এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ব্লগ

  • বৈঠকি আড্ডায় আবার - দুই 

    হীরেন সিংহরায় লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ১৫ মার্চ ২০২৫ | ১২৯৫ বার পঠিত | রেটিং ৪ (১ জন)
  • পূর্ব পশ্চিম



    চেক পয়েনট চার্লি : পুব বার্লিনে প্রবেশের দ্বার ১৯৭৮

    আগস্ট ১৯৯৮

    আমার বন্ধু অরটউইনের বাবা হের রুডলফ ক্রাইবিখ ফোন করেছেন
     
    • শুনলাম তুমি বাদ বেরকা যাবে।
    • আজ্ঞে হ্যাঁ। অরটউইনকে দেখে আসি, দিন দুয়েকের জন্য অন্তত।
    • ভালো, আমাদের দেশে কেউ কুয়রে গেলে তার সঙ্গে কোন পরিজন অবধি দেখা করতে যায় না, বন্ধু তো অনেক দূরের কথা।
    • তার একটা কারণ আছে বলে শুনেছি – চিকিৎসকেরা চান না যে রোগীর চেনা জানা লোকেরা এসে বাজে গল্প করে মানসিক প্রশান্তি বিঘ্নিত করুক!
    • গাড়িতে যাচ্ছ ? পারলে একবার ভিটেনবেরগে থেমে যেও, মারটিন লুথারের গিরজে সেখানে।
    • সময় যদি পাই, যাবো।
    • জার্মানির পুনর্মিলনের ( ভিডারফেরআইনিগুং) পরে তুমি কি ওদিকে গেছো ?
    • সরকারি ভাবে সেটি কার্যকরী হবার আগেই গাড়িতে এরফুরট, গথা ঘুরে এসেছি। ওখানে ( চলতি জার্মানে দ্রুইবেন ) আমাদের ব্যাঙ্কের একমাত্র শাখা বলতে বার্লিন, সেখানে যাই। তবে বার্লিন বদলে গেছে অনেক। এ ছাড়া গিয়েছি ড্রেসডেন, লাইপতসিগ গেছি কনফারেন্সে, একবার স্টাডরোডায় পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে।
    • আমি নিজে এ যাবৎ যাই নি। সেখানে গিয়ে কেমন দেখেছ বা বিদেশে থেকে কি রকম খবরাখবর কি পাও জানি না, তবে সাবধানে যেও, খুব সাবধানে। দিনকাল ভালো নয়। তুমি আমার পুত্রবৎ ; খুব লজ্জা ও দুঃখের সঙ্গে বলি অচেনা অন্যমতের বা অন্য রঙের মানুষের সঙ্গে সেখানে বেশ খারাপ আচরণ করা হয় শোনা যাচ্ছে।
    • হের ক্রাইবিখ, জার্মানিকে চিনি কুড়ি বছরের বেশি। এক মুহূর্তের জন্যে নিজেকে বিদেশি বা অবাঞ্ছিত মনে হয় নি। নিজের অজ্ঞাতে কখন যেন এ দেশ আমাকে আপন করে নিয়েছে।
    • বাবা ( মাইন ইউঙ্গে ), সেটা আমি জানি। তবু বলি, তুমি যে জার্মানিকে ভালবেসেছ, যার কাছে অঢেল ভালোবাসা পেয়েছ আর এবার যেখানে যাচ্ছ, সেটা তোমার চেনা জার্মানি নয়। তাদের ভাষা,তাদের চেহারায় কোন আপাত পার্থক্য পাবে না কিন্তু যা শুনছি কেবলই মনে হচ্ছে এ এক অন্য দেশ, তাকে আমি চিনতে পারি না। আপাতত তোমার আবেগ শিকেয় তুলে চতুর্দিকে নজর রেখে ঘোরাঘুরি করো। আমি অরটউইনকেও বলে দিয়েছি।

    লন্ডন থেকে সাবেক পূর্ব জার্মানির এরফুরট, ভাইমার গথার অদূরে থুরিঙ্গেন রাজ্যের বাদ বেরকা নামক একটি ছোট্ট শহরের সানাটোরিয়ামে অরটউইনকে দেখতে যাবো। আগে। ইওহান ভলফগাঙ্গ গোয়েথে থুরিঙ্গিয়াতে দিন কাটিয়েছেন, এরফুরট কে থুরিঙ্গেনের রোম আখ্যা দিয়েছিলেন, কখনো বাদ বেরকা এসেছিলেন আরোগ্যের সন্ধানে। তাঁর নামে নামাঙ্কিত হয়েছে একটি উষ্ণ ঝর্না ( গোয়েথে ব্রুনেন )।

