এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ব্লগ

  • বৈঠকি আড্ডায় ১৩ 

    হীরেন সিংহরায় লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ১৮ এপ্রিল ২০২৪ | ৮২৭ বার পঠিত
  • বৈঠকি আড্ডায় ১৩

    ভোটাভুটি খরচাপাতি

    পর্ব ৬

    (ভোটে ) যদি লাগে টাকা , দেবে ক্রুপ দেবে থুসেন

    তখন বার্লিনে

    জার্মানির ভাবী পরিত্রাতার দুর্বার জয়রথ ছুটে চলে সারা দেশে। মন্ত্রমুগ্ধ জনতা সভায় হাজির হয় তাঁর দুটো কথা শোনার জন্য – তিনি বারবার বলেন, ক্ষমতায় এলে তিনি জার্মানিকে ফিরিয়ে দেবেন তার গর্ব, ষাট লক্ষ বেকার মানুষকে দেবেন কাজের সুযোগ, দেশ গড়বেন নতুন করে। যুদ্ধে পরাজিত অপমানিত জার্মান জাতিকে দেবেন সামরিক সক্ষমতা। তারা আবার মাথা তুলে জগতসভায় দাঁড়াবে।

    রাষ্ট্রশাসনের অধিকার পেতে হলে অন্তত ৫০.১% (অথবা ২৯১ আসন) জনমতের সমর্থন চাই। নাৎসি ভোটের সংখ্যা ও পার্লামেন্টে সিটের সংখ্যা বাড়ে – ১৯২৪ সালে শূন্য আসন, ১৯২৮ সালে সালে ১২টি আসন ১৯৩০ সালে ১৮.৩৩% ভোট, ১০৭টি আসন। ভাইমার সংবিধানের আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব আইন মোতাবেক গরিষ্ঠতা অর্জন করা ক্রমশ কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। বিশের বেশি দল : অতিবামে কমিউনিস্ট পার্টি তার একটু ডাইনে সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক দল, অতি দক্ষিণে নাৎসি, মাঝে আছে জার্মান জাতীয় দল, ক্যাথলিক পার্টি - তারপরে আছে নানান বর্ণের দল। নির্বাচনের আগে গঠ বন্ধনের বা নির্বাচনের পরে অন্য দলের হয়ে নির্বাচিত সদস্যকে কিনে নেবার রেওয়াজ নেই। একমাত্র গতি সম চিন্তক বা কাছাকাছি চিন্তক দল গুলির সঙ্গে জোট বাঁধা – কোয়ালিশন সেটাও ধোপে টেকে না, দিন দুয়েক বাদে ঝগড়া ঝাঁটি শুরু হয়ে যায়। তখন ফিল্ড মার্শাল রাষ্ট্রপতি হিনডেনবুরগ ফিল্ডে নামেন।

    আনুপাতিক নির্বাচনের ঝামেলা থেকে বেরিয়ে দেশের হাওয়া কোনদিকে বইছে বুঝতে চাইলেন পরিত্রাতা আডলফ হিটলার : ১৯৩২ সালের মার্চে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তিনি ফিল্ড মার্শাল পাউল ফন হিনডেনবুরগের বিরুদ্ধে দাঁড়ালেন। তার আগে অবশ্য একটা ছোট্ট কাজ বাকি। তাঁর চোদ্দ পুরুষে কেউ জার্মান ছিলেন না, এই পবিত্র ভূখণ্ডে কেউ কখনো বসবাস অবধি করেন নি, হিটলার স্বয়ং বে আইনি ভাবে। ১৯১৪ সালে যুদ্ধের বাজারে সালে ব্যাভেরিয়ান সৈন্য বাহিনিতে ঢুকে পড়েছেন সেদিন কেউ কাগজ দেখতে চায় নি। এখন তিনি চাইছেন জার্মান পাসপোর্ট, নইলে দেশের রাষ্ট্রপতি হওয়া যায় না। কাগজে কলমে জার্মান নাগরিকত্ব অর্জন করলেন, বেআইনি ভাবে হলেও জার্মানিতে বাস করেছেন সেই সুবাদে। এন আর সি, সি এ এ টাইপের ঝামেলা কি ভাগ্যে তখন জার্মানিতে ছিল না ।


