেট:
    - কম: ০-২০ মিলি
    - ঠিক: ১০-৩০ মিলি (সর্বোচ্চ ২০ মিলি)
    - বেশি: ২০-৪০ মিলি

    চিনির জন্য ফাজি সেট:
    - কম: ০-১০ গ্রাম
    - মাঝারি: ৫-১৫ গ্রাম (সর্বোচ্চ ১০ গ্রাম)
    - বেশি: ১০-২০ গ্রাম

    লিলির অনুভূতি থেকে মান:
    - চা একটু গরম = ০.৬
    - দুধ ঠিক = ০.৮
    - চিনি মাঝারি = ০.৫

    চায়ের ভালো = এই তিনটা শর্তের AND — মানে তিনটার মিনিমাম
    = min(০.৬, ০.৮, ০.৫) = ০.৫

    তাহলে লিলির চা ০.৫ মাত্রায় ভালো — মাঝারি মানের।

    মিমি বলল, "তাহলে লিলির চা খুব ভালো না, আবার খারাপও না — ঠিক মাঝামাঝি!"

    লিলি বলল, "হ্যাঁ। ফাজি লজিক এভাবেই বলে দেয়।"

     ধাঁধা ২: মিমির আইসক্রিম

    মিমি আইসক্রিম কিনতে চায়। দোকানে তিন রকমের আইসক্রিম আছে — ভ্যানিলা, চকলেট, স্ট্রবেরি। মিমির পছন্দ:
    - ভ্যানিলা: ০.৮
    - চকলেট: ০.৬
    - স্ট্রবেরি: ০.৪

    কিন্তু দোকানে আইসক্রিম ফুরিয়ে গেছে। দোকানদার বলল, "ভ্যানিলা আছে ০.৩, চকলেট আছে ০.৯, স্ট্রবেরি আছে ০.৭।"

    প্রশ্ন: মিমি কোন আইসক্রিম কিনবে?

    সমাধান:

    এখানে দুটো ফ্যাক্টর — পছন্দ আর প্রাপ্যতা। মিমি কোনটা কিনবে, সেটা বের করতে হবে পছন্দ আর প্রাপ্যতার AND দিয়ে।

    প্রত্যেক আইসক্রিমের জন্য:
    - ভ্যানিলা: min(০.৮, ০.৩) = ০.৩
    - চকলেট: min(০.৬, ০.৯) = ০.৬
    - স্ট্রবেরি: min(০.৪, ০.৭) = ০.৪

    সবচেয়ে বেশি মান চকলেটের (০.৬)। তাই মিমি চকলেট কিনবে।

    লিলি বলল, "মিমি চকলেট পছন্দ করে ভ্যানিলার চেয়ে কম, কিন্তু চকলেট বেশি আছে, তাই চকলেটই সেরা সিদ্ধান্ত।"

    মা বললেন, "ঠিক। ফাজি লজিক এভাবেই বাস্তব সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।"

     ধাঁধা ৩: লিলির ছাতা

    লিলি বাইরে যাবে। তার ছাতা নেওয়া দরকার কিনা, সেটা ঠিক করতে হবে। শর্ত:
    - যদি বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি হয়, তবে ছাতা নিতে হবে
    - যদি রোদ বেশি হয়, তবে ছাতা নিতে হবে না
    - যদি মেঘলা থাকে আর বাতাস থাকে, তবে ছাতা নিতে হবে

    লিলি আকাশ দেখে বলল:
    - বৃষ্টির সম্ভাবনা = ০.৪
    - রোদের তীব্রতা = ০.৩
    - মেঘলা = ০.৭
    - বাতাস = ০.৬

    প্রশ্ন: লিলির ছাতা নেওয়া উচিত?

    সমাধান:

    এখানে তিনটা নিয়ম:
    ১. যদি বৃষ্টি বেশি হয় তবে ছাতা নিতে হবে
    ২. যদি রোদ বেশি হয় তবে ছাতা নিতে হবে না
    ৩. যদি মেঘলা আর বাতাস থাকে তবে ছাতা নিতে হবে

    নিয়ম ১ এর সক্রিয়তা = বৃষ্টি = ০.৪ → ছাতা নেওয়া = ০.৪
    নিয়ম ২ এর সক্রিয়তা = রোদ = ০.৩ → ছাতা না নেওয়া = ০.৩
    নিয়ম ৩ এর সক্রিয়তা = min(মেঘলা, বাতাস) = min(০.৭, ০.৬) = ০.৬ → ছাতা নেওয়া = ০.৬

    এখন 'ছাতা নেওয়া' এর জন্য মান = max(০.৪, ০.৬) = ০.৬
    'ছাতা না নেওয়া' এর জন্য মান = ০.৩

