এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  গপ্পো  ইদবোশেখি

  • শেষ পারানির কৌটো

    এস এস অরুন্ধতী
    গপ্পো | ১৩ এপ্রিল ২০২৬ | ২৮ বার পঠিত
  • অলংকরণ: রমিত


    শীতের এই শেষবেলাটা বেশ সোহাগী।

    হাড় কামড়ানো শীতের ওঠা নামার পর অবশেষে মানুষের চামড়ায় সয়ে যায় এমন মাত্রায় ঠাণ্ডা বাতাস আর রোদের ওমের মধ্যে সুব্যবস্থা হয়েছে।

    এইসময় মহল্লার বুড়িরা সামনের পার্কে এসে বসে। বুড়িদের স্বামীরা অনেকেই নেই হয়ে গেছে বা থাকলেও বুড়োর বেহদ্দ। সেই বুড়াআদমির ভরসায় এখন আর হেঁশেলের লড়াই চালানো যায়না। এদের ‘চুলা-চৌকি’ এখন বহুরাণীদের দখলে।

    দীর্ঘ টালবাহানার শেষে নবীনের উদ্ধত স্পর্ধার কাছে প্রবীণের অভিজ্ঞ কুটিলতাকে নামিয়ে রাখতে হয়েছে জীবনের তরবারি।

    ফোকলা দাঁতে এরা মুম্ফলি চোষে, চশমা খোলে, মোছে আবার পরে। বহুরাণীদের ‘বুরাই’ করে, বহেন-বেটিদের ‘ভালাই’ করে। এসবই চেনা আঁতাত। চেনা মহল্লাবালিদের সঙ্গে জানা প্যাঁচাল।

    এখনো বসন্ত আসেনি তবু একটা অজানা পাখি একটানা ডেকে ডেকে মানুষের ছেড়ে রাখা পাঁজরের মত পুরোনো প্রেম মনে পড়িয়ে দিচ্ছে। শেষ সর্দির দুপুরগুলো কেমন একটা যেন, নেশামদির, ঝিম ধরানো। এ সময়ে কেমন যেন বুকটা মাঝে মাঝে ধু ধু করে ওঠে। পার্কের ধুলো ঘুলিয়ে উঠে বুকের মধ্যে কাঁপন ধরায়।

    এই বুড়ো, ছ্যাতা পড়া বুকের ধ্যারধেরে পাঁজরগুলোও যে টনটনিয়ে ওঠে শুনলে যে কেউ হাসবে। পবনের মায়েরও কষ্টের মধ্যেও হাসি পেয়ে যায়। রোজকার জীবনের দুঃখের মেঘের আড়ালে এক চিলতে রোদ্দুরের মত সেই হাসি।

    পবনের মাম্মির সেই কবেকার কথা মনে পড়ে যায়।

    পঁতালিশ না পঁচাশ বরস আগের কথা? কী সহজেই না দিন চলে যায়। এই তো সব যেন সেদিনের কথা।

    রেবাড়ীতে বাপের বাড়ি ছিল পবনের মাম্মির।

    রেবাড়ীর ঘরে ঘরে বাসনের কারখানা। ঠুং, ঠ্যাং, ঢং, ঢং, ট্যাটাং কত রকমের আওয়াজ।

    দান দহেজের সঙ্গে ‘একান্ন বর্তনের’ পিতলের ডিনার সেট বিয়েতে দিয়েছিল বাবা। পরাত- কটোরী- থালি- গিলাস- ডোঙ্গে- চামচ-জগ কি না ছিল সেটে।

    সব বাসনে জামাইয়ের নাম লিখে দিয়েছিল বাবা। শুধু রোটি রাখার কটোরদানে মেয়ের নাম লেখা ছিল। বাসনে নাম লিখে দিয়েছিল পাশের বাড়ির বেদপ্রকাশ চাচার ছেলে মনোজ। মনোজ ভাই তখন সরকারি নোকরির জন্য পড়ছিল।

