এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ব্লগ

  • বৈঠকি আড্ডায় আবার তিন 

    হীরেন সিংহরায় লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ২৮ মার্চ ২০২৫ | ১২৩১ বার পঠিত
  • পূর্ব-পশ্চিম দুই


    পূর্ব -পশ্চিম দুই

    হাইকের জার্মানি

    আন্তর্জাতিক আইনকানুনের তোয়াক্কা না করে এক অজানা দেশের মানুষের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতের বাসনায় একদিন বার্লিন অভিমুখী ট্রানজিট অটোবান থেকে গাড়ির মোড় ঘুরিয়ে তৎকালীন কমিউনিস্ট পূর্ব জার্মানির হ্যারমসডরফ গ্রামের একটি বাড়িতে শিশুর খাবার তৈরির জন্য গরম জল পাওয়া যাবে কিনা এই বাহানায় বেল বাজিয়েছিলাম। নিজের দেশের সরকারি বাধা নিষেধ ভেঙ্গে এরিকা ও হ্যারবেরট ক্রোসটভিতস সেদিন অনামা বিদেশিদের জন্যে তাঁদের বাড়ির সদর দরোজা খুলে দিয়েছিলেন। খবরের কাগজ নয়, টেলিভিশন নয়, কমিউনিস্ট পূর্ব ইউরোপের সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় উথমানস্ত্রাসের পাঁচ নম্বর বাড়ির রান্নাঘরে। তাঁদের কন্যা হাইকের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে সেই দিন, জুন ১৯৭৯।



    আলো বউদি, হ্যারবেরট ক্রোসটভিতস, শ্রাবণী বউদি
    ৫ উথমানস্ত্রাসে হ্যারমসডরফ, ১৬ জুন 1970


    তারপরে অনেক পূর্ণিমা অমাবস্যা কেটে গেল, সেই সম্পর্ক অক্ষুণ্ণ। তাই বার্লিন দেওয়াল ভেঙ্গে পড়লে সম্পূর্ণ আইনি কায়দায় নতুন জার্মানিকে দেখার জন্য হাজির হয়েছিলাম হাইকের শ্বশুরালয়, স্টাডরোডায়। আমার কাজ তখন জার্মানি জুড়ে, ভাড়ার গাড়ি আমার পায়ের ভৃত্য। মোবাইল আসে নি; ব্যাঙ্কের কাজে বেরোই কিন্তু কখন কোথায় কোন কাজে ব্যস্ত আছি সেটা আমার আপিসের প্রভু বা তাঁর সেক্রেটারির গোচরে আসা অসম্ভব।

    একটা কাজ ছিল ফ্রাঙ্কফুর্ট হতে একশ কিলোমিটার পূবে, বাদ হ্যারশফেলডে, এককালীন পূর্ব জার্মানির শেষ শহর আইজেনাখের কাছাকাছি। হাতে সময় আছে, কিছু না ভেবেই চলে গেলাম হাইকের হাইকের নতুন ঠিকানার দিকে, তেরো নম্বর মাক্স শিফারডেকারস্ত্রাসে, স্টাডরোডা; পাতাটি জানা ছিল বহু বছর চিঠি পত্র লেখার সূত্রে। ফোন ছিল না তাদের, আমার আসন্ন আগমন বার্তা পাঠানোর প্রশ্নই ওঠে নি। হয়তো কিছুই নাহি পাবো ভেবে ১৯৯০ সালের জুন মাসের এক বিকেলে সেখানে হাজির হয়েছিলাম। এগারো বছর আগে ক্রোসটভিতস পরিবার অজানা বিদেশিদের হয়তো সশঙ্ক আপ্যায়ন করেছিলেন, এবার হাইকে ও তার মায়ের কাছে আমি চেনা মানুষ, তাই পেলাম সানন্দ অভ্যর্থনা। সেখানে সত্বর এসে পড়লেন পাড়া পড়শি।

    আজকের বৈঠকি আড্ডায় পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানির পুনর্মিলনের অর্থনৈতিক রাজনৈতিক তাৎপর্য বুঝতে গেলে সেই দিনটির প্রসঙ্গে আবার ফিরে আসতে হয়।

    সে দিন হাইকের বসার ঘরে মধ্য বয়স্ক কয়েকজন প্রতিবেশী উপস্থিত ছিলেন, আমার মতন দাড়ি ওলা, জার্মান বলে এমন একজন ভারতীয়কে দেখার প্রাথমিক কৌতূহল কেটে গেলে খোলাখুলি আলোচনা শুরু হলো। রাজনীতি নয়, মিলিত দেশের মাথা পশ্চিম জার্মানির হেলমুট কোল হবেন, না পূর্ব জার্মানির হান্স মদরো সে কথা শিকেয় তুলে বয়স্করা প্রাত্যহিক জীবন সমস্যার প্রসঙ্গ তুললেন। তখনো দুটো দেশের মুদ্রা আলাদা, সরকারি হিসেবে বিনিময় দর ১:১ কালো বাজারে ২০:১। ঠিক কি ভাবে জানা নেই কিন্তু সবাই শুনছেন দুটো দেশ এক হয়ে যাবে সরকারিভাবে। শিগগির সর্বশক্তিমান ডয়েচ মার্ক তাঁদের হাতে আসবে, কিন্তু সে কবে ? ইতিমধ্যে ইয়েনা, লাইপতসিগ, ভাইমার খালি করে তিরিশের কম বয়েসি ছেলে মেয়েরা কাজের খোঁজে চলে যাচ্ছে মিউনিক, নুরনবেরগে। শহর বৃদ্ধাশ্রমে পরিণত। ছোট শহর স্টাডরোডাতেও সেই একই ছবি। এমনকি দুই দেশের পুরনো সীমানার পার্শ্ববর্তী গ্রামাঞ্চলের সক্ষম কর্মীবৃন্দকে দৈনিক কাজের কড়ারে তুলে নিতে রোজ সকালে বাস আসে কোবুরগ, বামবেরগ থেকে, সন্ধ্যে ছটায় ফেরে। দিনের বেলা সেই সব গ্রাম জনশূন্য।

    এক মহিলা তাঁর আপন কাহিনি শোনালেন –স্টাডরোডার কাছাকাছি একটি চীনেমাটির বাসন তৈরির কারখানায় কাজ করেন তিনি। সম্প্রতি তাঁর ম্যানেজার তাঁকে ডেকে বলেছেন নতুন মেশিন বসছে শিগগির, হাতের কাজ করার লোক লাগবে কম, তাঁকে দু মাসের বেতন সহ বিদায় দেওয়া হবে। তারপরে তিনি স্টেট পেনশন পাবেন। সেই ভদ্রমহিলার চোখে মুখে দেখেছিলাম এক ঘোর অবিশ্বাস – এখনো দশ বছর বাকি, কেন তাঁকে কাজ থেকে ছুটি দেওয়া হবে ? কাজ কখনো যায় ? তিনি যে সমাজ ও অর্থনীতিক ব্যবস্থায় জন্মেছেন, বড়ো হয়েছেন সেখানে কাজ ও বেতন সকলের প্রাপ্য। যেমন তেমন হোক কাজ একটা থাকবে। দু কামরার সরকারি আবাসন, সমবায়িকা থেকে সবজি জামা জুতো যখন যেমন জোটে। কাল কাজ আছে কি নেই সেই অনিশ্চয়তা তাঁর জীবন চেতনার অঙ্গ ছিল না। তাহলে এসব কি বদলে যাবে ? এবার কি হবে?

