আত্ম-ঔদাসীন্য একটা মহৎ গুণ যা অহং ও স্বার্থপরতা কমাতে সাহায্য করে। নশ্বরতাবোধও তাই। কার্ল মার্কস কথিত হৃদয়হীন জগত আর আত্মাহীন পারিপার্শ্বিকতার মধ্যে মানুষের নিজের মানবত্ব বাঁচিয়ে রাখার লড়াই আধ্যাত্মিকতা ছাড়া আর কি ? ফলে বৌদ্ধধর্মের প্রাসঙ্গিকতা প্রতিদিন বাড়ছে মোহ, রূপ, রহস্য আর মুগ্ধতার ধারাবাহিক হন্তারক এই পৃথিবীতে। একজন আধুনিক যুক্তিবাদী মানুষ কীভাবে দেখবেন এই ধর্মকে? ... ...
কেউ কেউ বলেন আম্বেদকর কল্যাণকর পুঁজিবাদের ( Welfare Capitalism) পক্ষপাতী ছিলেন। জানিনা, এরকম ধারণার ভিত্তি কি। একথা ঠিক, তিনি রাজনৈতিক অধিকার অর্জনের আগে সামাজিক সংস্কারের পক্ষপাতী ছিলেন যেটা বুঝতে তৎকালীন কংগ্রেসের নেতৃবৃন্দ ভুল করেছিলেন। আমাদের দেশের বামপন্থী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দও একই ভুল করেছিলেন। আমাদের প্রশ্ন, দুই ধরনের সংগ্রাম একসঙ্গে চলার কী অসুবিধা ছিল বা এখনই বা কী আছে ? দ্বিতীয়ত,আম্বেদকর আজ বেঁচে থাকলে দেখতে পেতেন আধুনিকতা আর নাগরিকতার মধ্যে দলিতদের যে মুক্তিসন্ধান তিনি করেছিলেন তার চালিকাশক্তি থেকে দলিতরা আজও শত যোজন দূরে। তার কারণ আধুনিকতার গোটা ব্যবস্থাটা কিন্তু শেষপর্যন্ত বড় পুঁজির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। ... ...
আর কে কী মেনেছেন জানি না, জাঁ লুক কিন্তু শিল্পীর এই দায়িত্ববোধের কথা আজীবন মেনে চলেছেন। তাঁর প্রকাশভঙ্গী পাল্টেছে, পাল্টেছে ভাষা ও প্রকরণ। কিন্তু দায়িত্ববোধের অবসান হয় নি। দীর্ঘায়ত অবরোধ আর প্রতিরোধের তত্ত্বকে স্বীকার করেছেন বলেই না পুঁজিবাদ, আমেরিকান অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদ, ইজরায়েলের জায়নবাদ – তার আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু থেকেছে বরাবর। নয়তো গোদারের পক্ষে কঠিন ছিল না বুর্জোয়া ব্যবস্থার সেলিব্রিটি স্টেটাসকে নিজের অনুকূলে ব্যবহার করা বিশেষত যখন ১৯৫৯ থেকে ১৯৬৭ সালের মধ্যে আট বছরেই তিনি যে পনেরটি ছবি তৈরি করেন তা আমাদের আজও বিস্মিত করে। এই তালিকার শেষ ছবিটিই উইকএণ্ড। ... ...
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সমাপ্তির আশি বছর পরেও আমাদের আগ্রহের বিষয় দুটি। প্রথমত নেতাজী সুভাষচন্দ্রের মৃত্যুরহস্য এবং দ্বিতীয়ত নেতাজীকে নিয়ে কম্যুনিস্ট পার্টির তৎকালীন অবস্থান। নেহেরু বলেছিলেন মার্কসবাদ আর ফ্যাসিবাদের মাঝখানে কোনো জায়গা থাকতে পারে না। সুভাষ কিন্তু ঠিক সেটিতেই বিশ্বাস করতে আরম্ভ করলেন। নেতাজীর নাৎসীদের প্রতি অবস্থান ছিল রাজনৈতিক ভাবে এক হিমালয়প্রতিম ভুল। পরে জাপ সাম্রাজ্যবাদ অক্ষশক্তির সঙ্গে যোগ দেওয়ায় এবং তাদের সাহায্য গ্রহণে সুভাষচন্দ্র বাধ্য হওয়ায় এই ভুল তার পরিণতির দিকে এগিয়ে যায়। ... ...