    কেবল কটোরদানের নাম লেখার সময় বাসনের গায়ে মনোজের চোখের জল পড়ছিল, দেখেছে সে।

    এখন তো বহু সব ‘হটপটে’ রুটি রাখে। দুপুরে রোটি করে রাখে রাতে খায়। আগে ওসব হত না। চুলা থেকে ওরা রাখত সাদা মখমলি কাপড়ে মুড়ে চকচকে পেতলের কটোরদানে।

    পার্কের বেঞ্চে কে একটা মেয়ে এসে বসেছে। চেনা নয়। তল্লাটের নয়। বাইরের লোকের কমতি নেই।

    মেয়েটার সঙ্গে ডেকে কথা বলে বুড়ী, “হোই লেড়কী! কিতনি উমর? শাদিশুদা নাহি কা? সিন্দূর না দিখ রি।”

    মেয়েটা হাসে। সিঁথিতে সিঁদুর দেয় সে, কিন্তু আজ শ্যাম্পু করে পরা হয়নি।

    বুড়ি বলতে থাকে, “সিঁদুর পরবে, টিপ পরবে সেজেগুজে থাকবে তবে ভালবাসবে স্বামী।”

    মেয়েটা আবারো হাসে, সত্যি স্বামীর ভালবাসা খুব আদরের জিনিস। হয়তো সিঁদুর নিয়ম করে পরা হয়না কিন্তু ভালোবাসা চায়না এমনও তো নয়।

    পবনের মা বলে, “আমার স্বামী আমাকে খুব ভালোবাসত বুঝলি মেয়ে। বলতো সবসময় সেজেগুজে চাঁদপানা হয়ে থাকবি। বড্ড তাড়াতাড়ি মরে গেল রে। না হলে আমাকে খুব সুখে রেখেছিল।”

    বাচ্চাদের ছোট্ট ক্রিকেট বল এদিকে চলে আসে, মেয়েটা আলসে হাতে তুলে ফেরত পাঠায়।

    “আঙ্কল ক্যায়া করতে থে আনটি? মতলব কাম ক্যায়া করতে থে?” মেয়েটা আলগোছে বলে।

    “ব্যাঙ্কে কাজ করত রে মেয়ে। বিয়ের পর পাকা চাকরি হয়েছে। তার আগে খুব পড়ত, সারাদিন। আমাকে বলত চিন্তা করিস না, পরে বেড়াতে নিয়ে যাব। এখন পড়ে চাকরি পেলে তোরই ভালো। তারপর অনেক ঘুরেছি।”

    একটু থামে, হাঁফ নেয়। উলোঝুলো বলিরেখার মানচিত্রে চোখদুটো যেন গভীর সাগর। সেখানে ঝকঝকে সূর্যের আলো ঝিকমিকিয়ে ওঠে। পবনের মাকে কী যে কথা বলার নেশায় পেয়েছে!

    -“কে জানে বুঢঢাকে ভগবানেরও দরকার ছিল, চলে গেল। সারাজীবন প্রেমসে রেখেছিল, এখন অবশ্য তাগড়া পেনশন রেখে গেছে। কপাল করে স্বামী পেয়েছিলাম এই ভাগ্য আর কী!” বুড়ির স্টিল বাঁধানো দাঁত বের করে হাসে।

    -“ফির মিলেঙ্গে আনটি” মেয়েটাও উস্খুস করে উঠে পড়ে। ফোন এসেছে। হয়তো ওর স্বামীর, হয়তো ওর ভালবাসার।

    -“ফির মিলেঙ্গে” এখানে চলে যা’বার সময় অনেকেই বলে, ফিরে আসেনা অনেকেই। ভালবাসাও এরকমই কখনো আসে, চলে যায়। ফিরে আসে বা আসেনা।

    বুড়িও উঠে পড়ে। দূর থেকে অন্য বুড়ি, আধবুড়িরা বলে, “আ কমলা যা রহি হো?