    ৫৪% ভোট পেয়ে হিনডেনবুরগ বিজয়ী হলেন, হিটলার পেলেন ৩৭% ভোট, কমিউনিস্ট পার্টি, মরিয়া না মরে, তাঁদের নেতা থলমান পেলেন ১১% ভোট। এবার উৎসাহিত হয়ে নাৎসি পার্টি লড়ল ১৯৩২ সালের পার্লামেন্ট ইলেকশন – পার্টির নামে নয়, “ সব ক্ষমতা আডলফ হিটলারকে “ “ এক দেশ এক নেতা “ এই স্লোগানে- পার্টির চেয়ে হিটলার অনেক বড়ো।

    তাঁদের এবার ৩৭% ভোট, ২৩০টি আসন পেয়ে নাৎসি পার্টি দল কিন্তু সংখ্যা গরিষ্ঠ নয়, পার্লামেন্টে কোন আইন পাস করা হয় না; সম্ভব নয়। কয়েক বছর যাবত প্রেসিডেন্ট হিনডেনবুরগ ভাইমার সংবিধানে প্রদত্ত সেই অমোঘ অস্ত্র আর্টিকেল ৪৮ অনুযায়ী ( দেশ চালনা, নাগরিকদের সুরক্ষা ও প্রতিরক্ষার প্রয়োজন বোধে রাষ্ট্রপতি ডিক্রি জারি করতে পারেন- পার্লামেন্টের অনুমোদন ব্যতিরেকে ) কাজ সামলাচ্ছেন। চ্যান্সেলর বদলাতে থাকে : সেন্টার পার্টির ভিলহেলম মার্ক্স ( দু বছর, না তিনি সেই মার্ক্সের আত্মীয় নন ), সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট দলের হ্যারমান ম্যুলার (দেড় বছর ), সেন্টার পার্টির হাইনরিখ ব্র্যুনিং (দু বছর ), নির্দলীয় ফ্রান্তস ফন পাপেন (ছ মাস )

    ফ্রন্ট স্টেজ – ডান দিকের উইং দিয়ে এবার যিনি প্রবেশ করলেন তাঁর নাম জার্মান রাজনীতির ইতিহাসে চিরদিন জড়িয়ে থাকবে আডলফ হিটলার ও নাৎসি অভ্যুদয়ের সঙ্গে।

    জেনারাল কুরট ফারদিনান্দ ফ্রিডরিখ হ্যারমান ফন শ্লাইখার

    নির্দলীয় কিন্তু জার্মান পিপলস পার্টি সমর্থিত রাইখসটাগ সদস্য জেনারাল ফন শ্লাইখার পুতুল নাচানোয় হাত পাকিয়েছিলেন। যুদ্ধ লড়েছিলেন অফিসে বসে, যুদ্ধ মন্ত্রকের মন্ত্রী হিসেবে। প্রথমে ছিলেন সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট কিন্তু তাদের যুদ্ধ বিরোধী ও শান্তি সন্ধানী মনোভাবের কারণে সে দল ত্যাগ করেন। ভয়ানক ভাবে অ্যান্টি কমিউনিস্ট ; খুঁজছিলেন কোন প্রখর জাতীয়তাবাদী পার্টি যারা ভাইমার সংবিধানকে কলা দেখিয়ে সেনা বাহিনী গড়ে তুলতে সাহায্য করবে :তিনি ঝুঁকলেন নাৎসি পার্টির দিকে।

