আমাদের মত গুরুবাদী এবং প্রথানুগামী দেশে প্রশ্ন করাকে খুব ভালো চোখে দেখা হত না কোনোকালেই। গুরুজনদের প্রশ্ন করাকে তো রীতিমতো গর্হিত অপরাধ ও ধৃষ্টতা হিসেবেই গণ্য করা হত। কার বক্তব্য সঠিক তার থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল কার বয়স বেশি। কোনো প্রথা বা অনুষ্ঠানের যৌক্তিকতার চেয়ে বেশি গুরুত্ব পেত ঐতিহ্যের প্রশ্নটি। পরিবারে, শিক্ষাঙ্গনে, সমাজে সর্বত্রই এই সংস্কৃতি পরিব্যাপ্ত ছিল এবং নতুন নতুন চেহারায় তা আজও ভালোমতই টিকে আছে। তার বাহ্যিক রূপের বদল হয়েছে মাত্র। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই প্রবণতা আরও মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে , যেমন শিক্ষা। প্রাথমিক শিক্ষা থেকে শুরু করে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত, এমনকি চিকিৎসাবিদ্যার ক্ষেত্রে নোটমুখস্থ পড়া, অগভীর এম ... ...
যখন এই লেখা লিখছি তখন বঙ্গ রাজনীতিতে কিছুটা শোরগোল পড়েছে এক নবীন বামপন্থী কর্মীর দলত্যাগের ইচ্ছে প্রকাশ নিয়ে। সংসদীয় আসন শূণ্যতার মধ্যেও কম্যুনিস্ট দলগুলোর প্রতি আগ্রহ মানুষের একটু আলাদা কারণেই থাকে। আবার এই ঘটনা থেকেই বোঝা যায় যে রোগগুলোতে বামপন্থী বিশেষত কম্যুনিস্ট দলগুলি ভুগেছে এত দিনেও তার কোনো নিরসন হয় নি। এক্ষেত্রে এই রোগের নাম গণতান্ত্রিক কেন্দ্রিকতার নামে আমলাতান্ত্রিক কেন্দ্রিকতা চালানো । ফলে দলের অঙ্গহানি। অতীতে বিভিন্ন দলের মধ্যে ভাঙনগুলো এই কারণেই হয়েছে। নামে মতাদর্শ বলা হলেও আসলে বিরোধ হয়েছে বিভিন্ন কৌশলগত প্রশ্নে।আসলে কৌশলও নয়, সুবিধাবাদ আর নীতিদৌর্বল্যের প্রশ্নে। বলছি বটে রাজনীতির ভাঙন, আসলে তা মূল্যবোধের ভাঙন। রাজনীতি যখন ভেতর থেকে ... ...
'My enemy is Kitsch,not Communism’ she replied,infuriated. ত্রিশ বছর পর আবার পড়লাম মিলান কুন্দেরার ’The Unbearable Lightness of Being’ উপন্যাস। কুন্দেরার এই বইগুলো, এরকম লাইনগুলো,এরকম চিন্তাগুলো নব্বই দশকের মধ্যভাগে আমাদের ভীষণভাবে আত্মস্থ করেছিল। ফলে যেটা হয়,মন আর নিজ নিকেতনে ফিরতে পারে নি। নিকেতন বলে যেটা ভাবা হচ্ছে সেটাও যে ঐ ‘কিচ’ সেটা জেনে গেছিলাম। ফলে ব্যক্তিগতভাবে দীর্ঘদিন বামপন্থীদের সঙ্গে সহযোগী কাজকর্ম করেও কখনও যে তাঁদের অংশ হয়ে উঠতে চাই নি,তার কারণও নিশ্চিত এই পাঠের সঙ্গে সম্পর্কিত। এমন নয় যে আমরা গত শতাব্দীর দমনমূলক সমাজতান্ত্রিক ... ...
