এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • অরূপা অ-লৌকিক 

    Emanul Haque লেখকের গ্রাহক হোন
    ৩০ মার্চ ২০২৬ | ১৫৬ বার পঠিত | রেটিং ৪ (১ জন)
  • অরূপা অ-লৌকিক
    ইমানুল হক

    লাথির পর লাথি মেরেই চলেছেন। শূন্যে উঠছেন দুপায়ে লাথি মারছেন। যে-কোনো সময় পড়ে যেতে পারেন। ভ্রূক্ষেপহীন। বয়স হয়েছে। মাথা ভর্তি পাকা চুল। পরনে পাঞ্জাবি আর তলায় বোধহয় জিনস। দূর থেকে ঠিক ঠাহর হচ্ছে না।
    লোকটার মুখ চেনা চেনা লাগছে। কোথায় দেখেছে, কেউ বলে উঠতে পারছেন না। এক এক করে লোক জুটছে। একেকজনের একেক মত।
    কেউ বলছে টিভিতে দেখেছি। কেউ বলছে সিনেমায়। কেউ বলছে মাসিমার কাছে আসতো। দ্যাকোনি।

    কেউ কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করছে না। যদিও সবার ভারি কৌতূহল। কিন্তু কে আর সাধ করে হাঁড়িকাঠে, গলা দিতে চায়।
    লোকটা ভাঙছে একটা সাইনবোর্ড।
    সাইনবোর্ডে লেখা, এখানে হাউসিং প্রোজেক্ট হবে।
    তলায় কোম্পানির নাম লেখা। সাতদিন আগে লাগিয়ে গেছে। একটা সিকিউরিটি গার্ড রেখেছে। সে পাশেই থাকে। দেখে। আর সুযোগ পেলেই মদ গেলে। এই ফাঁকা মাঠে কে আর থাকতে চায়। হয় লোকটার খুব টাকার দরকার না হয় আর কিছু কাজ জুটছিল না। এখন সকাল হয়তো কোথাও গেছে। খেতে বা বাহ্যে করতে। সে থাকলে না হয় বারণ করতো।

    সাইনবোর্ড পাহারা দেওয়া তার কাজ। আর সেই কাজে অবহেলা। চাকরি চলে যেতে পারে। লোকটা রাতে ঘুমায় সামনে থাকা একটা বাড়ির বারান্দায়। শীত রাতে তো আর মালিকপক্ষের কেউ দেখতে আসছে না, সে সাইনবোর্ড পাহারা দিচ্ছে না ঘুমাচ্ছে।
    পাশের বস্তির লোক ভাব করার চেষ্টা করেছে। সুবিধা হয়নি। লোকটা কম কথা বলে। বড় গোঁফ। আর মোটা ভ্রূ। তার ফাঁক দিয়ে জুলজুল করে তাকায়।
    চোখে এবং মুখে বিরক্তি। ভাবখানা-- জ্বালিও না তো বাবু।
    লোকটা নিয়ে বস্তির লোকদের কৌতূহল যত না তার চেয়ে বেশি সাইনবোর্ড নিয়ে।
    কোম্পানি এলে ভালো না খারাপ সে নিয়ে জল্পনা চলেছে।
    কেউ বলছে, প্রথম কদিন জোগাড়ের কাজ দেবে। তারপর হয়ে গেলেই ফুটিয়ে দেবে।
    এবং বড় হাউসিংয়ের পাশে বস্তি কী মানায়-- এই বলে হল্লা পাকাবে হাউসিং কমিটির লোক।
    একজন বহু অভিজ্ঞ। বহুদিন বাঙ্গালোর হায়দ্রাবাদের হাউসিং সোসাইটিতে সিকিউরিটির কাজ করেছে। দেখেছে, বাবুরা মুখে এক মনে আরেক।

    একেকটি পাক্কা হারামির বাচ্চা। সব হাউসিংয়ের বস্তি থাকে। তারপর সেখান থেকে তোলার চেষ্টা করে। না পারলে কয়েকবার আগুন লাগিয়ে দেয়। কাগজে বের হয়, রান্না করতে গিয়ে আগুন। টিভিতে সবসময় এসব খবর দেখায় না।
    দেখানো বোধহয় বারণ।
    সেই সবচেয়ে বেশি জায়গায় ঘুরেছে। আগে মাল খেতো। এখন খায় না। কেন? বাবুরা শালা মহাখচ্চর। এক বোতল মদ দিয়ে বহুত খাটিয়ে নিত।
    তাই মদ ছেড়ে দিয়েছে।