    ১৯৩০ থেকে কোন দলের সংখ্যা গরিষ্ঠতা নেই – অশীতিপর ফিল্ড মার্শাল পাউল ফন হিনডেনবুরগ দেশ চালান ধারা ৪৮ অনুযায়ী; এবার ফন শ্লাইখার মনে করিয়ে দিয়ে বললেন, মাইন হের ফিল্ডমার্শাল, আপনার হাতে যে আরও দুটো ধারা রয়েছে ! ধারা ৫৩ অনুযায়ী ইচ্ছেমত চ্যান্সেলর নিয়োগ করতে পারেন, রাইখসটাগ তার বিরোধিতা করলে ২৫ নম্বর ধারা মাফিক আপনি রাইখসটাগকে ডিসমিস করতেও পারেন। ফন শ্লাইখার কল কাঠি নেড়ে সেন্টার পার্টির চ্যান্সেলর ব্র্যুনিং, সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট ম্যুলার এবং সব শেষে ফন পাপেনকে রাস্তা থেকে সরিয়ে নিজে চ্যান্সেলর বনলেন – ৩ ডিসেম্বর ১৯৩২।

    এতদিন পুতুল নাচাচ্ছিলেন এবার বাঘের ওপরে সওয়ার হয়ে বুঝলেন প্রেসিডেন্সিয়াল ডিক্রি দিয়ে এই জানোয়ারকে সামলানো শক্ত। তার ওপর নিজের শরীরটাও ভালো যাচ্ছে না। এবারে চেষ্টা করলেন নাৎসি পার্টির সঙ্গে সমঝোতা করতে। কিন্তু আডলফ হিটলার নয়, তাঁর সহকারী গ্রেগর স্ত্রাসারকে দলে এনে একটা কোয়ালিশন গড়ে তোলবার। তাতে স্ত্রাসারের পার্টি রাজি না হলে কমিউনিস্ট বাদে অন্য পার্টিদের নিয়ে একটা কোয়ালিশন বানানো যাবে মানে থার্ড ফ্রন্ট ! খবরটা কানে আসা মাত্র হিটলার বললেন, সংখ্যা গরিষ্ঠতা নেই বটে কিন্তু আমার দল রাইখস্টাগে বৃহত্তম – চ্যান্সেলর হবার অধিকার একমাত্র আমার।

    ফন শ্লাইখার হিনডেনবুরগকে বললেন আপনি দফা ২৫ মাফিক রাইখস্টাগকে বরখাস্ত করে নিজেই রাষ্ট্র শাসন করুন না হয়, সংবিধান সে অধিকার তো আপনাকে দিয়েছে। রণক্লান্ত ফিল্ড মার্শাল বললেন, বার দুয়েক করেছি আর সে ঝামেলায় যেতে চাই না। শরীরে কুলোবে না। বরং দফা ৫৩ মেনে কাউকে চ্যান্সেলর বানাতে পারি।

    পুতুল নাচিয়ে অভ্যস্ত জেনারাল ফন শ্লাইখার প্রস্তাব দিলেন ‘ তাহলে হের হিটলারকে কাজটা দিন; তাঁর দলের সংখ্যা গরিষ্ঠতা নেই। রাইখস্টাগে বিল পাস করাতে গেলে জার্মান পিপলস পার্টির সঙ্গে একসাথে কাজ করতে হবে। সে দলের নেতা আলফ্রেড হুগেনবেরগ আর আমি হিটলারকে সামলে রাখব।

    ১৯৩১ সালে প্রথমবার হিটলারের সঙ্গে মিটিঙের পর থেকে ফিল্ড মার্শাল হিনডেনবুরগ হিটলারকে ‘ ঐ অস্ট্রিয়ান কর্পোরাল’ , ‘ বোহেমিয়ান কর্পোরাল’ বলে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য এবং তাঁর অস্ট্রিয়ান ডায়ালেকটে জার্মান শুনে হাসি ঠাট্টা করে এসেছেন। হিটলার জনান্তিকে ফিল্ড মার্শালকে বৃদ্ধ ভাম (আলটার ইডিয়ট) আখ্যা দিতে ছাড়েন নি।

    ছাব্বিশে জানুয়ারি ১৯৩৩ সালে যখন সাংবিধানিক অনিশ্চয়তা তুঙ্গে তখনও হিনডেনবুরগ এক মিটিঙে বলেছিলেন, ভদ্রমহোদয়গণ আপনারা নিশ্চয় আশা করেন না যে আমি সেই অস্ট্রিয়ান কর্পোরালের হাতে দেশ চালানোর দায়িত্ব তুলে দেবো ?

