এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ব্লগ

  • কথার কথা ৪ 

    হীরেন সিংহরায় লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ৮২ বার পঠিত
  • পেলেম নতুন ভাষা?

    বেহালায় বিশ মিনিট দরবারি কানাড়ার গৎ বাজানোর শেষে মারাঠি ব্রাহ্মণ যখন জিজ্ঞেস করলেন, ‘বলতে পারো কি সুর বাজালেম, মিনি সাহেব ?’, তার উত্তর না দিয়ে বিস্ময়ে হতবাক যাযাবর বললেন, আশ্চর্য! আপনি বাংলা শিখলেন কেমন করে?

    এ কি একটা প্রশ্ন! তুমি ইংরেজি শিখেছ কেমন করে?

    আমি শিখেছি পেটের দায়ে।

    আধারকার বললেন, আমি শিখেছি প্রাণের দায়ে। আর প্রশ্ন নয়, কিউরিওসিটি ইজ এ ফেমিনিন ভারচু।

    সেই কবে কতদিন আগে পড়া ‘দৃষ্টিপাত’ আজও আমার কাছে সমান অর্থবহ, জীবন্ত। যাযাবরের মতন আমরাও ইংরেজি শিখেছি জীবন ধারণের জন্য; বিবাহিতা, অধরা বঙ্গবালা সুনন্দা ব্যানারজির প্রেমে পড়ে বাংলা শিখেছিলেন কাণ্ডজ্ঞানহীন হতভাগ্য চারুদত্ত বিনায়ক আধারকার। আজ আমাদের কাজের ভাষার সঙ্গে সঙ্গে শিখতে হয় ইংরেজির এক বর্ণময় উপভাষা। তার ব্যাকরণ নতুন নয়,তার বিন্যাস আলাদা। সেখানে চেনা শব্দ দেখা দেয় নবরূপে শতবার, বাক্যাংশের অর্থ বদলে যায় ঘড়ি ঘড়ি। মিলেনিয়াল থেকে জেড প্রজন্মের এই বাক্যবন্ধ আমার পছন্দ না হতে পারে, কিন্তু আজ তাকে উপেক্ষা করার উপায় নেই।

    সাতের দশকে দৈনিক কর্মী বাহিনীতে নাম লিখিয়ে টালা পার্ক থেকে সকাল নটার মিনিবাসে ৬৫ পয়সার টিকিট কেটে বিবাদী বাগ হয়ে এক নম্বর স্ট্র্যানড রোডে স্টেট ব্যাঙ্ক অফিসে পৌঁছেছি ; তখন ব্যাঙ্কিং ব্যবসা এবং দিন চলতো এক বাঁধা গতে। টেলেক্স মেশিন, ব্যাটারি চালিত ক্যালকুলেটর সে আমলে স্টেট অফ দি আর্ট টেকনোলজি। ব্যাঙ্কের চিঠি শুরু হতো উইথ রেফারেন্স টু ইয়োর লেটার ডেটেড দিয়ে শেষ হতো উই রিমেন, সার দিয়ে। আমাদের লেখা চিঠি আমাদের জানমালের মালিক গুপ্ত সায়েব কারেক্ট করলে তবেই সেগুলি টাইপ হবার জন্য যেতো অনুপ বা সুবীরের কাছে ; ভুল থাকলে টিপেক্স ব্যবহার অথবা আবার টাইপ করা হতো। ফটোকপি মেশিন আসতে অনেক দেরি, একই চিঠি পুনর্বার টাইপ করে তার নিচে ‘ দিস ইজ এ ট্রু কপি’ স্ট্যাম্পের ওপরে গুপ্ত সায়েব সই করে দিতেন। আরেক টাইপিস্ট বাদল বাবু বিড়লার জায়গায় বিড়াল (Biral) লিখে অফিসে হুলুস্থুল সৃষ্টি করেছিলেন।আমাদের সদা হাস্যময় অগ্রজ সমর কর বলেছিলেন, দেখবেন বাদল বাবু, গোয়েঙ্কাকে গণিকা লিখে ফেলবেন না যেন।

    সুপ্রিয় গুপ্ত সায়েব আমাদের লেখা চিঠির ড্রাফটের তথ্য নিয়ে (আজকালকার ভাষায় ফ্যাক্ট চেকিং) নয়, আমাদের কসরত করে বিদ্যে ফলানো চিঠির বাচনকে মেরামত করতেন নির্মম ভাবে। বোম্বাইয়ের সেন্ট্রাল অফিসে একটা ডকুমেন্ট পাঠাতে গিয়ে লিখেছিলাম উই এনক্লোজ; গুপ্ত সায়েব অত্যন্ত ত্রস্ত হয়ে ডেকে বলেছিলেন, করেছেন কি ? সেন্ট্রাল অফিসকে উই এনক্লোজ লিখতে পারেন না,লিখবেন উই ফরওয়ার্ড।

