এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • দায় আমাদেরও

    Emanul Haque লেখকের গ্রাহক হোন
    ১৩ এপ্রিল ২০২৬ | ২৪ বার পঠিত
  • ভয়ে ভয়ে থাকি। 'দায় আমাদেরও' নাটকের জন্য ৫৪ টি টিকিট কেটেছিলাম। বাপের অভ্যাস পেয়েছি। বাবাও ভালো যাত্রা সিনেমা দেখাতে টিকিট কেটে গোরুর গাড়ি চাপিয়ে যাত্রা দেখাতে নিয়ে যেত। ১১ বছর বয়সে এভাবেই দেখেছিলাম, তুরুপের তাস। সিআইএ- র চক্রান্ত নিয়ে। এটা ছয় কিলোমিটার দূরে। আমাদের জুনিয়র হাইস্কুলে তখন বাবা সম্পাদক। বাবা সব শিক্ষকদের নিয়ে গিয়েছিলেন। প্রধান শিক্ষক কার্তিক নন্দী জিজ্ঞাসা করলেন, বুঝেছিস কিছু?
    যা বুঝেছিলাম। বললাম। বর্ণালী ব্যানার্জি অনাদি চক্রবর্তী শেখর গাঙ্গুলি তুখোড় সব অভিনেতা।
    সিআইএর জালে কীভাবে জড়াচ্ছেন সেই নিয়ে যাত্রা।
    তার আগে ছয় বছর বয়সে বাবা ১৪ কিলোমিটার দূরে মাঘ মাসের তীব্র ঠাণ্ডায় নিয়ে গিয়েছিলেন আহ্লাদিপুরে তরুণ অপেরার 'মাও সেতুঙ' পালা দেখাতে।
    একটা গল্প আজও মনে আছে।

    চারজন কমিউনিস্ট চিয়াং কাইশেকের বাহিনীর অত্যাচারে বিচ্ছিন্ন। খাবার নেই। অনশন চলছে। একটা চামড়ার বেল্ট ছিল। সেটাকে সেদ্ধ করা হয়েছে।
    একজন একজন করে খেতে যাচ্ছে।
    গিয়ে ফিরে আসছেন।
    একা কেন খাবো?
    একটু খেয়ে তো কিছু হবে না।
    একজন অন্তত পুরোটা খেলে কদিন বাঁচবে। তিনজন ফিরে এলেন খাবার না ছুঁয়ে।
    চতুর্থ জন নেতা।
    গিয়ে দেখলেন পুরোটাই আছে।
    তিনি খাবারটা নিয়ে এসে বললেন, আমাদের কেউ মারতে পারবে না।
    আমরাই জিতবো।
    হাততালির পর হাততালি।

    কাল ৫০ টি টিকিট ছাত্রদের জন্য কেনা।
    দেখি লোক পাই না।
    টিকিট কিনে দেখাবো খাওয়াবো। তাও?
    টেনশন।
    ১০ টাকা হলে বর্ধমান থেকে এসে হাওড়ায় নেমে একাডেমিতে নাটক দেখে রাত দেড়টায় হোস্টেল ফিরেছি লাস্ট ট্রেনে। আট আধার বিফ রোল গিলে। প্রায় শনিবার করেছি।
    ডিসেম্বরে নান্দীকার উৎসবের জন্য টাকা জমিয়েছি। অন্তত সাতদিন দেখতাম এইভাবে এসে।
    কলেজের নেতাগিরি আছে, তাই থাকা হতো না।
    না হলে পাঁচ টাকার বিনিময়ে মৌলালি যুব কেন্দ্রে থাকা যেতো।
    কিন্তু খাওয়া মিলে দিনে ১৫ টাকার ধাক্কা।
    তাই বর্ধমান ফিরে যাওয়াই ছিল সঠিক সিদ্ধান্ত।
    ৮ টাকায় হয়ে যেত।
    একাডেমিতে শেষ তিন বা চারটি রো-র টিকিট ছিল পাঁচ টাকা। সেখানেই দেখতাম।
    এখন দোতলায় একশো বা দুশো।

    খাল পাড়ে কিছু ছেলে মেয়ে নাটক করে। তাঁদের বললাম। ২০ জনের তালিকা করেছি দুপুরে আনতে গিয়েছি। ছোট রাও ধরল, বড় স্যার নিয়ে যাবে না?
    ওদের দেখলেই আমার ছোটবেলার কথা মনে পড়ে। চার বছর বয়স থেকেই বাবা যেখানে আম্মো সেখানে।
    কত মার খেয়েছি। আবার যাত্রা সিনেমা নাটক দেখেছি।।

