এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • দুনিয়াদারীর টুকিটাকি ২১  : অন্য এক ইস্রাঈলের গল্প (পঞ্চম পর্ব ) 

    Debanjan Banerjee লেখকের গ্রাহক হোন
    ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ৫৪ বার পঠিত
  • আগের পর্বগুলো জানতে এখানে পড়ুন | পর্ব ১ , পর্ব ২ , পর্ব ৩ , পর্ব ৪ |
     
    নাবলুস , সামারিয়া , প্যালেস্টাইন , আনুমানিক ১২৫ BCE.                                          
     হাসমোনিয়ান সম্রাট জন হিরকানুস তখন যুদ্ধের ময়দানে l সামারিয়া প্রায় জয় করেই ফেলেছেন অতর্কিতে আক্রমণ করে l এর আগে যখন এসে ছিলেন গ্রীক বণিকের ছদ্মবেশে তখন অনেক খবরাখবর নিয়েই গেছিলেন l এবারে সেসব কাজে লেগেছে l যুদ্ধের বেশ কয়েকমাস আগে থেকেই তার অনেক সেনারা কেউ বা বণিক কেউ বা কারীগর কেউ বা তীর্থযাত্রী এধরণের ছদ্মবেশে ছড়িয়ে পড়েছিলো সামারিয়াতে | হঠাৎ করেই জুনমাসের একদিন রাত্রে তারা পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে আক্রমণ করে বসলো | সামারীয়দের ছোট শহরগুলো প্রস্তুত ছিলোনা এধরণের আক্রমণের জন্যে কিন্তু প্রাথমিক আচমকা আক্রমণের চমকের ধাক্কাটা কাটিয়ে তারা প্রবল লড়েছিলো কিন্তু শেষ পর্যন্ত জয় হলো সম্রাট হিরকানুসের | সামারীয়রা জান কবুল করে যুদ্ধ করলেও তাদের হারানোর জন্যে যেটা দরকার সেটা সম্রাট জন হিরকানুস আগেই করে রেখেছিলেন সেটা হলো প্রচুর সোনারূপোর মোহরের বিনিময়ে সামারীয়দের কিছু মাথাকে অর্থাৎ সেনাপতি আর পুরোহিতদের কিনে নেওয়া | কাজেই ঠিকঠাক সময়ে বিশ্বাসঘাতকদের থেকে খবর পেয়ে যুদ্ধ জয় করতে অসুবিধা হচ্ছিলোনা হাসমোনিয়ানদের | এভাবেই সামারিয়ার অনেকটাই অংশ জয় করে ফেললেন জন হিরকানুস কিন্তু নাবলুসের মাউন্ট গেরিজিমের উপরের যিহোবার মন্দির ধ্বংস না করলে তো জয় সম্পন্ন হবেনা ! কাজেই সেনাপতিদের নিয়ে সেদিকেই আক্রমণ শুরু করলেন সম্রাট জন হিরকানুস | এই যুদ্ধে তার সঙ্গে তার তিন ছেলে আলেক্সান্ডার , আরিস্তোবলুস ও আন্তিগোনউস যুদ্ধযাত্রা করেছিলেন | সবাই মিলে এবার নাবলুসের মাউন্ট গেরিজিমের উপরে আক্রমণ করবার সিদ্ধান্ত নিলেন | মাউন্ট গেরিজিম সেসময়ের সামারীয়ার একেবারে মাঝামাঝি অবস্থিত | রুক্ষ উঁচু পাহাড়ী এলাকা রাতারাতি অতর্কিত আক্রমণের পক্ষে খুবই কঠিন | উপরন্তু