    দেশ ও স্টেট ব্যাঙ্ক ছাড়ার পরে দশ বছর কেটে গেছে, রিজার্ভ ব্যাঙ্কের আদেশে লন্ডনের পাঞ্জাব সিন্দ ব্যাঙ্ক ব্রাঞ্চ অধিগ্রহণের করবে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া ;তখন লন্ডনে এসেছিলেন গুপ্ত সায়েব। আমি তখন সিটি ব্যাঙ্কে। খোঁজ করে ডেকে পাঠালেন, নিজের অফিসে বসিয়ে দিলেন। লোকজন আসে যায় ব্যবসার, কাজের কথা চলতে থাকে, তার ফাঁকে ফাঁকে আমাদের পুরনো গল্প, মোহনবাগান । এক সময় খানিকটা সন্ত্রস্ত হয়েই বললাম সার, আমার এসব শোনা কি উচিত হচ্ছে ? আমি এখন বাইরের লোক! সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে গুপ্ত সায়েব বললেন, আপনি আমাদের ঘরের লোক থেকে যাবেন সারা জীবন। সেদিন সুযোগ পেয়ে বলেছিলাম, সার কলকাতায় আপনি আমাদের ইংরেজি কারেক্ট করতেন। এদের ইংরেজি দেখেছেন ? মাথা নেড়ে নাড়লেন, ‘ যা বলেছেন।, সায়েবরা তাদের ভাষাটা ঠিক করে লিখতেই জানে না !

    সাতের দশকে আমাদের পূর্বসূরী ইম্পিরিয়াল ব্যাঙ্ক থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া আর্ট অফ অফিশিয়াল করেসপনডেন্সকে স্টেট ব্যাঙ্কের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা সযত্নে রক্ষা করতেন।

    স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া ফ্রাঙ্কফুর্টে এসে মনে হল বাইরেটা অন্য দেশ কিন্তু অফিসের ভেতরের কর্ম প্রণালী, ভাষা কলকাতারই মতন। জার্মানি এসে কিছু নতুন যন্ত্রের সঙ্গে পরিচয় হলো, ফ্যাক্স, ফোটোকপি মেশিন, সই পরীক্ষা করার মাইক্রো ফিশ।

    আজ ভেবে অবাক হতে হয় অস্ট্রিয়ার ভলফগাংগজের তীরবর্তী সাঙ্কট গিলগেন গ্রামে জার্মান চ্যান্সেলর হেলমুট কোলের বার্ষিক গ্রীষ্ম নিবাসে প্রথম ফ্যাক্স মেশিন বসানো হয় মাত্র ১৯৮৬ সালে। সে অবধি সমস্ত সরকারি কাগজপত্রের প্যাঁটরা ট্রেনের বন্ধ কামরায় বন থেকে এসে পৌঁছুত জালতসবুরগ স্টেশনে অথবা এয়ারপোর্টে।

    ফ্রাঙ্কফুর্টের কনটিনেনটাল ব্যাঙ্কে যোগ দিয়ে দ্বিপাক্ষিক সংলাপ সুলভ আমেরিকান ইংরেজি চিনলাম, সহজ সরল ভাষা, কাউকে মিস্টার নয়, জন বা পিটার বলে সম্বোধন করা যায়। আটের দশকের মাঝামাঝি লন্ডন সিটি ব্যাঙ্কে পৌঁছে সেই পরিচয়টি সবিশেষ কাজে লেগেছিল। তবে তার সঙ্গে শিখতে হলো আরেক বিচিত্র বস্তু - অজস্র অ্যাবরিভিয়েশনে ভরা সাঙ্কেতিক বাক্যাবলি। তার নাম সিটি স্পিক, সেটি জানতে হয় নইলে পিছিয়ে পড়ার সম্ভাবনা!

    কয়েক বছর বাদে টিম বারনারস- লি ইন্টারনেটের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের চেনা দুনিয়াটার ওলট পালট করে দিলেন। মুখের বচন, চিঠির ভাষা, দৈনন্দিন জীবনের চিত্রনাট্য এবং সংলাপ, শুদ্ধ হিন্দিতে যাকে বলে পটকথা আউর সম্বাদ ; রোমান হরফে ইংরেজি গ্রামার মেনে লেখা হলেও তার শব্দ ব্যবহার এবং ব্যঞ্জনা আলাদা।

    পেলেম নতুন ভাষা।

    এক কালের বোরিং ব্যাঙ্কিং ব্যবসা ক্রমশ নিচ্ছে আরেক চেহারা - টাকা জমা নেওয়া এবং ধার দেওয়াতে সীমিত নয়, তার রঙ রূপ বদলায় দ্রুত গতিতে। ধার মানে এখন শুধুই ডেবিট ক্রেডিট এন্ট্রি নয়, সেটি কখনো ডেরিভেটিভ, কারেন্সি ফরওয়ার্ড কখনো ইউরোপিয়ান অপশন, মেয়াদি জমার নাম স্টিকি ডিপোজিট, বেশি টাকা জমা দেন যারা তাঁরা হাই নেট ওয়ারথ ইনডিভিজুয়াল, তাঁদের সম্পত্তির দেখভাল করেন ওয়েলথ ম্যানেজার। এই সম্পত্তি আহরণের জন্য ছুটোছুটি, খদ্দেরকে পান ভোজনে, উইম্বলডন টেনিসে, লর্ডসে ক্রিকেট ম্যাচে আমন্ত্রণ করতে হয়।

