এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ব্লগ

  • চব্বিশের পর দুই বছর! 

    bikarna লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ০৬ আগস্ট ২০২৬ | ২০৪ বার পঠিত
  • দুই বছর হল বাংলাদেশের চব্বিশের আন্দোলনের। আমরা এখন কোথায় দাঁড়িয়ে আছি? দুই বছরে কোথায় এসে পৌঁছালাম? একটু দেখা উচিত না? এত রক্ত, এত অশ্রু, এত ত্যাগের বিনিময়ে কী পেলাম আমরা দেখব না? আমরা সোনার বিনিময়ে কী কিনলাম, আমরা কি ফুটন্ত কড়াই থেকে জ্বলন্ত উনুনে পড়লাম? আমাদের দুই বছর পরে এই সব দেখা উচিত না?

    কেমন আছে দেশ বা পরিস্থিতি কেমন এখনকার এইটা বুঝার জন্য কয়েকটা উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। তাহলেই দেশের হাল হকিকত সব পরিষ্কার হয়ে যাবে সবার কাছে। প্রথমেই বলি আমাদের সেনা প্রধানের কথা। তার কথা বললেই সেনা বাহিনীর অবস্থাও বুঝা যাবে। দুই দিন আগে সেনা প্রধান আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন! এই বস্তুর কাজ কী? এ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কোরআন-সুন্নাহর আলোকে জ্ঞান, শৃঙ্খলা, নৈতিকতা, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন আদর্শ নাগরিক গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়। পাশাপাশি জাতীয় ও বৈশ্বিক পরিসরে দায়িত্বশীল নেতৃত্ব তৈরিতেও এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

    দারুণ না? আর কী চাই? সেনা প্রধান ইতোমধ্যে দাড়ি রেখেছেন, স্টাইল মার্কা না, সুন্নতি দাড়ি। এই উদ্বোধনি অনুষ্ঠানে তিনি দেশকে ইসলামি আইনে চলার জন্য দৃঢ় সংকল্প করেন। দেশ বেদআত দিয়ে শেষ হয়ে গেছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এই সব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দেশ আবার ইসলামের আলোতে লাইনে আসবে বলে তিনি মনে করেন। একদম লাইনে। অবসরের পরে তিনি যে ভাড়ায় ওয়াজ করে বেড়াতে পারবেন তা নিয়ে কোন সন্দেহ রাখেন নাই। আমার ধারণা তিনি এই কাজ করতেও পারেন। গতকাল একজনের সাথে চ্যাট হচ্ছিল, ওর পরিবারের সাথে সেনা প্রধানের পরিবারের আগে থেকেই যোগাযোগ ছিল। এই আন্দোলন হওয়ার আগে ইদের মধ্যে ওর ভাই বোন সেনা প্রধানের বাড়িতে গিয়েছিল। সেখানে তিনি শুনে আসছেন যে সেনা প্রধান ট্রাস্ট ব্যাংকের মধ্যে ইসলামি ব্যাংকিং চালুর জন্য চেষ্টা করছে! দেশ কোনদিকে যাচ্ছে একটু বুঝা গেল?

    আমাদের এলাকার যে সরকারি স্কুল আছে সেখানে গত দুই বছর ধরে প্রচুর ইসলামিক জ্ঞান দেওয়ার খবর শুনেছি। একজন হিন্দু হওয়ায় তাকে ক্লাস ক্যাপ্টেন থেকে বাদ দেওয়া হয়। এইটা আমার চেষ্টায় বাতিল হয়। পরিচিত এক সাংবাদিককে পাঠিয়েছিলাম। বলছিলাম তুমি একটু যাও শুধু তাহলে দেখবা ভয় পাবে। তাই হইছে। পরে এই নিয়া আর ক্যাচাল হয় নাই। সেই স্কুলেই আরেক ছাত্র, হিন্দু ছাত্র বাড়িতে নামাজ পড়া শুরু করেছে! এদিকে এই পরিবার বেশ নাম ডাকওয়ালা হিন্দু পরিবার। এরা ভয়ে আঁতকে উঠেছে। কাহিনী কি? স্কুলের কোন এক শিক্ষক তার ব্রেন ওয়াস করেছে। সে এখন বাড়িতে লুকিয়ে নামাজ পড়ে! এই পরিবার আতঙ্কে ছেলেকে নিয়ে ঢাকা চলে গেছে। এখানে থাকবেই না আর। এবং এইটা নিয়ে কোন উচ্চবাচ্যও করেনি তারা। কারণ এই জিনিস ছড়ালে বিপদ বাড়তে পারে। তৌহিদি জনতা যদি জানে যে ছেলে মুসলমান হতে চাচ্ছে আর বাড়ির লোকজন তাকে তা হতে দিচ্ছে না, কেউ আস্ত থাকবে ওই বাড়ির? বাড়িই কি আস্ত থাকবে? কেউ বাঁচাবে না, এইটা মেনে নিয়েই তারা চলে গেছে ঢাকা। ঢাকা চলে যাওয়ার পরে আমি জানতে পারছি কাহিনী হচ্ছে এই! কী চমৎকার না?

