আগের পর্বগুলো জানতে এখানে পড়ুন। পর্ব ১ , পর্ব ২, পর্ব ৩, পর্ব ৪, পর্ব ৫, পর্ব ৬, পর্ব ৭, পর্ব ৮ , পর্ব ৯ ।
জেরুসালেম ৮০ BCE, অ্যান্টিপেটার এর দিনলিপি ভীষণ কঠিন দিন আসছে আমাদের সামনে | জানিনা কি হতে যাচ্ছে | ফারিসীদের বিদ্রোহ কয়েক বছর আগে কঠোর ভাবে দমন করা হয়েছিলো | আমি নিজেও সাহায্য করেছিলাম তখন সম্রাট ইয়ানাইকে | কিন্তু ফারিসীরা এখন একটা এমন চাল দিয়েছে যার জন্যে আমি একেবারেই প্রস্তুত ছিলামনা | আমরা ইদুমীয়রা যারা কয়েক বছর আগে ইহুদি হয়েছি সুন্নত করে তারা জুডার সাধারণ ইহুদীদের থেকে উপেক্ষা, অবিশ্বাস আর ঘৃণা পেয়ে অভ্যস্ত, এখন আমরা সবসময়েই চাই বা না চাই এই ইহুদীরা কি করছে তার উপরে নজর রাখতে অভ্যস্ত | কিন্তু আমিও ঘুণাক্ষরে টের পাইনি যে তলেতলে ফারিসীরা এতো বড় একটা পরিকল্পনা করছে ! ওরা সিরিয়ার আন্টিওকের গ্রীক শাসক দিমিত্রিয়াসের সঙ্গে তলে তলে যোগাযোগ রাখছে | আমার সিরিয়ার চরদের কাছ থেকে গত বছরই খবর পেয়েছিলাম যে হঠাৎ করেই জুডা থেকে অনেক অলিভ চাষীরা আন্টিওকের গ্রীক শাসক দিমিত্রিয়াসের দরবারে যাতায়াত করছে বাণিজ্য বাড়াবার জন্যে | কিন্তু সেভাবে তাদের উপরে নজর রাখতে পারিনি | ভেবেছিলাম জুডিয়ার ব্যবসা বাড়লে তো সবারই ভালো তাহলে কর আদায়ও ভালো হবে | কিন্তু এখন বুঝতে পারছি আসলে এই ফারিসীরা অলিভ চাষির ছদ্মবেশে সিরিয়া যাচ্ছে আর ষড়যন্ত্র করছে সিরিয়ার আন্টিওকের গ্রীক শাসক দিমিত্রিয়াসের সঙ্গে | ওদের উদ্যেশ্য যাতে দিমিত্রিয়াস যুদ্ধ ঘোষণা করেন জুডার বিরুদ্ধে আর তখনই ওই ফারিসীরা ফতোয়া দেবে যে জেরুসালেমের হাসমোনিয়ান সম্রাট আলেক্সান্ডার ইয়ানাই আসলে একজন ধর্মদ্রোহী গোয়িম তাই জুডার ইহুদীরা যেন তাদের সম্রাটের বিরুদ্ধেই অস্ত্র ধরে আর যেন পতন হয় জেরুসালেমের ! ওহঃ কি শয়তানী বুদ্ধি এই ফারিসীগুলোর ! যে হাসমোনিয়ান সম্রাট আলেক্সান্ডার ইয়ানাইকে ওরা ধর্মদ্রোহী গোয়িম মনে করে , তাকেই সিংহাসন থেকে টেনে নামাতে চাইছে আরেকজন গোয়িম সিরিয়ার আন্টিওকের গ্রীক শাসক দিমিত্রিয়াসের সাহায্য নিয়ে !!! বিশ্বাস করা যায়না কাউকেই এখন ! কিন্তু যুদ্ধকে আটকানোর আর উপায় কি !! ইয়ানাই এখন আমার উপরে অনেকটাই নির্ভরশীল তার কোষাগার আর যুদ্ধনীতির পরিচালনা করতে ! আমি এখন ইদুমিয়ার গভর্ণর পদেও নিযুক্ত হয়েছি | বলাই বাহুল্য, ইয়ানাই নিজেই একাজ করেছেন | আবার অনেক বছর পরে ফিরতে পারবো ইদুমিয়াতে | সেই কোন ছোটবেলাতে বন্দী দশায় ইদুমিয়া থেকে জেরুসালেমে এসেছিলাম | আর আজ আমি যখন ইচ্ছা চাইলেই ওখানে ফিরে যেতে পারি যেহেতু আমি ওখানকার গভর্নর | সত্যি দিন কেমন ভাবেই না বদলায় !