    তাঁকে কি করে বোঝাই আমি যেখানে কাজ করি, সেই সিটি ব্যাঙ্কে আমার চাকরির কোন স্থিরতা নেই। চার সপ্তাহের নোটিসে সিটি ব্যাঙ্ক আমাকে বাড়ি পাঠিয়ে দিতে পারে। সরকারি পেনশন পেতে বিশ বছর দেরি। জব সিকিউরিটি নামের কোন বস্তু নেই। কাজে যোগ দেওয়ার দিনেই সিটি ব্যাঙ্ক লিখিয়ে নিয়েছে আমি কোন প্রকারের শ্রমিক সঙ্ঘ, ট্রেড ইউনিয়নের খাতায় নাম লেখাব না ( পশ্চিম জার্মানিতে আমরা সকলে ট্রেড ইউনিয়নের মেম্বার ছিলাম )। কাল কি হবে ভাবি না। অনেক দিন আগে কেউ বলেছিলেন, একমাত্র নিশ্চয়তা এই যে জীবনে কিছুই নিশ্চিত নয় ( ওনলি সারটেনটি ইন লাইফ ইজ দ্যাট ইট ইজ আনসারটেন )। এঁদের সেই চিন্তা, দুর্ভাবনা কখনো ছিল না। এঁরা এখন কোন দুনিয়াতে পা রাখতে যাচ্ছেন ? কি দেবে এই নতুন ব্যবস্থা ?

    একটা পৃথিবী, একটা সমাজ, একটা বিশ্বাস কি ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হতে যাচ্ছে?

    দুজনের দুটি পথ



    বম্বার হ্যারিসের বিধ্বংসী বোমায় বিধ্বস্ত (১৩/১৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৫) ড্রেসডেনের লিবফ্রাউয়েন কিরশে ( চার্চ অফ আউয়ার লেডি / নোতর দাম )
    অতীতের ভগ্নাবশেষের সামনে ভবিষ্যতের স্বপ্ন

    ৯ নভেম্বর ১৯৮৯ সালের সন্ধ্যায় পুবের উত্তাল জনতা পথে নেমেছিলেন, তাঁরা চাইলেন পরিবর্তন, বাক ও প্রেস স্বাধীনতা এবং অবশ্যই আর্থিক উন্নয়ন কিন্তু সেটা ঘটবে কি ভাবে ? দুই দেশের দুই নেতা, হেলমুট কোল ও হান্স মদরো যে আলোচনায় বসলেন ১৯শে ডিসেম্বর, ড্রেসডেনে, তাতে বোঝা গেলো এই দুজনের দুটি পথ দুটি দিকে বেঁকে যাবে। মদরো চাইলেন দুই জার্মানি রইবে দুই স্বতন্ত্র সার্বভৌম দেশ ; পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে পূবে ঘটবে রাজনৈতিক ও সামাজিক সংস্কার, রিফরম, দুই জার্মানি চলবে সমান্তরাল ভাবে রেলের দুটি লাইনের মতন; বড়ো ভাই পশ্চিম জার্মানির কাছে চাইলেন আর্থিক সাহায্য। হেলমুট কোল সে সব শুনতে রাজি নন। মদরোর এই ভাষ্যকে সম্পূর্ণ নাকচ করে জানালেন দুই জার্মানির আশু পুনর্মিলন তাঁর একমাত্র লক্ষ্য সম্পূর্ণ রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ইউনিয়ন। পরবর্তীকালে আধুনিক চিনের কায়দায় ‘ এক দেশ দুই ব্যবস্থা ‘ ( যেমন চিনের হংকং এ গাড়ি চলে রাস্তার বাঁ দিকে, সাংহাই বেজিঙ্গে ডান দিকে !) নয়।



    হেলমুট কোল ও হান্স মদরো ১৯শে ডিসেম্বর ১৯৮৯ ড্রেসডেন
    দুজনের ছবি কথা বলে

    পরবর্তী ছ মাসের মধ্যে পশ্চিম জার্মানির ডয়েচে মার্কের বুলডোজার দেখিয়ে দেবে পুবের অর্থনৈতিক রাজনৈতিক রিফরম হেলমুট কোলের কাম্য নয়, তিনি চান এক জার্মানি, তাঁর নিজস্ব শর্তে।

    ইতিহাসের পরিহাস – যেখানে কোন দ্বিতীয় মতের স্থান ছিল না, সেই প্রাক কমিউনিস্ট দেশ চাইল আলাপ আলোচনা করে, আইন ও সংবিধান বদলে নিজস্ব গতিতে সমাজ ও অর্থ ব্যবস্থার সম্পূর্ণ সংস্কার। তখন মুক্ত চিন্তা ও বাক স্বাধীনতার ধ্বজাধারী পশ্চিম জার্মানি জানালে, ওসব ভুলে যান, রিফরম নয়, রি ইউনিফিকেশান ! মাই ওয়ে অর হাইওয়ে।


    মদরো যা চেয়েছিলেন

    গপশপ

    কর্মজীবনে বহু দেশে ঘোরাঘুরি করার পর আজ নির্ভয়ে বলতে পারি অনেক দেশ দুনিয়ার হাল হকিকত জানবার উপায় সে সব দেশের চায়ের দোকানি বা ট্যাক্সি চালকের সঙ্গে কথা বলা। তাঁরা মেপে জুপে কেতাবি কায়দায় নয়,প্রাণ খুলে গল্প করেন নিজের ডায়ালেকটে।* আপনি আমি কি মনে করলাম তাতে তাঁদের কিছু আসে যায় না। ফাইনান্সিয়াল টাইমস বা ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে এসব তথ্য মেলে না। এখানে পাওয়া যায় আম জনতার পালস, যার অন্য ভার্শন মুজতবা আলী সায়েব বর্ণিত কাবুল /পেশাওয়ার বাজারের গপশপ!

    ভাষায় কুলোলে ( সাংহাই, বেজিঙ্গে চড়ি নি তবে তাইপে একটি বিশাল ব্যতিক্রম, দু বর্ণ ইংরেজি বলতে পারে এমন ড্রাইভার পাই নি) ট্যাক্সিওলার পাশে বসি। বিলেতের কালো ট্যাক্সর ড্রাইভার চালনা করেন ঘেরা টোপের ভেতরে বসে, সেখানে অবশ্য কথা হয় না। তবে এখন এ দেশেও উবার চড়ি, পাশে বসে গল্প করি।

    ছ মাসের বেশি হল বার্লিন দেওয়াল ভাঙ্গা পড়েছে। জার্মানির পুনর্মিলন নিয়ে অফিসে বাজারে কোন চর্চা শুনি না, খবরের কাগজে দুই দেশের নেতাদের আলোচনার খবর পড়ি। এই জার্মানিতে দেখি এক অসীম উদাসীনতা, সে সব ঘটছে দূরে কোথাও, দূরে দূরে। তাহলে আমার বেয়াড়া কৌতূহল মেটায় কে ? ঐ ট্যাক্সিওলা ( টাক্সিফারার )!