    স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়াতে আমার তৃতীয় ট্রেনিং শাখা ছিল বাগবাজার স্ট্রিট এবং বি টি রোডের মোড়ে শ্যামবাজার ব্রাঞ্চ ( যার একতলায় ছিল বাগবাজার বাটা!)। তার দরোজার একদিকে ব্যাঙ্ক অফ বরোদা, উলটোদিকে ইউনাইটেড ব্যাঙ্ক। তেইশ বছর বয়েসের ঔদ্ধত্যে মন্তব্য করেছিলাম, একদিন হয়তো খদ্দের দাঁড়াবে ওই দুই রাস্তার মাঝে, তিনদিক থেকে তাকে টানাটানি করবে তিনটে ব্যাঙ্ক ! আমার কর্তা সেন সায়েব শুনে বলেছিলেন, সিংহরায়, ব্যবসার সন্ধানে আমাদের ব্যাঙ্ক ফিরিওলার মতন ফ্যা ফ্যা করে দুয়োরে দুয়োরে ঘোরে না। যতদিন পর্যন্ত আমাদের দরোজার ওপরের সাইনবোর্ডে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া, সাকসেসর টু ইম্পিরিয়াল ব্যাঙ্ক কথাটা লেখা আছে, - ব্যবসা এবং খদ্দের আমাদের কাছেই আসবে।

    ইউরোপ এসে জানলাম একা কুম্ভের গড় এটি নয়, মাঠে অনেক খিলাড়ি। নিজের পরিচিতি জাহির করতে গেলে সাইনবোর্ড, টাকার থলির সাইজ বা আমাদের প্রখর গুণবত্তাই যথেষ্ট নয়, বাজারি ভাষাটাও জানা দরকার ।

    কোন বাজারি ভাষা ?

    সহজ ইংরেজি গদ্যের অন্যতম পুরোধা জর্জ অরওয়েল ভাবী লেখকদের প্রতি উপদেশছলে বলেছেন, যা লিখবেন সেটি যেন সহজ সাপটা হয়, ফ্রেজ ইডিয়ম বা রূপক চিত্রকল্প সর্বদা বর্জন করবেন। কোনো লম্বা শব্দের পাল্লায় পড়লে যতদূর সম্ভব তাকে কাটুন, ভাব বাচ্য ( প্যাসিভ ভয়েস) এড়িয়ে চলুন, স্বল্প চেনা বিদেশি শব্দের মার প্যাঁচ দেখাবেন না। যে শব্দালঙ্কার আপনার পাঠক চেনেন না সেগুলি টেনে এনে বিদ্যে জাহির না করাই ভালো।

    অনেককাল পরে বিজ্ঞাপন জগতের অবিসম্বাদিত সম্রাট ডেভিড অগিলভি তাঁরই প্রতিধ্বনি করেছেন।

    কিন্তু দিন বদলেছে ; এই বাজারে টিকে থাকতে হলে পছন্দ হোক না হোক জারগনের সঙ্গে বিরোধ নয়, তাকে জেনে শুনে চিনে সেই দলেই নাম লেখানোর দিন।

    ইফ ইউ কান্ট বিট দেম, জয়েন দেম !

    দিয়েছি ছুটি, বিদায় লহ ভাই

    কল কারখানায় ধর্মঘট, গণ ছাঁটাইয়ের কথা খবর কাগজে পড়েছি। সেখানে কর্মীদের কলারের রঙ নীল, তাঁদের বেতনকে বলা হতো ওয়েজ। কারো মনে আছে কিনা জানি না তবে ততকালে শ ওয়ালেসে কর্মরত আমার দাদার কাছে শুনেছি কর্মীদের বিদায় দেওয়ার পদ্ধতির নাম ছিল হাতে বিল্বপত্র ধরানো। যে পরিবেশে আমার কর্মজীবন শুরু হয় সেখানে কর্মীদের কলারের রঙ সাদা, দেওয়া হতো স্যালারি ( অনেক পরে ইংল্যান্ডে এসে ওয়েজ এবং স্যালারির এই একই শ্রেণি বৈষম্য চোখে পড়েছে)।

    বন্দুকে ভরা গুলি ছোঁড়া বা ছোঁড়ার নির্দেশ দেওয়াকে বলে ‘ ফায়ার ‘। গুলি ফায়ারড হলে সেটি হয়ে পড়ে কাজ ফুরনো একটা ছেঁড়া খোঁড়া কারট্রিজ মাত্র। তিনশো বছর আগের আমেরিকায় আইন কানুন নেই, কোর্ট কাছারি দূর অস্ত, শেরিফের বন্দুক থেকে ঘোষিত হয় বিচারের বাণী। সংবিধানেও তাকে মান্যতা দেওয়া হলো ; পৃথিবীর একমাত্র দেশ যেখানে আগ্নেয়াস্ত্র রাখা ও বহন করাটা নাগরিকের মৌলিক অধিকার, কোন লাইসেন্স লাগে না। তাই হয়তো একদিন কাউকে কাজ থেকে বিদেয় দিতে সে দেশে বন্দুকের গুলি ছোঁড়ার চিত্রকল্প ব্যবহৃত হলো ; মানুষকে তার রুজি রোজগারের ধান্দা থেকে দূর করে দেওয়াকে বলা হলো টু ফায়ার এ পারসন।