    পাকস্থলীর পীড়ার সঠিক কারণ অনুসন্ধানে অরটউইনের নানান পরীক্ষা নিরীক্ষা হবে সেই সানাটোরিয়ামে। যেখানেই উষ্ণ প্রস্রবণের সন্ধান পাওয়া গেছে, সেখানে সরকারি খরচায় মানুষের বিভিন্ন ব্যাধি নিরাময়ের মানসে এমনি অনেক আরোগ্য নিকেতন তৈরি হয়েছে জার্মানিতে। এর চলতি নাম কুয়র (kur ইংরেজি cure ), প্রস্রবণ নগরী বা গ্রাম হল কুরঅরট (Kurort)। কোন শহরের নামের গোড়ায় বাদ (Bad) থাকা মানেই সেটি কুরঅরট ব্যাতিক্রম ভিজবাদেন (Wiesbaden)।

    গুম্ফ মার্জিত এবং সদা চুরুট শোভিত কট্টর সাম্রাজ্যবাদী চ্যান্সেলর কাউনট অটো ফন বিসমার্ক কখনো মার্ক্সের লেখা পড়েছিলেন কিনা জানা যায় না। তবে এটি অকাট্য সত্য যে তিনি শ্রমিক কৃষককে উৎপাদনের উপাদানের অধিক ভেবে তাদের শারীরিক মঙ্গলের কথা চিন্তা করেছিলেন। ইউরোপের ইতিহাসে তাঁর সরকার প্রথম শ্রমিক স্বাস্থ্য, দুর্ঘটনা বিমার সঙ্গে সঙ্গে সকল নাগরিকের সানাটোরিয়ামে নিখরচায় রোগমুক্তির জন্য আবাস ব্যবস্থা আইনবদ্ধ করেছিল প্রায় দেড়শ বছর আগে। পরবর্তীকালের সকল জার্মান সরকার সেটি মান্য করেছেন। সেই ট্র্যাডিশন সমানে চলেছে।

    হের ক্রাইবিখের সঙ্গে আলাপ শেষ করে ফোন নামিয়ে রাখার পরে মনে হল যেখানে যাচ্ছি সেটাও তো জার্মানি ! আমার বাদ বেরকা যাওয়ার ব্যাপারে তাঁর এই আকস্মিক উদ্বেগের কোন আপাত কারণ খুঁজে পেলাম না।

    প্রাককথন – একটু পিছন ফিরে

    প্রায় দেড় দশক আগের একদিন ফ্রাঙ্কফুর্ট ছেড়ে সপরিবারে প্লেনে গ্যাটউইক, ট্রেনে গোলডারস গ্রিন পৌঁছেছি,পেছনে পেছনে ট্রাকে আমাদের পুঁটলি পোঁটলা এবং গাড়ি। নতুন দেশ, নতুন শহর, সিটি ব্যাঙ্কে নতুন কর্মজীবন শুরু।

    পরবর্তী পাঁচ বছর কর্মসূত্রে বিশেষ যোগ না থাকলেও জার্মানির বাড়িতে গেছি সব ঠিক ঠাক আছে কিনা দেখতে।

