এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  স্কুলের খাতা

  • শমিতা মিস্ এর ডায়রি (দ্বিতীয় পর্ব)

    Somnath mukhopadhyay লেখকের গ্রাহক হোন
    স্কুলের খাতা | ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ | ১৫৮ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • প্রথম পর্ব | দ্বিতীয় পর্ব
    শমিতা মিস্ এর ডায়রি (দ্বিতীয় পর্ব)

    ৬.

    ছোটো বেলা থেকেই শমিতার হাতের লেখা খুব সুন্দর। ডায়রির পাতায় আলপনার মতো করে নিজের অভিজ্ঞতার কথা লিখে চলে সে। এরমধ্যে প্রমিতা ঘুগনি এনে হাজির করেছেন। “মা, আজ একটু কফি হয়ে যাক্। বাবা ফিরলেই বরং করো। ঘুঘনিটা সত্যিই একদম ইয়াম্মি হয়েছে। *-- শমিতার গলায় একরাশ উৎসাহ ঝরে পড়ে। মেয়ের এমন আবদারে খুব খুশি হন প্রমিতা।
    মা ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যেতেই শমিতা আবার ডায়রির পাতা খুলে বসে। কলম চলতে থাকে……..
    “আমাদের টিচার্স রুমের পরিবেশটা দ্রুত বদলে যাচ্ছে। স্কুলের এলিট ব্রাঞ্চ থেকে নতুন কিছু স্টাফ এসে এখানে জয়েন করার পর থেকেই যেন এই বদলটা বেশি করে নজরে পড়ছে। এমন রোটেশনাল ট্রান্সফার নাকি ম্যানেজমেন্টের ইচ্ছেতেই হয়ে থাকে।
    এইসব নতুন নতুন শব্দ বন্ধের সঙ্গে পরিচিত হতে গিয়ে আমি যেন বেশ ধাঁধায় পড়ে গেছি – স্কুলে কাজ করতে এসে রোটেশনাল ট্রান্সফার, ম্যানেজমেন্ট, স্টাফ আপগ্রেডেশন ইউনিট, স্টাফ গ্রুপিং – এইসব অপরিচিত শব্দগুলো আমাদের ঘিরে ধরছে। শিক্ষা - শিক্ষার্থী -শিক্ষকরা আজ আর বহুদিনের পরিচিত পুরনো সম্পর্কের বৃত্তে আটকে নেই। একালের টিচাররা কেউই আর গুরু নন। আমার তো মাঝে মাঝে নিজেকে শপিং মলের উৎকট প্রসাধন মাখা মেকআপ আইটেমের সেলস্ গার্ল বলে মনে হয়। আমি আমার স্কুলবেলার দিদিদের চলন বলন কথনের সঙ্গে আমাদের এই সময়ের মিস্, ম্যাডামদের কোনো মিল খুঁজে পাই না। আক্ষেপ করে লাভ নেই - কলির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এখন আমরা চলি।

    আমাদের প্রতিটি ক্ষেত্রেই এখন কড়া নজরদারির মধ্য দিয়ে চলতে হচ্ছে। ম্যানেজমেন্টের মতে অবশ্য এসব স্টাফ সুপারভিশনের অঙ্গ। এমনটাই নাকি কর্পোরেট হাউজের দস্তুর। নির্দিষ্ট সময়ান্তরে এমনটা করা হয় যাতে প্রফেশনাল স্ট্যান্ডার্ড ওয়েলমেন্টেন্ড হয়। স্কুলে থাকাকালীন আমাদের চলাফেরা, হাঁটার স্টাইল, বডি ল্যাঙ্গুয়েজ কেমন হবে – এইসব কিছু ঠিক করে দেবে এই তথাকথিত উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্যরা। নজরদারির সুবিধার জন্য গোটা স্কুল বাড়ি নজরদার ক্যামেরায় মোড়া। বোঝ কাণ্ড! কোন্ দিন কী রঙের ওষ্ঠ রঞ্জনী ব্যবহার করতে হবে, নেল এনামেলের রঙ কেমন হলে তা টিচারকে আরও এ্যাট্রাক্টিভ করবে এই সবই ম্যানেজমেন্ট ঠিক করে দেবে দৈনিক পর্যবেক্ষণের সূত্র ধরে! এখানে পড়াশোনার কথা ক‌ই? আমি তো নতুন কিছু শেখার অপেক্ষায় ছিলাম ! হা হতোস্মি! এ আমি কোথায় এলাম!”

