এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • এলি

    Emanul Haque লেখকের গ্রাহক হোন
    ২৯ মার্চ ২০২৬ | ৩২ বার পঠিত
  • এলি
    ইমানুল হক

     ভাবে নি দরজা খুলবে।
    খুলল।
    যথেষ্ট দোনামোনা ছিল, এতো রাতে যাওয়া কি ঠিক হবে ?
    কী ভাববে ?
    তবু এতো কাছে এসে একবার খোঁজ না নেওয়াও অনুচিত ভেবে আসা। একটা বড়ো ঘর। একটা খাট। একটা চৌকি। চৌকিতে ছেলে ঘুমাচ্ছে। আওয়াজ পেয়ে একবার তাকালো তারপর মুখ ঘুরিয়ে শুয়ে পড়লো।
    ইস ছি ছি-- একবারে খালি হাতে আসা ঠিক হয় নি।
    যাক একদিকে ভালোই হয়েছে, ছেলের ছুতো  করে কিছু টাকা দেওয়া যাবে।
    দরজা খুলেই এলি খাটের দিকে যাচ্ছিল, বোধহয় জানালাটা খুলতে।
    ঘুমোও নি।
    না।
    তুমি কি রাত করে ঘুমোতে যাও ?
    না, একটু বই পড়ি তারপর।
    ফেসবুক হোয়াটসঅ্যাপ ?
    নেই। ছেলের কাছে মোবাইল। ওর নেট ভরতেই পারি না, আবার নিজের ?
    একসময় ভালো কবিতা বলতে গান গাইতে-- সে-সব একটু করতে। লোকে দেখতো।
    ওসব কথা ছাড়ুন। অতীত

    অতীত কেন হবে ? বেশিদিনের তো কথা নয়।
    মুখে একটু বিষাদাচ্ছন্ন হাসি। তাকিয়ে দেখলাম, সেই একরকম ই আছে। প্রথম দেখার মতো।‌ ছিপছিপে। মেদহীন।। নাচতো ভালো। এখনও কোমর তাই আছে।
    তাকিয়ে ফেলে অস্বস্তি হলো।
    আসলে এলি বলতো, আপনি নাচ শিখলে ভালো হতো।
    কেন ?
    আমার মনের ইচ্ছে কেমন করে জানলো ?
    আপনার সরু কোমর। মেয়েদের মতো। 
    বলেই বলেছিল, কিছু মনে করলেন না তো !
    --২/-

    --২/-

    আমি কিছু বলি নি।
     ভেবেছিলাম,শিখে রাধাকৃষ্ণ নৃত্য নাট্য করবো আধুনিক আঙ্গিকে। ও  রাই আমি কানু।
    হয় নি।
    বাবা মারা গেলেন।
    আমাকে চাকরির সন্ধানে ছুটতে হল। শিলংয়ের একটা কলেজের মাস্টারি। আচ্ছন্ন হয়ে গেলাম শিলংয়ের শান্ত শীতলতা আর সিঁদলে।
    এলি পরেছে একটা গোলাপি শাড়ি। হালকা গোলাপি ব্লাউজ। অন্তর্বাসহীন।
    আমার চোখ বুঝে আঁচল টানলো। ছি ছি কী ভাবলো!
    আমি জানতাম আপনি আসবেন ?
    আশ্চর্য।
    আশ্চর্য কেন, আমি কি আগে মেলাতে পারতাম না আপনার গতিবিধি ?
    পারতো। কবে পড়াতে আসবো আর কবে আসবো না-- বুঝতে পারতো।
    পড়া করে রাখতো না-- যেদিন আসতাম না।