    সেই প্রথম খেয়াল করে লোকটার লাফিয়ে লাফিয়ে সাইনবোর্ড ভাঙার চেষ্টাটা।
    তার নিজের ষোলো আনা ইচ্ছা ছিল এটা ভাঙার।
    দুটো কারণে পারেনি।
    এক, একজন সিকিউরিটি গার্ড সিকিউরিটি গার্ডের ক্ষতি করতে পারে না।
    সে প্রায়ই বলে, কাক কাকের মাংস খায় না। আর বড়লোক বড়লোকের মাংস।
    তবে বোকা পাঁঠা গরিব কেন গরিবের মাংস খাবে ?
    সে কোনও পার্টি করে না। কোনও পার্টিকে বিশ্বাস করে না। সবকিছুতেই তার অবিশ্বাস। আর ঘৃণা। পারলে সবকিছু সে ঘৃণার চাদরে থুতু দিয়ে মুড়ে দিত।
    তার মনে হচ্ছিল, বাবুটা নয় যেন সেই লাথি মারছে।

    ভিতরে ভিতরে সে এক প্রবল উত্তেজনা অনুভব করছিল। নতুন বউকে আদর করার মতো আবেগ ও উত্তেজনা।
    জিও ব্যাটা জিও।
    এইসব সে বলছিল। তবে মনে মনে।
    বাবুদের সঙ্গে মিশতে মিশতে সেও বাবুদের মতো বিশুদ্ধ হারামিপনা শিখে গেছে। জেনে গেছে শুধু দেওয়াল নয় সবকিছুর কান আছে।
    আর বড় লোকদের চোখ কম। কান বেশি।

    আজকাল সবাই ফ্লেক্স লাগায়। এই সাইনবোর্ডটা টিনের।
    লোকটার আঘাতে একটা অংশ ভেঙে পড়ে। লোকটাও বসে পড়ে। বোধহয় কেটে গেছে। বা তার ঘৃণা দেখানো শেষ।
    সে নিজের কাছে নিজের রেকর্ড রাখছে।
    কিন্তু কেন?
    জমিটা তো তার নয়।

    জমিটা কার সবাই জানে।
    এক দিদিমণির। কেউ বলতো মাসিমা, কেউ দিদিমা, কেউ দিদিমণি। কেউ শুধুই দিদি।
    বছর খানেক হল মারা গেছেন। মারা যাওয়ার পর বহু লোক এসেছিলেন। ছেলেটা আমেরিকায় থাকে। সেও এসেছিল। এখন কেউ আসে না।
    আর আসবে বলেও মনে হয় না।
    এক তলার ঘর। চার দিকটা ঘেরা ছিল। সেখানে বেশ কয়েকটি ঘর। কোথায় না কোথায় থেকে ছেলেমেয়ে তুলে এনে মানুষ করতো।
    বছরে সেখানে মাঝে মাঝে অনুষ্ঠান হতো। নবান্ন, ভাইফোঁটা, পয়লা বৈশাখ আর পয়লা জানুয়ারি।
    পুরানো সিকিউরিটি গার্ড লোকটার মনে পড়ল, আজ তো পয়লা জানুয়ারি। এই তো দু বছর আগেও বস্তির সবাই সেখানে সন্ধ্যায় গান শুনতে যেতো আর খিচুড়ি খেয়ে আসতো।
    পাড়ার মেয়েরা গিয়ে পিঠে পুলি বানাতো। সেসবের ভাগ পেতো সবাই।
    কোনও পূজা আচ্চা করতে দেখেনি কেউ। বেঁটে খাটো মানুষ। কিন্তু কী তেজ। কম কথা। যা বলতেন, সেটাই বেদবাক্য। কেউ নড়াতে চড়াতে পারতো না।
    অঙ্কের দিদিমণি ছিলেন। বরের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় একমাত্র ছেলেকে নিয়ে এসে বিঘেখানেক জমি কিনে একইসঙ্গে চাষবাস ও বাড়ি করেন। তারপর খুললেন অনাথ আশ্রম। অনাথ আশ্রম কথাটা ব্যবহার করেননি। লিখতেন, অরূপার ছেলেমেয়েদের বাড়ি। সেই বোর্ড ঝুলিয়েছিল সঞ্জুই। অনেক আবেদন নিবেদন করে।
    বাড়ির নামের কী দরকার। এই তো বেশ আছি সবাই। অরূপা বলেছিলেন।
    সেই বোর্ডটা কেউ খুলে নিয়ে গেছে।
    আর তার কদিন পরেই এই বোর্ড। হাউসিং গড়ার বোর্ড।
    দেখে গা জ্বলে যায় মোক্ষদার। মোক্ষদাই ছিল দিদির সবসময়ের সঙ্গী।
    দিদি মারা যাওয়ার আগে মোক্ষদা বেশ কিছু টাকা দিয়ে যান। সে টাকা ব্যাঙ্কে জমা। মাসে মাসে সুদ পায় মোক্ষদা। মাসের মাইনেও ব্যাঙ্কে দিতেন।
    বলতেন, যতদিন আছি তোর খরচ আমার। আমি না থাকলে চালাবি কী করে? ওই পয়সায় হাত দিসনে।
    দিদির সব ভালো ছিল, নামটা ছাড়া। অরূপা।
    বাপ মা এত ভালো মনের মানুষের এমন নাম রাখল কী করে?
    সাইনবোর্ড ভাঙার খবর পেয়ে লাঠি ঠুকঠুক করতে করতে মোক্ষদা হাজির। পড়ে গিয়ে পা ভেঙেছে। তা থেকেই সাবধানী এখন।
    সে এসেই বলে, চল আমাকে নিয়ে। দেখি কে ভাঙল। আমাদের যে কাজ করার সাহস হলুনি, কোন বাপের ব্যাটা সে কাজ করল ?.

