ভয়ে ভয়ে থাকি। 'দায় আমাদেরও' নাটকের জন্য ৫৪ টি টিকিট কেটেছিলাম। বাপের অভ্যাস পেয়েছি। বাবাও ভালো যাত্রা সিনেমা দেখাতে টিকিট কেটে গোরুর গাড়ি চাপিয়ে যাত্রা দেখাতে নিয়ে যেত। ১১ বছর বয়সে এভাবেই দেখেছিলাম, তুরুপের তাস। সিআইএ- র চক্রান্ত নিয়ে। এটা ছয় কিলোমিটার দূরে। আমাদের জুনিয়র হাইস্কুলে তখন বাবা সম্পাদক। বাবা সব শিক্ষকদের নিয়ে গিয়েছিলেন। প্রধান শিক্ষক কার্তিক নন্দী জিজ্ঞাসা করলেন, বুঝেছিস কিছু? যা বুঝেছিলাম। বললাম। বর্ণালী ব্যানার্জি অনাদি চক্রবর্তী শেখর গাঙ্গুলি তুখোড় সব অভিনেতা। সিআইএর জালে কীভাবে জড়াচ্ছেন সেই নিয়ে যাত্রা। তার আগে ছয় বছর বয়সে বাবা ১৪ কিলোমিটার দূরে মাঘ মাসের তীব্র ঠাণ্ডায় নিয়ে গিয়েছিলেন আহ্লাদিপুরে তরুণ অপেরার 'মাও সেতুঙ' পালা ... ...
হাওয়া হাওয়াইমানুল হকহাওয়া হাওয়াদমবন্ধ হয়ে আসছিল।ভাবলাম, যাই একটু ময়দানে ঘুরে আসি। সেখানেও দেখি মেলা ভিড়।হাঁটতে হাঁটতে নদীর পাড়ের দিকে এগোই।ওই তো নদী।আহ।মন ভালো হয়ে যায়।নদীর ধারে বাঁধানো চৌতালে বসতে যাব, দেখি একটা মার্সিডিজ এসে ব্রেক কষল।কী ব্যাপার ?সাব বুলা রহে !উর্দি পরা চালক বলেন।সাব মানে সাহেব, আমাকে ?বিস্মিত হই।বিস্মিত হতে পারো, কিন্তু বিস্ময় দেখাতে নেই।আধুনিক শাস্ত্র মতে তাই সিদ্ধ।বিজ্ঞ বিজ্ঞ ভাব করে এগোই। ততোক্ষণে দরজা খুলে গেছে গাড়ির।দেখি দেখি চেনা চেনা লাগে।কী রে ব্যাটা বমকে গেছিস ? চিনতে পারছিস না ? ন্না মানে এই রকম দেখতে একজনকে চিনতাম, স্কুলে পড়তো। কিন্তু সে তো শুনছি, বিদেশে থাকে ?নাম কী ?ভোলা।ওরে ব্যাটা, আমিই সেই। ... ...
অরূপা অ-লৌকিকইমানুল হকলাথির পর লাথি মেরেই চলেছেন। শূন্যে উঠছেন দুপায়ে লাথি মারছেন। যে-কোনো সময় পড়ে যেতে পারেন। ভ্রূক্ষেপহীন। বয়স হয়েছে। মাথা ভর্তি পাকা চুল। পরনে পাঞ্জাবি আর তলায় বোধহয় জিনস। দূর থেকে ঠিক ঠাহর হচ্ছে না। লোকটার মুখ চেনা চেনা লাগছে। কোথায় দেখেছে, কেউ বলে উঠতে পারছেন না। এক এক করে লোক জুটছে। একেকজনের একেক মত। কেউ বলছে টিভিতে দেখেছি। কেউ বলছে সিনেমায়। কেউ বলছে মাসিমার কাছে আসতো। দ্যাকোনি। কেউ কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করছে না। যদিও সবার ভারি কৌতূহল। কিন্তু কে আর সাধ করে হাঁড়িকাঠে, গলা দিতে চায়। লোকটা ভাঙছে একটা সাইনবোর্ড। সাইনবোর্ডে লেখা, এখানে হাউসিং প্রোজেক্ট হবে। তলায় কোম্পানির নাম লেখা। সাতদিন আগে লাগিয়ে গেছে। ... ...