    আগেও লিখেছিলাম, আমার পরিচিত অনেকেই ভারতকে কীভাবে যাওয়া যায় এই নিয়ে গুজুরগুজুর ফুসুরফুসুর করে। এইটা এখন তীব্র হয়েছে। এরা জানে না কীভাবে কই যাবে। সবার আত্মীয় থাকে না ভারতে। কিন্তু যার মেয়ে আছে সে এখনই পরিকল্পনা করছে ওদের জীবন যেভাবেই যাক মেয়েকে ভারতে বিয়ে দিয়ে পাঠাবে। পরিচিত তিনজনের মুখে শুনছি যে ওরা যেহেতু নিজেরা যেতে পারবে না তাই যে কোন মাধ্যমেই হোক মেয়েকে পাঠাবে। এইখানে কই রাখব মেয়েকে? সংখ্যালঘুর এই মনস্তত্ত্ব সংখ্যাগুরু কোনদিন কোথাও বুঝেছে? সম্ভবত না। একটা আশার কথা বলতে পারি না। কাকে বলব? যাকে বলব সে আমার থেকে আরও ভালো জানে পরিস্থিতি। আমাকে ২৪ সালে ৫ আগস্টে শাবল হাতে নির্ঘুম রাত কাটাতে হয় নাই, আমাকে একটা টাকা চাঁদা দিয়ে নিরাপত্তা কিনতে হয় নাই। আমি কীভাবে বুঝব তাদের মানসিক অবস্থা? আছে কোন উপায়?

    পিছন ফিরে যখন দেখি তখন আরও ভালো করে বুঝি এখন যে কীভাবে সর্বনাশ ডেকে আনা হয়েছে। সরকার একের পর এক ভুল করে যাচ্ছিল। জনপ্রিয়তা শূন্যের কোঠায়। যত সত্যই তখন বলুক কেউ বিশ্বাস করে নাই তাদের কথা। উল্টো দিক থেকে হাস্যকর গুজবও মানুষ সত্য বলে মেনে নিয়েছে। বিজিবির গাড়িতে হামলা করেছে মানুষ, কেন? ভিতর থেকে হিন্দিতে কথা বলছে মানুষ! এরা সব ভারতীয় সৈন্য! এই গুজবে যে গাড়িতে হামলা হল, বিজিবি বাধ্য হয়েই পাল্টা জবাব দেয়। না হলে নিজেদের জীবন নিয়ে টানাটানি শুরু হয়। ফলাফল লাশ পড়ে কয়েকটা। এই মানুষ গুলোও জুলাই শহীদের মর্যাদা পেয়েছে, গেজেটে নাম উঠে গেছে! এখন বলেন আমাকে এর মানে কী? মৃত্যু নিয়ে কিছু বলা ঠিক না। কিন্তু এমন করেই কেউ জীবন দিলে প্রশ্ন তুলবে না কেউ? আন্দোলনের ওই কয়টা দিন কতজন যে কতবার আমাকে বুঝানোর চেষ্টা করেছে যে ঢাকায় হিন্দিতে কথা বলা লোক দিয়ে উপচে পড়ছে। বেশ অনেক ফেসবুক পোস্ট তখন ভাইরাল হয়ে ছিল যেখানে বলা হয়েছে সে নিজে কানে শুনছে হিন্দিতে কথা বলছে পুলিশ! তার রিকশাওয়ালায়ে ধমক দিয়ে বলছে নিকলো ইহাসে! তখন হাসছি, হেসে উড়ায় দিছি। এখন দেখি এই রকম একটা ফালতু অভিযোগে জীবন দিয়ে দিছে মানুষ! এই ছিল সেই সময়ের অবস্থা। সমন্বয়কেরা ডিবি অফিসে বসে যে বিবৃতি পাঠ করেছিল তা পাতানো ছিল এইটা সবাই বুঝছে। কিন্তু ছড়ানো হল অন্য গল্প। সেখানে বসে থেকে নাকি মোর্স কোড দিয়ে সিগনাল দিয়েছে নাহিদ, সার্জিসেরা! আল্লা গো! এই জিনিসও মানুষ খাইছে, বিশ্বাস করেছে! আমি এই সাধারণ মোর্স কোড জানি না দেখে আমাকে একটু আধটু তাচ্ছিল্যও করা হয়েছে! এখন? মোর্স কোড ছাড়াই হাসনাত জামাতের ফাঁসি খাওয়া নেতাদের জন্য ডুকরে কাঁদে! জামাতের সঙ্গে জোট করে সংসদে যায়। সংসদে বসে রাজাকারদের জন্য শোক প্রস্তাব পাশ করায়।