ঋত্বিক মার্কসবাদী হয়েও কোনো যান্ত্রিক সমাজতান্ত্রিক বাস্তববাদের দাসত্ব করেন নি। তিনি দেখেছিলেন যে মার্কসবাদী পরিভাষা দিয়ে বা শুধু শ্রেণীচেতনা দিয়ে মানুষের সব জটিলতাকে, তার অন্তর্জগতকে ধরা যায় না।নিজস্ব নন্দনতত্ত্বকে এভাবে গড়ে পিটে নেওয়ার কাজ আর কোনো ভারতীয় চলচ্চিত্রকার করেছেন বলে আমার জানা নেই। ... ...
এই আত্মজীবনী একইসঙ্গে সাহসী, শৈল্পিক, সৎ, আন্তরিক। ভাষার বহুবর্ণিল প্রকাশধর্মীতা এবং স্বচ্ছতা যা তাঁর প্রথম উপন্যাসের পাঠককে মুগ্ধ করেছিল তা এখানেও অন্তর্লীন। সঙ্গে যোগ হয়েছে তাঁর সামাজিক কার্যাবলী এবং প্রতিরোধের অভিজ্ঞতাসঞ্জাত তীক্ষ্ণতা এবং শ্লেষ। কিন্তু তাঁর ভাষা এবং দৃষ্টিভঙ্গীকে মুড়ে রেখেছে মমত্ব এবং আত্মউদাসীনতার এক যুগলবন্দী যা আমাদের প্রথম থেকে শেষ পৃষ্ঠা পর্যন্ত বইটির প্রতি অনুরক্ত রাখে। ... ...
এবছর সাহিত্যে নোবেল পেয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার মহিলা সাহিত্যিক হান কাং। তার ‘হিউমান অ্যাক্ট’ নামে উপন্যাসে তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার গাংজু (Gwangju) প্রদেশে ১৯৮০ সালের মে মাসে চলা গণবিক্ষোভ এবং ছাত্রবিক্ষোভ দমনে সামরিক শাসকদের দ্বারা ঘটানো ছাত্রদের ওপর গণহত্যা চিত্রিত করেছেন। ... ...
যতক্ষণ কোনো প্রকল্প ধর্ম, ধর্মতত্ত্ব এবং ধর্মীয় মৌলবাদের মধ্যে পার্থক্য করতে শেখায় ততক্ষণই তা ভালো। ধর্মনিরপেক্ষতার সীমাবদ্ধতার বিপরীতে বিপুল ধার্মিক জনতার নৈতিক বোধকে অসাম্প্রদায়িক লক্ষ্যে চালিত করার এ এক উপায় হতে পারে। তবে এই উপমহাদেশে রাষ্ট্রশক্তির কাছে মৌলবাদ প্রশ্রয় পায়। সেখানে লোকধর্ম তার বিরুদ্ধে কতটা শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়তে পারবে তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। ... ...
বুদ্ধবাবুর সংস্কৃতিবোধ, সাহিত্য ও সিনেমা প্রেম নিয়ে আমি কিছু লিখব না। অনেকে লিখেছেন।আমি ওঁর রাজনীতি নিয়ে কিছু কথা বলব। সেখানে কিছু সমালোচনা যেমন থাকবে তেমনি ওঁর বিরুদ্ধে অতি বামদের কিছু সমালোচনার জবাবও থাকবে। ... ...
বামপন্থীদের এই রাজ্যে সাফল্য পেতে গেলে আগে কেন্দ্রে বিজেপি সরকারের পতনের জন্য সচেষ্ট হতে হবে। তার জন্য ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে হবে। তাই বলে সঙ্গত কারণে রাজ্য সরকারের বিরোধিতার পরিসরটি ছাড়লে চলবে না। যদিও একটা স্ববিরোধিতা আছে সিপি আই এমের। দেখা গেছে, সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে তার যে ঘোষিত নীতি তাতে স্পষ্ট বামপন্থী অভিমুখ থাকে। কিন্তু ভারতের কোনো অঙ্গরাজ্যে শাসনক্ষমতায় দীর্ঘদিন থাকলে সেই অভিমুখ থাকে না।সবার আগে কর্মসূচীকে শ্রেণীরাজনীতির ভিত্তিতে, প্রান্তিক মানুষের স্বার্থে পুনর্নিমাণ করা দরকার। ... ...