    ফুলসবুইটেল বিমান বন্দর থেকে হামবুর্গ যাচ্ছি ট্যাক্সিতে। যথারীতি ড্রাইভারের পাশে বসেছি। কর্ণ মারকটের উসাস্ত্রাসে অনেকটা পথ; কাজেই গল্পের সুতো লম্বা হতে থাকে।

    কোথা থেকে এসেছি, জার্মান কোথায় শিখলাম ইত্যাদি প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ শেষ হলে তিনিই প্রসঙ্গটা তুললেন।

    “ আচ্ছা আপনি তো কাউফমান ( ব্যবসায়ী, বৃহৎ অর্থে যে কোন সেলসম্যান, বাণিজ্যিক ধান্দায় ছুটন্ত মানুষ, যেমন গঙ্গা থেকে গাং !), অনেক ঘোরেন? তা ওইদিকে ( দ্রুইবেন) গেছেন ? “

    পরের কিছু বছর পূর্ব জার্মানির কোড নাম ছিল, দ্রুইবেন।

    স্টাডরোডার কাহিনি শোনালাম সংক্ষেপে। উত্তরে ট্যাক্সিওলা আমাকে কমিউনিস্ট বাণিজ্যিক সঞ্চালন ব্যবস্থার ওপরে একটি এম বি এ স্টাইল সিনপসিস ছাড়লেন:

    দেখুন আমাদের দেশে যে কোনো কল কারখানায় বেশির ভাগ মানুষ উৎপাদনের ক্ষেত্রে নিযুক্ত থাকেন, তারপর ধরুন যারা মালপত্র প্যাকেজিং করে, ট্রাকে তোলে, লগিসটিক, পাহারাদার। অফিসে বসে কিছু লোক হিসেবপত্র লেখেন, আপনাদের মতন লোকেরা সেই মাল বিক্রির জন্যে দুয়োরে দুয়োরে চক্কর কাটেন। ওখানে ব্যাপারটা কিন্তু উলটো। আমার কিছু চেনা জানা লোকের কাছ থেকে যেমন শুনেছি, সেখানে কারখানায় কর্মীর চেয়ে পাহারাদার, মেশিনে লুব্রিকেটিং অয়েল চেক করার লোক, কোম্পানির ড্রাইভার এবং তাঁদের সকলকে তদারক করার লোক সংখ্যায় বেশি। একজনকে জিজ্ঞেস করলাম তোমাদের মাল বেচে কে ? সে মানুষ প্রশ্নটা শুনে খুব অবাক হলো – বিক্রি করার জন্য রাস্তায় বেরুতে হবে কেন ? সরকারের এক দফতর বানাবে অন্য কোন দফতর কিনবে।



    ফরফেটিং কনফারেন্স ; সেমপার ; ড্রেসডেন সেপ্টেম্বর ১৯৯৩


    ড্রেসডেনে কনফারেন্সে এসেছি ; সেখানে ব্রিটিশ এয়ার নামে না। লাইপৎসিগে নেমে ট্যাক্সি ড্রাইভারকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, ‘ তিন বছর তো কাটল। এই নতুন ব্যবস্থা কেমন বুঝছেন ?’ তিনি বললেন, ‘ আপনারা শিক্ষিত মানুষ, দেশ বিদেশে ঘোরেন, জানেন অনেক বেশি। আমি সামান্য ট্যাক্সি ড্রাইভার - এইটুকু বলতে পারি আগের আমলে আমাদের দৈনিক প্রয়োজনের জিনিস, যেমন ঘর ভাড়া, ট্রেন বাসের ভাড়া ছিল কম, একটি রুটির রোলের ( ব্রোটশেন) দাম বাঁধা ছিল ১০ ফেনিগে ( আমাদের তিন টাকা), শিক্ষা, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ফ্রি। সব যে চাইলেই মিলত তা অবশ্য নয়। যা আমাদের দৈনিক প্রয়োজনের তালিকায় পড়ত না, যেমন রঙ্গিন টেলিভিশন, নীল জিনস, মেয়েদের সাজ গোজের জিনিস ছিল দুষ্প্রাপ্য, দুর্মূল্য। আজ আমাদের দৈনন্দিন প্রয়োজনের বস্তু যেমন ঘর ভাড়া (তাঁর চারটি সন্তান, চার কামরার ফ্ল্যাটের মাসিক ভাড়া ছিল ৮০ মার্ক বা আমাদের হিসেবে ৩৫০ টাকা,সেটি চারগুণ বেড়েছে বলে জানালেন ) ট্রেন, বাসের ভাড়া, খাদ্য দ্রব্যের দাম সবই বেড়েছে। তবে নিত্য দিনে যার প্রয়োজন কম সে সবের দাম কমেছে যেমন রঙ্গিন টেলিভিশন, নীল জিনস, মেয়েদের সাজগোজের সামগ্রী।

    অর্থনৈতিক পালা বদলের এক সহজ সরল ব্যাখ্যা!

    আরেক ট্যাক্সি ড্রাইভার নতুন মার্কেট আবিষ্কার করে ফেলেছেন। তিনি বললেন,’ গেল মাসে আমি ওদিকে গিয়েছিলাম, এই ভিটেনবেরগ। ট্রেন থেকে নেমে দেখি একটা ঝরঝরে ত্রাবি ট্যাক্সি দাঁড়িয়ে, তার চালক নিজের সিটে বসে সিগারেট ফুঁকছে, খদ্দের খোঁজার কোন আগ্রহ নেই। সারাদিন ঘুরে বুঝলাম শহরে ঐ একটাই ট্যাক্সি। আমার মনে হয় এই যে পরিষেবা, মানে সার্ভিস ইন্ডাস্ট্রির খুব প্রয়োজন ওখানে। আমি ঠিক করেছি পূবেই যাবো,সারা জীবন শুধু ট্যাক্সি চালালাম সেই বিদ্যেটা পূবে প্র্যাকটিস করব। আমার বউকে প্ল্যানটা বুঝিয়েছি সে রাজি ‘।

    আশা করি তিনি এখন কেমনিতস, মাইসেন বা ড্রেসডেনে তাঁর দুধ সাদা মার্সিডিজ গাড়িটি চালাচ্ছেন, যাত্রীকে তাঁর ভিটেনবেরগের গল্প শোনাচ্ছেন।

    দুই অর্থনীতি ?

    স্কটিশ চার্চ কলেজে, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঁটাকল ক্যাম্পাসের ক্লাসরুমে মুক্ত বাজার, পারফেক্ট কমপিটিশন, লেসে ফেয়ার ( Laissez-faire, যেমন খুশি চলুন ) মারক্সিয় অর্থনীতির পাঠ পড়েছি বরেণ্য অধ্যাপকদের কাছে। বিশাল ব্ল্যাক বোর্ডে সাদা চকের লেখায় তাঁরা কেতাবের সকল তত্ত্ব, মাইক্রো ইকনমিকস, হ্যারড -ডোমার গ্রোথ মডেল প্রাঞ্জল ভাষায় আমাদের বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। ফ্রি মার্কেটে সরকারের হস্তক্ষেপ নেই, রেগুলেশান নেই, সকল ব্যাপারীর অবাধ আগমন, নির্গমন ( ফ্রি এন্ট্রি, এক্সিট ), কোনো অদৃশ্য হাতের ( ইনভিজিবল হ্যান্ড ) কল্যাণে চাহিদা ও জোগান এক সমতায় উত্তীর্ণ হয়, আমরা পৌঁছুই পারফেক্ট ইকুলিব্রিয়ামে। এই স্বপ্নে বিভোর কাঁটাকলের এক প্রাক্তনী সেদিন এক জুম আলোচনায় বললেন, পারফেক্ট কম্পিটিশন যেন মোতসারতের সিম্ফনি।

