এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  আলোচনা  স্বাস্থ্য

  • কুকুর বিতর্ক এবং জলাতঙ্কের আতঙ্ক

    ডঃ সুস্মিতা ঘোষ
    আলোচনা | স্বাস্থ্য | ০৬ জানুয়ারি ২০২৬ | ২২৫ বার পঠিত


  • সম্প্রতি কুকুর নিয়ে যে বিতর্ক চলছে তার একটা বিরাট কারণ হচ্ছে জলাতঙ্কের ভয় জলাতঙ্কের আতঙ্ক। জলাতঙ্ক রোগটার নাম সবাই পরিচিত, এবং এই রোগে একবার আক্রান্ত হলে মৃত্যু ছাড়া গতি নেই, এটাই বোধহয় সেই আতঙ্কের কারণ। কিন্তু অযথা আতঙ্কিত না হয়ে ঠিক কিভাবে জলাতঙ্ক ছড়াতে পারে এবং কিভাবে তাকে প্রতিষেধন করা যায় সেইটা পরিষ্কার করে বোঝা এই যুগে খুব প্রয়োজন। বেশির ভাগ লোকের ই এই বিষয়ে ঠিক স্পষ্ট ধারণা নেই, সেটাই আতঙ্কের সব চেয়ে বড় উৎস।

    জলাতঙ্ক রোগ কি আজকের? খ্রিষ্টপূর্ব ২০০০ সাল নাগাদ মেসোপটেমিয়াতে কুকুর “পাগলা” হলে কেমন ব্যবহার করে এবং তার কামড়ে মানুষও একই ধরণের ব্যবহার করতে থাকে, এ কথা জানা ছিল। আরো এক সহস্রাব্দ পরে আমাদের দেশে সুশ্রুত সংহিতাতে উল্লেখ আছে পাগলা কুকুরের কামড়ে “জলাতঙ্ক” হয়। আরো বিস্তারিত বিবরণ আছে, যেমন পেশী শক্ত হয়ে যাওয়া, খিঁচুনি, বার বার জ্ঞান হারানো, অস্থিরতা, আক্রমণাত্মক হয়ে যাওয়া, বিভ্রম, প্রলাপ বকা ইত্যাদি।



    আধুনিক পাশ্চাত্য চিকিৎসা বিদ্যায় এর উল্লেখ এসেছে অনেক শতক, এমনকি সহস্রাব্দ পরে। হিপোক্রেটি, এরিস্টটল এবং খ্রিষ্ট জন্মের পরে সেলসুস এই রোগের কথা লিখেছেন। “হাইড্রোফোবিয়া” শব্দটি সেলসুসের সৃষ্টি। এঁরা সবাই কামড়ের মাধ্যমে কুকুরের শরীরের বিষ কিভাবে সঞ্চারিত হয়ে এই রোগটি সৃষ্টি করে লিখেছেন এবং চিকিৎসা হিসেবে মূলত কামড়ের জায়গাটাতে পুড়িয়ে দেওয়া বা গাছ-গাছালির ওষুধ লাগানো এইটুকু চিকিৎসাই লিখে গেছেন। জলাতঙ্কের রোগীর বাঁচার আশা ক্ষীণ এটাই ছিল এঁদের বক্তব্য।

    এই অন্ধকার যুগের অবসান ঘটালেন ফরাসী বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর। ১৮ শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত লোকের ধারণা ছিল রোগ হয় মানুষের পাপ থেকে। আর খাবার দাবার নিজে নিজে নষ্ট হয়ে যায়। যদিও প্রায় দেড়শ বছরের বেশি আগে থেকে জীবাণুর অস্তিত্ব দেখিয়েছেন অণুবীক্ষণের আবিষ্কারক লিউএন হুক, কিন্তু জীবাণু থেকেই যে রোগ হয় এটা পরীক্ষার দ্বারা প্রথম দেখিয়েছিলেন লুই পাস্তুর। খাবার পচে যাওয়া থেকে আঙুর পচিয়ে ওয়াইন বানানো, সবেতেই জীবাণু না থাকলে পচন ঘটেনা এটা তিনি পরীক্ষার মাধ্যমে দেখিয়েছিলেন। রেশম মথের মড়ক লেগেছিল তখন ফ্রান্সে - সিল্কের ব্যবসা খুব বিপদের মুখে। পাস্তুর অণুবীক্ষণের তলায় দেখতে পেলেন রুগ্ন রেশম মথ গুলোতে এক রকম জীবাণু রয়েছে, এবং সুস্থ ও রুগ্ন মথ একসঙ্গে থাকলে রুগ্নমথ এর ছোঁয়াচে সুস্থ মথ গুলি অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে। রেশমশিল্প তখন বাঁচাতে না পারলেও জীবাণু থেকে যে রোগ হয় এটা প্রমাণ করেছিলেন। জীবাণুকে কি ভাবে গজানো অর্থাৎ কালচার করা যায়, তার নানা পদ্ধতি যেমন তিনি বার করেছিলেন জীবাণুকে কি করে নষ্ট করা যায় কিম্বা আধমরা করা যায় এই পদ্ধতি গুলো নিয়ে তিনি অনেক গবেষণা করেছিলেন। দুধকে কিছুটা জীবাণুমুক্ত করে পচনশীলতা কমানো যায়, সেই পাস্তুরাইজেশন পদ্ধতি তো তারই আবিষ্কার।

