এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  গপ্পো  ইদবোশেখি

  • একশো না, চার বছরের নিঃসঙ্গতা

    দেবাশিস সরকার
    গপ্পো | ০৪ এপ্রিল ২০২৬ | ৫৫ বার পঠিত | রেটিং ৪ (১ জন)
  • অলংকরণ: রমিত


    সাতসকালে বাজারের মুখে রবিনের সঙ্গে দেখা। রবিন বলল, “ তোমার সঙ্গে দেখা হয়ে ভালোই হল। আজকেই সেই এনআরআই ভদ্রমহিলার কাছে যাচ্ছি! তুমিও যাবে কি? আগেই বলেছিলাম তোমাকে, তুমি তো লেখ টেখ, এই ভদ্রমহিলার সঙ্গে — ”

    বাধা দিয়ে একগাল হেসে বললাম, “ ‘লেখ’ শব্দটার মানে জানি। এই ‘টেখ’ শব্দটার কি মানে?”

    রবিন রেগে গেল। বলল, “ধুর মাইরি! লেগপুল করো না তো! তোমার বরাবরের বদভ্যাস, কথার খুঁত ধরা। সবসময় ভালো লাগে? কথার ফ্লো আটকে যায়।”

    সাতসকালে অশান্তি হয় কেন, আত্মসমর্পণ করলাম, “ ক্যালা ইয়ার্কিও বোঝো না! এতো কাঠখোট্টা হলে মেলামেশা করা মুশকিল হবে যে! নাও বলো কি বলছিলে!”

    — এই ভদ্রমহিলার সঙ্গে আলাপ থাকলে বুঝতে লোকে কেন তোমাদের ওই বানানো গপ্পো পড়ে সময় নষ্ট করতে চায় না। জীবনে অনেক রহস্য হে! এই ভদ্রমহিলার জীবনে এতো ওঠা পড়া, এতো সমস্যা যে উনার জীবন গল্পকেও হার মানায় ! তাই তোমাকে আগেও ইনার কথা বলেছিলাম। একটু পরেই উনার বাড়িতে যাচ্ছি ওই সুরেনদাকে নিয়ে , যাবে তো চলো!” ‘
    উনার , ইনার , তিনার’ গোছের সর্বনাম কানে খট করে লাগে! বলতে গেলে আবার ওর গোঁসা হবে তাই সে আপত্তি আপাতত স্থগিত রেখে জানতে চাইলাম, “সুরেনদা মানে সেই হোম ডেলিভারি?”

    — হ্যাঁ! আজকে ফাইনাল করে আসবো। যাবে কি?

    যেহেতু ওর গাড়ি নেই তাই দূরে কোথাও যেতে আসতে হলে আমার বাইকে সওয়ার হওয়ার জন্য মাঝে মাঝেই এরকম টোপ দেয় রবিন। যে জায়গাটাতে সে যাচ্ছে সেখানটা যে কত আকর্ষণীয় জায়গা সেটা আমার কাছে তুলে ধরতে চেষ্টা করে ও। বুঝি না তা নয়, তবে রবিনের যেমন এঁড়ে গরু নেই তেমনি আমারও তো বীজধান কই! কত রকমের মানুষ চারদিকে, ওর সূত্রে যতজনের সঙ্গে অন্তরঙ্গতা তৈরি করা যায় ততই তো লাভ ! বসে থাকি কেন, বেগার খেটেই খাই না হয়! এরকমই ভাবি আমি! তবু একটু ভাও নিতে চাই, রবিনের ভর্তি থলির দিকে তাকিয়ে বলি, “ আমি তো শুরু করছি সবে! বাজার সারতে মিনিট পনেরো, তারপর বাড়ি গিয়ে রুটি পরোটা কিছু একটা খাব, তারপর চা। তা সেও ধরো আধ ঘন্টা! তুমি আর সুরেনদা কি অতক্ষণ— ?

    — অসুবিধে নেই! সুরেনদা আমার বাড়িতে আসবে, আমরাও চা খাবো। তো ধরো–ঘন্টাখানেক বাদে তোমার বাড়িতে যাচ্ছি।

    হৃষ্টমুখে আমি বাজারের দিকে, তো রবিন বাড়ির দিকে এগুলো। এর আগেও এক দুবার রবিন এই কানাডা প্রত্যাগত এই এন আর আই ভদ্রমহিলার গল্প বলেছে, যাবো যাবো করে যাইনি মানে যাওয়া হয়নি আর কি! আমার বা রবিনের সমাজপরিধির মধ্যে কোন এনআরআই আত্মীয় নেই বা এরকম কারুর সঙ্গে আলাপ করার সুযোগ ঘটেনি। তাই এই এনআরআই ভদ্রমহিলাকে নিয়ে রবিন একটু গর্বিত থাকে বলেই মনে হয়। অফিসে কাজের ফাঁকে এই ভদ্রমহিলার কথা যেমন তেমনই সুরেনদার কথাও অনেকবারই বলেছে সে। সুরেনদা এই দুর্গাপুরেই একটা সরকারি ওষুধ তৈরির কারখানায় কাজ করতো। হঠাৎ করে পরিবেশ দূষণের অজুহাতে সরকারি নোটিশেই ওদের একটা ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। হুঁ:! দুর্গাপুর এমনিতেই পশ্চিমবঙ্গের পলিউটেড শহরগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে আছে। এরকম একটার পর একটা সরকারি কারখানা বন্ধ হওয়ার পেছনে একটা কারণ দেখানো হয় বটে কিন্তু মূল কারণটা অন্য। সরকার দেশের কুড়িটি শিল্পপতির কাছে আত্মসমর্পণ করে বসে আছে। এবার তারা যে যে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলি উৎপাদন করবে, সরকারও যদি সেগুলোই উৎপাদন করতে শুরু করে তাহলে একচেটিয়া ব্যবসার অধিকার পাদানি, মাদানিরা পায় কি করে! সরকারি ফ্যাক্টরিগুলিকে প্রথমে রুগ্ন পরে বন্ধ করে দিতে হবে। সরকারকে হাত গুটিয়ে বসে থাকতে হবে। তবেই না! নতুন শতকের অভিজ্ঞান এটাই।

    তো, মাঝবয়েসী একটা লোকের দুম করে চাকরি চলে গেলে পাশে কে থাকে! পুঁজি ভেঙে চালানো যায় কতদিন! শুধু সুরেনদা নয়, অনেকেই এরকম হোম ডেলিভারি করে উপার্জন করছে! কর্পোরেট চেয়েছিল একটা গোটা প্রজন্ম ডেলিভারি বয় হিসেবেই জীবন কাটাক। কর্পোরেট ভাবতেও পারে নি, ডেলিভারি বয়রা মোটর সাইকেলে আর তাদের পেছনে পেছনে সাইকেলে খাবার নিয়ে ছুটবে ডেলিভারি ম্যানরা! তবে অ্যামাজন বা ফ্লিপকার্টের বয়দের মতো অন্যের হেঁসেল থেকে নয়, ডেলিভারি ম্যানরা নিজেদের হেঁসেল থেকেই খাদ্য সরবরাহ করে। সুরেনদার মিসেস আর মেয়ে রান্নাবান্না করে, ডেলিভারি করে সুরেনদা।

    আমার বাইকেই তিনজন সওয়ার হয়েছিল, যেতে যেতে রবিন বলল, “দেবাশিস ! আমার আর সুরেনদার যাওয়ার একটা তো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য আছে। তুমি যে উদ্দেশ্যে যাচ্ছ তা যদি সফল না হয় আমাকে আবার দোষ দিও না মাইরি!”

