এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  •  ফাজি লজিক: রাজার নতুন শিক্ষানীতি  অধ্যায় ১০:  

    albert banerjee লেখকের গ্রাহক হোন
    ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ২৬ বার পঠিত
  • 1 | 2 | 3 | 4 | 5 | 6 | 7 | 8 | 9 | 10
    ফাজি লজিকের পুরো ছবি

    আগের নয়টা অধ্যায়ে আমরা ফাজি লজিকের প্রায় সবকিছু শিখে ফেলেছি — ফাজি সেট, ফাজি রিলেশন, ফাজি নিয়ম, ফাজি ইনফারেন্স সিস্টেম, ফাজি কন্ট্রোলার, নিউরো-ফাজি সিস্টেম, ফাজি ধাঁধা, আর ফাজি লজিকের ভবিষ্যৎ। লিলি আর মিমি এখন ফাজি লজিকের ওস্তাদ হয়ে গেছে। আজকের অধ্যায়ে আমরা সবকিছু একসাথে করে দেখব — ফাজি লজিকের পুরো ছবি আঁকব।

    পরদিন সকালে লিলি আর মিমি তাদের মায়ের কাছে গিয়ে বসল। লিলি বলল, "মা, আমরা নয়টা অধ্যায়ে ফাজি লজিকের অনেক কিছু শিখেছি। কিন্তু সবকিছু একটু এলোমেলো লাগছে। একটা বড় ছবি দেখলে ভালো হত।"

    মা বললেন, "ভালো কথা। আজ আমরা সবকিছু একসাথে করে দেখব — ফাজি লজিকের পুরো ছবি আঁকব।"

    মিমি বলল, "তাহলে শুরু করি?"

    মা বললেন, "চলো।"

     ফাজি লজিকের মৌলিক ধারণা

    মা প্রথমে ফাজি লজিকের মৌলিক ধারণাগুলো মনে করিয়ে দিলেন।

    তিনি বললেন, "ফাজি লজিক হলো অস্পষ্ট জিনিসের গণিত। বুলিয়ান লজিকে সব কিছুর মান হয় ০ আর ১ — হয় সত্যি না হয় মিথ্যা। কিন্তু ফাজি লজিকে ০ থেকে ১-এর মধ্যে যেকোনো মান হতে পারে।"

    লিলি লিখল:
    - ০ = পুরোপুরি মিথ্যা
    - ১ = পুরোপুরি সত্যি
    - ০.২, ০.৫, ০.৭ = আংশিক সত্যি

    মিমি বলল, "এটা মনে রাখার মূল কথা — পৃথিবীটা সাদা-কালো না, অনেক ধূসর আছে।"

    মা বললেন, "ঠিক।"

     ফাজি সেট

    মা দ্বিতীয় অধ্যায়ের কথা মনে করিয়ে দিলেন — ফাজি সেট।

    তিনি বললেন, "ফাজি সেট হলো সেই সেট, যেখানে প্রত্যেক উপাদানের একটা মাত্রা থাকে — কতটুকু সে সেটের মধ্যে আছে। এই মাত্রাকে বলে মেম্বারশিপ ডিগ্রি।"

    লিলি তার বন্ধুদের ফাজি সেট মনে করল:
    - রিয়া: ১.০ (খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু)
    - মিতা: ০.৮ (ভালো বন্ধু)
    - সুমি: ০.৫ (মাঝারি বন্ধু)
    - তিথি: ০.২ (সামান্য পরিচিত)
    - নিশা: ০.১ (শুধু নাম চেনে)

    মিমি বলল, "মেম্বারশিপ ফাংশন হলো সেই নিয়ম যা বলে দেয়, কোন ইনপুটে কত মেম্বারশিপ হবে। যেমন — তাপমাত্রা ২৫°C হলে 'গরম'-এর মেম্বারশিপ কত।"

    মা বললেন, "ঠিক। মেম্বারশিপ ফাংশন বিভিন্ন রকমের হতে পারে — ত্রিভুজাকার, ট্রাপিজয়েডাল, বেল আকৃতির ইত্যাদি।"

