এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • ব্রজধামের ছদ্মবেশ ও লুণ্ঠিত নারী

    SANKAR HALDER লেখকের গ্রাহক হোন
    ০২ এপ্রিল ২০২৬ | ৪১ বার পঠিত
  • ব্রজধামের ছদ্মবেশ ও লুণ্ঠিত নারী
    লেখক : শংকর হালদার
    রচনাকাল : ২ এপ্রিল ২০২৬
     
     
    প্রথম অধ্যায় : যমুনার ঢেউ ও অলক্তক রেখা**
     
    ট্রেনের চাকা যখন মথুরা জংশনের প্ল্যাটফর্মে এসে থামল, তখন ভোরের কুয়াশা মেখে যমুনার বাতাস এক অদ্ভুত চন্দনের গন্ধ বয়ে আনছে। একুশ বছরের সুলগ্না ট্রেনের কামরা থেকে যখন নিচে নামল, তখন তার পরনে সাদা থানের পবিত্রতা থাকলেও ডাগর চোখ দুটিতে ছিল এক দিশেহারা আগ্নেয়গিরি। পশ্চিমবঙ্গের এক বর্ধিষ্ণু ঘরের মেয়ে সে। গোলগাল শান্ত চেহারা, দুধে-আলতা গায়ের রঙ আর একঢাল কালো চুল—যাকে দেখলে মনে হয় যেন কোনো শিল্পী নিখুঁত মনে গড়েছেন। কিন্তু কপালে সিঁদুরের রক্তিম আভা মুছে যাওয়ার পর থেকেই সমাজ তাকে ‘অশুভ’ তকমা দিয়ে একঘরে করে দিয়েছিল।
     
    সনাতন ধর্মের সেই আধ্যাত্মিক শান্তির খোঁজে, কৃষ্ণের চরণে নিজেকে সঁপে দেওয়ার এক প্রবল আকুতি নিয়ে সে সোজা চলে এসেছে এই ব্রজধামে। হাতে একটা ছোট পুঁটলি আর মনে একরাশ বৈরাগ্যের অভিনয়। বৃন্দাবনের সরু গলি দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে সে এসে পৌঁছাল এক পুরনো আমলের আশ্রমে। জরাজীর্ণ ইটের দেয়াল, ঝুলে পড়া মাধবীলতা আর বাতাসে সারাক্ষণ হরিনামের গুঞ্জন। এটি একটি সহজিয়া মতের আশ্রম, যেখানে ত্যাগের চেয়েও সহজ আনন্দের প্রাধান্য বেশি।
    আশ্রমের মোহন্ত মহারাজ তাকে দেখে মৃদু হাসলেন। বললেন, "বেটি, রাধারাণীর কৃপা না থাকলে কেউ এই ব্রজে পা দিতে পারে না। আজ থেকে এই কুঞ্জই তোর ঘর।"
     
    সুলগ্না ভেবেছিল, এখানে সে কেবল কৃষ্ণনাম করবে আর জপমালা ঘোরাবে। কিন্তু আশ্রমের ভেতরের রসায়নটা ছিল ভিন্ন। সন্ধ্যার আরতির পর যখন ধূপের ধোঁয়ায় চারপাশ মায়াবী হয়ে ওঠে, তখন সহজিয়া সাধুদের গৈরিক বসনের নিচে এক আদিম ক্ষুধা জেগে ওঠে। তারা সুলগ্নার এই কাঁচা যৌবন আর সদ্য বিধবা হওয়ার নিঃসঙ্গতাকে ‘সেবা’ ও ‘মরমী সাধনা’র দোহাই দিয়ে ঘিরে ধরতে শুরু করল।
     