    বুড়ি হাসে। হাত নাড়ে। ওরা চশমা মোছে, মুছে আবার পরে।

    একজন বলে, কমলার পতির বুরাই শেষ হল। রোজ শুনে শুনে কান ঝালাপালা।

    আরেকজন বলে, “ভুল তো বলেনা। ছিল একটা হাড়জ্বালানে ব্যাটাছেলে। না কাজ, না কাম। গয়না কে গয়না, ঘরের সব বাসন বেচেও নেশা করত। কমলার বাপের ঘর থেকে কত বাসন এসেছিল। একটা রোটির কৌটো এখনও আছে।

    ওটা বেচবে না বলে কম মার খেয়েছে? বুড়োটা মরতে বেঁচেছে কমলা।”

    ওরা চুপ করে যায়। কমলা এদিকেই আসছে।

    কদিন ধরে ওদের সখি কমিটিতে কথা চলছে প্রহ্লাদপুর যাওয়ার। প্রহ্লাদপুরে বড় মন্দির হয়েছে। এদিক থেকে অনেকে যাচ্ছে।

    ওদের এই সখি কমিটিটা অনেক দিনের। সবাই মিলে কীর্তন করে। চাঁদা তুলে ভাগবৎ পাঠ করায়। কার্ত্তিক মাসে ভোরবেলা নামগান করে বেড়ায়। আবার দু’পাঁচশো টাকা করে জমাও রাখে। একে অপরের দায়ে বিপদে এসে দাঁড়ায়।

    রঘুনাথ মন্দির থেকেই ওদের এই সখি কমিটিটা তৈরি হয়েছে। মন্দিরটা এই চত্বরেই। সন্ধ্যের আরতির সময় কমলা, রাজরানী, সুন্দরী ওরা রোজ যায়। আরো কেউ কেউ মাঝে সাঝে আসে।

    সব থেকে বেশী ভিড় হয় মঙ্গলবার। ঐদিন মোটামুটি সবাই আসে। বড় পণ্ডিত সেদিন বজরংবলীর ভজন করেন। অনেকে বুঁদিয়া পরসাদ চড়ায়। কমলারা সবাই লালহলদে বোঁদে পরসাদ পায়।

    আজকাল যা একটু মিঠাই এর সোয়াদ এই মন্দিরেই পাওয়া যায়। না হলে বাড়িতে তো আর মিষ্টি খাওয়া হয়না। দুবেলার শাগ-রোটি যোগাড় করতেই পয়সা খতম।

    এখন এই ভজন, পুজো, তীর্থ নিয়েই আছে ওরা।

    “বৃন্দাবন ধাম তো অনেকবার ঘোরা হল, চল্‌ এবার শীতে পেলহাদপুরের বড় মন্দিরে যাই।” তাল তুলেছিল রাজরানি দিদি।

    রাজরানি ঝাড়া হাত পা. দুটো পয়সাকড়িও আসে দোকানভাড়া থেকে। নিজের জন্য খরচ করতে কারো মুখের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়না।

    কমলার কী আর সেই কপাল? দুটো পয়সারও হিসাব দিতে হয় ওকে ছেলের কাছে।

    এ কথা হঠাৎ ভেবেই নিজের জিভ নিজেই কামড়ে ধরে কমলা। মনে মনে যেন নিজের কান নিজে মুলে দেয়। ছিঃ ছিঃ।

    দিতে হোক সারাজীবন হিসেব, তবু বেঁচে থাকুক ওর লাল পবন। বালবাচ্চা নিয়ে সংসার করুক।

    বৌটার ওপর রেগে থাকে হয়তো কমলা। তবু পবন ওর একটাই পুত্তুর। পুত্তুর এর মা হওয়া মুখের কথা নয়। তিনটে মেয়ে বিইয়ে তবে একটা ছেলেসন্তান হয়েছিল ওর।

    রাজরাণি দিদিরও ছিল একটা কুড়ি বছরের মরদ বেটা।

    সাজোয়ান ছেলেটা মদ খেয়ে খেয়ে মরে গেল। মেয়ের ঘরের একটা নাতিকে বিহার থেকে এনে রেখেছিল, সেও আগের বছর এক্সিডেন্টে মরে গেল।

