আমি মন্দির ছেড়ে বেরিয়ে আসি। রাত শেষ হচ্ছে না, এখনও গভীর, এখনও অন্ধকার, এখনও সময় আছে আরও শিকারের। আমি যাই প্রাসাদের অভ্যন্তরে, যেখানে সে ঘুমায়, আমার পঞ্চম স্বামী, যে ছোট, যে শিশু, যে নির্দোষ, যে আমার ভালোবাসা চেয়েছিল, কিন্তু পারেনি, কারণ ভালোবাসা দেয়ার মতো তার হৃদয় ছিল না, ছিল শুধু করুণা, শুধু দয়া, শুধু এক ধরনের স্নেহ, যা আমাকে অপমানিত করত, আমাকে ছোট করত, আমাকে করত একটি পুতুল, একটি খেলনা,
একটি বোঝা। আমি তার ঘরে ঢুকি। সে ঘুমিয়ে, তার মুখ শান্ত, তার হাত বিছানায় ছড়ানো, তার নিঃশ্বাস মৃদু। আমি তার বিছানার পাশে দাঁড়াই, তাকিয়ে থাকি। সে এত ছোট, এত ভঙ্গুর, এত মানব। আমি পারব? আমি কি তাকে খেতে পারব? সে তো হাসেনি সেদিন, সে তো চোখ মেলেনি, সে তো শিশু ছিল, এখনো শিশু, তার হাতে পাপ লেগেছে? তার পাপ শুধু এই যে সে আমার স্বামী, সে পাঁচজনের একজন, সে ভেবেছিল আমাকে ভালোবেসে সে পাবে আমাকে, কিন্তু ভালোবাসা পাওয়া যায় না, ভালোবাসা হয়, আর আমি হয়েছি তার জন্য নয়, হয়েছি তার জন্য, যে মরে গেছে, যে ফিরে আসবে, যে আসলে আমি খাব, যে আসলে আমি চিনব, যে আসলে আমি প্রেম করব পশুরূপে, পাখিরূপে, কীটরূপে, কোন রূপে?
আমি কামড়াই। এবার ধীরে, ধীরে কামড়াই, যাতে সে স্বাদ পায়, যাতে সে অনুভব করে কীভাবে ধাতব ফলার মত দাঁত তার মাংস ভেদ করে, কীভাবে রক্ত বেরিয়ে এসে আমার জিভে জড়ায়, কীভাবে আমি চুষি, ধীরে ধীরে, ফোঁটা ফোঁটা, যেন আমি সুদীর্ঘ প্রেমাসক্তের চুমু, যেন আমি মাতালের পানপাত্র, যেন আমি সেই নদী, যেখানে তার সমস্ত পাপ, সমস্ত পুণ্য, সমস্ত ভালোবাসা, সমস্ত ঘৃণা মিশে যায়, এক মহাসমুদ্রে, যার নাম আমি, যার ঠিকানা কোথাও নেই, যার অস্তিত্ব শুধু এখানে, এই মুহূর্তে, এই কামড়ে, এই রক্তপাতে, এই পতনে।
আজ সে জিজ্ঞাসা করল না। সে শুধু তাকাল, তার চোখ বড়, ভয়ে, না ভয় নয়, কৌতূহলে, যেন সে জানত এই দিন আসবে, যেন সে জানত আমি একদিন তার ঘাড়ে দাঁত বসাব, তার রক্ত চুষব, তার শরীর শুকিয়ে ফেলব, তাকে করব একটি পুতুল, একটি প্রতীক, একটি স্মৃতি, যাকে আমি রাখব আমার শয্যার পাশে, সাজিয়ে, কথা বলব, জিজ্ঞাসা করব, “তোমার কী লেগেছে? ব্যথা পেয়েছ?
এই শিশু বাঁচা, এই শিশু বড় হওয়া, এই সভায় বসা, এই আবার বস্ত্র খোলা, এই আবার হাসি, এই আবার কামড়, চক্র সম্পূর্ণ, চক্র অপূর্ণ, চক্র অনন্ত, চক্র ক্ষণিক।
পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।