এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • ধুলোট //০৭ 

    albert banerjee লেখকের গ্রাহক হোন
    ২৪ মে ২০২৬ | ৫৭ বার পঠিত
  • 01 | 02 | 03 | 04 | 05 | 06 | 07
    ক্ষত। ক্ষত চেনার গন্ধ। যার ঘা শুকায় না, তার ঘামে মেশে পুঁজের গন্ধ, কাঁচা মাংসের গন্ধ, যে গন্ধ আমি চিনি নাকের ছিদ্র ফুলিয়ে, চোখের তারা ফিরিয়ে, জিভের ডগায় তুলে, স্বাদ নিই – লবণাক্ত, তিক্ত, পচা আঙুরের রসের মত, যাতে মিশেছে মৃত্যুর চিনি, বিষের মধু, আর সেই মিষ্টি বিষ আমাকে টানে, আমাকে ডাকে, বলে, “এসো, এসো, এই পথে হাঁটো, এই দরজায় ঠেকো, এই বিছানায় শুয়ো, এই দেহের ভিতর খোঁজো সেই সূত্র, যার শেষে আছে সে, যে অভিশপ্ত, যে চিরন্তন ঘুরে বেড়ায়, যার কপালে ক্ষত, যার ঘা শুকায় না, যেমন শুকায়নি আমার ঘা, যেটা তাকে দেওয়া তীর ছুঁড়েছিল, যে তীর আমার বুকে লাগেনি, লাগলো তার বুকে?

    যেখানে জমা আছে ব্রহ্মার অভিশাপ, যেখানে জমা আছে আমার অভিশাপ, যে অভিশাপ আমি দিয়েছিলাম তাকে – ‘তুই অমর, তুই চিরযুবা, তুই ঘুরে বেড়া, তোর ঘা শুকাবে না, তোর ব্যথা মরবে না, তোর কান্না শুকাবে না, তোর চোখের জল জমে যাবে পাথর হয়ে, সেই পাথর গিলে খাবে তোর ছেলেরা, তোর নাতিরা, তোর বংশধরেরা, যতদিন পৃথিবী আছে, ততদিন তুই থাকবি, অভিশপ্ত, একা, পাগল, উন্মাদ, আর তোকে কেউ চিনবে না, চিনলে ভয় পাবে, দেখলে পালাবে, কাছে এলে মরবে, কারণ তোর ছায়া বিষাক্ত।

    এখন সেই ক্ষতের গন্ধ খুঁজি। এজন্য ঘুরি রাতের রাস্তায়, পেরিয়ে আসি সীমান্ত, নাম বদলাই, চেহারা বদলাই, কণ্ঠ বদলাই, পোশাক বদলাই, কিন্তু চোখ বদলাই না। আমি এখন পতিতা, বেশ্যা, গণিকা, যার দেহ কেনা যায় টাকায়, কয়েনে, নোটে, ডলারে, ইউরোতে, রূপোর মুদ্রায়, সোনার বাটায়, আর যার মন কেনা যায় না, কারণ মন তো আগেই পুড়ে গেছে, ছাই হয়ে গেছে, সেই ছাই উড়িয়ে দিয়েছি নদীতে, সেই নদীর জল পান করেছে মাছ, মাছ খেয়েছে শিয়াল, শিয়ালের মাংস খেয়েছে কুকুর, কুকুরের লেজ ধরে টেনেছে বালি, সেই বালিতে আঁকা ছিল তার মুখ, তার চোখ, তার হাত, যে হাত একবার জল দিয়েছিল ভাঙা কলসিতে, এখন সেই হাতের ছোঁয়া পেতে হলে কিনতে হবে আমাকে, এক রাতের জন্য, কয়েক ঘণ্টার জন্য, কয়েক নিঃশ্বাসের জন্য, আমি থাকব, শুয়ে, হাসব, কথা বলব, চুমু দেব, জড়িয়ে ধরব, কিন্তু কামড়াব না, কামড় দিলে রক্ত বেরোয়।