এলিইমানুল হক ভাবে নি দরজা খুলবে।খুলল।যথেষ্ট দোনামোনা ছিল, এতো রাতে যাওয়া কি ঠিক হবে ?কী ভাববে ?তবু এতো কাছে এসে একবার খোঁজ না নেওয়াও অনুচিত ভেবে আসা। একটা বড়ো ঘর। একটা খাট। একটা চৌকি। চৌকিতে ছেলে ঘুমাচ্ছে। আওয়াজ পেয়ে একবার তাকালো তারপর মুখ ঘুরিয়ে শুয়ে পড়লো।ইস ছি ছি-- একবারে খালি হাতে আসা ঠিক হয় নি।যাক একদিকে ভালোই হয়েছে, ছেলের ছুতো করে কিছু টাকা দেওয়া যাবে।দরজা খুলেই এলি খাটের দিকে যাচ্ছিল, বোধহয় জানালাটা খুলতে।ঘুমোও নি।না।তুমি কি রাত করে ঘুমোতে যাও ?না, একটু বই পড়ি তারপর।ফেসবুক হোয়াটসঅ্যাপ ?নেই। ছেলের কাছে মোবাইল। ওর নেট ভরতেই পারি না, আবার নিজের ?একসময় ভালো কবিতা বলতে গান ... ...
যে পৃথিবী বাঁচবে, বাঁচাবেমন্দির মসজিদ গির্জা নেবাঁট লিয়া ভগবান কোসাগর বাঁটো জমিন বাঁটোমৎ বাঁটো ইনসান কো১৯৯৮-এ গুজরাতে নির্বাচনী সমীক্ষায় গিয়ে সুরাত স্টেশনে চোখ টানে মননঋদ্ধ প্রাচীরচিত্র। ২০০২-এ গণহত্যা-পরবর্তী কালে ত্রাণ নিয়ে গিয়ে দেখি, সেই দেওয়ালে অন্য ছবি আঁকা। আর আসল ভারতের চেহারা দেখি, আমদাবাদ শাহ আলম ত্রাণ শিবিরে।ভগবতী দেবী দু’মাস ধরে ছিলেন ত্রাণ শিবিরে। ‘সহেলি’ রোশেনারার দুঃখে অংশীদার হবেন বলে। ‘মুসলমান’-দের তেমন ঘেন্না করেন না বলে তাঁর বাড়িও জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ভগবতী দেবী এক থালায় খেতেন অন্যদের সঙ্গে। ত্রাণ শিবিরে তো কারও নিজের থালা ছিল না।— কেন এলেন এখানে?— উও মেরি সহেলি হ্যায়। মেরি জান। পাশাপাশি ঘর। বিয়ের পর থেকে ... ...
দাঙ্গা সম্পর্কিত আটটি টুকরো ইমানুল হক ।। ১। । তিন বন্ধুতে জোর তর্ক শুরু হল। -- আমি যে বাড়িটা পুড়িয়েছি সেটাই সবথেকে বড়ো। প্রথম বলল। -- মোটেই না, আমারটা আরো বড়ো ছিল। দ্বিতীয়’র মন্তব্য। -- বাজে গুল মেরো না। আমার মতো বাড়ি তোমরা দ্যাখোওনি জন্মে। ওইটাই সবচে বড় বাড়ি। তৃতীয় বন্ধুর দাবি। -- কী করে বুঝলে ? প্রথম ও দ্বিতীয় সমস্বরে জিজ্ঞাসা করে। -- আমি আজ সন্ধ্যায় একজন পুলিশকে মোট পঁয়ত্রিশটা কাফন ... ...