    নির্মাল্য অফিস থেকে ফিরে এসেছে টের পেয়ে ডায়রি - কলম গুটিয়ে রেখে বৈঠকখানা ঘরে এসে হাজির হয় শমিতা। গরম কফির সঙ্গে ফুলকপির পকৌড়া – দিব্যি জমে যায় একান্ত পারিবারিক আড্ডা। নির্মাল্য মনে মনে দীর্ঘশ্বাস ফেলে ভাবেন – “হায়! মধ্যবিত্ত বাঙালি পরিবার থেকে এইসব ছোটছোট খুশির মুহুর্তগুলোও বুঝি ক্রমশই হারিয়ে যাচ্ছে” !

    ৭.

    “আজ আমার শিক্ষয়িত্রী তথা মিস্ জীবনের কার্যকালের একটি বছর পূর্ণ হলো। এটা আমার কাছে সত্যিই একটা এচিভমেন্ট। একটা বছর খুব লম্বা সময় নয়, তবে ঘটনার ঘনঘটায় সময়টা বেশ রোমাঞ্চকর‌ই ছিল আমার কাছে। প্রতিদিনের নিত্যনতুন উপসর্গ এসে আমার মিস্ জীবনের আনন্দকে ডিসমিস্ করে দিয়েছে। আজ অনেকদিন পর আবার ডায়রির পাতা খুলে বসেছি গোপিকার কথা বলতে।

    এখানে কাজ করতে এসে যে গুটিকয় মানুষের সাথে নিজের কথা, ভালো লাগা, ভালো না লাগার কথা কিছুটা শেয়ার করার সুযোগ হয়েছে গোপিকা তার মধ্যে একজন। গোপিকা কেরালার মেয়ে, গোপিকা উন্নিকৃষ্ণান। বাড়ি কোট্টায়াম জেলার প্রত্যন্ত এক গ্রামে। সেখান থেকেই জীবনের বিস্তর চরাই উৎরাই পেরিয়ে আজ ও এখানে।

    গোপিকা বলছিল, ও যেদিন ইন্টারভিউ দিতে এসেছিল সেদিন নাকি প্রিন্সিপাল ম্যাডাম ওঁর সঙ্গে দেখাই করেননি। কেন? গোপিকার পরনে ওয়েস্টার্ন আউটফিট ছিলো না, একটা সাদামাটা সালোয়ার কামিজ পরেই এসেছিল সে। কোঅর্ডিনেটর ম্যামের কথায় – “Miss Gopika, I am sorry to say that your outfits are very old fashioned. You will have to interact with a good number of bright students everyday, and you know they like to see their teachers in smart, gorgeous western outfits. You have an excellent academic record. We don't like to miss you. Please,come tomorrow for interview. But remember, come in western outfits.”

    ৮.

