এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • দুনিয়াদারীর টুকিটাকি ২৩  : অন্য এক ইস্রাঈলের গল্প (সপ্তম পর্ব ) 

    Debanjan Banerjee লেখকের গ্রাহক হোন
    ২৩ মার্চ ২০২৬ | ১৭ বার পঠিত
  • আগের পর্বগুলো জানতে এখানে পড়ুন | পর্ব ১ , পর্ব ২ , পর্ব ৩ , পর্ব ৪, পর্ব ৫, পর্ব ৬ |
     
    “He who grasps too much, grasps nothing.”
    (Hebrew idea:
    תפסת מרובה לא תפסת)

    জেরুসালেম আনুমানিক ১০২ BCE
     

     
    (ম্যাকাবি বংশের শাসনে জুডিয়া সামারিয়া ইদুমিয়া আনুমানিক ১০২ BCE)(সৌজন্য চ্যাটজিপিটি )

    বৃদ্ধ জন হিরকানুস শুয়ে আছেন জেরুসালেমে তার ঘরে l শরীর ভালো যাচ্ছে না কিছুতেই আজকাল l তার থেকেও বড় চিন্তার কথা তার ছেলেরা l তাদের তিনি নিজের নিজের এলাকাতে গভর্ণর করে পাঠিয়ে দিয়েছেন যাতে ওরা আলাদা থাকলে অন্ততঃ আর নিজেদের মধ্যে খুব বেশী ঝগড়া ঝাঁটি ক্ষমতার লড়াই দেখবেন না তিনি l কিন্তু তিনি জানেন জিহোভা কাউকেই অমর করে পাঠাননি এই পৃথিবীতে l তিনি চলে যাবার পরে কি তার ছেলেরা তার কথা আর শুনবে ?  এসব সাত পাঁচ ভেবেই চলেছেন জন হিরকানুস এমন সময়ে প্রহরী এসে খবর দিলো তার সঙ্গে কেউ দেখা করতে এসেছে l লোকটি নাকি বলেছে সে তার পূর্ব পরিচিত l প্রথমে শুনে কিছুটা অবাকই হয়েছিলেন জন হিরকানুস l এই সময় তার বিশ্রামের সময় এখন এখানে তার পূর্ব পরিচিত কে এলো তার সঙ্গে দেখা করতে ? 