    মেয়েজামাই আর খবর রাখেনা ওদের।

    সেই থেকেই রাজরানী দিদি আর ওর বর একাভেকা হয়ে গেছে। বাজারে দুটো দোকান ছিল তাই খেয়ে পরে চলে যাচ্ছে।

    সুন্দরী আর সোনুর মা বিনবিন করে কথা বলছিল। ওরা বলছে যা হোক করে টাকা জোগাড় করবে।

    ওদের কথার অবশ্য বিশ্বাস নেই। ওদের জন্যই শেষ অব্দি কোথাও যাওয়া হয়না।

    কোন জায়গায় যাবার কথা হলেই ওরা দুজন আগে নাচবে। তারপর সব ইন্তেজাম হয়ে গেলে, সুন্দরীর বর আর পয়সা দেবেনা।

    “বিশালের বাবার দোকানে কাল রাতে খুব বড় চুরি হয়ে গেলো, বুঝলে! আমার আর যাওয়া হবে না। এইবারটা তোমরা যাওগা। ” সুর করে এসে গাইবে সুন্দরী।

    রাজরানি দিদি বলে, “তোর বিশালের বাপের দোকানে বড় চুরি হবার জন্য তো একটা বড় দোকান তো আগে দরকার। ঐ ছাতা সারানোর গুমটিতে আবার কী বড় চুরি কি র‍্যা?”

    শুনে, ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে সুন্দরী, তর্ক করেনা।

    নখ দিয়ে মাটি খুঁড়তে খুঁড়তে বিড়বিড় করে, “সে যাই বল! বিশালের বাবা কী আর মিথ্যে বলবে?” চুরি হয়েছে বলেই বলছে। না হলে পয়সা রেখেছিল তো! আমাকে এমনি বাপের বাড়ি যেতে দু-পাঁচ হাজার দেয়।” যদিও শেষের দিকে গলার স্বরটা খাদে নেমে যায়।

    সোনুর মায়ের অবশ্য যাবার ষোলআনা ইচ্ছে থাকলেও কখনও সোনুর টাইফয়েড, কখনো শাশুড়ির পাতলা দাস্তের কারণে বাধা পড়ে যায়।

    প্রহ্লাদপুর যাওয়াটা শেষ পর্যন্ত ঠিক হল।

    ক’পয়সা লাগবে গুণেগেঁথে সুন্দরীকে পাখি পড়া করে বুঝিয়ে দিল রাজরাণি দিদি।

    ওরা নিচু স্বরে ইনিয়ে বিনিয়ে যাত্রার পরিকল্পনা করে। শীতের শুকনো বাতাস ওদের কথা শুনতে শুনতে এর ওর ফাঁক দিয়ে এঁকে বেঁকে ঘুরে ঘুরে খেলতে থাকে।

    কমলা রোদ কমলার সখীদের পিঠে এসে পড়ে পিঠ সেঁকে দেয়।




    যতবার ওরা কালো মত লাঠিটা কমলার গায়ের ওপর দিয়ে বুলিয়ে দিচ্ছিল, চিমটি খাওয়া বাচ্ছার মত লাঠিটা ‘ট্যাঁও, ট্যাঁও’ করে বিকট চিৎকার করে উঠছে।

    মুশকো সিপাইটা ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিল কমলাকে। ওদিকে দু’চার জন মেয়েপুলিশ দাঁড়িয়ে রয়েছে।

    একজন চেঁচিয়ে, “ আ বুঢ়ি আম্মা। ক্যা চিজ ছুপাকে লে যা রাহি হো? মেসিন তো পকড় লিয়া।”

    ওরা বোঝায়, যা আছে কমলার আঁচলের ভিতরে ওদের কাছে জমা রাখতে হবে। দেখাতে হবে ওদের।

    যন্ত্রলাঠির রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে মন্দিরের ভিতরে ভগবানের দরবারে কিচ্ছু যেতে পারবে না।