    বার্লিন দেওয়ালের পতনের দু মাস বাদে সিটি ব্যাঙ্কে আমার যে নতুন কাজ জুটল একান্ত কাকতালীয়বৎ সেটি ছিল জার্মানি ও সুইজারল্যান্ড কেন্দ্রিক। আমার দীর্ঘ ব্যাঙ্কিং জীবনে এই প্রথম এবং মাত্র বছর দেড়েকের জন্য মিডল মার্কেটের দুনিয়ায় ব্যবসা করতে নেমেছিলাম। বায়ার, বি এম ডব্লিউ, ভিনটারথুর নয়, কাস্টমার সার্চ এজেন্সির সহায়তায়, কখনো টেলিফোন বইয়ের ভরসায় খুঁজে খুঁজে গিয়েছি টুটলিঙ্গেনের ঘড়ির দোকানে , আরাউএর গাড়ি বিক্রেতা বা ফালতসের ঘোড়ার সাজ নির্মাতার অফিসে। প্রায় প্রতি সপ্তাহে উড়তে হয়। জার্মানির ছটি শহরে তখন সিটি ব্যাঙ্কের শাখা প্রশাখা, সুইজারল্যান্ডে দুটি, জুরিখ ও জেনিভায় ( ব্রাঞ্চ ম্যানেজার ফিলিপ হোল্ডারবেকের অফিসের জানলা দিয়ে দেখেছি লেকের মাঝে উচ্ছ্বসিত ফোয়ারা) । প্রায় প্রতি সোমবার জার্মানি বা সুইজারল্যান্ডের কোন বিমান বন্দরে নেমে গাড়ি ভাড়া করে অটোবানে চালাই । সঙ্গে গাড়ি না থাকলে আমাদের হামবুর্গ অথবা মিউনিক ব্রাঞ্চের কর্তা ইওয়াকিম মিষ্ট বা কার্ল জনটাগ অবলীলাক্রমে আন্ডার গ্রাউনড পার্ক হাউসে রক্ষিত ব্যাঙ্কের মূল্যবান মার্সিডিজ গাড়ির চাবি আমার হাতে তুলে দিয়ে বলেছেন, যাও, ব্যাঙ্কের কাজে। ট্যাক্সির খরচা বাঁচাও ! হামবুরগ থেকে লুইবেক যাত্রায় সে মার্সিডিজ গাড়ির স্পিডোমিটারের কাঁটা দুশ ছুঁয়েছে, কোনদিন সকালে দক্ষিণের ফরতসহাইমে চা খেয়ে হামবুর্গে লাঞ্চ মিটিং করেছি ! জুরিখ লেক থেকে জেনিভা লেকের ( ফন ইয়ুরিখার জে বিস গেনফার জে – কানে খুব ঠেকে, হ্রদকে যে কেন সমুদ্র বলে) দুশো সাতানব্বুই কিলোমিটার যে পথটি সুইসরা রেখেছে স্পিড ক্যামেরায় আকীর্ণ করে, সেটি তিন ঘণ্টার কম সময়ে পেরিয়ে এসেছি শুনে আমার সিটি ব্যাঙ্কের তৎকালীন সহকারী, আপ্পেনজেল কানটনের ছেলে হান্স- রুডি নেফের মনে গভীর শঙ্কা জেগেছে (১৯৯০ সালে কথা ) ; তার দৃঢ় ধারণা ছিল কয়েকদিনের মধ্যেই সুইস পুলিশ আমার ভাড়া গাড়ির পশ্চাৎদেশের কিছু ছবির অ্যালবাম আমাকে পাঠাবে। সেটা নিছক কল্পকথা নয়, সুইস পুলিশের কর্মদক্ষতা অসাধারণ। ইরাক- কুয়ায়েত যুদ্ধ সবে লেগেছে, লন্ডনের আই টি ভির ( ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশন) খ্যাতনামা সাংবাদিক জন স্নো কোন মিটিং কভার করতে জুরিখ হাওয়াই আড্ডায় অবতরণ করা মাত্র সুইস পুলিশের জেরার সম্মুখীন হলেন – তাঁর অপরাধ ? দু বছর আগে সুইস প্রবাস কালে তিনি কয়েক ডজন ট্রাফিক পেনাল্টি নোটিসের দণ্ড দেওয়া দূরের কথা তার প্রাপ্তি স্বীকার অবধি করেন নি। সেগুলির কপি তাঁর সামনে পেশ করা হয়- স্নোর পালাবার পথ নাই ! সব বাকি বকেয়া মেটানো হলে জন স্নোকে জুরিখ শহরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।

    মনে রাখা ভালো যদিও তাদের ইউনিফরম সার্কাসের ক্লাউনের মতন, তবু স্বয়ং মহামান্য পোপ তাঁর আপন সুরক্ষার ভার দিয়েছেন সুইস গার্ডের হাতে। ইতালিয়ান প্রহরীর ওপরে পোপের আস্থা নেই।



    বিগত বছরের ছটা মাসের মধ্যে দুনিয়ার দৃশ্যপট বদলে গেছে - দেখলাম তিয়ানানমেন চত্বরের ঘটনাবলী,নেলসন ম্যানডেলার মুক্তি এবং বার্লিন ওয়ালের পতন। দেওয়ালটা ভাঙল বার্লিনে কিন্তু আমাদের ব্যবসার যে খিড়কি দরোজা দ্রুত খুলে গেল ওয়ারশ প্রাগ বুদাপেস্টে, পরে মস্কো ব্রাতিস্লাভা বুখারেস্টে এবং অচিরে আফ্রিকার নতুন খোলা হাওয়ায়, সেখানেই আমার ইনভেস্টমেন্ট ব্যনাকিং জগতে প্রবেশ।

