

ছবি: রমিত
পয়লা জুলাই, ১৯৯৭
নিরানব্বুই বছরের জমিদারি ফুরুলো। জমির লিজের দলিল, বাড়িঘরের চাবির হস্তান্তর সম্পূর্ণ হলে পর সবকটি ইউনিয়ন জ্যাক নামিয়ে কাঠের বাকসোয় প্যাক করে জাহাজে উঠে অশ্রুসজল চোখে হাত নাড়লেন শেষ গভর্নর ক্রিস প্যাটেন - বিদায়, হংকং! আমাদের অফিসের জানলা থেকে দেখা গেলো প্রশাসন ভবনের সামনে উড়ছে চিনের লাল পতাকা। অতঃ কিম? এবার? উঠেছে নতুন স্লোগান – এক দেশ দুই প্রথা; চিনে ডান দিকে গাড়ি চলে, হংকং এ বাঁ দিকে। সিটি ব্যাঙ্কের সহকর্মী ক্ল্যারেন্স তাও ফোনে একদিন বললে, একটা চিনে প্রবাদ আছে যদি বেশিদিন বাঁচো, সবই দেখে যেতে পারবে *
ক্ল্যারেন্সের কথাটা মনে পড়ল। পুরনো অভ্যাসে ফাইনানশিয়াল টাইমস এবং ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এখনো দেখি; এককালে পাতা ওলটাতাম এখন স্ক্রোল করি। গত সপ্তাহে একটি হেড লাইনে চোখ আটকে গেলো -
“আজ এই বিলিয়ন ডলার কৃত্রিম মেধা স্টার্ট আপ কোম্পানিগুলির কোন প্রোডাক্ট নেই, কোন আয় নেই, ব্যয় আছে অথচ তাদের পেছনে কাতারে কাতারে দাঁড়িয়ে আছে অজস্র ইনভেস্টর। “
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, ২৭শে জানুয়ারি **
এই চিত্রনাট্যটি চেনা মনে হচ্ছে।
এই তো সেদিন
সুজান প্রিচার্ড একদিন দেখা করতে এলো। লন্ডন নিউ মলডেনের সুজান এবং আমি এককালে ফ্রাঙ্কফুর্ট কনটিনেনটাল ইলিনয় ব্যাঙ্কে কাজ করেছি, তারপর আমি এলাম লন্ডন সিটি ব্যাঙ্কে, সুজান জে পি মরগানে। ওয়াটারলু ও ব্ল্যাকফ্রায়ারস ব্রিজের মাঝামাঝি টেমসের উত্তর তীরে তখন জে পি মরগানের অফিস। কোনো কালে সেটি ছিল সিটি অফ লন্ডন স্কুল, তার নাম এখনো দেওয়ালে ক্ষোদিত আছে। তবে সেখানে আর বিদ্যা শিক্ষা নয়, অর্থ ব্যবসায় হয়। সুজান এখন পুরো দস্তুর ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্কার, গ্যাঁটের কড়ি না খসিয়ে খদ্দেরকে কোম্পানি কেনা বেচার সুপরামর্শ দেয়, কিন্তু তার কিছু কর্মধারা আমাদের সঙ্গে মেলে – তাদেরও বাজারে নামতে হয় টাকা তোলার জন্যে। তফাৎ এই যে সুজানের কাস্টমার ব্লু চিপ আই সি আই, গ্ল্যাকসো আমরা ফিরি করি পোল্যান্ডের দেউলে গদিনিয়া শিপইয়ার্ড, স্লোভাক টেলিকম। আর খানিক পার্থক্য এই যে খদ্দেরকে দেওয়া ঋণের একটা অংশ আমরা আমাদের খাতায় রাখি। সবটা অন্যদের ধরিয়ে দিই না, মরাল বলে একটা কথা আছে! জে পি মরগানের সে বালাই নেই, আপন তিজোরি থেকে নয়, অমলের টাকা বিমলকে ধার দিয়ে মধ্যেখানে বসে দইটি খায়। নানান ব্যাঙ্কের রিসেপশনে দেখা সাক্ষাৎ হলে ফ্রাঙ্কফুর্টের গল্প হতো।
সুজান বললে, চাকরি বদল করছি, জানাতে এলাম।
বললাম, এবার কোথায় মরগান স্ট্যানলি না গোল্ডম্যান? সুজান বললে কোনটাই নয়। তারা প্রাচীন ডাইনোসর, তাদের দিন চলে গেছে। যাচ্ছি প্রাইসলাইন ডট কমে। এ হলো ই কমার্স, ফিউচার বিলংস টু দেম।
হত্যে দেওয়ার যুতসই ইংরেজি মনে এলো না; তবু বলতেই হলো, ‘সে কি? কত লোকে এই নীলস্য নীল ( ব্লুয়েস্ট অফ দি ব্লু ) রক্তের ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্ক জে পি মরগানে কাজ পাবার জন্য রুটি জল খেয়ে লেগে থাকে। তোমার মাইনের সঙ্গে বোনাস জুড়লে সেটা কোনো ইন্টারন্যাশনাল টেলিফোন নম্বরের মতো লম্বা হবে, টেমসের শোভা দেখতে পাও তোমার জানলা থেকে। এ ছেড়ে কোন নতুন আস্তাবলে যাবে?