    সুলগ্নাও এক বিচিত্র ঘোরের মধ্যে পড়ে গেল। তার তপ্ত রক্ত আর যৌবনের জোয়ারে যে বাঁধন সমাজ দিয়েছিল, এই সহজিয়া কুঞ্জে এসে তা এক লহমায় ভেঙে পড়ল। সে দেখল, এখানকার সাধুরা কেবল পাথরের কৃষ্ণের পূজা করে না, তারা জীবন্ত রাধিকার পূজা করতে বেশি আগ্রহী। ধর্মের সেই গূঢ় তত্ত্বের জালে আটকা পড়ে সুলগ্না নিজের সমস্ত সত্তা, তার শরীরের প্রতিটি ভাঁজে জমে থাকা জীবনের স্পন্দন আর যৌবনের সুধা অবলীলায় বিলিয়ে দিতে লাগল সেই সব সাদা পোশাকের সাধুদের চরণে। তার মনে হলো, এটাই বোধহয় পরম প্রাপ্তি—দেহ দিয়ে যদি দেহের অতীত কিছু পাওয়া যায়।
     
    বৃন্দাবনের বাঁকে বাঁকে তখন রাত বাড়ে, আর সেই নির্জন আশ্রমের নিভৃত কক্ষে সুলগ্নার একুশ বছরের যৌবন এক অজানা নেশায় ডুব দিতে থাকে। ভক্তি আর আসক্তির সেই সরু সুতোয় সে নিজেকে বিলীন করে দিল এক অদ্ভুত মোহময় নরকে, যাকে সে স্বর্গ বলে ভ্রম করতে শুরু করেছে।
                      ~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
     
            দ্বিতীয় অধ্যায় : যমুনার তটে মায়ার হর্ম্য
     
    বৃন্দাবনের বাঁকে বাঁকে কত বিচিত্র মানুষের আনাগোনা, কত ছদ্মবেশ আর কত গুপ্ত সাধনা। এই বৃন্দাবনেই উত্তরবঙ্গ থেকে এসে ডেরা বেঁধেছে লক্ষণ। সুঠাম দেহ, তীক্ষ্ণ নাসিকা আর এক জোড়া উজ্জ্বল চোখ—লক্ষণকে দেখলে প্রথম দর্শনেই মনে হয় যেন কোনো প্রাচীন পুঁথি থেকে উঠে আসা এক তেজস্বী সাধক। সে এখানে এসে কোনো সাধারণ আশ্রমে মাথা গোঁজেনি। সে নিজেকে জাহির করেছে এক উচ্চমার্গীয় বৈষ্ণব গুরুর প্রিয় শিষ্য হিসেবে। বিশুদ্ধ বৈষ্ণব মতে দীক্ষা আর ভেক বৈরাগ্য লাভ করে সে গায়ে জড়িয়েছে নামাবলী, কপালে এঁকেছে তিলক সেবা।
     
    কিন্তু লক্ষণের বৈরাগ্যের আড়ালে ছিল এক প্রখর বৈষয়িক বুদ্ধি। মাত্র এক বছরের মধ্যে সে বৃন্দাবনের রিয়েল এস্টেট বা জমি কেনাবেচার ব্যবসায় নিজের আধিপত্য কায়েম করে ফেলল। পশ্চিমবঙ্গ থেকে যেসব বিত্তবান মানুষ শেষ বয়সে বৃন্দাবনে একফালি জমির খোঁজে আসেন, তাঁদের ভরসার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠল লক্ষণ। যমুনার একেবারে কোল ঘেঁষে সে তৈরি করল এক বিশাল পাকা অট্টালিকা। শ্বেতপাথরের বারান্দায় দাঁড়িয়ে যখন সে ভাগবতের শ্লোক আউড়ায়, তখন তার পাণ্ডিত্যের ছটায় মুগ্ধ হয় সবাই। তার কথাই যেন শেষ কথা—এমন এক গম্ভীর আর আত্মবিশ্বাসী স্বরে সে কথা বলে যে, কারোর সাধ্য নেই তাকে অগ্রাহ্য করে।
     