    এর পরের পর্বটি রীতিমতো রোমহর্ষক। পরের দিন কোনোরকমে এক অনভ্যস্ত ওয়েস্টার্ন ড্রেসের মোড়কে নিজেকে মুড়ে ইন্টারভিউ দিতে যায় গোপিকা। প্রিন্সিপাল ম্যাডাম সাবজেক্ট নিয়ে কোনো আলোচনায় যান নি। কেবল পোষাক নিয়েই গোপিকার মগজ ধোলাই করেছেন। চাকরির খুব প্রয়োজন ছিল বলেই গোপিকা বাধ্য হয়েছিল নিজেকে এভাবে ভাঙতে। একটা চাকরির খুব দরকার ছিল বলেই হয়তো এক আধুনিক ‘বস্ত্র বিবাদ পালা’য় অংশ নিতে বাধ্য হয়েছিল গোপিকা উন্নিকৃষ্ণান। এসব কথা বলতে বলতে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছিল সে। শমিতার মনে হয়েছিল এটাই স্বাভাবিক। এভাবে প্রতিদিন নিজেদের বিকিয়ে দিতে দিতে কোন্ সময় যে এক একজন পণ্য হয়ে ওঠে তা ওঁরা মোটেই টের‌ পায়না। অনেক আশা নিয়ে ছেলেমেয়েদের মধ্যে নতুন নতুন স্বপ্নের বীজ বপনের ইচ্ছে নিয়ে আসা গোপিকা, চন্দ্রিকা, ইয়াসমিন কিংবা অ্যালিসারা একসময় নিজেরাই salable commodity‘তে পরিণত হয়ে যায় এসময়ের বিদ্যা বিকিকিনির হাটে। গোপিকা মনে করেছিল এতেই বুঝি সব তর্কের অবসান ঘটবে। না মোটেই তেমন নয়। নিত্যনতুন ফরমানের ঠেলায় তাঁর জীবন ওষ্ঠাগত।গোপিকা বুঝতে পারছিল যে, এই শিক্ষা বিপণন ব্যবসায়ীদের ইচ্ছের কাছে সে এবং অন্যান্যরা ক্রমশই পুতুল হয়ে উঠেছে। তাঁদের পোষাক থেকে শুরু করে সাজসজ্জা, প্রসাধন, চলা ফেরা, কথা বলা সবকিছুই ম্যানেজমেন্টের আতস কাঁচের তলায় রেখে চুলচেরা বিশ্লেষন চলছে প্রতিদিন, প্রতিক্ষণ।

    এসব কথা শমিতা ডায়রিতে লিখতে পারেনি, লেখা সম্ভব নয়; নিজেদের অসম্মান আর লজ্জার কথা কেইবা বুক চেপে লিখে রাখতে পারে? শমিতাও পারেনি।

    ৯.

    দোকানে খরিদ্দার গেলে দোকানদার বা বিক্রেতা যেমন গদগদ হয়ে আপ্যায়ন করে, এখানে গার্ডিয়ানদের‌ও সেভাবে খাতির করা হয়। তাঁরাই যেন সব! তাঁরা বিগড়ে গেলে ভাঁড়ারে টান পড়বে। এজন্য যতোরকম ভাবে তাঁদের তুষ্ট রাখা যায় সেই চিন্তায় ম্যানেজমেন্ট মশগুল। ডিজিটাল যুগে আপনাকে সবসময়ের জন্য‌ই নাকি উপলব্ধ হতে হবে। বলা হয়, আপনার মোবাইলে আপনি সবসময়ের জন্য এভেইলেবল হবেন এমনটাই দস্তুর। সময় গময়ের কোনো বিধিনিষেধ নেই, গার্ডিয়ানের এটা নাকি অধিকার যখন ইচ্ছে হবে তখনই কনসার্নিং টিচারের সঙ্গে কথা বলতে পারা যাবে। এমন অধিকারের জন্য টিচারদের ব্যক্তিগত জীবনেও থাবা বসাচ্ছেন তথাকথিত গার্ডিয়ানের দল। ডিনারের পর শুতে যাবো, ফোন বেজে উঠলো – “মিস্, আপ পরশো এক্সাম লেঙ্গে না?” হ্যাঁ অথবা না বললে নিস্তার নেই। রাত এগারোটায় তাঁকে সিলেবাস বলতে হবে, কেমন প্রশ্ন হবে তা জানাতে হবে ….. ডিজগাস্টি্ং। ফোন না ধরলেই হাজারো কৈফিয়ৎ তলব করা হবে ম্যানেজমেন্টের তরফে! এই ব্যবস্থায় প্রতিদিন ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছে টিচারদের। অজস্র যন্ত্রণা সহ্য করে তাঁরা সব মেনে নিচ্ছে মুখ বুজে। ছাত্রছাত্রীরাও আজ আজ প্রবঞ্চনা করছে টিচারদের সঙ্গে।

    “আমরা প্রাইভেট স্কুলের টিচাররা eggshells এর ওপর দিয়ে হাঁটতে বাধ্য হচ্ছি। আমাদের কোনো ভালোবাসা বা কনভিকশন নেই এমনটা নয়, অথচ আমাদের চাঁদ মারিতে হাত পা বেঁধে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। চলতি ব্যবস্হাপনা আমাদের রক্ষা করতে সামান্য দায়বদ্ধ নয়। পড়াশোনার পাঠ চুকিয়ে আমরা সবাই এখন ক্লায়েন্ট এন্টারটেইনমেন্টের কাজে ব্যস্ত।”

    ১০.