    বললাম, “আমি কোন উদ্দেশ্য নিয়ে যাচ্ছি না। মাথাটি গরম করে দিও না তো! কোথাও গেলাম, বিশেষ কাউকে দেখলাম আর ফিরে এসে ছ্যার ছ্যার করে লিখে দিলাম, লেখাটা অত সহজ নয়। হ্যাঁ! অবশ্যই কোনো বাহ্যিক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মনের মধ্যে একটা রাসায়নিক বিক্রিয়া তো হয়ই। একটা বিশেষ ধরনের অনুভূতি জন্মায় আর সেই অনুভূতিটা লেখার অনুঘটক হিসাবে কাজ করে বই কি! লাভ-লোকসান হিসাব করে কোথাও যাই না। বসে থাকি কেন, বেগার যাই! ধরে নাও, তোমার উপকার করার জন্যে গাড়ির তেল পোড়াচ্ছি! পেঁয়াজি করবে তো থাক। আমি রইলাম, তুমি যাও!” রবিন দেখল আমি বেঁকে বসলে সামনে বিপদ! তাই সুর পালটে বলল, “চলো, আমার আপত্তি নেই! আমি তো গল্প টল্প লিখি না, দ্যাখো যা খুঁজছ পাও কিনা! লেখা হলে আমাকে পড়িও! দেখি তোমাকে একটা প্লট যদি দিতে পারি! আমার আসল উদ্দেশ্যটা অবশ্য সুরেনদাকে একটা বাড়ি ধরিয়ে দেওয়া। গাড়ি স্লো করো, বাঁ দিকে তিন নম্বর বাড়িটা।”

    কলিংবেল বাজতে রোগা, ক্ষয়াটে চেহারার এক ভদ্রমহিলা দরজা খুললেন। উচ্চতা টেনেটুনে পাঁচ ফুট হবে বোধ হয়! পরনে একটা সাদা গাউন, সুতির। ক্ষয়াটে চেহারার জন্য নাকি সুতির গাউন পরে থাকার জন্যে, দেখতে বেশ হতশ্রী লাগছে ওঁকে। শাড়ি পরে থাকলেই বোধহয় ঠিক ছিল, সেরকম মনে হল আমার। ভদ্রমহিলা নমস্কারের ভঙ্গি করে বলে উঠলেন, “ওয়েলকাম টু মাই হাউস! রবিন! ইন্ট্রোডিউস করিয়ে দাও!”

    এরকম তুখোড়, স্মার্ট ভঙ্গি এন আর আই ছাড়া অন্য কার কাছে পাওয়া যাবে! এনারাই পারেন! শিব্রামীয় পানিংটি মাথায় এসে যাওয়ায় মুচকি হাসলাম। রবিন বলল, “এ হচ্ছে দেবাশিস। আমার কলিগ। লেখে টেখে। ওকে অনেকদিন আগেই আপনার কথা বলেছি, ও তখনই আসতে চেয়েছিল, আজ তো সুরেনদাকে নিয়ে আপনার কাছে আসার কথা ছিলই, ওকে জানাতে ও– ও চলে এলো! আর এই হচ্ছে সুরেনদা, আপনার ফুড সাপ্লায়ার।” ভদ্রমহিলা দুচোখে খুশির ঝিলিক তুলে দুহাত তুলে কাঁধ ঝাঁকিয়ে দুটি চেয়ারের দিকে ইশারা করে বসতে বললেন। এরকম তুখোড়, স্মার্ট ভঙ্গিমা আমাদের বাড়ির মা মাসিদের কাছে থেকে আশা করা যায় কি! দীর্ঘকাল বিদেশে থাকলে বোধহয় এই সাবলীলতা রপ্ত হয়ে যায়! বললাম, “ নমস্কার মাসিমা! এই সুরেনদার সঙ্গে কাজের কথা শেষ হয়ে গেলে আপনার সঙ্গে একটু গল্প করব।” আপনার আপত্তি নেই তো?”

    — নট অ্যাট অল মাই বয়! ইউ ক্যান অ্যাড্রেস মি অ্যাজ অমিয়া ইফ ইউ প্লিজ। এই মাসিমা টাসীমাতে আমি ঠিক ইয়ে – ওই হ্যাবিট হয়ে যাওয়াকে কি বলে যেন?
    — হ্যাবিচুয়েটেড?
    — ওহ নো! বাংলায় –?
    — অভ্যস্ত।
    — ইয়া! অভ্যস্ত! কতকাল পরে শুনলাম! মাসিমাটা এখানে আসার পর থেকে রোজই দুচার বার শুনি অবশ্য। যাকগে দেবাশিস! আই হোপ ইউ আর ম্যারেড?
    — হ্যাঁ মাসিমা।
    — গুড! আর আপনিই বোধ হয় সেই গুডম্যান যিনি আমার খাওয়ার দায়িত্ব নেবেন? আপনার নাম?
    — আজ্ঞে সুরেন বকশি।
    — গুড! আসুন! ভেতরে আসুন, বসে কথা বলি।

    ভেতরে ঢুকে একটা সোফায় ওরা তিনজনে বসলে উল্টোদিকে একটি ফাইবারের চেয়ার টেনে ভদ্রমহিলা মুখোমুখি বসলেন। বললেন, “সো মি সুরেন! আই হোপ রবিন আপনাকে এভরিথিং বলেছে?”