    জার্মানির সঙ্গে অন্তরঙ্গতা বেড়েছে, বেশি করে দেশটাকে জেনেছি।

    মনে পড়ে ১৯৯০ সালের একটা দিন। ব্রান্ডেনবুরগ গেটের সামনে ইট পাথরের দেওয়াল কবে অদৃশ্য হয়েছে। সকাল আটটা নাগাদ বার্লিনের ঊনটার ডেন লিনডেনের হোটেল থেকে বেরিয়ে সেই তোরণের সামনে পদচারণা করার সময়ে দেখি ইংল্যান্ডের হেভারিং স্কুলের ( রমফোর্ড, এসেক্স; আমাদের পারিবারিক বন্ধু মিত্র পরিবারের ছেলে মেয়ে সেখানে পড়েছে ) একটি ঝাণ্ডা তুলে ধরে দুজন শিক্ষিকা এবং জনা বিশেক ছাত্র ছাত্রী নিচু হয়ে পাথুরে রাস্তার দিকে চেয়ে কিসের যেন অনুসন্ধান করছেন। এগিয়ে গিয়ে একজন শিক্ষিকার কাছে জানতে চাইলাম আমি কোন সহায়তা করতে পারি কিনা। ইংরেজি বাক্যি শুনে তিনি উল্লসিত হয়ে বললেন, বার্লিন দেওয়ালটা ভাঙা হয়েছে আমরা সবাই জানি কিন্তু কোনখান দিয়ে সেটি গিয়েছিল, তার ভিত কোথায় ছিল তা কি করে জানা যায় ? এখন তো তার কোন চিহ্ন ( ট্রেস ) অবধি দেখা যাচ্ছে না। কয়েকজনকে আমার ভাঙা জার্মানে প্রশ্ন করে সঠিক জবাব পেলাম না। আমার ছাত্র ছাত্রীরা বার্লিন ওয়ালের পুরনো নিউজ পেপার কাটিং হাতে নিয়ে আগাথা ক্রিস্টির এরকিউল পোয়ারোর স্টাইলে দেওয়াল খোঁজার কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে !



    ১৯৬৪




    ১৯৯০

    জ্ঞানদার ভূমিকায় অবতরণের জন্মগত বাঙালি অভ্যেসটি সহজে যাবার নয়। অবহেলায় অঙ্গুলি হেলন করে বললাম
     
    • এ আর শক্ত কি। নিচের দিকে তাকিয়ে দেখুন, ক্যাটস আইয়ের মতন সারি সারি ছোট্ট পাথর বসানো হয়েছে ঠিক সেই দেওয়ালের ভিত মাফিক। এই চকচকে পাথরের লাইনটি ধরে হেঁটে গেলে স্বচ্ছন্দে অনুমান করতে পারবেন বার্লিন দেওয়াল কোন খান দিয়ে গাঁথা হয়েছিল। তবে মনে রাখবেন দেওয়ালের মোট দৈর্ঘ্য ছিল দেড়শ কিলোমিটার, সর্বত্র এই প্রক্রিয়ায় তার হদিশ পাওয়া যাবে না।

    শারলক হোমস সুলভ এই প্রখর পর্যবেক্ষণ শক্তির জন্য আমাকে ধন্য ধন্য করে তাঁরা দেওয়ালের লাইনটি ধরে এগুলেন।

    ৯ই নভেম্বর ১৯৮৯ সন্ধ্যার উত্তাল বার্লিনের ছবি দেখে আমরা ভুলে যাই তার পূর্ব ও পশ্চিমের মাঝের আগলটি ক্রমশ ঢিলে হয়ে আসছিল। মাত্র কয়েকমাস আগে সোপরন সীমান্তে হাঙ্গেরি ও অস্ট্রিয়ার মাঝের কাঁটা তারের বেড়া কেটে প্যান ইউরোপিয়ান পিকনিকের ডাক দিয়েছিলেন দুই দেশের বিদেশ মন্ত্রী, হাঙ্গেরির ইউয়া হর্ন এবং অস্ট্রিয়ার আলয়েস মক। খাঁচা থেকে ছাড়া পেয়ে বেশ কিছু মানুষ(বেশির ভাগ পূর্ব জার্মান যাদের হাঙ্গেরি প্রবেশে কোন বাধা ছিল না ) সেদিন অস্ট্রিয়া ঢোকেন। ভাগ্যক্রমে হাঙ্গেরি সরকার তার মাস দুয়েক আগে, এপ্রিল মাসে সে বর্ডারের কাঁটা তারের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছিলেন; তাই স্টিলের বৃহৎ কাঁচি দিয়ে সেটিকে ছিন্ন করায় প্রাণ বিপন্ন হবার আশঙ্কা ছিলো না দুই দেশের দুই বিদেশ মন্ত্রীর ! তাঁদের আশঙ্কা ছিল অন্যত্র – কিন্তু মস্কোর ক্রেমলিনের দুর্গাধিপতি মিখাইল গরবাচেভ এই পিকনিককে উপেক্ষা বা অবজ্ঞা করলেন ; ১৯৫৬ হাঙ্গেরির কায়দায় কোন সৈন্য বা সাঁজোয়া গাড়ি পাঠালেন না।