    শেখ হাসিনার সময়ে লীগের লোকজন বলত বিকল্প নাই। হাস্যকর হলেও তাই সত্য প্রমাণ হয়ে গেল না এই দুই বছরে? গতকাল ( লিখতে লিখতে পাঁচ তারিখ শেষ হয়ে ছয় তারিখে এসে গেছে!) শেখ হাসিনা সরাসরি এই প্রথম সংবাদ সম্মেলন করল। একটা বক্তব্য দিয়েছেন। পরে হালকা চালে কয়েকটা প্রশ্নের উত্তরও দিয়েছেন। বক্তব্যেই উঠে আসছে যে কেন তিনি এখনও বিকল্পহীন। যে দেশকে রাইজিং টাইগার বলা হচ্ছিল সেই দেশ এখন পা ফেলতে হিমশিম খাচ্ছে। বলা হয় লীগের আমলে প্রচুর টাকা পাচার হয়েছে। এইটা বলে একটা অংক শোনানো হয় যা অবিশ্বাস্য। এত টাকা পাচার হয়ে থাকলে দেশের জিডিপি বাড়ত না। গ্রোথ ছিল ছয়, সাত করে যা এখন তিনে নেমে আসছে। এগুলা এমনে এমনেই? নোবেল ম্যানকে নিয়ে সকলের উচ্ছ্বাস ছিল দেখার মত। মহান বিকল্প! তিনি দুইটা বছরে কী দিয়ে গেলেন? প্রচুর অব্যবস্থাপনা, প্রচুর মিথ্যা কথা, প্রচুর বেকারত্ব, প্রচুর কারখানা বন্ধ, প্রচুর মিথ্যা আশ্বাস। তিনি অবলীলায় বলে গেলেন বিদেশিরা সব বাংলাদেশীদের নেওয়ার জন্য বসে আছে। বলেন বিশ্ব এখন বাংলাদেশে আসবে! ছাতাও কেউ আসে নাই। লীগের আমলের যে বিনিয়োগ তাও বন্ধ হয়ে গেছে, নতুন তো আসেই নাই। যে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড গুলো চালু ছিল তা শেষ করতেও দম ফেটে যাচ্ছে বিএনপি সরকারের। টাকা নাই যুক্তি দিয়ে মেট্রো রেলের একটা রুট বন্ধই করে দিল সরকার। আর আছে শুধু এগুলা সব ফালতু উন্নয়ন। মেট্রো রেল ফালতু, পদ্মা সেতু ফালতু, ঢাকার এক্সপ্রেস ওয়ে ফালতু, শুধু শুধু করা হইছে। তো আমরা বিকল্প তো দেখলাম। তাহলে কেন আমি শেখ হাসিনার আমলের সাথে তুলনা করব না? শুধুমাত্র টিকা কেনার ব্যবস্থায় অথর্বের মত আচারণ করায় এখন দেশে আটশর উপরে শিশু মৃত! এর দায় নাই কারো? কেউ প্রশ্ন তুলবে না কেন প্রাণ গেল হামের মত মামুলি একটা রোগে?

