এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • দুনিয়াদারীর টুকিটাকি ৮ : নাৎসী যখন জীবনদায়ী

    Debanjan Banerjee লেখকের গ্রাহক হোন
    ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ২৭৫ বার পঠিত | রেটিং ৪ (১ জন)
  • এই লেখার শিরোনামটি পড়েই অনেকে ভাবছেন এসব কি পড়ছি !!! নাৎসীরা তো জল্লাদ ছিলো তা এখন জল্লাদ কি জীবনদাতা হতে পারে? যারা হলিউডী সিনেমা অনেক দেখেছেন তারা ভাববেন যে আমি বোধহয় অস্কার শিন্ডলারের গল্পটাই আবার বলতে চাইছি। না, দুটোর কোনোটাই নয়, দাদা। এই লেখাটা লিখতে গিয়ে মনে পড়ছে যে এইতো গত মাসেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চীনে SCO মিটিঙে গিয়ে সারা বিশ্বে আলোড়ন তুলে দিলেন, তার ঠিক পরের দিনেই আরো একটা বড় অনুষ্ঠান চীনে অনুষ্ঠিত হয়েছিলো। সেটা ছিলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে চীনের বিজয় নিয়ে উৎসব। তা লন্ডনবাসী প্রবাসী বাঙালী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঐতিহাসিক রানা মিত্রের মতে, চীনের মানুষের বিশ্বাস যে ইউরোপ বা আমেরিকার থেকে অনেক আগেই তারা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিলো যখন ১৯৩০ এর দশকের শুরু থেকেই জাপান চীনে আগ্রাসন চালাতে শুরু করে। চীনের মানুষের মতে, তখন থেকেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শুরু। রানার মতে, এযুদ্ধে সামরিক অসামরিক মিলিয়ে প্রায় আড়াই কোটি চীনের মানুষের মৃত্যু হয় এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে চীনের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ত্ব ছিলো প্রায় এক তৃতীয় জাপানী ফৌজকে চীনের মধ্যেই আটকে রাখা যাতে তারা কোনভাবেই ভারত বা অস্ট্রেলিয়াতে আক্রমণ করতে না পারে। অবশ্য হলিউড বা অন্য মেইনস্ট্রিম মীডিয়া আপনাকে কিন্তু সেসব বলবেনা।তা সে যাই হোক, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের এই ভুলে যাওয়া অধ্যায়টির মধ্যে সবচেয়ে করুণ অধ্যায়টি ছিলো নানচিংয়ের (যেটিকে অনেকে নানকিং বা নানজিংও বলে থাকেন) গণহত্যা।

    এই নানচিংয়ের জেনোসাইডকে বুঝতে গেলে আমাদের দেখতে হবে আম্রিকানিবাসী চীনা লেখিকা আইরিস চ্যাঙের চোখ দিয়ে। আইরিসের ঠাকুর্দা ঠাকুমারা কোনোক্রমে এই রেপ অফ নানচিংয়ের থেকে বেঁচে গেছিলেন। ১৯৩৭ সালের ডিসেম্বর মাসে জাপানী সৈন্য জয় করে নানচিং শহর।

    বেশ কয়েক লক্ষ মানুষকে গুলি বোমা বেয়নেট তলোয়ার দিয়ে খুন করা ছাড়াও যে নারকীয় কাজটি করে রক্তলোলুপ জাপানী সেনাবাহিনী সেটি হলো কয়েকশ হাজার চীনা নারীর সম্মানহানি। এরকম জঘন্য নরসংহার নিয়ে সভ্য দুনিয়ার মনোভাব পুরোপুরিই এখনকার গাজা জেনোসাইডের মতোই ছিলো।


    ক্ষণজন্মা আইরিশ চ্যাং (১৯৬৮-২০০৪)