    প্রহরীর পিছনে পিছনে যিনি এলেন তাকে দেখে সত্যি সত্যি অবাক হলেন l ইনি তো সেই সামারীয়দের প্রধান পুরোহিত আরন l ইনি এখানে তার কাছে কি চান ?  অভিবাদন করে আরন বললেন , " অভিবাদন প্রধান পুরোহিত l শুনলাম আপনার শরীর মন আজকাল খুব ভালো চলছেনা l ছেলেদের নিয়েও নাকি সব ঠিকঠাক চলছেনা , তাই দেখতে এলাম আপনাকে l  বেশী বিস্মিত হবেননা প্রধান পুরোহিত l আমি আপনার পুত্র ও জেরুসালেমের গভর্ণর আরিস্টোবুলুসের পরামর্শদাতা l" অবাক হলেন না জন হিরকানুস l তিনি আগেই শুনেছিলেন যে জুডিয়া জুড়ে সামারিয় আর ইদুমিয়ার মানুষরা ছড়িয়ে পড়েছে রাজকার্যে l কিন্তু গেরিজিম পর্বতের জিহোভার মন্দিরের প্রধান পুরোহিত আরন ! আরন বলে চললেন , "আপনি তো জানেনই আপনার পুত্রেরা নিজেদের চেয়ে আমাদের  মত সামারীয়দেরই অনেক বেশী বিশ্বাস করে l " আর বলে চললেন , " কাজেই আমাকে এই আপনার ছেলে আরিস্টোবুলুসের পরামর্শদাতার কাজটা পেতে অসুবিধা হয়নি একেবারেই l তাছাড়া এই কয় বছরে আমি গ্রীক শিখেছি , গ্রীক বণিকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে আপনার পুত্র জেরুসালেমের গভর্নর আরিস্টোবুলুস বিশেষ ভরসা করেন l তাছাড়া আমি তো ম্যাকাবি নই আর সত্যি বলতেকি জুডিয়াতে তো আমাকে ইহুদীই মনে করেনা কেউ তাই উনি আমার থেকে কোনোরকম বিপদের আশঙ্কা করেননা l" 
    " আপনার মনে যে আশঙ্কা আছে, তা সত্য হবে l আপনার মৃত্যুর পরেই জেরুসালেমের দখল নিয়ে আপনার পুত্রদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী বিবাদ বাধবেই l তবে আপনার সৌভাগ্য আপনাকে তা দেখে যেতে হবেনা l আপনি আরো শুনুন প্রধান পুরোহিত, সমুদ্র পেরিয়ে আরো একটি শক্তিশালী সাম্রাজ্য তৈরী হচ্চে l এদের নাম রোম l এরা অচেনা একটা ভাষাতে কথা বলে l আমি সমুদ্রের ওপারে ওদের শহরে একবার গেছি l পৃথিবীতে আর ওদের মত সাম্রাজ্য আগে আসেনি আর আসবেওনা l আমার ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি হবে l ওদের হাতেই আসবে জুডিয়ার অধিকার l"
    ভগ্ন হৃদয় জন হিরকানুস আর বেশীদিন বাঁচেননি এরপরে l তবে তার কথাকে সত্য প্রমাণিত করেই তার পুত্র আরিস্টোবুলুস ক্ষমতা দখল করলেন l আরিস্টোবুলুসকে জেরুসালেমের গভর্নর নিযুক্ত করেছিলেন স্বয়ং জন হিরকানুস নিজেই l সেই ব্যাপারটা কাজে লাগিয়েই সেনাবাহিনীর সঙ্গে ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন আরিস্টোবুলুস l একাজে তাকে সাহায্য করেছিলো তার গ্রীক বণিকদের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক ও সেই সূত্রে সেনাবাহিনীকে দেওয়া প্রচুর সোনা রুপোর মুদ্রা l 
    এবারে প্রধান পুরোহিতের গদী  দখল করেই কিন্তু আরিস্টোবুলুস এমন একটা কাজ করে ফেললেন যার জন্যে জুডিয়ার রক্ষণশীল ইহুদী সমাজ একেবারেই তৈরী ছিলোনা l জেরুসালেমের সাদুসি সমাজ ও সৈন্যবাহিনী কে তিনি হাত করে ফেলেছিলেন সোনা রুপোর মুদ্রা ছড়িয়ে l এক রবিবারের দিন জেরুসালেমে এক বিপুল ভোজসভার আয়োজন করে ফেললেন l সমাজের সব গণ্যমান্য মাথাদের নিমন্ত্রণ করা হলো l ফারিসী , সাদুসি , বণিক গোষ্ঠী , জেনারেলরা সবাই এলেন l সবাই ভেবেছিলো যে সেদিন আরিস্টোবুলুস নিজেকে জেরুসালেমের মন্দিরের প্রধান পুরোহিত হিসাবে ঘোষণা দেবেন l নির্দিষ্ট সময়ে আরিস্টোবুলুস এলেন l এবার এথেন্স থেকে আনা একটি লাল ওয়াইনের গ্লাস তুলে তিনি ঘোষণা দিলেন যে "আপনারা জুডার ইহুদী সমাজের মান্যগন্য ব্যাক্তি , আপনাদের সবার সমক্ষে আজকে আমি নিজেকে জিহোভার মন্দিরের প্রধান পুরোহিত বলে ঘোষণা করলাম