সুজান বললে, নতুন দিগন্তে পাড়ি দিচ্ছি। গত দু বছরে বাণিজ্যের চাল চলন বদলে গেছে, দেখতে পাও না? এই যে এক সময়ে আমরা কনটিনেনটাল ব্যাঙ্ক ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে আইরিস মেল পাঠিয়েছি কোরিয়ার সেউল ব্রাঞ্চে, মুহূর্তের মধ্যে খবর বিনিময় হয়েছে; অথচ বোকেনহাইমার লানডস্ত্রাসেতে আমাদের অফিসের উলটো দিকে ড্রেসনার ব্যাঙ্কে কি সিবা গাইগিকে টাইপ করা চিঠি পাঠিয়েছি মেসেঞ্জার মারফত। শুধু মেল নয়, ইন্টারনেট আমাদের পৃথিবীকে ছোট করে দিয়েছে –কম্পিউটারের বোতাম টিপলে সম্পূর্ণ নিখরচায় একই প্লাটফর্মে ক্রেতা বিক্রেতা, মিস্ত্রী মজুর একত্র হতে পারে, একটা বিশাল মার্কেট প্লেস, এখানে আসতে যেতে কোন খরচা নেই, তেল পুড়িয়ে গাড়ি চালাতে হয় না, ফ্রি এন্ট্রি ফ্রি একজিট। ধান্দা যাই হোক না কেন। আর ওই টেলিফোন নম্বর স্টাইলের কম্পেনসেশান? বোনাসের কথা ভুলে যাও, এরা শেয়ার অপশন দিচ্ছে, আই পি ও (ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং)-র প্রথম দিনেই শেয়ারের দাম ডবল হচ্ছে, কাগজে দেখো না?
আন্তরিক শুভেচ্ছা এবং ভবিষ্যতের জন্য মঙ্গলকামনা জানিয়ে সুজানকে আমাদের ব্যাঙ্কের সদর দরজা অবধি পৌঁছে দিয়ে নিজের দফতরে ফেরার সময় লিফটে চড়ে মনে হল, কয়েক বছর ধরে ছুটোছুটি করছি উন্নয়নশীল দেশগুলিতে নতুন বাণিজ্যের সন্ধানে। বার্লিন দেওয়ালের পতন, পূর্ব দিগন্তে হঠাৎ আলোর ঝলকানি, নেলসন ম্যানডেলার মুক্তির পরে আফ্রিকায় নতুন সূর্যোদয় খুলে দিয়েছে আরেক জানালা। লক্ষ করেছি কি যে আমাদের জানা কাজের পদ্ধতি, চেনা দুনিয়াটা কত তাড়াতাড়ি বদলে যাচ্ছে টেকনোলজির কল্যাণে? ইন্টারনেট কি শুধু এ বাড়ির খবর ও বাড়িতে রাতারাতি পৌঁছে দেওয়া বা পাহাড় থেকে পাহাড়ে মাদল বাজিয়ে দুঃসংবাদ পৌঁছে দেবার মতন কিছু? নাকি এক দুর্বার বেগে সেটি ওলট পালট করে দেবে সকল প্রথাকে?
আরেক দিন কাজে ব্যস্ত আছি এমন সময়ে মেল পেলাম; বিকেল চারটের সময়ে সাত তলায় আমাদের সকলের জমায়েত হবার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কোন কারণ জানানো হয়নি। কি ঘটেছে কি রটেছে? আমাদের চাকরি নিয়ে টানাটানি? যূথবদ্ধ বহিষ্কার? কালেকটিভ ডিসমিসাল? ১৯৮৮-৮৯ তে যেমনটি ঘটেছিল মরগান গ্রেনফেলে?