    পশ্চিমের দ্বার সেদিনই খুলেছিল, সেখান থেকে দৃশ্যত কোন মণ্ডা মিঠাইয়ের উপহার আসে নি ; পরিমিত সংখ্যায় হলেও কিন্তু পশ্চিম এঁদের দিল আশ্রয়, অ্যাসাইলাম, সমবেত ভবিষ্যত গড়ে তোলার প্রথম প্রতিশ্রুতি। তাঁরা ঘুসপেতিয়া ছিলেন না, তাঁরা মানুষের আত্মীয়।



    চেনা পূর্ব পশ্চিমের সীমানা একদিন ধুলায় হবে ধুলি । তার সূচনা গ্রীষ্মের সূর্যালোকিত এক দিনে, হাঙ্গেরির সোপরন গ্রামে।

    ২৭শে জুন ১৯৮৯।

    এখানে একটি ব্যক্তিগত স্বীকারোক্তি অত্যন্ত আবশ্যক।

    পূর্ব জার্মান সীমানা থেকে সোয়াশো কিলোমিটার দূরে ফ্রাঙ্কফুর্ট শহরে বাস করেছি আট বছর। আমার পক্ষে পুবে যাওয়া অত্যন্ত সহজ, গাড় নীল রঙের ভারতীয় পাসপোর্টের খাতির ছিল সেখানে। তবু কেন কোনদিন ভাবি নি একবার সে দেশটা দেখে আসি। আজও মনে হয় কোন চেক পোস্টের বেড়ায় নয়, পাহারাদারে ভরা সীমান্তে নয়, লৌহ যবনিকাটি টাঙ্গানো ছিল আমাদেরই মনের ভেতরে। পশ্চিম বার্লিন নামক একটি কাঁটাতার ঘেরা দ্বীপ থেকে পাওয়া বারো ঘণ্টার ভিসায় ‘ওপাড়া ‘ ( পূর্ব বার্লিন) ঘুরে এসেছি মাঝে সাঝে,পারগামন মিউজিয়ামে বাবিলনের গেট, নেফারতিতির মুখোশ, হাতির পিঠে চড়ে জাহাঙ্গীরের বাঘ শিকারের আঁকা ছবি দেখেছি, এমনকি অত্যন্ত সস্তায় – তিন মার্কে- ব্রেখটের তিন পয়সার পালা ( দ্রাই গ্রশেন ওপার )। অন্যের কথা বলতে পারি না তবে আমার বলতে দ্বিধা নেই, ভৌগোলিক বিচারে সামান্য দূরত্বে বাস করলেও ঠাণ্ডা লড়াইয়ের সেই দিনগুলিতে পুবের বিষয়ে আমার জ্ঞান ও কৌতূহল ছিল সীমিত। তাই ঝড়ের রাতে জানলা খুলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘরের ভেতরে কোনো মাতাল হাওয়া বয়ে যেতে দেখলাম না। সাতাশে জুনের কথা কতজনের মনে আছে জানি না। এমনকি ৯ই নভেম্বর ১৯৮৯ কে আজ যেমন যুগান্তকারী দিন বলে মনে করা হয় সেই সময় অকুস্থলের নিকটে থেকেও থেকে আমার তা মনে হয় নি – এসব ঘটছে দূরে কোথাও, যা ছুঁয়ে যায় নি আমাকে। আমি বিদেশি, নিজের দেশেও আমার ছিন্নমূল হবার কোন কাহিনি নেই, আমার কাছে ঢাকা বিক্রমপুর কোন স্থানের নাম, যে নাম বহন করে না কোনো বেদনা। পঁয়তাল্লিশ বছর বাদে বিভক্ত জার্মানির জুড়ে যাওয়াটা কি তাহলে একটা ফুট নোট মাত্র ? কিন্তু আমার তৎকালীন জার্মান সহকর্মীদের মধ্যেও দেখি নি আবেগের উচ্ছ্বাস, মাইসেন বা গেরায় কতদিনের অদেখা কাকা পিসির গল্প অথবা কোন নষ্টালজিক, উদাস দীর্ঘশ্বাস, ’ ‘ আঃ, একে তোমরা সসেজ বলো ? সসেজ হলো থুরিঙ্গেনের, রঙ সাদা আর তার যে কি স্বাদ (গেশমাক)’ জার্মানি আর ভারতভাগ তো ঘটেছে প্রায় একই সময়ে, দু বছরের এদিক ওদিক। আমাদের পেয়ালা বেদনায় ভরে গেছে এঁদের নয়?