তবে এখন বুঝতে পারছি আমার এতো ক্ষমতা সবই শুধুমাত্র আলেক্সান্ডার ইয়ানাই এর সৌজন্যে | ইয়ানাইয়ের কাছে আমার কদর খুব যেহেতু আমি আগের বার আমার ভাড়াটে গ্রিক আর আরব সেনাদের নিয়ে ওকে বাঁচিয়েছিলাম ওই উন্মত্ত ফারিসীদের হাত থেকে কয়েক বছর আগের সুকোটের সেই ভয়াবহ দিনটাতে | আমি নাবাতিয়ার আরবদের ভাষাও জানি আবার গ্রীক ভাষাও খুব ভালোই জানি তাই আমাকে ইয়ানাইয়ের খুবই প্রয়োজন এখন বণিকদের থেকে টাকা সংগ্রহ করতে আর এই যুদ্ধের সময়ে গ্রিক আরব ভাড়াটে সৈন্য জোগাড় করবার জন্যে | এতোদিন ধরে তিলতিল করে যা গড়ে তুলেছি আমি, সব সব ধ্বংস হয়ে যাবে যদি ওই ফারিসিরা ইয়ানাইকে হটিয়ে গদীতে অন্য কাউকে বসায় ! এন্টিওকের দিমিত্রিয়াস বা সম্রাজ্ঞী সালোমে যেই জেরুসালেমের গদীতে বসুক না কেন আমার লাভ নেই !!! যে করেই হোক এই যুদ্ধে জেতাতেই হবে আমাকে ইয়ানাইকে আমার ভাড়াটে আরব আর গ্রীক সৈন্যদের নিয়ে | কিন্তু সমস্যার বিষয় যে, ফারিসীদের ডাকে সাড়া দিয়ে জুডার অনেক ইহুদী এখন এন্টিওকের দিমিত্রিয়াসের পক্ষে যোগ দিয়েছে | ওদের বুঝিয়ে সুঝিয়ে হাসমোনিয়ানদের দিকে ফিরিয়ে আনবার চেষ্টা করছেন ইয়ানাই সম্রাজ্ঞী সালোমে আর তার ভাই ফারিসী নেতা সাইমনকে নিয়ে কিন্তু মনে হচ্ছে ফারিসিরা এখনো সুকোটের সেই অভিশপ্ত দিনটাকে ভোলেনি | ওরা ইয়ানাইকে কোনোভাবেই আর মেনে নেবেনা | যুদ্ধ হবেই | আরো একটা মুশকিল হলো যে আমার নাবাতিয়ার আরব আর গ্রীক ভাড়াটে সেনারা সম্মুখ যুদ্ধ এখনো সেভাবে দেখেনি, এরা রাজধানীতে দাঙ্গা আটকানো আর ছোটোখাটো গেরিলা সংঘর্ষ দেখেছে, কাজেই এই যুদ্ধ কোন দিকে যাবে কে জানে ?