বড়ো সায়েব গিবসন আসরের মাঝখানে, তাঁর পাশে আরেক হেড হনচো, মাইকেল গুরালনিক। একেবারে গথাম সিটি থেকে হংকং হয়ে লন্ডন এসেছেন দু বছর আগে। অত্যন্ত স্বল্প নোটিসে মিটিং ডাকার জন্য মৃদু মার্জনা চেয়ে নিয়ে বড়ো সায়েব জানালেন, মাইকেল আপনাদের কিছু বলতে চান। মাইকেল বললেন, ই মেল অত্যন্ত নৈর্ব্যক্তিক, ইমপারসোনাল, তাই সাক্ষাতে দুঃখের সঙ্গে আপনাদের জানাতে চাই কুড়ি বছর কাজ করার পরে আমি সিটি ব্যাঙ্ক ছেড়ে যাচ্ছি। দেশও। নতুন ঠিকানা ভিয়েনা, না অস্ট্রিয়া নয়, ভিয়েনা, ভার্জিনিয়া।
গুরালনিক আমার মেট্রিক্স ম্যানেজার; মাইনে বা বোনাসের কোন দায়িত্ব তাঁর হাতে নেই কেবল রেকমেনডেশনটুকু করতে পারেন। অতএব তিনি থাকলে বা গেলে আমার লাভ ক্ষতির আশঙ্কা সীমিত। নির্ভয়ে জিজ্ঞেস করলাম, যাচ্ছেন কোথায়? আমাদের কোন কম্পিটিশন আপনাকে প্রলুদ্ধ করেছে কি? এ রকম বেয়াড়া প্রশ্নের উত্তরে সহাস্যে বললেন, তিনি যোগ দিচ্ছেন একটি ইন্টারনেট সম্পর্কিত ফাইনান্সিং সংস্থায় যারা প্রাচীন ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থাটাকেই বদলে দিতে চায় , সে অর্থে হয়তো প্রতিদ্বন্দ্বী।
কলিন উইলসন খোদ গ্লাসগোর লোক, কট্টর সেলটিক ফ্যান। কাজ করতো ক্যাশ ম্যানেজমেন্ট বিভাগে। একদিন লিফটে দেখা। বললে সে একটি ইন্টারনেট কোম্পানিতে যোগ দিচ্ছে। এই টাকা পাঠানোর গতি বিধি একটা অকল্পনীয় লেভেলে গিয়ে পৌঁছেছে, সিটি ব্যাঙ্ক তার ধারে কাছে যেতে পারবে কিনা সন্দেহ।
শুধু সুজান, গুরালনিক, কলিন নয়, মাঝে মাঝেই শুনি চেনা অচেনা কেউ না কেউ চলে যাচ্ছে সিটি ব্যাঙ্ক ছেড়ে।
কোথাও ঝড় উঠেছে? স্টেশন প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে আছি; না থেমে, আমাকে উপেক্ষা করে এক রাশ ঝরা পাতা উড়িয়ে দিয়ে একটা দুরন্ত গতির এক্সপ্রেস ট্রেন চলে গেল।
বৈদ্যুতিন বার্তা
নয়ের দশকের মাঝামাঝি যখন কম্পিউটার খুললেই কারো ভারি গলায় শোনা যায়, ইউ গট মেল, আপিসের তরুণ তরুণীদের জিজ্ঞেস করেছি, বলতে পারো আমি প্রথম কখন ই মেল দেখেছি? আমার পিতামহ ভীষ্ম সুলভ বয়েসের সম্মান রক্ষার্থে কেউ কেউ বলেছে, ১৯৯০?
তাদের অবাক করতে হয়েছে; ১৯৮১ সালের মে মাসে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া ফ্রাঙ্কফুর্ট ছেড়ে কনটিনেনটাল ব্যাঙ্কে এসে ই মেলে বার্তা বিনিময় প্রথার সঙ্গে আমার প্রথম সাক্ষাতকার। সেটি আগের বেশ কয়েক বছর ধরেই সেখানে চালু। ব্যাঙ্কের সকল ইউরোপীয় শাখা, শিকাগো হেড অফিস, সেউল, নাইরোবি সহ দেশি বিদেশি ব্রাঞ্চের মধ্যে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম ছিল আইরিস মেল (Image Recognition Integrated Systems ), তবে সে শুধু বার্তা বিনিময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ; অর্থ আদান প্রদান, ব্যাঙ্ক গ্যারান্টি, লেটার অফ ক্রেডিট ছিল একান্তভাবে টেসটেড বা কুলুপ লাগানো টেলেক্স আধারিত। অফিসের ভেতরে ঘুরে ঘুরে আমাদের চিঠিপত্র তার পোস্ট ব্যাগে ভরার সময়ে আমাদের পিওন উটরেখটের ডাচ যুবক ইয়ান কর্টেনহরসট বলতো আপনারা কম্পিউটারে যাই চালাচালি করুন না কেন আমার চাকরি যাবার নয়, কাঁধের চিঠির বোঝা কম হবে না।