    প্রাইভেট ব্যবস্থাপনা নিয়ে আমাদের গরিমায় ভাটা তো পড়েই নি, বরং সামাজিক জলসিঞ্চনের কল্যাণে তার মহিমা উত্তরোত্তর বাড়ছে। সরকার পরিপোষিত শিক্ষাব্যবস্থাকে তিল তিল করে নিকেষ করে ফেলেছি আমরা। অথচ বাইরের আলোকোজ্জ্বল পরিকাঠামোর ভেতরে বিরাজমান এক নিঃসীম শূন্যতা। প্রাইভেট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এখন নিত্যনতুন আউটলেট খুলতেই ব্যস্ত। শহরের মূল এলাকা ছেড়ে এখন তাঁদের লক্ষ্য প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকা। নতুন মল সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিতি লাভের পর শহরতলির অভিভাবকদের মধ্যেও এক নতুন উন্মাদনা সৃষ্টি হয়েছে - ছেলেমেয়েকে টাই বেঁধে স্কুলে পাঠানোর। ফলে খড়কুটোর মতো ভেসে গেছে সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। আরও যাবে। কারণ এই ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখতে আমরা কেউই আর আন্তরিক ন‌ই।

    সমাজ আজ দুটি ধারায় ভাগ হয়ে গেছে। সবাই এখন যেন তেন প্রকারেন এলিট হয়ে উঠতে চাইছে। তার জন্য কিছু যদি খেসারত দিতে হয়, তাতেও বিলকুল রাজি সকলে। শিক্ষাঙ্গন এখন একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের নাম?

    তথ্যসূত্র
    Times Now পত্রিকার প্রতিবেদন
    জানুয়ারি ২২, ২০২৫

    প্রথম পর্বের লিংক এখানে
    https://www.guruchandali.com/comment.php?topic=34089
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
    প্রথম পর্ব | দ্বিতীয় পর্ব
  • স্কুলের খাতা | ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ | ১৫৮ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • সৌমেন রায় | 202.142.***.*** | ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:২২738113
  • অবাক লাগছে শুনে।কিছুতেই মিলছে না। বর্তমানের দাবি কি এমনই?  তাহলে বোধহয়  পুরানো হয়ে গেছি। লেখক বিদগ্ধ ব্যক্তি।আর একটু বিস্তারিত খোজ খবর করে বড় করে লেখার অনুরোধ রইল । বিশদে জানলে তোরঙ্গ গোছানোর কথা ভাবতে হবে ।
     
  • . | ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:৪৬738114
  • এ জিনিস নব্বইয়ের দশক থেকে শুরু হয়েছিল। এখন সম্পূর্ণ বিষাক্ত হয়ে গিয়েছে। তবে প্রচুর অভিভাবক এতেই তৃপ্তি পান।
  • Somnath mukhopadhyay | ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ ১৩:৫২738115
  • @ সৌমেন, মতামত দিয়েছেন দেখে ভালো লাগলো। প্রথম যখন টাইমস্ নাউ এর নিবন্ধটি পড়ি তখন আমার প্রতিক্রিয়াও ঠিক এমনই হয়েছিল। বিশ্বাস করতে রীতিমতো কষ্ট‌ই হচ্ছিলো। বেশ কিছু দিন লেখাটার খসড়া তৈরি করে চুপচাপ বসে ছিলাম।পরে ভেবে দেখলাম এই বিষয়ে লেখালেখি না করলে, ব্যাপারটা আরও বেড়ে যাবে। কয়েকজনের সঙ্গে কথা বললাম। তাঁদের অভিজ্ঞতা‌ও এক‌ইরকম। ব্যবস্থাটা পচে গেছে আমাদের জন্য।
     