সামারিয়ায় অন্যান্য এলাকা থেকেই যেগুলো কিছুদিন আগেই জয় করেছেন জন হিরকানুস সেখান থেকে প্রচুর মানুষ চলে আসছে এদিকে তাদের যিহোবার মন্দিরে আশ্রয় নিতে | দল ভারী হওয়াতে মাঝে মাঝেই চোরাগোপ্তা আক্রমণ করে জন হিরকানুসের বিশাল সৈন্যবাহিনীর ক্ষতি সাধন করছে | একবার তো একটা ঝটিকা আক্রমণে সম্রাটের নিজস্ব সেনা ছাউনিটাকেই ওরা আক্রমণ করে প্রায় খতম করে দিচ্ছিলো |অবশেষে সিদ্ধান্ত নিলেন জন হিরকানুস যে মাউন্ট গেরিজিমকে চারদিক থেকে অবরোধ করে বসে থাকবেন | এমন অবরোধ যেন একটা পাখিও না উড়তে পারে , একটা ইঁদুরও যেন না ঢুকতে পারে , শস্যের একটা দানাও যেন না ঢুকতে পারে মাউন্ট গেরিজিমের জিহোভার মন্দিরে |
    এভাবেই কেটে গেলো বেশ কয়েক মাস | মাউন্ট গেরিজিমের ভিতরে সামারীয়রা প্রথমে যেটুকু শস্য বেঁচে ছিল খেলো , পরে নিজেদের গরু ছাগল ভেড়া গুলো কেটে খেলো , তার পরে সেগুলো শেষ হয়ে যাবার পরে কুকুর বেড়াল ইঁদুর ছুঁচো টিকটিকি, আকাশের পায়রা ঘুঘু কাক যে যাই পেলো মেরে খেতে বাধ্য হলো এমনকি শেষে না খেতে পেয়ে মরা মানুষগুলোর মৃতদেহের চারপাশে ভিড় করা শেয়াল শকুন গুলোকেও খেতে হলো , শেষে আর সেটুকুও থাকলোনা | এই সময়ে  আস্তে আস্তে মাউন্ট গেরিজিমের মন্দিরের ভিতরেই সামারিয়দের মধ্যে দুটো স্পষ্ট ভাগ হয়ে গেলো | সংখ্যায় যারা বেশী যাদের মধ্যে অধিকাংশ রাজনেতা পুরোহিত এরা ছিলো তারা বললো সাদা পতাকা উড়িয়ে আত্মসমর্পণ করতে | জেরুসালেম কি যিহোবার উপাসকদের হত্যা করতে পারবে নাকি উল্টে আত্মসমর্পন করলে হয়তো কিছু খাবার মিলতেই পারে তবে কিছু লোক বললো না এখন এর চেয়ে যিহোবার মন্দির রক্ষা করতে গিয়ে মৃত্যুও ভালো তবুও আত্মসমর্পণ কিছুতেই নয় | শেষ পর্যন্ত দেখা গেলো যারা আত্মসমর্পণ করতে চাইছেনা তারা সংখ্যাতে খুবই কম , তারা তখন যারা আত্মসমর্পণ করতে চাইছিলো তাদের বললো যে আত্মসমর্পনের আগেই তাদের মেরে ফেলতে কেননা বেঁচে থেকে যিহোবার মন্দিরের অপমান তারা দেখতে পারবেনা | শেষ পর্যন্ত তাই হলো|যারা কিছুতেই আত্মসমর্পণ করতে চাইছিলোনা তাদের সবাইকে অন্যেরা যারা আত্মসমর্পণ করতে চাইছিলো , মেরে ফেললো শুধু দুজনকে ছাড়া | যিহোবার মন্দিরের পুরোহিতশ্রেষ্ঠ আরন ও তার মেয়ে নাওমী | তারপরে মাউন্ট গেরিজিমের উপরে উড়িয়ে দেওয়া হলো আত্মসমর্পনের সাদা পতাকা |