    পশ্চিমে কেন এই উদাসীনতা ? যা গেছে তা যাক ?

    মনে আছে ১৯৯০ সালের মাঝামাঝি একদিন সিটি ব‍্যাংক হামবুর্গ অফিসে আমার অত্যন্ত প্রিয় সহকর্মী মাথিয়াসের ( পরে সেটি যে বন্ধুত্বে পরিণত হয় তা আজও অটুট ; এখন তার স্থায়ী বাস অস্ট্রিয়ায় – অসাধারণ বুদ্ধিদীপ্ত চোখ, এমন হাজির জবাব মানুষ জীবনে কম দেখেছি ) সঙ্গে কথা হচ্ছিল -
     
    • মাথিয়াস, শুনেছ আমাদের ব্যাঙ্কের নতুন নেতা ( গুইনটার রেক্সরোড) বলেছেন জার্মানিতে সিটি ব্যাঙ্কের এতগুলো ব্রাঞ্চের কি প্রয়োজন ? হামবুর্গের ব্যবসা তো বার্লিন থেকেই হতে পারে?
    • বার্লিন? সে তো তিন ঘণ্টার ড্রাইভ আর মাঝে দুটো চেক পোস্ট ! মিলিয়ে পাঁচ ঘণ্টার ধাক্কা !
    • মাথিয়াস, জার্মানি এখন একটা দেশ! ওই চেক পোস্ট দুটো উঠে গেছে গত বছরে ! *

    দূর কলকাতার এক মানুষ মাথিয়াসকে মনে করিয়ে দিলো তার দেশ এখন আর দ্বিখণ্ডিত নয়।

    ওয়ারশ প্রাগ মস্কোতে পশ্চিম দেখা দেওয়া শুরু করলো প্লেনে উড়ে আসা বাণিজ্যিক টুরিস্টের বেশে,হোটেলের লবিতে, রঙ্গিন টেলিভিশনে, সহজলভ্য জিনস, ম্যাক্স ফ্যাক্টর মেক আপের রূপে। কিন্তু মিলিত জার্মানিতে পূর্ব ও পশ্চিম, পুঁজিবাদ ও সাম্যবাদের মোকাবিলা হচ্ছে প্রত্যহ রাস্তায় ঘাটে, পাবে, ট্রাফিক লাইটের মোড়ে।

    তবুও পশ্চিম এমন উদাসীন?

    আমার দীর্ঘদিনের পরিচিতা হাইকে থাকে ইয়েনার কাছে, স্টাডরোডায়। পশ্চিমের বাদ হ্যারশফেলডে কাজ ছিল সেখান থেকে আইসেনাখ হয়ে গেলাম তার সঙ্গে দেখা করতে। এই দিনটির কথা ‘আমার জার্মানি ‘বইতে লিখেছি।


    যাত্রা পথ

    জুলাই ১৯৯০।

    অফিসের কাজে হামবুর্গ হতে মিউনিক, কাসেল থেকে আখেন ঘুরি কিন্তু পুবের এই নতুন রাজ্যগুলিতে ( জার্মানে ‘নয়ে বুন্দেসলেনডার ‘) ব্যবসার কোন সুযোগ খুঁজছে না সিটি ব্যাঙ্ক। এখন অপেক্ষা মাত্র। ব্যাঙ্কের খরচায় সেখানে যাওয়া যায় না! এবার গেলাম ব্যক্তিগত ভ্রমণে।

    সরকারিভাবে তখনও দুটো জার্মানি, দুটো আলাদা দেশ, দুটো রাজধানী, মাঝে সীমান্ত কিন্তু সেখানে শ্রমিক কৃষকের স্বর্গরাজ্য হতে পলায়ন প্রয়াসী সন্দেহে মানুষ ধরা ও মারার জটিল যন্ত্রপাতি এখন অচল, মরচে পড়ছে তার ওপরে। কাঁটা তার কাটা পড়েছে কবে। ওয়াচ টাওয়ারে কোন সশস্ত্র সৈনিক পশ্চিম বাগে বন্দুক তাক করে দাঁড়িয়ে নেই বরং পুবকে আউফ ভিডারসেহেন বলে সেই মাচান থেকে নেমে সে ফ্রাঙ্কফুর্ট মিউনিক নুরনবেরগের পয়লা ট্রেন ধরেছে। আমাদের গাড়ির পথে কোন বাধা নেই, কোথাও পাসপোর্ট দেখানোর ঝক্কি নেই।