    পাস্তুরের এক শতক আগে ঘটে গেছে গুটি বসন্তের টিকাকরণের আবিষ্কার। আমরা যদিও আবিষ্কর্তা হিসেবে এডওয়ার্ড জেনারের নামই জানি, সমকালীন আরো অনেক জন চিকিৎসক বিজ্ঞানী গো-বসন্ত এবং শুকিয়ে যাওয়া গুটি দিয়ে গুটি বসন্তের প্রতিষেধনের নানা রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে গেছেন। কিন্তু মধ্যে এক শতকে আর নতুন কোন টিকা আবিষ্কৃত হয়নি। পাস্তুর এবং তার সমকালীন বিজ্ঞানীদের প্রস্তাবিত “বীজাণু তত্ত্ব” অর্থাৎ “সূক্ষ্ম জীবেরাই রোগের বীজ’ এই তত্ত্ব প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর বিজ্ঞানীরা ভাবতে শুরু করলেন বীজাণু বা জীবাণুকে কমজোরী বা নিষ্ক্রিয় করে ফেলতে পারলে সেই জীবাণু হয়ত টিকা হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। এই সময়ই রবারট কখ আবিষ্কার করেছিলেন এনথ্রাক্স রোগের জীবাণু। পাস্তুর এনথ্রাক্সের জীবাণুকে নিষ্ক্রিয় করে আবিষ্কার করলেন এনথ্রাক্সের টিকা।

    এরপরে নজর দিলেন জলাতঙ্ক রোগের টিকার খোঁজে। অ্যন্ত্রাক্স বা কলেরা জীবাণুকে অণুবীক্ষণের তলায় দেখতে পেয়েছিলেন পাস্তুর এবং অন্যান্য বিজ্ঞানীরা। কিন্তু এইভাবে জলাতঙ্কের কোন জীবাণুকে তারা দেখতে পেলেন না। সিদ্ধান্ত নেয়া হলো যে জলাতঙ্ক ব্যাকটেরিয়ার চেয়েও ছোট , আরও সূক্ষ্ম কোন বীজাণু থেকে হয়। যেসব খরগোশের জলাতঙ্ক হয়েছে, তাদের স্নায়ু গুলো বার করে শুকিয়ে তাই দিয়ে টিকা দিলেন ৫০ টি কুকুরকে। পাস্তুরের সহকর্মী এমিল রু লক্ষ্য করেছিলেন অনেক জীবাণু ই শুকোলে নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। কাজেই শুকনো স্নায়ুতে জলাতঙ্কের যে বীজাণু থাকবে, তা অনেকটাই নিষ্ক্রিয় হওয়া উচিত এবং টিকা হিসেবে ব্যবহার করলে নিরাপদ হওয়া উচিত। এরপর পাগলা কুকুরের লালা ইনজেকশন দেওয়া হল ওই কুকুরগুলিকে, জেক বলে চ্যালেঞ্জ করা। একটি বাদে সবগুলোই বেঁচে গেল। এরপরে তিনি জনসমক্ষে এই একই পরীক্ষা চালালেন মানুষের উপর, তার সাবজেক্ট হলো এই সময়। জোসেফ মিস্টার বলে একটি ১৩ বছরের বালক। জোসেফ কে ১৩ দিন ধরে ক্রম বর্ধমান ডোজে দেওয়া হল নবপরিকল্পিত ‍্যাবিসের টিকা। তার পরের তিন চার মাস জোসেফ নজরে রইলেন পাস্তুর এবং তাঁর সহকর্মীদের। কোন রোগ দেখা যায়নি জোসেফের। এই থেকেই জলাতঙ্কের টিকাকরণের শুরু। চিকিৎসা বিজ্ঞানের এক নতুন অধ্যায়ের শুরু, যেখানে রোগের জীবাণুর সংস্পর্শে আসার পরেও টিকা দিয়ে প্রতিরোধ করা যায়। ইংরেজিতে বলে post-exposure prophylaxis (PEP)। সাল ১৮৮৫।

