যাই প্রথমে কাবুলের পতিতালয়ে, যেখানে কাঁধের ওপর বোরকা, নিচে খোলা পা, চোখে কাজল, ঠোঁটে হাসি, হাতে চুড়ি, পায়ে ঘুঙুর। আমি সেখানে প্রবেশ করি রাতের আঁধারে, আমার গায়ে কালো পোশাক, মুখে নকল দাগ, যেন আমিও এক পতিতা, যেন আমিও বিক্রি করি মাংস, কিন্তু আমি বিক্রি করি না, আমি কিনি, আমি কিনি রক্ত, আমি কিনি ব্যথা, আমি কিনি সেই ক্ষতের গন্ধ, যে গন্ধ হয়তো তাকে নিয়ে আসবে, যে গন্ধ হয়তো তাকে টেনে আনবে আমার দিকে, যেমন চুম্বক টানে লোহা, যেমন আগুন টানে পতঙ্গ, যেমন মৃত্যু টানে জীবিতকে।
কাবুলের ঘরগুলো সরু, দেয়াল ইটের, মেঝে কাদামাটি, বাতাসে গোলাপের গন্ধ মেশানো ঘর্মের দুর্গন্ধ। আমি বসি এক কোণে, চোখ বন্ধ, কান খোলা। আমি শুনি কণ্ঠস্বর, ফার্সি, পশতু, উর্দু, হিন্দি, ইংরেজি, আরবী, সব ভাষার মিশ্রণ, সব আর্তনাদের সঙ্গীত। আমি এক পতিতার থেকে জিজ্ঞাসা করি, “শোন, এখানে কি কখনো এসেছে এক ব্যক্তি, যার কপালে ক্ষত, যার শরীর থেকে রক্ত ঝরে, যাকে দেখলে মনে হয় সে মৃত, কিন্তু সে হাঁটে, সে কথা বলে, সে শ্বাস নেয়?” সে হাসে, তার দাঁত সোনার, তার চোখে মাদকের ঘোর, বলে, “অনেক ক্ষতওয়ালা আসে, তালিবানদের ক্ষত, রাশিয়ানদের ক্ষত, আমেরিকানদের ক্ষত, সবাই ক্ষত নিয়ে আসে, সবাই রক্ত ঝরায়, কিন্তু তুমি যাকে খোঁজ, সে এখানে নেই, সে হয়তো ব্যাংককের অন্ধকার গলিতে, হয়তো আমস্টারডামের লাল আলোর নিচে, হয়তো মেক্সিকো সিটির ভূগর্ভস্থ টানেলের ভিতর।” আমি তাকে ধন্যবাদ জানাই, তার গলায় চুমু খাই, সে চমকে ওঠে, কিন্তু আমার দাঁত তখনো লুকানো, আমি শুধু স্পর্শ করি, ছাড়ি না, চুষি না, কারণ সে আমার খাবার না, সে শুধু তথ্যদাতা, পথ দেখানো প্রদীপ, যা নিভে যাবে ভোরের আলোয়, কিন্তু আমাকে পথ দেখিয়ে দেবে।
পরবর্তী গন্তব্য ব্যাংকক। থাইল্যান্ডের রাজধানী, যেখানে পতিতাবৃত্তি শিল্প, যেখানে শরীর পণ্য, যেখানে হাসি বিক্রি হয়, আর কান্না গোপন। আমি নামি সুখুমভিট রোডের অন্ধকার গলিতে, যেখানে নিওন আলো জ্বলে লাল, নীল, সবুজ, যেখানে মেয়েরা দাঁড়িয়ে কাঁচের দরজায়, তাদের পরনে বিকিনি, তাদের চোখে ক্লান্তি, তাদের হাতে সিগারেট, তাদের পায়ে উঁচু হিল, তারা আমাকে দেখে, তারা জানে আমি তাদের একজন না, আমি ভিন্ন, আমার চোখে আগুন, আমার ঠোঁটে রক্তের দাগ, আমার গায়ে মৃত্যুর গন্ধ। তারা ফিসফিস করে, “হেরফের, হেরফের,” আমি হাসি, আমার হাসি ভয় দেখায়, তারা সরে যায়, পথ ছেড়ে দেয়।