    এবারে গতি না দেখে বললেন, কি দুর্গতি, শেষ পর্যন্ত সেই অস্ট্রিয়ান কর্পোরাল হবে জার্মানির চ্যান্সেলর ?

    ফন শ্লাইখার অভয় দিলেন তাকে বশে রাখার ভারটা আমার ওপরে ছেড়ে দিন -হিটলার একা শাসন করবেন না, ফন পাপেনকে ভাইস চ্যান্সেলর ঘোষণা করুন। নাৎসি পার্টিকে তিনটে বেশি ক্যাবিনেট পোস্ট দেওয়া হবে না-। তবে হ্যারমান গোয়েরিঙকে প্রাশিয়ার হোম মিনিস্টার করা বাদে আর কোন দাবি হিটলার জানাবেন না। আর তিনি চাইলেই বা শুনছে কে ?।

    হিনডেনবুরগের দোলাচল চিত্তের ধন্দ মিটল যখন জার্মান শিল্পপতিরা সরাসরি তাঁকে একটি টেলিগ্রাম পাঠালেন

    “ দেশের চ্যান্সেলরের কাজটা এই মুহূর্তে সহজ নয় কিন্তু এই কঠিন সময়ে জার্মান শিল্পসঙ্ঘ হিটলারের পাশে সর্বশক্তি নিয়ে দাঁড়াবে। “

    ১৯৩১ সালের সাতাশে জানুয়ারি ডুসেলডরফের ইন্ডাস্ট্রি ক্লাবে ফ্রিতস থুসেন যাকে জার্মানির পরিত্রাতা বলে সম্বর্ধনা জানিয়েছিলেন এবং সমবেত শিল্পপতিদের সামনে জার্মানির এক উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ এবং রাজনীতির সঙ্গে অর্থনীতিকে এক সূত্রে বেঁধে দেওয়ার স্বপ্ন যিনি দেখিয়েছিলেন সেই আডলফ হিটলারকে নিঃশর্ত সমর্থন জানালেন জার্মান বাণিজ্যিক জগতের নেতৃবৃন্দ।

    তবে তাই হোক।

    সোমবার তিরিশে জানুয়ারি ১৯৩৩: ছিয়াশি বছরের ফিল্ড মার্শাল রাইখস্টাগে সংখ্যা গরিষ্ঠতা প্রমাণের প্রয়োজন সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে ভাইমার সংবিধানের পঁচিশ নম্বর ধারার বলে কম্পিত হস্তে সই করে অস্ট্রিয়ান কর্পোরাল আডলফ হিটলারকে জার্মান চ্যান্সেলর পদে নিযুক্ত করলেন।

    ভিলহেলম স্ত্রাসের ব্যালকনিতে বিজয়ী নেতা

    গ্রহন লাগার আগে

    ফ্রাঙ্কফুর্ট বিশ্ববিদ্যালয় , জুন ১৯৩২

    বিশ্ববিদ্যালয় দরজা বন্ধ। এটা কোন ছুটির দিন তো নয় ? খুব বেশি গরম পড়েছে তাই ? না, তাও নয়।

    কিছু ছাত্র ব্রাউন নাৎসি ইউনিফরম পরে ক্লাসে আসতে চেয়েছিল। রেকটর বলেছেন এটা পাঠাভ্যাসের পুণ্যভূমি, পলিটিকসের নয়। তৎক্ষণাৎ নাৎসি ইউনিফরম ধারী ছাত্ররা ‘ আমাদের পতাকা উঁচুতে থাকবে’ গান গেয়ে ভাঙচুর শুরু করে। রেকটর বিশ্ববিদ্যালয়ের দরোজা বন্ধ করে দেন। দু দিন বাদে খুলতে হয়।। কালক্রমে হাইডেলবেরগ হামবুর্গ মিউনিক কোয়েনিগসবেরগ মারবুরগ বিশ্ববিদ্যালয়ে, হানোভার ব্রাউনশোআইগের এঞ্জিনিয়ারিং কলেজ – সর্বত্র একই দৃশ্যের পুনরাভিনয় হবে।