l বর্তমান সময়ে জুডিয়া কোনোভাবেই আশেপাশের সিরিয়া ও মিশরের গ্রীক রাজ্যগুলোর বণিকদের সঙ্গে বাণিজ্য না করলে টিকতে পারবেনা ও এসব গ্রীক রাজ্যগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক তৈরী করতে শুধু একজন প্রদান পুরোহিত নয় একজন রাজারও প্রয়োজন তাই আমি আজ বর্তমান সময়ের প্রয়োজনের পরিপ্রেক্ষিতে নিজেকে জুডিয়ার ইহুদী সমাজের ব্যাসিলাস (রাজা) হিসাবেও ঘোষণা করলাম l " এই বলেই স্তম্ভিত অতিথিদের সামনেই তিনি নিজের মাথায় অলিভ পাতার বিশেষ ভাবে বানানো মুকুট পরে নিলেন |  সঙ্গে সঙ্গে সভাতে তুমুল শোরগোল পড়ে গেলো l 
    সভায় উপস্থিত সবাই বিশেষ করে ফারিসীদের গলার আওয়াজ সবচেয়ে বেশী শোনা যাচ্ছিলো | ফারিসীদের তাত্ত্বিক নেতা সাইমন যিনি আবার কিনা সম্পর্কে আরিস্টোবুলুসের শ্যালক হন , তার গলায় সবচেয়ে বেশী প্রতিবাদ শোনা গেলো | "মহামান্য প্রধান পুরোহিত আপনি জুডার ইহুদী সমাজের ধর্মের ঐতিহ্য মেনে নিয়ে এখনই এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করুন | ভুলে যাবেননা যে ইহুদী সমাজে রাজা হবার একমাত্র অধিকার আছে নবী দাউদের (বাইবেলে ডেভিড ) বংশের | আপনারা ম্যাকাবি বংশের মানুষ ,  ইহুদীদের রাজা হবার এই অধিকার আপনাদের বংশের নেই | তাছাড়া এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আপনি মিশর ও সিরিয়ার পৌত্তলিক গ্রীক রাজাদের মত ব্যাবহার করছেন , জিহোভার প্রধান পুরোহিতের মত আচরণ নয় | এখনই এই সিদ্ধান্তের পরিবর্তন না করলে জিহোভার অভিশাপ আপনার আর আপনার ম্যাকাবি বংশের উপরে নেমে আসবে ঠিক যেভাবে মুসাকে (বাইবেলে মোজেস ) নিপীড়নকারী ফারাওয়ের উপরে নেমে এসেছিলো জিহোভার অভিশাপ  | " 
    গলা একটুকুও কাঁপলোনা রাজা আরিস্টোবুলুসের | "মাননীয় ফারিসী প্রধান সাইমন যখন আমাকে সিরিয়া আর মিশরের গ্রীক রাজাদের সঙ্গে তুলনা করলেন তখন ভুলে যাবেননা যে সেখানে রাজাজ্ঞার অপমান করলে কি শাস্তি পেতে হয় ! আমার শ্যালক বলেই শুধু আজকে আপনি প্রাণে বেঁচে গেলেন !"   একথা বলে তিনি ভোজসভার এদিকওদিক দেখতে লাগলেন কেউ তাকে সমর্থন করে কিনা দেখবার জন্যে | কিছু সাদুসি আর গ্রীক বণিকেরা তাকে সমর্থন দিলো প্রত্যাশা মতোই | কিন্তু তার পরিবারের অন্য কেউ তাকে সমর্থন করলোনা | তার মা  জুডিথ  আর অন্য দুই ভাই আলেকজান্ডার আর  আন্তিগোনুসের দিকে তাকালেন হয়তো সমর্থন পাবার প্রত্যাশায় কিন্তু তারা দুজনেই চুপ করে রইলেন | এবারে আরিস্টোবুলুসের হঠাৎ চোখে পড়লো যে তার ভাই আন্তিগোনুসের পোষাকের দিকে | সেদিন ভোজসভার অন্যান্য অতিথিদের মতো বিলাসবহুল পোশাক নয় আন্তিগোনেস পড়ে আছেন সাধারণ সামরিক পোশাক | এবারে তিনি সরাসরি প্রশ্ন করলেন ভাইকে , "কি তুমি কি আমার পক্ষে আজকে নাকি ওই ফারিসিদের পক্ষে " ? আন্তিগোনেস উত্তর দিলেন , "আমি ইহুদী ধর্মের ঐতিহ্যের পক্ষে মাননীয় প্রধান পুরোহিত" |  একথা শুনেই এবার রাগ চেপে গেলো রাজা আরিস্টোবুলুসের মাথায় | ফারিসীরা তার বিরুদ্ধে যাবে তিনি জানতেন কিন্তু শেষে তার নিজের ভাই !!! রাগের মাথাতেই তিনি মেঘ ডাকার গলায় বললেন , "আন্তিগোনেস তুমি এই ভোজসভাতে সামরিক পোশাক পড়ে এসেছো যাতে তুমি ওই ফারিসী সাইমনের মদতে আমাকে মেরে আমার গদী দখল করবে তাই তো !!! তোমার এই আশা কোনোদিনই পূর্ণ হবেনা | এই কে কোথায় আছিস এখনই বন্দী কর আমার সবকটা ভাইকে | “ তার মা জুডিথ প্রতিবাদ করতে যাচ্ছিলেন কিন্তু তাকেও ভুল বুঝলেন রাজা আরিস্টোবুলুস ! কারাগারে তার ভাইদের সঙ্গে পাঠানো হলো তার মাকেও |
     