    মারক্সিয় দুনিয়ায় সরকার নিয়ন্ত্রণ করেন সকল উৎপাদনের উপাদান, ব্যক্তিগত মুনাফা নয়, সার্বিক কল্যাণের জন্য চালিত হয় অর্থনীতি; মানুষ পান তাঁদের প্রয়োজন মাফিক, তাঁদের কর্ম ক্ষমতা মাফিক নয়। সব প্রশ্নের উত্তর মেলে, সব পাখি ঘরে আসে। অঙ্কটা মিলে যায়: কুই ই ডি ( Quod erat demonstrandum)।

    সব যেন বুঝে ফেলেছি এই ধরনের নির্মল আনন্দ নিয়ে সাইকেল চালিয়ে সিঁথি থেকে পাইকপাড়া ফিরি।

    প্রায় পাঁচ দশকের ইউরোপীয় অভিজ্ঞতায় দুই ভিন্ন অর্থ ব্যবস্থাকে কাছ থেকে দেখে মনে হলো কেতাবি অর্থনীতির সঙ্গে কিছুই যে মেলে না!

    এই ফ্রি মার্কেটে রাষ্ট্রের লম্বা হাত দখল করে রাখে অনেক কিছু ; জার্মান ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার ৪৫% আজও সরকারি মালিকানার অধীনে,, সুইডেনের এক তৃতীয়াংশ নাগরিক সরকারি সেক্টরে কাজ করেন, দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পরে ফ্রান্সের ব্যাঙ্কিং ব্যবসা পূর্ণ রাষ্ট্রায়ত্ত ছিল চল্লিশ বছর, স্টকহলম বা গথেনবেরগে সন্ধ্যে ছটার পরে কোন দোকানে বিয়ার কেনা যায় না, এই সেদিন অবধি পশ্চিম জার্মানিতে তিনটে রঙের টেলিফোন রিসিভার ভাড়া পাওয়া যেতো কিন্তু কেনা যেতো না, নরওয়ে অস্ট্রিয়ায় সন্ধ্যে ছটায় দোকান বন্ধ, সংবিধানে স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মৌলিক অধিকার দিয়েও ব্রিটেনের জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা জরুরি চিকিৎসার জন্য ছ মাস অপেক্ষা করতে বলে, এককালের অবৈতনিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার বাৎসরিক ফি এখন দশ হাজার পাউনড, বিদেশি ছাত্রদের দেয় তার তিন গুণ, সরকারের অনুমোদন ব্যতিরেকে কোন সমুদ্র বা বিমান বন্দরের কেনা বেচা হতে পারে না, একদিনে কোনো কোম্পানির কত সংখ্যক শেয়ার বিক্রি হতে পারে সেটি বিধি বদ্ধ, কয়েক বছর আগে অবধি লুফতহানসা বিমান বার্লিনে নামতে পারত না। তালিকা অতি দীর্ঘ।

    বাক স্বাধীনতা গণতন্ত্র ইত্যাদি শৌখিন ব্যাপার স্যাপার না থাকলেও শ্রমিক কৃষকের স্বর্গরাজ্যে কিছু সুলভ বস্তু ছিল। যেমন লোকাল কল, খুবই সস্তা। কিন্তু আমার কালের কলকাতার মতন পূর্ব জার্মানিতে টেলিফোন একটি দুর্লভ বিলাস সামগ্রী । হাইকের বাড়িতে টেলিফোন আসে ১৯৯১ সালে। ত্রাবান্ত গাড়ি অর্ডার করে পাওয়া অবধি বছর দশেক সময় লাগে। বাড়ি তৈরি বা মেরামতের চুন মশলা পেতে চুল পেকে যায়, হয়তো সেই কারণে পূর্ব জার্মানিতে কেন গোটা পূর্ব ইউরোপে প্রথম দর্শনেই মনে হয়েছে সব বাড়ির অতি সত্ত্বর চুনকাম আবশ্যক। কাচের জানলার অবস্থা এমন শোচনীয় ছিল যে দুই জার্মানির পুনর্মিলনের উল্লসিত হয়ে আঙ্গেলা মেরকেল ৯ই নভেম্বর রাতে দেওয়াল পেরিয়ে পশ্চিম বার্লিনে ঢুকে বলেছিলেন, যাক এবার আশা করি জানলাগুলোতে দু প্রস্থ কাঁচ লাগান হবে ( ডাবল গ্লেজিং )।

    সে আমলে প্রাইমারি থেকে বিশ্ববিদ্যালয় অবৈতনিক। ডাক্তার ওষুধ কাগজে কলমে ফ্রি কিন্তু সর্বদা সুলভ নয়, অনেক প্রয়োজনীয় বস্তু মেলা ভার – মাখন চিনির জন্য লাইন দেওয়া সাপ্তাহিক রুটিন, কখনো বা শুধু লাইন দিয়েই দাঁড়ানো – যদি কিছু পাওয়া যায়, যেমন কলা (পূর্ব জার্মানিতে কলা ছিল দুষ্প্রাপ্য )**! পুব থেকে পশ্চিমে কাজ করতে এসেছেন এমন লোকেরা ৪৫ মিনিটের লাঞ্চ ব্রেক দেখে অত্যন্ত ক্ষুদ্ধ হয়েছেন- এই সময়টা তো দোকানে লাইন দিয়ে বা ঘুরে কোথায় কি পাওয়া যাচ্ছে বা যেতে পারে তা দেখার সময় ! আজ যদি কলা এসে থাকে কাল তা আর কি পাওয়া যাবে ?

    দুই সিস্টেমের দেখা সাক্ষাৎ হচ্ছে বটে, তবে তার পেছনে অনেক দ্বিধা অনেক সংশয়। ক্রমশ সেটা অন্য আকার ধারণ করবে কি ? কি তার চেহারা হবে?

    তখন খেলার মাঠে

    খেলার মাঠে পূর্ব জার্মানির দোর্দণ্ড প্রতাপের কথা শুনে এসেছি দেশে থাকতেই, বিশেষ করে অলিম্পিকের অঙ্গনে। থুরিঙ্গিনের গেরা শহরের হাইকে দ্রেকসলার একশ, দুশো, চারশ মিটার দৌড়ে অসম্ভব সফল, তাঁকে মহিলা জেসি ওয়েনস বলা হতো। স্কেটিঙে কাতারিনা ভিত পর পর দুবার স্বর্ণপদক জেতেন। রোলানড মাথেস সাঁতারে মার্ক স্পিতসকে পাল্লা দেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষে দেশ ভাগ হয়ে গেলেও ১৯৬৬ সাল অবধি অলিম্পিকে অংশ নিয়েছে অবিভক্ত জার্মানি। পরের ছটি অলিম্পিকে মাত্র দেড় কোটি মানুষের দেশ জার্মান ডেমোক্রাটিক রিপাবলিক অলিম্পিকের মেডাল তালিকায় একেবারে ওপর দিকে। ১৯৮৮ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পরেই বিশ্বের দ্বিতীয়,তৃতীয় স্থানে আমেরিকা, পশ্চিম জার্মানি পঞ্চম। ১৯৯২ সাল থেকে মিলিত জার্মানি অলিম্পিকের লিগ টেবিলে কখনো তিন নম্বরে পৌঁছুতে পারে নি।

