এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  •  ফাজি লজিক: রাজার নতুন শিক্ষানীতি  অধ্যায় ৬: ফাজি কন্ট্রোলার — লিলির অটোমেটিক ফ্যান

    albert banerjee লেখকের গ্রাহক হোন
    ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ২৮ বার পঠিত
  • 1 | 2 | 3 | 4 | 5 | 6
     ফাজি লজিক: রাজার নতুন শিক্ষানীতি
     অধ্যায় ৬: ফাজি কন্ট্রোলার — লিলির অটোমেটিক ফ্যান

    আগের অধ্যায়ে আমরা শিখেছিলাম ফাজি ইনফারেন্স সিস্টেম — কীভাবে ইনপুট নিয়ে, ফাজি নিয়ম ব্যবহার করে, আউটপুট বের করা যায়। লিলি আর মিমি এখন বুঝতে পেরেছে, ফাজি লজিক দিয়ে বাস্তব সমস্যার সমাধান করা যায়। কিন্তু প্রশ্ন হলো — এই সিস্টেম দিয়ে কীভাবে বাস্তব ডিভাইস কন্ট্রোল করা যায়? আজকের অধ্যায়ে আমরা শিখব ফাজি কন্ট্রোলার।

    গল্প শুরু করি সেখান থেকে, যেখানে আগের অধ্যায় শেষ হয়েছিল।

     সকালবেলার ঘটনা

    পরদিন সকালে লিলি তার ফ্যানের দিকে তাকিয়ে ছিল। গরম পড়েছে, কিন্তু ফ্যানের গতি ঠিক করছে না। সে ভাবল, "এই ফ্যান যদি নিজে থেকেই তাপমাত্রা বুঝে গতি বাড়াতে পারত!"

    সে মিমিকে ডেকে বলল, "মিমি, আমরা কি একটা অটোমেটিক ফ্যান বানাতে পারি? যে নিজে থেকেই তাপমাত্রা বুঝে গতি ঠিক করবে?"

    মিমি বলল, "সেটা তো ফাজি কন্ট্রোলার দিয়ে সম্ভব! আমরা তো ফাজি ইনফারেন্স সিস্টেম শিখেছি।"

    ঠিক তখন তাদের মা ঘরে এলেন। তিনি বললেন, "তোরা ঠিক বলছিস। ফাজি কন্ট্রোলার হলো ফাজি ইনফারেন্স সিস্টেমের সবচেয়ে বড় ব্যবহার। আজ আমরা সেটা শিখব।"

     ফাজি কন্ট্রোলার কী

    মা তাদের বুঝাতে শুরু করলেন। তিনি বললেন, "ফাজি কন্ট্রোলার হলো একটা সিস্টেম, যা ফাজি লজিক ব্যবহার করে বাস্তব ডিভাইস কন্ট্রোল করে। যেমন — ফ্যানের গতি, এসির তাপমাত্রা, ওয়াশিং মেশিনের সময় — সবকিছু।"

    লিলি বলল, "এটা কি ফাজি ইনফারেন্স সিস্টেমের মতোই?"

    মা বললেন, "হ্যাঁ। ফাজি কন্ট্রোলার আসলে একটা বিশেষ ধরনের ফাজি ইনফারেন্স সিস্টেম, যা রিয়েল-টাইমে কাজ করে। এটা বারবার ইনপুট নিয়ে, সিদ্ধান্ত নিয়ে, আউটপুট দেয়।"

    মিমি বলল, "মানে এটা একটা লুপের মতো কাজ করে?"