    মোক্ষদা চুপ করে শুনতে শুনতে কেঁদে ফেলে।
    মোক্ষদা এসেই বলল, ও সঞ্জু বাবা তুই ? তুই ছাড়া আর কে পারতো এটা করতে। বড় ভালো করেছিস।
    কোথায় ছিলি বাবা এতদিন ?
    আমি আমেরিকায় ছিলাম মাসি। পড়াতে গিয়েছিলাম। কাল ফিরেছি। ফিরে আজ এসেই দেখি বাগানের জায়গায় হাউসিংয়ের বোর্ড। সব গাছ কেটে ফেলেছে শয়তানের দল। তার জায়গায় লাগিয়েছে বোর্ড।
    মাথা ঠিক থাকে বলো।
    বাবা রে, আমি তখন পা ভেঙে হাসপাতালে। আমি থাকলে গাছ কাটার সময় হেঁসো দিয়ে গলা কেটে ফেলতাম না।
    সে তুমি পারো মাসি।
    হ্যাঁ রে, দিদির ছেলে অমু নাকি আর দেশে ফিরবে না, তাই জায়গাটা বেচে দিয়েছে।
    আমার জানা নেই মাসি।
    সে কীরে সেও তো আমেরিকাতেই থাকে।
    আমেরিকা কি ছোট জায়গা মাসি। অনেক বড় দেশ।
    যাদবপুরের কাজটা কি ছেড়ে দিয়েছিস?
    কাজ ছাড়লে খাবো কি মাসি?
    কী যে বলিস, তোর টাকার অভাব? কী দুষ্টু ছিলি পড়ায় মন ছিল না। শুধু গাছে গাছে লাফিয়ে বেড়ানো। একবার তো তালগাছের মাথায় উঠে পড়েছিলি।
    তোমার মনে আছে ?
    হ্যাঁ, তোকে দিদি যখন বলল, আর তোকে অঙ্ক করতে হবে না। তখন নামলি।
    আর এখন অঙ্ক পড়িয়েই পেট চালাতে হয় মাসি।
    একবার চ, ঘরের ভেতর।
    না। ইচ্ছে করছে না।
    চল। আমার কাছে একটা চাবি আছে।
    দুজনে এগোতে থাকে। এগিয়ে গিয়ে মূল দরজার সময় দাঁড়ায়।
    এমন সময় একটা গাড়ি এসে থামে। তারপর আরেকটা। তারপর আরেকটা। এভাবে গোটা বিশেক গাড়ি থামে।
    এই এলাকার অদূরে সকাল সাড়ে আটটার সময় কলকাতা থেকে একটা এক্সপ্রেস ট্রেন আসে। সেই ট্রেন থেকে নেমেই এসেছে একদল নর নারী। কারও চুল পাকা। কারও আধপাকা। কারও কারও কাঁচা।
    সবাই সঞ্জুকে ঘিরে ধরে।

    তুমিও এসেছো সঞ্জুদা ? অমুদার সঙ্গে তোমার যে কী হলো, বহুদিন এমুখো হলেই না! কারও সঙ্গে কোনও যোগাযোগ রাখলে না। মাসিমার সঙ্গেও না। কত আক্ষেপ করতেন। বলতেন, আমি কি শুধু অমুর মা, সঞ্জুর মা নই ?