    পাস্তুরের ব্যবসা বুদ্ধি ছিল, কাজেই তাঁর ল্যাবরেটরি তাঁদের নতুন আবিষ্কার নিয়ে বাজারে নেমে পড়লেন এবং সারা ইউরোপের শত শত কুকুর কামড়ানো রোগীকে সুস্থ রাখলেন। তবে এই স্নায়ু শুকিয়ে টিকা বানানোর পদ্ধতিতে অনেক অসুবিধে ছিল। সবচেয়ে বড় ঝুঁকি ছিল শুকোনোর সময় বীজাণুৰ পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় না হওয়ার সম্ভাবনা। এর পরবর্তী যে টিকা বাজারে আসে, সেখানে ভারতীয়দের ভূমিকা না থাকলেও ভারতের একটা বড় ভূমিকা ছিল।

    ভারতে তখন ব্রিটিশ রাজ। উচ্চপদস্থ ব্রিটিশ কর্মচারীদের কুকুরে কামড়ানোর পর চিকিৎসার জন্য দু একবার প্যারিসে পাঠিয়ে বোঝা গেল, এটা কিছুতেই সম্ভব নয়। ভারতেই কিছু একটা করতে হবে। ১৯০০ সালে ব্রিটিশ সরকার হিমাচল প্রদেশের কসৌলিতে প্রথম পাস্তুর ইনস্টিটিউট স্থাপন করে এবং ১৯০৭ সালে এখনকার তামিলনাড়ুর কুনুরে। পাহাড়ি ঠাণ্ডা জায়গায় ব্রিটিশদের আরামে কাজ করতে সুবিধে হবে এটা যেমন একটা কারণ ছিল, টিকা উৎপাদনের সময় ঠাণ্ডা আবহাওয়া টিকার স্থায়িত্ব বাড়াবে এটাও একটা কারণ ছিল। কসৌলিতে বিজ্ঞানী ডেভিড সেম্পল আবিষ্কার করলেন টিকা উৎপাদনের এক নতুন পদ্ধতি। রাসায়নিক পদার্থ যেমন ফিনল দিয়ে জলাতঙ্কর বীজাণুকে নিষ্ক্রিয়করণ - তবে তিনি খরগোশের স্নায়ুর বদলে ব্যবহার করলেন ভেড়ার মস্তিস্ক - যেটা আকারে অনেকটা বড় হওয়ায় একবারে অনেকটা করে টিকা উৎপাদন সম্ভব করল। ১৯২৪ সালে কলকাতায় স্থাপিত হল পাস্তুর ল্যাবরেটরি। দেখা গেল ভারতের মত গরম দেশে এই নতুন টিকা যথেষ্ট কার্যকরী এবং সুলভ দামের। পাস্তুরের পদ্ধতির মত এখানেও পরপর অনেকগুলি ইনজেকশন নিতে হত। “কুকুর কামড়ালে চোদ্দটা” এই বাক্যাংশটি তখন থেকে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

    বিজ্ঞানীরা সবসময়ই চেষ্টা চালিয়ে যান পুরনো পদ্ধতিকে আরও সহজ আরো সুলভ বানানোর। এক্ষেত্রে তার ব্যতিক্রম হয়নি। যেকোনো টিকার ই অনেক পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া থাকে, বিশেষ করে খরগোশ ভেড়া ইত্যাদির মস্তিষ্ক থেকে পাওয়া উপাদান নিয়ে অনেকেরই নানা রকম এলার্জি এবং স্বপ্রতিরোধ প্রতিক্রিয়া অর্থাৎ auto immune response দেখা যাচ্ছিল। কুনুরের বিজ্ঞানীরা হাঁস-মুরগির ভ্রূণ ব্যবহার করে দেখালেন সেম্পলের টিকার চেয়ে কম পাশ্বপ্রতিক্রিয়া হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পুরোনো স্নায়ু বা মস্তিষ্ক জাত টিকা ব্যবহার করতে বারণ করলেও বহুদেশেই ২০০৫ পর্যন্ত এই টিকার ব্যবহার চলেছে।

    ষাটের দশকের শেষ দিকে আমেরিকার উইস্টার ইনস্টিটিউট আবিষ্কার করল মানুষের কোষ কালচার করে তার থেকে ভ্যাকসিন। এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া খুব কম - এই টিকা বাজারে এল ১৯৭৮ সালে, এবং তখন থেকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই টিকাকে জলাতঙ্কের সমস্ত টিকার মানদণ্ড বলে ঘোষণা করল। এই টিকা প্রতিরোধক হিসেবে অর্থাৎ কিনা কুকুর ইত্যাদি না কামড়ালেও প্ৰতিষেধক হিসেবে আগে থেকে নিয়ে রাখার জন্য এবং কামড়ের পরবর্তী টিকা দুই ক্ষেত্রেই সমান কার্যকরী বলে ঘোষিত হয়েছে।