    প্রাশিয়ান পার্লামেন্ট , মে ২৫ , ১৯৩২

    এক ন্যাশনাল সোশ্যালিসট ডেপুটি প্রাশিয়ান স্টেট অ্যাটর্নির পদত্যাগ দাবি করলেন – তাঁর অপরাধ ? সেই অ্যাটর্নি কয়েকজন নাৎসি সদস্যকে হত্যার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেছেন। এক কমিউনিস্ট ডেপুটি যেই বলেছেন ‘ নাৎসিদের দল তো খুনিতে ভর্তি’, অমনি তুলকালাম কাণ্ড। হাতাহাতি মারামারি ভাঙচুর চলল। কারো কোন শাস্তি হয় নি। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কয়েকদিন বাদে সেই কাণ্ডের নেতা এক ন্যাশনাল সোশ্যালিসট ডেপুটিকে ভবিষ্যতে পার্লামেন্টে শান্তি বজায় রাখার দায়িত্ব দেওয়া হলো।

    শোয়াইডনিতস , ১৯৩২

    অস্ত্র নিয়ে হাঁটার অপরাধে পল ক্লিঙ্গেল নামের এক কমিউনিস্ট পার্টি মেম্বারের পনেরো মাস কারাদণ্ড হলো।

    জনা দশেক নাৎসি মিলে বাঙ্কাউ গ্রামে বাশি নামের এক ব্যক্তিকে হত্যা করলে বিচারক তাদের বিনা শর্তে মুক্তি দিলেন – বাশি লোকটির চাল চলন সমাজের পক্ষে ক্ষতিকর ছিল।

    মানহাইম , ১৯৩১

    চারজন ন্যাশনাল সোশ্যালিসট বোমা সহ ধরা পড়লে মহামান্য কোর্ট তাদের বেকসুর খালাস করে দেন- তাদের স্বাস্থ্য খারাপ বলে।

    বার্লিন, ১৯৩২

    ১৯৩১ সালে চ্যান্সেলর ব্র্যুনিং শান্তি বজায় রাখতে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পথ চলা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন। এই অভিযোগে ধৃত কয়েকজন ন্যাশনাল সোশ্যালিসট সদস্যের বিচারে জার্মান সুপ্রিম কোর্ট ( রাইখসগেরিখট ) যুগান্তকারী রায় দিলেন – কোন মানুষ যদি মনে করেন তাঁরা পথে ঘাটে আক্রান্ত হতে পারেন তাহলে আত্মরক্ষার্থে যে কোন প্রকারের আগ্নেয়াস্ত্র সঙ্গে নিয়ে চলাফেরা করতে পারেন।

    ( আমেরিকান সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনী – রাইট টু ক্যারি আর্মস! ভাইমার সংবিধানে তার প্রণিধান ছিল না )

    বয়থেন, সাইলেসিয়া ( অধুনা বিটম, পোল্যান্ড ) ১৯৩২

    এক কমিউনিস্ট পার্টি সদস্যকে বিছানা থেকে উঠিয়ে নিয়ে গিয়ে খুন করা হলো সাইলেশিয়ার পাবলিক অ্যাটর্নি বারন ফন স্টাইনেকার বিচারকদের প্রতি অনুরোধ জানালেন তাঁরা যেন দু ধরনের অপরাধের পার্থক্য বিবেচনা করে শাস্তি দেন – কম্যুনিস্টরা রাইখের সম্পদ এবং সংস্কৃতিকে ধ্বংস করতে চায়, এই ন্যাশনাল সোশ্যালিসট কর্মীদের উদ্দেশ্য ছিল দেশের সম্মান ও স্বাধীনতা রক্ষা করা।