    ফুটবল দিয়ে অনেক সময় আমি অর্থনীতিকে বোঝার চেষ্টা করেছি। কেন ইংল্যান্ডের আর জার্মানির সিনিয়র লিগের দশটা টপ টিম একশ মাইলের ভৌগোলিক বলয়ের ভেতরে পড়ে অথচ ফ্রান্সে তারা ছড়িয়ে আছে গোটা দেশে তার বাজারি ব্যাখ্যা খুঁজে বের করেছি।

    ফুটবল জার্মানদের রক্তে, সত্যিকারের ফুটবল পাগল দেশ। ১৯৯৮ সালে ফুটবল বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে ৩-০ গোলে হেরে গেলে জার্মান বিলড পত্রিকা লেখে, কি লজ্জার এই হার ! জার্মানিতে পেশাদারি অ্যামেচার সব ক্লাব মিলিয়ে রেজিস্টার্ড ফুটবল খেলোয়াড়ের সংখ্যা ক্রোয়েশিয়ার মোট জনসংখ্যার চেয়ে বেশি (৩৫ লক্ষ )।

    যুদ্ধের আগে বা পরে পূর্ব এবং পশ্চিম জার্মানিতে ফুটবল লিগের গঠন ছিল একই রকম: টপ লিগ বা ওবারলিগা ( যেটা পরে পশ্চিমে বুন্দেসলিগাতে পরিণত হয় ) তার নিচে রিজিওনাল লিগ। পুবের টিমগুলি বেশিরভাগ কোন কারখানার ক্লাব যেমন কার্ল তসাইস ইয়েনা (Carl-Zeiss Jena) এনারগি কটবুস।

    লক্ষ করেছি অনেক টিমের নামের আগে ডিনামো লেখা থাকে যেমন ডিনামো ড্রেসডেন, জাগ্রেব, বুকারেসট ইত্যাদি। পরে জানলাম এই নামকরণ করেছিলেন কে জি বির আদি পিতা ফেলিক্স ঝেরঝিন্সকি ; তাঁর লক্ষ্য ছিল খেলাধুলার অঙ্গনে ডিনামো ( গ্রিক-শক্তি) নামক একটি সংগঠন গড়ে তুলে অল্প বয়েস থেকেই ছেলে মেয়েদের খেলার মাঠে একত্র করে কমিউনিজমে দীক্ষা দান (১৯২৩ ) প্রথমে ফুটবল পরে ভলিবল বাস্কেটবল সহ আরও চল্লিশটি ডিসিপ্লিন এর অন্তর্ভুক্ত হয়। এর দশ বছর বাদে নাৎসি নেতৃত্বে শুরু হয় এক প্রোজেক্ট, তার নাম ক্রাফট দুরখ ফ্রয়ডে ( আনন্দ হতে শক্তি), খেলোয়াড় ও অ্যাথলিটদের একত্রে খেলা ধুলা, ক্যাম্প, টিম বিল্ডিং, ছুটি কাটানো সেই সঙ্গে নাৎসি দর্শন শিক্ষা. তার প্রতিষ্ঠাতা রোবারট লাই (নুরনবেরগ বিচারের সময়ে আত্মহত্যা করেন) কমরেড ঝেরঝিন্সকিকে কপি রাইটের সম্মান দিয়েছিলেন বলে জানা যায় নি। এ ধরনের প্রতিষ্ঠান আজ অবশ্য দুনিয়ার সর্বত্র দৃশ্যমানঃ খেলা, লাঠির ব্যায়ামের পাশাপাশি রাজনৈতিক শিক্ষা।



    ঝেরঝিন্সকির ডিনামো মডেল ক্রমশ সোভিয়েত প্রভাবিত বহু দেশে ছড়িয়ে পড়ে।এই মুভমেনটের রাজনৈতিক চরিত্র যাই হোক না কেন, আমরা দেখেছি ইউক্রেন ইউগোস্লাভিয়া রোমানিয়ার ডিনামো নামধারী অনেক ফুটবল টিম পশ্চিমের প্রভূত অর্থে প্রতিপালিত দলগুলিকে নাকানি চোবানি খাইয়েছে। এমন কি ১৯৭৪ সালে পশ্চিম জার্মানি যদিও তার আপন দেশে ফুটবলের বিশ্বকাপ বিজয়ী দল, কিন্তু লিগের প্রথম ম্যাচে তারা পূর্ব জার্মানির কাছে ১-০ গোলে হেরে যায়। সেই পশ্চিম জার্মান দলের একটি খেলোয়াড় গ্যারড ম্যুলারের মাসিক বেতন ছিলো পূর্ব জার্মানির গোটা টিমের বাৎসরিক বেতনের ডবল।

    ১৯৯০ সালের পরে ফুটবল মাঠে পট পরিবর্তন। ঠিক কিসের ভিত্তিতে জানা নেই তবে পূর্বের কয়েকটি মাত্র টিম বুন্দেসলিগায় খেলার অধিকার পেলো : ডিনামো ড্রেসডেন, লোকোমোটিভ লাইপতসিগ, এফ সি মাগদেবুরগ এবং হানসা রসটক। পশ্চিমের ফুটবল টিমগুলির অর্থ অঢেল, যে কোন দেশের রাইজিং স্টার ফুটবলারকে তারা মাঠে নামাতে পারে। পাঁচদিন কাজ করে শনি রবিবার দু ঘণ্টা ফুটবল পেটানো কল কারখানার ফিটার টারনার নিয়ে তৈরি টিমগুলি বছর দুয়েক কোনমতে টিকে ছিল বুন্দেসলিগার নিচের তলায়। শক্তিমান ডয়েচ মার্কের মতন পশ্চিমের অফুরন্ত অর্থ পূর্বের দলগুলিকে ঝেটিয়ে বিদেয় করে দেয়। বুন্দেসলিগায় এখন যে ১৮টি দল খেলে সেখানে এখনো লাইপতজিগের নাম দেখা যায়। তবে সেটা কোন কারখানার ক্লাব নয়, সোভিয়েত স্টাইল ডিনামো বা লোকোমোটিভ লাইপতসিগ নয়, সে দল মাত্র ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘ রেড বুল লাইপতজিগ’ ! সফট ড্রিঙ্কের বাজারে কোকা কোলা ও পেপসির পরে তৃতীয় স্থানে আছে অস্ট্রিয়ার এই লাল ষাঁড়। তাঁরা লাইপতসিগে টিম বানিয়ে তার পেছনে অর্থের বন্যা বইয়ে দিয়েছেন। লাইপতজিগ শহরে দ্বিমত আছে, কেউ কেউ, বিশেষ করে বয়স্ক লোকেরা মনে করেন ফুটবল কেবল টাকার খেলা হতে পারে না, হওয়া উচিত নয়; অন্যদিকে কিছু লোক বলেন এই লাল ষাঁড়ের দৌলতে ফুটবল মাঠে গোটা পূর্ব জার্মানির অন্তত একটা শহরের নাম লোকে জানতে পারে।



    রেড বুল লাইপতজিগ

    প্রসঙ্গত, শেষ বার ফুটবল বিশ্বকাপ বিজয়ী ( ২০১৪, ব্রাসিল ) জার্মান দলে খেলেছেন পুরনো পূর্ব জার্মানিতে বেড়ে ওঠা মাত্র একজন - টোনি ক্রুস।