    (শিল্পীর কল্পনা : সভাতে আরিস্টোবুলুস নিজেকে প্রথম হাসমোনিয়ান সম্রাট হিসাবে ঘোষণা দিচ্ছেন | ফারিসীরা প্রবল বিরোধিতা করছে )
    সেদিন রাত্রে তার প্রাসাদের কক্ষে তার স্ত্রী সালোমের সঙ্গে কথা হচ্ছিলো স্বঘোসিত রাজা আরিস্টোবুলুসের | রাত তখন  অনেকটাই হয়েছে | রাজপ্রাসাদের বাইরে দেয়ালে দেয়ালে মশালগুলো জ্বেলে দেওয়া হয়েছে | কিন্তু রাজপ্রাসাদের মধ্যে এই কক্ষে আলো বলতে কয়েকটা ছোট মোমবাতি , তাতে আঁধার পুরো কাটেনি বরঞ্চ ছায়া ছায়া একটা পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে |

    জানলার ধারে দাঁড়িয়ে আছেন সালোমে | তার দৃষ্টি জানলার বাইরে জিহোভার মন্দিরের দিকে | ভোজসভা থেকে ফিরে এসেছেন আরিস্টোবুলুস | প্রথম কথা শুরু করলেন তিনিই | গলায় স্পষ্ট উল্লাসের ছাপ |

    আরিস্টোবুলুস : "শুনেছো সালোমে শুনেছ , আমি আজকেই ঘোষণা দিয়েছি আমি আজ থেকে জুডার রাজা | তুমি তার মানে জুডার মহারাণী | "

    সালোমে অনেকক্ষন পরে উত্তর দিলেন | "তুমি কি দেখেছো জেরুসালেমের তোমার এই সিদ্ধান্ত মেনে নেয়নি |"
    আরিস্টোবুলুস : "জেরুসালেম কিছুই বুঝতে পারছেনা তাই মানতে পারছেনা |"

    সালোমে এবার আস্তে আস্তে ঘুরলেন | তার চোখ স্থির আরিস্টোবুলুসের চোখের দিকে | "তুমি আজকে যে পথ পার করেছো সেই পথ আগে কেউই পার করেনি |"

    আরিস্টোবুলুস (কণ্ঠে দৃঢ়তা ও আত্মবিশ্বাস ): "আমি আজকে যা করেছি আমার পিতা নিজেও সারা জীবন ধরে তাই করতে চেয়েছিলেন | তবে তার আমার মতো সাহস বা উচ্চাশা ছিলোনা সালোমে |"

    সালোমে : "তোমার পিতা সারাজীবন প্রধান পুরোহিত হিসাবে জিহোভাকে সেবা করেছিলেন | কিন্তু তুমি রাজার মুকুট পরে কাকে সেবা করছো ?"