    আত্মসমর্পণ হয়ে যাবার পরেও কিন্তু সামারীয়দের দুর্গতির শেষ হলোনা | পুরোহিতশ্রেষ্ঠ আরন আর তার মেয়ে নাওমী দুজনেই মিলে দুর্গ থেকে আত্মসমর্পণের জন্যে দুর্গের চাবি নিয়ে এলেন ইহুদী শিবিরে সম্রাট জন হিরকানুসের কাছে |তাদের থেকে চাবি নিয়েই প্রথম হুকুম দিলেন হাসমোনিয়ান সম্রাট জন হিরকানুস , "মন্দিরের মধ্যে যত সামারিয় জীবিত সবাইকে হত্যা করতে হবে | আর মাউন্ট গেহিজিমের যিহোবার পুরো মন্দিরটাকেই মাটিতে মিশিয়ে দিতে হবে| " 
    পুরোহিতশ্রেষ্ঠ আরন স্থির ও শান্ত চোখে (বহুদিন আধপেটা খেয়ে থাকবার পরে যতটুকু শান্ত থাকতে পারে মানুষ ) তাকালেন | তারপর ধীর স্থির কণ্ঠে বলে চললেন , "আমার পিতা সাইমন আপনার কাছে যে ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন , তা নিশ্চয় মনে আছে আপনার সম্রাট !!! গেরিজিমের জিহোভার মন্দিরের যেদিন পতন হবে সেদিন থেকেই কিন্তু শুরু হবে জেরুসালেমের মন্দিরের পতনের দিন গোনার ! এই গেরিজিমের পাহাড় সেই পাহাড় যেখানে পরমপিতা নবী ইব্রাহিম (বাইবেলের ভাষাতে আব্রাহাম ) , জিহোভার কাছে তার নিজ সন্তানের বলি দেবার চেষ্টা করেছিলেন , এর পরে নবী মুসা (বাইবেলের ভাষাতে মোজেস ) এই গেরিজিমের পাহাড়েই জিহোভার কাছ থেকে তার নির্দেশাবলী প্রাপ্ত হয়েছিলেন , এই পবিত্র গেরিজিমের পাহাড়কে অপবিত্র করবার শাস্তি আপনাকে জিহোভার কাছ থেকেই পেতে হবে সম্রাট জন হিরকানুস |" জ্বলন্ত চোখে তাকালেন হাসমোনিয়ান সম্রাট , " ওরে সামারিয় কুকুর তোরা আবার কবে জিহোভার নির্দেশ পেলি ?  জিহোভার আশীর্বাদ যদি সারা পৃথিবীর কারুর উপরে থাকে তবে সে আমি , জেরুসালেমের মন্দিরের প্রধান পুরোহিত জন হিরকানুস | আর তোর সবচেয়ে বড় শাস্তি যে তুই প্রাণে মরবিনা , চেয়ে চেয়ে দেখে যেতে হবে তোকে তোর সাধের এই গেরিজিমের পাহাড় এর মন্দির টুকরোটুকরো হয়ে পড়ছে তোর চোখের সামনেই আর তুই আর তোর এই মন্দিরের যিহোভা কিছুই করতে পারছিসনা আমার শক্তির সামনে , যতোদিন বাঁচবি এই দুঃখ তোর থাকবে !!!" এর সঙ্গে আরো একটা হুকুম দিলেন সম্রাট জন হিরকানুস যে আজ থেকে বিজিত অধিকৃত সামারিয়দের কোনো অধিকার থাকবেনা ইহুদিদের সঙ্গে একাসনে বসবার , তাদের সঙ্গে ব্যাবসা করবার বা জেরুসালেমের মন্দিরে আসবার , ইহুদীরা যে রাস্তায় চলে সেই রাস্তার ছায়া মাড়াবার অধিকারও রইলোনা সামারীয়দের সম্পূর্ণ ভাবে ইহুদী সমাজে তাদের অস্পৃশ্য ঘোষণা করে দিলেন সম্রাট জন হিরকানুস | 