    রবিন সাত তাড়াতাড়ি বলে ওঠে, “না মাসীমা! সব বলতে শুধু বলেছি সকালের টিফিন আর দুটো মিল তৈরি করে দিতে হবে। কিন্তু কত টাকা আপনি দেবেন, মিলের সঙ্গে কি কি তরকারি থাকবে এ সমস্ত আলোচনা আপনারা করে নিন। এই সুরেনদারও কোন অভিজ্ঞতা নেই, দুম করে চাকরি চলে যাওয়ার ফলে বেশ দুরবস্থায় পড়েছে বেচারী। ক’মাস পুঁজি ভেঙে চালাচ্ছিল, কিছু না কিছু রোজগার ওকে করতেই হবে। এখানে একটা ওষুধ কোম্পানিতে কাজ করতো, দূষণের অভিযোগ তুলে হঠাৎ করে ওদের ওষুধ কোম্পানির একটা ইউনিটকে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বছর খানেক আগে। পেনশন বলে কিছু পায় না। ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়ে যাবার পরে পুঁজি ভেঙে ভেঙে চলাচ্ছিল। বাড়িতে গ্রাজুয়েট মেয়ে রয়েছে, বৌদিরও খাটার ক্ষমতা যথেষ্ট। শুধু আপনার মতন একটা ফ্যামিলি নয়, সুরেনদা চাইছে অনেকগুলো ফ্যামিলির খাবার রেঁধে পৌঁছে দিতে। রান্নাটা এরা নিজেদের বাড়িতেই করবে, কারুর বাড়িতে গিয়ে করবে না। কিন্তু এই চত্বরে তো আপাতত আপনি ছাড়া কাউকেই পাচ্ছি না! তো একজনকে দিয়েই শুরু হোক! এখন বলুন, কি কি তরকারি আপনি চাইছেন। সেইমতো খরচটা আন্দাজ করে সুরেনদা বলতে পারবে চার্জ কত পড়বে। অমিয়া বোধহয় ভেবেই রেখেছিলেন এরকম প্রশ্ন আসতে পারে, উত্তর রেডিই ছিল। বললেন, “ আই হ্যাভ বিন রিসাইডিং — ইয়ে –আমি এখানে এসেছি তিন মাস। টেলিফোনে একটা ট্যাক্সি ডেকে নিই, তাতে চড়ে শপিং করতে বেরোই। মর্নিং আর ইভনিংয়ে যে মেইড আসে তাকে মাঝে মাঝে রিকোয়েস্ট করে কিছু ভেজিটেবল আনাই। নিজে তো ভালো করে হাঁটতেই পারি না। তো কুকিং হ্যাজ বিকাম ইমপসিবল ফর মি। ফর্টি ইয়ার্স আগে যখন দুর্গাপুর ছাড়ি, তখন সরষে দিয়ে ইলিশ, মোচার ঘন্ট এসব মাঝে মাঝে খেতাম। মাই ডিয়ার সুরেন! মাঝেমধ্যে এগুলো খেতে চাইলে আমি পেতে পারি কি? আপনার মিসেস কি এগুলো কুক করতে পারেন?”

    সুরেন একটু শুকনো হেসে বলে ওঠে, “যখন ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির চাকরিটা ছিল আমার বাড়িতেও এসব সপ্তাহে একবার করে হতোই। আমার মিসেস বাঙাল মেয়ে তাই এসব রান্নাবান্না ভালই পারে। তবে অনেকদিন আলুর তরকারি, ডিমের ঝোল ছাড়া কিছু রাঁধেনি তাই অত টেস্টি হবে কিনা বলা যাচ্ছে না! তবে পাবেন, সবই পাবেন। কিন্তু এসব তরকারি তো কষ্টলি, তাছাড়া তৈরি করতেও তো প্রচুর সময় লাগে! গ্যাস খরচাও প্রচুর, রোজই যদি এরকম তরকারি –”

    — ওহ! আমার সিক্সটি এইট চলছে। এগুলো হযতো ওয়ান্স ইন আ মান্থ খাবো। তবে শাকটা আমার রোজই চাই। আর উইকে অ্যাট লিস্ট দুটো দিন শুঁটকি মাছ। আসলে বহু বছর বিদেশে থাকার ফলে অনেক কিছু অনেককাল খাওয়া হয়নি, মাই ডেজ আর নাম্বারড, যে কোনদিন চলে যেতে পারি। খাওয়া, টেলিফোন আর বইপত্র ছাড়া আমার কোন রিক্রিয়েশনও নেই। আমার সামান্য কিছু টাকা আছে দো দ্যাট অ্যামাউন্ট ইজ নট এনাফ ফর মি অ্যান্ড আর মিঠু। আমরা কেবল দুটি প্রাণীই তো থাকি। সো মিস্টার সুরেন! ইউ হ্যাভ টু বিয়ার উইথ মি। এ কথার উত্তরে ওষুধ কোম্পানির অবসৃত ক্লার্ক, বর্তমানে যে ফুড সাপ্লায়ার, বলে ওঠে, “ওহ সিওর মাডাম ! আপনি যা খেতে চাইবেন আমাকে অর্ডার করবেন। আমি দেখব কি করা যায়! কিন্তু ম্যাডাম! রবিনবাবু আমাকে বলেছিলেন, শুধু আপনার খাবার পৌঁছে দিতে হবে, আপনি একা থাকেন। কিন্তু এই মিঠু—”