শেচেমে ইয়ানাই এর যুদ্ধশিবির |
যুদ্ধযাত্রার জন্যে প্রস্তুত ইয়ানাই ও অ্যান্টিপেটার | নিজেদের যুদ্ধশিবিরে বসে আছেন দুজনে | ওদের সঙ্গেই এসেছেন রাণী সালোমে ও তার ভাই সাইমন | পরদিন যুদ্ধ শুরু হবে বলেই সবার ধারণা | তবে যুদ্ধক্ষেত্র বলে কথা শত্রু যখন তখন আক্রমণ করতে পারে বলেই ধারণা সবার | সালোমে ও সাইমনকে এই যুদ্ধশিবিরে রাখবার পিছনে ইয়ানাইয়ের দুটো উদ্যেশ্য আছে | প্রথমতঃ ইয়ানাইয়ের কাছে খবর এসেছে যে গ্রীক বীর দিমিত্রিয়াসের সৈন্যবাহিনীতে অনেক জুডার ইহুদী সৈন্য যোগ দিয়েছে, ফারিসীদের ইয়ানাইকে ধর্মদ্রোহী ও গোয়িম ঘোষণা করবার পরে | সালোমে ও তার ভাই ফারিসী নেতা সাইমনের মাধ্যমে এসব ইহুদী সেনাকে নিজের দিকে করবার একটা শেষ চেষ্টা করছিলেন ইয়ানাই যদিও এখনো কোনো সাফল্য আসেনি তার | তবে ওদের দুজনকে এখানে নিজের সঙ্গে রাখবার আরো একটা উদ্যেশ্য আছে ইয়ানাইয়ের | তার ধারণা, যুদ্ধক্ষেত্রে তার চরম পরাজয় ঘটলেই জেরুসালেমে ফারিসিরা তার বদলে অন্য কোন শাসককে গদীতে বসাতে চাইবে | সেদিক থেকে ফারিসীদের প্রথম পছন্দ হতে পারেন রাণী সালোমে যেহেতু তার সঙ্গে খুবই ভালো সম্পর্ক এই ফারিসীদের | ফারিসীরা একবার মহারাণী সালোমে কে জেরুসালেমের শাসক ঘোষণা করে দিলেই সবচেয়ে বেশী সমস্যা হবে তখন ইয়ানাইয়ের যেহেতু সেক্ষেত্রে তার অনুগত যিহোবার মন্দিরের পুরোহিত সাদুসিরা সানহেদ্রিনে তাকে সমর্থন নাও জানাতে পারে তখন | সেজন্যই এদের নিজের সঙ্গে রেখেছেন ইয়ানাই | তবে সালোমের গর্ভজাত তার দুই সন্তান হিরকানুস ও আরিস্টোবুলুসকে তিনি গ্যালিলিতে পাহাড়ে নিজের বিশেষ ঘাঁটিতে সুরক্ষিত রেখেছেন | এবিষয়ে তাকে সাহায্য করছেন আমাদের পুরোনো পরিচিত অ্যান্টিপেটার | ইয়ানাই চান যে যুদ্ধে তার হার হলে আত্মসমর্পণ না করে পালিয়ে গ্যালিলিতে পাহাড়ে নিজের বিশেষ ঘাঁটিতে পালিয়ে যেতে এবং সেখান থেকে তিনি আর অ্যান্টিপেটার গেরিলা যুদ্ধ চালিয়ে যাবেন |
যুদ্ধ
যুদ্ধটা শুরু হয়েছিলো মোটামুটি গতানুগতিক ভাবেই | প্রথম থেকেই ইয়ানাই আর অ্যান্টিপেটার আর তাদের ভাড়াটে গ্রিক আর আরব সৈন্যরা আক্রমণ শুরু করেছিলো খুব শক্তিশালী ভাবে | তাদের কুড়ি হাজার সৈন্যদের নিয়ে বেশ ভালোই যুদ্ধ করছিলেন ইয়ানাই আর অ্যান্টিপেটার, একেক সময়ে মনে হচ্ছিলো যে বুঝি দিমিত্রিয়াসকে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পিছু হটতেই হবে ! দিমিত্রিয়াসের পক্ষ নিয়ে এসময়ে লড়ছিলো মূলতঃ জুডার সেইসব ইহুদীরা যারা ইয়ানাইয়ের শাসনকে "ধর্মদ্রোহী গোয়িম" আখ্যা দিয়ে যুদ্ধ করছিলো | যুদ্ধের প্রথম তিন ঘন্টা সমানে সমানে টক্কর চলছিলো দুই দলের মধ্যে, কিন্তু সূর্য মাথার উপরে উঠতেই সমস্যা শুরু হলো ইয়ানাইদের সামনে | প্রথমে দেখা গেলো যে দিমিত্রিয়াস তার অশ্বারোহী সৈন্যদের নিয়ে এলেন যুদ্ধের মাঝখানে, এরা সবাই খুব