    আমি চুষে খেতে চাই তার ক্ষত, তার চিরন্তন ঘা, যাতে আমার ঘাও শুকায়, যাতে আমার ব্যাথাও মরে, যাতে আমিও অমর হই, কিন্তু সে অমরতায় আমি তাকে পাই, তাকে স্পর্শ করি, তাকে জিজ্ঞাসা করি, “কেমন আছিস তোর ঘা শুকায়নি? তোর ক্ষত এখনো পচে? তোর কপালের হাড়ের ভিতর এখনো জ্বলে সেই আগুন, যা আমি দিয়েছিলাম তোকে অভিশাপ দিয়ে? এসো, এসো আমার কাছে, এসো এই বিছানায়, এই পতিতালয়ের ঘরে, এই মলিন চাদরে, এই বাতির কম আলোয়, আমি তোর ঘা চাটব, আমি তোর পুঁজ চুষব, আমি তোর ব্যাথা খাব, তোর ব্যাথা দিয়ে ভরব আমার শূন্যতা, আমার ক্ষুধা, আমার তৃষ্ণা, আমার পাগলামি, যাতে আমি শান্ত হই, যাতে আমি ঘুমাই, যাতে আমি স্বপ্ন দেখি তার মুখ।

    এই শহর, এই আন্তর্জাতিক পতিতালয়, যেখানে আসে নানা ভাষার মানুষ, নানা রঙের চামড়া, নানা গন্ধের ঘাম, নানা স্বাদের লালা, নানা আকৃতির লিঙ্গ, নানা গভীরতার যোনি, আমি তাদের মধ্যে একটি, আমি তাদের মতো, আমি সাজি, আমি হাসি, আমি কথা বলি ভাঙা ভাষায়, ইংরেজি, ফরাসি, জার্মান, স্প্যানিশ, আরবি, হিন্দি, উর্দু, বাংলা, আমি সব জানি, কারণ আমি সব খেয়েছি, সব চুষেছি, সব মানুষের রক্তে মিশেছি, তাদের ভাষা শিখেছি জিভের ডগায়, তাদের স্বরযন্ত্র চিবিয়ে, তাদের কণ্ঠস্বর গিলে, এখন আমি বহুভাষী, আমি সব বুঝি, সব বলি, কিন্তু আমার নিজের ভাষা নেই, কারণ আমার ভাষা ছিল বনের, পশুদের, গাছের, মাটির, বাতাসের, সেই ভাষা এখন মৃত, সেই ভাষার শেষ বক্তা আমি, কিন্তু আমি আর সেই ভাষায় কথা বলি না, কারণ কথা বললে সে আসে, সে শোনে, সে কাঁদে, সে মরে, আর আমি চাই না সে মরুক, কারণ সে তো মরেই গেছে।

    আমি অপেক্ষা করি। পতিতালয়ের ঘরে, জানালা দিয়ে রাতের আলো আসে, নীলচে, অসুস্থ, মৃত। আমার শরীর নগ্ন, আমার চুল ছড়ানো, আমার ঠোঁটে লিপস্টিক, লাল, রক্তের লাল, আমার চোখে কাজল, কালো, মৃত্যুর কালো, আমার গলায় নেকলেস, পাথরের, সাপের আকৃতির, আমার পেটে উলকি, আগুনের শিখা, আমার উরুতে দাগ, কাঁটার দাগ, আমার পায়ের তলায় ফোসকা, যাত্রার ফোসকা, সীমান্ত পার হওয়ার ফোসকা, দেশ বদলের ফোসকা, পরিচয় বদলের ফোসকা, আমি এখন লিসা, আমি এখন মনিকা, আমি এখন স্বেতলানা, আমি এখন মিং, আমি এখন ফাতিমা, আমি এখন রেবেকা, আমার যত নাম, তত পরিচয়, কিন্তু আসল পরিচয় লুকানো, পোড়া মাটির নিচে, চিতার ছাইয়ের নিচে, নদীর জলের নিচে, সাগরের তলায়, যেখানে অন্ধকার, যেখানে চাপ, যেখানে শ্বাস নিতে কষ্ট, আমি সেই কষ্টে শ্বাস নিই, আমি সেই অন্ধকারে দেখি, আমি সেই চাপে বাঁচি, আমি সেই জায়গায় যাই প্রতি রাতে, যখন দরজা বন্ধ হয়, যখন পর্দা টানা হয়, যখন ক্লায়েন্ট আসে, টাকা গোনে, কাপড় খোলে, বিছানায় শোয়, আমি বলি, “এসো, এসো, দেখি তোর আগুন, দেখি তোর ব্যথা, দেখি তোর শূন্যতা, আমি কি তোকে ভরাতে পারি? আমি কি তোর ক্ষুধা মেটাতে পারি? আমি কি তোর ঘা চাটতে পারি? আমি কি তোর অভিশাপ নিতে পারি? আমি কি তোর ভিতরের সেই মৃত মানুষকে জাগাতে পারি, যাকে তুই খেয়েছিস, যাকে তুই পেটে নিয়ে ঘুরছিস, যাকে তুই ভালোবাসিস, যাকে তুই ঘৃণা করিস, যাকে তুই মনে করিস, ভুলিস, আবার মনে করিস, আবার ভুলিস?”