    — মিঠু ইজ মাই সুইট হার্ট। না, ওর খাবার আপনাকে দিতে হবে না। ও আমার হাতে অ্যান্ড আমার এনে দেওয়া খাবার ছাড়া কিছু খায় না। অ্যান্ড আই অ্যাম এনাফ ফর হার। এরপর ওরা কথা চালিয়ে যেতে থাকে। আমার কানে সেসব ঢোকে না। যেহেতু একটা গল্পের মালমশলার খোঁজে এখানে আমি এসেছি তাই ভাবছিলাম, মিঠু কে? মাসীমার মেয়ে নাকি নাতনি? এই ড্রয়িংরুমে এসে একবারও উঁকি দিল না কেন? এক কাপ চা কি এনে দেওয়া যেত না! কে জানে বাবা শয্যাশায়ী কিনা! রবিনের কাছে শুনেছি ভদ্রমহিলা তিরিশ বছর ধরে কানাডার টরেনন্টো আর কুইবেক সিটিতে বাস করার পর দুর্গাপুরে ফিরে এসেছেন। দুর্গাপুরের বি জোনে ডিএসপির কোয়ার্টার্সে থাকতেন। স্বামী ডিএসপির সিনিয়র অপারেটর ছিলেন। ভদ্রমহিলার ছত্রিশ বছর বয়সে দুম করে প্লান্টে অ্যাক্সিডেন্টে মারা যান ওঁর হাজব্যান্ড। ওদের ছেলে তখন ক্লাস টেনের ছাত্র। ইনসিওরেন্স, প্লান্ট থেকে মোটা অংকের ক্ষতিপূরণ মিলিয়ে ওঁর পক্ষে বুদ্ধিমান ছেলেকে লেখাপড়া শেখাতে বিশেষ অসুবিধা হয়নি। ছেলে দুর্গাপুরে স্কুলের পরীক্ষাগুলো পাশ করার পরে খড়গপুর আইআইটি তে পড়ার সুযোগ পায়। কানাডার কোন একটা শহরে ভদ্রমহিলার দিদি জামাইবাবু তখন সেটেলড। আইআইটি থেকে পাশ করে বেরোনোর পর মা ব্যাটা মিলে সোজা কানাডার সেই শহর। ক্রমে টরেন্টো শহর ভদ্রমহিলা ও তাঁর ছেলের স্থায়ী ঠিকানা হয়ে ওঠে। ছেলের বিয়ে হয় একটি প্রবাসী বাঙালি মেয়ের সঙ্গে। ওঁরা ও দেশের নাগরিকত্বও পান। তারপর ? ভদ্রমহিলা এখানে চলে এলেন কেন? আসা মানে মানুষ এক মাস বা কিছুদিনের জন্য পুরনো জায়গাতে আসতেই পারে, কিন্তু এভাবে বাড়ি টাড়ি কিনে ফেলে একা একা থাকতে শুরু করা – এ তো ফিরে যাওয়ার কোন লক্ষণ নয়! তাহলে কি ছেলেটাও কদিন বাদে চলে আসছে ? নাকি ভদ্রমহিলা আমৃত্যু একাই থেকে যাবেন এখানে? ছেলের সংসারে মা কি বাড়তি হয়ে গেল? রবিন এ প্রশ্নগুলোর উত্তর ঠিকঠাক জানে না। বলেছিল, “ এসব সাংসারিক খুঁটিনাটি আমি জানতে চাইনি। ভদ্রমহিলা নিজে থেকে যা যা বলেছেন সেগুলো তোমাকে বললাম। নিঃসঙ্গতা কতটা পীড়াদায়ক সেটা তোমরা যারা লেখো টেখো তাদের দেখে নেয়া উচিত বলেই এনার কথা তোমাকে বলেছিলাম। ভদ্রমহিলাকে নিয়ে দুমাস আগে ওদের পাড়ায় একটা ঝামেলা হয়েছিল। আমি যেহেতু একটু পার্টি ফার্টি করি তাই খবর পেয়ে যেতে হয়েছিল। সেই থেকে ওনার সঙ্গে আমার আলাপ।”

    — এই ভদ্রমহিলাকে নিয়ে ঝামেলা? কী ঝামেলা?
    — ভদ্রমহিলার বাড়ি যেতে মেন রাস্তার ওপরে ‘দুর্গাপুর সংস্কৃতি কেন্দ্র ’ নামে একটা ক্লাব আছে। যেদিন যাবে দেখিয়ে দেবো। ওই ক্লাবের নিয়ম হচ্ছে ওই এলাকায় কেউ বাড়ি বিক্রি করলে যে বিক্রি করবে আর যে কিনবে উভয়কেই পঁচিশ হাজার করে দিতে হবে। দুয়ে মিলে পঞ্চাশ হাজার তো ক্লাব পেয়েই গেছে, এবার ওরা পাড়ায় শনিমন্দিরের উন্নতিকল্পে পঁচিশ হাজার চেয়েছিল। ভদ্রমহিলা দেননি। ক্লাবের ধারণা, বিদেশ থেকে প্রচুর টাকা নিয়ে এসেছে, তার ওপর সঙ্গে লোকজন বা বল ভরসা কিছু নেই সুতরাং টাকা দিতে হবে। এদিকে ভদ্রমহিলার গোঁ, টাকা দেবেন না। তাই ভদ্রমহিলার বাড়িতে প্রথমে বাড়ির কেবল কানেকশন বন্ধ করে দেওয়া হল। তারপর রাতের বেলায় মাটি খুঁড়ে মাটির নিচে টেলিফোনের কেবল ছিঁড়ে ফেলা হল। এই সেদিনও উনার বাড়িতে ল্যান্ডফোনই ছিল। তারপর মোড়ের সবকটা ট্যাক্সিওয়ালাকে বলে দেওয়া হলো, ভদ্রমহিলা ডাকতে এলেও যাওয়া যাবে না।
    — সে কি! ক্লাবের ছেলেরা করলো এসব? কারা এরা? তোমার পার্টির লোক?
    — না। ওই এলাকাতে আমরা খুব উইক। সেজন্যে পুলিশ এসে স্টেপ দেওয়ার পরে আমি গিয়েছিলাম।

    দীপন জিজ্ঞেস করে, “পুলিশ কেন?” রবিন বলে, “ভদ্রমহিলা থানায় গিয়ে কমপ্লেন করেন। পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে আসে। নবান্ন থেকেও নাকি থানায় ফোন আসে! নবান্নের কোন একজন ডেপুটি সেক্রেটারি নাকি ভদ্রমহিলার চেনা আছে।”
    — সে যাক গে! তুমি এসে কী করলে?
    —কিছুই না! আমি মানবিকতার কারণে এসেছিলাম। আসার আগে পার্টিকে বলেছিলাম যাতে সকলে মিলে ঝাঁপিয়ে পড়া যায়। তো শালা ঘেন্না ধরা ধরে যায়, পার্টি কী বলল জানো?
    — কী?
    — পার্টি ঠারেঠোরে জানালো, ভদ্রমহিলার জন্য পার্টি কোন বিপক্ষ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংঘাতে যেতে রাজি নয়। আসল কথাটা হলো, ভদ্রমহিলার ভোটার লিস্টে নাম নেই। উনি কোনদিনই ভোট দেবেন না! তাই!
    — মাই গড!
    — হ্যাঁ ভাই! আমরা একটা গণতান্ত্রিক দেশে বাস করি
    — ও ! তো তুমি এসে কি করলে ?
    — বললাম তো ! কিছু না। যা করার পুলিশ করে গেছে। ক্লাবে শাসিয়ে গেছে। আমি শুধু মরাল সাপোর্টটা দিতে আসি। ক্লাবের ছেলেগুলো বাঁকা চোখে তাকায়।

    “হ্যালো? মাই ডিয়ার বয়! হোয়াট আর ইউ থিংকিং?”, অমিয়া চৌধুরী, এই গল্পের অন্যতম চরিত্র প্রকৃত প্রস্তাবে যাঁর নিঃসঙ্গতাই এ গল্পের মুখ্য আকর্ষণ, তাঁর প্রশ্নে আমার ভাবনায় ছেদ পড়ে। আমি বলি, “না , আপনার কথাই ভাবছিলাম। কানাডা একটা উন্নত দেশ, সেখান থেকে চলে এলেন কেন?” “কেন এলাম!”, অমিয়া হেসে ওঠেন, “তোমাদের মুখে এই মাসিমা ডাকটা শোনার জন্য!” এসব কথার উত্তর একটু হাসতে হয়, তাই আমি হেসেই বলি, “ইউ মাস্ট বি জোকিং!”