    ইংল্যান্ডে শিল্প বিপ্লবের পরে মিস্ত্রী মজুর তাঁদের হাতুড়ি সহ দৈনন্দিন কাজের জন্য যাবতীয় জরুরি যন্ত্রপাতি একটা থলেতে ভরে কারখানায় আসতেন। রোজ সেটা বয়ে আনার ঝক্কি ঝামেলা এড়াতে তাঁরা সে থলে বা স্যাক রেখে যেতেন কাজের জায়গায়, কারখানার শেডে মালিকের জিম্মায়। তাঁর কাজ চলে গেলে কর্মদাতা তাঁকে বিদায় দেবার সময়ে কোন সহকর্মীকে বলতেন, ওর থলেটা দিয়ে দাও,গিভ হিম দি স্যাক। সে থলি হাতে মিস্ত্রী পথে বেরুতেন নতুন কাজের, মালিকের সন্ধানে। থলি নামক এক প্রাণহীন শব্দ পরিণত হলো ক্রিয়াপদে - যে থলি হাতে ফেরত পেলো হি ইজ স্যাকড।

    সেই সব রুঢ় শব্দ ব্যবহার না করে মানুষের মর্যাদা রেখে এক কালে চিঠিতে লেখা হতো – ইট হ্যাজ বিন ডিসাইডেড টু টারমিনেট ইয়োর এমপ্লয়মেন্ট।

    কর্পোরেট কালচার এখন অনেক সভ্য, পরিশীলিত, রিফাইনড; ‘ আপনার থলিটা ফেরত হলো ‘ এই ধারার বর্বর নিষ্ঠুর বাক্য সৌজন্যের সীমানা অতিক্রম করে। অতঃপর বক্তব্য যতোই নির্মম হোক সেটি শোভনীয় ভাবে পেশ করার নমুনা দেখলাম লন্ডনে আসার বছর কয়েকের মধ্যেই।

    ১৯৮৬ সালে ব্রিটিশ সরকার কমার্শিয়াল আর ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্কিঙ্গের মাঝের আইনি বাধা বন্ধন ঘুচিয়ে যে কোন ব্যাঙ্ককে যত্র তত্র চরে খাওয়ার সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া দিলেন – তার নাম বিগ ব্যাং। ফলত বাড়ি জমির মরগেজ, সেভিংস, টার্ম লোনের কারবারি চিরকালীন হাই স্ট্রিট ব্যাঙ্ক মিডল্যান্ড, ন্যাশনাল ওয়েস্টমিনস্টার, বারকলেজ নেমে পড়ল ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্কিঙ্গে, হাই ফাইনান্সের বাজারে। সে উল্লাস স্বল্পায়ু প্রমাণিত হয় ; সদ্য বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজ পাস করা ছেলে মেয়েদের বিশাল বেতন এবং আই বি এম ডেস্ক টপ দিলেই যে রেভেনিউ উৎপন্ন হয় না সেটা বুঝতে বিজ্ঞজনেদের দু বছর লেগেছিল। আর তখনই প্রথম সাদা কলারওলা শার্ট পরা কর্মীদের পাইকারি হারে ছাঁটাই হতে দেখলাম – সাল ১৯৮৮ ; শোনা গেল সকাল নটার পরে ক্যানন স্ট্রিটের কোন একটি ব্যাঙ্কের অফিসে ওঠা নামার দুটি এসকেলেটরকে একই মুখে চালিত করা হয়েছিল, ওপরে কেউ যায় না, হাতে বিদায় পত্র নিয়ে লোক শুধু নেমে আসেন। একা মরগ্যান গ্রেনফেলে এক দিনে তিনশো জন সেই কাগজ হাতে পাওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছিলেন।এই প্রকারের যূথবদ্ধ পদচ্যুতির নাম দেওয়া হয়েছিল রি স্ট্রাকচারিং। বেলপাতার সঙ্গে সঙ্গে হাতে তিন মাসের মাইনে দেওয়া হয়েছিল।

    নয়ের দশকে ইন্টারনেট আনলো নিযুক্তির ধুম, হায়ারিং স্প্রি – কোথাও যেন স্বর্ণখনি আবিষ্কৃত হয়েছে, কোদাল কুড়ুল নিয়ে সেই দিকে ধাও। যেমনটা হয়ে থাকে, তার পরেই আমরা দেখলাম গণ ছাঁটাই – এর উপস্থাপনা কখনো একেবারেই অনন্য, ইউনিক।

    কনফারেন্স কলে বেটার ডট কম সি ই ও বিবেক গরগ নশো জন কর্মীকে জানালেন– আপনি যদি শ্রোতাদের মধ্যে আছেন এবং আমার ভাষণ শুনছেন, আপনি সেই দুর্ভাগা গ্রুপের অংশ আজ যাঁদের কাজের শেষ দিন। আমার এই কলের পরে প্রত্যেকে এইচ আর থেকে আরেকটা কল পাবেন। আপনাদের প্রাপ্য দু মাসের মাইনে আর একমাসের পুরো বেনিফিট আপনাদের প্রাপ্য। যদি আজ বিকেল অবধি কোন ফোন না পান, তাঁদের ইমেল করুন। (বেটার ডট কম সি ই ও বিশাল গর্গ )* - ১, ডিসেম্বর ২০২১

    জেসন গোল্ডবের্গ ( সি ই ও, ফ্যাব ডট কম ) তাঁদের বার্লিন অফিসে একশো জন কর্মীকে একটি ই মেলে সাত দিনের মধ্যে পদচ্যুতির যে ইস্তেহারটি দিয়েছিলেন সেটি আজ কিংবদন্তিতে পরিণত হয়েছে -