    -“দিখাও, দিখাও” করে হল্লা করে ওরা।

    মেয়েপুলিশরা হাসাহাসি করছে কিছু একটা বিষয় নিয়ে, একটু অন্যমনস্ক হয়েছে। একঝাঁক দেহাতি মেয়েপুরুষের দল এসে পড়ল। পুলিশগুলো ব্যস্ত হয়ে মহিলা আর পুরুষদের আলাদা আলাদা লাইনে দাঁড় করাচ্ছে।

    কমলা মওকা দেখে কী একটা জিনিস বুকের খাঁজ থেকে বের করে কোমরের কষিতে গুঁজে নেয়।

    উল্টো দিক দিয়ে ঘুরে আবার এসে দাঁড়িয়েছে ও আগের লাইনটায়।

    কিন্তু শেষ রক্ষা হয় না।

    কোমরের কাছে আনতেই আবার যান্ত্রিক শব্দে চিৎকার করে উঠেছে। এবার পুলিশটা রেগে গেছে।

    আর বুড়ি বা মেয়েমানুষ বলে রেয়াৎ করল না। এক ঠ্যালা মেরে কমলাকে লাইন থেকে বের করে দিল।

    “যাহ্‌ বুড়ি, গেঁজেতে কী গুঁজে এনেছে কে জানে! ফেলবেও না আবার ঢোকারও সাধ খুব।” খিঁচিয়ে উঠল পুলিশটা।

    জোর ধাক্কায় একটু টাল খেয়েও সামলে নিল কমলা।

    সামনে ওদের দলটাকে আর দেখতে পাচ্ছে না। ঘোরানো প্রবেশপথে ঈশ্বর দর্শনের পথে এগিয়ে গেছে ওরা।

    ইস, কমলা ওদের থেকে আলাদা হয়ে গেছে। বুকের ভেতর একটা মোচড়ানো ব্যথা আর ঠেলে আসা কান্না একসঙ্গে বেরোতে চাইছে। জিনিসটা ফেলেই দেবে কিনা ভাবতে ভাবতে কোমর থেকে ছোট্ট একটা পেতলের গোল মত কৌটো বের করে বুকের মধ্যে ঢুকিয়ে নিল কমলা।

    দৃষ্টি আবছা হয়ে আসছে।

    চশমা খুলে কাঁচ না মুছে, চোখটা মুছল। জল বেরিয়ে আসছে। আবার সেইসব দিনগুলো মাথার মধ্যে জড়ো হচ্ছে।

    সাস, ননদে একদিন যখন কমলার গয়না ধরে টানাটানি করছিল, ওদের সঙ্গে গায়ের জোরে না পেরে যৌতুকের বাসনগুলো জড়িয়ে ধরে খুব কেঁদেছিল ও।

    পবনের বাপ এসে পড়ায় গয়নাগুলো সব নিয়ে নিতে পারেনি ওরা।

    তবে পবনের বাপ বোকা ছিল না। নিজের মত করে কিছু একটা বুঝেছিল সে। বলেছিল, “ গয়না ছেড়ে বর্তন নিয়ে কাঁদতে বসে আবার কোন গাড়লে? বাসন কী তোর বাপ দেয়নে? কোন নাগরে দিয়েছে বাসন?”

    কমলা সেই একবারই উত্তর করেছিল,- “বাসনও আমার বাপই দিয়েছে।”

    উত্তরে সপাটে চড় খেয়েছিল সেদিন। আর কোনদিনই মুখে মুখে উত্তর করেনি।

    প্রশ্ন উত্তর কোনটাই কমলা খুব একটা কখনো করত না। নিজের বাবার কাছেই করেনি।

    পবনের বাপ, দাদি যখন দহেজ চেয়ে চেয়ে ওর গায়ে কালশিটে এঁকে দিত, তখন সেই কালশিটে দেখিয়ে অনুযোগ করতেও বাপের কাছে যায়নি। টাকা চেয়ে আনতেও কখনো যায়নি।

    ওর মনে হত গায়ের কালো দাগ বাবাকে দেখিয়ে কী লাভ?