    সুতরাং ছাতা নেওয়ার পক্ষে মান বেশি (০.৬ > ০.৩)। তাই লিলির ছাতা নেওয়া উচিত।

    মিমি বলল, "বৃষ্টি কম হলেও মেঘলা আর বাতাস বেশি থাকায় ছাতা নিতে হবে — ফাজি লজিক এটা বুঝতে পারে।"

    মা বললেন, "ঠিক।"

     ধাঁধা ৪: মিমির ক্যারিয়ার সিদ্ধান্ত

    মিমি বড় হয়ে কী হবে, সেটা ঠিক করতে চায়। তার তিনটা অপশন — ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, শিল্পী। তার দক্ষতা আর পছন্দ:

    ডাক্তার হওয়ার জন্য দরকার:
    - বিজ্ঞানে দক্ষতা (মিমির আছে ০.৮)
    - ধৈর্য (মিমির আছে ০.৭)
    - মানুষের সেবার ইচ্ছা (মিমির আছে ০.৯)

    ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার জন্য দরকার:
    - গণিতে দক্ষতা (মিমির আছে ০.৬)
    - সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা (মিমির আছে ০.৮)
    - সৃজনশীলতা (মিমির আছে ০.৫)

    শিল্পী হওয়ার জন্য দরকার:
    - সৃজনশীলতা (মিমির আছে ০.৫)
    - ধৈর্য (মিমির আছে ০.৭)
    - অনুভূতি প্রকাশের ক্ষমতা (মিমির আছে ০.৮)

    প্রশ্ন: মিমির জন্য কোন ক্যারিয়ার সবচেয়ে ভালো?

    সমাধান:

    প্রত্যেক ক্যারিয়ারের জন্য দরকারি দক্ষতার AND বের করি:

    ডাক্তার = min(০.৮, ০.৭, ০.৯) = ০.৭
    ইঞ্জিনিয়ার = min(০.৬, ০.৮, ০.৫) = ০.৫
    শিল্পী = min(০.৫, ০.৭, ০.৮) = ০.৫

    সবচেয়ে বেশি মান ডাক্তারের (০.৭)। তাই মিমির জন্য ডাক্তার হওয়া সবচেয়ে ভালো।

    লিলি বলল, "মিমি ডাক্তার হবে — দারুণ!"

    মিমি বলল, "কিন্তু আমার তো ডাক্তার হওয়ার ইচ্ছা নেই!"

    মা বললেন, "ফাজি লজিক শুধু দক্ষতা দেখে, পছন্দ দেখে না। পছন্দ যোগ করলে ফলাফল বদলাতে পারে।"

     ধাঁধা ৫: লিলির সিনেমা দেখা

    লিলি সিনেমা দেখতে চায়। তার কাছে তিনটা সিনেমার অপশন — অ্যাকশন, কমেডি, রোমান্স। তার বন্ধুদের মতামত:
    - রিয়া: অ্যাকশন ০.৯, কমেডি ০.৪, রোমান্স ০.২
    - মিতা: অ্যাকশন ০.৫, কমেডি ০.৮, রোমান্স ০.৩
    - সুমি: অ্যাকশন ০.৩, কমেডি ০.৬, রোমান্স ০.৭

    লিলি নিজের পছন্দ: অ্যাকশন ০.৬, কমেডি ০.৫, রোমান্স ০.৪

    প্রশ্ন: কোন সিনেমা দেখা উচিত?

    সমাধান:

    এখানে প্রতিটি বন্ধুর মতামত আর লিলির নিজের পছন্দ — সবগুলো একসাথে বিবেচনা করতে হবে। আমরা গড় মান বের করতে পারি, অথবা মিনিমাম-ম্যাক্সিমাম পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারি।

    সহজ পদ্ধতি — প্রতিটি সিনেমার জন্য সব মতামতের গড় বের করা:

    অ্যাকশন = (০.৯ + ০.৫ + ০.৩ + ০.৬) / ৪ = ২.৩ / ৪ = ০.৫৭৫
    কমেডি = (০.৪ + ০.৮ + ০.৬ + ০.৫) / ৪ = ২.৩ / ৪ = ০.৫৭৫
    রোমান্স = (০.২ + ০.৩ + ০.৭ + ০.৪) / ৪ = ১.৬ / ৪ = ০.৪

    অ্যাকশন আর কমেডি সমান (০.৫৭৫), রোমান্স কম। তাই অ্যাকশন বা কমেডি যেকোনো একটা দেখা যেতে পারে।

    মিমি বলল, "তাহলে লিলির বন্ধুদের মতামত নেওয়াটা ভালো হয়েছে। অ্যাকশন আর কমেডি সমান, তাই লিলি নিজের ইচ্ছামতো যেকোনো একটা দেখতে পারে।"

    মা বললেন, "ঠিক। ফাজি লজিক গ্রুপ ডিসিশন নিতেও সাহায্য করে।"