    আমি হাসি, আমি নড়ি, আমি স্পর্শ করি, আমি চুমু দিই, আমি জড়াই, আমি শুই, আমি চিৎকার করি, আর সেই চিৎকারের ভিতর থেকে বেরিয়ে আসে তার নাম, যার ঘা শুকায় না, যার কপালে ক্ষত, যার দেহ অমর, যার মন পাগল, যার চোখে আমার প্রতিবিম্ব, বিকৃত, ভাঙা, সুন্দর, ভয়ঙ্কর, আমি সেই প্রতিবিম্বে হাত বাড়াই, স্পর্শ করতে চাই, কিন্তু স্পর্শ করি শুধু ক্লায়েন্টের ঘাম, তার দেহের গন্ধ, তার লালার স্বাদ, তার বীর্যপাতের সাদা তরল, যা গিলে ফেলি আমি, হজম করি, রূপান্তর করি, আমার রক্তে মেশাই, আর সেই রক্তে মিশে আছে তার স্মৃতি, যে মৃত, যে বাঁচিয়ে রেখেছে আমায়, যে আমায় বানিয়েছে, যে আমায় পাঠিয়েছে এই পতিতালয়ে, এই বিছানায়, এই দেহের বাণিজ্যে, এই যোনির ব্যবসায়, এই মুখের হাসিতে, এই চোখের জলে, এই গলার স্বরে, যা কেঁদে বলে, “আমি রাজ্ঞী ছিলাম, আমি বীরেদের পত্নী ছিলাম, এখন আমি বেশ্যা, আমি গণিকা, আমি পতিতা, আমি সস্তা ও বিলাসবহুল, আমি দেহ দিই টাকায়, মন তো ছাই, সেই ছাই দিয়ে তিলক পরি কপালে, সেই তিলক দেখে সে চিনবে আমায়, যে আসবে একদিন, এই ঘরে, এই বিছানায়, টাকা দিয়ে কিনবে আমায়, তারপর আমাকে জিজ্ঞাসা করবে, ‘তোর কপালে কী? কেন এই ছাই? কেন এই দাগ? কেন এই চিহ্ন? তুই কে?’ আমি বলব, ‘আমি সেই নারী। এসো, এসো কাছে, আমি তোর ক্ষত চাটি, তোর ঘা শুকাই, তোর ব্যাথা খাই, তোকে মুক্তি দিই, আর সেই মুক্তির বিনিময়ে তুই আমায় দে তোর অমরত্ব, তোর অভিশাপ, তোর ঘোর, তোর পাগলামি, যাতে আমি থামি, যাতে আমি শেষ হই, যাতে আমি আর না ঘুরি পতিতালয়ের ঘরে ঘরে, বিছানায় বিছানায়, দেহের ভিতর দেহের বাইরে, যোনির গহ্বরে লিঙ্গের গহ্বরে, আর না খুঁজি সেই ক্ষত, যার গন্ধে আমার নাক ফুলে, আমার চোখ লাল হয়, আমার জিভ লালা নিঃসরণ করে, আমার দাঁত ধারালো হয়, কামড়াতে চায়, চুষতে চায়, খেতে চায়, শেষ করতে চায়।’”

    আমি অপেক্ষায় আছি। প্রতিরাতে। প্রতিটি ক্লায়েন্টের দেহে। প্রতিটি লিঙ্গের ভিতরে। প্রতিটি বীর্যপাতের সাদা তরলে।
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
    01 | 02 | 03 | 04 | 05 | 06 | 07
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা খুশি মতামত দিন