    মাসিমাই আসতে বললেন।
    মাসিমা।
    আজ মাঝরাতে আমার মাথায় হাত দিয়ে বললেন, সঞ্জু তোকে আমার ভারি দরকার। তুই আয়।
    আমি উঠে আলো জ্বাললাম। কেন যে জ্বাললাম। দেখতে পেলাম না।
    তারপর একটা গাড়ি ভাড়া করে বের হয়ে সকালে এসে দেখি এই অবস্থা।
    কী অবস্থা সঞ্জুদা ?

    সবাই হইহই করে উঠল।
    চল দেখবি।
    দেখতে গিয়ে সবার চক্ষু স্থির। বাগানের পাঁচিল ছিল না। ছিল রাঙচিত্রার বেড়া।
    মাসিমা বলতেন, আমাদের দেশ এমন নর্দমাগুলো খোলা থাকে, আর বাগানগুলো ঘিরে রাখতে হয়।
    তাই আমাদের বাগানের কোনও পাঁচিল থাকবে না।
    সঞ্জুদা তোমার মাথাতেই রাঙচিত্রার বেড়াটার আইডিয়াটা এসেছিল না ?
    সঞ্জু এই বাড়ির তৃতীয় সদস্য।
    অরূপা, অমুর পর সঞ্জু।
    সঞ্জুকে স্টেশনের বেঞ্চে শুইয়ে রেখে চলে গিয়েছিল কেউ। সঞ্জু তখন ছয় মাসের বাচ্চা।
    অরূপা খবর পেয়ে নিয়ে আসেন। তারপর আসে রিনি। রিনি এক্কেবারেই ছোট ছিল। অরূপা স্কুল গেলে মোক্ষদা আর দুই দাদাই তার দেখভাল করত।
    এভাবেই একে একে মানসী তরুণ অনিমা চয়ন সুবিকাশ বিপ্লব গৌর -- পঞ্চাশ বছরে অন্তত পঞ্চাশ জন।
    সরকারি সাহায্য নেননি। নিজের বেতন আর বাগানের সব্জি দিয়ে সংসার চালিয়েছেন।
    এখান থেকে মানুষ কেউ আমেরিকা, কেউ কানাডা কেউ ইংল্যান্ড কেউ বাঙ্গালোর কেউ দিল্লি বা চেন্নাইয়ে চাকরি করে।
    অরূপা বলতেন, আমি রত্নগর্ভা। কেউ ছোটবেলায় কেন কলেজ জীবন পর্যন্ত জানত না নিজেদের পরিচয়।
    এ-নিয়ে আলোচনা ছিল নিষিদ্ধ।
    সবাই বলত মা।
    শুধু সঞ্জু বলত মাসিমা।
    অমু নাকি ছোটবেলায় রাগ করে একবার বলেছিল, তুই তো আমার মায়ের পেটের ভাই নোস।
    সঞ্জু ভোলেনি।