    বাবা যখন সেই হেমন্তের নষ্ট হয়ে যাওয়া সন্ধ্যায় ওর কষ্টে কালো হয়ে যাওয়া মুখটা দেখতে না পায় তাহলে এসব কালশিটেও তার চোখে পড়ার কথা নয়।

    বিয়ের আগে একদিন দিনের আলো মরে যাওয়ার মুখে মনোজ ভাইয়া এসে বাবার চেয়ারের তলায় বসে নিচু গলায় কথা বলছিল। আর ভেজানো দরজার বাইরে খাঁজকাটা জানলার গরাদের মধ্যে দিয়ে উঁচুনিচু আলোর খেলার মধ্যে দম বন্ধ করে দাঁড়িয়েছিল কমলা।

    বাবা কিছুক্ষণ শুনে ওর নাম ধরে ডেকে বলেছিল, “দরজাটা বন্ধ করে দিস। আর ছোট জাতের খাওয়া চায়ের কাপটা ফেলে দিস।”

    ওদের আর কিছু বলতে হয়নি।

    কোন হাহাকার, কান্নাকাটি বা হাতের শিরা কাটাকাটির মত কিছুই করেনি ওরা।

    ছোটজাতের মনোজ সরকারি চাকরির পরীক্ষা দিতে চলে গেছিল ওর কাকার বাড়ি। আর কমলা পাত্রপক্ষের সামনে বারবার পরীক্ষায় বসেছিল।

    কমলা ভাবে, কথাটা খুব একটা ভুল বলেনি পবনের বাপ।

    দহেজের বাসন বাবা কিনলেও পালিশ করে দিয়েছিল মনোজ। ছোটজাতের বেদপ্রকাশ চাচার ছেলে মনোজ।

    পরীক্ষার মাঝে কেমন করে সময় বের করেছিল কে জানে!

    বাসনগুলোই ছিল কমলার দুখভরা জীবনের একান্ত বন্ধু। ওদের গলা জড়িয়ে ও কাঁদত, হাসত।

    কারো চোখে পড়েনি তাও নয়।

    জীবনের আয়নায় কখনো না কখনো সব ধরা পড়ে, সবাই ধরা পড়ে। ওরা গয়না কেড়ে নিয়েছে, বাসনও কেড়ে নিতে চেয়েছে।

    কমলা তত আঁকড়ে ধরেছে থালি, কটোরি, পরাত, গিলাস, কড়াইগুলোকে।

    একসময় ওরা ভেবেছে, একেবারে কেড়ে নেবার থেকে এই কাড়াকাড়ির নাটকে বোধহয় কমলার বেশী কষ্ট। আর ওদের বেশী আমোদ।

    কমলাও অভিনয় করেছে ওদের সঙ্গে। একটা রোটির ঢাকনাওলা পরাত জড়িয়ে ধরে খুব কাঁদত।

    তবে একসময় এই মারামারির খেলায় আর প্রাণভয় ছিল না কমলার।

    আসলে কমলা পবনের বাপের চোখে সেই বেড়ালটাকে দেখতে পেয়ে গেছিল। যে বেড়ালটা এখন নাতির সঙ্গে টিভিতে দেখে। একটা বেড়াল আর একটা একটা ইঁদুর। একে অপরকে জব্দ করতে দৌড়ে বেড়াচ্ছে। একবার বিল্লি মাত দিচ্ছে, পরক্ষণেই ইঁদুর তাকে হারিয়ে দিচ্ছে।

    নাতি বলেছিল, “দেখো দাদি, বিল্লিটা কেমন চুহাকে মারবে বলে দৌড় করাচ্ছে।”

    কমলা ম্লান হেসেছিল। অনেকদিন আগে থেকেই ও জানে খেলাটা খেলছে আসলে ইঁদুর। ক্রমাগত বিল্লিটাকে খেলিয়ে খেলিয়ে খেলায় মাতিয়ে রেখেছে। আর বিড়ালটা খেলার নেশায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।ও যে ইঁদুরকে মারতে এসেছে সেটাই আসলে ভুলে গেছে।