    “"আপনি নিজেকে জিহোভার সমতুল্য মনে করছেন প্রধান পুরোহিত জন হিরকানুস | ভুলে যাবেননা জিহোভা কিন্তু নিজের প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিশেষতঃ সেসব প্রতিদ্বন্দ্বী যারা নিজেদের রাজনৈতিক ক্ষমতার জন্যে নিজেদের জিহোভার সমকক্ষ মনে করে তাদের প্রতি নিজের নির্মম বিচার নামিয়ে আনেন | সে ফারাও হোক কি নমরুদ কি নেবুচাদনেজার এটা ভুলে যাবেননা আপনি!" সামরিয়দের প্রধান পুরোহিত আরনের স্থির অথচ দৃঢ় কণ্ঠ |
    মাউন্ট গেরিজিমের মন্দির ধ্বংস করবার খুশীতে নিজের নামের সীলমোহর খোদাই শুরু করলেন জন হিরকানুস | বেশ কয়েক শতাব্দী পরে এরকম কোনো ইহুদী সম্রাটকে দেখলো পৃথিবী | মাউন্ট গেরিজিমের মন্দির ধ্বংস করবার খুশীতে নিজের নামের মোহর খোদাই শুরু করলেন জন হিরকানুস | বেশ কয়েক শতাব্দী পরে এরকম কোনো ইহুদী সম্রাটকে দেখলো পৃথিবী | কোনো কোনো ইহুদী পুরোহিত গোষ্ঠী কিন্তু চোখ কুঁচকে তাকানো শুরু করলো একটু একটু করে , জেরুসালেমের জিহোভার মন্দিরের একজন প্রধান পুরোহিত সিরিয়ার গ্রীক শাসকদের মত নিজেদের মোহর খোদাই করছে তাহলে কি বাকি থাকলো এখন ধর্মের শাসনের !!! কিন্তু সম্রাটের তলোয়ারের জোরের কথা ভেবে সবাই চুপচাপ থাকলো |
     
    ইদুমিয়া (আরো কিছুদিন পরে )

    বার-কুস তার পিতা বার-গেহনের সঙ্গে একসঙ্গে যাচ্ছিলো সম্রাট জন হিরকানুসের সেনা ছাউনিতে | তাদের জীবনযাত্রা এতোদিন শান্ত ছিলো | মরুভূমির মধ্যে তাদের রাজ্য | চাষবাস সামান্য পশুপালন আর বাণিজ্য নিয়ে তাদের জীবন চলতো | আশেপাশের আরব জাতিগুলোর সঙ্গে তাদের বাণিজ্যের সম্পর্ক ছিলো | মিশর ও সিরিয়ার গ্রীক রাজ্যগুলোর সঙ্গেও তাদের ব্যবসা বাণিজ্য চলতো | কুস দেবতার পূজো তাদের জীবনের একটা অন্যতম অঙ্গ | তবে জুডিয়ার ইহুদীদের তোরা ও জিহোভার ব্যাপারে তারা জানতো | কুস দেবতাকে তারা মরুভূমির মধ্যে নবী ইব্রাহিম ও নবী মোজেসের দেখা জিহোভার কোমল ও কঠোর রূপের প্রতীক মনে করেই তার পুজো করতো | নিজেদেরকে তারা আব্রাহামের এক বংশধর ইসাকের পুত্র ইসাউয়ের বংশ বলেই পরিচয় দিত | কুস দেবতার পুরোহিতেরাই শ্রেষ্ঠ সম্মান পায় তাদের সমাজে তখন | বার-গেহন হলেন সেই কুস দেবতারই প্রধান পুরোহিত | বার-কুস তার একমাত্র সন্তান সদ্য যৌবনে পা রেখেছে | বার-কুস নামের অর্থও ইদুমিয়ার ভাষাতে হচ্ছে কুস দেবতার আশীর্বাদ | নিজেদের ভাষা ছাড়াও বার-কুস এখন আশেপাশের গ্রীক দের সঙ্গে কথা বলবার জন্যে গ্রীক ভাষা ও জুডিয়ার হিব্রু ভাষাও শিখছে |