    ‘এই কলের পরেই ই মেল মারফত আপনারা জানবেন এখুনি অথবা কয়েকমাসের মধ্যেই আপনাদের নতুন জব সার্চ শুরু করতে পারেন কিনা ‘।

    আরেক সি ই ও বললেন

    আপনাদের কর্মক্ষমতা ও প্রতিভার সম্যক সমাদর যদি পেতে চান, হাত তুলুন। এখানকার কাজ ছেড়ে অন্যত্র চলে যান।

    মার্ক জুকারবের্গ ( ‘চিনির পাহাড়’ ) হালে তাঁর কোম্পানির দশ শতাংশ লোককে বাড়ি পাঠানোর সুসংবাদের সঙ্গে একটা দারুণ মানবিক টাচ দিলেন – দোষটা আমারই, খুব বেশি লোককে কাজে লাগিয়েছিলাম ( আই অ্যাম গিলটি অফ ওভার হায়ারিং)।

    এহেন হৃদয়হীন সারকাজমের উদাহরণ অজস্র।

    কিন্তু যখন একজন বা দুটো তিনটে পাঁঠা বলি হবে, তখন ?

    ধরুন, আমি কোথাও চলে যাবার কোন ইচ্ছে প্রকাশ করি নি কিন্তু আমাকে জানানো হলো, খুব দুঃখের সঙ্গে আপনাকে চলে যেতে দিতে হচ্ছে - রিগ্রেটেবলি উই হ্যাভ টু লেট ইউ গো।

    কেন ?

    না, না, আপনি কোন মতেই এটিকে ব্যক্তিগতভাবে নেবেন না। আপনার কর্মক্ষমতা, এই প্রতিষ্ঠানে আপনার এতদিনের অপরিসীম অবদান অনস্বীকার্য।

    তবে ?

    আমরা ব্যবসার মাপ ছোট করছি - উই আর ডাঊন সাইজিং

    সংগঠন বদলাচ্ছে, নতুন প্ল্যানে আপনার উপযুক্ত কোন পদ নেই – উই আর রিস্ট্রাকচারিং। ইউ ডু নট ফিট ইন টু আওয়ার নিউ অরগানিজেশন।

    ব্যবসার ধারা বদলাচ্ছে – উই আর গোয়িং ইন ডিফারেন্ট ডিরেকশন।

    যে পথে যেতে হবে সে পথে আমি একা?

    এবার যথারীতি ইনহিউম্যান রিসোরসেস বা ইমপারসোনেল ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎকার, দেনা পাওনার হিসেব বুঝে নেওয়া, কখনো সিকিউরিটি গার্ড দ্বারা সুরক্ষিত হয়ে অফিস চত্বর থেকে বিদায়।

    গণ ছাঁটাইয়ের কেসে সারিবদ্ধ মেষকে মৃত্যুমুখে পাঠানো হয় নানা রকমের ভেলকি ভুজুং দিয়ে। ফাইনানশিয়াল টাইমস বা ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে দুটো দায় সারা গোছের লাইন ছাপা হয় – অপ্রয়োজনীয় খরচা বাঁচিয়ে, মিডল ম্যানেজমেন্টকে কাট ছাঁট করে কর্মী সংখ্যার দশ শতাংশ কমিয়ে ব্যবসায়ের সার্বিক স্বাস্থ্য উদ্ধারের প্রচেষ্টায় এটি এই কোম্পানির সুচিন্তিত এবং দৃঢ় পদক্ষেপ।

    অনেকবার দেখেছি( বিশেষ করে সিটি ব্যাঙ্কে) তৎক্ষণাৎ তাদের শেয়ারের দাম দু চার পারসেন্ট বেড়ে যায়, অন্তত কয়েক দিনের জন্য।

    কোন উচ্চ পদস্থ মানুষকে হাঁড়িকাঠে চড়ানো গেলেও তাঁর ট্রিটমেন্ট অন্য স্তরের; এই সব মানুষদের ‘ফায়ার’ করা হয় না, স্কন্ধে প্রভূত তেল ঘি প্রলেপ করে এক মসৃণ মলম লাগিয়ে সেই সংবাদ চাউর করা হয় – কারণ বহুবিধ।

    অফিসের কিছু মানুষ শুনেছেন অমুক ভাইস প্রেসিডেন্টের ছুটি হয়েছে। কেন ? তিনি এক নিকম্মা মানুষ, কোন গুণ নাই বলে তাড়ানো হলো ? চুরি জোচ্চুরি করেছেন ? নতুন ম্যানেজমেন্ট অন্যায় ভাবে কাজ থেকে ছাড়িয়ে দিয়েছে, নিজের কোন পেয়ারের লোককে রাখবে বলে ?