    মা বললেন, "ঠিক। সেন্সর থেকে ডেটা আসে, কন্ট্রোলার সিদ্ধান্ত নেয়, অ্যাকচুয়েটরে কমান্ড যায়, আবার নতুন ডেটা আসে — এভাবেই চলতে থাকে।"

     ফাজি কন্ট্রোলারের মূল অংশ

    মা ফাজি কন্ট্রোলারের মূল অংশগুলো দেখালেন:

    ১. সেন্সর — বাস্তব জগত থেকে ইনপুট নেয় (যেমন তাপমাত্রা সেন্সর)
    ২. ফাজিফিকেশন — বাস্তব মানকে ফাজি মানে রূপান্তর
    ৩. নিয়ম বেস — ফাজি নিয়মের সংগ্রহ
    ৪. ইনফারেন্স ইঞ্জিন — ফাজি নিয়ম প্রয়োগ করে ফাজি আউটপুট বের করা
    ৫. ডিফাজিফিকেশন — ফাজি আউটপুটকে বাস্তব মানে রূপান্তর
    ৬. অ্যাকচুয়েটর — বাস্তব জগতে কাজ করা (যেমন মোটর, হিটার)

    লিলি একটা ছবি আঁকল:
    সেন্সর → ফাজিফিকেশন → ইনফারেন্স → ডিফাজিফিকেশন → অ্যাকচুয়েটর → (আবার সেন্সর)

    মিমি বলল, "এটা একটা বন্ধ লুপের মতো — সবসময় চলতে থাকে।"

    মা বললেন, "ঠিক। একে বলে ক্লোজড-লুপ কন্ট্রোল সিস্টেম।"

     লিলির অটোমেটিক ফ্যান — ডিজাইন শুরু

    লিলি তার অটোমেটিক ফ্যানের জন্য ফাজি কন্ট্রোলার ডিজাইন করা শুরু করল।

    ইনপুট: তাপমাত্রা (০°C থেকে ৫০°C)
    আউটপুট: ফ্যানের গতি (০% থেকে ১০০%)

    প্রথমে মেম্বারশিপ ফাংশন ঠিক করল:

    তাপমাত্রার জন্য তিনটা ফাজি সেট:
    - ঠাণ্ডা (Cold): ০°C-এ ১, ২০°C-এ ০
    - নাতিশীতোষ্ণ (Moderate): ১৫°C-এ ০, ২৫°C-এ ১, ৩৫°C-এ ০
    - গরম (Hot): ৩০°C-এ ০, ৫০°C-এ ১

    ফ্যানের গতির জন্য তিনটা ফাজি সেট:
    - কম (Low): ০% এ ১, ৩০% এ ০
    - মাঝারি (Medium): ২০% এ ০, ৫০% এ ১, ৮০% এ ০
    - বেশি (High): ৬০% এ ০, ১০০% এ ১

    মিমি বলল, "এখন নিয়ম বানাতে হবে।"

     নিয়ম বেস তৈরি

    লিলি তিনটা সহজ নিয়ম বানাল:

    নিয়ম ১: যদি তাপমাত্রা ঠাণ্ডা হয় তবে ফ্যানের গতি কম
    নিয়ম ২: যদি তাপমাত্রা নাতিশীতোষ্ণ হয় তবে ফ্যানের গতি মাঝারি
    নিয়ম ৩: যদি তাপমাত্রা গরম হয় তবে ফ্যানের গতি বেশি

    মিমি বলল, "এত সহজ? মাত্র তিনটা নিয়ম?"

    লিলি বলল, "ছোট সিস্টেমের জন্য এতটাই যথেষ্ট। বড় সিস্টেমে আরও নিয়ম লাগে।"

    মা বললেন, "ঠিক। ফ্যান কন্ট্রোলের জন্য তিনটা নিয়মই যথেষ্ট। কিন্তু বাস্তবে আর্দ্রতা, কতজন লোক আছে — এরকম আরও ইনপুট থাকলে আরও নিয়ম দরকার হয়।"

     ফাজি কন্ট্রোলার কাজ করা — উদাহরণ

    লিলি একটা উদাহরণ দিয়ে দেখাল:

    ধরো, তাপমাত্রা = ২৮°C

    প্রথমে ফাজিফিকেশন:
    - ঠাণ্ডা: ২৮°C তে ০.০
    - নাতিশীতোষ্ণ: ২৮°C তে (৩৫-২৮)/১০ = ০.৭ (কারণ ২৫-৩৫ এর মধ্যে কমছে)
    - গরম: ২৮°C তে (২৮-২৫)/২০ = ০.১৫ (কারণ ২৫-৪৫ এর মধ্যে বাড়ছে? আসলে ২৫-৫০ এর মধ্যে বাড়বে, ২৫-৫০ = ২৫ রেঞ্জ, ২৮-২৫ = ৩, তাই ৩/২৫ = ০.১২)

    এখন ইনফারেন্স (ম্যামদানি পদ্ধতি):

    নিয়ম ১: ঠাণ্ডা (০.০) → গতি কম = ০.০
    নিয়ম ২: নাতিশীতোষ্ণ (০.৭) → গতি মাঝারি = ০.৭
    নিয়ম ৩: গরম (০.১২) → গতি বেশি = ০.১২

    এখন আউটপুট ফাজি সেট:
    - কম: ০.০
    - মাঝারি: ০.৭
    - বেশি: ০.১২

    ডিফাজিফিকেশন (সেন্ট্রয়েড):
    ধরো, 'কম' এর সেন্টার = ১৫%, 'মাঝারি' = ৫০%, 'বেশি' = ৮৫%

    ওয়েটেড এভারেজ = (০.০×১৫ + ০.৭×৫০ + ০.১২×৮৫) / (০.০+০.৭+০.১২) = (০ + ৩৫ + ১০.২) / ০.৮২ = ৪৫.২ / ০.৮২ = ৫৫.১২%

    তাহলে ফ্যানের গতি = ৫৫% (প্রায়)

    মিমি বলল, "২৮°C তে ফ্যান ৫৫% গতিতে চলবে। ঠিক আছে!"

    মা বললেন, "হ্যাঁ। যদি তাপমাত্রা আরও বাড়ে, গতি আরও বাড়বে।"

     আরেকটা উদাহরণ — ১৮°C

    লিলি আরেকটা উদাহরণ দিল:

    তাপমাত্রা = ১৮°C

    ফাজিফিকেশন:
    - ঠাণ্ডা: ১৮°C তে (২০-১৮)/২০ = ০.১ (কারণ ০-২০ এর মধ্যে কমছে? আসলে ০-২০ এর মধ্যে ঠাণ্ডা ২০ এ ০, ০ এ ১, তাই ১৮ তে = (২০-১৮)/২০ = ০.১)
    - নাতিশীতোষ্ণ: ১৮°C তে (১৮-১৫)/১০ = ০.৩ (কারণ ১৫-২৫ এর মধ্যে বাড়ছে)
    - গরম: ০.০

    ইনফারেন্স:
    নিয়ম ১: ঠাণ্ডা (০.১) → গতি কম = ০.১
    নিয়ম ২: নাতিশীতোষ্ণ (০.৩) → গতি মাঝারি = ০.৩
    নিয়ম ৩: গরম (০.০) → গতি বেশি = ০.০

    ডিফাজিফিকেশন:
    ওয়েটেড এভারেজ = (০.১×১৫ + ০.৩×৫০ + ০.০×৮৫) / (০.১+০.৩+০.০) = (১.৫ + ১৫ + ০) / ০.৪ = ১৬.৫ / ০.৪ = ৪১.২৫%

    তাহলে ফ্যানের গতি = ৪১%

    মিমি বলল, "১৮°C তে ফ্যান ৪১% গতিতে চলবে। কম তাপমাত্রায় গতি কম, কিন্তু পুরোপুরি বন্ধ না — কারণ একটু গরম লাগতে পারে।"

    মা বললেন, "ঠিক। ফাজি কন্ট্রোলার এভাবেই মসৃণ নিয়ন্ত্রণ দেয়।"

     পিআইডি কন্ট্রোলার বনাম ফাজি কন্ট্রোলার

    মা তাদের পিআইডি কন্ট্রোলারের সাথে ফাজি কন্ট্রোলারের তুলনা দেখালেন:

    | বিষয় | পিআইডি কন্ট্রোলার | ফাজি কন্ট্রোলার |
    |------|-------------------|------------------|
    | গাণিতিক মডেল | দরকার | দরকার নেই |
    | টিউনিং | কঠিন (Kp, Ki, Kd) | সহজ (নিয়ম) |
    | নন-লিনিয়ার সিস্টেম | সমস্যা | ভালো কাজ করে |
    | মানব-বান্ধব | না | হ্যাঁ |
    | ইন্টারপ্রিটেবিলিটি | কম | বেশি |
    | ইমপ্লিমেন্টেশন | সহজ | মাঝারি |

    লিলি বলল, "পিআইডি আবার কী?"