     ধাঁধা ৬: চায়ের দোকানের মালিক

    একটা চায়ের দোকানের মালিক ঠিক করতে চায়, তার চায়ের দাম কত হবে। তার তিনটা ফ্যাক্টর:
    - চায়ের মান (ভালো = ০.৯, মাঝারি = ০.৫, খারাপ = ০.২)
    - এলাকার প্রতিযোগিতা (কম = ০.২, মাঝারি = ০.৫, বেশি = ০.৮)
    - ক্রেতার চাহিদা (কম = ০.২, মাঝারি = ০.৫, বেশি = ০.৮)

    তার চায়ের মান ভালো (০.৯), এলাকায় প্রতিযোগিতা বেশি (০.৮), আর ক্রেতার চাহিদাও বেশি (০.৮)।

    প্রশ্ন: তার চায়ের দাম কেমন হবে?

    সমাধান:

    এখানে নিয়মগুলো:
    - যদি চায়ের মান ভালো হয় আর প্রতিযোগিতা কম হয় আর চাহিদা বেশি হয়, তবে দাম বেশি হবে
    - যদি চায়ের মান মাঝারি হয় আর প্রতিযোগিতা বেশি হয় আর চাহিদা কম হয়, তবে দাম কম হবে
    - ইত্যাদি

    আমরা সহজ পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারি — দাম নির্ভর করে চায়ের মান, প্রতিযোগিতা, চাহিদার ওপর। সাধারণত:
    - ভালো মান, কম প্রতিযোগিতা, বেশি চাহিদা = বেশি দাম
    - খারাপ মান, বেশি প্রতিযোগিতা, কম চাহিদা = কম দাম

    এখানে চায়ের মান ভালো (০.৯), কিন্তু প্রতিযোগিতা বেশি (০.৮) — এটা দাম কমানোর দিকে যায়। আবার চাহিদা বেশি (০.৮) — এটা দাম বাড়ানোর দিকে যায়।

    আমরা একটা ফর্মুলা  ব্যবহার করতে পারি:
    দাম = (মান × ০.৪) + (চাহিদা × ০.৪) - (প্রতিযোগিতা × ০.২) + ০.৫ (বেস দাম ধরে)

    = (০.৯ × ০.৪) + (০.৮ × ০.৪) - (০.৮ × ০.২) + ০.৫
    = ০.৩৬ + ০.৩২ - ০.১৬ + ০.৫
    = ১.০২

    তাহলে দাম হবে ১.০২ (মানে বেস দামের চেয়ে একটু বেশি)

    মিমি বলল, "মান ভালো, চাহিদা বেশি, কিন্তু প্রতিযোগিতা বেশি থাকায় দাম খুব বেশি বাড়ছে না।"

    মা বললেন, "ঠিক। ফাজি লজিক এভাবেই বাস্তব সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।"

     ধাঁধা ৭: লিলির পড়ার সময়

    লিলি ঠিক করতে চায়, আজ কতক্ষণ পড়বে। তার তিনটা ফ্যাক্টর:
    - পরীক্ষা কত দূরে (কাছাকাছি = ০.৯, মাঝারি = ০.৫, দূরে = ০.২)
    - তার ক্লান্তি (কম = ০.২, মাঝারি = ০.৫, বেশি = ০.৮)
    - পড়ার মেজাজ (ভালো = ০.৮, মাঝারি = ০.৫, খারাপ = ০.২)

    আজ পরীক্ষা কাছাকাছি (০.৯), তার ক্লান্তি মাঝারি (০.৫), আর পড়ার মেজাজ ভালো (০.৮)।

    প্রশ্ন: লিলি কতক্ষণ পড়বে?

    সমাধান:

    পড়ার সময় নির্ভর করে পরীক্ষার দূরত্ব, ক্লান্তি, আর মেজাজের ওপর।

    পড়ার সময় = (পরীক্ষা × ০.৫) + (মেজাজ × ০.৩) - (ক্লান্তি × ০.২) + ১ (বেস আওয়ার ধরে)

    = (০.৯ × ০.৫) + (০.৮ × ০.৩) - (০.৫ × ০.২) + ১
    = ০.৪৫ + ০.২৪ - ০.১০ + ১
    = ১.৫৯

    তাহলে লিলি প্রায় ১.৬ ঘণ্টা পড়বে — মানে ১ ঘণ্টা ৩৬ মিনিট।

    মিমি বলল, "পরীক্ষা কাছাকাছি বলে বেশি পড়ছে, কিন্তু ক্লান্তি কমাতে একটু কম পড়ছে।"

    মা বললেন, "ঠিক। ফাজি লজিক বাস্তব জীবনের ট্রেড-অফ বুঝতে পারে।"

     ধাঁধা ৮: মিমির নতুন ফোন

    মিমি নতুন ফোন কিনতে চায়। তিনটা ফোনের অপশন:
    - ফোন A: ক্যামেরা ভালো (০.৯), ব্যাটারি ভালো (০.৮), দাম বেশি (০.৭)
    - ফোন B: ক্যামেরা মাঝারি (০.৬), ব্যাটারি ভালো (০.৮), দাম মাঝারি (০.৫)
    - ফোন C: ক্যামেরা খারাপ (০.৩), ব্যাটারি খারাপ (০.৪), দাম কম (০.২)

    মিমির জন্য ক্যামেরা গুরুত্বপূর্ণ (ওজন ০.৫), ব্যাটারি গুরুত্বপূর্ণ (ওজন ০.৪), আর দাম কম গুরুত্বপূর্ণ (ওজন ০.১)।

    প্রশ্ন: মিমির কোন ফোন কেনা উচিত?