     ফাজি রিলেশন

    মা তৃতীয় অধ্যায়ের কথা মনে করিয়ে দিলেন — ফাজি রিলেশন।

    তিনি বললেন, "ফাজি রিলেশন হলো দুটো ফাজি সেটের মধ্যে সম্পর্ক। এটা একটা টেবিলের মতো, যেখানে সারি প্রথম সেটের উপাদান, কলাম দ্বিতীয় সেটের উপাদান, আর ঘরে থাকে সম্পর্কের মাত্রা।"

    লিলি তার বন্ধু আর খাবারের ফাজি রিলেশন মনে করল:

    | বন্ধু | চকলেট | আইসক্রিম | পিজা |
    |-------|--------|----------|------|
    | রিয়া | ১.০ | ০.৮ | ০.৬ |
    | মিতা | ০.৮ | ০.৯ | ০.৫ |
    | সুমি | ০.৫ | ০.৬ | ০.৮ |

    মিমি বলল, "ফাজি রিলেশনের কম্পোজিশনও করা যায় — দুটো রিলেশন জোড়া দিয়ে নতুন রিলেশন বের করা। ম্যাক্স-মিন আর ম্যাক্স-প্রোডাক্ট — দুই পদ্ধতি।"

    মা  "ঠিক।"

     ফাজি লজিকের নিয়ম

    মা চতুর্থ অধ্যায়ের কথা মনে করিয়ে দিলেন — ফাজি লজিকের নিয়ম।

    তিনি বললেন, "ফাজি লজিকেও AND, OR, NOT আছে — কিন্তু এরা বুলিয়ান লজিকের মতো কাজ করে না।"

    লিলি লিখল:
    - ফাজি AND: min(A, B)
    - ফাজি OR: max(A, B)
    - ফাজি NOT: 1 - A

    মিমি বলল, "এছাড়াও আরও অপারেটর আছে — প্রোডাক্ট AND (A×B), বাউন্ডেড AND (max(0, A+B-1)), ড্রাস্টিক AND ইত্যাদি।"

    মা বললেন, "ফাজি ইমপ্লিকেশনও আছে — 'যদি A হয় তবে B'। এটা বিভিন্নভাবে করা যায় — মামদানি, লারসেন, গডেল ইত্যাদি।"

    লিলি বলল, "মামদানি ইমপ্লিকেশন = min(A, B), লারসেন = A×B, গডেল = 1 যদি A≤B, না হলে B।"

     ফাজি ইনফারেন্স সিস্টেম

    মা পঞ্চম অধ্যায়ের কথা মনে করিয়ে দিলেন — ফাজি ইনফারেন্স সিস্টেম।

    তিনি বললেন, "ফাজি ইনফারেন্স সিস্টেমের চারটা ধাপ:
    ১. ফাজিফিকেশন — বাস্তব ইনপুটকে ফাজি মানে রূপান্তর
    ২. নিয়ম বেস — সব ফাজি নিয়মের সংগ্রহ
    ৩. ইনফারেন্স ইঞ্জিন — নিয়ম প্রয়োগ করে ফাজি আউটপুট বের করা
    ৪. ডিফাজিফিকেশন — ফাজি আউটপুটকে বাস্তব মানে রূপান্তর"

    মিমি লিখল:
    - ম্যামদানি পদ্ধতি: AND = min, আউটপুট কাটা, ইউনিয়ন = max, ডিফাজিফিকেশন = সেন্ট্রয়েড
    - লারসেন পদ্ধতি: AND = product, আউটপুট স্কেল করা
    - সুগেনো পদ্ধতি: আউটপুট ফাংশন, ডিফাজিফিকেশনের দরকার নেই

    লিলি বলল, "এই সিস্টেম দিয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারি — যেমন ফ্যানের গতি ঠিক করা, চা তৈরির মেশিন কন্ট্রোল করা।"