    আরিস্টোবুলুস (কণ্ঠে দৃঢ়তা ও আত্মবিশ্বাস এখনো অটুট ) : "সালোমে আজ রাতে আমার আর তোমার এসব প্রশ্নের উত্তর দেবার ইচ্ছা নেই | তুমি কি মেনে নিতে পারছোনা যে আমিই এখন ইহুদীদের রাজা ? স্পষ্ট করে উত্তর দাও |"

    সালোমে (দৃঢ়চেতা কণ্ঠে ) : "তাহলে স্পষ্ট করেই শোনো | এই সিংহাসন তোমার নয় আরিস্টোবুলুস |"

    আরিস্টোবুলুস (গলা একটুও কাঁপলোনা ) : "শোনো সালোমে সিংহাসন তার কাছেই থাকবে যার হাতে শক্তি আছে |"

    সালোমে : "একথা গ্রীকরা বলতে পারে | ইস্রায়েল একথা বলতে পারেনা | অন্ততঃ ম্যাকাবি বংশের কারুরই বলা উচিত নয় |"

    আরিস্টোবুলুস (ঠোঁটের কোনে শীতল হাসি ) : ইস্রাঈল বেঁচে আছে আমার পিতার মত মানুষের জন্যে যারা গ্রীকদের থেকে শিখেছিলেন যে তলোয়ার আর যুদ্ধকৌশল ছাড়া আর কোনো কিছুই রাজ্যকে বাঁচাতে পারেনা "

    সালোমে (আরো কাছে এগিয়ে এসে , গলা আরো শান্ত ) : "ইস্রাঈল বেঁচে আছে জুডার মানুষের প্রার্থনার জন্যে | শুধু তোমার ক্ষমতার জোরে নয় | ক্ষমতা তোমার কি সত্যি কতোটা আছে ?"

    আরিস্টোবুলুস :(গলায় ব্যাঙ্গ ) : "ক্ষমতা আমার না থাকলে কি আছে আমার কাছে ?"

    সালোমে : "তোমার আছে ভয় | তোমার মনে ভয় ধরে আছে | মানুষ তোমার ক্ষমতাকে কিছুদিন ভয় পাবে কিন্তু তারপরে ?"
    অনেকক্ষন নিস্তব্ধতা |

    আরিস্টোবুলুস : "আমার মনে হচ্ছে , তুমি মেনে নিতে পারছোনা আমার উন্নতি |"

    সালোমে : "কারণ আমি দেখতে পারছি সামনে কি আসতে চলেছে |"

    আরিস্টোবুলুস : "সামনে যা আস্তে চলেছে তা হচ্ছে আরো অনেক ক্ষমতা আরো অনেক প্রতাপ আরো অনেক সম্পত্তি |"

    সালোমে : "আমি কিন্তু সামনে শুধু রক্ত দেখতে পারছি | আরো রক্তে পিছল পথ যা শুধু তোমার ভাইদের রক্তেই থামবেনা |"

    আরিস্টোবুলুস :(কন্ঠে এবার ক্রোধ ) : "সালোমে তুমি কি আমাকে একজন পুরোহিত হয়েই থাকতে দিতে চাও যখন চারদিকে মিশর সিরিয়াতে গ্রীক রাজারা আমাদের দিকে চেয়ে আছে , রোম আস্তে আস্তে শক্তিশালী হচ্ছে ? তুমি কি ভবিষ্যৎ দেখতে পাচ্ছনা ?শক্তিশালী রাজা ছাড়া জুডিয়ার কোন আশা নেই |"