    সত্তরের দশক থেকে বিজ্ঞানীরা মৌখিক টিকা বানানোর চেষ্টা করেছেন এবং সফল ও হয়েছেন। পশ্চিমী দেশে এই টিকা বন্যপ্রাণীর জন্য ব্যবহার করা হয়। আমাদের দেশে এই টিকা ব্যবহারের জন্য গবেষণা হলেও বন্য গৃহপালিত বা রাস্তার প্রাণী কারোর জন্যই কোথাও ব্যবহার হয়নি। জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং করে আরো নতুন নতুন টিকা তৈরি হচ্ছে, কিন্তু সবাই বাজারে আসেনি। যেকোনো নতুন ওষুধ বা টিকা বাজারে আসতে গেলে অনেক নিয়ন্ত্রণের ধাপ পেরিয়ে আসতে হয় সারা পৃথিবীতেই। ভারতে এখন সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে যে টিকাগুলি পাওয়া যায়, তারা হল, Indirab, Rabivax-S, Vaxurab - N, Verorab, Abhayrab, Zoonovac। এরা সবাই ল্যাব এ কালচার করা কোষে গজানো টিকা, যাদের ফরমালিন ইত্যাদি রাসায়নিক দিয়ে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। খাওয়ার টিকা আমাদের দেশে এখনো আসেনি। মোদ্দা কথা, জলাতঙ্কের জন্য এখন ভারতে যথেষ্ট টিকা আছে এবং তারা জলাতঙ্ক প্রতিরোধ করতে যথেষ্ট সক্ষম।

    কিন্তু তবুও জলাতঙ্কের আতঙ্ক আছে। এবং তার থেকে যত দোষ কুকুরের, এটাও আছে অনেকের মধ্যে। আসলে ব্যাপারটা আতঙ্কের চেয়েও, ওই আবার গিয়ে টিকা নিতে হবে, এবং একটা তো নয় বেশ কয়েকটা নিতে হয়। সবমিলিয়ে ব্যাপারটা সময় সাপেক্ষ ঝামেলার হয়তো দূরে যাতায়াতের ব্যাপারও আছে। কিন্তু একটা কথা সকলের বোঝা উচিত জলাতঙ্ক ছড়ায় কি করে। এই জিনিসটা পরিষ্কার করে বুঝতে পারলে তখন কিন্তু কার টিকা নেয়ার জন্য তখনই দৌড়াদৌড়ি করা উচিত, আর কার টিকা না নিলেও চলবে, সেটা বোঝা উচিত। সেই কারণে জলাতঙ্ক কিভাবে ছড়ায় সেইটা নিয়ে এখন আমরা আলোচনা করব।

    আগেই বলেছি পাস্তুর জলাতঙ্কর বীজাণুকে সাধারণ অণুবীক্ষণের তলায় দেখতে না পেয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এই রোগের বীজাণু জীবাণুর অর্থাৎ ব্যাক্টেরিয়ার চেয়েও আকারে ছোট। ভাইরাস শব্দটা জলাতঙ্কের ক্ষেত্রে ব্যবহার শুরু হয় পাস্তুরেরও অনেক পরে, 1920 সাল নাগাদ। এবার আমাদের বোঝা দরকার, ভাইরাস সম্বন্ধে আমরা কি কি জানি :

    ১) ভাইরাস জীব ও জড়ের মাঝামাঝি : প্রোটিন ও নিউক্লেইক অ্যাসিড এই দু ধরণের রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে তৈরি। শারীরবৃত্তীয় ভাবে এত সরল হওয়ার জন্য এরা নিজেরা নিজেরা বংশ বৃদ্ধি করতে পারেনা। নিজেরা নিজেরা টিকেও থাকতে এদের বেশ অসুবিধে - যদি বা শীতল এবং নোংরা জলে কোনো কোনো ভাইরাস বেঁচে থাকে, শুকনো এবং একটু গরম হলেই আর টিকতে পারে না। খোলা বাতাসেও ভাইরাস খুব বেশিক্ষণ টিকে থাকতে পারে না। ভাইরাস সব চেয়ে ভালো থাকে ভাইরাস এর চেয়ে আকারে বড় ও জটিল জীবকোষের র মধ্যে, সেখানে সে আরামসে বংশবৃদ্ধি করে। জীবন্ত কোষ না পেলেও তরল জৈবরস যেমন রক্ত, লালা, হাঁচি, সর্দির মধ্যে বেশ টিকে থাকতে পারে।