    কী করে বুঝতে ?
    সব বলে দিতে নিই। তা দাঁড়িয়ে আছেন কেন ?বসুন। চা করি। ও আপনি তো আবার চা খান না।
    মনে আছে ?
    আরো অনেক কিছু মনে আছে। তা বসা হোক।
    না, করোনা সময়, নার্সিং হোমে এতোক্ষণ বসেই ছিলাম।
    মাসিমা কেমন আছেন ?
    কী করে জানলে ?
    যে আমার ঠিকানা দিয়েছে তার কাছে।
    ও মণি, ওর সঙ্গে দেখা হয়েছিল বুঝি।
    হ্যাঁ। আর ওকেই বলেছিলাম, নির্লজ্জের মতো, বলিস কাছেই থাকি। যদি একবার দেখা করা যায়।
    করতে কী করে। আজ এসেছি। ভোরেই চলে যাবো ?
    সে কি ? মাসিমার এই অবস্থায়।
    মা-ই বললেন, খোকা তোর বাবা হলেও বলতো যেতে।
    কোথায় ?
    এখান থেকে তিনশো কিলোমিটার দূরে। পুরুলিয়ায় অযোধ্যা পাহাড়ে।
    --৩/-

    --৩/-

    কেন ? বেড়াতে ? 
    না একটা অনাথ আশ্রম করা হয়েছে বাবার নামে বাবার বাড়িতে। সেখানে।
    জানি। মণি বলেছে অনাথ ও বৃদ্ধাশ্রমের কথা।
    ওই আর কি বুড়ো বয়সটা কাটাবো এখানে।
    আমেরিকা ছেড়ে পুরুলিয়ায় ?
    ওটাই তো আমার শিকড়। শৈশব। ধুলো কাদা মাটি জল মাখা জীবন।
    তবু ?
    বাড়ির লোক রাজি হবেন? বৌদি? ছেলেমেয়েরা ?
    জবাব দিই না। হাসি। এলি সব জানে না তার মানে।
    কী উত্তর দিলেন না ?
    তুমি আমাকে একসময় তুমি বলতে এলি।
    আরেকজন আমাকে তুই বলতো।
    কী করে বলি, তোমার বর রাগ করবেন।
    বর ? তোমাকে মণি কিছু বলে নি।
    না।
    আসে না আর। থাকে দিল্লিতে। নতুন সংসার করেছে।
    কেন ?
    আমার মা ও শাশুড়িকে ছেড়ে দিল্লি যেতে চাই নি তাই।
    সে কি ?
    মা আর শাশুড়ি দুজনেই বললো, লোকের গলগ্রহ হতে পারবো না। আর ওতো-শত  হিন্দি ফিন্দি বলতে পারবো না এই বয়সে।
    শুধু এইজন্য থেকে গেলে !

    আমি তো এ-রকমই আসিফদা।
    কতোদিন পর এই নামটা শুনলাম।
    কেন লোকে কী বলে ?
    ডক্টর চাউধুরি।
    হেসে ফেলে এলি। চোরধরি বলে নি ভাগ্যিস।
    বিষণ্ণ মুখ ছাড়িয়ে এগারো ক্লাসের এলির মুখ।