    মা বললেন, "পিআইডি হলো প্রোপোশনাল-ইন্টেগ্রাল-ডেরিভেটিভ কন্ট্রোলার — এটা ক্লাসিক্যাল কন্ট্রোল সিস্টেম। অনেক শিল্পকারখানায় এখনো পিআইডি ব্যবহার হয়। কিন্তু ফাজি কন্ট্রোলার অনেক জায়গায় ভালো কাজ করে।"

    মিমি বলল, "তাহলে ফাজি কন্ট্রোলার কেন সব জায়গায় ব্যবহার করে না?"

    মা বললেন, "পিআইডি সহজ, সস্তা, আর অনেক সমস্যার জন্য যথেষ্ট ভালো। ফাজি কন্ট্রোলার দরকার হয় যখন সিস্টেম জটিল, নন-লিনিয়ার, বা গাণিতিক মডেল করা কঠিন।"

     ফাজি কন্ট্রোলারের প্রকার

    মা তাদের ফাজি কন্ট্রোলারের বিভিন্ন প্রকার দেখালেন:

    ১. ম্যামদানি-টাইপ ফাজি কন্ট্রোলার: আউটপুট ফাজি সেট হয়। সবচেয়ে জনপ্রিয়।

    ২. সুগেনো-টাইপ ফাজি কন্ট্রোলার: আউটপুট ফাংশন হয়। হিসাব দ্রুত, কন্ট্রোল সিস্টেমে ভালো।

    ৩. এডাপটিভ ফাজি কন্ট্রোলার: নিজে থেকে শিখতে পারে, নিয়ম বদলাতে পারে।

    ৪. ফাজি পিআইডি কন্ট্রোলার: পিআইডি আর ফাজির মিশ্রণ।

    ৫. নিউরো-ফাজি কন্ট্রোলার: নিউরাল নেটওয়ার্ক দিয়ে শেখে, ফাজি দিয়ে কন্ট্রোল করে।

    মিমি বলল, "নিউরো-ফাজি শুনতে মজার লাগছে!"

    মা বললেন, "হ্যাঁ। এটা আধুনিক গবেষণার বিষয়।"

     বাস্তব উদাহরণ ১: ওয়াশিং মেশিন

    মা তাদের একটা বাস্তব উদাহরণ দিলেন — ওয়াশিং মেশিনের ফাজি কন্ট্রোলার।

    ইনপুট:
    - কাপড়ের পরিমাণ (কম, মাঝারি, বেশি)
    - কাপড়ের নোংরামি (কম, মাঝারি, বেশি)
    - কাপড়ের ধরণ (নরম, সাধারণ, মোটা)

    আউটপুট:
    - জল  দেওয়ার পরিমাণ (কম, মাঝারি, বেশি)
    - ওয়াশিং টাইম (কম, মাঝারি, বেশি)
    - স্পিন স্পিড (কম, মাঝারি, বেশি)

    নিয়মের উদাহরণ:
    - যদি কাপড় বেশি হয় আর নোংরামি বেশি হয় তবে জল বেশি দাও আর ওয়াশিং টাইম বেশি দাও।
    - যদি কাপড় কম হয় আর নোংরামি কম হয় তবে জল কম দাও আর ওয়াশিং টাইম কম দাও।
    - যদি কাপড় মোটা হয় তবে স্পিন স্পিড কম দাও।

    লিলি বলল, "এতগুলো ইনপুট আর আউটপুট! কিন্তু নিয়মগুলো খুব সহজ।"

