এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • হাঁসজারু 

    Tania Basu Dutta লেখকের গ্রাহক হোন
    ২৪ মার্চ ২০২৬ | ৫৬ বার পঠিত
  • এই সেদিনের কথা . পাশের পাড়ায় সমুদ্র দেখতে গিয়েছিলাম . চোখের সামনে একখানা সমুদ্র হলেই হলো আমার , সে নীল , সবুজ , ধূসর যাই হোক না কেনো . ঘন নীল সমুদ্র আমি দেখিনি যদিও . 
    সমুদ্রের ওই প্রবাহমান ব্যাপ্তিই বড়ো অমোঘভাবে টানে আমায় . তবে আমার মতো বাঙালী কম রয়েছে এ আমি হলফ করে কইতে পারি . আর গড়পরতা বাঙালী যা ভাবমূর্তি তৈরী করে রেখেছে বহির্জগতে সে আর কি বলি . 
    সমুদ্রের পাড়ে পা ভিজিয়ে আমি আর আমার পুত্র স্থির করলাম খানিক নেয়ে আসি জলে . তাই প্রস্তুত হতে হোটেলের ঘরে ঢোকার মুখেই দারোয়ান বললে - " রুমের তোয়ালে নিয়ে স্নান করতে যাবেন না . " বোঝো ঠেলা - 
    তার মানে এই যে , এমন টা হয়েছে , এমন টা হয়ে চলেছে . তাই এই সতর্কীকরণ . 
    আবার জলে নেমে দেখি , পাশে  গৃহস্থালির হাড়ভাঙা খাটুনির থেকে দুদিনের পরিত্রাণ পাওয়া এক মধ্যবয়সী কাকিমা মহানন্দে জলকেলি করছেন আর সেই সঙ্গে কাকিমার ব্র্যান্ড নিউ গাঢ় গোলাপী রঙের হাতকাটা নতুন ম্যাক্সির গোলাপী রঙ উঠে নোনাজলে কেলাকেলি করছে . ওদিকে আবার এক বাঙালী ফেরেব্বাজ কাকু লুঙ্গি পরেই সাগরে গা ভাসিয়েছেন . বড়ো বড়ো ঢেউ এ লুঙ্গিও ডানা মেলেছে যথারীতি . বাকি টা ওই আর কি - অশ্বত্থামা হত , ইতি গজ . " 
     
    এ হেনো বাঙালীর ভিড় এড়িয়ে সেদিন সন্ধ্যায় সমুদ্দুরের পারে বেশ একলা একলা বসেছিলুম . সমুদ্রের পারের বাতাস আমার বেশ লাগে . মনে তখন বিবিধ দার্শনিক ভাবনা চিন্তার উদয় হয় . তা সেদিন ভাবছিলাম এইসব আপামর বাঙালী জনসাধারণ কে ছাপিয়ে আরেক সেট বাঙালীর কথা . তাঁরাও বাঙালী . সমুদ্রের ওই দূরে কালাপানির বাঙালী ! 
     
    ১৯০৯ থেকে ১৯৩৮ এর মধ্যে সেলুলার জেলে পাঠানো ৫৮৫ জন স্বাধীনতা সংগ্রামীর মধ্যে ৪০০ জন অবিভক্ত বাংলার ! দ্বীপান্তরে থাকা স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মত্যাগের কৃতিত্ব শুধুই কি বিনায়ক দামোদর সাভারকারের শিরোস্হানে শোভা পায় ?? আলিপুর বোমা মামলায় (১৯০৮ থেকে ১৯০৯ ) ১২ জন বাঙালী স্বাধীনতা সংগ্রামী নির্বাসিত হলো কালাপানি তে . বারীন ঘোষ , উল্লাসকর দত্ত , হেমচন্দ্র দাস কানুনগো , অবিনাশ চন্দ্র ভট্টাচার্য , উপেন্দ্রনাথ ব্যানার্জী , বিভূতিভূষণ সরকার , ইন্দুভূষণ রায় , পরেশচন্দ্র মৌলিক , হৃষিকেশ কাঞ্জিলাল , বীরেনচন্দ্র সেন , সুধীরকুমার সরকার এবং নিরাপদ রায় . এদের মধ্যে বারীন ঘোষ , উল্লাসকর দত্ত এবং হেমচন্দ্র দাস কে ইংরেজ খুব ভয় পেয়েছিলো . যেমন নেতাজি কে নিয়ে বরাবরই বেশ চাপ এ ছিলো . তাই এই তিনজনের উপর অত্যাচারের নিয়ন্ত্রক ছিল চরমে . " Ullaskar was tortured in such a barbaric way that he remained one of the most tragic cases of jail brutality at the Andamans . " উল্লাসকর দত্তের লেখা বই " Twelve years of prison life " , উপেন্দ্রনাথ ব্যানার্জীর লেখা বই " নির্বাসিতের আত্মকথা " , বারীন ঘোষের " The tale of my exile " থেকে জানা যায় সেইসব ইতিহাস . এঁদের যোগ্য সম্মানের দাবী তে উল্লাসকর দত্ত একাডেমী দেশের প্রধান মন্ত্রী , রাজ্যের মুখমন্ত্রী , এবং আন্দামান ও নিকোবর প্রশাসন কে চিঠি পাঠিয়ে আবেদন জানিয়েছে . 
    কেন করেছিলো এইসব আত্মত্যাগ ? ছেলেগুলো ? এই বাঙালী দেখবে বলে ? সমুদ্রের পারে বসে বসে রিল্স দেখা বাঙালী ? উদ্ভটের মতো সমানে সেলফি তুলতে থাকা বাঙালী ? নাকি বাংলা বলতে লজ্জা পাওয়া বাঙালী ? 
     