    তবে লক্ষণের এই পাণ্ডিত্য আর বৈরাগ্যের বর্ম ভেদ করে একদিন তার চোখে পড়ল সুলগ্নাকে। সেই সহজিয়া আশ্রমে সুলগ্নার ডাগর চোখ আর গোলগাল শরীরের লাবণ্য দেখে লক্ষণের ভেতরের সুপ্ত কামনার দীপ জ্বলে উঠল। সুলগ্না তখন মায়ার জালে দিশেহারা। লক্ষণ তার কাছে গিয়ে নিভৃতে বসল। শাস্ত্রের দোহাই দিয়ে, উচ্চমার্গীয় ‘ভজন সাধন’-এর ব্যাখ্যা দিয়ে সে সুলগ্নাকে বোঝাতে চাইল যে, দেহাতীত প্রেমের স্বাদ পেতে হলে এক সুযোগ্য পুরুষ সঙ্গীর প্রয়োজন। লক্ষণ তার পাণ্ডিত্য দিয়ে সুলগ্নাকে সম্মোহিত করে ফেলল।
    সুলগ্নাও দেখল, এই সাধুদের ভিড়ে লক্ষণ যেন এক উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক। তার শ্বেতশুভ্র বসন, তার বিশাল অট্টালিকা আর তার বাচনভঙ্গি সুলগ্নাকে এক নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখাল। সে ভাবল, হয়তো এটাই তার ভবিতব্য। সুলগ্না রাজি হয়ে গেল লক্ষণের সেই প্রস্তাবিত ‘যৌথ সাধনায়’।
     
    কয়েক মাস কাটল। চৈত্র শেষের এক মায়াবী সন্ধ্যায়, যমুনার বাতাস যখন কদম্বের গন্ধে ম ম করছে, তখন সুলগ্না তার আজন্ম লালিত বাসনা নিয়ে লক্ষণের মুখোমুখি হলো। বৈষ্ণবীয় প্রথা মেনে মাল্যচন্দনের আদান-প্রদান হলো। সুলগ্না তার আজীবনের সাথী হিসেবে বেছে নিল সাদা পোশাকধারী এই পণ্ডিত সাধু লক্ষণকে। আশ্রমের সেই অন্ধকার কুঠুরি ছেড়ে সে পা রাখল লক্ষণের সেই যমুনার তীরের রাজপ্রাসাদে।
    সুলগ্না জানত না, এই চন্দনের সুবাসের আড়ালে কোন বিষ লুকিয়ে আছে। সে জানত না, ভজন সাধনের এই রঙিন প্রলেপ দিয়ে লক্ষণ আসলে তার শরীরের কোন তপ্ত সুধা পান করতে চাইছে। বৈরাগ্যের আড়ালে শুরু হলো এক নতুন ভোগবিলাসের অধ্যায়, যেখানে যমুনার জল সাক্ষী রইল এক অকাল বিধবার পুনরায় পথ হারানোর উপাখ্যানে।
               ~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
    তৃতীয় অধ্যায় : যমুনার বালুচরে ভাঙা কূল
    লেখক : শংকর হালদার
    রচনাকাল : ২ এপ্রিল, ২০২৬
     
    যমুনার তীরের সেই সাদা অট্টালিকা, যা একসময় সুলগ্নার কাছে স্বর্গ মনে হয়েছিল, কয়েক মাসের মধ্যেই তা এক দুঃসহ খাঁচায় পরিণত হলো। লক্ষণের সেই পাণ্ডিত্য আর মিষ্টভাষী স্বভাবের আড়ালে থাকা কর্কশ রূপটা বেরিয়ে আসতে সময় লাগল না। ভজন-সাধনের রঙিন বুলি বদলে গেল প্রতিদিনের খুঁটিনাটি ঝগড়া আর সন্দেহে। লক্ষণ আসলে সুলগ্নাকে কোনো সাধিকা নয়, বরং তার বিত্ত ও লালসার এক অস্থায়ী উপচার হিসেবেই দেখেছিল। সুলগ্না যখন তার অধিকার আর সম্মানের দাবি তুলল, তখনই লক্ষণের বৈরাগ্যের মুখোশ খসে পড়ল।
     
    একদিন মেঘাচ্ছন্ন দুপুরে লক্ষণ গম্ভীর মুখে জানাল, "আমার পশ্চিমবঙ্গে কিছু জরুরি কাজ পড়েছে, জমিজমার একটা বড় ডিল বাকি। দিন কয়েকের মধ্যেই ঘুরে আসছি।"
     