আমি একটি বারেঞ্জির ভিতরে ঢুকি, যেখানে পর্দা ঝুলছে, বাজছে জাপানি সংগীত, টেবিলে সাজানো মোমবাতি, তার আলোয় ভাসে ধোঁয়া। আমি বসি একটি সোফায়, চারপাশে পুরুষ, তাদের চোখ লোলুপ, তাদের হাত অধীর, তারা আমাকে দেখে, আমার দিকে এগিয়ে আসে, আমি হাত বাড়িয়ে থামাই, জিজ্ঞাসা করি, “শোন, এখানে কি কখনো এসেছে এক ব্যক্তি, যার শরীর ঘায়ে ভরা, যার কপালে রক্তের ফোঁটা ফোঁটা, যার চোখে পাগলামি? ” তারা হাসে, তারা জানে না এই নাম, তারা জানে শুধু সুখের নাম, অর্থের নাম, মাংসের নাম। আমি এক জনের হাত ধরি, তার নখ কাটা, তার তালু ঘর্মাক্ত, আমি তার শিরা স্পর্শ করি, ধমকানি টের পাই, আমি ফিসফিস করি, “আমি তোমাকে ছাড়ব, যদি তুমি আমাকে সত্যি বলো, কোথায় ঐ ব্যক্তি?” সে ভয় পায়, তার চোখ বড় হয়, সে কাঁপে, বলে, “মাফ করো, মাফ করো, আমি জানি না, কিন্তু শুনেছি কলকাতার সোনাগাছিতে এক পাগলা ঘুরে বেড়ায়, তার কপালে ক্ষত, সে রক্ত ঝরায়, কিন্তু কেউ তাকে স্পর্শ করে না, কারণ সে অভিশপ্ত।” আমি তাকে ছেড়ে দিই, সে দৌড়ে পালায়, তার পায়ের শব্দ পর্দার আড়ালে মিলিয়ে যায়।
কলকাতা, সোনাগাছি। আমার জন্মভূমি? না, জন্মভূমি নয়, আমার অভিশাপের ভূমি, যেখানে আমি প্রথম দেখেছিলাম তার মুখ, যেখানে আমি প্রথম পান করেছিলাম তার দেওয়া জল, যেখানে আমি প্রথম শিখেছিলাম ভালোবাসা আর ঘৃণার পার্থক্য নেই, একই মুদ্রার দুই পিঠ, একই আগুনের দুই শিখা। সোনাগাছির গলি সংকীর্ণ, বাতাস ভারী, গন্ধে মেশানো সিদ্ধ ভাত, মল, ফুল, ধূপকাঠি, মানুষের ঘাম, পচা মাংস। আমি হাঁটি, আমার পায়ের আওয়াজ নেই, আমার ছায়া দেয়ালে পড়ে, দেয়ালের চুন খসে পড়ে, যেন দেয়ালও ভয় পায়, যেন দেয়ালও জানে আমি কে, আমি কী খুঁজতে এসেছি।
একটি কাঠের দরজায় টোকা দিই। খোলে এক বুড়ি, তার মুখ ভাঁজে ভাঁজে, তার চোখে ছানি, তার গলায় শুঁড়কির মালা। সে আমাকে দেখে, চিনতে পারে না, জিজ্ঞাসা করে, “ কাকে চাও?” আমি বলি, “ওকে চাই, যার ঘা শুকায় না, যার ক্ষত চিরকাল জ্বলে, যাকে কেউ স্পর্শ করতে চায় না, কিন্তু আমি চাই, আমি তাকে স্পর্শ করব, তার ক্ষত চাটব, তার রক্ত পান করব, তাকে করব আমার, চিরকালের জন্য।” বুড়ির চোখ বড় হয়, সে কাঁপে, দরজা বন্ধ করে দিতে চায়, কিন্তু আমার পা আটকে যায়, আমি ভিতরে ঢুকে পড়ি, ঘর অন্ধকার, এক কোণে