    ২) হোস্ট (Host) : ভাইরাস যে প্রাণী বা উদ্ভিদের কোষের মধ্যে ঢুকে তার যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে বংশবৃদ্ধি করে, তাকে তার হোস্ট বলে। অনেক ভাইরাসের হোস্ট মাত্র এক জাতীয় প্রাণী। যেমন এইডস এর ভাইরাস মানুষ ছাড়া খুব কম প্রাণী তেই দেখা যায়। আবার কোনো কোনো ভাইরাস বহু ভিন্ন জাতীয় প্রাণীকে হোস্ট হিসেবে ব্যবহার করতে পারে, এবং সেই কারণে একজাতির প্রাণী থেকে অন্য জাতির প্রাণীতে সংক্রমণ ছড়াতে পারে। এই ঘটনাটিকে বলে zoonosis. যে সব ভাইরাস এই ভাবে এক হোস্ট থেকে অন্য হোস্টে সংক্রমণ ছড়িয়ে বেড়ায়, তাদেরকে ইংরেজিতে zoonotic ভাইরাস বলে। এদের বেশিরভাগেরই উৎস বন্যপ্রাণী। কোভিড এর ভাইরাস বাদুড় থেকে মানুষের সংক্রমণ করেছিল বলে ধারণা।
    জলাতঙ্কের ভাইরাস ও Zoonotic. বিভিন্ন স্তন্যপায়ী প্রাণীকে হোস্ট হিসেবে ব্যবহার করে, কিন্তু পাখি ইত্যাদিকে করে না। বন্যপ্রানীদের মধ্যে আমাদের দেশের শেয়াল, নেউল, বন বিড়াল এবং বাঁদর জলাতঙ্কের ভাইরাস বহন করে। নেকড়ে, ভালুক এরাও জলাতঙ্কের হোস্ট। পশ্চিমী দেশের বন্যপ্রাণীদের মধ্যে বাদুড়, রেকুন, skunk ইত্যাদি জলাতঙ্ক ভাইরাস এর হোস্ট। এই সব হোস্ট থেকে zoonosis ঘটে কুকুরে (রাস্তার বা ঘরের)। কুকুর থেকে মানুষ। অথবা বন্য প্রাণী, যথা শেয়াল থেকে সরাসরি মানুষ।



    ৩) আধার (reservoir ) ও বাহক (secondary vector) : যে সব হোস্ট এর মধ্যে ভাইরাস বহুমাস লুকিয়ে থাকে, কিন্তু লক্ষণ দেখা যায় না, বা গেলেও অনেকদিন পরে দেখা যায়, তাদেরকে ভাইরাস এর আধার বলে। বাদুড় বহু ধরণের ভাইরাসের আধার, কিন্তু কোনো ভাইরাস ই তাকে কাবু করে না। Covid থেকে শুরু করে জলাতঙ্ক, সব ক্ষেত্রেই বাদুড় থেকে মানুষের সংক্রমণের উদাহরণ আছে। যদিও জলাতঙ্কের ক্ষেত্রে পশ্চিমিদেশেই দেখা গেছে বাদুড় থেকে মানুষ, বেড়াল এবং নানা রকম বন্য প্রাণীতে জলাতঙ্ক ছড়ায়। ভারতে বাদুড় সংক্রান্ত এরকম কোন তথ্য এখনো পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

    কিন্তু সব দেশেই দেখা গেছে কুকুর জলাতঙ্কের ভাইরাসের আধার। একধরণের জলাতঙ্কের ভাইরাস সনাক্ত করা গেছে, যারা কুকুরের মধ্যেই আরামসে মাসের পর মাস কোনো লক্ষণ না দেখিয়ে ঘুমিয়ে থাকে। মুক্ত কুকুররা দলবদ্ধ ভাবে থাকে এবং সব সময়েই কামড়া কামড়ি করে। যদিও মাত্র ০.০১% - ১% কুকুরের মধ্যে জলাতঙ্কের সংক্রমণ থাকতে পারে, পুরো দলটাকেই আধার হিসেবে ধরা হয়।

    কুকুর “পাগলা” অর্থাৎ জলাতঙ্কের লক্ষণ দেখানো শুরু করতে পারে তিন ভাবে:
    ক) ঘুমিয়ে থাকা ভাইরাস জেগে উঠলে
    খ) লক্ষণ বিহীন আধার কুকুর অন্য যে কুকুরকে কামড়ালো, তাতে সঙ্গে সঙ্গে লক্ষণ শুরু হলে
    গ) অন্য কোনো “পাগলা” প্রাণী, কুকুর বা বন্য প্রাণী কামড়ালে।

    তবে বাদুড়কে যে ভাবে প্রকৃতি নানা নতুন ভাইরাস এর কারখানা হিসেবে ব্যবহার করে, এবং তাতে বাদুড়ের কোনো রোগ ই হয় না, ঠিক এই রকমটা হয়ত কুকুরের ক্ষেত্রে ঘটে না। বন্য প্রাণীর সাথে মোলাকাত হওয়া কুকুর কখন লোকালয়ের কুকুরের দলে ঢুকে পড়ছে তা কি সব সময় নজর রাখা যায় ?