    আমার আট বছরের ফ্রাঙ্কফুর্ট প্রবাসকালে মোহনবাগানের স্বপ্ন মাথায় রেখে স্থানীয় টিম আইনত্রাখত ফ্রাঙ্কফুর্টের মাঠে গেছি, এমনকি দাদার ( তখন ৬২) সঙ্গে কংক্রিটের গ্যালারিতে বসে বায়ার লেভারকুসেনের খেলা দেখেছি, বোতলের বোতল রোয়েমার পিলস বিয়ার খেতে খেতে ( ইংল্যান্ডে বোতল হাতে সিটে বসা বারণ )। বুন্দেসলিগার মাঠে পুত্র কলত্র সহ পিতামহেরা আসেন – ফুটবল মাঠে কোন অশান্তি দেখিনি, শুনি নি। ১৯৮৫ সালে লন্ডনে এলে আমার তৎকালীন স্ত্রী আমাকে বলেছিলেন জানি তুমি ফুটবল ভালোবাসো কিন্তু এ দেশের মাঠে যেও না। মার দাঙ্গা লেগে থাকে সেখানে। ইংলিশ ফুটবলে ( স্কটিশ হল এক অনারেবল একসেপশন ) ভাওলেন্স তখন তুঙ্গে, খুনোখুনি লেগেই আছে। সে ছবিটা বদলাল ১৯৮৯ সালের হিলসবরা স্টেডিয়ামে দুর্ঘটনার পরে । লিভারপুল বনাম নটিংহ্যাম ম্যাচে অতিরিক্ত দর্শক, গেট এবং পুলিস ব্যবস্থা বিধ্বস্ত, ৯৭ টি তরুণ প্রাণ সেদিন হারিয়ে যায়। তদন্তের পরে স্থির হল এবার থেকে কোন ফুটবল মাঠে দাঁড়িয়ে খেলা দেখা যাবে না, অল সিটার স্টেডিয়াম। সকলকে চোখে চোখে রাখবে পুলিস। ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ১৯৯৬ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে একটিও অপ্রীতিকর ঘটনার কথা শোনা যায় নি।

    পুনর্মিলিত জার্মানির ফুটবল স্টেডিয়ামে ততদিনে দেখা দিয়েছে ছুরি চাকু, খেলার দিনে বিরোধী দলের সমর্থকের বিরুদ্ধে পথে ঘাটে তাণ্ডব। সেগুলি ঘটছে ড্রেসডেন গেরা এরফুরট নয়, পশ্চিমের স্টেডিয়ামে - ব্রেমেন, হামবুর্গ, মনশেনগ্লাডবাখ, কলোন, ডুসেলডরফে। ১৯৯৮ সালে ফ্রান্সের বিশ্বকাপ ফুটবলে বিভিন্ন দলের সাপোরটারদের গেরিলা লড়াই পৌঁছুল অন্য লেভেলে। ফুটবল জগতের সবচেয়ে কুখ্যাত হুলিগান ইংরেজের সঙ্গে সমানে পাল্লা দিলো জার্মান সমর্থক বাহিনী। ফরাসি ও জার্মান খবরের কাগজ লেখে প্যারিস মার্সেইতে জার্মান লড়াকু বাহিনীর অপারেশন ছিল মোবাইল ফোন দিয়ে চালিত, নিখুঁত তার প্ল্যানিং।

    কেমন করে যেন বদলে গেল আমার চেনা মুখ, চেনা পথ।

    পূর্ব ইউরোপের দুয়োর খুলে গেছে। পোল্যান্ড থেকে চেক হাঙ্গেরি ক্রোয়েশিয়া চক্কর কাটি কিন্তু জার্মানির নব লদ্ধ ছটি প্রদেশে সিটি ব্যাঙ্কের বিজনেস নেই। আমি দূর হতে তাকে দেখি, বছরের পর বছর কেটে যায়।

    বর্তমান অবকাশটি খুব আনন্দের না হলেও ঐতিহাসিক থুরিঙ্গিয়াতে গোয়েথে স্মৃতি বিজড়িত বাদ বেরকা যাবার সুযোগ জুটল।

    পু:

    হাইকের সঙ্গে প্রথম দেখা এবং স্টাডরোডার সেই দীর্ঘ সন্ধ্যাটির বিশদ বর্ণনা এবং ট্যাক্সিওলাদের সঙ্গে নানান বারতালাপের বিশদ বর্ণনা আছে মৎপ্রণীত ‘আমার জার্মানি’ এবং ‘ পূর্ব ইউরোপের ডায়েরি, ১ম খণ্ডে ‘।

    *ব্যতিক্রম অবশ্যই আছে। নানা অবসরে ট্যাক্সি চালক ও আমার ধারা বাহিক সম্বাদে উদ্বুদ্ধ হয়ে তিউনিসিয়ার হামামেত থেকে টিউনিস শহর যাবার পথে আমার স্ত্রী রোদিকা ফরাসি ভাষায় ড্রাইভারের সঙ্গে গল্প শুরু করতেই ধাক্কা খেল - এ দেশের এত রাস্তার নাম ৭ই নভেম্বর কেন ? চালক বললেন, সেটা আমাদের প্রিয় প্রেসিডেন্ট বেন আলির জন্মদিন। তিনি এক মহান ব্যক্তি।

    রোদিকা আমার দিকে চেয়ে ইংরেজিতে বললে, কথা বলে লাভ নেই কিছু জানা যাবে না। এ আমাদের চাউসেস্কুর আমলের চেনা বয়ান।

