এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • ভোটের নামে বজ্জাতি

    সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায় লেখকের গ্রাহক হোন
    ০২ এপ্রিল ২০২৬ | ৩৯ বার পঠিত
  • খুব স্পষ্ট করে বললে, পশ্চিমবঙ্গে যেটা হতে চলেছে, সেটা ভোট নয়, গণতন্ত্রের প্রহসন। অন্তত কুড়ি জনের একজন বৈধ ভোটার এখনও বাদ। এমনি বাদ না, চেষ্টাচরিত্র করে বাদ দেওয়া হয়েছে। প্রতিকারের ট্রাইবুনাল, সে কোথায় কেউ জানেনা। কী নথি লাগবে, কী পদ্ধতি, কীসে পাওয়া যাবে গ্যারান্টি যে ভোটার তালিকায় নাম থাকবে, কেউ জানেনা। নানা দল এবং সরকার আইনী সহায়তা দেবে বলেছে, কিন্তু কোথায় দেবে? দরগায় গিয়ে তো মাথা ঠুকবেনা। বিচার হতে গেলে বিচারালয় থাকতে হয়, নিয়মকানুন থাকতে হয়, কোনোটাই নেই। এ তো কাজির বিচার নয়, যে, খেয়ালখুশি মতো যাকে খুশি নিলাম। আজ মুড ভালো নেই তো দুটোকে বাদ দিলাম, কাল মেজাজ ভালো তো বিচার না করেই ছেড়ে দিলাম কজনকে। গণতন্ত্রে ভোটাধিকার একটা অধিকার, এরকম উচ্ছিষ্টের মতো ছুঁড়ে দেওয়ার জিনিস নয়। ভোটাধিকারের জন্য লোকে লাইন দিয়ে হাপিত্যেশ করে দাঁড়িয়ে থাকবে, কীসের গণতন্ত্র? শাসক ঠিক করে দেবে কারা নির্বাচক, কীসের গণতন্ত্র? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসে হুমকি দেবেন, শুধু তালিকা থেকে বাদ নয়, দেশ থেকেই বার করে দেব, কীসের গণতন্ত্র? 

    কিন্তু যা বোঝা যাচ্ছে, এই ভাবেই চলছে এবং চলবে। নানা জায়গায় গ্রাম-কে-গ্রাম লোক বাদ গেছেন তালিকা থেকে, অজস্র বাদ পড়া মানুষ জানতে চাইছেন "এবার কী করব?", তার কোনো উত্তর নেই সরকার, আদালত কারও কাছে। কিছু চ্যানেল, কিছু পোর্টাল, "এই করুন, ওই করুন" বলে উৎপটাং কথা বলে চলেছে, কিন্তু বিশ্বাস করুন, ওরাও কিছু জানেনা। এবং এর মধ্যেই চলছে ভোটের বাদ্যি। এ যেন অভুক্ত মানুষের দঙ্গলের সামনে দেখিয়ে দেখিয়ে বিরিয়ানি খাওয়া। তুই খেতে পাসনা? দেখ আমি মাটনের হাড় চুষছি আর বিরিয়ানি সাঁটাচ্ছি। এর চেয়ে অশ্লীল জিনিস হওয়া কঠিন। একদল লোককে বলা হচ্ছে তোমরা অবাঞ্ছিত, তাদের মাথার উপর ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে বেনাগরিক হবার খাঁড়া, হুড়হুড় করে ভিনরাজ্য থেকে ঢুকিয়ে দেওয়া হতে পারে পরিযায়ী ভোটার, আর সব সোনা মুখ করে বাকিরা বলবে, এই দেখ কেমন আমরা বৈধ ভোটার? বহুকাল আগে আধপেটা খাওয়া সধবারা যেরকম একাদশীর দিন মাছের কাঁটা দিয়ে দাঁত খুঁচিয়েই নিজেদের সিঁথির সিঁদুর অক্ষত রাখতেন, আর ভাবতেন কী সুখেই না আছি, সেরকম? 

    অন্য কে কী ভাবছেন জানিনা, তবে এভাবে ভোট হয়না। অঘোষিত রাষ্ট্রপতি শাসন, কেন্দ্রীয় বাহিনীর হুমকি, হয়তো এসবের পরেও বিজেপি হারবে, কিন্তু কেন্দ্রে থাকার ফলে যা খুশি করার লাইসেন্স তো পেয়ে যাবে। এরপর লাটকে-লাট লোককে ধরে বেনাগরিক করে দিলে আটকাচ্ছে কে। গোটা রাজ্যেই আধাসামরিক শাসন চালু হলে থামাবে কে? সমস্যাটা তো একটা জাতিকে মুছে দেবার চক্রান্তের, সেটা ভোটের হারজিতের চেয়ে অনেক বড়। আমার খুব স্পষ্ট করেই মনে হয়, 

    ১। একটা সর্বদলীয় হরতালের ডাক দেওয়া উচিত। দলগুলো নিজেরা দিক, বা কোনো মঞ্চের বকলমে। কিন্তু একটা সর্বাত্মক হরতাল দরকার। যেমন হয়েছিল ১৯০৫ এ, বঙ্গভঙ্গের সময়। আসুন না, আরেকবার বাংলার মাটি বাংলার জল গাই একসঙ্গে। রাখি বাঁধি হাতে হাতে। 
    ২। সমস্ত দলগুলোর খুব জোর দিয়ে বলা উচিত, যে, এই ট্রাইবুনালের চক্কর স্থগিত রাখা হোক। লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি নামক যে বস্তুতে ষাট লাখ লোক বাদ গিয়েছিল, সেই বস্তুটাই বাতিল হোক। নইলে, ভোট বয়কট। জানি, ভোট হলেও বিজেপির হারার সম্ভাবনাই বেশি, কিন্তু তবুও, এই জুলুমবাজির একটা ইতি টানা দরকার। 
    ৩। চল্লিশের দশকে যেভাবে ফ্যাসিবিরোধী লেখক শিল্পী সঙ্ঘ তৈরি হয়েছিল, তার পুনরাবৃত্তি দরকার। সেবার ফ্যাসিবাদ ছিল দূরে, এবার একদম ঘাড়ের কাছে। বিজেপি-বিরোধিতার সিঙ্গল পয়েন্ট অ্যাজেন্ডা নিয়েই করা উচিত। খুব স্পষ্ট করে বললে, সিপিএম, কংগ্রেস, তৃণমূল, বা অদলীয় সমস্ত বর্ণের বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে করা উচিত। যাঁরা এলেন না, তাঁদের বিজেপি ধরে নিতে হবে। অন্য কিছু না, এতে গোদি মিডিয়ার একটা মুখের মতো জবাব হবে। তারা এতদিন একটা বিজেপি পন্থী ঐকমত্য তৈরি করার কাজ করে গেছে, উল্টোটাও হওয়া উচিত। 

    এই ১ আর ২ আমাদের হাতে নেই। ৩ নম্বরটা করে ফেলা যায়, যদি তরুণরা উদ্যোগ নেয়। আমি দূরে আছি, পারবনা, কিন্তু কেউ উদ্যোগ নিলে সমস্ত শ্রম উজাড় করে দেব। যাঁরা করতে চান, যদি চান, জানাবেন। যাঁরা একমত, তাঁরাও পারলে একটু যথাস্থানে ছড়িয়ে দেবেন।  কারণ, দেশভাগের পর এত বড় বিপর্যয় আর বাংলায় আসেনি। আজ অথবা কাল, আরেকবার দেশচ্যুত না হতে চাইলে আওয়াজ তুলুন।
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ক্যাবাত বা দুচ্ছাই মতামত দিন