    বাহক হল সেইসব প্রাণী, যারা কুকুর বা অন্য কোনো “পাগলা” প্রাণীতে কামড়ানোর পরে সংক্রমিত হয়েছে, এবং সেই অবস্থায় অন্য প্রাণীকে বা মানুষকে কামড়ে তার মধ্যেও সংক্রমণ ঘটিয়েছে। কামড়ানোর সময় স্পষ্ট জলাতঙ্কের লক্ষণ না থাকলেও সাত দিনের মধ্যে লক্ষণ দেখা যাবেই। এদের মধ্যে সুপ্ত জলাতঙ্কের ভাইরাস থাকেনা। বেড়াল এবং বাঁদর এই দলে পড়ে। বাঁদরের কামড় তুলনা মূলক ভাবে বিরল হলেও পোষা বিড়ালের কামড় সম্ভবতঃ কুকুরের কামড়ের চেয়ে ও অনেক বেশি ঘটে। সেই তুলনায় আমাদের দেশে বিড়ালের কামড়ে জলাতঙ্ক খুবই কম।

    ৪) সংক্রমণের পথ : আমাদের শরীরে সংক্রমণ কিভাবে ঢোকে এটা পরিষ্কার ভাবে বোঝা থাকলে শুধু জলাতঙ্কই নয় যে কোন রকম জীবাণু বা ভাইরাসকে এড়িয়ে চলা অনেকটাই সম্ভব হয়। কোভিড এতটা বেশি ছড়াতো না যদি মানুষ সংক্রমণকে ঠিকভাবে বুদ্ধি দিয়ে বোঝার চেষ্টা করত।

    সংক্রমণ মানে কি? না, শরীরের মধ্যে কোনো রোগের বীজাণুর ঢুকে পড়া। ঢুকতে গেলে তো দরজা চাই। আমাদের শরীরের চামড়ার দেওয়ালটি যথেষ্ট শক্ত পোক্ত। বীজাণুকে আটকে রাখে। কিন্তু দেয়াল দিয়ে তো খাদ্যবস্তু, শ্বাসের বাতাস ঢুকবে না বা বর্জ্য পদার্থ বেরোবে না। তাই প্রকৃতি নিজেই কতগুলো দরজা রেখেছে নাক মুখ ইত্যাদি, যেখানের ভেতরে চামড়া গুলো খুব পাতলা, যাকে বলে মিউকোসা। পাতলা হওয়ার জন্য এই পথে বীজাণু ঢোকে। এই মিউকোসা সব সময়েই এন্টিবডি ইত্যাদি শরীরের নিজস্ব প্রতিরোধক নিঃসরণ করে। এন্টিবডির সাথে লড়াই এ জিততে পারলে তবেই বীজাণু ঢুকে রোগ সৃষ্টি করে। বদ্ধ গুহাতে বাদুড়ের বাসা থেকে জলাতঙ্ক আসার সম্ভাবনা থাকলেও এই পথে সংক্রমণর কোন নথিভুক্ত বিবরণ নেই।

    অন্য পথটা অবশ্যই দেওয়াল ভেঙে বানানো গর্ত , অর্থাৎ কিনা কামড়, আঁচড় , বা ধারালো কিছুর আঘাতে ক্ষত - যেখানে সরাসরি বীজাণু রক্তে পৌঁছে যেতে পারে। ক্ষত স্থান সঙ্গে সঙ্গে জীবাণু নাশক দিয়ে পরিষ্কার করলে অনেক বীজাণু কে আটকানো যায়, কিন্তু তার পরেও জলাতঙ্কর ভাইরাসের জন্য সন্দেহ থেকে যায়। ক্ষত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তো আর ক্ষত পরিষ্কার করা বেশিরভাগ সময়ই সম্ভব হয় না, যত দেরি হয় তত রক্তের বীজাণু ঢুকে যাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

    তবে সংক্রমণ হতে গেলে বেশ খানিকটা বীজাণুকে শরীরে ঢুকতে হবে। ছোট্ট একটা আঁচড় থেকে সংক্রমণের সম্ভাবনা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই খুব কম। অর্থাৎ শ্বাসবাহিত না হলে কোন ছোঁয়াচে রোগই তত ছোঁয়াচে নয়। শুধু মাত্র স্পর্শে ঢোকে না। জলাতঙ্ক আক্রান্তের দেহরস সুস্থ শরীরে না ঢুকলে জলাতঙ্ক হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। অর্থাৎ পরিবারের কারুর কুকুরের কামড় থেকে জলাতঙ্ক হলে, একই সময় অন্য কেউ কামড় না খেলে কারোর জলাতঙ্ক হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