চার বছর বাদে সিটি ব্যাঙ্ক লন্ডনে এসে দেখি সেই একই ধরনের ইলেক্ট্রনিক সংবাদ সরবরাহ পদ্ধতি, এখানে তার নাম সিটিমেল। সিটি তখন দুনিয়ার পয়লা নম্বর ব্যাঙ্ক, বিশ্ব জোড়া তার ব্রাঞ্চের ফাঁদ পাতা, প্যারাগুয়ে, পেরু, ফিলিপাইন্সের সঙ্গে মুহূর্তে বৈদ্যুতিক বাক্যালাপ করা যায়, শুধু কাজের কথা নয় দুটো সুখ দুঃখের কথাও হয়। প্রত্যেকের ডেস্কে পি সি আসতে দেরি আছে; ছয় থেকে আটজনের অফিসের ঘরের কোণায় ছোট টেবিলের ওপরে যেটি থাকতো তাকে সে আমলের টেলিভিশন সেট মনে না করার কোন কারণ ছিল না! সেটি বারোয়ারি, যার যখন সুবিধে সেটি ব্যবহার করতে পারেন। তাকে বলা হতো টার্মিনাল ( বিমান বন্দরের বাইরে এই প্রথম টার্মিনাল দেখলাম!)। সুইচ অন করলে টেলিভিশনের ছবি নয়, দেখা দিতো সবুজ রঙের একটি স্ক্রিন, সেখানে সম্ভাষণ – ‘ওয়েলকাম টু দি সিটি অফ টুমরো’। লগ ইন, পাসওয়ার্ড এসব শব্দ তখন না জানা থাকলেও তার ব্যবহার হয়েছে। মেসেজ পাঠানোর প্রক্রিয়াটি ছিল অতি ধীর গতির, যাকে আমরা আজকাল স্লো কনেকটিভিটি বলি। আমাদের সিনিয়র জাপানি অফিসার ইকেনাগা-সান উত্যক্ত হয়ে মাঝে মাঝে বলতেন, টুমরো নয়, বলা উচিত সিটি অফ ডে আফটার টুমরো! সিটি ব্যাঙ্কের কাস্টমাররা আমাদের দ্রুত যোগাযোগের ক্ষমতা দেখে চমৎকৃত হলে বলতাম আমাদের একটা পোষা স্যাটেলাইট আছে! পৃথিবীর যে কোন শহর থেকে আমাদের বাণী তার দিকে পাঠালে সেখানে ঠোক্কর খেয়ে আকাঙ্ক্ষিত শহরে গিয়ে ল্যান্ড করে!
আজকের ই মেলের সঙ্গে তার পার্থক্য অবশ্যই বিপুল - সিটি অথবা কনটিনেনটাল ব্যাঙ্কের মেল ছিল ইন্টারনাল অর্থাৎ তার যান্ত্রিক হরকরা ডাক বিলি করতো নিজেদের ব্রাঞ্চে। নিউ ইয়র্কের ৩৯৯ পার্ক এভিনিউর সিটি ব্যাঙ্ক অফিস থেকে মুহূর্তের মধ্যে বাক্যালাপ করা যেতো মনটিভিডিও, মাদ্রিদ (ই মেল আই ডি – EUMAD!) ম্যানিলার সঙ্গে কিন্তু ম্যাডিসন এভিনিউতে ম্যানুফ্যাকচারারস হ্যানোভার ট্রাস্ট ব্যাঙ্কের সঙ্গে নয়! কাট অ্যান্ড পেস্ট, ব্লাইনড কপি, আউট অফ অফিস, সি সি বা এডিট করার সুবিধে ছিল না, অ্যাটাচমেণ্ট পাঠানো যেতো না।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষে, আমেরিকান সরকারের উদ্যোগে এবং অফিস অফ সায়েন্টিফিক রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বিভাগের ছত্রছায়ায় হার্ভার্ড এবং এম আই টির ছাত্র ভানেভার বুশ (কোন মার্কিন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সম্পর্ক বিহীন ) বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ ও সম্পাদনার কাজ করছিলেন। ১৯৪৫ সালের জুলাই মাসে প্রকাশিত অ্যাজ উই মে থিংক প্রবন্ধে তিনি লেখেন মাইক্রোফটোকপি মেশিনে অত্যন্ত স্বল্প পরিসরে একটা গোটা এনসাইক্লপিডিয়ার কপি করা যায় এবং ক্যাথোড রে টিউবে সেটি প্রতিফলিত করা সম্ভব – বিন্দুতে সিন্ধু! মেশিনের নাম দিলেন মেমেক্স, সেটি একটি বিশাল ফাইলিং সিস্টেম যেখানে সূত্র ( থ্রেড ) ধরে অন্তহীন ইনফরমেশন রাখা যায় -অনেকদিন পরে গুগল যে কর্মটি সাধন করে আপনাকে আমাকে কৃতজ্ঞতাপাশে আবদ্ধ করেছে। এই সূত্র ধরে আরও বিশ বছর বাদে পেনটাগনের অ্যাডভানসড রিসার্চ প্রোজেক্ট এজেন্সি ( ARPA) এবং আমেরিকান টেলিফোন অ্যান্ড টেলিগ্রাফ কোম্পানির সহযোগিতায় সৃষ্টি হল আরপানেট ( ARPANET); ১৯৬৯ সালের পয়লা অক্টোবর ইউনিভারসিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া (লস এঞ্জেলেস ) থেকে স্ট্যানফোরডে পাঠানো হয় প্রথম ই মেল। যদিও সেটি তৎক্ষণাৎ ক্র্যাশ করে, মাস দুয়েকের মধ্যে ই মেল পাঠানো ও পাওয়া গেলো; আমাদের কনটিনেনটাল ব্যাঙ্কের আইরিস মেল এবং সিটি মেল সেই আরপানেটের উত্তরসূরি।
বারো কেন, দুনিয়াতে কয়েকশ এমনি ঘর গড়ে উঠলো, তারা নিজেদের মধ্যে আলাপ করে গোপনে, সন্তর্পণে, বাঁধা থাকে নিজেদের গড়া ক্ষুদ্র পৃথিবীতে। এমন কোন এজমালি উঠোন নেই যেখানে বসে তারা পরস্পরের সঙ্গে দুটো কথা বলতে পারে, দীন দুনিয়ার জ্ঞানের ভাগ বাঁটোয়ারা করে নিতে পারে। যতোই করিবে দান তত যাবে বেড়ে এমন আপ্তবাক্যে তারা ঘোর অবিশ্বাসী।।
এই সময়ে এমন একজনের আবির্ভাব হলো যিনি সোনা জহরত অর্থের বিনিময়ে নয়, সম্পূর্ণ নিঃশর্তে মানুষের, মেশিনের টানা গণ্ডিকে চুরমার করে দিয়ে জগতকে উজ্জ্বল আলোয় আলোকিত করবেন; যতদিন সভ্যতা আছে, জীবন আছে, পৃথিবীর ইতিহাসে তাঁর নাম হিরের অক্ষরে লেখা থাকবে।
টিম বারনারস-লি
লন্ডনে জন্ম, অক্সফোরডের ফিজিক্স গ্র্যাজুয়েট, জেনিভায়, মঁ ব্লাঁ পাহাড়ের গুহার নিহিত নিউক্লিয়ার রিসার্চ ল্যাবরেটরিতে – সার্ন (CERN- Conseil européen pour la Recharche Nucléaire) কাজ করেছেন; একদিন ভাবলেন, এমন একটা প্রোগ্রাম বানাতে পারি যা দিয়ে এই সার্নের সব কম্পিউটার একে অপরের সঙ্গে কথা বলতে পারবে? শুধু সার্ন কেন, এই পৃথিবীর সমস্ত কম্পিউটার সবার সঙ্গে যখন খুশি কথা বলতে পারবে? মানুষের ইতিহাসে এ যাবত সঞ্চিত সকল সম্পদে হবে সবার সমান অধিকার? গায়ে জামা গলিয়ে দুটো রাস্তা পার হয়ে বা গাড়ি চালিয়ে কেনা কাটার জন্য কোথাও যেতে হবে না; ঘরে বসেই আমরা ঢুকে যেতে পারবো দুনিয়ার যে কোন বাজারে, থাকবে কতকগুলি শর্ত, প্রোটোকল। একদিন সেই স্বপ্ন সফল হলো
আগস্ট, ১৯৯১।
ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব। বাকিটা ইতিহাস।
সার্ন তাঁর এই আবিষ্কার মুফতে বিলি করতে চায় নি, ব্যবহারের জন্য খরচা চাওয়া উচিত; কিন্তু টিম বারনারস-লি বললেন, না, কোন কপিরাইট, কোন রয়্যালটি নয় এটি লাগুক মানুষের কাজে, বিনামূল্যে, নিঃশর্তে। হিসেব করে দেখা গেছে তিনি যদি প্রত্যেকটি ক্লিকের জন্য এক সেন্ট চাইতেন, তাঁর ধন সম্ভার বহু দেশের সামগ্রিক জাতীয় আয় বা জি ডি পিকে ছাপিয়ে যেতে পারতো।
আন্তর্জালের মায়াজাল
অকৃত্রিম উল্লাস
রব উঠেছে আমাদের সকলকে এই নতুন টেকনোলজির সঙ্গে পরিচিত হতে হবে। এতদিন আমাদের অফিসে একটা টি ভি সেটের সামনে বসে কি বোর্ড টিপে কেবল খবরাখবর দেওয়া নেওয়া করেছি, এখন জানতে হবে নতুন জ্ঞানের প্রয়োগ পদ্ধতি – কেমন ভাবে ইঁদুর বা মাউস ক্লিক করে আদেশ পাঠাতে হবে। আমাদের লুইশাম ট্রেনিং সেন্টারে দফায় দফায় ব্যাঙ্কের তিন হাজার কর্মীকে পাঠানো হলো – একদিনের ইনটেনসিভ প্রোগ্রাম; আমাদের ক্লাসের পঁচিশ জনকে কীভাবে মাউসে একবার, দুবার ক্লিক করতে হয় সেটা শেখানোর চেষ্টায় গোটা সকাল কাটালেন এক দাড়িওলা ট্রেনার। লাঞ্চের সময়ে রজার তাঁর সেই ‘ক্লিক’ বলার ঢং টির অসামান্য অনুকরণ করে আমাদের প্রচুর হাসিয়েছিল।