    এমনকি টাকা বদলানোর ব্যাপারটা অবধি নেই।

    ১৯৯০ সালের জুলাই মাসের প্রথম দিনে জার্মান গণতান্ত্রিক রিপাবলিকের ব্যাঙ্ক নোট ( মার্ক ডের ডে ডে এর – Mark der DDR ) কে জলাঞ্জলি দিয়ে কারেন্সি ইউনিয়নের মাধ্যমে জার্মান যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ ডয়েচে মার্ক মালিকানার এবং ব্যবহারের অধিকার দেওয়া হল পূর্ব জার্মান নাগরিকদের; সে ডে মার্ক কোন সামান্য মুদ্রা নয়, ইউরোপের সবচেয়ে মহার্ঘ্য ভিজিটিং কার্ড ! সেটি দেখালে সব দরোজা খুলে যায়।

    দুই দেশের রাজনৈতিক অর্থনৈতিক একীকরণ সম্পন্ন হবার আগেই এই অতর্কিত মুদ্রা বিনিময় ব্যবস্থা একটি অত্যন্ত বিতর্কিত পদক্ষেপ ছিল। এ বিষয়ে তাত্ত্বিক আলোচনায় না গিয়েও বলা যায়, দুটি স্বতন্ত্র আর্থনীতিক ও সামাজিক ব্যবস্থার মিলনের কোন পারস্পরিক বোঝাপড়ার বা আলোচনার বিন্দুমাত্র সুযোগ না দিয়ে প্রবল শক্তিশালী ডে মার্কের বলে কিনে নেওয়া হল পূর্বের পরিকাঠামোকে। প্রতিবাদের স্থান শূন্য । শক্তিমান ডি মার্কের বিরোধিতা করে যারা, মস্কো চলে যাক তারা, তারা দেশদ্রোহী - এই রব শোনা গেছে পথে ঘাটে। পূর্ব জার্মানদের মূল্যহীন ব্যাঙ্ক নোট, ‘ মার্ক ডের ডে ডে এর ‘ এর বিনিময় হার নির্দিষ্ট হলো ১:১ ভিত্তিতে ( প্রথম চার হাজার পূর্ব জার্মান নোট দিয়ে পাওয়া গেলো সম সংখ্যক ডে মার্ক, তার বেশি হলে বিনিময় হার ২:১ )। নিজেদের হঠাৎ বড়লোক ভাবতে শুরু করলেন পুবের কিছু মানুষ, পদে পদে অনেক ঠোক্কর খাবেন তাঁরা শিগগির।



    শ্লোগান উঠলো -
    ডয়েচ মার্ক যদি পাই, এদেশে থাকবো / যদি ডয়েচ মার্ক না আসে, তোমাদের দেশে যাবো

    এই কারেন্সি ইউনিয়নের বিরোধিতা করেছিলেন পূর্ব এবং পশ্চিমের অনেক বিজ্ঞজন, তাঁদের মধ্যে আমার কাছে সবচেয়ে স্মরণীয় নাম তদানীন্তন জার্মান বুন্দেসবাঙ্কের ( কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক) প্রেসিডেন্ট কার্ল অটো পোল।তিনি চেয়েছিলেন অনেকটা সময়, প্রাথমিক মুদ্রা বিনিময় মূল্যকে ১:১ দরে কখনোই নয়, অন্তত ২:১ দরে বাঁধা এবং ধীরে স্বল্প পরিমাণে মুদ্রা পরিবর্তন । তখন জার্মান পুনর্মিলনের চ্যান্সেলর, ক্ষমতা মদমত্ত হেলমুট কোল সে কথা শোনেন নি তিনি তখন পুবের মানুষদের ‘ প্রস্ফুটিত দেশের ‘ ( ব্লুইহেনডে লানডশাফট ) স্বপ্ন বেচছেন : অন্য দেশে অন্য ভাষায় একেই বোধহয় ‘ অচ্ছে দিন’ বলে।

    প্রতিবাদে কার্ল অটো পোল পদত্যাগ করেন। যতদূর জানি, তিনিই একমাত্র বুন্দেসবাঙ্ক প্রেসিডেন্ট যিনি স্বেচ্ছায় সে চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলেন। ইতিহাস সাক্ষী, কার্ল অটো পোলের সিদ্ধান্ত ছিল সঠিক।