    সুলগ্না বিশ্বাস করেছিল। কিন্তু লক্ষণ চলে যাওয়ার পর দিন কাটে, সপ্তাহ ঘোরে—লক্ষণের দেখা নেই। সুলগ্না যখন উৎকণ্ঠা নিয়ে তাকে ফোন করল, দেখল নম্বরটি আর অস্তিত্বে নেই। বারবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা গেল না। লক্ষণ কেবল নিরুদ্দেশই হয়নি, সে তার মোবাইলের সিম কার্ড পর্যন্ত পরিবর্তন করে সুলগ্নার সাথে সমস্ত যোগাযোগের সেতু পুড়িয়ে দিয়ে গেছে। সুলগ্না বুঝল, উচ্চমার্গীয় বৈষ্ণবতার নামাবলি গায়ে দেওয়া এই লোকটা আসলে এক চতুর প্রতারক, যে তাকে বৃন্দাবনের এই জনসমুদ্রে একলা ফেলে রেখে নিজের আখের গুছিয়ে পালিয়েছে।
     
    ঘরভাড়া আর পেটের টান সুলগ্নাকে বাস্তবের রুক্ষ মাটিতে আছড়ে ফেলল। বৃন্দাবনের সেই চেনা গলিগুলো আজ অচেনা আর ভয়ংকর ঠেকছে। কোনো উপায় না দেখে, এক বেলা খেয়ে না খেয়ে সুলগ্না কাজের সন্ধানে পথে পথে ঘুরতে লাগল। সে কি জানত, ২৪ বছরের এই সুন্দরী বিধবাকে শিকার করার জন্য আরও কত জাল পাতা আছে এই ব্রজধামে?
     
    একদিন ধুলোমাখা রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে যখন সুলগ্না অবসাদে ভেঙে পড়ছে, তখন তার সামনে এসে দাঁড়ালেন এক সৌম্যদর্শন সাধু। গায়ে তাঁর গেরুয়া বসন, কপালে তিলক আর হাতে রুদ্রাক্ষের মালা। লোকটির শান্ত চাহনি দেখে সুলগ্নার মনে হলো, হয়তো ভগবান নিজেই কাউকে পাঠিয়েছেন।
     
    সাধুটি সহমর্মিতার সুরে বললেন, "বেটি, তোর এই দশা কেন? ব্রজের মাটিতে রাধারাণীর মেয়ে এমন করে কাঁদবে কেন?"
     
    সুলগ্না ডুকরে কেঁদে উঠল। তার সর্বস্বান্ত হওয়ার কাহিনী শুনে সাধুটি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, "দুনিয়া বড় কঠিন রে মা! তুই যদি চাস, আমার কুটিরে আশ্রয় নিতে পারিস। সেখানে সেবার কাজ করবি, দু-মুঠো অন্ন জুটবে আর আশ্রয়েও থাকবি।"
     
    নিরুপায় সুলগ্না আর কিছু ভাবল না। খড়কুটো আঁকড়ে ধরার মতো সে সেই গেরুয়াধারী সাধুর পিছু নিল। কথা প্রসঙ্গে লোকটা তাকে তার নির্জন ডেরায় নিয়ে এল। সুলগ্না জানত না, এক সাদা পোশাকধারী প্রতারকের হাত থেকে নিষ্কৃতি পেয়ে সে আজ এক গেরুয়াধারী শিকারীর জালে পা দিল কি না। যমুনার বাতাসে তখন এক অশুভ ঝড়ের সংকেত ঘনিয়ে আসছিল।
                   ~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
     
     
    চতুর্থ অধ্যায় : গেরুয়া আবরণে নীল দহন
    লেখক : শংকর হালদার
    রচনাকাল : ২ এপ্রিল, ২০২৬
     