    সমাধান:

    প্রত্যেক ফোনের জন্য ওয়েটেড এভারেজ বের করি:

    ফোন A = (০.৯×০.৫) + (০.৮×০.৪) + (০.৭×০.১) = ০.৪৫ + ০.৩২ + ০.০৭ = ০.৮৪
    ফোন B = (০.৬×০.৫) + (০.৮×০.৪) + (০.৫×০.১) = ০.৩০ + ০.৩২ + ০.০৫ = ০.৬৭
    ফোন C = (০.৩×০.৫) + (০.৪×০.৪) + (০.২×০.১) = ০.১৫ + ০.১৬ + ০.০২ = ০.৩৩

    সবচেয়ে বেশি মান ফোন A-র (০.৮৪)। তাই মিমির ফোন A কেনা উচিত।

    লিলি বলল, "দাম বেশি হলেও ক্যামেরা আর ব্যাটারি ভালো থাকায় ফোন A-ই সেরা।"

    মা বললেন, "ঠিক। ওয়েটেড এভারেজ ফাজি লজিকের একটা গুরুত্বপূর্ণ টুল।"

     ধাঁধা ৯: রেস্তোরাঁ বাছাই

    লিলি আর মিমি রেস্তোরাঁয় খেতে যাবে। তিনটা রেস্তোরাঁর অপশন:
    - রেস্তোরাঁ X: খাবারের মান ০.৯, পরিবেশ ০.৭, দাম ০.৬
    - রেস্তোরাঁ Y: খাবারের মান ০.৭, পরিবেশ ০.৮, দাম ০.৮
    - রেস্তোরাঁ Z: খাবারের মান ০.৫, পরিবেশ ০.৬, দাম ০.৯

    লিলি খাবারের মান বেশি গুরুত্ব দেয় (ওজন ০.৬), পরিবেশ মাঝারি গুরুত্ব দেয় (০.৩), দাম কম গুরুত্ব দেয় (০.১)।
    মিমি দাম বেশি গুরুত্ব দেয় (০.৬), পরিবেশ মাঝারি (০.৩), খাবারের মান কম (০.১)।

    প্রশ্ন: কোন রেস্তোরাঁয় তারা যাবে?

    সমাধান:

    প্রথমে লিলির পছন্দ অনুযায়ী প্রতিটি রেস্তোরাঁর মান বের করি:

    লিলির জন্য:
    X = (০.৯×০.৬) + (০.৭×০.৩) + (০.৬×০.১) = ০.৫৪ + ০.২১ + ০.০৬ = ০.৮১
    Y = (০.৭×০.৬) + (০.৮×০.৩) + (০.৮×০.১) = ০.৪২ + ০.২৪ + ০.০৮ = ০.৭৪
    Z = (০.৫×০.৬) + (০.৬×০.৩) + (০.৯×০.১) = ০.৩০ + ০.১৮ + ০.০৯ = ০.৫৭

    মিমির পছন্দ অনুযায়ী:
    X = (০.৬×০.১) + (০.৭×০.৩) + (০.৯×০.৬) = ০.০৬ + ০.২১ + ০.৫৪ = ০.৮১
    Y = (০.৭×০.১) + (০.৮×০.৩) + (০.৮×০.৬) = ০.০৭ + ০.২৪ + ০.৪৮ = ০.৭৯
    Z = (০.৫×০.১) + (০.৬×০.৩) + (০.৯×০.৬) = ০.০৫ + ০.১৮ + ০.৫৪ = ০.৭৭

    দুটোর গড় বের করি:
    X = (০.৮১ + ০.৮১)/২ = ০.৮১
    Y = (০.৭৪ + ০.৭৯)/২ = ০.৭৬৫
    Z = (০.৫৭ + ০.৭৭)/২ = ০.৬৭

    সবচেয়ে বেশি X (০.৮১)। তাই তারা রেস্তোরাঁ X-এ যাবে।

    মিমি বলল, "আমাদের পছন্দ আলাদা হলেও X দুজনের জন্যই ভালো।"

    মা বললেন, "ঠিক। "