    দিল্লীতে শেখ হাসিনা দৃঢ় ভাবেই ডিসেম্বরে ফিরতে চেয়েছেন দেশে। লম্বা বক্তব্যে গত দুই বছরের যে ফিরিস্তি তিনি দিয়েছেন তা অনবদ্য। কোন একটা বিষয় বাদ দেন নাই। তিনি, জয়, নওফেল সবাই বেশ জোরের সাথে বলেছেন একটা কথা তা হচ্ছে বাংলাদেশ নতুন এক পাকিস্তান হতে যাচ্ছে যা এই অঞ্চলের শান্তির জন্য হুমকি স্বরূপ। আমার নানা মতামত নিয়ে আপনাদের দ্বিধা থাকতে পারে। আমি বেশি বেশি বা লীগের পক্ষ নিয়ে বলছি মনে হতে পারে। কিন্তু বিশ্বাস করেন বাংলাদেশ আরেকটা পাকিস্তান হতে যাচ্ছে এইটার মত সত্য আর নাই। দেশে এখন পাকিস্তানি অফিসিয়াল নিয়মিত আসে। তাদের আর্মি অফিসার সকাল বিকাল মিটিং করে। এখনাকার জামাত শিবিরের লোকজন পাকিস্তান যাচ্ছে, সংবর্ধনা নিচ্ছে। এগুলা গেল এক আলাপ। অন্যদিকে দেশের ভিতরে মানুষের মধ্যে আসছে পরিবর্তন। পরিচিত মুখে এখন প্রায়ই শুনি দেশটাকে ইন্ডিয়া ভেঙ্গে দিছে, না হলে দেশ আজকে পারমানবিক শক্তিধর থাকত। আমি এই কথা এলেবেলে কারো মুখে শুনে হতাশ হচ্ছি? না, বেশ বুদ্ধিশুদ্ধি ওয়ালা লোকজন, শিক্ষা দীক্ষা পাওয়া লোকজন মনে করে এখন যে ৭১ সালে আসলে ভুলই হয়ে গেছে। ১৯৭১ সালে ভারতের যে শঙ্কা ছিল দুই দিকে পাকিস্তান নিয়ে। ওইটা এখন আবার ফিরে আসছে। তারেক রহমান চিন সফর করে আসছেন। ভারতের এই প্রান্তে দীর্ঘ সময়ের জন্য শান্তি নষ্ট হয়ে গেছে এইটা নিশ্চিত। ভারত সরকার এই বিষয়টাকে কীভাবে ট্যাকেল করে সেটাই দেখার বিষয়। দিল্লীর সংবাদ সম্মেলনে সাকিব আল হাসান অনলাইনে যুক্ত হয়েছিলেন। এইটা বেশ বড় চমক বলা যেতে পারে। সাকিব শ্রীলঙ্কায় কোন একটা লীগ খেলতেছেন। ম্যাচ শেষে করে গাড়ি থেকেই লাইভে ঢুকেন, পরে হোটেল রুমে এসে লাইভে থাকেন। ফলাফল হচ্ছে মাগুরায় সাকিবের বাড়িতে ককটেল মারা হয়েছে, আগুন দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে! ফাইন না?