    একটি স্বপ্নের অপমৃত্যু

    এই নানচিংয়ের ধর্ষণ দেখে বোধহয় সবচেয়ে বেশী দুঃখ পেয়েছিলেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ। জাপান ও চীনে তিনি অনেকবারই গেছিলেন আর জাপানকে নিয়ে তার অনেক আশাই ছিলো। আসলে উনিশ শতকের শেষদিকে আর বিশ শতকের শুরুতে বামন জাপান পশ্চিমের পথে চলে ব্যাপক আর্থিক ও রাজনৈতিক সংস্কার করে, জাপান তার সামরিক শ্রেষ্ঠত্বেরও প্রমাণ রাখে বিশাল রুশ সাম্রাজ্যকে পর্যুদস্ত করে। এশিয়ার কোনো ছোট্ট দেশের হাতে এই প্রথম কোনো ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদী শক্তি হারলো। বিখ্যাত চীন বিশেষজ্ঞ তানসেন সেন দেখিয়েছেন, যে জাপানের জারিস্ট রাশিয়ার বিরুদ্ধে এই বিজয়ের পর থেকেই আস্তে আস্তে এশিয়াতে দুটি পরাধীন বৃহৎ দেশ ভারত ও মহাচীনে আস্তে আস্তে প্যান এশিয়ানিজম নামের একটি মুভমেন্ট গড়ে উঠতে থাকে যার মূল উদ্যেশ্য ছিলো ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদের হাত থেকে এশিয়ার মুক্তি জাপানের আদর্শের অনুসরণে, জাপানকে তার সামরিক সাফল্যের পরে আদর্শস্বরূপ হিসাবেই দেখতে থাকেন ভারত ও চীনের অনেক বিদ্দ্বজন, কবিগুরু এদের মধ্যে ছিলেন প্রথম সারিতেই, কবিগুরু বিশ্বাস করতেন বৌদ্ধধর্ম ভারত জাপান ও চীনের মধ্যে সংযোগ সূত্র তৈরী করবে ও জাপানের উত্থানকে তিনি দেখেছিলেন প্রাচ্যের উদারতার ও মানবিকতার জয়, পশ্চিমী সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে। কবিগুরুকে অনুসরণ করেই এর পরের বছরগুলোতে জাপানে যাবেন রাসবিহারী ও সুভাষচন্দ্র, তাদের নিজস্ব মিশনের লক্ষ্যে।

    বলাই বাহুল্য যে চীনে জাপানের হত্যালীলা কবিগুরুর এশিয়ার উত্থানের স্বপ্ন খানখান করে দিয়েছিলো। তার জাপানী বন্ধুদের তিনি চিঠি লিখে অনুরোধ করেছিলেন তাদের দেশের নেতাদের উপরে চাপ সৃষ্টি করে এই মারণযজ্ঞ বন্ধ করতে, কিন্তু উত্তরে পেলেন শুধুই অনুকম্পা আর চীনের মত দুর্বল দেশ নিয়ে মাথা না ঘামাবার পরামর্শ। ইতিহাস বলবে, ভাঙা মন আর মৃত স্বপ্ন নিয়ে কবি বেঁচেছিলেন মাত্র সাড়ে তিন বছর।

    আবার ফিরে আসছি আইরিশ চ্যাঙের সঙ্গে ধর্ষিত নানচিংয়ে। সারা শহর তখন জাপানী ফৌজের রক্তপিপাসু ধর্ষকামী সৈন্যদের হাতে, তারা যা খুশী করছে সেই শহরকে নিয়ে নিজেদের ইচ্ছামত। শহরের একটিই স্থান অপেক্ষাকৃত ভাবে নিরাপদ ছিলো সেসময়ে, শহরের ইউরোপিয়ান কোয়ার্টার আর সেখানে জার্মান কোম্পানী সিমেন্সের অফিস। নিরাপদ কেননা তখনো জাপানীরা সরাসরি ইউরোপীয়দের আক্রমণ করতে সাহস করছিলোনা।