     ধাঁধা ১০: লিলির অসুস্থতা

    লিলির শরীর খারাপ। তার কিছু লক্ষণ:
    - জ্বর: ৩৮.৫°C — 'মাঝারি জ্বর' (০.৬)
    - কাশি: 'হালকা কাশি' (০.৪)
    - মাথাব্যথা: 'বেশি' (০.৮)
    - গলা ব্যথা: 'একটু' (০.৩)

    ডাক্তারের কাছে তিনটা রোগের সম্ভাবনা:
    - ঠাণ্ডা লাগা: জ্বর (০.৩), কাশি (০.৮), গলা ব্যথা (০.৭)
    - ফল্লু: জ্বর (০.৯), মাথাব্যথা (০.৮), কাশি (০.৬)
    - টনসিল: গলা ব্যথা (০.৯), জ্বর (০.৫), মাথাব্যথা (০.৪)

    প্রশ্ন: লিলির কী হয়েছে?

    সমাধান:

    প্রত্যেক রোগের জন্য লক্ষণগুলোর সাথে মিলিয়ে AND বের করি:

    ঠাণ্ডা লাগা = min(জ্বরের মিল, কাশির মিল, গলা ব্যথার মিল)
    জ্বরের মিল = min(লিলির জ্বরের মান (০.৬), রোগের জ্বরের গুরুত্ব (০.৩))? আসলে আমরা লিলির লক্ষণের মান আর রোগের লক্ষণের গুরুত্বের মধ্যে AND বের করব।

    ঠাণ্ডা লাগা = min( জ্বরের জন্য min(০.৬,০.৩), কাশির জন্য min(০.৪,০.৮), গলা ব্যথার জন্য min(০.৩,০.৭) )
    = min( min(০.৬,০.৩)=০.৩, min(০.৪,০.৮)=০.৪, min(০.৩,০.৭)=০.৩ )
    = min(০.৩, ০.৪, ০.৩) = ০.৩

    ফ্লু  = min( জ্বর min(০.৬,০.৯)=০.৬, মাথাব্যথা min(০.৮,০.৮)=০.৮, কাশি min(০.৪,০.৬)=০.৪ )
    = min(০.৬, ০.৮, ০.৪) = ০.৪

    টনসিল = min( গলা ব্যথা min(০.৩,০.৯)=০.৩, জ্বর min(০.৬,০.৫)=০.৫, মাথাব্যথা min(০.৮,০.৪)=০.৪ )
    = min(০.৩, ০.৫, ০.৪) = ০.৩

    সবচেয়ে বেশি ফ্লুর মান (০.৪)। তাই লিলির ফ্লু হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

    মিমি বলল, "মাথাব্যথা বেশি থাকায় ফ্লু বেশি সম্ভাবনা।"

    মা বললেন, "ঠিক। ফাজি লজিক মেডিকেল ডায়াগনোসিসেও ব্যবহার করা যায়।"

     ধাঁধা ১১: সিনেমা রেটিং

    একটা সিনেমার রেটিং নির্ভর করে তিনটা ফ্যাক্টরের ওপর:
    - অভিনয় (ভালো = ০.৮, মাঝারি = ০.৫, খারাপ = ০.২)
    - গল্প (ভালো = ০.৯, মাঝারি = ০.৫, খারাপ = ০.২)
    - পরিচালনা (ভালো = ০.৭, মাঝারি = ০.৫, খারাপ = ০.২)

    দর্শকরা সিনেমাটিকে রেটিং দিয়েছে:
    - অভিনয় ভালো (০.৮)
    - গল্প ভালো (০.৯)
    - পরিচালনা মাঝারি (০.৫)

    প্রশ্ন: সিনেমার overall রেটিং কত?

    সমাধান:

    সহজ পদ্ধতি — তিনটার গড় বের করা:
    (০.৮ + ০.৯ + ০.৫) / ৩ = ২.২ / ৩ = ০.৭৩৩

    কিন্তু অনেকে মনে করেন, সিনেমার রেটিং নির্ভর করে সবচেয়ে খারাপ দিকটার ওপর বেশি। সেক্ষেত্রে আমরা মিনিমাম ব্যবহার করতে পারি:
    min(০.৮, ০.৯, ০.৫) = ০.৫

    আবার অনেকে মনে করেন, সবচেয়ে ভালো দিকটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সেক্ষেত্রে ম্যাক্সিমাম:
    max(০.৮, ০.৯, ০.৫) = ০.৯

    কোনটা সঠিক? এটা নির্ভর করে দর্শকের দৃষ্টিভঙ্গির ওপর। ফাজি লজিকে আমরা ওয়েটেড এভারেজ ব্যবহার করতে পারি, যেখানে প্রতিটি ফ্যাক্টরের জন্য ওজন ঠিক করতে হবে।

    ধরি, অভিনয় ওজন ০.৪, গল্প ওজন ০.৪, পরিচালনা ওজন ০.২:
    রেটিং = (০.৮×০.৪) + (০.৯×০.৪) + (০.৫×০.২) = ০.৩২ + ০.৩৬ + ০.১০ = ০.৭৮

    মিমি বলল, "এত রকম রেটিং! কোনটা সঠিক?"