জ্বলছে ঘি-এর প্রদীপ, তার আলোয় দেখা যায় একটি আসন, তার ওপর বসে আছে এক আকৃতি, কুঁজো, রক্তমাখা, তার কপাল থেকে ঝরে রক্ত, তার শরীর থেকে ঝরে পুঁজ, তার চারপাশে মাছি, তার চোখে শূন্যতা, তার মুখে হাসি, পাগলের হাসি, উন্মাদের হাসি, সেই হাসি আমি চিনি, কারণ আমারও একই হাসি, আমি যখন প্রথম শিকার করেছিলাম, যখন প্রথম রক্ত চুষেছিলাম, যখন প্রথম বুঝেছিলাম আমি আর মানুষ নই, আমি অভিশপ্ত।
আমি কাছে যাই। সে তাকায়। তার চোখে কোনো বিস্ময় নেই, কোনো ভয় নেই, শুধু ক্লান্তি, হাজার বছরের ক্লান্তি, যে ক্লান্তি আমি চিনি, কারণ আমারও হাজার বছর কেটে গেছে, এই যুদ্ধ, এই মৃত্যু, এই খাওয়া, এই শূন্যতা, এই ঘুরে বেড়ানো। আমি তার সামনে বসি, আমার হাত বাড়াই, তার কপালের ক্ষত স্পর্শ করি, আমার আঙুল রক্তে ভিজে যায়, সেই রক্ত গরম, সজীব, যেন সে এখনও বাঁচে, যেন সে এখনও যন্ত্রণা পায়, যেন সে এখনও অনুভব করে। আমি ফিসফিস করি, “ আমি এসেছি। আমি তোমাকে খুঁজতে এসেছি। আমি এসেছি তোমার সাথে থাকতে, তোমার ক্ষত চাটতে, তোমার রক্ত পান করতে, তোমার ব্যথা ভাগ করতে। তুমি কি আমাকে গ্রহণ করবে?” সে হাসে, তার হাসি কর্কশ, ভাঙা, সে বলে, “কে তুই? তুই কেন এসেছিস? তোরও কি ক্ষত আছে? তোরও কি অভিশাপ আছে? তোরও কি কোনো ঘা আছে যা শুকায় না?” আমি বলি, “হ্যাঁ, আমার ঘা আছে, আমার ক্ষত আছে, আমার অভিশাপ আছে, আমি তাকে ভালোবেসেছিলাম, সে মরে গেছে, তার মৃত্যু আমার ঘা, যা কখনো শুকায় না, যা থেকে প্রতিদিন রক্ত ঝরে, রাতের বেলা, যখন আমি একা থাকি, তখন সেই রক্ত চাটি, নিজের রক্ত, নিজের ক্ষত, নিজের শাস্তি।”
সে আমার দিকে তাকায়, দীর্ঘক্ষণ, তার চোখে কিছু জ্বলে ওঠে, হয়তো স্বীকৃতি, হয়তো সহানুভূতি, হয়তো আরেক পাগলের সাথে দেখা। সে তার হাত বাড়ায়, আমার মুখে রাখে, তার হাত রক্তাক্ত, পুঁজমাখা, সেই হাতের স্পর্শে আমার ত্বক পুড়ে যায়, কিন্তু আমি সরে যাই না, আমি সেই পোড়া স্বাদ গ্রহণ করি। এই মুহূর্তে, এই পতিতালয়ের অন্ধকার ঘরে, দুই অভিশপ্তের মিলনে, যে মিলনের নাম ভালোবাসা নয়, নাম প্রতিশোধ নয়, নাম শূন্যতার চূড়ান্ত আলিঙ্গন।