    --৪/-

    --৪/-

    বড়োলোকের মেয়ে। আমার খুব টিউশনির টাকা দরকার ছিল। তখন নিতাইদা এটা জুটিয়ে দেন। স্কার্ট পরতো এলি। লন্ডনে কাটিয়েছে দশম শ্রেণি পর্যন্ত।
    ওর ইংরেজির চোটে কোন টিউটর টিকতো  না। আমি টিকে গেলাম, না এলি দয়াপরবশ হয়ে টিকিয়েছিল, ঠিক জানি না। বোনেদের স্কুলে পড়তো। তাই বোধহয় বাড়ির অবস্থা জেনে মায়া করে কিছু বলে নি। আমি ওর পাল্লায় পড়ে গোগ্রাসে ইংরেজি সাহিত্য গিলেছি।
    বাচ্চার মতো মাঝে মাঝে বই খাতা কাড়াকাড়ি করতো।
    আমি বুঝতে পারতাম এলি বুঝতো না, ওর কাছে এলে আমার হৃদস্পন্দন বেড়ে  যেতো।
    কিন্তু ধনীর মেয়ে। আলাদা ধর্ম। আমাদের ভাড়া বাড়ি। কমন টয়লেট। এক বারান্দায় দুই পরিবার।
    আশ্চর্য আমাদের সেই  বাড়িতেই ভাড়া এলিরা এখন থাকে। কী করে এমন হলো কে জানে ? এলির যার সঙ্গে বিয়ে হওয়ার কথা শুনেছি, সে অক্সফোর্ডে পড়তে গিয়েছিল। ইংরেজি মাধ্যমে পড়তো।
    এলি বাংলা মাধ্যমে পড়ে। কারণ ওর মায়ের ইচ্ছা ছিল মেয়ে একটু বাংলা শিখুক। নিজের স্কুলে ভর্তি করেন।
    এলির বাবা ছিলেন ব্যবসায়ী। সিনেমায় টাকা ঢালতেন। এলির জন্মদিনের পার্টিতে সংকুচিত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতাম আমরা দুই ভাই বোন। কতো সিনেমা আর্টিস্ট রাজনীতিবিদ আসতো। পার্টি বলতে আগে সিপিএম কংগ্রেস বুঝতাম এখন বুঝলাম, পার্টি মানে। মদের গ্লাস হাতে ওয়েটাররা ঘুরে বেড়ায়।
    আমি মণি সবেতেই না না করে একটু খেয়ে রবীন্দ্রনাথের 'সঞ্চয়িতা' দিয়ে চলে আসি।
    #
    রাত হচ্ছিল। হাসপাতাল থেকে ফোন এলো। এতো রাতে ? ভয়ের ব্যাপার ! 
    তাড়াতাড়ি বের হয়ে গেলাম জানা হলো না এলিদের অজানা কথা।
     
    এলি বললো, ভোরে যাওয়ার সময় এক কাপ চা খেয়ে যেও।
    চা তো খাই না।
    আচ্ছা হরলিক্স করে দেবো না হয়। আমার ছেলে তো খায়।
    #
    নার্সিং হোমে এসে দেখি ড. ব্যানার্জি চৌধুরী অপেক্ষা করছেন। একটা জরুরি অপারেশন ছিল।দেরি হয়েছে। তাই রাত দেড়টার সময় যাওয়ার আগে কথা বলতে চান, মায়ের অপারেশনে ঝুঁকি আছে, বাড়ির লোককে সিদ্ধান্ত নিতে হবে অপারেশন করবেন কিনা?
    মণি আমার একমাত্র বোন। বিয়ে থা করে নি আমার মতোই। অনাথ আশ্রম চালায় আর পড়ায় একটা স্কুলে। শনিবার চলে যায় সোমবার ফেরে।
    এই সপ্তাহে যায় নি। ওই সামলেছে মাকে। ঘুমোয় নি কদিন। আহা ঘুমোক।
    কাল সকালে যদি বলি।
    --৫/-

    --৫/-

    ফোনে বলতেই পারেন, কিন্তু রাজি হলে সই ?
    সে বোন করে দেবে ওই তো দেখছে ।

    আচ্ছা।
    নমস্কার করে চলে যান ডাক্তারবাবু।
    আমি নীচে গিয়ে দাঁড়াই একটা সিগারেট খেলে মন্দ হতো না।
    সময় কাটতো। 
    গাড়িতে একটা পেপার আছে। পদার্থ বিজ্ঞান আর রসায়ন নিয়ে জটিল আলোচনা। মাথায় ঢুকবে না।
    এখন আল মাহমুদের কবিতা পড়তে ইচ্ছে করছে।
    আল মাহমুদ।
    'সোনালী কাবিন'।
    এলির ভালো লেগেছিল কবিতাগুলো। তার আগে ওর মনে হতো সব প্যানপ্যানে।
    আচ্ছা, এলি কি এখনো কবিতা পড়ে ? গান গায় ? নাচে ? 
    মণিকে জিজ্ঞেস করতে হবে।