    মা বললেন, "সঠিক একটাই না — এটা নির্ভর করে কীভাবে দেখছিস। ফাজি লজিক সেই flexibility দেয়।"

     ধাঁধা ১২: মিমির রান্না

    মিমি রান্না শিখছে। সে একটা নতুন রেসিপি ট্রাই করল। রান্নার মান নির্ভর করে:
    - লবণের পরিমাণ (ঠিক = ০.৯, বেশি = ০.৪, কম = ০.৩)
    - ঝালের পরিমাণ (ঠিক = ০.৭, বেশি = ০.৫, কম = ০.৬)
    - মসলার পরিমাণ (ঠিক = ০.৮, বেশি = ০.৩, কম = ০.৪)

    মিমির রান্নায় লবণ একটু বেশি (০.৪), ঝাল ঠিক (০.৭), মসলা ঠিক (০.৮)।

    প্রশ্ন: মিমির রান্না কেমন হয়েছে?

    সমাধান:

    আবার ওয়েটেড এভারেজ ব্যবহার করতে পারি। ধরি, তিনটার ওজন সমান:
    (০.৪ + ০.৭ + ০.৮) / ৩ = ১.৯ / ৩ = ০.৬৩৩

    কিন্তু রান্নায় সবচেয়ে খারাপ দিকটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ — যেমন লবণ বেশি হলে পুরো রান্না নষ্ট। সেক্ষেত্রে মিনিমাম:
    min(০.৪, ০.৭, ০.৮) = ০.৪

    আবার কোনো কোনো রান্নায় সব দিক সমান গুরুত্বপূর্ণ। ফাজি লজিকে আমরা AND অপারেটর ব্যবহার করতে পারি — প্রোডাক্ট:
    ০.৪ × ০.৭ × ০.৮ = ০.২২৪

    মিমি বলল, "০.৪ মানে খারাপ, ০.২২৪ মানে খুব খারাপ। কোনটা সঠিক?"

    মা বললেন, "লবণ বেশি হওয়াটা সবচেয়ে বড় সমস্যা — তাই ০.৪ বেশি সঠিক। প্রোডাক্ট খুব কঠোর, এটা শুধু তখনই ভালো যখন সব দিক নিখুঁত দরকার।"

    লিলি বলল, "তাহলে মিমির রান্না ০.৪ — মোটামুটি খারাপ।"

     ধাঁধা ১৩: গাড়ি কেনা

    লিলির বাবা গাড়ি কিনতে চান। তিনটা গাড়ির অপশন:
    - গাড়ি P: আরাম ০.৯, গতি ০.৭, মাইলেজ ০.৫, দাম ০.৬
    - গাড়ি Q: আরাম ০.৬, গতি ০.৮, মাইলেজ ০.৮, দাম ০.৭
    - গাড়ি R: আরাম ০.৭, গতি ০.৬, মাইলেজ ০.৭, দাম ০.৮

    লিলির বাবার জন্য আরাম বেশি গুরুত্বপূর্ণ (ওজন ০.৪), গতি মাঝারি (০.৩), মাইলেজ মাঝারি (০.২), দাম কম গুরুত্বপূর্ণ (০.১)।

    প্রশ্ন: কোন গাড়ি কেনা উচিত?

    সমাধান:

    প্রত্যেক গাড়ির জন্য ওয়েটেড এভারেজ বের করি:

    P = (০.৯×০.৪) + (০.৭×০.৩) + (০.৫×০.২) + (০.৬×০.১) = ০.৩৬ + ০.২১ + ০.১০ + ০.০৬ = ০.৭৩
    Q = (০.৬×০.৪) + (০.৮×০.৩) + (০.৮×০.২) + (০.৭×০.১) = ০.২৪ + ০.২৪ + ০.১৬ + ০.০৭ = ০.৭১
    R = (০.৭×০.৪) + (০.৬×০.৩) + (০.৭×০.২) + (০.৮×০.১) = ০.২৮ + ০.১৮ + ০.১৪ + ০.০৮ = ০.৬৮

    সবচেয়ে বেশি P (০.৭৩)। তাই গাড়ি P কেনা উচিত।

    মিমি বলল, "আরাম বেশি থাকায় P বেছে নেওয়া হয়েছে, যদিও এর মাইলেজ কম।"

    মা বললেন, "ঠিক। ওয়েটেড এভারেজ আমাদের পছন্দ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।"

     ধাঁধা ১৪: লিলির পোশাক

    লিলি আজ কী পোশাক পরবে, সেটা ঠিক করতে চায়। তার তিনটা অপশন — জিন্স, ফ্রক, সালোয়ার। তার পছন্দের ফ্যাক্টর:
    - আরাম: জিন্সে ০.৬, ফ্রকে ০.৮, সালোয়ারে ০.৯
    - সৌন্দর্য: জিন্সে ০.৭, ফ্রকে ০.৯, সালোয়ারে ০.৮
    - উপলক্ষ: আজ বন্ধুদের সাথে আড্ডা — যেখানে জিন্স মানানসই (০.৯), ফ্রক মানানসই (০.৬), সালোয়ার মানানসই (০.৭)

    লিলির জন্য আরাম গুরুত্বপূর্ণ (০.৩), সৌন্দর্য গুরুত্বপূর্ণ (০.৪), উপলক্ষ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ (০.৫)।

    প্রশ্ন: লিলি কী পরবে?