    কী জানি লিখব ভেবে বসছিলাম। সব আউলায় গেছে। দেশে নেশার আগ্রাসন আগেও ছিল। কিন্তু এখন! মানুষ চিন্তাও করতে পারবে না এক দেশের তরুণ প্রজন্ম কী পরিমাণ নেশা করে। ইয়াবা নামের যে সর্বনাশা ড্রাগ সবার হাতে হাতে তার বিস্তার কোন পর্যন্ত কেউ কল্পনাও করতে পারবে না। মায়ানমার দিয়ে ঢুকে এই জিনিস। সেখানে টাকার বদলে ইয়াবা কারেন্সি হিসেবে চলে। এদিক থেকে মাল সামান কিনে নেয় বিনিময়ে দেয় ইয়াবা! ছোট ছোট বড়ি হওয়ায় সহজে ক্যারি করা যায়। ঢাকায় আবার নকল ইয়াবা বের হয়েছে। জন্ম নিয়ন্ত্রণের যে ওষুধ তার সাথে এর মিল থাকায় ইয়াবার রঙে রঙ করে বিক্রি করে জন্ম নিয়ন্ত্রণের পিল! ইনুস সরকার বা তারেক সরকার কেউ বলুক তারা এই চ্যানেল বন্ধ করতে একটা পদক্ষেপ নিয়েছে! সংসদে বিএনপির নেতা সরাসরিই বলছে যে অমুক সাংসদের আসন দিয়ে দেশে ইয়াবা ঢুকছে দেধারছে। কেউ দেখার নাই।

    লীগের আমলে এইসব ছিল লীগের ব্যর্থতা। ১৭ বছর ধরে নানা সময় যে দোষ গুলো দেওয়া হয়েছে লীগের ঘাড়ে, এই দুই বছরে এরা প্রমাণ করেছে এই সব দোষ করতে এরা লীগের চেয়ে আরও বেশি পারদর্শী। আমরা তনু হত্যার বিচার দেখতে পাইলাম না, সাগর রুনি হত্যার বিচারের আশেপাশেও যাইতে পারলাম না, তকি হত্যারও কোন দিশা- কূল পাওয়া গেল না। দেশকে ভারতের কাছে বিক্রি করে দিছে লীগ সরকার বলে বলে মুখে ফেনা তুলে ফেলা লোকজন দুই বছরে একটা চুক্তিও দেখাতে পারল না যেখানে মনে হবে আসলেই লীগ এই চুক্তিটা খুব খারাপ করেছে, এর পরিবর্তন হওয়া দরকার। দেখতে পারলে ভালো লাগত। এই গুলো তো দেখতে পারলামই না উল্টো পেলাম দেশকে আক্ষরিক অর্থেই বিক্রি করে দেওয়ার চুক্তি। এমনই বাণিজ্যিক চুক্তি করা হয়েছে আমেরিকার সাথে যে তা নন ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট করে আড়াল করে রাখা হয়েছে। যার আমরা কী দেখছি? কয়েক গুণ দামে গম কেনা হচ্ছে আমেরিকা থেকে, জ্বালানি কেনা হচ্ছে মার্কেট থেকেও অনেক অনেক বেশি দামে। আরও নানা কৃষি পণ্য আসা শুরু করেছে যা আমাদের বাজারে আমরা উৎপাদন করি। কিন্তু এখন আমেরিকান খাইতে হবে। মাংস আসবে আমেরিকা থেকে, খাইতে হবে আমাদেরকে। আরও যে কী কী খাইতে হবে আমেরিকান তা প্রকাশ না হলে আমাদের জানাও হবে না। আপনি অন্য দেশের সাথে চুক্তিও করতে পারবেন না আর। আমেরিকা অনুমতি না দিলে আপনি পারবেন না এখন আরেকটা দেশীর সাথে কোন চুক্তিতে যাইতে। আগে আংকেল স্যাম বলবে যে হ্যাঁ তাইলে হ্যাঁ আর না বললে না। এইটাকে দেশ বেচা চুক্তি না বললে কোনটাকে বলব?

    এমন সময়ে কেমন করে থাকতে হয় জানি না। দেখি নাই তো জীবনে এমন দিন। আজকে প্রথম রাহুল আনন্দ, জলের গানের রাহুল আনন্দ একটা ফেসবুক পোস্ট করেছেন। তার বাড়ি পুড়ে দেওয়া হয়েছিল ৫ আগস্টে। কেন? রাহুলের সাথে কী সম্পর্ক এই সবের? এরপরে তিনি আর একটা শব্দও করে নাই। এই নিয়ে কিছুই বলে নাই। শুধু কোথায় জানি বলেছেন যে এর বিনিময়ে দেশে শান্তি আসলেই হয়! আজকে দীর্ঘ পোস্টের এক জায়গায় তিনি লিখেছেন, -
     