    সেসময়ে পশ্চিমীরা ব্যবসাবাণিজ্য, দূতাবাস, কলকারখানা সব ছেড়ে পালাচ্ছেন জাপানী আগ্রাসনের মুখে। তা জাপানী আগ্রাসনের কথা বলবার আগে সেসময়কার চীনের কথাও একটু বলে নি আমার গুরুর পাঠকদের একটা কনটেক্সট বোঝাতে। সেসময়কার নানচিং ছিলো দক্ষিণের রাজধানী। এর আগে প্রায় একশো বছর ধরে চীন লাঞ্ছিত হয়েছে পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদীদের হাতে সেই আফিমের যুদ্ধের সময় থেকেই (প্রসঙ্গতঃ আফিমের যুদ্ধের পিছনে ব্রিটিশ ভারতের বা আমাদের অতি পরিচিত টাটাবাবুদের ভূমিকা নিঃসন্দেহে উল্লেখযোগ্য ), চিনের গায়ে দগদগে ঘা হয়ে আছে বক্সার বিদ্রোহে দমনে ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদের ভূমিকা যেখানে ব্রিটিশ ভারত সহ সবগুলো পশ্চিমি শক্তি এবং জাপান মিলে বর্তমানের পেইচিং(মতান্তরে বেজিং) পুড়িয়ে দিয়ে নির্মমভাবে দমন করে এই বক্সার বিদ্রোহ, যার ঘা এখনো নির্মমভাবে লেগে আছে চীনের জনমানসে।এর পরেই পতন হলো কয়েকশ বছরের পুরোনো চীনের মাঞ্চু রাজবংশের। ওয়ারলর্ড দের হাতে চলে গেল চীনের নিয়ন্ত্রণ। অনেক রক্ত ঝরিয়ে সান ইয়াত সেনের স্বপ্ন নিয়ে তৈরী হলো রিপাবলিক অফ চায়না বা প্রজাতন্ত্রী চীন নেতৃত্বে সান ইয়াত সেনের শিষ্য চিয়াং কাই শেক তবে তখনো চীনের বর্তমান রাজধানী বেজিং বা পেইচিং নিয়ে তার যুদ্ধ চলছে ওয়ারলর্ডদের সঙ্গে, কাজেই চীনের রাজধানী ছিল তখন এই নানচিং বা নানজিং। পেইচিং বা তার আশেপাশের উত্তর চীনে যাতায়াত তখন ইউরোপীয়দের কাছে এখনকার আফগানিস্তান বা সোমালিয়ার মত, কাজেই চীনের এই রাজধানী নানচিং ঘিরেই ছিল ইউরোপীয়দের সব যাতায়াত আর কাজকর্ম। ১৯২০ আর ১৯৩০ দশকে নানচিং ইউরোপীয়দের কাছে ছিল চীনের সংস্কৃতিক রাজধানী। অনেক পশ্চিমীরা এখানে আসতেন ব্যবসা বাণিজ্য, চাকরি বাকরি, দূতাবাস বা মিশনারী হিসেবে।


    জীবনদাতা নাৎসী জন রাবে (১৮৮২-১৯৫০​​​​​​​)

    নাৎসী যখন জীবনদাতা

    এদের মধ্যেই দুজন ছিলেন মিন্নী ভাউট্রিন এবং আমাদের এই গল্পের নায়ক জন রাবে। ভাউট্রিন আম্রিকি মিশনারী এবং নানচিংয়ে ১৯৩৭ সালে বেশ কিছুদিন ধরে জাপানী আগ্রাসনের পরে যখন প্রায় সব অন্যান্য মিশনারী নানচিং ছেড়ে গেছেন শুধুমাত্র পড়ে আছেন ভাউট্রিন তার আদর্শ এবং ওই যে মানুষটির ভরসাতে তিনিই জন রাবে। এরা দুজনে মিলে বানিয়েছেন একটা নানচিং সেফটি জোন যেখানে তারা চেষ্টা করছেন যতোজন সম্ভব নিরীহ চীনা মানুষকে জাপানীদের মেশিনগান, বেয়োনেট বা গ্রেনেডের থেকে বাঁচাতে। তাদের একমাত্র ভরসা বলতে জন রাবের পরিচয়। সরকারিভাবে তিনি স্থানীয় সিমেন্স কোম্পানীর পরিচালক। তবে শুধু এই পরিচয়টাই তখন যথেষ্ট নয় রক্তলোলুপ ও নারীলোলুপ জাপানীদের রুখতে। সেটার জন্যে দরকার জন রাবের আরো বড় একটা পরিচয়। তিনি নাৎসী পার্টির সক্রিয় সদস্য অর্থাৎ যাকে বলে কার্ড ক্যারিং মেম্বার। কোনো জাপানী সৈন্য চীনা মেয়েদের হাত ধরতে গেলেই তার স্বস্তিকা চিন্নিত নাৎসি পার্টি ব্যাজ তুলে ধরে তাকে তাড়াবার চেষ্টা করেন জন রাবে।