    সমাধান:

    প্রত্যেক পোশাকের জন্য ওয়েটেড এভারেজ বের করি:

    জিন্স = (০.৬×০.৩) + (০.৭×০.৪) + (০.৯×০.৫) = ০.১৮ + ০.২৮ + ০.৪৫ = ০.৯১
    ফ্রক = (০.৮×০.৩) + (০.৯×০.৪) + (০.৬×০.৫) = ০.২৪ + ০.৩৬ + ০.৩০ = ০.৯০
    সালোয়ার = (০.৯×০.৩) + (০.৮×০.৪) + (০.৭×০.৫) = ০.২৭ + ০.৩২ + ০.৩৫ = ০.৯৪

    সবচেয়ে বেশি সালোয়ার (০.৯৪)। তাই লিলি সালোয়ার পরবে।

    মিমি বলল, "সালোয়ারে আরাম বেশি, আর উপলক্ষের জন্যও ভালো, তাই ওটাই সেরা।"

    মা বললেন, "ঠিক। ফাজি লজিক রোজকার সিদ্ধান্তেও কাজ করে।"

     ধাঁধা ১৫: ফাজি লজিকের সবচেয়ে বিখ্যাত ধাঁধা

    এটাই শেষ ধাঁধা — ফাজি লজিকের সবচেয়ে বিখ্যাত ধাঁধা। এটা হলো 'তিন বুদ্ধিমান বান্দর' ধাঁধার ফাজি ভার্সন।

    তিনটা বানর — দেখো না (See No Evil), শোনো না (Hear No Evil), বলো না (Speak No Evil) — তারা evil-এর মাত্রা মাপছে।

    একটা ঘটনা ঘটেছে। তিন বানর প্রত্যেকে ঘটনার evilness মাপল:
    - দেখো না বানর: evilness = ০.৭ (মানে সে ৭০% evil দেখেছে)
    - শোনো না বানর: evilness = ০.৪ (৪০% evil শুনেছে)
    - বলো না বানর: evilness = ০.৬ (৬০% evil বলেছে)

    প্রশ্ন: ঘটনাটা overall কতটা evil?

    সমাধান:

    এখানে তিনটার মান একসাথে করতে হবে। তিনটার গড় বের করি:
    (০.৭ + ০.৪ + ০.৬) / ৩ = ১.৭ / ৩ = ০.৫৬৭

    কিন্তু যদি আমরা think করি, evilness তখনই বেশি যখন সবগুলো বেশি — সেক্ষেত্রে AND অপারেটর min ব্যবহার করতে পারি:
    min(০.৭, ০.৪, ০.৬) = ০.৪

    আবার যদি evilness তখনই বেশি যখন যেকোনো একটা বেশি — সেক্ষেত্রে OR অপারেটর max ব্যবহার করতে পারি:
    max(০.৭, ০.৪, ০.৬) = ০.৭

    কোনটা সঠিক? এটা নির্ভর করে evilness-এর সংজ্ঞার ওপর। যদি evilness ধরা হয় 'সব দিক থেকে evil' তাহলে min সঠিক। যদি evilness ধরা হয় 'কোনো না কোনো দিক থেকে evil' তাহলে max সঠিক।

    ফাজি লজিকের beauty হলো — আমরা চাইলে বিভিন্ন interpretation নিয়ে কাজ করতে পারি।

    লিলি বলল, "বুঝেছি। ফাজি লজিক আমাদের flexibility দেয় — আমরা চাইলে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখতে পারি।"

    মা বললেন, "ঠিক। এটাই ফাজি লজিকের সবচেয়ে বড় শক্তি।"

     রাতের খাবারের মজা

    রাতে খাবার টেবিলে লিলি আর মিমি তাদের বাবাকে ফাজি ধাঁধাগুলো শোনাল।

    লিলি বলল, "বাবা, আমরা আজ ফাজি লজিকের ১৫টা ধাঁধা সমাধান করেছি। খুব মজা হয়েছে!"

    বাবা বললেন, "কী ধরনের ধাঁধা?"