    কিন্তু এখন তাদের তাদের মরুরাজ্য ইদুমিয়াকে অতর্কিতে আক্রমণ করে পর্যুদস্ত ও বিদ্ধস্ত করে দিয়েছেন সম্রাট জন হিরকানুস | যুদ্ধে প্রবল ক্ষতি হয়েছে ইদুমীয়দের | এখন সন্ধি করবার জন্যে তারা এসেছেন সম্রাট জন হিরকানুসের যুদ্ধশিবিরে | বার-গেহন জানেন এছাড়া তাদের উপায়ও নেই | তারা এমনিতে শান্তিপূর্ণ জাতি , বাণিজ্য ও ব্যবসাতেই তাদের নজর , যুদ্ধবিগ্রহ ও রাজ্যবিস্তারে তাদের সেরকম লক্ষ নেই | সামরিক ক্ষমতাও বিশেষ নেই তাদের | এর আগে এলাকাতে যত অন্যান্য বৃহৎ শক্তি ছিলো যেমন আসিরিয়া , গ্রিক টলেমী ও সেলুকাস , স্থানীয় আরব উপজাতিগুলো এদের সবার সঙ্গেই এরা সদ্ভাব রেখে চলতেন যাতে জুডিয়ার ইহুদীরা তাদের খতম করতে না পারে | কিন্তু  এখন তাদের জাতির চরম বিপদ | সম্রাট জন হিরকানুসের যোগ্য সামরিক প্রতিদ্বন্দ্বী এই এলাকাতে আর নেই কেউ সেরকম | তাই সন্ধি ছাড়া আর উপায় নেই তাদের এই বিবেচনা বার-গেহনের | "সম্রাট আমরা আপনার সব শর্ত মেনে নিতে রাজী", বললেন বার-গেহন | তারা আসলেই জানেননা কি অপমানজনক সন্ধির শর্ত তাদের জন্যে অপেক্ষা করছে | এমন এক সন্ধি যার ফলে তাদের চেনা পৃথিবীটাই ধ্বংস হয়ে যাবে |
    "শোন হে ," গলায় একটা তাচ্ছিল্যের ভাব সম্রাট জন হিরকানুসের , "তোমাদের জন্যে একটাই শর্ত , তোমাদের ইহুদী হতে হবে | এখনই তোমাদের বাপ ছেলেকে সুন্নত করতে হবে , তার সঙ্গে তোমাদের ওই কুস দেবতার মূর্তিটাকে ভেঙ্গে ফেলতে হবে আর মোজেসের নীতি মেনে চলতে হবে সবসময়ে যেমন আমরা ইহুদীরা মেনে চলি | না শুনলে তোমাদের সামনেই তোমাদের ওই কুস দেবতার মন্দির আর মূর্তি ভাঙ্গা তোমাদের দেখতে হবে যেমন ওই সামারীয়দের হয়েছে | " এতক্ষন ধরে শান্তভাবে সব শুনলেও এবার ধৈর্য্যচ্যুতি ঘটলো ঠান্ডা মাথার বার-গেহনের | "সম্রাট আপনি আজ বিজয়ী কিন্তু আমরা আমাদের দেবতার অপমান প্রাণ গেলেও মেনে নিতে পারবোনা | জোর করে আপনি আমাদের ইহুদী করতে পারবেননা |" তাচ্ছিল্যের হাসি ফুটলো সম্রাট জন হিরকানুসের মুখে , "দেখি হে , তোমাদের ওই কুস দেবতা নিজেকে কেমন করে বাঁচায় !!" 