     ফাজি কন্ট্রোলার

    মা ষষ্ঠ অধ্যায়ের কথা মনে করিয়ে দিলেন — ফাজি কন্ট্রোলার।

    তিনি বললেন, "ফাজি কন্ট্রোলার হলো ফাজি ইনফারেন্স সিস্টেমের বাস্তব প্রয়োগ। এটা একটা ক্লোজড-লুপ সিস্টেম — সেন্সর থেকে ইনপুট নিয়ে, সিদ্ধান্ত নিয়ে, অ্যাকচুয়েটরে কমান্ড দেয়, আবার নতুন ইনপুট নেয়।"

    মিমি লিখল:
    - সেন্সর → ফাজিফিকেশন → ইনফারেন্স → ডিফাজিফিকেশন → অ্যাকচুয়েটর

    লিলি বলল, "আমরা একটা অটোমেটিক ফ্যান বানিয়েছিলাম — তাপমাত্রা ইনপুট নিয়ে ফ্যানের গতি আউটপুট। মাত্র তিনটা নিয়মেই কাজ করেছিল!"

    মা বললেন, "ফাজি কন্ট্রোলার ওয়াশিং মেশিন, এসি, গাড়ির ট্রান্সমিশন — সব জায়গায় ব্যবহার হয়।"

     নিউরো-ফাজি সিস্টেম

    মা সপ্তম অধ্যায়ের কথা মনে করিয়ে দিলেন — নিউরো-ফাজি সিস্টেম।

    তিনি বললেন, "ফাজি সিস্টেমের একটা বড় সমস্যা হলো — এটা নিজে থেকে শিখতে পারে না। নিয়ম আগে থেকে ঠিক করে দিতে হয়। নিউরাল নেটওয়ার্ক শিখতে পারে, কিন্তু তার সিদ্ধান্ত বোঝা কঠিন।"

    মিমি বলল, "নিউরো-ফাজি সিস্টেম দুইয়ের মিশ্রণ — নিউরাল নেটওয়ার্কের শেখার ক্ষমতা আর ফাজি লজিকের বোধগম্যতা একসাথে।"

    লিলি লিখল:
    - ANFIS (Adaptive Neuro-Fuzzy Inference System) — সবচেয়ে জনপ্রিয় নিউরো-ফাজি সিস্টেম
    - পাঁচটা স্তর — মেম্বারশিপ ফাংশন, নিয়ম সক্রিয়তা, নরমালাইজেশন, আউটপুট ফাংশন, সমষ্টি
    - হাইব্রিড লার্নিং — দুই ধরণের প্যারামিটার একসাথে শেখে

    মা বললেন, "নিউরো-ফাজি সিস্টেম ডেটা থেকে শিখে ফাজি নিয়ম তৈরি করতে পারে। তখন আর বিশেষজ্ঞের দরকার হয় না।"

     ফাজি ধাঁধা

    মা অষ্টম অধ্যায়ের কথা মনে করিয়ে দিলেন — ফাজি ধাঁধা।

    তিনি বললেন, "ফাজি লজিক শুধু তত্ত্ব না — এটা বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধানেও কাজে লাগে। আমরা ১৫টা ধাঁধা সমাধান করেছিলাম।"

    লিলি কিছু ধাঁধা মনে করল:
    - চা-পান — তিনটা শর্তের AND = ০.৫
    - আইসক্রিম — পছন্দ আর প্রাপ্যতার AND = চকলেট ০.৬
    - ছাতা — তিনটা নিয়মের max = ছাতা নেওয়া ০.৬
    - ক্যারিয়ার — তিনটা দক্ষতার min = ডাক্তার ০.৭
    - সিনেমা — গড় = অ্যাকশন/কমেডি ০.৫৭৫

    মিমি বলল, "প্রত্যেক ধাঁধায় আমরা ফাজি AND, OR, মিন, ম্যাক্স, ওয়েটেড এভারেজ — সব ব্যবহার করেছি। দেখেছি, কীভাবে একই সমস্যার একাধিক সমাধান হতে পারে।"