একটি ঘটনা বিশেষ করে মনে আছে - রোম উনড হাস কোম্পানি থেকে টম মিলসের একটি ই মেল হাজির হলো আমার সিটি মেলের বাক্সয়, যা ছিল কেবল আমাদের একান্ত আপন, বাইরের লোকের প্রবেশাধিকার ছিল না। আমাদের ইট পাথর দিয়ে ঘেরা উঠোনের বেড়া টপকে ঢুকে পড়েছে আরও অন্য বারো ঘরের মানুষ জন! অনুমতির অপেক্ষা না রেখেই। মাত্র কয়েকমাস বাদে মোডেম আমার ঘরে স্থান নিলো, বাড়ির ল্যান্ড লাইন দিয়ে সেই যন্ত্রের সাহায্যে সিটি ব্যাঙ্কের ই পাঠাগারে প্রবেশ – মেল পড়তে লিখতে অফিসে যেতে হয় না। অফিস ঢুকে পড়েছে আমাদের বাড়ির অন্দরে। সেদিন জানতাম না ব্যক্তিগত ও প্রফেশনাল জীবনের মাঝে লক্ষ্মণ রেখাটি চিরতরে বিলীন হয়ে গেলো।
বারনারস-লি আমাদের বসার ঘরের টেবিলে দুনিয়ার বাজারকে বসিয়ে দিয়েছেন – সেটি এবে কম্পিউটার রূপেন সংস্থিতা।
ইংল্যান্ডের দক্ষিণ উপকূলে হেসটিংস শহরের কাছে একটি বিশাল হোটেল ভাড়া করে সিটি ব্যাঙ্ক দু দিনের জন্য এক মহতী শিক্ষা শিবির খুলে ফেলল। সেটাকে বিচ হলিডে মনে করে সানন্দে যোগ দিয়েছি। ইন্টারনেটের যুগে মাউসের বোতাম টিপে ক্লিক করতে জানাটা বর্ণমালার অ আ ক খ শেখার মতো মাত্র। এবার বুঝতে হবে আমাদের জগত ও জীবনে তার কি বিশাল প্রভাব পড়তে চলেছে। বারনারস-লির দৌলতে ইন্টারনেটেই ব্যবসার সঙ্গে ব্যবসার মুখ দেখাদেখি হবে ( বি টু বি – B2B), ইন্টারনেটে বসে যাবে হরি সাহার হাট ( E-Commerce), স্টিল কংক্রিটের ব্যাঙ্কের অট্টালিকা নয়, কি বোর্ডে বোতাম টিপে অর্থের লেন দেন (online banking ), সময় সুযোগ বুঝে বা দৈনন্দিন চাকরির বোঝা নামিয়ে রেখে বসার ঘর থেকে চলবে শেয়ার বাজারে কেনা বেচার খেলা ( Day trading)। আপন পি সির মাঝে পাবো বিশ্বলোকের সাড়া।
আমরা না হয় এই টেকনিক আমাদের নিত্যিকার কাজে লাগাবো, আমাদের বিলিয়ন ডলারের বার্ষিক আয় আছে, কিন্তু যারা একমাত্র ইন্টারনেটের বলে বলিয়ান হয়ে নতুন নতুন দোকান খুলছেন, তাঁরা লাভ করবেন কোথা থেকে? মনে আছে সেমিনারে ঘর ভর্তি লোকের মাঝে এই বেয়াড়া প্রশ্ন করায় শিক্ষক রুষ্ট হয়েছিলেন; বললেন, ইন্টারনেটের ইমপ্যাক্ট যে কি ব্যাপক হবে সনাতনী ব্যাঙ্কাররা সেটি এখন বুঝে উঠতে পারছেন না। অগৌরবার্থে বহু বচন ব্যবহার করে শুধু আমাকে নয়, মৎ সদৃশ এক জনসমষ্টিকে মূর্খের দলে ফেলে দিলেন তাতে খানিকটা মান রক্ষা হল।
ছাত্রানাং অধ্যয়নং তপঃ এই গুরু বাক্যটিকে কলা দেখিয়ে প্রিন্সটন, স্ট্যানফোরড, হার্ভার্ডের তরুণ যুবক যুবতিরা কলেজে নাম কাটিয়ে বাপের গ্যারাজে বাড়ির বাতিল টি ভি সেটের সঙ্গে দুটো তার জুড়ে টার্মিনাল বানিয়ে এবং বাণিজ্যের প্রচলিত ব্যাকরণ বইটি অগ্নিতে আহুতি দিয়ে নানান বিজনেস মডেল বানিয়ে ফেললেন যার ক্যাশ ফ্লো ছিল বয়স্ক বোরিং ব্যাঙ্কারদের বুদ্ধির বাইরে।তারই মধ্যে এক নিরামিষাশী যুবক খালি পায়ে হিমালয়ের নানা চড়াই উৎরাই ভেঙ্গে এসে এক নতুন কিছু বানালেন বটে কিন্তু সেই কোম্পানি তাঁকেই বরখাস্ত করলো। স্টিভ জবস অন্য জবে মন দিলেন।
এই বিজনেসে লগ্নি করবে কে বা কারা?