    মা বললেন, "হ্যাঁ। ফাজি কন্ট্রোলারের সুবিধা এটাই — জটিল সিস্টেম সহজ নিয়মে কন্ট্রোল করা যায়।"

     বাস্তব উদাহরণ ২: এয়ার কন্ডিশনার

    মিমি আরেকটা উদাহরণ দিতে চাইল — এয়ার কন্ডিশনার।

    ইনপুট:
    - ঘরের তাপমাত্রা (ঠাণ্ডা, নাতিশীতোষ্ণ, গরম, খুব গরম)
    - বাইরের তাপমাত্রা (ঠাণ্ডা, নাতিশীতোষ্ণ, গরম)
    - কতজন লোক আছে (কম, মাঝারি, বেশি)

    আউটপুট:
    - কম্প্রেসারের গতি (কম, মাঝারি, বেশি)
    - ফ্যানের গতি (কম, মাঝারি, বেশি)

    নিয়মের উদাহরণ:
    - যদি ঘর গরম হয় আর লোক বেশি হয় তবে কম্প্রেসার বেশি চালাও।
    - যদি ঘর ঠাণ্ডা হয় তবে কম্প্রেসার বন্ধ করো।
    - যদি বাইরে গরম হয় আর ঘর নাতিশীতোষ্ণ হয় তবে ফ্যান মাঝারি চালাও।

    লিলি বলল, "এসি তো এই রকমই কাজ করে! তাই না?"

    মা বললেন, "হ্যাঁ। অনেক আধুনিক এসি ফাজি লজিক ব্যবহার করে।"

     বাস্তব উদাহরণ ৩: অটোমেটিক ট্রান্সমিশন

    মা আরেকটা উদাহরণ দিলেন — গাড়ির অটোমেটিক ট্রান্সমিশন।

    ইনপুট:
    - গাড়ির গতি (কম, মাঝারি, বেশি)
    - ইঞ্জিনের আরপিএম (কম, মাঝারি, বেশি)
    - এক্সিলারেটরের অবস্থান (কম, মাঝারি, বেশি)

    আউটপুট:
    - গিয়ার (১ম, ২য়, ৩য়, ৪র্থ, ৫ম)

    নিয়মের উদাহরণ:
    - যদি গতি কম হয় আর আরপিএম বেশি হয় তবে ১ম গিয়ার।
    - যদি গতি মাঝারি হয় আর এক্সিলারেটর বেশি হয় তবে ৩য় গিয়ার।
    - যদি গতি বেশি হয় আর আরপিএম কম হয় তবে ৫ম গিয়ার।

    মিমি বলল, "বাহ! গাড়ি নিজে থেকেই গিয়ার বদলায় — এটা ফাজি কন্ট্রোলার!"

    মা বললেন, "ঠিক। টয়োটা, নিসান, হোন্ডা — অনেক কোম্পানি ফাজি লজিক ব্যবহার করে।"

     ফাজি কন্ট্রোলারের ডিজাইন স্টেপ

    মা তাদের ফাজি কন্ট্রোলার ডিজাইন করার ধাপগুলো বললেন:

    ১. ইনপুট আর আউটপুট নির্ধারণ: কী কন্ট্রোল করতে চাও, কী কী ইনপুট দরকার।

    ২. মেম্বারশিপ ফাংশন ডিজাইন: প্রতিটি ইনপুট আর আউটপুটের জন্য ফাজি সেট ঠিক করা।

    ৩. নিয়ম বেস তৈরি: বিশেষজ্ঞের জ্ঞান বা ট্রায়াল-এরর দিয়ে নিয়ম লেখা।

    ৪. ইনফারেন্স পদ্ধতি ঠিক করা: ম্যামদানি, সুগেনো, নাকি অন্য কিছু।

    ৫. ডিফাজিফিকেশন পদ্ধতি ঠিক করা: সেন্ট্রয়েড, ওয়েটেড এভারেজ, নাকি অন্য কিছু।

    ৬. টেস্ট আর টিউনিং: বাস্তব সিস্টেমে পরীক্ষা করা, দরকার হলে নিয়ম বা মেম্বারশিপ ফাংশন বদলানো।

    লিলি বলল, "এটা অনেক পরিকল্পনার ব্যাপার!"