    তার নিজের ডাইরিতে জন রাবে লিখছেন "দুজন জাপানী সৈনিক একটা রোগা পাতলা চীনা মেয়েকে তুলে নিয়ে যেতে চাইছিলো। চীনা মেয়েটার নাম শুইলিন, আমার চেনা, আমার সিমেন্স অফিসের ফায়ারম্যান লিউ ছি ওরই মেজ মেয়ে শুইলিন, বয়েস বারো হবে। শুইলিন এতো ভয় পেয়েছিলো কাঁদতেও যেন ভুলে গেছিলো। জাপানী দুটোর কাছে এগিয়ে গিয়ে আমি বললাম, "মেয়েটাকে ছেড়ে দে ছুঁচোর দল।" জাপানি দুটো আমাকে চেনে, ওরা ভাঙ্গাভাঙ্গা জার্মানে বললো "হের্ রাবে আপনি কি একটা পুঁচকে চীনে মেয়ের জন্যে জাপানী সম্রাটের সৈন্যদের সঙ্গে এবয়সে লড়বেন ?" আমি উত্তরে আমার হাতে পড়া নাৎসী ব্যাজ দেখিয়ে বললাম "আর তোরা দুটো আলুর বস্তার ইঁদুর, থার্ড রাইখের ফুয়েরারের চীনা প্রতিনিধির গায়ে হাত তুলবি ! এতো সাহস তোদের ! ছাড় বলছি মেয়েটাকে। " আমার নাৎসী ব্যাজটাই জিতল শেষ পর্যন্ত। শুইলিনকে ছেড়ে দিয়ে চলে গেলো জাপানী নোংরা জানোয়ারদুটো। কিন্তু আমি এভাবে কতগুলো মেয়েকে বাঁচাবো ! সারা শহরটা তো ওই জাপানী নোংরা জানোয়ারগুলোতে ছেয়ে গেছে ! ইশ আজ যদি আমার মত আরো কয়েকজন নাৎসি পার্টির কার্ড ক্যারিং মেম্বার থাকতো এখানে তাহলে অন্ততঃ আরো কতোগুলো শুইলিনকে বাঁচানো যেতো। ইশ ফুয়েরার যে কেন এই নোংরা জাপানী জাতটার সঙ্গেই আঁতাত করতে গেলেন !!"