ক্লিনটনের কাল। ফেডেরাল রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রধান গ্রিনসপানের অপার করুণায় সুদের হার কমতির দিকে। এমন সময়ে জিনের জোব্বায় সহস্র মুদ্রা ভরে দেখা দিলেন নতুন যুগের অশ্বারোহী; ক্ষ্যাপার মতন হেথা হোথা পরশ পাথর খুঁজে মরছিলেন এতদিন, আজ এক গভীর বিশ্বাসে এসে দাঁড়ালেন ক্যালিফোর্নিয়ার এক ডজন গ্যারেজের সামনে। তাদের দরজা খুললেই নতুন দিনের সূর্যোদয় দেখা যাবে; তার উদ্দেশ্যে ফুল বেলপাতা অথবা লক্ষ লক্ষ ডলার নিবেদন করলেন তাঁরা। শেয়ার বাজারে প্রভু দেখা দিলেন নব কলেবরে – তার নাম ইন্টারনেট স্টক। শোনা গেল এটি উদয়ের পথ, ভবিষ্যৎ এখান থেকেই শুরু হবে।
ব্যাল্যান্স শিট, ক্যাশ ফ্লো, প্রফিট অ্যান্ড লস না দেখে টুলো পণ্ডিতের ক্লাসে পড়া অনেক ট্র্যাডিশনাল ব্যাঙ্কার ঋণ দিতে দ্বিধা করছেন। সেই সব বাধা বন্ধকে উপেক্ষা করে ইকুইটি তহবিলে জমা দিতে এগিয়ে এলেন যে অশ্বারোহী বাহিনী তাঁদের নাম টেকনোলজির নতুন দিনের ইতিহাসের কীবোর্ডে লেখা থাকবে – এঁরা ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট; নাথিং ভেঞ্চারড নাথিং গেইনড কথাটা বাল্যকাল থেকে শোনা ছিল এবার বাস্তবে দেখা গেল।
কিন্তু ঠিক কীভাবে কতটা বা কি গেইন করবেন?
বেলজিয়ামের কে বি সি ব্যাঙ্কের লন্ডন ব্রাঞ্চে কাজ করতো অনুজ প্রতিম অ্যানড্রু রবিসন ( বর্তমানে এইচ এস বি সি ব্যাঙ্ক আলোকিত করছে)। তার সঙ্গে বারে বসে কথা হচ্ছিল। সে বললে খবর রাখো কি হচ্ছে আটলানটিকের ওপারে? বললাম, বাঙালি বলিয়া করো না হেলা, তেমন নিরেট নহি গো। আফ্রিকা পূর্ব ইউরোপ নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও হাল হকিকতের খবর আমরাও রাখি। সমস্যা এই যে পুরনো দিনের চিন্তা ধারা থেকে মুক্ত হতে পারি নি তাই কিছু প্রশ্ন মনে জাগে। জানোই তো অনেক প্রতিষ্ঠানকে আন্তর্জাতিক ঋণের বাজারের রোড শোতে দাঁড় করিয়েছি সম্ভাব্য ইনভেস্টরদের সামনে; দেওয়াল আলো করা স্লাইডে দেখিয়েছি তাদের বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি, বিগত তিন বা পাঁচ বছরের ইতিহাস, তার সঙ্গে ভবিষ্যৎ দর্শন বা ফাইনাশিয়াল ফোরকাস্ট। দৌড় শুরুর আগে রেসের মাঠে ক্ষুর দিয়ে মাটি ঘষছে যে ঘোড়া সে আগে দৌড়েছে কি না, কোন গতিতে বা কোন মাঠে তার বিস্তারিত রেকর্ডের ছাপা বই পাওয়া যায়, যার নাম রেসিং পোস্ট। আমাদের ইনভেস্টর ব্যাঙ্কগুলি তেমনই খুঁটিয়ে যাকে পোডিয়ামে দাঁড় করিয়েছি সে কোম্পানির ব্যাল্যান্স শিটের ছান বিন করে। দেখে তারা এতদিন কেমন ব্যবসা করেছে। যদিও কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনা ধাবমান রথকে উলটে দিতে পারে তবু ঋণ গ্রহীতার অতীতের মার্কশিট এবং বর্তমান রেজাল্ট মিলিয়ে পরের বছরগুলির ভবিষ্যতের প্রজেকশন করা হয়ে থাকে। এই যেমন আমরা আন্তর্জাতিক ঋণের বাজারে সিটি ব্যাঙ্কে টাটা স্টিলকে প্রথম নিয়ে আসি ১৯৯৬ সালে, সে মাত্র কুড়ি মিলিয়ন ডলারের ডিল। দশ বছর বাদে সিঙ্গাপুরে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাঙ্কের হয়ে টাটা স্টিলের যে লোন সই করি তার সাইজ তিনশ মিলিয়ন ডলার। শনৈ শনৈ অগ্রসর!