    "পেছন ফিরে তাকাতে ভয় হয়... কদাকার সব কথা আর কাহিনী ভেসে ওঠে... তোমাদের আন্দোলনের স্লোগান ছিল -
    "দাবায়া রাখতে পারবা না", "বঙ্গবন্ধুর বাংলায়—বৈষম্যের ঠাঁই নাই।"
    সেই তোমরাই ৫ আগস্ট পাশবিক উল্লাসে আগুন দিয়েছো বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে !খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে মুছে ফেলেছো মুক্তিযুদ্ধের সব স্মৃতিচিহ্ন! তখনই আমি জেনে গেছি... বুঝে গেছি... পেয়ে গেছি আমার প্রাপ্যটুকু! আমার, নাকি তোমার প্রাপ্য? কে জানে? আজ তোমার সুখের দিন হলেও, আমার জন্য বেদনার... শোকের... শক-এর... সব হারানোর... সত্যের মুখোমুখি হওয়ার...
    কারও প্রতি কোনো অভিযোগ করিনি। বিচার চাইনি...ক্ষতিপূরণ দাবী করিনি। কোনো দুঃখ নেই। বলিনি ন্যায় কিংবা অন্যায়ের কথা। সবকিছু সামলে উঠতেই সময় লেগেছে ঢের! এখনো পোড়া ঘা-এর জমে উঠা হলদে-সাদা পুঁজের দুর্গন্ধে নিজেরই বমি পায়। যা হারিয়েছি, তাও শুধুই আমার নয়। দুষ্প্রাপ্য হাজারো অচেনা বাদ্যযন্ত্রগুলো তোমারও ছিল। শাহ আব্দুল করিম আর উকিল মুন্সী, অবিনাশ শীলের দোতারা ফেরত আসবে না আর কোনদিন! আমার শিক্ষক আইয়ুব বাচ্চুর দেয়া Korg Karma কিবোর্ডটা, আমার গুরু বারী সিদ্দিকীর নিজের হাতের বানানো বাঁশিগুলো...আরো কতো কি... ! সংগ্রহটা বাংলাদেশের ছিল। আগামী প্রজন্ম ছিল এর উত্তরাধিকারী। সারাজীবনের সব সংগ্রহ বা সঞ্চয়, যা হারিয়েছি, তাতে কোনো দুঃখ নেই আর... আছে শুধু অভিমান। আমার গানেও আছে...
    "শিরার শিরায় স্বপ্ন আমার-
    ভীষণ অভিমান"

    প্রতিটা ছত্রে যেন ঠিকরে বেরচ্ছে তীব্র কষ্টের রঙ। পুরো পরিস্থিতিই যেন বলে দিছেন এই কয়েকটা লাইনে। এর চেয়ে সত্য আর কিছু নাই।

    শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফিরলে আর তা যদি অপরিপক্ব হাতে বিএনপি সামলাতে যায় তাহলে দীর্ঘ এক রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতিতে পড়বে দেশ। বিএনপি কি পারবে পরিপক্ব আচারণ করতে? নাকি তাদের নতুন প্রভুর দিকে তাকিয়ে থাকবে নির্দেশনার জন্য? আমরা এবার কই গিয়ে দাঁড়াব?

    https://www.facebook.com/share/p/181k7nZm8P/
     
     

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • ব্লগ | ০৬ আগস্ট ২০২৬ | ২০৪ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • . | ০৬ আগস্ট ২০২৬ ১১:৩১742121
  • শেখ হাসিনার এখন দেশে ফেরা বিপজ্জনক
  • bikarna | ০৬ আগস্ট ২০২৬ ২২:৩৮742129
  • হ্যাঁ, সব দিক থেকেই বিপদজনক। কোন রাজনীতি খেলতে চাচ্ছেন জানি না। কিন্তু মনে হচ্ছে আসবেনই। কালকের আগেও আমার মনে হয়েছে হয়ত দলীয় লোকজনকে উজ্জীবিত করতেই এগুলা বলছেন। কিন্তু কালকে তার বক্তব্য দেখে মনে হল অন্য রকম।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। আদরবাসামূলক প্রতিক্রিয়া দিন