    শুধু ডাইরি লিখেই ক্ষান্ত হননা রাবে, চিঠি লিখে পাঠান তার নাৎসী পার্টির সর্বাধিনায়ককে যেন তিনি জাপ সম্রাটের উপরে চাপ দেন চীনে এ নারকীয় হত্যালীলা বন্ধ করতে। তখনো রেড ক্রসের যে কয়েকজন যাতায়াত করতেন ধর্ষিত নানচিংয়ে তাদের মাধ্যমেই চিঠি পাঠান তার ফুয়েরারকে রাবে। শেষ পর্যন্ত নিজের শেষে শক্তিটুকু দিয়ে নানচিংয়ের মানুষদের জন্য লড়ে যান রাবে। তার স্বস্তিকা চিন্নিত নাৎসী পার্টি ব্যাজটা যেটা আর কয়েক বছরের মধ্যেই ইউরোপে জল্লাদের পরিচয় হয়ে উঠবে, সেটাই বাঁচিয়ে ছিলো বেশ কয়েকহাজার নিরীহ নির্দোষ চীনা মানুষের প্রাণ। তিনি আর ভাউট্রিন শেষ পর্যন্ত ১৯৪০ সাল পর্যন্ত নানচিং সেফটি জোন কে চালু রাখেন যতজন কে সম্ভব বাঁচাতে। এর পরে দেশে ফিরে গিয়েও তিনি ফুয়েরারকে চিঠি লিখতে থাকেন এই জাপানী হত্যালীলা থামাবার জন্যে চাপ সৃষ্টি করতে। ফলে গেস্টাপোর বিষনজরে পড়ে গৃহবন্দী হতে হয় তাকে। ভাগ্যের পরিহাসে, এর কিছুদিনের মধ্যেই যে ভাউট্রিনের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নানচিংয়ের মানুষকে বাঁচাতে লড়েছেন রাবে, সেই ভাউট্রিনের দেশ আম্রিকার সঙ্গেই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লো রাবের স্বদেশ। দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধ শেষ হলে ভাঙ্গা মন অসুস্থ শরীর এবং প্রায় অনাহারে ১৯৫০ সাল পর্যন্ত বেঁচেছিলেন রাবে। নানচিংয়ের তার সেফটি জোনে আশ্রয় নিয়ে বেঁচে যাওয়া কয়েকটা চীনা পরিবারের পাঠানো সামান্য অর্থেই শেষ জীবনটা কাটান রাবে।


    নানচিংয়ে জন রাবে ​​​​​​​স্মৃতিমন্দির ​​​​​​​

    পুনশচঃ .

    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাস বলতে হলিউড যেসব বিবেকবান ভালো নাৎসীকে তুলে ধরেছে যেমন অস্কার শিন্ডলার এদের মূল কৃতিত্ত্ব এরা শ্বেতাঙ্গ ইউরোপীয়দের প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন। ইতিহাসের পাতাতে হারিয়ে গেছেন জন রাবে যিনি হয়তো বাঁচিয়েছিলেন কয়েক লক্ষ চীনাদের যারা শ্বেতাঙ্গ নন। হয়তো এজন্যই হলিউড তাকে ভুলে গেছে। শুধু রাবে নিজেই নয়, সম্পূর্ণ নানচিং গণহত্যাটাই আস্তে আস্তে চলে যায় লোকচক্ষুর আড়ালে। তবে যে শুইলিনকে বাঁচিয়েছিলেন রাবে তার নাৎসী ব্যাজের জোরে, অনেকদিন পরে তার সঙ্গে দেখা হয় আইরিশ চ্যাঙের। এই কানেকশন থেকেই নানচিং গণহত্যা নিয়ে তার কালজয়ী বইটি লেখেন যার ফলে আবার পাদপ্রদীপের আলোতে ফিরে আসেন জন রাবে। চীনে জন রাবে পরিচিত হন "নানচিংয়ের জীবন্ত বুদ্ধ" হিসাবে। নানচিংয়ের রাবের বসত বাড়ীটি এখন স্মৃতিমন্দির হিসাবে পরিচিত। তবে এখনো তার নিজের দেশে ততটা সম্মান নেই রাবের যতটা সম্মান তিনি চীনে পেয়ে থাকেন।

    References
    - Iris Chang, The rape of Nanjing
    - Tansen Sen, India, China, and the World _ A Connected History
    - Rana Mitra, Forgotten Ally
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • aranya | 2600:1001:b003:5cc8:690c:475a:9d54:***:*** | ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ০৮:৫৬734517
  • জানলাম নতুন কথা 
  • Debanjan Banerjee | ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১০:৫৯734521
  • @ অরণ্য, অনেক ধন্যবাদ। আপনার শুভেচ্ছাই একান্ত প্রার্থনীয়।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। পড়তে পড়তে প্রতিক্রিয়া দিন