    — আই অ্যাম ভেরি সিরিয়াস। ওখানে এভরিওয়ান ইভন আমার ছেলের বন্ধুরা পর্যন্ত আমায় নাম ধরে ডাকত।
    — হ্যাঁ ! সেটা পড়েছি কাগজে। কিন্তু গত তিরিশ বছরে এতে করে তো আপনি অবশ্যই হ্যাবিচুয়েটেড হয়েই গিয়েছিলেন! তাহলে হঠাৎ করে এই বয়সে চলে গেলেন কেন? তাও আবার একা! আপনার ছেলেও কি কিছুদিনের মধ্যেই চলে আসছে?
    — নাঃ ! সে কেন আসবে? ওখানে সে সেটেলড। গাড়ি, বাড়ি, ইন্ডিয়ান মানিতে তার স্যালারি বোধহয় আট লাখেরও বেশি। এখানে সে আসবে না।
    — আপনি একা থাকবেন এখানে?
    — টিল ডেথ। তাছাড়া একা কোথায়! মিঠু আছে না?
    — মিঠু কে ?

    অমিয়া রহস্যজনক ভঙ্গিতে হাসেন, বলেন, “গেস ইট মাই বয়! ইমাজিনেশন ছাড়া রাইটার হওয়া যায় না। আচ্ছা, কি লেখ তুমি? পোয়েট্রি?” এই কথায় আমি বাস্তবিকই লজ্জা পাই। বলি,“আঃ ! ছাড়ুন তো মাসীমা ! আমার সম্পর্কে রবিনের কিছু বলার নেই , তাই বাড়িয়ে বাড়িয়ে বলেছে। রাইটার হবার যোগ্যতা আমার নেই। এখন তো প্রচুর ম্যাগাজিন তাই একটা দুটো ম্যাগাজিনে আমার দু চারটে গল্প ছাপা হয়েছে। দিস মাচ।”

    — তাই ! আমার পোয়েট্রি ভালো লাগে না। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, মাইকেলের পরে ইনফ্যাক্ট আমি কোন পোয়েট্রি পড়িও নি। মাসে দুবার লাইব্রেরীতে যাই, অনেক রিকোয়েস্ট করার পরে দুটো করে বই আনতে দিচ্ছে। পাঁচ-ছদিনেই শেষ হয়ে যায়। আচ্ছা, আমি যে এভরি অল্টারনেটিভ ডায়ালগ ইংরেজিতে বলছি তোমরা কিছু মাইন্ড করছো না তো? আই অ্যাম ট্রায়িং টু স্পিক কন্টিনিউয়াসলি ইন বেঙ্গলি বাট হচ্ছে না! আসলে লাস্ট টু ইয়ার্স আমি বেঙ্গলিতে তো কোন সেনটেনস বলিনি তো!
    — মানে? বাড়িতে ছেলে, বৌমা, নাতির সঙ্গে কথাবার্তা কি ইংরেজিতেই হোত?
    — বাড়িতে থাকলেও এরা আমাকে কম্পানি দেওয়ার সময় পেত না। অ্যান্ড, লাস্ট টু ইয়ারস আই ওয়াজ ইন আ হোম ইন কুইবেক সিটি।
    — মানে ? বুঝলাম না! কুইবেক বলুন বা যেখানেই বলুন, হোমেই তো থাকতেন আপনি? গাছের তলাতে তো নয !
    — আই থিঙ্ক ইউ ডোন্ট নো হোয়াট আ হোম ইজ। হোম তো বাড়িই বাট এইসব হোমগুলো মেনটেইনড অ্যান্ড গভর্ণড বাই দা গভর্ণমেন্ট। প্রত্যেক সিনিয়র সিটিজেন হু হ্যাজ অ্যাটেইন্ড দা এজ অফ সিক্সটি ফাইভ – ওখানে গিয়ে থাকতে পারে।
    — ব্যাপারটা একটু বুঝিয়ে বলুন!
    — হোম হচ্ছে একটা বৃদ্ধাশ্রম। সিক্সটি ফাইভ এজ যাদের অ্যান্ড দোজ হু আর বিলো দা পভার্টি লাইন সেইসব মানুষরা হোমে গিয়ে থাকতে পারে। তার থাকা, খাওয়া, ট্রিটমেন্ট, এন্টারটেইনমেন্ট সমস্ত কিছু উইল বি প্রোভাইডেড বাই দা গভর্ণমেন্ট।
    সুরেন বক্সি বলে ওঠে, “তাই নাকি ! আপনি যে আজব দেশের কথা বলছেন ! চাকরি থেকে রিটায়ার্ড হয়ে গেলে বা আমার মত চাকরি চলে গেলেই হোমে গিয়ে থাকলেই হবে ! স্ত্রীকে নিয়েও থাকা যায় ? খাওয়া–পরা , চিকিৎসার কোন চিন্তা নেই ! সরকার দেবে? যে খুশি গিয়ে থাকতে পারে?”
    — যে কেউ নয়। হি অর শি মাস্ট বি দা সিটিজেন অফ দ্যাট কান্ট্রি, সেকেন্ড থিং হচ্ছে তার বয়েস সিক্সটি ফাইভ হতেই হবে, থার্ড তার ইনকাম – আই অ্যাম নট সিওর অ্যাবাউট দা অ্যামাউন্ট – পার ডে বিলো থ্রি ডলার হতে হবে। আমি তিনটে ক্রাইটেরিয়াই ফুলফিল করি। তাই আই হ্যাভ গট আ চান্স টু স্টে অ্যাট হোম।
    — তো এরকম তো লক্ষ লক্ষ বুড়োবুড়ি থাকবে একটা দেশে! তাদের সবার দায়িত্ব সরকারের?
    — সেই বুড়ো বা বুড়িটা তো নেশানের ডেভেলপমেন্টের জন্য ডাইরেক্টলি অর ইনডাইরেক্টলি কিছু না কিছু কন্ট্রিবিউট করেছে! তার যাতে পিসফুল ডেথ হয় সরকার সেটা দেখবে না?