    নাৎসিদের ক্ষমতায় আসতে এখনও বছর বাকি

    তখন হাটে বাজারে তিনি দেখান ম্যাজিক
    লুকিয়ে চক এবং ডাস্টার

    কে কত ভোট পেলো তার খবর রাখে কে ? সারা দেশ তখন স্বপ্ন বিক্রেতা এক জাদুকরের খেলা দেখছে, শুনছে।

    পার্টি মিটিং ১৯৩২

    মঞ্চের প্রশ্ন / জনতার উত্তর
     
    • আডলফ হিটলার আমাদের কাছে কিসের প্রতীক ?
    • একটি বিশ্বাসের।
    • আর ?
    • শেষ আশা।
    • আর ?
    • আমাদের একমাত্র নেতা
    সামরিক ব্যান্ড বাজে। এবার নেতা মঞ্চে উঠে দাঁড়ান। মিনিট খানেকের নিস্তব্ধতা। তারপর তিনি বলা শুরু করেন কর্কশ কণ্ঠ, সুর কঠোর।

    এক ঘণ্টা, দু ঘণ্টা, চার ঘণ্টা

    জনতা তাঁর মুখনিঃসৃত প্রতিটি শব্দকে আঁকড়ে ধরে। তাদের নিজস্ব ভাবনা চিন্তা লুপ্ত হয়েছে।

    নেতা একবার থামেন। জনতা দাবি করে আরও কিছু বলুন, আগে কহ আর।

    তিনি বলে চলেন, তার খানিক সত্য, বাকিটা সম্পূর্ণ অবিশ্বাস্য ; কিছু আজগুবি কাহিনি, কিছু অসত্য নাটক।

    কখনো তাঁর কণ্ঠে বজ্র নির্ঘোষ, কখনো তিনি দু হাত জোড় করে অনুনয় বিনয় করেন।

    কখনো কেঁদে ফেলেন।

    তিনি সর্বদা প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করেন- কমিউনিস্ট, ইহুদি, বিদেশি। তিনি কখনো কোন বিশ্লেষণ করেন না, বিতর্কে যান না। কোন তথ্য, কোন প্রমাণিত সত্য তাঁর ভাবনার পথে বাধা হতে পারে না। তাঁর মন্তব্যই শেষ কথা।

    সাধারণ মানুষের খুব কাছে পৌঁছে যান। যেন অত্যন্ত গোপন কথা তাঁদের সঙ্গে যেন ভাগ করে নিচ্ছেন, এমন ভাবে বলেন,

    “ বন্ধুগণ, আমাদের পরিকল্পনা প্রোগ্রাম নিয়ে কোন আলোচনা আমি এখানে করবো না। আপনারা অন্তরে অন্তরে তো ঠিকই জানেন ক্ষমতায় এলে আমরা কি করবো। “

    লক্ষ কি ?

    এক বিপক্ষ এবং সকল প্রতিরোধকে নির্মূলে বিনাশ করা
    দুই ভাইমারে তৈরি সাংবিধানিক বেড়াজাল চূর্ণ করা
    তিন এমন এক দেশ গঠন করা যা হবে হাজার বছর স্থায়ী তৃতীয় সাম্রাজ্য (
    থার্ড রাইখ )

    আম জনতা সম্মোহিত - হিটলার যখন বলছেন, ভেবে চিন্তেই বলছেন।


    পু: এমন ভাবা সম্পূর্ণ ভুল যে কোন একজন মানুষ জার্মান জাতির ওপরে একনায়কত্ব চাপিয়ে দিতে পারেন।জার্মান জাতির বিচিত্রতা গণতন্ত্রের দাবি রাখে - বেনো রাইফেনবের্গ .ফ্রান্কফুর্টার তসাইটুং জানুয়ারি ১৯৩৩

    ঋণ স্বীকার

    জার্মানি পুটস দি ক্লক ব্যাক এডগার মাউরার
    নাৎসি বিলিওনেয়ারস দাভিদ দে ইয়ং
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • ব্লগ | ১৮ এপ্রিল ২০২৪ | ৮২৭ বার পঠিত
  • আরও পড়ুন
    নো  - albert banerjee
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভেবেচিন্তে প্রতিক্রিয়া দিন