    আরেক বাঙালী - আমার কাছে সে বীর - আমার নেতাজী - নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু - India's biggest cover up . আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করি নেতাজী মারা যাননি প্লেন দুর্ঘটনায় . তিনি বেঁচে ছিলেন . Minister of external affair, govt. Of India,Mr Pranab Mukherjee ' s visit to Augsburg on 21 October : 
    " On 20 October 1995 Auntie rang me after 10.30 pm from her daughter Anita Pfaff's home in Augsburg. She was quite agitated. She told me that Mr. Pranab Mukherjee was coming to Augsburg on 21st October 1995 , to convince her & Anita to give their approval for bringing the so- called " ashes" of Netaji to India. Mr. Mukherjee also wanted her to sign a document which he would take back to India as proof of her approval. She again emphasized to me that she had never believed in the plane crash story and would neither sign any document nor agree in anyway to bringing the " ashes" to India or to anywhere else. 
    Surya ( Surya Kumar Bose ; Netaji's Germany based grand nephew) had to speak with his grandaunt again when an Indian daily subsequently carried a news item ( mis ) quoting Pranab Mukherjee as saying that Emilie " had given her approval to the Govt. Of India ' s plans for bringing the"ashes" to India , and that he ( Mukherjee) had a document to prove it . " Emilie turned livid and " reiterated that she had signed no such document and had approved nothing. Mr Pranab Mukherjee was propagating an untruth for reasons best known to him and the Government of India" . ( P - 9 ; India 's biggest cover up ; Anuj Dhar ) 
    নেতাজী , আপনার জন্মদিন টা উইকেন্ড ঘেঁসে পড়লেই কিন্তু বাঙালী ছোট্টো করে মন্দারমণি কিংবা তাজপুর টা সেরে ফেলে ! সঙ্গে মদের বোতল , সুইমিং পুল আর সেলফি ! 
     
    আরেক বাঙালীও ছিলো , ছিলো নয় আছে , জীবনে  perseverance মানে কী যাকে দেখে শিখেছি , আজ সে বিদেশের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করে . তাকে বড়ো দেখতে ইচ্ছে করে , ইচ্ছে করে তার পায়ে একবার পেন্নাম ঠুকি . সে মাথায় একবার হাত রাখলেই যেনো মনে হবে জীবনের সব বাধা অতিক্রম করতে পারবো .
     
    যাক আবার ফিরে আসি সেই সমুদ্রের পারে . আরও বেশখানিক ঢেউ এর সামনে বসলাম সেইদিন . এইবার দুইজোড়া স্বপ্নমাখা উজ্জ্বল চোখের কাছে ফেরার পালা .
    তারা অপেক্ষা করছে আমার জন্যে - সমুদ্রের মতো - অবিরাম . 
     
     
    ( অনুপ্রেরণা : The Statesman পত্রিকায় প্রকাশিত একটি article , সেলুলার জেলের ইতিহাস কে কেন্দ্র করে ) 

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। সুচিন্তিত মতামত দিন