    পশ্চিমী দেশ এবং ভারতে জলাতঙ্ক সংক্রমণের ভিন্ন চিত্র
    পশ্চিমী দেশগুলিতে লোক সংখ্যা কম - একটু শহরতলি অর্থাৎ সাবার্ব হলেই বসতবাড়ি গুলি কাছ ঘেঁষে জঙ্গল। রেকুন, স্কাঙ্ক , ভালুক যখন তখন অতিথি। কোনো কোনো জায়গায় বাদুড় ও প্রচুর। কিন্তু এসব দেশে পথে কুকুর নেই আমাদের দেশের মত। বেওয়ারিশ কুকুরের জায়গা প্রথমে পাউন্ডে, তারপরে সসেজ কারখানায়। কুকুর পুষতে গেলে লাইসেন্স লাগে, এবং জলাতঙ্কের টিকা নেওয়ার সার্টিফিকেট দেখাতে হয়। তাছাড়া পোষা কুকুর ও বাইরে ছাড়া কম ই থাকে। তাদের বাইরের অন্য জংলি প্রাণী এমনকি অন্য কোন কুকুরের সঙ্গেও মেলামেশা কম। কাজেই কুকুর থেকে জলাতঙ্ক ছড়ানোর সম্ভাবনা পশ্চিমে দেশে খুব কম। ওখানে আবার জলাতঙ্ক আসে বিড়ালের কামড়ে। অনেক পোষা বিড়ালই বাড়ির বাইরে যায়। শিকার করে। বাদুড়ের বাসায় হানা দেয়, অনাহুত অতিথি রেকুন, স্কাঙ্ক, নেউলের সাথে মারামারি করে। তাছাড়া বেওয়ারিশ বিড়াল খুব কম হলেও শূন্য নয়। সব দেশে পোষা বিড়াল এর জলাতঙ্কের টিকা নেওয়া বাধ্যতামূলক না।

    আমাদের দেশে আবার নথিভুক্ত জলাতঙ্কের ঘটনাগুলো পেছনে বেশিরভাগ সময় কুকুরই থাকে। যদিও আমাদের দেশে ঠিকঠাক পরিসংখ্যান নেওয়া হয়েছে কিনা এই বিষয়ে অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করছে। বিড়াল থেকে জলাতঙ্কের মাত্র দু একটা খবর বিস্তারিতভাবে পাওয়া গেছে, যেখানে বিড়ালটিকে কোন পাগলা কুকুরে আগে কামড়েছিল। সম্প্রতি একটি খবরে জানা যায় যে একটি পরিবারে পোষা বিড়ালকে রাস্তায় পাগলা কুকুরে কামড়ায়। তারপর সেই বিড়াল কে বাড়িতে আনার সময় বাবা ও ছেলে দুজনকে বিড়ালটি কামড়ায়। কামড়ের পর তারা ইঞ্জেকশন নিতে যায় ঠিকই, কিন্তু অজ্ঞতার জন্য জলাতঙ্ক ইনজেকশন না নিয়ে ধনুষ্টঙ্করের ইনজেকশন নেয়। বাবা, ছেলে এবং বিড়াল, তিনজনেই মারা যায়। এগুলো বাদ দিলে বিড়াল সংক্রান্ত জলাতঙ্কের পরিসংখ্যান কয়েকটা সংখ্যা মাত্র এবং তার বাকি কোন বিবরণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নেই। এবং যেমন খবরের প্রকাশ বিড়াল থেকে ভারতে জলাতঙ্কের ঘটনা খুব কম।

    পোষা বেড়ালকে জলাতঙ্কের টিকা দেওয়ার চল শুরু হয়েছে খুব সম্প্রতি। অনেক বিড়াল যারা হয়তো বাড়ির মধ্যেই জন্মেছে, জীবনে তাদের বাইরে অন্য বিড়ালের স্পর্শ পাওয়ার কোন সুযোগই দেওয়া হয়নি, আজকাল তাদেরও পশু চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গিয়ে টিকা দেওয়া চালু হয়েছে। এইরকম বন্দী বিড়াল জলাতঙ্কের ভাইরাস পাবে কোত্থেকে ? তবুও দামি বিড়াল, তার অন্যান্য দামি দামি উপচারের মতো টিকার সার্টিফিকেট একটি দামি গয়না মাত্র ! যেসব বিড়াল বাইরে যায় নিজে নিজে, তাদেরও রাস্তার বেওয়ারিশ কুকুরের সাথে মোলাকাতের সম্ভাবনা খুব কম। তারা পাখিটাখি মারে হয়তো, কিন্তু পাখিদের মধ্যে তো এই ভাইরাস ঢুকতে পারে না।