    মা বললেন, "ফাজি লজিকের beauty হলো — এটা আমাদের flexibility দেয়। আমরা চাইলে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখতে পারি।"

     ফাজি লজিকের ভবিষ্যৎ

    মা নবম অধ্যায়ের কথা মনে করিয়ে দিলেন — ফাজি লজিকের ভবিষ্যৎ।

    তিনি বললেন, "ফাজি লজিক ভবিষ্যতে আরও অনেক জায়গায় কাজ করবে — AI, IoT, মেডিসিন, ক্লাইমেট, স্পেস — সব জায়গায়।"

    লিলি লিখল:
    - AI-তে — এক্সপ্লেইনেবল AI তৈরি করবে
    - IoT-তে — স্মার্ট ডিভাইস কন্ট্রোল করবে
    - এজ কম্পিউটিং-এ — ছোট ডিভাইসে কাজ করবে
    - রোবোটিক্সে — রোবটকে স্মার্ট করবে
    - মেডিসিনে — রোগ শনাক্ত করবে, চিকিৎসায় সাহায্য করবে
    - ক্লাইমেটে — জলবায়ু মডেল করবে, শক্তি সাশ্রয় করবে
    - ট্রাফিকে — জ্যাম কমাবে, দুর্ঘটনা রোধ করবে
    - ফিন্যান্সে — ঝুঁকি মূল্যায়ন করবে, ফ্রড ডিটেক্ট করবে
    - সাইবার সিকিউরিটিতে — অ্যাটাক ডিটেক্ট করবে
    - এডুকেশনে — পার্সোনালাইজড লার্নিং করবে
    - স্পোর্টসে — পারফরম্যান্স অ্যানালাইসিস করবে
    - আর্টে — ক্রিয়েটিভ কাজ করবে
    - দর্শনে — নতুন চিন্তাধারা দেবে
    - স্পেসে — মহাকাশযান কন্ট্রোল করবে
    - ন্যানো টেকনোলজিতে — ন্যানোরোবট কন্ট্রোল করবে
    - কোয়ান্টাম কম্পিউটিং-এ — আরও শক্তিশালী কম্পিউটিং করবে

    মিমি বলল, "কিন্তু এর সাথে নৈতিক প্রশ্নও আসবে — কে দায়ী হবে, কীভাবে পক্ষপাত এড়ানো যাবে — সেগুলোও ভাবতে হবে।"

    মা বললেন, "ঠিক। একজন ভালো ইঞ্জিনিয়ার হতে গেলে শুধু টেকনোলজি জানলে চলবে না — নীতিশাস্ত্রও জানতে হবে।"

     ফাজি লজিকের পুরো ছবি

    মা একটা বড় ছবি আঁকলেন — ফাজি লজিকের পুরো ছবি।

    তিনি বললেন, "ফাজি লজিকের শুরুটা হলো এই realisation — পৃথিবীটা সাদা-কালো না, অনেক ধূসর আছে। এই ধূসরকেই বুঝতে পারাটাই আসল বুদ্ধিমত্তা।"

    লিলি ছবিটা দেখল:
    - নিচে আছে ফাজি সেট — মৌলিক বিল্ডিং ব্লক
    - তার ওপরে ফাজি রিলেশন — সেটের মধ্যে সম্পর্ক
    - তার ওপরে ফাজি নিয়ম — 'যদি-তবে' আকারের যুক্তি
    - তার ওপরে ফাজি ইনফারেন্স সিস্টেম — নিয়ম প্রয়োগ করে সিদ্ধান্ত
    - তার ওপরে ফাজি কন্ট্রোলার — বাস্তব ডিভাইস কন্ট্রোল
    - আর সবচেয়ে ওপরে নিউরো-ফাজি সিস্টেম — শেখার ক্ষমতা

    মিমি বলল, "প্রত্যেকটা স্তর আগের স্তরের ওপর ভিত্তি করে তৈরি।"

    মা বললেন, "ঠিক। আর এই পুরো কাঠামোটা দাঁড়িয়ে আছে একটা মৌলিক ধারণার ওপর — বাস্তব জগৎ অস্পষ্ট, আর এই অস্পষ্টতাকেই মডেল করতে হবে।"