    পারসোনেল ডিপার্টমেন্ট এমন ভিত্তিহীন গুজবকে সমূলে নির্মূল করতে চান (ডয়েচে ব্যাঙ্কের এককালের শীর্ষ স্থানীয় ইউরগেন ফিতশেনের একটি গল্প আমার জানা ) এই লেভেলের মানুষকে তাড়ানো হয় না ! তাহলে সর্বসমক্ষে এই বার্তাটি কি রূপে সম্প্রচারিত হবে? আজকের দরবারি ইংরেজি সেই সংবাদকে অসাধারণ মোলায়েম মোড়কে মুড়ে একটি অল পয়েন্ট ই -মেলে জানায় -

    কাজের ব্যস্ততায় দীর্ঘদিন ইনি স্ত্রী পুত্র কন্যাকে সময় দিতে পারেন নি। ভাইপো ভাইঝি মামা মামি এমনকি রাঙ্গা কাকা কাকিমাকেও অবহেলা করেছেন। এবার সকলকে তাঁর মূল্যবান সময় প্রদানের মানসে সিটি ব্যাঙ্কের টুয়েন্টি ফোর সেভেনের কাজ থেকে বিদায় নিলেন।

    অফিস মেসেজ – হি হ্যাজ ডিসাইডেড টু স্পেন্ড মোর কোয়ালিটি টাইম উইথ হিজ ফ্যামিলি।

    এখানেও টুইস্ট থাকে - যেমন, ‘ ইনি আপাতত ছ মাসের জন্য পরিবারের সঙ্গে অধিকতর সময় কাটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ‘। এখানে একটি ওপেন এন্ড রেখে দেওয়া হলো অর্থাৎ অবেতনে লম্বা ছুটি নিলেন মাত্র, জিরিয়ে নিয়ে আবার ফিরে আসতেও পারেন, যদিও আমরা ভালো করেই জানি ইনি মহাপ্রস্থানের পথে যাত্রা করলেন, ফিরবেন না। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাঙ্কে ফাইনাশিয়াল মার্কেটসের হেড লেনির বিদায়কে বিদায় বলা হয় নি, সাময়িক বিরতি মাত্র ! তিনি অবশ্যই ফেরেন নি। ।

    আরেক চমক

    একান্ত ব্যক্তিগত ( অলিখিত ) কারণে ইনি পদত্যাগ করছেন । এই দু সপ্তাহ আগে ট্রাম্পের সংবাদ সচিব ক্যারোলাইন লিভিটের কেসটা দেখুন, তিনি কাজ ছাড়লেন, পদচ্যুত হন নি। চলে গেলেন সাংসারিক কারণে - ফ্যামিলি রিজনস। বুঝ গুণী।

    অথবা

    আটটা থেকে আটটা কাজে লিপ্ত ছিলেন এতদিন, এবার তিনি তাই করতে যাচ্ছেন যেটা চিরদিন তাঁর মনের ভেতরে সুপ্ত ছিল।

    হি ইজ গোয়িং টু ফলো হিজ ড্রিমস, টু ডু থিংগস হি অলওয়েজ ওয়ান্টেড টু ডু।

    রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, ফজলি আম ফুরোলে বলব না ফজলিতর আম নিয়ে এসো।

    তেমনই আমি অনেকদিন যাবত একই কাজ করে ক্লান্ত হয়ে বিদায় নিচ্ছি নতুন কিছু করার জন্য। কোনো অজানাকে দিচ্ছি ডাক :ব্যাঙ্ক সেটা ভেবে নিয়ে এক সিনিয়র অফিসারের বিদায় বার্তায় ইউরো উইক ম্যাগাজিনকে জানালো

    হি হ্যাজ লেফট হিজ কারেন্ট পজিশন টু পারসিউ নিউ লাইনস অফ অ্যাকটিভিটি অথবা হি ইজ লুকিং অ্যাট সেভারেল এক্সাইটিং অপশনস আউট অফ দি ব্যাঙ্ক

    আরেক ভার্শন –– হি ইজ মুভিং অন টু নিউ প্যাসচারস।

    যেন আমি নতুন ক্ষেতের সন্ধানে যাচ্ছি, নতুন ঘাসের স্বাদ পেতে, অন্য কোথা অন্য কোন খানে।

    পুরনো ফার্ম থেকে বিদায়ী যাত্রীর উঁচু পজিশন মাফিক কখনো যোগ হয়ে থাকে -

    আমাদের ব্যবসায়ের উন্নতিতে তাঁর অবদান ছিল অসামান্য। তাঁর বিদায় এক অপূরণীয় ক্ষতি। ভবিষ্যতের জন্য আমরা তাঁর সর্বাঙ্গীণ কুশল কামনা করি।

    গ্রহণের পরে

    কলেজের শেষ বছরে ফিল্মস ডিভিশন প্রযোজিত বিশ মিনিটের একটি অসাধারণ ডকুমেন্টারি দেখি, আফটার দি ইকলিপস। হত্যার অপরাধে এক বন্দির জীবনের কয়েকটা পাতা উলটিয়েছেন পরিচালক ও অভিনেতা সুখদেব; মানুষের জীবনে গ্রহণ লাগলে তার চেনা দুনিয়া, তার সকাল বিকেল, পাড়া পড়শির চেহারা বদলে যায়। অন্য ভাবে দেখতে গেলে ই এম আই, ছেলে মেয়ের স্কুলের ফি বিভীষিকা রূপে দেখা দেয় ; কাজ খোঁজা নামক নতুন চ্যালেঞ্জের শুরু।

    এখনকার প্রজন্ম জেনে অবাক হয় ছাত্রানাং অধ্যয়নং তপ: এই আপ্তবাক্যটি শুনে আমাদের জেনারেশন বড়ো হয়েছে। স্কুল কলেজ কাঁটাকলে মোট পনেরো বছর সমর্পণ করার পরেও প্রাণ ধারণের জন্য যে আরেকটি কঠিনতর তপস্যা করতে হবে তার কোন প্রস্তুতি ছিল না আমার। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা পাস করলে প্রশাসনে, সরকারি মালিকানার শিল্প প্রতিষ্ঠানে, ব্যাঙ্কে, এ জি বেঙ্গলে কিছু একটা ঠিক জুটে যাবে এবং সেটি হবে সারা জীবনের মিল টিকেট, জব ফর লাইফ এই আস্থা বজায় রেখেছি।