    শুধু মা বলা বন্ধ করে মাসিমা বলা শুরু করেছিল। তারপর খুব দুরন্ত হয়ে উঠেছিল।
    মাসিমা কীভাবে তাকে সামলেছেন আজ মনে পড়লে লজ্জা পায় সঞ্জু।
    তবে সঞ্জু ছিল সকল কাজের কাজি।
    গানের দলের পাণ্ডা, নাটকের নির্দেশক।
    বছরে দুবার নাটক বাঁধা।
    পঁচিশে বৈশাখ এবং পয়লা জানুয়ারি।
    ছেলেমেয়েরা একসঙ্গে নাটক করতো।
    আর পঁচিশ বছর আগে সঞ্জু চালু করে পুনর্মিলন উৎসব।
    গত চার বছর সঞ্জুই আসে নি।
    ফোন কোনও কালেই ব্যবহার করতো না।
    ইমেইল আইডিও বদলে ফেলে। ফলে অরূপার মৃত্যু সংবাদ পৌঁছে দিতে পারে নি কেউ। কেন যে এমন স্বেচ্ছা নির্বাসন কাউকে বলেনি সঞ্জিত রায়।
    এ বাড়ির সব ছেলেমেয়েদের পদবী রায়।
    অরূপা রায়ের ছেলে মেয়ে সবাই।
    হেসে বলতেন, গান্ধারী শতপুত্রের মা। আমি অর্ধশতের। কিন্তু আমার কোনও দুঃশাসন নেই।
    সঞ্জু বলতেন, একজন আছেন। তুমি জানো না।
    অরূপা বলতেন, মার খাবি সঞ্জু।
    সঞ্জু দেখাচ্ছিল আর রাগে ফুঁসছিল।
    পারলে সে এখনই কাউকে ভষ্ম করে ফেলবে।
    অর্ণ ছিল চুপচাপ সবচেয়ে। দেখা গেল সেই সবচেয়ে কাজের হয়েছে।
    এর মধ্যে কখন সে দল ছেড়ে বের হয়ে গেছে। বাজার থেকে এক ঝুড়ি কচুরি জিলিপি আর চায়ের বড় জায়গা নিয়ে এসে হাজির।
    এই জন্ম খিদা রূপা, তোদের খিদে পায়নি?
    সবার খিদে পেয়েছিল। কিন্তু ঘরবাড়ির দশা, বাগানের গাছকাটা আর এই জায়গায় প্রো ভোটিং হবে শুনে সবার মন খারাপ।
    তাই খিদে নিয়ে কেউ মাথা ঘামাচ্ছিল না।
    সঞ্জুই বলল, বাধ্য হয়ে, তোরা খেয়ে নে সব।
    তুমি খাবে না।

    তুমি না খেলে আমরা কেউ খাবো না।
    বাধ্য হয়ে সঞ্জুকে খেতে হলো।
    খাওয়ার পর সবাই বসলো।
    অর্ণ খুব কাজের হয়েছে বোঝা গেল। তিনটি বড় সতরঞ্জি বালিশ চাদর ইত্যাদি নিয়ে ডেকোরেটরের লোক হাজির।
    তারপরই হাজির গ্যাস ইত্যাদি নিয়ে ক্যাটারারের লোক।
    নন্দিনী বলল, তুই তো ভালো ম্যানেজার হয়েছিস। বিয়ে না করেই এত শিখে গেছিস।
    বারে দুপুরে খাবো না এখানে। মা নেই। কিন্তু আমরা তো আছি। মোক্ষদা দিদিও খাবে।
    আর রাতে আগের মতোই পাড়ার সবার নিমন্ত্রণ।
    বলিস কী রাতে থাকবি নাকি ?
    হ্যাঁ।
    শুধু আজ নয় আমি সারাজীবন এখানেই থাকবো।
    থাকবি যে, এই জমি নাকি অমু বেচে দিয়েছে।
    জানি। কিন্তু আমি থাকবো এখানে।
    সঞ্জু মুখ খুললেন, সবদিক ভেবে বল।
    আমি ভেবেই বলছি। আমি কাল রাতে মায়ের সঙ্গে কথা বলেছি। ইনফ্যাক্ট মাই বলেছেন।
    মা কীভাবে ?
    আমি পরিষ্কার বললেন, আমার স্বপ্ন মরে যাচ্ছে। আমাদের বাড়ি ভেঙে ফেলা হচ্ছে। তোরা কি আমার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে পারিস না।
    কী করে মা ?
    একটা ভালো বাংলা মাধ্যম স্কুল কর। আবাসিক স্কুল। আমার কিছু টাকা জমা আছে। কিছু জোগাড় করবি।
    আমাদের বাড়িতে বারো ভূত এসে থাকবে ? পয়লা বৈশাখ পঁচিশে বৈশাখ হবে না ? পয়লা জানুয়ারিতে হিন্দি গান বাজবে ? এ আমি সহ্য করতে পারবো না অর্ণ।
    তা তোরা কীভাবে এলি ?
    একে একে সবাই বলল, শীতে তো সবাই কলকাতায় ফিরি।
    আগে এখানেই আসতাম। এবার মা নেই। কী করবো ভাবছিলাম।
    সবাই জানাল, মাকে স্বপ্ন দেখেছে। মা বলেছেন, তোরা কাল আসছিস তো ?
    আমি অপেক্ষায় থাকবো।
    সঞ্জুদা, তুমি তো চির নস্তিক। তূমি ?
    তোরা বিশ্বাস করবি কিনা জানি না, গত কয়েকদিন প্রতি রাতে মা আসেন। স্বপ্নে।

    –––––––

     
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভ্যাবাচ্যাকা না খেয়ে মতামত দিন