পুরোনো গ্রীক যোদ্ধা এদের দিমিত্রিয়াস ব্যবহার করেন একদম যুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তেই | যুদ্ধে আসবার সঙ্গে সঙ্গেই এরা দিমিত্রিয়াসের পক্ষে খেলা ঘোরাতে শুরু করে দিলো যখন দিমিত্রিয়াসের অশ্বারোহীরা দূর থেকে এসে ঝাঁপিয়ে পড়ছিলো আর ছুরি দিয়ে মাখন কাটবার মতো কেটে ফেলছিলো ইয়ানাইয়ের সৈন্যদের | এরকম টালমাটাল অবস্থাতেই নিজের শেষ মোক্ষম চালটা দিলেন দিমিত্রিয়াস | এতক্ষন দুই দলের সৈন্য প্রায় সমান সমান ছিলো কিন্তু যেটা জানা ছিলোনা ইয়ানাই আর অ্যান্টিপেটারের, যে আরো কুড়ি হাজার সৈন্য দিমিত্রিয়াসের যুদ্ধক্ষেত্রে পক্ষে অংশ নেবার জন্যে আসে পাশের টিলা গুলোতে লুকিয়ে ছিলো যেহেতু এদেরকে এই মোক্ষম সময়ের জন্যেই তৈরী রেখেছিলেন দিমিত্রিয়াস | এবার সেই কুড়ি হাজার গ্রীক সৈন্য ইতিহাসপ্রসিদ্ধ ফ্যালানক্স পদ্ধতিতে সামনে এসে গেলো | ইয়ানাই অবাক হয়ে দেখলেন, যে কিছুক্ষনের মধ্যেই তাসের ঘরের মত ভেঙে পড়লো তার ভাড়াটে গ্রীক আর আরব সৈন্যদের সব প্রতিরোধ | দিমিত্রিয়াসের নতুন আসা সৈন্যরা গ্রীক ফ্যাল্যাংকস পদ্ধতিতে বুহ রচনা করে টুকরো টুকরো করে দিলো ইয়ানাই এর আরব ও গ্রীক ভাড়াটে সৈন্যদের | অ্যান্টিপেটারের ভাড়াটে সৈন্যদের সাহায্যে সালোমে আর সাইমনকে নিয়ে ইয়ানাই পালিয়ে গেলেন গ্যালিলিতে তাদের গোপন পাহাড়ী আস্তানাতে |

(শেচেমের যুদ্ধ : হাসমোনিয়ান ইহুদী রাজ আলেক্সান্ডার ইয়ানাই ও সিরিয়ার এন্টিওকের গ্রীক রাজ দিমিত্রিয়াসের ভয়াবহ যুদ্ধ )
আরো কিছুদিন পরে , গ্যালিলির পাহাড়ী গোপন ঘাঁটি
সেচেমের যুদ্ধে পর্যুদস্ত হবার পরে গত কয়েক মাস চুপচাপ বসে আছেন ইয়ানাই আর অ্যান্টিপেটার | নতুন কোন খবর জেরুসালেম থেকে আসছেনা সেভাবে | এন্টিওক আর দামাস্কাস থেকেও নিজের বিশেষ চর দের নিয়ে খবর সংগ্রহ করবার চেষ্টা করছেন তারা | কিন্তু সেভাবে ঠিকঠাক কোনো খবরই আসছেনা | ফারিসীরা কাকে জেরুসালেমের রাজা ঘোষণা করলো ঠিকঠাক বোঝা যাচ্ছেনা | এমনকি এন্টিওক থেকে মাঝে মাঝে শোনা যাচ্ছে যে জুড়িয়া থেকে যুদ্ধজয় করে স্বদেশে ফিরে এসেছেন রাজা দিমিত্রিয়াস | যুদ্ধজয়ীর তো রাজা হয়ে জেরুসালেমে বসবার কথা ছিলো এভাবে তো দেশে ফিরে যাবার কথা নয় ! তাহলে কি হচ্ছে জেরুসালেমে এখন ?
(শেচেমের যুদ্ধ : ভয়াবহ যুদ্ধে এন্টিওকের গ্রীক রাজ দিমিত্রিয়াস গ্রীক ফালানক্সে বিদ্যা প্রয়োগ করে পর্যুদস্ত করছেন হাসমোনিয়ানদের আরব ও গ্রীক ভাড়াটে সৈন্যদের | যুদ্ধভূমি থেকে পালাচ্ছেন হাসমোনিয়ান ইহুদী রাজ আলেক্সান্ডার ইয়ানাই ও অ্যান্টিপেটার )
একদিন বিকেলে নিজেদের মধ্যে কথা হচ্ছিলো ইয়ানাই আর সাইমনের | অ্যান্টিপেটারও আছেন সেই আলোচনাতে |
ইয়ানাই : আমাদের এই যুদ্ধে এতো বড় হারের কারণ কি ? এর পরে ম্যাকাবিদের কি হবে ? আমরা কিভাবে আবার ফিরে আস্তে পারি ক্ষমতায় ?