    পূর্বে হোক আর পশ্চিমেই হোক, জব ফর লাইফ এখন অলীক কল্পনা মাত্র, মিড বা লেট ক্যারিয়ার চেঞ্জ আজকের চালু প্রথা। অতএব একটা কাজ গেলে পরেরটার কাজের সন্ধান শুরু। চাকরি থেকে বিদায়ের ভাষা যেমন বদলেছে, তেমনি বদলেছে চাকরির সন্ধান প্রক্রিয়া। তাহলে গ্রহণ শেষে স্নান সেরে কোন দেবতার পুজোয় বসলে আবার কর্ম মেলে ? কি তার আচার পদ্ধতি ?

    বহুবিধ।

    সিটি ব্যাঙ্কের নব্বুইটি দেশ জোড়া কর্মক্ষেত্রে চাকরি খোঁজার রাস্তা ছিল নিম্নরূপ -

    মুখের কথা ; পাবে একজন বললে শোনো বারক্লে স্কোয়ারে সিটির প্রাইভেট ব্যাঙ্কে লোক নিচ্ছে, একেবারে ঘোড়ার মুখের খবর, হ্যার্বকে ( মায়ার ) ফোন লাগাও।

    অতি সজ্জন কোন মানুষ বললেন আমি জানি ওই বিভাগে কাজ খালি আছে, যোগাযোগ করো। যদি চাও আমি কিথকে তোমার কথা বলে দিতে পারি।

    কখনো শিকেও ছেঁড়ে – লাঞ্চের সময়ে কোন একজন ব্যক্তি বললেন, আমার সঙ্গে পরে দেখা কোরো। আমার দফতরের জন্য লোক খুঁজছি।

    সবচেয়ে প্রতিষ্ঠিত পদ্ধতি – সিটি ব্যাঙ্কের ব্ল্যাক বোর্ড, পরে ই মেল, নোটিসে কাজের ইস্তাহার পাঠ, দরখাস্ত এবং সাক্ষাৎকার !

    এইরূপ ঘটনা আমার ক্ষেত্রেও ঘটেছে ; আমাজনে প্রকাশিত মৎ প্রণীত সিটি লাইফ ( CitiLife) গ্রন্থে তার পূর্ণ স্বীকারোক্তি আছে।

    আজকে নতুন চাকরির খোঁজ শুরু হয় ফাইনানশিয়াল টাইমস বা তদ্রূপ ট্রেড পত্রিকা, ওয়েব সাইট, দেখে দরখাস্ত করা থেকে। ওয়ার্ড অফ মাউথ সম্যক চালু আছে ; কোনো কোম্পানির পারসোনেল দফতরকে সরাসরি লেখা যায় শুনেছি আপনারা লোক নিচ্ছেন, যেমন এককালে আমাদের দেশে একটি চালু লাইন ছিল - আন্ডারস্ট্যান্ডিং ফ্রম এ রিলায়েবেল সোর্স!

    বর্তমানে ডিজিটাল জগত খুলে দিয়েছে এক বিশাল দিগন্ত ; আমি কাজ খুঁজি না খুঁজি, কাজ আমাকে খুঁজে নিতে পারে। দুনিয়াকে প্রথমত জানাতে হবে আমি কে, কি করি, করতে চাই। আমি ঢোল না পেটালে, কোনো সম্ভাব্য কর্মদাতা কেমনে এই ঢোলের অস্তিত্ব সম্বন্ধে ওয়াকিবহাল হবেন ?

    এই প্রয়াসে আজকের টেকনোলজির একাধিক অবদান অনস্বীকার্য ; যেমন ধরুন আত্মপ্রকাশের একটি প্রখ্যাত সামাজিক মাধ্যম লিংকডইন ( LinkedIn); ফেসবুকের চেয়েও পুরনো, তার রেজিস্টার্ড সদস্য সংখ্যা ভারতের মোট জনসংখ্যার বেশি। কালোপযোগী বাচনভঙ্গি সম্পন্ন এক বিকিকিনির হাট, যাকে একাধারে সচিত্র সামাজিক নোটিস বোর্ড এবং বর্ণাঢ্য এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সির তকমা দেওয়া যায়। চাকরির বিজ্ঞাপন থাকে কিন্তু তার চেয়েও অনেক বেশি থাকে সুযোগ্য চাকরির আশায় লাগাম বিহীন আত্ম প্রচার ( কোথায় কার কাছে কাজে লেগে যায় !)। যে কোন অলস বেলায় খানিক স্ক্রোল করে দেখতে পারেন।

    কেউ জানাচ্ছেন অমুক কোম্পানির গণনা বিভাগের ছোট কর্তার পদে যোগ দিয়ে তিনি নিজেকে অসম্ভব সমৃদ্ধ মনে করছেন ( বহুদিন নানান দোরে চক্কর কেটে এতদিনে একটা কাজ পেয়েছেন, যার কথা বিশ্বশুদ্ধ লোককে এখুনি না জানালেই নয় )।