একটা নতুন শব্দ চিনলাম; যে ব্যবসার কোন পাস্ট নেই তার নাম স্টার্ট আপ!
নতুন ঘোড়া, নতুন মাঠ। নতুন টেকনোলজি আনছে পরিবর্তনের তুমুল ঝড়, যেমন একশ বছর আগে ঘোড়াকে গাড়ি থেকে বিযুক্ত করে আস্তাবলে ফেরৎ পাঠিয়েছিল অটো বেন্তসের মোটর এঞ্জিন। এই স্টার্ট আপরা গড়বে ইতিহাস। তাই চোখ বুজে আস্থা রাখুন এদের বিজনেস প্ল্যানে, ম্যানেজমেন্ট লিডারশিপে। আস্থার রেসিং গাইড বা ব্লুমবের্গ রিপোর্ট হয় না। মুক্তহস্তে স্টার্ট আপ তহবিলে অর্থ জমা দিন, কোম্পানির শেয়ার বিক্রি হলেই মুঠো মুঠো লাভ করুন।
আজ ধার কাল নগদ?
অ্যানড্রু বললে, কিছু মনে করো না, পূর্ব ইউরোপ, আফ্রিকায় যে সব লোন ফিরি করে বেড়াচ্ছ, সে সব কোম্পানির কি ইতিহাস আছে? যেটুকু আছে তাও লোকসানের। অথচ পাবলিককে রোড শোতে পড়াচ্ছ, হ্যাঁ, এ অবধি বলার মতন তেমন কিছু আয় করে উঠতে পারে নি। তবে ভরসা রাখুন, ধার দিন, ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল! সেটাও তো স্টার্ট আপের দলে পড়ে! বিয়ার শেষ করে বললাম, যুক্তিটা ঠিক মেনে নেওয়া যাচ্ছে না। আর কিছু না হোক এদের ইট কাঠের অফিস আছে, জীর্ণ পুরাতন হলেও কারখানা আছে! যাবার সময়ে অ্যানড্রু বলে গেল, শেয়ার বাজারের পাতা উলটে দেখো।
ঠিক কথা। শেয়ার বাজারে পুরনো টেক্সট বুক বা আমেরিকান ভাষায় প্লেবুক একেবারে বদলে যেতে দেখছি - প্রতিদিন নতুন নতুন নাম শোনা যায়, নিউ ইয়র্ক স্টক একচেঞ্জে সবলে ঘণ্টি বাজিয়ে এমন সব ইন্টারনেট কোম্পানির ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং ( আই পি ও ) ঘোষিত হয় যাদের প্রতিষ্ঠা হয়েছে ছ মাস আগে, রেভেনিউ শূন্য; প্রতি মাসে কারো কারো পে রোল আর বিজ্ঞাপনের খরচা পঞ্চাশ লক্ষ ডলার। আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি হলে তাকে লোকসান বলে জানতাম। এখন শুনলাম এই ঘৃতাহুতির নাম বার্ন রেট, কতো টাকা পুড়ছে, কত ভেঞ্চার ক্যাপিটাল মালিক সেই দহনযজ্ঞে ডলার ঢালছেন সেটাই বিবেচ্য। এই বার্ন রেট যতো বেশি, অর্থলগ্নিকারক ততো উৎসাহী - কারণ এঁরা জানেন এ শুধু কিছুদিনের ব্যাপার; অর্থ দহন যজ্ঞে টিকে থেকে এঁরাই যখন স্টক মার্কেটে প্রথম শেয়ার ইসু করবেন, সেটি হবে আবির্ভাব, আগমন নয়।
ক্রমশ
* If you live long enough, you would have seen everything” – A Chinese saying
** These Billion-Dollar AI startups have no products, no revenue and eager investors”
Kate Clark, January 27, 2026
Wall Street Journal,
হীরেন সিংহরায় | ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৭:৩৭738890
আশীষ সিংহ রায়। | 103.242.***.*** | ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৮:৩৭738892