    সালোমে :(কণ্ঠ এখনো শীতল ) "আমি চাই তুমি সত্যই একজন রাজা হয়ে ওঠো , রাজার মত রাজা , তোমার গ্রীক থিয়েটারের অভিনেতাদের মতো নয় |"

    আরিস্টোবুলুস : (নিজের অলিভ পাতার মুকুট হাতে নিয়ে ) "এটা দেখো সালোমে , এটা এই মুকুটই আসল সত্য |"

    সালোমে :(কণ্ঠ এখনো শান্ত) "এ মুকুটটা একটা পরীক্ষা , তুমি হয় জিতবে নাহয় তোমাকে এটা গিলে খাবে কারণ এর নাম ক্ষমতা |"

    (এবার অনেক্ষন সব চুপচাপ | দূর থেকে একটা শব্দ ভেসে এলো |)

    আরিস্টোবুলুস :(আস্তে ) "মানুষ মেনে নেবে আমি জানি কেননা ওরা সবসময়েই মেনেই নেয় |"

    সালোমে : "মানুষ মানে না ভয়ে মানতে বাধ্য হয় !"

    আরিস্টোবুলুস : "ও একই হলো | ভয়ে হোক আর ভক্তিতে মানুষ মেনেই নেবে |"

    সালোমে : "এই জেরুসালেমে দুটো মুকুট আছে | একটা যেটা তুমি ছিনিয়ে নিয়েছো আরেকটা যেটা তুমি কোনোদিন নিতে পারবেনা কেননা সেই মুকুট ছিনিয়ে নেওয়া যায়না , সেই মুকুট কেউ পড়িয়ে দিলেই পড়া যায় |"

    আরিস্টোবুলুস: "কে পড়িয়ে দিতে পারে সেই মুকুট ?"

    সালোমে (তার দৃষ্টিতে এখন এক অদ্ভুত বিষণ্ণ ভাব ): "ঈশ্বর , মানুষ আর আর .......... ইতিহাস ! সেই মুকুটের তুমি এখনো.......... যোগ্য নও |"

    আরিস্টোবুলুস: (গলায় হতাশা আর অধীর একটা ভাব ) "কিভাবে সেই মুকুট পাওয়া যাবে আমাকে বলো সালোমে |"

    সালোমে : (এগিয়ে এসে স্বামীর কাঁধে একটা হাত রাখলেন) "নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখো | তোমার ভাইদের রক্ত হাতে লাগিয়োনা | জিহোভার আশীর্বাদে পাওয়া এই শহর জেরুসালেমকে জেলখানা বানিয়োনা |"

    আরিস্টোবুলুস: (কিছুক্ষন দাঁড়িয়ে তারপর আস্তে আস্তে সালোমের হাত ছাড়িয়ে দূরে সরে গিয়ে ): "আমি দুর্বল হলেই সব কিছু হারাবো |"

    সালোমে : "তুমি নিজেকে হারালেই সব হারাবে |"

    আরিস্টোবুলুস:"ইতিহাস কি আমাকে ভুলে যাবে ?"

    সালোমে :"ইতিহাস কিছুই ভোলেনা, না তোমাকে না আজকের এই রাতটাকে |"

    পুনঃশ্চ 
    আরিস্টোবুলুসের কারাগারে মৃত্যু হয় তার মা জুডিথ আর ভাই আন্তিগোনুসের | আরেক ভাই আলেক্সান্ডার বেঁচে গেছিলেন | ভাইদের আর মায়ের মৃত্যুতে দুঃখিত আরিস্টোবুলুস রাজা ছিলেন মাত্র এক বছর | হাসমোনিয়ান বংশের পরের রাজা হন এই আলেক্সান্ডার | এই কাহিনী জানতে গেলে পরের পর্ব দেখুন |
     
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। খারাপ-ভাল মতামত দিন