     বুলিয়ান লজিক বনাম ফাজি লজিক

    মা বুলিয়ান লজিক আর ফাজি লজিকের তুলনা দেখালেন:

    | বিষয় | বুলিয়ান লজিক | ফাজি লজিক |
    |------|--------------|-----------|
    | মান | শুধু ০ আর ১ | ০ থেকে ১-এর যেকোনো মান |
    | সত্যতা | সম্পূর্ণ সত্য বা মিথ্যা | আংশিক সত্য |
    | AND | min(০,১) | min(০.৩,০.৭) |
    | OR | max(০,১) | max(০.৩,০.৭) |
    | NOT | ১-০ বা ০-১ | ১ - মান |
    | ব্যবহার | ডিজিটাল সার্কিট, কম্পিউটার | কন্ট্রোল সিস্টেম, AI, রোবোটিক্স |
    | শেখা | পারে না | নিউরো-ফাজি দিয়ে পারে |
    | বোধগম্যতা | খুব ভালো | ভালো (নিউরো-ফাজিতে কিছুটা কম) |

    লিলি বলল, "দুটোরই নিজস্ব জায়গায় গুরুত্ব আছে। বুলিয়ান লজিক কম্পিউটারের জন্য, ফাজি লজিক বাস্তব জগতের জন্য।"

    মা বললেন, "ঠিক। একটাকে বাদ দিয়ে অন্যটা চলবে না।"

     ফাজি লজিক শেখার পথ

    মা তাদের ফাজি লজিক শেখার পুরো পথটা মনে করিয়ে দিলেন:

    অধ্যায় ১: ফাজি লজিক কী — লিলির গরম-ঠাণ্ডার গল্প
    অধ্যায় ২: ফাজি সেট — লিলির বন্ধুত্বের মাত্রা
    অধ্যায় ৩: ফাজি রিলেশন — লিলির বন্ধু আর খাবারের সম্পর্ক
    অধ্যায় ৪: ফাজি লজিকের নিয়ম — লিলির যুক্তির খেলা
    অধ্যায় ৫: ফাজি ইনফারেন্স সিস্টেম — লিলির সিদ্ধান্ত নেওয়ার মেশিন
    অধ্যায় ৬: ফাজি কন্ট্রোলার — লিলির অটোমেটিক ফ্যান
    অধ্যায় ৭: নিউরো-ফাজি সিস্টেম — লিলির শেখা মেশিন
    অধ্যায় ৮: ফাজি ধাঁধা — লিলির যুক্তির আসর
    অধ্যায় ৯: ফাজি লজিকের ভবিষ্যৎ — লিলির স্বপ্নের জগৎ
    অধ্যায় ১০: উপসংহার — ফাজি লজিকের পুরো ছবি

    মিমি বলল, "আমরা অনেক দূর এসেছি!"

    লিলি বলল, "প্রথমে ফাজি লজিক দেখে ভয় পেয়েছিলাম। এখন মনে হয় এটা খুব মজার।"

     লিলির উপলব্ধি

    লিলি খানিকক্ষণ চুপ করে ভাবল। তারপর বলল, "মা, আমি এখন বুঝতে পারছি, ফাজি লজিক শুধু একটা গণিতের বইয়ের বিষয় না — এটা জীবনের দর্শন।"

    মা বললেন, "কীভাবে?"

    লিলি বলল, "ফাজি লজিক শেখায়, পৃথিবীটা সাদা-কালো না দেখতে। মানুষ ভালো-মন্দের মিশ্রণ। সিদ্ধান্তগুলো সবসময় পরিষ্কার হয় না। জীবনে অনেক ধূসর জায়গা আছে — আর সেগুলোকেই মেনে নিতে হয়।"

    মিমি বলল, "হ্যাঁ। ফাজি লজিক আমাদের শেখায়, অন্যের মতামতকে সম্মান করতে। কারণ একই জিনিস একজনের কাছে 'একটু গরম', আরেকজনের কাছে 'বেশি গরম' হতে পারে।"

    মা বললেন, "তোরা ঠিকই বুঝেছিস। ফাজি লজিক শুধু গণিত না — এটা একটা মানসিকতা। এই মানসিকতা নিয়ে বড় হয়ে তোরা ভালো মানুষ হবি , "

    লিলি বলল, "আমি ফাজি দর্শন নিয়ে বাঁচব!"