    বৃন্দাবনের অন্য প্রান্তের এক ঘিঞ্জি গলির সুন্দর পরিবেশের এক কামরায় সুলগ্না যখন তার দুপুরের সামান্য রুটিটুকু সেঁকছিল, তখন দরজায় ছায়া ফেললেন প্রতিবেশী “বিমলদা”। বিমলদাও পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসা এক প্রৌঢ় মানুষ, যিনি বৃন্দাবনের অলিতে-গলিতে কার হাঁড়িতে কী চড়ছে তার খবর রাখেন এবং লক্ষণের সাথে তাঁর পূর্ব পরিচয় ছিল।
     
    সুলগ্নার শুকনো মুখ আর লক্ষণের নিরুদ্দেশ হওয়া নিয়ে তাঁর মনেও অনেকদিন ধরে কৌতূহল জমছিল।
    বিমলদা ঘরের ভেতরে পা রেখে গলা নামিয়ে বললেন, "হ্যাঁ রে সুলগ্না, সাত-সাতটা মাস কেটে গেল, লক্ষণের কি আর কোনো পাত্তাই নেই? লোকটা তো একটা কানাকড়িও তোর হাতে রেখে গেল না। দিন গুজরান করছিস কী করে রে মা?"
     
    সুলগ্না এক মুহূর্ত স্থির হয়ে রইল। তারপর এক দীর্ঘশ্বাস ফেলে আগুনের তাপ থেকে মুখ সরিয়ে বিমলদার দিকে তাকাল। তার ডাগর চোখের কোণে তখন আর জল নেই, আছে এক কঠিন বেঁচে থাকার লড়াই আর দুনিয়ার প্রতি চরম এক বিতৃষ্ণা। সে শান্ত গলায় বলতে শুরু করল:
     
    > "বিমলদা, সাত মাস হয়ে গেল তোমার ওই লম্পট ভেকধারী দাদার কোনো খবর নেই। সে যে কোথায় গেল, মরল না বাঁচল—তাতে এখন আর আমার কিছু আসে যায় না। ফোনের নম্বরটাও বদলে ফেলেছে লোকটা। টাকা-পয়সা যা ছিল সব তো ওই যমুনার ধারের বাড়ি আর জমিতে ঢালল, আমার হাতে এক পয়সাও রেখে যায়নি। গত কয়েক মাস যে কী নিদারুণ অভাবের মধ্য দিয়ে গেছি, তা কেবল ওপরওয়ালাই জানেন।"

    বিমলদা অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলেন। সুলগ্না নির্লিপ্তভাবে বলতে থাকল:
     
    > "এই যে পাশে দেখছ গেরুয়াধারী সাধু বাবাকে, ইনিই আমাকে রাস্তা থেকে তুলে এনে একটু আশ্রয়ের ভরসা দিয়েছেন। উনি আমাকে এক বিশেষ প্রস্তাব দিয়েছেন বিমলদা। সাধু বাবা বললেন—উনি এক সপ্তাহ আমার কাছে থাকবেন। এই সাত দিন ওঁর সেবা-যত্ন, খাওয়ানো-দাওয়ানো আর রাতে ওঁর কাছেই আমাকে শুতে হবে। এর বদলে উনি আমাকে দশ হাজার টাকা দেবেন বলে কথা দিয়েছেন।"

    সুলগ্নার গলায় কোনো লজ্জা বা দ্বিধা ছিল না, ছিল কেবল এক নিরেট রুক্ষ বাস্তবতার সুর। সে আবার বলল:
     
    > "পেটের জ্বালা বড় জ্বালা বিমলদা। একুশ বছর বয়সে বিধবা হয়ে এই পরবাসে কার কাছে হাত পাতব? কেউ তো আর এখানে বিনাশর্তে একমুঠো অন্ন দেয় না। তাই ভাবলাম, এই সাত দিন একটু কষ্ট করলেই যদি কিছু বাড়তি আয় হয়, তবে অন্তত আগামী কয়েক মাস মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু মিলবে। এই সমাজ তো বিধবা হওয়ার দিনেই আমাকে ত্যাজ্য করেছে, এখন শরীরটা বিক্রি করে যদি দুটো অন্ন জোটে, তবে ক্ষতি কী?"
     