    জোরে জোরে পা ফেলে বাপ ছেলে এগিয়ে গেলো কুস দেবতার মন্দিরের দিকে | সেখানে তখন সবে বাইরে থেকে মন্দিরের দরজা ভেঙ্গে জন হিরকানুসের সৈন্যেরা এগিয়ে চলেছে মন্দিরের গর্ভগৃহে , কুস দেবতার মূর্তি ভাঙ্গবার জন্যে | দেবতার পূজা বেদীর কাছে তাদের পথ আটকালেন বার-গেহন | পিছনেই পুত্র বার-কুস | হয়তো শেষবারের মত ছেলের দিকে তাকিয়ে বললেন , "মনে রেখো পুত্র , দেবতা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে কিন্তু পড়ে থাকে শুধু স্মৃতি " |  তারপরই তিনি তলোয়ার উঁচানো ইহুদী সৈন্যদের সামনে কুস দেবতার মূর্তিটাকে আগলে দাঁড়ালেন | নেমে এলো ইহুদী সৈন্যদের তলোয়ার | রক্তমেখে টুকরো টুকরো হয়ে তার আরাধ্য কুস দেবতার বেদীতে শেষ শয্যায় পড়ে গেলেন কুস দেবতার প্রধান পুরোহিত বার-গেহন | তারই রক্তে মাখামাখি হলো কুস দেবতার পূজাবেদী | আতঙ্কে দুঃখে ভয়ে প্রায় অজ্ঞান হয়ে পড়েই যাচ্ছিলো বার-কুস কিন্তু শেষে তাকে ধরে ফেললো দুটো শক্ত হাত | তার কানে ভেসে এলো একটা গলা , "বাবা তোমার প্রাণের থেকে অধিক মূল্যের আর কিছুই নেই বাবা | তুমি মেনে নাও ওদের কথা | " মুখ তুলে বার-কুস দেখে এক বৃদ্ধ সামারিয় পুরোহিতকে | ইনিই আমাদের আগেই পরিচিত গেহিজিম পাহাড়ের জিহোভার মন্দিরের প্রাক্তন প্রধান পুরোহিত আরন | প্রাক্তন বললাম কেননা সেই মন্দির তো কিছুদিন আগেই ভেঙ্গে ফেলেছেন হাসমোনিয়ান সম্রাট ! আরনকে অবশ্য প্রাণে মারা হয়নি তিনি এখন সম্রাটের সঙ্গেই তার ইদুমিয়া অভিযানে এসেছিলেন | প্রধান পুরোহিত বার-গেহন ও বার-কুসের পেছনে পেছনেই তিনি এসে পৌঁছেছেন কুস দেবতার মন্দিরে | বার-কুসকে বলা বার-গেহনের শেষ কথাটা তিনিও শুনেছেন |

    আরন আর নিজের সদ্য মৃত বাবার ছিন্ন ভিন্ন মৃত দেহটার দিকে এক বারের জন্যে তাকালো একবার বার-কুস | কুস দেবতার যে মূর্তিটা ভাঙ্গা হচ্ছে সেদিকেও আরেক বার তাকালো ও | শেষে সবচেয়ে কাছের যে ইহুদী সৈন্যকে বললো , "আমি রাজী সৈনিক | আমি সুন্নত করবো ও মোজেসের আইন মানবো | আমি এখন ইহুদী |" হর্ষোল্লাসে কেঁপে উঠলো ইহুদী সেনারা | আরন আরো কাছে এগিয়ে আসে হাত রাখলেন বার-কুসের কাঁধে আর খুব ধীরে শান্ত স্বরে বললেন , "তোমার নাম এখন থেকে আর বার-কুস নয় | কুস দেবতার আর তোমার বাবার সঙ্গেই আজকে মৃত্যু ঘটেছে বার-কুসের | আজ থেকে তোমার নতুন নাম হলো , অ্যান্টিপেটার | " 

     
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • হীরেন সিংহরায় | ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২১:৩২738852
  • কালানুযায়ী ইতিহাসটি জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । ধন্যবাদ । অনেক অজানা তথ্য জানলাম 
     
  • Manali Moulik | ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২২:১২738853
  • প্রতিদিন সমৃদ্ধ হচ্ছি এই লেখাগুলি পড়ে। সত‍্যি বলতে, ইস্রায়েল সম্পর্কিত এই ইতিহাসের কিছুই প্রায় জানি না। তাই আগ্রহের সঙ্গে পড়ছি। 
  • Debanjan | 103.238.***.*** | ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২৩:২৪738855
  • অনেক ধন্যবাদ আপনাদের দুজনকে | আপনাদের প্রশংসাই অনুপ্রেরণা |
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ঝপাঝপ মতামত দিন