    সুরেন বক্সী যেন কিছু গন্ধ পেয়ে গেছে! সে প্রায় চিৎকার করেই বলে ওঠে, “ এদেশের সরকারের অ্যাটিটিউডটাই ঠিক উল্টো ! যারা অফিসে, কলকারখানায় কাজ করে তারা রাষ্ট্রের চোখে প্রোডাক্টিভ সিটিজেন। আমার মত যাদের চাকরি নেই, যারা বেকার তারা নন প্রোডাক্টিভ সিটিজেন। রাষ্ট্রের বোঝা, রাষ্ট্রের কাছে অবাঞ্ছিত জনসংখ্যা ! আমাদের জন্যেই গ্রস ন্যাশনাল ইনকাম বাড়তে পারছে না, দেশটা উন্নয়নশীল থেকে উন্নত দেশ হয়ে উঠতে পারছে না! ”

    আলোচনা অন্য খাতে বইতে চলেছে রেখে আমি তথা প্রোডাক্টটিভ সিটিজেন বলে উঠি, “যাকগে ! সেসব তো আছেই সুরেনদা, আজ বরং আমরা ও দেশের গল্প শুনি ! তো মাসিমা, আপনি হোমে এলেন কেন? টরেন্টোতে আপনার ছেলের বাড়িতে না থেকে —! হোম ? আমাদের দেশেও ইদানিং বৃদ্ধাশ্রম কালচার খুব পপুলার। ছেলের বউয়ের সঙ্গে পোষায় না বলে, আপনারও কি তাই? কিছু মনে করবেন না, আমি আপনার ঘনিষ্ঠ হতে চাইছি বলেই এই কথাটা জিজ্ঞেস করলাম।”

    — ওয়ান ফাইন মর্নিংয়ে আমি ডিসকভার করলাম, আই হ্যাভ বিকাম এক্সেস ইন মাই সনস ফ্যামিলি– হ্যাঁ –ননপ্রডাক্টিভ মেম্বারও বলতে পারো! দেন আই ডিসাইডেড টু স্টে অ্যাট আ হোম ইন কুইবেক।
    — বেশ! ওই হোমে কি খাওয়া দাওয়ার কোনো অসুবিধে –
    বাধা দিয়ে অমিয়া চৌধুরী হেসেই বললেন, “শোনো! বত্রিশ বছর আগে যখন দুর্গাপুর ছাড়ি তখন এখানে এই হোম কনসেপ্টটাই ছিল না। ডিউরিং লাস্ট টু ইয়ার্স যা শুনছি তাতে বুঝেছি এখানে এই হোমটা একটা ব্যবসার জায়গা। ওয়েলফেয়ার কনসেপ্টটাই নেই এখানে! ব্রিটিশ কলম্বিয়া বা কুইবেকের হোমে খাওয়া-দাওয়ার কথা ছেড়েই দিই না হয়, আমার রুমে ছিল কেবল টিভি, ইন্টারনেট কানেকশন। টোয়াইস ইন আ উইক হেয়ার ড্রেসার আসতো। শর্ট ডিসটেন্স এ কোথাও যেতে চাইলে আমাদের প্রত্যেককে ক্যাবে চড়িয়ে ঘোরানোর ব্যবস্থা ছিল। সি পি পি বা ক্যানাডা পেনশন প্ল্যান যারা এনজয় করে তারা কুইবেক ড্রাগ বেনিফিট পায়।”
    — মানে ?
    — যা মেডিসিন লাগবে সব নিয়ার বাই ফার্মেসি থেকে ফ্রি অব কস্ট নিতে পারবে।

    সুরেন বকশীর দুই চোখ গোলাকার হয়ে যায়! বলে, “তা হোমের এতো আরাম ছেড়ে এখানে এলেন কেন ?”

    উত্তরে অমিয়া ঘড়ি দেখে ব্যস্তসমস্ত ভাবে বলে উঠলেন, “এক্সকিউজ মি! মিঠু অনেক্ষণ আন অ্যাটেন্ডেড পড়ে আছে! ওকে একটু জল আর একটা হালকা টিফিন দিয়ে আসি, না হলে ওর আবার অভিমান হবে। একটু বসো প্লিজ! উইদিন ফাইভ মিনিটস আমি আসছি।

    অমিয়া চলে যেতে আমি ফিসফিসিয়ে রবিনকে জিজ্ঞেস করি, “মিঠু কে?” রবিন দু'পাশে ঘাড় নাড়ে। সুরেন বলে ওঠে ,“সে যেই হোক, সে আমার কাছ থেকে খাবার কিনে খাবে না। তাহলে রবিনদা, ভদ্রমহিলা যা বললেন দিন পনেরো না গেলে আমি বুঝতে পারব না সারা মাসে খরচা কত পড়বে। যতই হোক বিদেশে ছিল তো! খাওয়া-দাওয়াগুলো একটু স্পেশাল হবে মনে হচ্ছে। ঠিক আছে, ওর কথা মতো পাঁচশো টাকা নিয়ে কাজটা শুরু করে দিই! তারপর দেখা যাক বরাবরের জন্যে আমার বা উনার পোষায় কিনা!”

    রবিন তথা প্রোডাক্টিভ সিটিজেন, বাস্তবে যে এই গল্পটির ভিন্নধর্মী চরিত্রগুলির মধ্যে সংযোগ রক্ষাকারী সেতু মাত্র, খুব সতর্ক ভঙ্গিতে উত্তর দেয়, “আমি কিছু বলবো না। আমার কাজ ছিল যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া, দিয়েছি। পরে আপনার কাছ থেকে কি মাসিমার কাছ থেকে কোন কথা শুনতে আমি রাজি নই! আপনার মেয়েকেও আমি বিউটি পার্লারে ঢুকিয়ে দেবো, সেখানেও ওই একই কথা, বুঝে নাও করবে কিনা! মন্দ ভালো কোন কিছুরই দায়িত্ব আমি নেব না!” অবাক হয়ে আমার সহকর্মীটির কথা শুনছিলাম আর মনে মনে শালাকে গাল দিচ্ছিলাম, ‘শালা! পারিস বটে! এতসব করার কি আছে! ব্যাঙ্কে কাজ করিস, বেতনটা গ্যারান্টেড, খা, দা অফিস কর, মন দিয়ে ছেলেমেয়ে মানুষ কর! সময় কাটছে না তো বাড়িতে বা হলে গিয়ে সিনেমা দ্যাখ! গল্প উপন্যাস পড়! সুন্দর সময় কেটে যাবে। সাহিত্যবোধ না থাকার ফলেই মানুষ এসব লাফড়ায় জড়ায়, পরে দুপক্ষেরই গালাগাল খায়। সময় কিভাবে ইউজফুলি কাটাতে হয় সেটা জানাতে হয়! সময় কাটানোর শ্রেষ্ঠ উপায় হচ্ছে সাহিত্যপাঠ বা সাহিত্যচর্চা। মুখে কিছু না বলে এসব ভাবছি তাই এ সময় সুরেন আর রবিন মুকাভিনয় করতে শুরু করে। ড্রয়িংরুমের জানালা গলে এসময় ‘চলবে না’ ‘ চলবে না’ মিছিলের আওয়াজ ক্ষীণ থেকে স্পষ্টতর হয়ে প্রবেশ করে। মূকাভিনয় এতে এক মিনিটের বিরতি পায়। বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর ভাঙড়া নাচটিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরিরাজ সিংয়ের ‘ঠুমকা ’ নাচ বলে ব্যঙ্গ করা চলবে না, দাবী ক্ষীণতর হতে হতে মিলিয়ে যায়।

    অমিয়া চৌধুরী ঘরে ঢোকেন। পাঁচটা চকচকে একশো টাকার একটা নোট সুরেন বক্সীর হাতে দিয়ে বললেন, “পাঁচশো দিলাম। তাহলে সুরেন! কাল থেকে আমি টেনশন ফ্রি থাকছি অ্যাবাউট মাই ফুডস। ওক্কে?”