    মিমি বলল, "আমিও!"

    রাতে খাবার টেবিলে লিলি আর মিমি তাদের বাবাকে ফাজি লজিকের পুরো ছবি দেখাল।

    লিলি বলল, "বাবা, আমরা আজ ফাজি লজিকের সবকিছু একসাথে দেখেছি। কত কিছু শিখেছি — ফাজি সেট, ফাজি নিয়ম, ফাজি কন্ট্রোলার, নিউরো-ফাজি — সব!"

    মিমি বলল, "আমরা এখন ফাজি লজিকের ওস্তাদ!"

    বাবা বললেন, "তা হলে তোরা এখন আমাকে শেখাতে পারবি?"

    লিলি বলল, "অবশ্যই! আমরা তোকে একটা ফাজি সিস্টেম বানিয়ে দেব — যে তোর পছন্দের চায়ের তাপমাত্রা ঠিক করে দেবে!"

    বাবা বললেন, "বাহ! খুব ভালো হয়।"

    মা বললেন, "ওরা সত্যিই এখন ফাজি লজিকের ওস্তাদ।"

     
    রাতে শোওয়ার আগে লিলি আর মিমি তাদের পুরো ফাজি লজিক জার্নিটা রিভাইজ করল।

    লিলি লিখল:
    "ফাজি লজিক শেখার এই যাত্রায় আমরা অনেক কিছু শিখেছি:
    - ফাজি সেট দিয়ে অস্পষ্ট ধারণা মাপা
    - ফাজি রিলেশন দিয়ে সম্পর্ক বোঝা
    - ফাজি নিয়ম দিয়ে যুক্তি তৈরি
    - ফাজি ইনফারেন্স দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া
    - ফাজি কন্ট্রোলার দিয়ে ডিভাইস কন্ট্রোল
    - নিউরো-ফাজি দিয়ে শেখা
    - ফাজি ধাঁধা দিয়ে মজা করা
    - ফাজি ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখা"

    মিমি লিখল:
    "ফাজি লজিক শুধু একটা বিষয় না — এটা একটা দৃষ্টিভঙ্গি। এই দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের শেখায়:
    - পৃথিবী সাদা-কালো না দেখতে
    - অন্যের মতামতকে সম্মান করতে
    - জীবনের অস্পষ্টতাকে মেনে নিতে
    - সিদ্ধান্ত নিতে, কিন্তু নমনীয় থাকতে
    - শিখতে, আবার নিজের সিদ্ধান্ত বুঝতেও"

    লিলি বলল, "আমরা অনেক কিছু শিখলাম, মিমি।"

    মিমি বলল, "হ্যাঁ, লিলি। আর সবচেয়ে বড় কথা — আমরা শিখলাম, কিছু না জানাটা সমস্যা না। সমস্যা হলো, শেখার ইচ্ছা না থাকা।"

    তারা ঘুমিয়ে পড়ল।

    শেষ টিপস

    তোমরাও লিলি আর মিমির মতো ফাজি লজিকের পুরো যাত্রা শেষ করলে। এখন তুমি ফাজি লজিকের ওস্তাদ। কিন্তু ওস্তাদ হওয়া মানে শেখার শেষ না — বরং শেখার শুরু।

    তোমার জন্য কিছু শেষ টিপস:

    ১. নিজের চারপাশে ফাজি লজিক খুঁজো — তুমি যখন কোনো সিদ্ধান্ত নাও, ভাবো সেটা ফাজি কি না। যেমন — 'আজ একটু গরম', 'এই কাজটা বেশ কঠিন', 'ওই ছবিটা অনেক সুন্দর' — এসবই ফাজি ধারণা।