    পবনের দাদী ভাবতো ছেলেকে তাতিয়ে কমলাকে মার খাওয়াবে। কিন্তু পবনের বাপ গর্জালেও তেমন আর মারত না। ছেলেপুলের মা কমলার সঙ্গে ভিতরে ভিতরে তখন তার একটা ‘চুহা বিল্লি’র দাম্পত্য শুরু হয়ে গেছিল।

    সেই তখন থেকেই পিতলের ডিব্বাটা ও নিজের সেলাইয়ের বাক্সয় ঢুকিয়ে রেখেছিল।

    বুকের ভেতর থেকে ছোট্ট ডিব্বাটা বের করে চোখের সামনে এনে দেখল। বারবার চোখের জলে দৃষ্টি কেমন ঝাপসা হয়ে আসছে আজ। এই ডিব্বাটিরর ভেতর দিকে মনোজ খোদাই করে দিয়েছিল একটা মোহন বাঁশি আর ময়ূরের পালক।

    কমলাকে বলেছিল, “এভাবেই থাকব তোর কাছে। এভাবেই আগলে রাখিস।”

    সেভাবেই রেখেছিল কমলা। বড় বড় থালা, গেলাস, বাটি গামলার ভিড়ে, মারধোরের চিৎকৃত অসভ্যতায় আর কান্নার রো্লের মধ্যে ছোট্ট কৌটোটার কথা কেউ খেয়াল করেনি।

    কমলাও কখনো বলেনি কাউকে। বড়কি, মেজকি, ছুটকি নামের নিজের মেয়েগুলোকেও নয়। এ কেবল তার, একান্ত প্রেমের। এখন যেখানে যায় ওর সঙ্গেই নিয়ে যায় কৌটোটা। ব্লাউজের ভেতর, বা কোমরের গেঁজেতে লুকিয়ে রাখে।

    আগে রাখত কাঠের সেলাইবাক্সের ভেতর। সে ছোট্ট কৌটোটায় ভরে রেখেছিল প্লাস্টিকের, শাঁখের, ঝিনুকের, কাঠের বোতাম।

    তখন কখনো কখনো পাশের মন্দির থেকে সন্ধ্যেবেলা বিষণ্ণ সুরে ভেসে আসত দ্রৌপদীর কৃষ্ণভজন।

    “বিনা কাজ মহারাজ লাজ গয়ী মেরি

    দুখ হর দ্বারিকানাথ শরণ মে তেরি………।”

    শুনতে শুনতে একটা একটা করে বোতাম গুনতো কমলা।

    যেন বোতাম দিয়ে দিয়ে সারা জীবনের হিসেবী কাপড়ের সব ছেঁড়া ফাটা বুজিয়ে ফেলবে। দ্রৌপদীর লজ্জাহর অনিঃশেষ কাপড়ের মত পেয়ে যাবে এক অনন্ত সুখী মসলিন।

    এইসব ভাবতে ভাবতে কবে যে দ্বারিকানাথ, শিখিপাখা, বাঁশি, হারিয়ে যাওয়া মনোজ সব একাকার হয়ে গেছিল কমলার মনে নেই।

    আজ কী করবে সে? আজ এই ঘটনা কমলাকে একটা প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

    পুলিশের পাশে বড় বড় প্লাস্টিকের ডাব্বায় ছুঁড়ে ছুঁড়ে ফেলা হচ্ছে দর্শনার্থীদের থেকে কেড়ে নেওয়া জিনিস। কমলার কৌটোও নিশ্চয়ই ঐখানেই জমা হবে। ফেরার সময় এই ক্ষুদ্র জিনিস আর ফিরে পাবার আশা নেই।

    এই সামান্য কৌটোর কার কাছে কিই বা দাম?

    মনোজের নিজের সংসার হয়েছে অনেকদিন। বেদপ্রকাশ চাচা মারা যেতে রেবারির বাস উঠিয়ে চলে গেছে আলীগড়। কমলাকেই হয়তো মন থেকে মুছে ফেলেছে কবেই। কমলারই কি ছাই আর মনে পড়ে মনোজের মুখ?