    বিমলদা পাথর হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন। বৃন্দাবনের নামাবলী আর তিলকের আড়ালে যে এমন এক মাংসের বাজার বসে, তা তাঁর অজানা ছিল না। কিন্তু সুলগ্নার মতো এক রূপবতী তরুণীর এমন নিঃসংকোচ আত্মসমর্পণ এবং পরিস্থিতির শিকার হওয়া তাঁকে স্তব্ধ করে দিল।
     
    রাতের অন্ধকারে যখন সেই গেরুয়াধারী সাধু কুটিরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করলেন, তখন যমুনার বাতাস এক বিদ্রূপের শিস দিয়ে বয়ে গেল। সুলগ্না জানল, এই দশ হাজার টাকা আসলে তার নারীত্বের দাফন করার অগ্রিম মূল্য। বৈরাগ্যের বৃন্দাবন আজ তার কাছে এক বিশাল নিলামের মঞ্চ, যেখানে সে নিজেই নিজের ক্রেতা আর বিক্রেতা। বদ্ধ ঘরের গুমোট অন্ধকারে সুলগ্নার মনে হলো, সমাজ ও ধর্মের এই অদ্ভুত রসায়ন তাকে এক চরম সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
    সে মনে মনে হাসল—এক বিষাক্ত হাসি। সে বিড়বিড় করে নিজেকেই বলল, "দুনিয়ায় নারী পতিতালয় আর পুরুষ পতিতালয়ের কথা অনেক শুনেছি, কিন্তু আজ এই বৃন্দাবনের মাটিতে দাঁড়িয়ে ‘গোঁসাই পতিতালয়’ কী জিনিস, তা আমি নিজেই নিজের হাড় দিয়ে উপলব্ধি করেছি।" তিলক আর নামাবলীর আড়ালে যে কামনার এমন বীভৎস কেনাবেচা চলতে পারে, তা তার একুশ বছরের জীবনের সমস্ত পবিত্রতাকে এক লহমায় পুড়িয়ে ছারখার করে দিল।
     
                  ~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
     
    পঞ্চম অধ্যায় : প্রত্যাবর্তনের বিষাক্ত ছায়া
     
    বৃন্দাবনের আকাশে তখন চৈত্র শেষের তপ্ত মেঘের আনাগোনা। যমুনার চরে বালু উড়ছে। সুলগ্নার সেই সাত দিনের ‘সেবা’ আর দশ হাজার টাকার বিনিময়ে কেনা দিনগুলো পার হয়ে গেছে অনেক আগেই। শরীরের লাঞ্ছনা আর মনের অবমাননাকে পাথর করে সে যখন টিকে থাকার অন্য কোনো পথ খুঁজছিল, ঠিক তখনই যমুনার তীরের সেই শ্বেতপাথরের অট্টালিকার সামনে এসে থামল একটি গাড়ি।
     
    অট্টালিকার ভারী লোহার গেটটা দীর্ঘ সাত মাস পর সশব্দে খুলে গেল। গাড়ি থেকে নামল সেই চিরপরিচিত অবয়ব—**লক্ষণ**। কিন্তু সে একা নয়। লক্ষণের পরনে সেই ধবধবে সাদা বৈষ্ণবীয় পোশাক, কপালে তিলক আর মুখে সেই মায়াবী পাণ্ডিত্যের হাসি। গাড়ির অন্য পাশ থেকে নেমে এল এক নতুন মুখ—পশ্চিমবঙ্গ থেকেই নিয়ে আসা আর এক যুবতী। তার চোখেও সুলগ্নার মতোই একদা থাকা সেই মোহ আর বিশ্বাসের অঞ্জন। মেয়েটির পরনে দামী শাড়ি, গয়নায় মোড়া শরীর—ঠিক যেমনটা সুলগ্না ছিল সাত মাস আগে।
    সুলগ্না তখন পাশের সেই ঘুপচি ঘরের বারান্দায় দাঁড়িয়ে এই দৃশ্য দেখছিল। তার বুকের ভেতরটা এক লহমায় হিম হয়ে গেল। যে লক্ষণ তাকে এক পয়সা না দিয়ে নিরুদ্দেশ হয়ে গিয়েছিল, যে তার ফোন নম্বর বদলে ফেলে তাকে বৃন্দাবনের রাস্তায় ভিখারি বানিয়েছিল, সেই মানুষটাই আজ বীরদর্পে ফিরে এল এক নতুন ‘সাধনসঙ্গিনী’কে নিয়ে।
     