“আমি থাকব এখানে,” আমি বলি। “আমি থাকব এই পতিতালয়ে, কাজ করব বেশ্যা হয়ে, বিক্রি করব আমার মাংস, আমার শরীর, আমার রক্ত। আত্মা তো আগেই বিক্রি হয়ে গেছে, তার কাছে, যে নেই, যে চলে গেছে, যে আমার ভিতরে আছে, যে আমাকে পোড়ায়, যে আমাকে জাগায়, যে আমাকে বলে, ‘এখনও শেষ নয়, এখনও তাকে খুঁজে চল, ঘুরে বেড়া পৃথিবীর পতিতালয়ে, গলিতে, অন্ধকারে, যেখানে সে লুকিয়ে আছে, তার ক্ষত নিয়ে, তার অভিশাপ নিয়ে, তার অপেক্ষায়, যে অপেক্ষার শেষ নেই সেই আগুন, সেই রক্ত, সেই ভালোবাসা।”
আমি উঠে দাঁড়াই, তার হাত ছেড়ে দিয়ে, তার কপালের ক্ষতে শেষ চুমু খাই, সেই চুমুর স্বাদ লোহা, পুঁজ, অশ্রু, ঘাম, রক্ত, সব মিলেমিশে এক অদ্ভুত মিষ্টি স্বাদ, যা আমি কখনো ভুলব না, যা আমাকে টেনে নিয়ে যাবে তার পিছনে, চিরকাল, যতক্ষণ না আমি তাকে পাই, যতক্ষণ না আমি তাকে জড়িয়ে ধরি, যতক্ষণ না আমরা দুই অভিশপ্ত মিলে তৈরি করি এক নতুন অভিশাপ, যে অভিশাপের নাম পৃথিবী, যে পৃথিবীতে শুধু থাকবে ক্ষত, শুধু থাকবে রক্ত, শুধু থাকবে সেই আগুন, যা কখনো নিভে না, যেমন নিভেনি তার কপালের ঘা, যেমন নিভেনি আমার বুকের শূন্যতা।
আমি সোনাগাছি ছেড়ে চলে যাই, আবার রাস্তায়, আবার অন্ধকারে, আবার পতিতালয়ের দরজায় দরজায় টোকা দিই, প্রশ্ন করি, হাত বাড়াই, রক্ত চুষি, কখনো খাবার খুঁজি, কখনো তথ্য খুঁজি, কখনো তার ছায়া দেখি, দূরের প্রান্তরে, যেখানে সে দাঁড়িয়ে, তার কপালে ক্ষত, তার হাতে রক্ত, আর আমি দৌড়াই, ছুটে যাই তার দিকে, কিন্তু সে সরে যায়, অদৃশ্য হয়, মিলিয়ে যায়, আমি পাই শুধু বাতাস, শুধু গন্ধ, শুধু তার ক্ষতের রক্তের ফোঁটা, মাটিতে পড়ে আছে, সেই ফোঁটা চেটে খাই, তৃপ্ত হই, আবার ক্ষুধার্ত হই, আবার খুঁজি, আবার যাই, আবার পতিতালয়ে, আবার প্রশ্ন করি, আবার হাত বাড়াই, আবার রক্ত চুষি, আবার চক্র, আবার শুরু, আবার শেষ, আবার শুরু, অনন্তকাল, এক মুহূর্তের জন্য, যে মুহূর্তে আমি পাই তাকে, কিন্তু পেয়েও পাই না, কারণ সে অধরা, সে মায়া, সে অভিশাপ, সে আয়না, যার ভিতরে আমি কেবল নিজেকেই দেখি, ক্ষতবিক্ষত, রক্তাক্ত, উন্মাদ, চিরন্তন, একা, সেই একা আমি চিনি, সেই একা আমি ভালোবাসি, সেই একাই আমার সঙ্গী।
সেই একাই সেই ক্ষত, যা শুকায় না, যা চাটি আমি প্রতিদিন, প্রতিরাতে, প্রতিপ্রতিটি পতিতালয়ের অন্ধকার ঘরে, যেখানে বিক্রি হয় মাংস, কেনা হয় সুখ, হারিয়ে যায় সময়, আর আমি বসে থাকি, অপেক্ষায়, প্রতীক্ষায়, অনন্ত, যতক্ষণ না সে আসে, যতক্ষণ না সে বলে, “এসো, আমাদের সময় হয়েছে, আমাদের ক্ষত একসাথে চাটি, আমাদের রক্ত মিশিয়ে দিই, আমাদের অভিশাপ ভাগ করে নিই, আর এই ভাগ করে নেওয়ার নাম মুক্তি, আর এই মুক্তির নাম ভালোবাসা, আর এই ভালোবাসার নাম আমরা, আমরা দুই পাগল, দুই চিরন্তন ক্ষত, একসাথে, চিরকাল, এই পতিতালয়ের ময়লা মেঝেতে, এই রক্তের পঙ্কে, এই শূন্যতার গহ্বরে, যেখানে আর কোনো নাম নেই, কোনো পরিচয় নেই, কোনো ইতিহাস নেই।