    লন্ডন থেকে ফ্রাঙ্কফুর্ট -ফুলদা দিয়ে গথা, এরফুরট গেলাম আমাদের ভোলভো ৭৪০ গাড়ি চালিয়ে। এই ‘নতুন’ দেশে যে মোটরওয়ে পেয়েছি তা পশ্চিমের অটোবানের সমতুল্য নয় ( বার্লিন যাবার ট্রানজিট অটোবান বাদে )। আসা যাওয়ার দুই পথের মাঝের বেড়া বা ডিভাইডার অনেক জায়গায় ঘাস ও মাটির। স্টিলের গার্ডার বা রেলিং ছিল না। আমার প্রায় পাঁচ দশকের ইউরোপীয় ড্রাইভিং অভিজ্ঞতায় পথের ধারে, পথের মাঝে এমন অসংখ্য বিচূর্ণ, বিধ্বস্ত গাড়ির সমারোহ কখনো দেখি নি, প্রাণ হানির সংখ্যা অবশ্যই আমার অজানা। এতো এক্সিডেন্টের কারণ খুঁজতে খুব বেশি দূর হয়তো যেতে হয় না ; নভেম্বর ১৯৮৯ থেকে পরের ছ মাসে প্রাক্তন পূর্ব জার্মানির পথে দেখা দিয়েছে অজস্র সেকেন্ড হ্যান্ড বিটল, ওপেল, ফোর্ড, বি এম ডব্লিউ। বিগত চল্লিশ বছরে এঁরা চালিয়েছিলেন পূর্ব জার্মানির আত্মনির্ভর কারখানায় বানানো টু স্ট্রোক এঞ্জিনের অপরিশুদ্ধ তেলের ত্রাবান্ত, ওয়ারটবুরগ গাড়ি যাদের অ্যাক্সিলারেটরকে ফ্ল্যাট করে চাপলে তবেই কোনমতে তাদের দ্রুততম গতি, ঘণ্টায় একশ দশ কিলোমিটারে পৌঁছুতে পারে। এঁরাই যখন সেই অভ্যেস মতন পশ্চিমের ওপেল, ফোর্ড বা বি এম ডব্লিউ গাড়ির নাজুক এক্সিলারেটরে পা দাবিয়েছেন, তাদের গতি হয়তো চলে গেছে আয়ত্তের বাইরে। আশে পাশে ধাবমান পূর্ব জার্মান নম্বর প্লেট ধারি সকল গাড়ি আমার ভীতি উৎপাদন করেছে।



    আমার রোমানিয়ান স্ত্রী রোদিকার কাছে শুনেছি গরমের ছুটির সময়ে বাড়ির দাচিয়া গাড়িতে তাদের কৃষ্ণ সাগর উপকূল যাত্রার গল্প : কখনো কোনো খালি রাস্তায় তার মা দু চার মিনিটের জন্য গাড়ির উচ্চতম গতি ঘণ্টায় একশ কিলো মিটারে চালিয়েছেন – যাত্রীদের কাছে সেটি ছিল এক তুমুল রোমহর্ষক উত্তেজনাকর ঘটনা।

    একদা বার্লিন দেওয়ালের এপার থেকে ওপারে সাম্যবাদ ও পুঁজিবাদকে উঁকি ঝুঁকি দিতে দেখা গিয়েছিল। ফুলদা -এরফুরট-গথার পথে চোখে পড়ল পূর্ব ও পশ্চিমের প্রথম সম্মুখ সংঘর্ষ।

    চলবে

    *এই অংশটুকু মৎ প্রণীত ‘আমার জার্মানি’ বই থেকে উদ্ধৃত ( পৃষ্ঠা ১৪৮)



    চেক পয়েন্ট চার্লি বার্লিন ২০১৬
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • ব্লগ | ১৫ মার্চ ২০২৫ | ১২৯৫ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Ranjan Roy | ১৫ মার্চ ২০২৫ ১২:৪৭541706
  • আহা, চলুক! চলুক! স্মৃতি তুমি বেদনা।
    এবং এক ক্রান্তিকালের ইতিহাস।
     
    সেই যে অধ্যাপক অশীন দাশগুপ্ত লিখেছিলেন-- ছোট এবং বড় ইতিহাস; ছোট এবং বড় সময়।
     
    বড় ইতিহাস নিয়ে অনেক বইপত্তর আছে। কিন্তু এই মাইক্রো ইতিহাস!!
  • তাপস বন্দ্যোপাধ্যায় । | 2401:*:*:*:*:*:*:* | ১৫ মার্চ ২০২৫ ২১:৫৭541715
  • হীরেণের জার্মানি নিয়ে লেখা যতবার পড়ি নতুন কিছু পাই। ভাল লাগল।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। না ঘাবড়ে মতামত দিন