    লক্ষণ আড়চোখে একবার সুলগ্নার দিকে তাকাল। সেই চোখে কোনো অপরাধবোধ নেই, নেই কোনো ক্ষমা চাওয়ার লেশমাত্র। বরং এক ধরনের পৈশাচিক বিজয়োল্লাস খেলে গেল তার ঠোঁটের কোণে। সে নতুন মেয়েটির হাত ধরে অট্টালিকার সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে গম্ভীর স্বরে বলতে লাগল:
     
    > "রাধে রাধে! দেখছ তো, এই ব্রজধামে ভজন করতে হলে এমন শুদ্ধ পরিবেশ লাগে। যমুনার এই হাওয়া সরাসরি আমাদের কুঞ্জে আসবে। এখানে বসেই আমরা আমাদের উচ্চমার্গীয় সাধনা সম্পন্ন করব।"

    নতুন মেয়েটি মুগ্ধ হয়ে লক্ষণের মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। সে জানে না, এই প্রাসাদের প্রতিটি ইঁটে সুলগ্নার মতো কত অভাগীর দীর্ঘশ্বাস মিশে আছে।
     
    সুলগ্না স্থাণুর মতো দাঁড়িয়ে রইল। তার মনে পড়ল সেই গেরুয়াধারী সাধুর কথা, সেই দশ হাজার টাকার কথা, আর পেটের জ্বালায় নিজের শরীর বিলিয়ে দেওয়ার সেই বিভীষিকাময় রাতগুলোর কথা। আজ লক্ষণের এই রাজকীয় প্রত্যাবর্তন তাকে বুঝিয়ে দিল—এই ধর্মধাম আসলে এক মস্ত বড় শিকারভূমি। এখানে লক্ষণরা বারবার ফিরে আসে নতুন নতুন শিকার নিয়ে, আর সুলগ্নারা কেবল ব্যবহৃত হয়ে আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়।
     
    যমুনার জল আজ আরও ঘোলাটে দেখাচ্ছে। সুলগ্না বুঝতে পারল, তার লড়াইটা কেবল ক্ষুধার বিরুদ্ধে ছিল না, ছিল এই বিষাক্ত ব্যবস্থার বিরুদ্ধে—যেখানে তিলক আর নামাবলীর আড়ালে মানুষ কেনাবেচার এক নিপুণ কারবার চলে। লক্ষণের সেই অট্টালিকা থেকে ভেসে আসা খোল-করতালের শব্দ আজ সুলগ্নার কানে এক অট্টহাসির মতো বিঁধতে লাগল।
     
    ষষ্ঠ অধ্যায় : যমুনার তীরে ক্রুদ্ধা চণ্ডী
     
    অট্টালিকার শ্বেতপাথরের বারান্দায় যখন লক্ষণ নতুন সাধনসঙ্গিনীকে নিয়ে বৈষ্ণবীয় প্রেমের ব্যাখ্যা দিচ্ছিল, তখন সেই স্নিগ্ধ পরিবেশ চিরে হঠাৎ এক ঝোড়ো হাওয়ার মতো প্রবেশ করল সুলগ্না। তার চোখে আজ সেই একুশ বছরের ভীরু বিধবার ছায়া নেই, বরং সেখানে জ্বলে উঠেছে এক দহনকারী অগ্নিশিখা। সাত মাসের অবমাননা, ক্ষুধা আর শরীরের লাঞ্ছনা আজ তাকে এক অমোঘ শক্তি দিয়েছে।
     