    ** আঙ্গেলা মেরকেল পরে বলেছিলেন পশ্চিমের অহংকার ছিল অসহনীয়। গ্রিন পার্টির নেতা অটো শিলি তখন বলেন পূর্বের লোকেরা কলা খেতে পশ্চিমে আসছে।
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • ব্লগ | ২৮ মার্চ ২০২৫ | ১২৩১ বার পঠিত
  • আরও পড়ুন
    নো  - albert banerjee
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Debanjan | 2409:*:*:*:*:*:*:* | ২৯ মার্চ ২০২৫ ১৭:৫০541979
  • যথারীতি অসাধারণ হয়েছে হিরেনদা l আপনি ঠান্ডা যুদ্ধ আর বিশ্বায়ন এই দুটো দুনিয়াকেই খুবি কাছের থেকে দেখেছেন l খুব সহজসরল ভাবে দুটো দুনিয়ার পার্থক্য তুলে এনেছেন আমাদের কাছে l. AfD এর উত্থানের কারণটা এইবার বোঝা গেলো তাহলে l পূর্ব জার্মানিতে পোস্ট সমাজতন্ত্র রাষ্ট্র মানুষের কাছ থেকে কেড়ে নিলো তার কাজের অধিকার l সেইসঙ্গে চলে গেলো সামাজিক নিরাপত্তা আর রাতের ঘুমও l চলে গেলো তার চেনা পরিচিত ফুটবল মাঠ বুন্দেসলিগার পেটে l প্রকৃতিতে তো শূন্যস্থান কিছুই থাকেনা তাই মানুষের অসন্তোষের জায়গাটা দখল করলো AfD এর মত নব্য নাৎসী দলগুলো l ঠিক ধরতে পারলাম কি দাদা ? আরেকটা পর্যবেক্ষণ l দুই জার্মানী যতদিন আলাদা ছিলো ততদিন দুজনেই ভুরি ভুরি অলিম্পিকের মেডেল আনতো l সমাজতন্ত্র চলে গেলো, দুই জার্মানী এক হয়ে গেলো একই সঙ্গে অলিম্পিকের প্রথম সারি থেকেও তারা মুছে গেলো l রাজনীতি সমাজ আর অর্থনীতির ব্যালান্সের অঙ্কটা মেলাতে পারলেননা দুই জার্মানীর নেতারা l কিন্তু একই সময়ে আরেকটি সমাজতন্ত্রের দেশে এই দুটোই মেলাবার নতুন একটা অঙ্ক কষা শুরু হলো l অলিম্পিকের আর বিশ্ব অর্থনীতিতে সেই দেশটির জয়যাত্রা মোটামুটি অলিম্পিকে মিলিত জার্মানির পতনের সময় থেকেই শুরু হলো l সেই দেশটির নাম, চীন l ঠিক ধরতে পারলাম তো দাদা ?
  • হীরেন সিংহরায় | ২৯ মার্চ ২০২৫ ১৯:১৯541981
  • ধন্যবাদ। নাড়িটি আপনি ঠিকই ধরেছেন! AfD ( Alternative für Deutschland ) পার্টির আদি নাম ছিল Alternative Liste। মানে বিকল্প। কীসের বিকল্প ? আপনি সেদিকেই ইঙ্গিত করেছেন, সঠিক। আগামী পর্বে এর ভেতরে প্রবেশ করা যাবে আপাতত বলা যাক নতুন যে সিস্টেমকে গ্রহণ করতে বাধ্য করা হলো সেখানে আগের মতন কাজের বা বেতনের নিশ্চয়তা নেই। কাল কাজ নাও থাকতে পারে সেটা অভাবনীয় চিন্তা। তাহলে কি পেলাম ? বাক স্বাধীনতা ? সস্তার জিনস? পশ্চিমে আজ সব ছোট মম অ্যান্ড পোপ শপ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে - এঁরা ভাবছেন একটা সরকারি সমবায়িকার দোকানের বদলে পেলাম বৃহৎ মার্কস অ্যান্ড স্পেসারের দোকান? এই পার্টির নামের মধ্যেই সেই ম্যাজিক শব্দ- অলটারনেটিভ, বিকল্প!
    অলিম্পিক মেডেলের প্রসঙ্গটা অবশ্যই চিনের কথা আসে। এখানে আরেকটা প্রসঙ্গ আছে - পরে আমরা জেনেছি পূর্ব ইউরোপের অ্যাথলিটদের মধ্যে ড্রাগের ব্যাপক সম্পূর্ণ সরকারি সমর্থনে প্রচলিত ছিল ( যেটা সোভিয়েত ইউনিয়ন, পরে রাশিয়াতে দেখা গেছে যে কারণে আজ রাশিয়া অলিম্পিকের বাইরে। চিন অর্থনীতির সঙ্গে সঙ্গে খেলাটাকে এগিয়ে নিয়ে গেছে যেমন আপনি বলেছেন। এখানে এখনো অনেক কথা বলা বাকি- কেতাবি নয় যা নিজে দেখেছি শুনেছি তার ভিত্তিতে।
  • দেবাঞ্জন | 2401:*:*:*:*:*:*:* | ২৯ মার্চ ২০২৫ ২২:৩৩541983
  • দাদা আপনার লেখা থেকে আমার মনে আবার আরো একটা প্রশ্ন জেগে উঠলো l তাহলে দেখা গেলো যে, চীনারা সফলভাবে নিজেদের অর্থনীতির উন্নয়ন করতে পেরেছিলেন নিজেদের পলিটিক্যাল সিস্টেমটা টিকিয়ে রেখেই কিন্তু পূর্ব জার্মানী বা ইউরোপের অন্যত্র সেটা সম্ভব হয়নি l পূর্ব ইউরোপে সোশ্যালিস্ট পলিটিক্যাল সিস্টেম তো টেকেইনি উপরন্তু অর্থনীতিরও বিশাল সাস্টেনেবল উন্নয়ন হয়ে গেছে বলা খুবই মুশকিল l এখন প্রশ্ন হচ্ছে, দুটো সমাজতান্ত্রিক সিস্টেম দুরকম ভাবে কি করে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মত একটা ঐতিহাসিক ইভেন্টের মোকাবিলা করলো ? আমি অর্থনীতি বা ভূ রাজনীতি সেভাবে বুঝিনা কিন্তু আমার নিজের মতো করে এনালাইসিস করে তিনটে কারণ পেয়েছি l এক, চীনের বিশাল বাজার আর প্রচুর শস্তায় দক্ষ শ্রমিক পাওয়া l মদরোদের কাছে এই এতো বড় তাসটা ছিলোনা l তং শিয়াও ফিং, বাবা বুশ আর ম্যাগি থ্যাচারকে এই এক বিলিয়ন এর থেকে বড় বাজারের গাজরটা সামনে ঝুলিয়ে হংকংএ ব্রিটিশ অধিকার থেকে বের করে "এক রাষ্ট্র দুই সিস্টেম" জাতীয় নীতি চালু করতে পেরেছিলেন l মদরোর কাছে হেলমুটকে দেবার মত এরকম কোন তাস ছিলোনা l. দুই, চীনের হাতে সেসময়ই তিরিশ চল্লিশটা পরমাণু বোমা আর প্রায় পনেরো লক্ষ সৈনিক ছিলো l অর্থাৎ সামরিক ভাবে নিজেদেরকে রক্ষার ক্ষমতা তং শিয়াও পিঙের ছিলো নিজের হাতেই কিন্তু মদরোদের নিজেদের প্রতিরক্ষার জন্যে তাকিয়ে থাকতে হতো ক্রেমলিনের দিকে l পুরো শীতল যুদ্ধের এটাই ছিলো দস্তুর l গর্বাচেভ এই সিস্টেমটা থেকে হাত তুলে দেবার পরে সমাজতন্ত্রী পূর্ব ইউরোপের সামনে আর কোন অপশনস ছিলইনা l তিন, সাইনো সোভিয়েত স্প্লিটের পরে নিজেরা প্রতিরক্ষা, রাজনৈতিক ও সামরিক ভাবে নিজের পায়ে দাঁড়াতে তং (আর তার আগে মাওকেও ধরা যাক ) প্রায় কুড়ি পঁচিশ বছর সময় পেয়েছিলেন তারা হয়তো সেকারণেই নিজেদের সিস্টেমটার উপরে বিশ্বাসটা পুরোপুরি হারাননি l সেজন্যেই নিজেদের পলিটিক্যাল সিস্টেমটাকে পরিবর্তন না করে অর্থনীতির অঙ্কটা ওরা মেলাতে চেয়েছিলেন l খুব সম্ভবতঃ তং শিয়াও ফিং (বা মাও তার আগে ) সমাজতন্ত্রের কালেক্টিভ সিস্টেমটাকে নিজেদের জাতির উন্নতি ও শক্তি বাড়াবার একটা উপায় মাত্র হিসেবে দেখতেন, সমাজতন্ত্রকে তারা একটা ধর্মবিশ্বাসের মত কোরে দেখেননি কাজেই তারা খোলা মন নিয়ে সিস্টেমিক রিফর্ম করতে পেরেছিলেন l পূর্ব ইউরোপের সমাজতন্ত্রের নেতারা, আমার ধারণা গরবাচেভের পরে অতিরিক্ত সোভিয়েত নির্ভরতার কারণেই হয়তো নিজ সিস্টেমের উপরেই পুরোপুরি বিশ্বাস হারিয়ে সিস্টেমের অন্ততঃ ভালো টেকসই আর কেজো কয়েকটা দিককে আঁকড়ে ধরে রাখতে চেষ্টাই করেননি l এটাই আমার বিশ্লেষণ l আপনার মতের অপেক্ষাটা রইলাম দাদা l
  • হীরেন সিংহরায় | ৩০ মার্চ ২০২৫ ০১:১৭541987
  • ১৯৮৯ সালে চিন ও পূর্ব জারমানির অর্থনীতির মধ্যে বিশাল পার্থক্য ছিল - চিনের জাতীয় আয় আফ্রিকার কুড়িটি দেশের তুলনায় কম। পূর্ব জার্মানির মাথা পিছু আয় সোভিয়েত ব্লকের এক নম্বরে। চিন তার সস্তার শ্রমিক ও একদলীয় শাসনে দেশ গড়েছে তিয়ানানমেন স্কোয়ারের ঘটনার পরে একদলীয় শাসন বজায় রাখতে গেলে অর্থনীতির সংস্কার করতে হয়েছে। সে প্রশ্ন পূর্ব জার্মানির সামনে ছিল না। তারা অনেক ধাপ এগিয়ে, যদিও অনেক অঙ্ক মিলছিল না ১৯৮৩ সালে পূর্ব জার্মানি এক বিলিয়ন ডলার ধার নেয় পশ্চিম জার্মানির কাছে। তাদের ইনফ্রা স্ত্রাকচার ছিল, শিক্ষিত কর্মী বাহিনী এবং কম মাইনেয়। ১৯৮৯ সালে মদরো খুঁজলেন আর্থিক সহায়তা, বদলে দেবেন ব্যক্তি স্বাধীনতা।
    পশ্চিম জার্মানির আন্তর্জাতিক পুলিশির ভার ছিল ন্যাটোর হাতে (পড়ুন আমেরিকার )। পূর্ব জার্মানির পুলিশি সোভিয়েত ইউনিয়নের হাতে - অঞ্চাশ বছরে তার কোন প্রয়োজন হয় নি, কোন পূর্ব জার্মান সৈন্য অন্য দেশে পা দেয় নি। চিনের ভার চিনেরই হাতে। ডিফেন্স খরচা দুই জার্মানির সামনে বিপুল ছিল না তাই ওয়ারশ প্যাক্ট থেকে বেরিয়ে আসাটা সহজ।
    ১৯৪৫ সালের পরে পূর্ব জার্মানিকে দশ বিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ দিতে হয়েছে সোভিয়েত ইউনিয়নকে ( রেপারেশণ) টা সত্ত্বেও তার অর্থনীতি ভেঙ্গে পড়ে নি। এরিখ হোনেকার বলতেন সোশ্যালিজম মানে হল সকলের কাজ থাকেব, বেতন মিলবে খাবার ও বাসস্থান জুটবে, কোন ব্রিজের তলায়ন কেউ শোবে না। এটা তিনি সম্ভব করেছিলেন। কিন্তু প্রশ্ন হল - অঙ্কটা কি মিলছিল ? না, মেলেনি ! বিল ক্লিনটনের উপদেষ্টা জেমস কারভিলের সেই ইলেকশন ক্যাম্পেনের (১৯৯২) ক্যাচ ফ্রেজ - It is the economy, Stupid !
  • MP | 2401:*:*:*:*:*:*:* | ৩০ মার্চ ২০২৫ ১২:২৫541998
  • অনেকে ধন্যবাদ দাদা l দুই জার্মানী আলাদা হয়ে যেসব একক সাফল্যে পেতো অলিম্পিকসে এখন এক হয়ে যাবার পরে প্রায় কিছুই পায়না l এটা কি দুর্নীতি আর নেপোটিসমের ফলে হচ্ছে নাকি এথলিটদের স্কীল লেভেল বা স্বাস্থ্য আগের মত নেই নাকি ভারতে যেমন অন্য খেলার সব রিসোর্স আইপিএল খেয়ে নেয়, জার্মানিতে তেমনি বুন্দেসলিগা অন্য খেলাগুলোর সব রিসোর্সই খেয়ে নিচ্ছে l কি বলেন আপনি ? "দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষে দেশ ভাগ হয়ে গেলেও ১৯৬৬ সাল অবধি অলিম্পিকে অংশ নিয়েছে অবিভক্ত জার্মানি" এইটা কিভাবে সম্ভব হয়েছিলো ? পশ্চিম কি পূর্বের ট্যালেন্টকে তখন মেনে নিয়েছিলো ?
  • হীরেন সিংহরায় | ৩০ মার্চ ২০২৫ ১৭:০১542002
  • যুদ্ধের পরে দুই জার্মানি নিজস্ব অলিম্পিক কমিটি তৈরী করেছিল (১৯৪৮ লন্ডন অলিম্পিকে যুদ্ধ বাধানোর অপরাধে তাঁদের আমন্ত্রণ জানানো হয় নি )। তাদের আলাদা কম্পিট করারই কথা কিন্তু ইন্টারন্যাশনাল অলিম্পিক কমিটি সেটা মানতে রাজি হয় নি, তারা বলে অলিম্পিকে জার্মানি একটাই দেশ। তার প্রতিবাদে পূর্ব জার্মানি ১৯৫২ সালের হেলসিঙ্কি অলিম্পিকে অংশ নেয় নি। IOC তাঁদের সিদ্ধান্তে অনড় দেখে পরের তিনটি অলিম্পিকে ( মেলবোর্ন ১৯৫৬, রোম ১৯৬০, টোকিও ১৯৬৪) পূর্ব জার্মানি রাজি হয় পশ্চিমের সঙ্গে একই জার্মানি পরিচয়ে অংশ নিতে। IOC দুই জার্মানির অলিম্পিক কমিটিকে মান্যতা দেয় ১৯৬৮ সালে, ফলে ১৯৬৮- ১৯৮৮ পূর্ব জার্মানি GDR নামে পশ্চিমের থেকে আলাদা দল হিসেবে নামে।
     