    আপাতত ঘুম আসছে।
    ঘুম।
    গাড়ির আসনে গা এলিয়ে দিই।
    #
    ঘুম ভাঙল। ড্রাইভার ডাকছেন, সাব দিদি কা ফোন আয়া।
    মণি, দাদা, তুই কি এলির বাড়ি যাবি বলেছিলি ?
    না, তেমন কিছু বলি নি।
    নাও তো বলিস নি। একবার যা, ঘুরে আয়।
    এখন? ভোর চারটে বাজে !
    মা বাবার জন্য তোর স্কুল যাওয়ার জন্য কখন উঠে রাঁধতে বসতো মনে আছে কাঠের উনুনে ?
    মনে আছে, ছয় কিলোমিটার দূরে হেঁটে যেতাম স্কুলে। ছটা থেকে টিউশন। পৌনে পাঁচটার সময় বের হতে হতো। সাইকেল ছিল না।
    মা রাত তিনটার সময় মাটির উনুনে ভাত ডাল আলু পোস্ত বা আলু ভর্তা কখনো সখনো ডিমের ওমলেট করে দিতো।
    আমাকে তো হরলিক্স খাওয়াবে বলেছে।
    --৬/-

    --৬/-

    তাই খাস। হেসে ফেলে মণি।
    মণি আর এলি খুব বন্ধু ছিল। এলি ছটফটে দুরন্ত। মণি আমার মতোই চুপচাপ। কম কথা বলে।
    এই মণিই হঠাৎ আমার কাছে বিশ লাখ টাকা চেয়েছিল।
    কেন ?
    দরকার আছে।
    দিবি কি ?
    আগে বল কেন ?
    এলিকে মনে আছে? ওদের বাড়িটা  বিক্রি করবে। করে টাকা শোধ করবে পাওনাদারের।  নইলে নিলাম করবে কোর্ট।
    ওতো ধনী। শেষে বাড়ি নিলাম।
    শুনলাম লক্ষ্মীর সঙ্গেও অলক্ষ্মীও বাসা বেঁধেছিল। লন্ডন থেকে ফিরে এলির বাবা পারিবারিক ব্যবসায় নামেন। ফুলে ফেঁপেও ওঠেন বুদ্ধির জোরে। কাল হলো সিনেমা ও সিনেমার নায়িকাদের নেশা।
    একে একে সব শেষ।
    এখন পাওনাদারের তাগাদা মেটাতে বাড়ি বিক্রি। বাবা অসুস্থ। এলির মা এসে পড়েছিল মণির কাছে।
    তোরা কিনলে মনে করবো, আমাদের কাছেই আছে।
    মা রাজি হচ্ছিলেন না। এলির সঙ্গে বিয়ের স্বপ্ন দেখতেন মা। গাঁয়ের মানুষ। ভাবতেন, ভালো ব্যবহারই সব। ওটা সৌজন্য বোঝেন নি।
    কথায় কথায় একদিন বাজারে এলিদের কাজের লোককে বাজারে বলে ফেলেছিলেন,  এলি যদি আমাদের জাতের হতো ওর বাবাকে বলতাম বিয়ে দিতে।
    এ মুখ সে মুখ হয়ে এলির বাবার কানে পৌঁছায়। 
    এলির বাবা খালি জুতো মারতে বাকি রেখেছিলেন। 
    এলিকে আর আসতে দেয় নি।
    আমার সঙ্গেও এলির আর দেখা হয়নি।
    মণিই জোর করে বাড়িটা কেনায়।
    তারপর আর দেশে ফিরি নি।
    আজ যাব ভেবেছিলাম, নার্সিংহোমে এসেই শুনলাম, ডাক্তার দেখা করতে চান। অপারেশন থিয়েটারে আছেন। দুটো অপারেশন।  শেষ হলে  দেখা করবেন।
    মণিই বলল, দাদা এলিরা আমাদের ভাড়া বাড়িতে থাকে। একবার দেখা করবি। আজ বিকেলে মাকে দেখতে এসে ছিল। বলছিল, তোর কথা।
    এলি।
    --৭/-