    মা বললেন, "হ্যাঁ। ভালো কন্ট্রোলার বানাতে সময় লাগে।"

     ফাজি কন্ট্রোলারের সুবিধা

    মা তাদের ফাজি কন্ট্রোলারের সুবিধাগুলো বললেন:

    ১. গাণিতিক মডেল দরকার নেই — জটিল সিস্টেমের জন্য খুব দরকারি।

    ২. নন-লিনিয়ার সিস্টেম ভালো সামলায় — বাস্তব সিস্টেম প্রায়ই নন-লিনিয়ার।

    ৩. মানব-বান্ধব — মানুষের ভাষায় নিয়ম লেখা যায়।

    ৪. রোবাস্ট — ইনপুটে সামান্য পরিবর্তন হলে আউটপুটে খুব বেশি পরিবর্তন হয় না।

    ৫. ইন্টারপ্রেটেবল — কেন এমন আউটপুট হল, তা বোঝা যায়।

    ৬. দ্রুত ডেভেলপমেন্ট — প্রোটোটাইপ বানানো সহজ।

    মিমি বলল, "সুবিধা অনেক, তাই না?"

    মা বললেন, "হ্যাঁ। তাই ফাজি কন্ট্রোলার এত জনপ্রিয়।"

     ফাজি কন্ট্রোলারের সীমাবদ্ধতা

    মা তাদের ফাজি কন্ট্রোলারের কিছু সীমাবদ্ধতাও বললেন:

    ১. নিয়ম নির্ধারণ কঠিন — ভালো নিয়ম বানাতে বিশেষজ্ঞের দরকার হয়।

    ২. অপ্টিমাইজেশন কঠিন — নিয়ম আর মেম্বারশিপ ফাংশন অপ্টিমাইজ করা কঠিন।

    ৩. স্থিতিশীলতা প্রমাণ কঠিন — ফাজি কন্ট্রোলার সবসময় স্থিতিশীল থাকবে, তা প্রমাণ করা কঠিন।

    ৪. উচ্চ-গতির সিস্টেমের জন্য ধীর — খুব দ্রুত সিস্টেমের জন্য ফাজি কন্ট্রোলার যথেষ্ট দ্রুত নাও হতে পারে।

    ৫. লার্নিং ক্ষমতা নেই — নিজে থেকে শিখতে পারে না।

    লিলি বলল, "সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও এত ব্যবহার, মানে এটা সত্যিই দরকারি!"

    মা বললেন, "হ্যাঁ। সব কিছুরই কিছু অসুবিধা থাকে, কিন্তু সুবিধা বেশি।"

     লিলির অটোমেটিক ফ্যান — সম্পূর্ণ ডিজাইন

    লিলি তার অটোমেটিক ফ্যানের পুরো ডিজাইন একসাথে লিখল:

    ইনপুট: তাপমাত্রা (০-৫০°C)

    আউটপুট: ফ্যানের গতি (০-১০০%)

    মেম্বারশিপ ফাংশন:

    তাপমাত্রা:
    - ঠাণ্ডা:  (০,০,২০) — মানে ০°C এ ১, ২০°C এ ০
    - নাতিশীতোষ্ণ: (১৫,২৫,৩৫) — ১৫°C এ ০, ২৫°C এ ১, ৩৫°C এ ০
    - গরম: (২৫,৩৫,৫০,৫০) — ২৫°C এ ০, ৩৫°C এ ১, ৫০°C এ ১

    ফ্যানের গতি:
    - কম: (০,০,৩০) — ০% এ ১, ৩০% এ ০
    - মাঝারি:  (২০,৫০,৮০) — ২০% এ ০, ৫০% এ ১, ৮০% এ ০
    - বেশি:  (৬০,৮০,১০০,১০০) — ৬০% এ ০, ৮০% এ ১, ১০০% এ ১