[ এই লেখাটি মৌলিক নয় আদৌ। এটি মীরা নন্দার ‘Science in Saffron: Skeptical Essays on History of Science’ বইয়ের ৫৬ পৃষ্ঠার একটি প্রবন্ধ তথা অধ্যায়ের সারাৎসার।] “The physics and chemistry of living cells is the same as the physics and chemistry of rocks. No spiritual energy is needed to explain life” --- Victor Stenger ১৮৯৩ সালে বিবেকানন্দের শিকাগো বক্তৃতার মধ্যে আধুনিক বিজ্ঞানের কথা এসেছিল এরকম ভাবে – ‘হিন্দুরা যে কথা তার বুকের মধ্যে যুগ যুগ ধরে ধারণ করে এসেছে সেই কথাই আরও জোরালো ভাষায়, বিজ্ঞানের সাম্প্রতিকতম সিদ্ধান্তের আলোয় শেখানো হবে এবার।’ শিকাগোর পর বিবেকানন্দ আমেরিকায় পতঞ্জলির যোগসূত্রর ওপর নিউইয়র্ক এবং তার আশেপাশের অঞ্চলে বক্তৃতা দিয়েছিলেন। সেই বক্তৃতাগুলি বিবেকানন্দর অনুবাদ সহ ১৮৯৬ সালে ‘ রাজযোগ’ নামে প্রকাশিত হয়। প্রচণ্ড জনপ্রিয় হয় বইটি। এই বইতে শারীরিক আসন টাসনের ... ...
ব্যাংকে গেছি একটা কাজে। প্রতিবেশী মানব বাবুর সঙ্গে দেখা। ছেলে ব্যাঙ্গালোরে থাকে। ছুটিতে এসেছে।আমরা গুড্ডু বলে ডাকি। আমি বললাম, কিরে গুড্ডু? অনেক দিন পর দেখলাম। কবে এলি? গুড্ডু বলল, এই তো লাস্ট ফ্রাইডে। ভালো আছ আংকল? আমি কিছু বলার আগেই মানববাবু বললেন, আমার ছেলেকে বোধহয় সারাজীবন বাইরেই কাটাতে হবে। এর জন্য দায়ী লাল ঝাণ্ডার রাজনীতি। মানববাবু বিজেপির ঘোরতর সমর্থক শুধু নন, ওঁর অফিসে বিজেপির ট্রেড ইউনিয়ন বি এম এসের নেতা বলে জানি।আমি বললাম, দেখুন পশ্চিমবঙ্গে তো কমপিউটার বিরোধী আন্দোলন হয়েছিল প্রধানত দুটি। একটি বীমাশিল্পে, কিন্তু সেটা ১৯৬৮ সালে আর সেটা এখনকার কমপিউটার নয়। আর দ্বিতীয়টা হয়েছিল আটের দশকের মধ্যভাগে ব্যাংকশিল্পে। কিন্তু কম্পিউটারের সার্বিক বিরোধিতা কোথাও ... ...
প্রাচীনকালে অর্থাৎ আমাদের বালকবেলায় গরমের ছুটি একটা বড় ব্যাপার ছিল। আমাদের অনেকের বাড়িতে গরমের ছুটিতে আত্মীয় স্বজন আসতেন। বিশেষত অনেক সময় মহিলারা ছেলে মেয়ে নিয়ে পিতৃগৃহে গরমকালে একবার আসতেন। আমি যে পাড়ায় থাকতাম সেখানে কারো কারো বাড়িতে দেশের বাড়ি থেকে গাছপাকা আম আসত এই সময়। সেটাও বড় আকর্ষণ ছিল ছোটোদের কাছে। প্রতি বছর পাড়ায় নিমুদের বাড়িতে শ্যামল আসত। শ্যামল সেবার মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছিল। আমি তখন এইটে পড়তাম। শ্যামল সেই যুগের তুলনায় অনেকটাই স্মার্ট ছিল ।তার ওপর কবিতা লিখত এবং সেটা ছেপে বেরোত। আমাদের দেখিয়েছিল উত্তরবঙ্গ থেকে প্রকাশিত একটা পত্রিকায় ... ...
বিভিন্ন কাগজে বেরিয়েছে ভারতীয় পর্যটকরা দলবেঁধে তুরস্ক আর আজারবাইজান ভ্রমণ ক্যানসেল করছেন। মেক মাই ট্রিপ, ইজ মাই ট্রিপ এবং অন্যান্য ভ্রমণ সংস্থার রেকর্ডবুক তাই বলছে। সদ্য সমাপ্ত ভারত পাক সামরিক সংঘাতের সময় এই দুটি দেশ প্রকাশ্যে পাকিস্তানকে সমর্থন করেছে। দেশপ্রেম জিনিসটা বেশ ভাল, যখন সেটা সৎ, দায়বদ্ধ, যুক্তিবাদী মানুষদের থাকে। আমাদের দেশে অবশ্য ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে, কর্মক্ষেত্রে কাজ ঠিকমত না করে, সারাদিন রাজা উজির মেরেও সপ্তাহান্তে বা মাসান্তে ধর্মস্থানে গিয়ে পুণ্য কুড়োনোর রেওয়াজ আছে। ঘুষ খাওয়া, দুর্নীতি প্রভৃতি সামাজিক অন্যায়ের সঙ্গে যে প্রকৃত ধার্মিকতাকে মেলানো যায় না সে বোধ এদের নেই। এই মাঝে মাঝে দেশপ্রেম উথলে ওঠা সম্পন্ন ঘরের ( যারা ... ...