    তবু এই কৌটো তার কাছে জীবন্ত। জীয়নকাঠি, বেঁচে থাকার অবলম্বন।

    আজ পর্যন্ত যে জিনিস ও কারো হাতে দেয়নি তা এই অচেনা মানুষদের হাতে গচ্ছিত করে দেবে?

    কিন্তু ভিতরে না গেলে বন্ধুদের কী বলবে ও? পবনকেই বা কী উত্তর দেবে?

    সবচেয়ে বড় কথা ঈশ্বরদর্শনের এত কাছে এসেও কি ফিরে যাবে ও? নাকি মন্দিরের ভিতরের ঈশ্বরের জন্য ওর এতদিনের প্রাণের দোসরকে ছেড়ে দিয়ে চলে যাবে?

    উত্তর খুঁজে না পেয়ে আশপাশ ভুলে ককিয়ে কেঁদে ওঠে কমলা। বুকের আরও ভেতরে কৌটোটাকে ঢুকিয়ে নেয়। টলতে টলতে গিয়ে বসে একধারের ছাতিম গাছটার তলায়।

    কাঁদতে কাঁদতে কমলার একহারা রোগাটে দেহটা ছাতিম গাছের তলায় নুয়ে পড়ে। মাটি আঁকড়ে ফুলে ফুলে কাঁদতেই থাকে।

    চার পাঁচ জনের আধবুড়ো মেয়েদের দলটা এদিক ওদিক তাকাতে তাকাতে খুঁজে পেয়েছে কমলাকে।

    “কি রে কমলা, কোথায় হারিয়ে…..”, কাছে আসতেই কথা হারিয়ে যায় রাজরানির।

    “কোন দরজা দিয়ে ঢুকলে গো কমলাদিদি?, কাঁদছ কেন এতো?” সুন্দরী বলে।

    ওদের দিকে বোধহীনের চাহনিতে তাকিয়ে থাকে কমলা। ওর শ্লেষ্মা জড়ানো গলা থেকে কোন কথা বের হয় না।

    রাজরানি ওদের পাণ্ডা। সে চোখ সরু করে কমলার দিকে তাকিয়ে কিছু বোঝার চেষ্টা করে বলে,

    -“ আমি তখনই বললাম তোদের কমলা কে দেখেছি আমি। ওর নীল শাড়িটা দূর থেকেই দেখতে পেয়েছিলাম। বললাম তোদের থাম একটু। তোরা সেই গড়গড় করে চলতে লাগলি। কিন্তু তুই অত ডুকরে কাঁদছিস কেন বহেন? ঠাকুর দেখে তোর মনটা উথালপাতাল করছে নাকি?”

    -“ঠাকুর দেখে অমন কারো কারো হয় গো। যেন মনে হয় কতদিনের চেনা। আমার মাসশাশুড়ি তো রাধারমণ ঠাকুর দেখে কেঁদে আলা। বলে সে আগে থেকেই স্বপ্নে ঠাকুরকে দেখেছিল।” সুন্দরীর দিদি বলে ওঠে।

    কমলা ফোঁপায়, হাত জোড় করে মাথায় ঠেকায়।

    সুন্দরী কমলার পিঠে হাত বোলাতে বোলাতে বলে, - “দিদি তুমি বড় ভক্ত গো। এ হল মনের ভাব। ভক্তদেরই এমন উতলা ভাব হয় গো।”

    ওরা সবাই ঈশ্বরের নামে জয়ধবনি দিতে থাকে।

    কমলাকে জড়িয়ে নিয়ে উঠে দাঁড়ায় দলটা। ধীরে ধীরে মন্দির চত্বর থেকে বাইরের দিকে হাঁটতে শুরু করে।

    কমলার নীল আঁচল শীতের বাতাসে ওড়ে।


    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক।
  • গপ্পো | ১৩ এপ্রিল ২০২৬ | ২৮ বার পঠিত
  • আরও পড়ুন
    ঘ - শর্মিষ্ঠা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। কল্পনাতীত মতামত দিন