সাইমন : এসবই জিহোভার অভিশাপ প্রধান পুরোহিত ইয়ানাই | আপনার পূর্বকৃত কর্মফলেরই কারণে এসব হয়েছে | সেসব আপনি ভুলে গেলেও যিহোবা কিন্তু ভুলে যাননি |
ইয়ানাই (গলায় উষ্মা ) : ওহঃ আবার সেই পুরোনো কথা ! আমরা হাসমোনিয়ান ম্যাকাবিরা নবী দাউদের (বাইবেলে ডেভিড) বংশের কেউ না হয়েও কেন রাজা হলাম ! এই তো তোমার দুঃখ তাই না সাইমন ! ভুলে যেওনা আমি নিজে সম্রাট না হলে সিরিয়া বা মিশর আরো আগেই হাত বাড়াতো জুডিয়ার দিকে | আজকে আমাদের যা পতন হয়েছে এই যুদ্ধে তা আরো দশ বছর আগেই হয়তো হতো!
অ্যান্টিপেটার : সম্রাট, এটা ভুলে গেলে চলবেনা আমাদের জুডার ইহুদী জাতির মধ্যে থেকে অনেকেই কিন্তু রাজা দিমিত্রিয়াসকে এন্টিওক থেকে এখানে নিয়ে এসেছিলো ! আমার চরেরা খবর এনেছে, প্রায় দশ হাজার ইহুদী এই যুদ্ধে দিমিত্রিয়াসের পক্ষে আমাদের বিরুদ্ধে লড়েছে |
সাইমন (ধীর স্থির গলা ) :প্রধান পুরোহিত, আপনার এই ইদুমিয় পরামর্শদাতার কথা শুনে আমাদের লাভ কিছুই হয়নি | গ্রীক গোয়িমদের সম্মুখ যুদ্ধ আর ফ্যালানক্স ব্যাবহার কিছুই জানেনা এই ইদুমিয় | আর এর চরেরা ? কোন গুরুত্বপূর্ণ খবরই দিতে পারেনি ওরা ! আপনার এই ইদুমিয় পরামর্শদাতা থাকলে আর কোনো শত্রুরই দরকার নেই !
ইয়ানাই : শত্রু শুধু বাইরেই থাকে তা নয় সাইমন , আমাদের হাসমোনিয়ান ম্যাকাবি বংশের শত্রু তো আসলে ভিতরেই থাকে | আমাকে সরিয়ে প্রধান পুরোহিত আর সম্রাট হবার ইচ্ছে তো কম লোক করেনা তাই না সাইমন !
সাইমন : প্রধান পুরোহিত, আপনাকে ভুল বুঝিয়ে সর্বনাশের পথে ঠেলে দিচ্ছে এই ইদুমিয়| আপনি কি সেটা এখনো বুঝতে পারছেননা ! আপনার ওই বিধর্মী গোয়িম গ্রীক সম্রাটদের মত হয়ে উঠতে চাওয়া, আপনার গ্রীক বণিকদের নিয়ে এতো মাতামাতি এসবই ওই ইদুমিয়ের চক্রান্ত | আপনাকে ভুল বুঝিয়ে ও এতো উল্টোপাল্টা কাজ করিয়েছে যার ফলেই আজ আমাদের উপরে যিহোবার অভিশাপ এসে পড়েছে এবং এজন্যেই তো আজকে আমাদের এই বিশাল পরাজয় !
ইয়ানাই : (গলাতে প্রবল আবেগ ) সাইমন আমি তোমাকে আমাদের এই গভীর সমস্যা থেকে মুক্তির উপায় খুঁজতে বলেছিলাম | আর তুমি কি আমাকে কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে দিচ্ছ সাইমন !
অ্যান্টিপেটার (গলায় ব্যঙ্গ ): সম্রাট, আপনার এই মহামান্য ফারিসী শ্যালক এখন আপনাকে জিহোভার কাছে অনুতাপ করতে বলবেন যেমন নবী দাউদ (বাইবেলে ডেভিড) তার ব্যাভিচারের পাপের জন্যে করেছিলেন জিহোভার কাছে !