    মাধ্যমিক পরীক্ষার একদিন আগে সারারাত সিনেমা দেখেছি বাবার সঙ্গে গায়ে ম্যালেরিয়ার ১০২ জ্বর নিয়ে শ্যামসুন্দর কলেজ মাঠে।। গণদেবতা-দেখার জন্য।
    বাবা বলেছিল, মুখ চাদর ঢাকা দিয়ে থাকবি। কেউ যেন চিনতে না পারে। আলাদা ঢুকবি।
    তোর বড় ভাই জানতে পারলে খুব মুশকিলে পড়ে যাবো দুজন।
    বড়ভাইকে ভয় ছিল। আর মাকে।
    বাবা এই নাটক যাত্রা দেখায় আর রাজনৈতিক তর্কে ইয়ার দোস্ত।

    কুচোকাচা ২০ জন।
    ছয় থেকে আট। বাদ দিই কী করে? নিই বা কী করে?
    আকাদেমির বিদগ্ধ দর্শক তো খেপে লাল হয়ে যাবে।
    ম্যাটাডোর ভাড়া করে নিয়ে বাইরে দাঁড় করিয়ে বিপ্লব বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ছুটলাম।
    সে তখন মঞ্চে পার্ট বোঝাচ্ছে। দেখলাম অন্যের দীর্ঘ সংলাপ মুখস্থ।
    শেষ হলো।
    বললাম, ভাই ক্ষ মা করে দাও। কিছু ছোট এনে ফেলেছি।
    বিপ্লবের সঙ্গে আমার যত ঝগড়া তত ভাব।
    কী বলে? গাল দেবে?
    কী করবো বাকি ২০ জন নিয়ে?
    এই রোদে কোথায় ঘোরাবো?
    ২৪০ বাজে।
    বিপ্লব বলল, দেখবে।
    এদিকে এসে দেখি বাচ্চাদের দেখতে ভিড়।
    এরা এই সিরিয়াস নাটকে।
    জার্মানির হিটলারের আমলের আইনমন্ত্রী ও বিখ্যাত বিচারপতির বিচার নিয়ে নাটক। কোর্ট রুম সংলাপ অনেক।
    আকাদেমিতে মোবাইল বাজলে কেউ কাশলে এত লোক বকে তাতে মোবাইল আওয়াজ কম খারাপ মনে হয়।
    এদিকে আরও আটজন এসেছেন। চারটি ৫০০ টাকার টিকিট কাটা ছিল। আরও কাটতে ছুটলাম।
    হলে বলা হল একজন বড় একজন ছোট।
    গিয়ে দেখি ছোটদের দল।
    আমার তো নাটক দেখা মাথায় উঠল।
    কিন্তু কেউ বিরক্ত করেনি।
    নাটক দেখে মহাখুশি।
    কেউ কিছু বুঝেছে। কেউ অনেকটা।
    মোট ৬৬ জন টিকিট কেটে দেখলাম।
    যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয় জন ছাত্র ছিলেন। আর কিছু কলেজের নাটক করা মেয়ে।
    বের হয়ে যেতে হল নিউ ওয়েভ-এর জীবনানন্দ সভা ঘরে অনুষ্ঠান উদ্বোধনে।
    ৬২ টি ডিম রোল খেয়ে সবাই বাড়ি ফেরার পথে। চারজন খাননি।
    ৮২ বছরের মহিলা থেকে ৬ বছরের শিশু।
    নাটক শেষে দেখি নাটক পাগল মানুষ বিশিষ্ট আইনজীবী একরামুল বারি।।। দুপুরে চেম্বার। আসতে পারেননি। যদিও এই নাটক প্রথম দিন প্রথম শো একসঙ্গে দেখেছি। একরামুল ভাই দেখিয়েছেন।
    সন্ধ্যায় দেখলেন, বসন্তের বজ্রনির্ঘোষ।
    আমি দেখেছি। ভাই দেখেননি।
    তাই দেখলেন।
    আমার আরেকবার ইচ্ছে থাকলেও হল না।
    আলমগীর ভাই শাজাহান ভাই শাহ নওয়াজ ভাই এসেছিলেন। গল্পগুজব হল।
    রাখি এখন। ফোন আসছে ভাইয়ের।
    একরামুল ভাইয়ের।
    অনেকে জানেন কি না জানি না, শেখর গাঙ্গুলি সহ নানা অভিনেতার গলায় তাঁদের সংলাপ হুবহু বলতে পারেন একরামুল বারি ভাই।
    পুনশ্চ: শেষ পর্যন্ত আমরা ছেষট্টি জন নাটকটি দেখেছি। টিকিট কেটে।
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। দ্বিধা না করে প্রতিক্রিয়া দিন