    নিয়ম:
    ১. যদি তাপমাত্রা ঠাণ্ডা হয় তবে ফ্যানের গতি কম
    ২. যদি তাপমাত্রা নাতিশীতোষ্ণ হয় তবে ফ্যানের গতি মাঝারি
    ৩. যদি তাপমাত্রা গরম হয় তবে ফ্যানের গতি বেশি

    ইনফারেন্স: ম্যামদানি (AND = min, OR = max)
    ডিফাজিফিকেশন: সেন্ট্রয়েড (ওয়েটেড এভারেজ)

    মিমি বলল, "পারফেক্ট! এখন বানিয়ে ফেলতে হবে।"

    মা বললেন, "বানানোর জন্য মাইক্রোকন্ট্রোলার দরকার —সেটা পরে শিখবে।"

     রাতের খাবারের মজা

    রাতে খাবার টেবিলে লিলি আর মিমি তাদের বাবাকে ফাজি কন্ট্রোলার শেখাতে লাগল।

    লিলি বলল, "বাবা, আমরা আজ ফাজি কন্ট্রোলার শিখেছি। এটা দিয়ে অটোমেটিক ফ্যান বানানো যায় — তাপমাত্রা দেখে নিজে থেকেই গতি বাড়ায়।"

    বাবা বললেন, "বাহ! আমার অফিসের ফ্যানটা যদি এমন হত!"

    মিমি বলল, "তুমি কি জানো, গাড়ির অটোমেটিক ট্রান্সমিশনেও ফাজি কন্ট্রোলার ব্যবহার হয়?"

    বাবা বললেন, "সত্যি? আমার গাড়িতেও নিশ্চয়ই আছে!"

    লিলি বলল, "আধুনিক গাড়িতে প্রায় সবাই ফাজি লজিক ব্যবহার করে।"

    মা বললেন, "ওরা এখন ফাজি কন্ট্রোলারের ওস্তাদ হয়ে যাচ্ছে।"

    সবাই খুব আনন্দ করল।

     শোওয়ার আগে

    রাতে শোওয়ার আগে লিলি আর মিমি তাদের আজকের পড়া রিভাইজ করল।

    লিলি লিখল:
    - ফাজি কন্ট্রোলার: ফাজি ইনফারেন্স সিস্টেম দিয়ে বাস্তব ডিভাইস কন্ট্রোল
    - অংশ: সেন্সর → ফাজিফিকেশন → ইনফারেন্স → ডিফাজিফিকেশন → অ্যাকচুয়েটর
    - ফাজি কন্ট্রোলারের প্রকার: ম্যামদানি, সুগেনো, এডাপটিভ, নিউরো-ফাজি

    মিমি লিখল:
    - ফাজি কন্ট্রোলার ডিজাইন স্টেপ:
      ১. ইনপুট/আউটপুট নির্ধারণ
      ২. মেম্বারশিপ ফাংশন ডিজাইন
      ৩. নিয়ম বেস তৈরি
      ৪. ইনফারেন্স পদ্ধতি ঠিক করা
      ৫. ডিফাজিফিকেশন পদ্ধতি ঠিক করা
      ৬. টেস্ট আর টিউনিং

    লিলি লিখল:
    - বাস্তব উদাহরণ:
       অটোমেটিক ফ্যান (তাপমাত্রা → গতি)
       ওয়াশিং মেশিন (কাপড়ের পরিমাণ, নোংরামি → জল, সময়)
       এয়ার কন্ডিশনার (তাপমাত্রা, লোক সংখ্যা → কম্প্রেসার)
       অটোমেটিক ট্রান্সমিশন (গতি, আরপিএম → গিয়ার)

    মিমি লিখল:
    - সুবিধা: গাণিতিক মডেল দরকার নেই, নন-লিনিয়ার সিস্টেম ভালো, মানব-বান্ধব, রোবাস্ট
    - সীমাবদ্ধতা: নিয়ম নির্ধারণ কঠিন, অপ্টিমাইজেশন কঠিন, স্থিতিশীলতা প্রমাণ কঠিন

    লিলি বলল, "কাল আমরা নিউরো-ফাজি সিস্টেম শিখব। সেটা আরও মজা হবে।"

    মিমি বলল, "মানে নিউরাল নেটওয়ার্ক আর ফাজি লজিক একসাথে?"