শুধু আছে আমরা, শুধু আছে এই মুহূর্ত, শুধু আছে এই ক্ষত, যা শুকায় না, যা চাটি আমরা, যতক্ষণ না পৃথিবী শেষ হয়, যতক্ষণ না সময় থামে, যতক্ষণ না আমরা ছাই হয়ে যাই, মিশে যাই বাতাসে। তৈরি করি আমার পতিতার সাজ, আমার নাম, যে নাম কেউ জানে না, যে নাম আমি কখনো উচ্চারণ করিনি, কিন্তু যে নামের অক্ষরগুলো হলো রক্ত, মাংস, হাড়, আর সেই নামের অর্থ হলো – তাকে খোঁজা, তাকে পাওয়া, তাকে হারানো, তাকে আবার খোঁজা, আবার পাওয়া, আবার হারানো, চিরকাল, এক মুহূর্তের জন্য, যে মুহূর্তে আমি কামড়াই, সে চিৎকার করে, আমি হাসি, সে মরে, আমি বাঁচি, আমি আবার খুঁজি, আবার যাই, আবার পতিতালয়ে, আবার তার ছায়ার পিছনে, চিরন্তন পথিক, চিরন্তন শিকারিনী, চিরন্তন ভালোবাসা, যার কোনো নাম নেই, কিন্তু যার অস্তিত্ব প্রতিটি ক্ষতের ভিতর, প্রতিটি রক্তের ফোঁটায়, প্রতিটি পতিতার চোখের জলে, প্রতিটি মৃতদেহের নিঃশ্বাসহীনতায়, আর আমি সেই জলের স্বাদ গ্রহণ করি, সেই নিঃশ্বাসের শূন্যতা ভরি, সেই ক্ষতের গভীরতা মাপি, আর এই মাপা, এই দেখা, এই চাটা, এই খাওয়া, এই হত্যা, এই ভালোবাসা – সব মিলেমিশে একাকার, এক মহা অভিশাপ, এক মহা বরদান, যা আমাকে ডেকে আনে এখানে, এই পতিতালয়ে, এই কলকাতার সোনাগাছিতে, এই ব্যাংককের অন্ধকার গলিতে, এই কাবুলের ধুলো মাখা ঘরে, এই পৃথিবীর প্রতিটি ক্ষতস্থানে, যেখানে সে আছে, অপেক্ষায়, তার কপালের ঘা চাটার জন্য, আমার জিভের স্পর্শের জন্য, আমার দাঁতের কামড়ের জন্য, আমার অশ্রুর লবণের জন্য, আর আমি দিই, আমি দিই সব, আমি দিই আমার মাংস, আমার রক্ত, আমার সময়, আমার অনন্ততা, আমি দিই এই শরীর, এই পোশাক, এই বেশ্যার ভূমিকা, এই হাসি, এই কান্না, এই আর্তনাদ, এই শূন্যতা। আমি দিই সব। শুধু পেতে চাই তাকে, তাকে, যার ঘা শুকায় না।
এই মৃত্যুর বাজারে, এই শূন্যতার সুপারমার্কেটে, কেনাবেচা করব রক্তের বিনিময়ে, মাংসের বিনিময়ে, আমি অবিদ্যা আর সে বিদ্যা অবিদ্যার তফাৎ করতে পারে না।
পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।