    @ .
    প্রচুর অভিভাবক এতেই তৃপ্তি পান-- কথাটা ভাববার। পণ্যবাদী বৈশ্য সমাজের এটাই বোধহয় স্বাভাবিক পরিণতি। ফেলো কড়ি মাখো তেল প্রবন্ধেও এই কথাটাই বলতে চেয়েছিলাম। ধন্যবাদ।
  • পৌলমী | 2405:201:8000:b134:84e9:311b:720b:***:*** | ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:১৯738116
  • ধন্যবাদ দ্বিতীয় পর্ব প্রকাশ করার জন্য। বেশ অসহায় লাগছে প্রাইভেট স্কুলের মিস্ ও ম্যামদের কথা ভেবে। ঠিকই বলেছেন, এক শ্রেণীর অভিভাবক এমনটাই চান। এতেই নাকি তাঁদের তৃপ্তি। আশ্চর্য!
  • AVIJIT CHAKRABORTY | 103.102.***.*** | ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ ০০:১৭738135
  • এই কলিতে শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য আর পরিষেবা মূলক প্রতিষ্ঠান নেই। এইগুলি এখন বিপনীতে পরিণত হয়েছে। এইগুলি এখন অত্যন্ত লাভজনক ব্যবসা। সেই কারণেই এই প্রতিষ্ঠান গুলির সংস্কৃতিতে কর্পোরেট সংস্কৃতি সম্পৃক্ত হয়েছে। বরং বলা ভালো কর্পোরেট সংস্কৃতি আনতে বাধ্য করা হয়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই এই বিপনী গুলিতে যারা পরিষেবা দেবেন তাদেরকেও ধোপদুরস্ত হয়েই পরিষেবা দিতে হবে। এটাই এখন দস্তুর। কিন্তু মুশকিল হচ্ছে কোথায় কি মানের পরিষেবা দিচ্ছে সেটার মূল্যায়নের বদলে, সেখানকার ঠাঁটবাটই এই প্রতিষ্ঠান গুলির মান নির্ধারিত করছে।
     
    শীততাপ নিয়ন্ত্রিত যানবাহন করে শিক্ষার্থীদের নিয়ে এসে, শীততাপ নিয়ন্ত্রিত শ্রেণীকক্ষে বসিয়ে, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দেবে কিনা সাদামাটা পোশাকের একজন কৃতি ও ভালো মানের শিক্ষক। এটা এই কলিতে ভাবাই যায়না। এখন স্লোগান "প্যাহেলে দর্শনধারি, বাদমে গুনবিচারী"।
     
    কণ্ঠ যতই জোরে ছাড়া হোক না কেন, এই সংস্কৃতির (অপ) হাত থেকে নিস্তার পাওয়ার আশা আমি তো দেখিনা। দুঃখিত! এই বিষয়ে আমি এক্কেবারে নেতিবাচক মানসিকতার।
  • Somnath mukhopadhyay | ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:০৫738137
  • @ পৌলমী 
    ধন্যবাদ পৌলমী। সামান্য একটা লেখা পড়ে আমাদের খারাপ লাগছে, যাঁরা এই অবস্থার শিকার হয়েছেন তাঁদের অবস্থা সত্যিই ভয়াবহ। আমাদের মদতেই এমন ব্যবস্থা কায়েম হয়েছে। আমরা দায় এড়াতে পারি না।
     
    @ অভিজিৎ 
    সুচিন্তিত দীর্ঘ মতামত জানানোর জন্য অনেক ধন্যবাদ জানাই। মানুষের একান্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনাই আজ মুনাফা অর্জনের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। এই ব্যবস্থার প্রতি আমাদের অবচেতনে একটা দুর্বলতা রয়েছে। চকচকে বিকল্পের প্রতি এই মোহাচ্ছন্নতা সহজে কাটবে এমনটা কখনোই নয়। 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। কল্পনাতীত মতামত দিন