    লিলি বলল, "হ্যাঁ।"

    তারা ঘুমিয়ে পড়ল।

    টিপস

    তোমরাও লিলি আর মিমির মতো ফাজি কন্ট্রোলার শিখে ফেললে। এখন তুমি জানো, কীভাবে ফাজি লজিক দিয়ে বাস্তব ডিভাইস কন্ট্রোল করা যায়।

    তোমার চারপাশ থেকে ফাজি কন্ট্রোলারের উদাহরণ বের করতে পারো। যেমন:

    - ফ্রিজ — তাপমাত্রা দেখে নিজে থেকেই কুলিং কন্ট্রোল করে
    - ওয়াশিং মেশিন — কাপড় দেখে পানি আর সময় ঠিক করে
    - মাইক্রোওয়েভ ওভেন — খাবার গরম করার সময় ঠিক করে
    - এসি — রুমের তাপমাত্রা দেখে ফ্যান আর কম্প্রেসার কন্ট্রোল করে
    - ফ্যান — কিছু ফ্যানে 'স্মার্ট' মোড থাকে, যেটা ফাজি কন্ট্রোলার

    এভাবে প্রতিদিন ৫টা করে ফাজি কন্ট্রোলারের উদাহরণ বের করার অভ্যাস করো।

    মনে রাখার মূল কথা:
    - ফাজি কন্ট্রোলার একটা ক্লোজড-লুপ সিস্টেম
    - সেন্সর → ফাজিফিকেশন → ইনফারেন্স → ডিফাজিফিকেশন → অ্যাকচুয়েটর
    - পিআইডি কন্ট্রোলারের চেয়ে নমনীয়, কিন্তু সব জায়গায় দরকার হয় না
    - ম্যামদানি আর সুগেনো — দুটো প্রধান পদ্ধতি

    এই অধ্যায়ে আমরা শিখলাম ফাজি কন্ট্রোলার। আমরা দেখলাম, ফাজি ইনফারেন্স সিস্টেম দিয়ে কীভাবে বাস্তব ডিভাইস কন্ট্রোল করা যায়। আমরা শিখলাম ফাজি কন্ট্রোলারের মূল অংশ — সেন্সর, ফাজিফিকেশন, ইনফারেন্স, ডিফাজিফিকেশন, অ্যাকচুয়েটর। দেখলাম পিআইডি কন্ট্রোলারের সাথে তুলনা। শিখলাম ফাজি কন্ট্রোলারের প্রকার, ডিজাইন স্টেপ, সুবিধা, অসুবিধা আর বাস্তব উদাহরণ।

    লিলি আর মিমি তাদের নিজের অটোমেটিক ফ্যান ডিজাইন করেছে — তাপমাত্রা ইনপুট নিয়ে ফ্যানের গতি আউটপুট দেওয়া। তারা দেখিয়েছে, কীভাবে মাত্র তিনটা সহজ নিয়ম দিয়ে একটা পুরো কন্ট্রোল সিস্টেম বানানো যায়।

    পরের অধ্যায়ে আমরা শিখব নিউরো-ফাজি সিস্টেম। সেখানে আমরা দেখব, কীভাবে নিউরাল নেটওয়ার্ক আর ফাজি লজিক একসাথে কাজ করে — নিউরাল নেটওয়ার্ক শেখে, ফাজি লজিক সিদ্ধান্ত নেয়।

    ততক্ষণে, তোমরা নিজেরা নিজেদের জীবন থেকে ফাজি কন্ট্রোলারের উদাহরণ বের করতে থাকো।
     
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
    1 | 2 | 3 | 4 | 5 | 6
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। সুচিন্তিত মতামত দিন