    --৭/-

    এলি।
    এলি।
    অহংকারী বাবার মেয়ে এলি। এখানে আছে ?
    হ্যাঁ।
    ও দিল্লিতে থাকতো না ?
    এখন এখানে আছে ? যাস‌
    কেমন আছে ?
    দেখতেই চলে যাওয়া। আসলে পুরাতন পাড়ার গন্ধটাও টানছিল।
    এখানে থেকেই আমার সব স্ট্রাগল। শিলং যাওয়া। ফিরে আমেরিকার চিঠিতে। গবেষণার।
    #
    আলো জ্বলছিল বারান্দায়।
    বারান্দায় আধশোয়া দুই রমণী। সাদা শাড়ি।
    এলির মায়ের রঙ খানিকটা জ্বলে গেছে তাও এখনো অপূর্ব। আরেকজন বোধহয় এলির শাশুড়ি।
    উঠে বসলেন।
    এলি!
    ডাকলেন। দোতলার সিঁড়ির তলাতেই ছিল আমাদের রান্নাঘর।‌ এলি সেখান থেকেই বের হয়ে এলো।
    কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম।
    মুখে বিষণ্ণ হাসি।
    একটা প্ল্যাস্টিকের চেয়ার টেনে আনল। আমাদের খাবার টেবিল নেই।
    না।  আমি মেঝেতেই বসি।
    অসুবিধা হবে তো!
    আগে তো এভাবেই বসতাম।
    তখন কোট প্যান্ট ছিল না।
    একটু খোঁচা দিচ্ছে, মনে করিয়ে দিচ্ছে, তোমরা এ-রকম ছিলে। এখন ময়ূর পুচ্ছধারী কাক হয়েছো !
    ওর বাবার অহঙ্কার কথা বলছে ওর গলায়।
    আসনে বসা অভ্যাস ছিল। আসনই সই।
    আমি তোকে বলেছিলাম না, আসিফ ভালো ছেলে বদলাবে না। বলছিলেন,ওঁর মা।
    তাকিয়ে দেখি এলি নেই।
    একটু পরে এলি আসে কাঁসার থালায় কয়েকটি ফুলকো লুচি, আলু ধনেপাতা কুচি দিয়ে তরকারি বাটিতে।

    --৮/-

    --৮/-
    কতোকাল পর।
    ভুলে যাই ইগো।
    কেন করতে গেলে এসব? মনে মনে খুশি হলেও বলি।
    খাও বাবা তুমি খুব ভালো বাসতে। ওঁর মা বললেন।
    মনে আছে, এখান থেকেই কলেজ যাবো তাই এলির মা লুচি আলুর তরকারি করে দিয়ে পাঠিয়ে দিতেন ঝি-কে দিয়ে।
    তুমি এ-সব পারো ? মুড়ি লুচি তো ছুঁতেই না।
    সুযোগ পেয়ে কথা শোনাচ্ছেন। বিষাদ মাখা এলির গলা।
    না না তা কেন ?
    আমি কিছু ভেবে বলি নি।
    ভাববার মতো মানুষ কি আমরা আর আছি !
    এলির মা শাশুড়ি নিজেদের ঘরে চলে গেছেন।
    আমি আর এলি একা।
    কিছুই বলি না তবু ।
    চুপ করে যাই।
    খাই।
    তারপর পকেট থেকে মানিব্যাগ ব ১০০০  ডলার নিয়ে এলিকে বলি, তোমার ছেলেকে কিছু কিনে দিও।
    কিছু তো আনি নি।
    #
    এলি প্রত্যাখ্যান করে।
    পুরাতন এলি উঠে আসে গলায়।
    না আসিফদা, তোমার কোনো বই আনলে পরের বার এনো।
    আমি কথা বলতে পারি না।
    চুপচাপ গাড়িতে উঠি।
    #
    হাত নাড়তেও পারি না।

    এলির মুখ পিছলে যেতে থাকে রাস্তার নিভে আসা হ্যালোজেনে।
     
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। পড়তে পড়তে প্রতিক্রিয়া দিন