    সুরেন ঘাড় নাড়ে, উঠে দাঁড়িয়ে টাকাটা পকেটে ঢোকাতে ঢোকাতে বলে, “তাহলে মাসিমা ! কাল সকালে আপনার ব্রেকফাস্ট নিয়ে হাজির হচ্ছি।” সুরেন যাবার উদ্যোগ করতেই আমি হাত তুলে সুরেনকে দাঁড়াতে ইশারা করি, বলে উঠি, “একটু দাঁড়ান! কিছু কথা এখনো শেষ হয়নি। বসুন না একটু! এই মিনিট পাঁচেক।”

    সুরেন বলে, “আমাকে তো এক্ষুনি বাজারে যেতে হবে। মাসিমার কালকের ব্রেকফাস্স্টের জন্যে দুটো ভালো সাইজের সিঙ্গাপুরি কলা কিনতে হবে। ছ-সাত মাস কলা কিনিনি। চার পাঁচটা কলার দোকানে ঘুরতে হবে, নাহলে তো ঠকে যাওয়ার চান্স আছে। লাভের গুড় পিঁপড়েতে খেয়ে নেবে তাহলে! আমি এখন এই চিন্তায় আছি।”

    সুরেন বসলে বলি , “ সুরেনদা! ছটফট করবেন না। এখন আপনার ভূমিকা চুপ করে বসে থাকা! মাসিমা, কিছু মনে করবেন না, আপনার চলে কীসে? ব্যাঙ্কে যা আছে সেসব তুলে সংসার চালান?”

    অমিয়া বলেন, “ মাসে থ্রি হান্ড্রেড ডলার আসে যে ! ”
    — কানাডা থেকে তিনশো ডলার প্রতি মাসে ঠিকঠাক আসে? কে পাঠায়? ছেলে?
    — ছেলের কাছে চাইলে নিশ্চয়ই পাঠাবে। তবে থ্রি হান্ড্রেড ডলার ইজ এনাফ ফর মি। এটা কানাডিয়ান গভর্ণমেন্ট দেয়।
    — কেন?
    — আমি তো কানাডা সিনিয়র সিটিজেন। হোমেও থাকি না। সেজন্য!
    — সে কি কথা! আপনি ওদেশে থাকলে না হয় সরকার দায়িত্ব নিল, কিন্তু ওদেশে থাকছেন না অথচ সরকারি সাহায্য – থ্রি হান্ড্রেড ডলার মানে তিনশো গুনিতক আশি চব্বিশ – পঁচিশ হাজার হবে বোধহয়– আপনি সত্যি বলছেন তো ? মানে – আপনার মতো তো অনেকেরই ইচ্ছা হতে পারে কানাডার সিটিজেনশিপটা রেখে জন্মভূমিতে শেষ জীবনটা কাটানোর। সবাইকার জন্য সরকার মাসে ওই চব্বিশ–পঁচিশ হাজার টাকা খরচা করবে?
    — করেই তো ! সো ফার মাই নলেজ গোজ, দেয়ার আর ল্যাকস অফ পিপল যারা কানাডার বাইরে থাকছে। সবাইকার জন্যেই ওই থ্রি হান্ড্রেড ডলার তবে দোজ হু আর বিলো দা প্রভার্টি লাইন।
    — মাই গড ! আপনি প্রতি মাসে পাচ্ছেন? কীভাবে?
    — অ্যাট দা এন্ড অব দা মান্থ আমার অ্যাকাউন্টে ওরা টাকাটা ট্রান্সফার করে দেয়। ট্যাক্সি ভাড়া করে স্টিল প্ল্যান্টের কাছে স্টেট ব্যাংকে যাই, তুলে আনি ।

    সুরেন বকশি উত্তেজনায় সোফা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে পড়ে। বলে, “ এদেশের সরকার কোন সিটিজেনের জন্যই কিচ্ছু করেনা পাদানি, মাদানিদের জন্য শুধু বাজার তৈরি করে দেয়।”

    ধমকেই বলে উঠলাম , “সুরেনদা! এখন আপনার ভূমিকা চুপ করে বসে থাকা। কথা বলবেন না! ” অমিয়া বলে ওঠেন, “ উই হ্যাভ টু প্লে আওয়ার রোল পারফেক্টলি সুরেন! দেবাশিস! তোমার নেক্সট কোর্স অব অ্যাকশন কি? ”

    — আপনার এই মিঠু সম্পর্কে জানলেই আমার ডিউটি শেষ ! মিঠু কে?
    — মিঠু ইজ মাই সুইটহার্ট, মাই কম্পানিয়ন, মাই লাভ, মাই অল ! চলো ! ওর সাথে তোমাদের আলাপ করিয়ে দিই !

    ওরা তিনজন অমিয়ার পিছন পিছন ঘরে ঢুকলো। একটা সিঙ্গল বেডের খাট, একটা ছোট্ট টেবিল তার ওপর একটা ছোট টেবিলল্যাম্প ছাড়া আর কিছু নজরে পড়ল না। কোথায় মিঠু ?

    — মিঠু কোথায় গেলে ? কাম হেয়ার ! কাম ! দেয়ার আর সাম গেস্টস হু লাইক টু মিট ইউ। বেরিয়ে এসো নটি গার্ল !

    একটা কী -ঈ -ঈ -চ টাইপের শব্দ খাঠের তলা থেকে বেরিয়ে আসতে আমি একটু চমকে উঠলাম ! কিছুক্ষণ পরেই খাটের তলা থেকে একটা কাকাতুয়া গটগট করে বেরিয়ে এসে আমাদের দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকে। কিছুক্ষণ পরেই ছোট্ট একটা উড়াল দিয়ে অমিয়ার কাঁধে এসে বসে ! অমিয়া কাকাতুয়াটার মাথায় আলতো চাপড় মেরে বলেন, “দে আর ওয়েটিং ফর লং টু বি ইন্ট্রোডিউসড উইথ ইউ। দিস ইজ রবিন, অফ হুম আই টোল্ড ইউ আর্লিয়ার, দিস ইজ দেবাশিস, এ রাইটার অ্যান্ড দ্যাট ওল্ড গুডম্যান ইজ মাই ফুড সাপ্লায়ার সুরেন !”