সাইমন (গলাতে প্রবল উষ্মা ) : অনুতাপ শুধু মাননীয় প্রধান পুরোহিতের নয়, তোমাকেও করতে হবে ইদুমিয় | পাপ করেছো, এখন অপরাধ স্বীকার করো |
অ্যান্টিপেটার : অনুতাপ দিয়ে কি যুদ্ধ জেতা যায় নাকি কোষাগারের সম্পদ বৃদ্ধি করা যায় মহামান্য ফারিসী কুলতিলক সাইমন !! নাকি অনুতাপ আর পুণ্যফল দিয়ে ঘরের বাইরের শত্রুদের চক্রান্ত বন্ধ করা যায় !! (এবার ইয়ানাইয়ের দিকে তাকিয়ে ) মহামান্য সম্রাট, দেখুন আমাদের নাবাতিয়ার আরব আর অন্য গ্রীক ভাড়াটে সৈন্যরা এই যুদ্ধের আগে ফ্যালানক্স কখনো দেখেইনি ওরা কোনোভাবেই তাই এই যুদ্ধে আমাদের এই অবস্থা | তবে আর যাই হোক, আমাদের এই ভাড়াটে সেনারা তো আমাদের ছেড়ে রাজা দিমিত্রিয়াসের পক্ষে লড়েনি অন্ততঃ | আমার মনে হয় আমাদের আরো শক্তিশালী মিত্র দরকার | সম্রাট, পশ্চিম সাগরের ওপারে রোম বলে আরো শক্তিশালী একটা সাম্রাজ্য আছে | আমার মাননীয় গুরু আরন বলেছেন, এই রোম একদিন বিশ্বগুরু হবে আমাদের পৃথিবীর | তাই আমাদের এই রোমের সঙ্গে মিত্রতা করতেই হবে, মহামান্য সম্রাট |
সাইমন (গলায় রাগের বহিঃপ্রকাশ ) : পাপী ইদুমিয় এখনো তোমার ভণ্ডামির খেলা শেষ হলোনা ! কোথায় আমি বোঝাচ্ছি মহামান্য প্রধান পুরোহিতকে জিহোভার কাছে অনুতাপ করতে আর তুমি আবার আরেক গোয়িম সাম্রাজ্যের মিত্রতার কথা বলছো !
অ্যান্টিপেটার : রোমের মিত্রতা ছাড়া ভবিষ্যতে কিভাবে টিকে থাকবে জুডিয়া ! আমাদের ঘরে বাইরে চারদিকেই তো শত্রুদের আনাগোনা | এখানে জিহোভার অনুতাপ কি কাজ করবে ?
"জিহোভার আশীর্বাদ এখনো আমাদের উপরেই আছে ইয়ানাই " হঠাৎ করেই সালোমের গলা শোনা গেলো ঘরে | তাদের দুই ছেলে, হিরকানুস আর আরিস্টোবুলুসকে নিয়ে ঘরে ঢুকলেন মহারাণী সালোমে | "জিহোভার আশীর্বাদ এখনো আছে | “ এবার ঘরে বসা পুরুষদের বিস্ময়ভরা চোখগুলোর দিকে তাকিয়ে বললেন তিনি, " আমার চরদের থেকে পাকা খবর পেয়েছি, কয়েকদিন আগেই বিজয়ী রাজা দিমিত্রিয়াস সদলবলে জেরুসালেমে ঢুকতে গেছিলেন কিন্তু সেসময়ে সমস্ত স্থানীয় ইহুদীরা বলে যে আমরা কোনো গোয়িমকে মেনে নেবোনা আমাদের শাসক হিসাবে | আমরা সিরিয়ার আধিপত্য আর মেনে নেবোনা | আমাদের প্রধান পুরোহিত জিহোভার বিরাগভাজন কিন্তু তিনি এখনো আমাদের শাসক, কোনো গোয়িমকে আমরা মেনে নেবোনা আমাদের শাসক হিসাবে | একথা শুনে দিমিত্রিয়াসের দলে যেসব ইহুদী সৈন্য ছিলো তারাও বলে তারা কোনো গোয়িমকে মানবেনা এই শহরে শাসক হিসাবে | আমার মনে হয় জিহোভার আশীর্বাদ আমাদের সঙ্গেই আছে | চলো আমরা এখনই ফিরে যাই জেরুসালেমে ইয়ানাই | চলো | ”
পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।