    কেউ বলছেন তিরিশ বছরে নানান কাজে তিনি যে অসামান্য অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন তাকে সঠিক জায়গায় কাজে লাগানোর সময় এসেছে ( দীর্ঘদিন কর্মহীন, যেন তেন একটা কাজ যদি জোটে ! তাঁর ইতিহাসে ক্লিক করলে শেষ সতেরোটি বিভিন্ন কাজের ফিরিস্তি পাবেন, কোথাও তিনি তিন মাস কোথাও তিন বছর স্থায়ী হয়েছিলেন )

    আমার এক প্রাক্তন সহকর্মী ( নাম বলতে নিতান্ত অপারগ ) প্রতি সপ্তাহে ছবি সহ জানাতে থাকেন কোন সেমিনারে তিনি পৌরোহিত্য করেছেন, কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের কনভোকেশনে বাণী দিয়েছেন। আমি জানি তিনি একটি ব্যাঙ্কের আধা শীর্ষ স্থানে আছেন, আরেকটু উপরে যেতে চান। তাঁর পাবলিক এক্সপোজার দেখলে ব্যাঙ্কের বোর্ড যদি একটু নড়ে চড়ে বসেন।

    একদল মানুষ নিত্য আরেকদল মানুষকে জানাতে চান তাঁরা কোন হাই সার্কেলে মুভ করেন, যেমন, এই শুধু আজকের ( ৭ সেপ্টেম্বর ) পাতায়

    এক চেনা মুখ আজ লিখেছেন, ইট ওয়াজ এ প্রিভিলেজ অ্যান্ড অনর টু মিট শ্রী মোহন ভাগভতজি।

    জাম্বিয়ান প্রেসিডেন্টের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দেবার আমন্ত্রণ পাওয়াটা এক অনন্য সম্মান, জানিয়েছেন আমার অতীতের আরেক সহকর্মীনি।

    আরেকজন কোন প্রতিষ্ঠানে আহুত হয়ে এমন এক অনুপ্রেরণা মূলক ভাষণ দিয়েছেন যে তাঁর নিজের মনের ভেতরেই এক অগ্নুৎপাতের অনুভূতি উপভোগ করছেন, থর থর করে কাঁপছেন ( ইনি এই বক্তৃতামালার বুকিং খুঁজছেন )।

    চাকরি বদল করে ঢাক পিটিয়েছেন, তার নোটিস রাশি রাশি। সেটা জেনে কার কোন উপকার হবে ? এটা অবশ্য ফেসবুকে আকছার পড়া আশ্চর্য নিবিড় বর্ণনার মতো –কেউ জানাতে বাধ্য হচ্ছেন দুবাইয়ের কফি শপে দুবাই চকোলেট মুখে দিয়ে কেমন স্বর্গ সুখ অনুভব করছেন।

    এর ভিতরে কি আরও কোন অনুভূতি খেলা করে ?

    কেউ কোথায় কোনো এয়ার পোর্টে প্লেন বদল করে অভিভূত হচ্ছেন; তিনি প্লেন বদল করুন, জাহাজ বদল করুন, হারগিজ করুন,করতেই থাকুন কিন্তু সেটা জানলে কার কোন উপকার হবে ? গভীরতর অর্থটি কি ? এই গেছো দাদা বা গ্লোব ট্রটারের কি ভীষণ ডিমান্ড, তাঁর দিকে লক্ষ রাখুন, বহু মানুষ তাঁর পিছু ধাওয়া করছেন, আপনিও লেগে পড়ুন।

    এক দশক আগে আমার ফেলে আসা কাজের জগতের আগমনী, বিজয়া ও পুনরাগমন পালাগানের শব্দ ছন্দ যতি গতি লয় বদলে গেছে।

    পরিশিষ্ট

    *আগস্ট ২০২৬ সালে বেটার ডট কম বোর্ড বিশাল গর্গকে তাঁর বদমেজাজ ও বিশ্বাসযোগ্যতার অভাবের অজুহাতে সি ই ও পদচ্যুত করে ;গর্গ এক ডলার বার্ষিক মাইনেতেও কাজে থাকতে চেয়েছিলেন।

    **এই মিটিঙের দু বছর বাদে জেসন গোল্ডবের্গের ফ্যাব ডট কম নামমাত্রে মূল্যে বিক্রিত হয়। নতুন দোকান খুলেছেন তিনি।

     
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • ব্লগ | ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ৮২ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Debanjan Banerjee | ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৮:২৬742678
  • অসাধারণ দাদা l ফায়ার, স্যাকিং এই শব্দগুলো এই অধমকে জীবনে কয়েকবার শুনতে হয়েছে l এগুলোর ইতিহাস জেনে ভালো লাগলো বেশ l তাছাড়া forced to put down papers এবং pink slip এই দুটি শব্দকেও শুনতে হয়েছে l এগুলোর ইতিহাসটাও লিখুন l এছাড়া ছাত্রাণাং অধ্যায়ন তপঃ শুনে নব্বয়ের দশকে আমিও বড় হয়েছি কিন্তু এই pink slip, you are fired, you are sacked, pink slip এই শব্দগুলো কেউ শেখায়নি এবং এগুলো শুনলে কি করা উচিত কেউ শেখায়নি l তবে দুনিয়া পাল্টাচ্ছে এখনো অনেক কিছুই হয়তো দেখার বাকি আছে l
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ক্যাবাত বা দুচ্ছাই মতামত দিন