    ২. ছোট ছোট ফাজি প্রজেক্ট করো — যেমন একটা ফাজি ফ্যান কন্ট্রোলার ডিজাইন করো। পেন-পেপারে হলেও চলবে।

    ৩. অন্যদের শেখাও — তুমি যা শিখেছ, তা বন্ধুদের, পরিবারকে শেখাও। শেখানোর সময় নিজেও আরও ভালো বুঝতে পারবে।

    ৪. ভবিষ্যতের জন্য তৈরি হও — ফাজি লজিক ভবিষ্যতের প্রযুক্তির ভিত্তি। তুমি এখন সেই ভিত্তিটা জানো।

    ৫. ফাজি দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বাঁচো — জীবনে যখনই কোনো জটিল পরিস্থিতি আসবে, মনে করো — এটাও একটা ফাজি সমস্যা। আর ফাজি সমস্যার ফাজি সমাধান হয়।

    মনে রাখার মূল কথা:
    - ফাজি লজিক = অস্পষ্ট জিনিসের গণিত
    - ফাজি সেট = মাত্রাসহ সেট
    - ফাজি নিয়ম = 'যদি-তবে' আকারের যুক্তি
    - ফাজি ইনফারেন্স = সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া
    - ফাজি কন্ট্রোলার = বাস্তব ডিভাইস কন্ট্রোল
    - নিউরো-ফাজি = শেখা + বোধগম্যতা
    - ফাজি দর্শন = জীবনের অস্পষ্টতা মেনে নেওয়া

    এতক্ষণে আমরা ফাজি লজিকের পুরো যাত্রা শেষ করলাম। আমরা শুরু করেছিলাম লিলির চায়ের কাপ দিয়ে, শেষ করলাম ফাজি দর্শন দিয়ে। এই যাত্রায় আমরা দেখলাম, কীভাবে অস্পষ্ট ধারণাগুলোকে গাণিতিক ভাষায় লেখা যায়, কীভাবে সেগুলো নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়, আর কীভাবে এই সিদ্ধান্তগুলো বাস্তব ডিভাইস কন্ট্রোল করতে পারে।

    লিলি আর মিমি এখন ফাজি লজিকের ওস্তাদ। তারা জানে, কখন min ব্যবহার করতে হবে, কখন max, কখন ওয়েটেড এভারেজ। তারা জানে, কীভাবে ফাজি কন্ট্রোলার বানাতে হয়, কীভাবে নিউরো-ফাজি সিস্টেম শেখে। আর সবচেয়ে বড় কথা — তারা জানে, পৃথিবীটাকে সাদা-কালো না দেখে ধূসর দেখাটাই আসল বুদ্ধিমত্তা।

    তোমরাও এখন এই জায়গায় পৌঁছে গেছ। তুমি লিলি আর মিমির মতো ফাজি লজিকের ওস্তাদ। এখন তুমি চাইলে নিজের ফাজি প্রজেক্ট শুরু করতে পারো, নিজের ফাজি কন্ট্রোলার বানাতে পারো, এমনকি ফাজি লজিকের ভবিষ্যৎ গড়তেও অংশ নিতে পারো।

    আর মনে রেখো, ফাজি লজিক শুধু বইয়ের পাতায় না — এটা আমাদের চারপাশে, আমাদের জীবনে, আমাদের চিন্তায়।  ফাজি লজিক আসলে আমাদের ভাষা, আমাদের চিন্তার প্রতিচ্ছবি।

    তাই এই জ্ঞান নিয়ে বেরিয়ে পড়ো। চারপাশে ফাজি লজিক খুঁজো। আর লিলি আর মিমির কথা মনে রেখো। তুমিও পারবে।
    সম্পত। 
    শুভকামনা।
     

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
    1 | 2 | 3 | 4 | 5 | 6 | 7 | 8 | 9 | 10
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভ্যাবাচ্যাকা না খেয়ে প্রতিক্রিয়া দিন