    পূর্ব জার্মানিতে স্পোর্টসের বিশেষ গুরুত্ব ছিল, অন্য পূর্ব ইউরোপীয় দেশের মতন। এ নিয়ে বারান্তরে।
  • পাঠক | 173.*.*.* | ১৯ মে ২০২৫ ০৫:৫২731482
  • জার্মান মিলনের কালে ড্রেসডেনে পুটিনের পোষ্টিং ছিল। ইন্টারভিঊতে পুটিন পরে বলেছে কত শত ডকুমেন্ট সেসময় তাদের পুড়িয়ে ফেলতে হয়েছিল, ফার্নেস পর্যন্ত ব্লাষ্ট করে! তখন পুটিন আদৌ কোন কেউকেটা ছিল না, তার ছোটবেলাও খুবই অনুলেখযোগ্য, পড়শোনাতেও যাকে বলে মিডিওকার ছাত্র! তবে ইনটেলিজেন্সে যোগ দেওয়া ছিল স্বপ্ন, আর ড্রেসডেন তার মনের গঠনকে পরিপূর্ণ রূপ দেয়!
    ঠিক মনে করতে পারছি না হীরেনবাবু ড্রেসডেন প্রসঙ্গে পুটিনের কথা অন্য লেখাগুলিতে কোথাও বলেছিলেন কি না, তাই এখানেই লিখে ফেললাম!
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা খুশি প্রতিক্রিয়া দিন