নিঝুম অন্ধকারে শুধু জলের কলকলধ্বনি। জল নয়, পা যে ডোবাবো হয়তো দেখবো রক্তস্রোত। দমবন্ধ প্রতীক্ষা, দূরাগত হ্রেষারব, মুখ থুবড়ে পড়ল বোধহয় অশ্ব কিংবা অশ্বেতর, পিঠের অপটু সওয়ারিও বুঝি নিঃক্ষিপ্ত হল শূণ্যতায়। তার চূর্ণ মস্তিষ্কে পেরেকের মত গেঁথে রইল সীসের দাগ। অদূরে তার স্ত্রী নীরব প্রতীক্ষায় জানু পেতে আছে যদি বসুধা বিদীর্ণ হয়ে তাকে আশ্রয় দেয় জানকীর মত, হে রাম! বৃদ্ধের পঞ্জরের মত অসহায় , করুণ ছিল মৃতদের ললাটলিখন। লিডার নদীর জল পাথরের গায়ে ধাক্কা খেয়ে রক্তস্রোতে পালটে যাচ্ছে। ,ঘনীভূত অন্ধকারে হাতধরাধরি করে আছি বসে আমরা মানুষ ও মানুষী কজন।বসেআছে বিমূঢ প্রজন্ম, ভোরের প্রতীক্ষায় ... ...
Mubi ওটিটিতে এখন আম্বেদকরের উপর দুটি ছবি দেখানো হচ্ছে। তারমধ্যে একটিতে জ্যোতি নিশা পরিচালিত ১১০ মিনিটের ডক্টর বি আর আম্বেদকরঃ নাউ অ্যাণ্ড দেন ছবিতে কিছু নতুন তথ্য আছে। ১৯৯৭ সালে ওয়াশিংটন পোস্টের দিল্লীস্থিত সাংবাদিক মিঃ কুপারের প্রয়োজন হয় একজন দলিত সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলা। পি আই বি র ইনডেক্স ঘেঁটে, প্রেস ক্লাবে খুঁজেও একজন দলিত সাংবাদিকও দিল্লীতে খুঁজে পাওয়া যায় নি। ২০০৬ সালে একটি সার্ভে করে দিল্লীর ৩৫ টি মিডিয়া হাউসের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ১০ জন ব্যক্তির জাতিপরিচয় খুঁজে আবার একই তথ্য--- একজনও দলিত খুঁজে পাওয়া যায় না ঐ সাড়ে তিনশ জনের মধ্যে, ওবিসি পাওয়া যায় মাত্র ৪ শতাংশ। অথচ সরকারী ... ...
অসুস্থ শরীরে, ভোর হওয়ার আগেই এই লেখা লিখছি। কারণ কিছু জরুরী কাজ এই সময়েও ফেলে রাখা যায় না।আমি শুধু নই আমার রাজ্য অসুস্থ, আমার দেশ অসুস্থ, আমার পৃথিবী অসুস্থ। সে আর সূর্যস্নাত ভোর দেখবে কিনা সন্দেহ।কারা এই অসুস্থতার ভাইরাস ছড়াচ্ছে ? কারা অন্ধকারকে দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য বলছে ভোরের দরকার নেই, রাত্রিই ভালো ? কাদের জগদ্দল উপস্থিতি বেঁচে থাকার বিশ্বাসটুকুও কেড়ে নিচ্ছে আমাদের ?আমরা জানি তাদের নাম । আপাতত তাদের এই নামেই ডাকা যাক--- তেনো (তিনিই সব), ছেনো (সব ছিন্নভিন্ন,বিভাজিত করে দেয় যে ) আর নেনো ( লিঙ্গসর্বস্ব খ্যাপাটে এক দেশনায়ক যে দেশটির প্রভাব বিশ্বে সর্বাধিক)।আমাদের রাজ্যে তেনো আর ছেনোর বাইনারির ... ...