    কাকাতুয়াটা একদৃষ্টে আমাদের দিকে তাকিয়ে যেন আমাদের জরিপ করছিল! অমিয়া বললেন, “ওয়েল জেন্টলম্যান! এই হচ্ছে মিঠু।”

    রবিন হাঁ করেই ছিল, বলল, “এটাকে কোথায় পেলেন? এখানে এসে পুষেছেন নাকি? জানতাম না তো!”

    অমিয়া বললেন, “এটাকে নয়, বল ওকে। শি অলসো হ্যাজ ফিলিংস টু শেয়ার উইথ মি। ও কুইবেক সিটিতেই একটা হোমে থাকত। ওদেরও হোম টাইপের একটা ইনস্টিটিউট মত আছে, সেখানে ওদের ট্রেইন্ড করা হয় কিভাবে একজন ভালো পেট হয়ে উঠতে হয় সে বিষয়ে। তারপর যে সমস্ত হিউম্যান বিয়িং ওদের পেট হিসেবে নিতে চায় তাদের কাছে বিক্রি করা হয়। আমি আমার হোমে থাকার সময়টাতে ওকে কিনে নিয়ে আসি। ওর সঙ্গে কথা বলে সময় কাটতো। ও আমাকে বোঝে, আমার সাফারিং শেয়ার করে।”

    স্তম্ভিত অবস্থায় হাঁ করেই ছিলাম, মুখ দিয়ে বেরোয়, “উড়ে পালায় না? চেইন দিয়ে তো বাঁধা নেই দেখছি! ”

    — নাঃ ! ছোট থেকে ওদের ট্রেনিং দেয়া হয়, বোধহয় দুবার মতো ওর ডানাও ছাঁটা হয়ে গেছে আমি কেনার আগে। একটু ছোট্ট করে উড়তে পারে কেবল। এই চার দেওয়ালের বাইরে তো খোলা আকাশ, ও কিন্তু সেখানে যাবার জন্য ছটফট করে না। ওকে ছোট থেকে অ্যাডাপ্ট করে নেওয়ার ট্রেনিং দেয়া হয়েছে।

    রবিন বলল, “এখানে নিয়ে এলেন কিভাবে ! ইমিগ্রেশন না কি যেন বলে ওরা আটকায়নি ? ”

    — আমি তো একটা ট্রাভেল এজেন্সিকে আমার সমস্ত বিলংগিঙসের দায়িত্ব দিয়ে এসেছিলাম। দমদম এয়ারপোর্টে এসে মিঠুকে পাই। ও অন্যান্য পেটদের সঙ্গে এসেছে।

    কথা বলা বারণ ছিল, তবুও সুরেন বলে ওঠে, “ তা এত হাঙ্গামা করতে গেলেন কেন ? এখানে এসে একটা অ্যালসেশিয়ান কি স্প্যানিয়াল পুষতেন ! সঙ্গীকে সঙ্গী হল, আবার রাতে চোর ডাকাতের দুর্ভাবনা থেকে নিশ্চিন্তিও রইল !

    — আমি যে ওর সঙ্গে আমার অনেক মিল খুঁজে পাই !

    — মানে ?

    — মিঠুও তো ছোটবেলায় উড়তে চাইতো। সারকামস্ট্যান্সেস ওকে বাধ্য করেছে ওর ডানা ছাঁটাতে, ওড়া ভুলে যেতে! আমিও তো তেমনি চেয়েছিলাম, নিজের ছেলের কাছে, বৌমার কাছে, নাতির কাছে খুব আপন হয়ে থাকবো! হলো না তো! আমি কুইবেকের হোমে নিজেকে অ্যাডাপ্টেড করে নিতে পারিনি কেননা তখনও আমার সাধ বা আশা আকাঙ্খাগুলোর ডানা ছাঁটাটা হয়নি। প্রতি উইকএন্ডে রাস্তার দিকে তাকিয়ে বসে থাকতাম এই আশায় যে ছেলে এসে বলবে, “ মা চলো! তোমাকে ছাড়া বাড়িতে ভালো লাগছে না! ” ছেলে আসেনি। তাই একটু একটু করে ডানার পালক আমি ছিঁড়ে ফেলেছি। এখন ওনলি মিঠু আমাকে বোঝে বা আমি মিঠুকে। আমরা দুজনেই উড়তে চাই না!

    গলা আগেই জড়িয়ে গেছিল, এ পর্যন্ত বলে অমিয়া কান্নায় ভেঙে পড়েন! তিনটি মানুষ নির্বাক দাঁড়িয়ে থাকে!

    খানিক পরে রাস্তায় নেমে হাঁটতে হাঁটতে সুরেন আমাকে বলল , “বুঝলেন দাদা ! আপনার ওসব গপ্পো লেখা বা এই যে আমি রোজগারের আশায় এদিকে এদিকে ছুটে বেড়াচ্ছি, সবকিছুই অর্থহীন ! শেষ পর্যন্ত বেঁচে থাকাটাই একটা আশ্চর্য ঘটনা! তাই না?”

    রবিন বলে, “হ্যাঁ ! মানছি। তবুও আমি আপনার মেয়ের জন্য কাল বিউটি পার্লারে যাবো, কেননা সব সময়ই ভালোভাবে বেঁচে ওঠার চেষ্টা করা উচিত। আর একা একা বাঁচাও যায় না, পাঁচজনকে নিয়েই বাঁচতে হয়।”

    আমি গম্ভীর হয়েই হাঁটছিলাম। অনেক কিছুই ভাবছিলাম। অস্ফুটে বললাম, “অন্য কিছু না…. কাকাতুয়াটার জন্যেই কষ্ট ! ও– ও তো কতরকম ভাবে মানিয়ে…জন্ম থেকেই একা একা খাঁচার ভেতরে…মাসীমা তো তবু ….!


    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক।
  • গপ্পো | ০৪ এপ্রিল ২০২৬ | ৫৫ বার পঠিত
  • আরও পড়ুন
    ঘ - শর্মিষ্ঠা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • dc | 2402:e280:2141:1e8:843a:b144:2491:***:*** | ০৪ এপ্রিল ২০২৬ ১০:৪৮739679
  • ভালো লাগলো, তবে "এই" কথাটা বোধায় একটু বেশী ব্যবহার করা হয়েছে। আর রমিতবাবুর ছবিটা দেখে মঙ্গলগ্রহ অভিযানের কথা মনে হলো :-)
     
    (বিটিডাব্লু, আমার মাসি আর মেসোমশাই কুয়েবেকে থাকে বা থাকতো। মাসি বছর দুয়েক আগে গত হয়েছে, মেসোও যাওয়ার পথে। গল্পটা পড়ে মাসির কথা মনে পড়লো) 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লুকিয়ে না থেকে মতামত দিন