    লক্ষণ অবাক হয়ে তার দিকে তাকাল। সেই ধূর্ত চোখে এক মুহূর্তের জন্য ভয় খেলে গেলেও সে নিজেকে সামলে নিয়ে গম্ভীর স্বরে বলল, "আরে সুলগ্না! তুমি এখানে এভাবে? দেখছ না আমরা এখন ভজন-সাধনের নিভৃত আলোচনায় আছি? যাও, নিজের ঘরে গিয়ে জপ করো।"
     
    সুলগ্না এক পা এগিয়ে এল। তার কণ্ঠস্বর কাঁপল না, বরং তা তলোয়ারের মতো ধারালো হয়ে আছড়ে পড়ল লক্ষণের ওপর। সে তীব্র শ্লেষের সাথে গর্জে উঠল:
     
    > "ভজন-সাধন? তোমাদের এই নামাবলী আর তিলকের আড়ালে যে নোংরা কারবার চলে, তাকে তোমরা সাধন বলো? লক্ষণ, আজ আমি তোমার পাণ্ডিত্য শুনতে আসিনি। তোমাদের এই বৈষ্ণব মতে সাধনসঙ্গিনী করার যে নিয়ম—তা আসলে কোনো আইনের আওতাতেই পড়ে না। এটা তোমাদের এক মস্ত বড় ধাপ্পাবাজি! তোমাদের ইচ্ছা-খুশি মতো যখন খুশি এক একজনকে সাধনসঙ্গিনী বানাবে, আর কাজ ফুরালে তাদের জঞ্জালের মতো রাস্তায় ছুড়ে ফেলে দিয়ে নতুন কাউকে নিয়ে আসবে—এই কি তোমাদের উচ্চমার্গীয় ধর্ম?"

    নতুন মেয়েটি ফ্যাকাশে মুখে সুলগ্নার দিকে তাকিয়ে রইল। লক্ষণ দাঁতে দাঁত চেপে বলল, "মুখ সামলে কথা বলো সুলগ্না! মহাপ্রভুর ব্রজধামে দাঁড়িয়ে অধর্মের কথা বোলো না।"
     
    সুলগ্না আরও এক ধাপ এগিয়ে এল, তার দুমড়ানো-মুচড়ানো আত্মসম্মান আজ মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে। সে চিৎকার করে বলল:
     
    > "অধর্ম আমি করছি না লক্ষণ, অধর্মের পাহাড় তুমি গড়েছ ওই যমুনার চরে! আজ যদি এই বৈষ্ণবীয় ভেক ধরার পেছনে শক্ত কোনো আইন থাকত, তবে তোমাকে আমি জেলের ঘানি টানিয়ে ছাড়তাম। তোমাদের মতো জ্যান্ত শয়তানদের জন্য কোনো শাসন নেই বলেই তোমরা ধর্মের নামে মেয়েদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছ। তুমি বৈষ্ণব নও, তুমি হলে গোটা বৈষ্ণব সমাজের কলঙ্ক! রাধারাণীর পবিত্র ব্রজধামে তোমার মতো লম্পটরাই হলো সবথেকে বড় গোঁসাই নামের কলঙ্ক!"

     
    সুলগ্নার এই রণচণ্ডী রূপ দেখে লক্ষণের সেই মায়াবী মুখোশটা এক লহমায় খসে পড়ল। তার পাশের সেই নতুন মেয়েটির চোখেও তখন অবিশ্বাসের কালো মেঘ। সুলগ্না আজ একা লড়ছে না, সে লড়ছে সেই সব হাজারো সুলগ্নাদের হয়ে, যারা বৃন্দাবনের অলিতে-গলিতে ধর্মের নামে ব্যবহৃত হয়ে হাহাকার করে মরে।
    যমুনার তীরে তখন অন্ধকার ঘনিয়ে আসছিল, কিন্তু সুলগ্নার চোখের সেই আগুন নেভবার নয়। সে আজ প্রমাণ করে দিল—বেদনার অতীত হয়ে গেলে নারী আর ‘অবালা’ থাকে না, সে হয়ে ওঠে এক একটি জাগ্রত বিচারক।
     
    ~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
     
     
     
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। বুদ্ধি করে প্রতিক্রিয়া দিন