    মিমি বলল, "চা-পান, আইসক্রিম কেনা, ছাতা নেওয়া, ক্যারিয়ার সিদ্ধান্ত, সিনেমা দেখা — সব রকমের ধাঁধা।"

    লিলি বলল, "ফাজি লজিক দিয়ে আমরা বের করলাম, লিলির চা ০.৫ ভালো, মিমি চকলেট কিনবে, লিলির ছাতা নেওয়া উচিত, মিমি ডাক্তার হবে — কিন্তু মিমি ডাক্তার হতে চায় না!"

    সবাই হাসল।

    বাবা বললেন, "তা হলে ফাজি লজিক সব সমাধান করতে পারে না — পছন্দের বিষয়টা আলাদা!"

    মা বললেন, "ওরা এখন ফাজি ধাঁধার ওস্তাদ হয়ে যাচ্ছে।"

     শোওয়ার আগে

    রাতে শোওয়ার আগে লিলি আর মিমি তাদের আজকের ধাঁধাগুলো রিভাইজ করল।

    লিলি লিখল:
    - ধাঁধা ১: চা-পান — তিনটা শর্তের min = ০.৫
    - ধাঁধা ২: আইসক্রিম — পছন্দ আর প্রাপ্যতার min = চকলেট ০.৬
    - ধাঁধা ৩: ছাতা — তিনটা নিয়মের max = ছাতা নেওয়া ০.৬
    - ধাঁধা ৪: ক্যারিয়ার — তিনটা দক্ষতার min = ডাক্তার ০.৭
    - ধাঁধা ৫: সিনেমা — গড় = অ্যাকশন/কমেডি ০.৫৭৫
    - ধাঁধা ৬: চায়ের দোকান — ফর্মুলা  = ১.০২

    মিমি লিখল:
    - ধাঁধা ৭: পড়ার সময় — ফর্মুলা= ১.৫৯ ঘণ্টা
    - ধাঁধা ৮: ফোন কেনা — ওয়েটেড এভারেজ = ফোন A ০.৮৪
    - ধাঁধা ৯: রেস্তোরাঁ — গ্রুপ ডিসিশন = X ০.৮১
    - ধাঁধা ১০: অসুস্থতা — রোগের সম্ভাবনা = ফ্লু ০.৪
    - ধাঁধা ১১: সিনেমা রেটিং — বিভিন্ন পদ্ধতি
    - ধাঁধা ১২: মিমির রান্না — min = ০.৪
    - ধাঁধা ১৩: গাড়ি কেনা — ওয়েটেড এভারেজ = P ০.৭৩
    - ধাঁধা ১৪: লিলির পোশাক — ওয়েটেড এভারেজ = সালোয়ার ০.৯৪
    - ধাঁধা ১৫: তিন বানর — গড় ০.৫৬৭, min ০.৪, max ০.৭

    লিলি বলল, "কাল আমরা ফাজি লজিকের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলব। সেটা আরও মজা হবে।"

    মিমি বলল, "মানে ফাজি লজিক কোথায় যাচ্ছে, কী নতুন হচ্ছে?"

    লিলি বলল, "হ্যাঁ।"

    তারা ঘুমিয়ে পড়ল।

     শেষ কথা

    এই অধ্যায়ে আমরা ফাজি লজিকের ১৫টা বিখ্যাত ধাঁধা সমাধান করলাম। আমরা দেখলাম, কীভাবে ফাজি লজিক বাস্তব জীবনের অস্পষ্ট সমস্যাগুলো সমাধান করতে পারে — চা-পান থেকে শুরু করে ক্যারিয়ার সিদ্ধান্ত, সিনেমা দেখা থেকে শুরু করে গাড়ি কেনা — সবকিছুতেই ফাজি লজিক কাজ করে।

    প্রতিটি ধাঁধায় আমরা ফাজি AND, OR, মিন, ম্যাক্স, ওয়েটেড এভারেজ, মিনিমাম-ম্যাক্সিমাম কম্পোজিশন — সব ব্যবহার করেছি। দেখেছি, কীভাবে একই সমস্যার একাধিক সমাধান হতে পারে, দৃষ্টিভঙ্গির ওপর নির্ভর করে।

    পরের অধ্যায়ে আমরা ফাজি লজিকের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলব। সেখানে আমরা দেখব, ফাজি লজিক কোথায় যাচ্ছে, কী নতুন আবিষ্কার হচ্ছে, আর কীভাবে ফাজি লজিক ভবিষ্যতের প্রযুক্তিতে কাজ করবে।

    ততক্ষণে, তোমরা নিজেরা নিজেদের জীবন থেকে ফাজি ধাঁধা বের করতে থাকো। আর ওই তিনটে বান্দর  ওদের দিকে সবসময় নজর রেখো। ওই তিনটে বান্দর হল রাজনীতিবিদ
     
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
    1 | 2 | 3 | 4 | 5 | 6 | 7 | 8 | 9 | 10
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যুদ্ধ চেয়ে মতামত দিন