    আজকাল ভারতে শহর যে ভাবে ছড়িয়েছে, আর বন জঙ্গল যে ভাবে অন্তর্হিত হয়েছে, তাতে শহরের বেওয়ারিশ কুকুরদের মধ্যেও জলাতঙ্কের আধার বা বাহক থাকার সম্ভাবনা কমে গেছে। তবে গ্রামের দিকে কুকুরকে শেয়ালে বা নেউলে কামড়ানোর সম্ভাবনা এখনো যথেষ্ট, তারপর সেই কুকুর যদি কোনোভাবে শহরাঞ্চলে চলে এসে অন্য কুকুরকে কামড়ায় তাহলে একটা চেইন রিঅ্যাকশনে জলাতঙ্কের বাহক তৈরি হতে পারে। তবে পাড়ার মধ্যে যেসব বেওয়ারিশ কুকুর ঘোরে, একটু লক্ষ্য করলেই যারা আমাদের “চেনা”র দলে পড়বে, তাদের মধ্যে দু'চারটে মারকুটে কুকুর থাকে। তারা কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই পাগলা কুকুর অর্থাৎ জলাতঙ্ক আক্রান্ত নয়। হ্যাঁ বেওয়ারিশ কুকুরদের ধরে নির্বীজকরণ এবং সাথে জলাতঙ্কের ইনজেকশন দিয়ে দিতে পারলে কুকুর সংক্রান্ত সমস্যা অনেকটাই কমে। বাস্তবে কুকুরকে দূর থেকে খাবার ছুঁড়ে খাইয়ে বংশ বৃদ্ধি করানোর লোক অনেক বেশি, কুকুরকে ধরে টিকা দেওয়া এবং নির্বীজ করণ করানোর স্বেচ্ছাসেবকের সংখ্যা সত্যিই কম । কাজেই কুকুর কামড়ের ঘটনা, প্রতিদিন বাড়ছে, তা আর আশ্চর্যের কি। কিন্তু আশ্বাসের কথা হল, জলাতঙ্কের ঘটনা, বা জলাতঙ্কে মৃত্যুর ঘটনা সত্যিই কমছে।

    আমাদের দেশের অনেক রাজ্যে জলাতঙ্ক শূন্য করার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রকল্প গুলো অনেকটাই শহর কেন্দ্রিক। কিন্তু এখনো পর্যন্ত পরিসংখ্যানে গ্রামাঞ্চলে বন্যপ্রাণী থেকে কতজন আক্রান্ত হয় , তার কোন পরিসংখ্যান নেই। উত্তর পূর্বাঞ্চলের একটি সাম্প্রতিক কেস স্টাডিতে দেখা গেছে, একজন প্রৌঢ় প্রতিবেশীর কুকুর ছানা দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার পরে পরেই টিকা নেন, এবং সরকারি হাসপাতালে আস্থা না রেখে বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন। দশ বার দিন যুদ্ধের পর ও তাঁকে বাঁচানো যায় নি, কুকুরছানাটি ও মারা যায়। কুকুরের মালিক, একটি আদিবাসী পরিবার, বাড়ির কাছে জঙ্গল থাকা সত্ত্বেও কুকুরকে জঙ্গলে যেতে না দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা সম্বন্ধে ওয়াকিবহাল ছিল না। ভদ্রলোকের ক্ষেত্রে টিকা কেন কাজ করলনা, প্রশ্ন থেকে যায়। আমাদের দেশে যেখানে আজকাল ভেজাল ওষুধ প্রায়শই ধরা পড়ছে….

    আর একটা কথা। টিকার কিন্তু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া থাকতে পারে। আগে নেওয়া কোনো টিকার সাথে পরে নেওয়া টিকার সংঘাত বাধতে পারে কারো কারো শরীরে। এই সব কারণে কুকুর সমস্যাকে পশুপ্রেমী দের আরো অনেক দায়িত্ত্বশীল ভাবে নেওয়া উচিত। লোকজনের যাতায়াতের পথে কুকুরদের খাবার ঢেলে দিয়ে চলে। যাওয়া এবং সমাজমাধ্যমে পোস্ট দেওয়াতে দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। পাড়ার কুকুর পাড়ার সদস্য অবশ্যই। কিন্তু সদস্য হলে প্রতিটি কুকুরের নির্বীজকরণ ও টিকার হাল যেন পশুপ্রেমীদের নখদর্পণে থাকে। এই সঙ্গে মনে করিয়ে দিই, কুকুর “রেসকিউ” করার আগে ভালো ভাবে জলাতঙ্কের প্রতিষেধক টিকা নিয়ে রাখবেন কিন্তু। খুব সম্প্রতি একজন ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ন ক্রীড়াবিদ বুনো অসুস্থ কুকুরকে “রেসকিউ” করতে গিয়ে জলাতঙ্কে প্রাণ হারিয়েছেন।


    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক।
  • আলোচনা | ০৬ জানুয়ারি ২০২৬ | ২২৫ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভালবেসে প্রতিক্রিয়া দিন