এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ব্লগ

  • বাংলাদেশ সমাচার - ২৩ 

    bikarna লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ২৭ আগস্ট ২০২৬ | ১০ বার পঠিত
  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের তালিকা করা হয়েছে। এরা ফ্যাসিস্টের দোসর এই অপরাধে তাদেরকে তালিকা করে চাকরীচ্যুত করা হবে। বিশাল তালিকা, প্রথমে ২৩১ জনের তালিকা করা হয়েছিল, পরে মানুষজনের চিল্লাফাল্লায় ১২৫ জনে নেমে আসছে নামের তালিকা। এদেরকে ক্যাম্পাস ছাড়া করাই উদ্দেশ। এর মধ্যে হয়ত লীগ পন্থী শিক্ষক আছেন অনেকেই। শিক্ষকদের রাজনীতি করা অপরাধ? তেমন আইন তো বিশ্ববিদ্যালয় করে নাই। তাহলে? তাহলের উত্তর নাই। তাহলের উত্তর হচ্ছে ওরা দোসর।

    যখনই কোন তালিকা হয় তখনই তাতে ভুল হাওয়ারও সম্ভবনা থাকে। কাওকে বিপদে ফেলতে চাও? দাও ঢুকিয়ে এমন একটা তালিকায় নাম, ব্যাস আর কিছুই লাগবে না। তাই বাম রাজনীতি করা কাবেরি গায়েন আছে এই তালিকায়, যিনি শুধু কিছুদিন আগে প্রশ্ন তুলেছিলেন যে মেয়েটার ছবি আন্দোলনের সময় ছড়িয়ে পড়েছিল ভাইরাসের মত সেই মেয়েটা আসলেই আহত হয়েছিল? মুখে তো কোন আঘাতের চিহ্ন দেখা যায় না। সেই মেয়ের ছবি দেখে অনেকেই বিভ্রান্ত হয়েছিল। মিরর ক্যামেরার কারণেই হোক বা যে কারণেই হোক, অনেকেই বুঝতে পারেনি যে আসলেই এই মেয়ে আহত হয়েছিল কি না। কিন্তু এই দেশে জুলাই আন্দোলন নিয়ে প্রশ্ন? এখন চাকরি নিয়া টানাটানি!
    এমন আরেকজন আছেন। যিনি কোন রাজনীতিই করেন নাই। সোনম সাহা। ভদ্র মহিলা ছাত্রদের মধ্যে প্রবল জনপ্রিয়। রাজনীতির ধারেকাছে ছিলেন না। কিন্তু তিনি ফেঁসে গেছেন দোসর কোটায়। তার অপরাধ তিনি চব্বিশের আন্দোলনের সময় যখন ছড়িয়ে পড়ল গুজব যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল গুলোতে গণহত্যা হচ্ছে, ধর্ষণ হচ্ছে মেয়েদের হলে, তখন তিনি বসে না থেকে ক্যাম্পাসের দিকে জান। ছাত্রীরা তাকে ফোন দিয়ে তাদের উদ্বেগের কথা জানালে সেই রাতেই নীলক্ষেত গেট দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঢুকেন। তাকে সেখানে পুলিশ আটকায়, তিনি নিজের পরিচয় দিয়ে অনলাইনে যা প্রচার হচ্ছে তা পুলিশকে জানান। পুলিশ তাকে আশ্বস্ত করেন যে না, এমন কিছু হচ্ছে না। পরে পুলিশই তাকে একটা রিকশা ঠিক করে দেন, তিনি সেই রিকশা দিয়ে পুরো ক্যাম্পাস ঘুরে দেখেন। কোথাও কোন গণহত্যার আলামত না দেখে তিনি বাসায় ফিরে এসে ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস দেন। সেখানে পুরো ঘটনা বর্ণনা করেন। এই হল তার অপরাধ! এত কষ্ট করে গুজব তৈরি করেছে তারা আর সে কি না লিখে সব ভণ্ডুল করে দিতে গেছিল? এখন চাকরি নিয়া টান! যাই হোক, আমরা এখন জানি যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন ছাত্র মারা যায় নাই এই আন্দোলনে। সোনম সাহা মিথ্যা কথা তখন লিখেনি। আর আমি ব্যক্তিগত ভাবে সেদিনই কয়েক জায়গায় যোগাযোগ করি আসল খবর জানার জন্য। সবাই বলছে এগুলা ভুয়া কথা!

    বিজয়ী সব সময় ইতিহাস লিখে, তাই আসলে কিছু করার নাই এখন। এমন অত্যাচার চলবেই এখন। কিন্তু দেশের অবস্থা কী? আমাদের বাড়িতে কোনদিন গ্যাসের অভাব হয় নাই। মানে আমাদের এখানে যে তিতাস গ্যাসের অফিস তার কাছাকাছি থাকায় কোন কারণে গ্যাস বন্ধ হলেও আমাদের চুলায় গ্যাস থাকতই। আমাদের এলাকাতেই গ্যাস থাকত, সমস্যা অনুভব করিনি কখনও। কিন্তু এবার কোন পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই রান্নার গ্যাস অফ হয়ে গেল। সবাই বলাবলি করছে গ্যাস কী হল? লাইনে সমস্যা? গতকাল মাইক দিয়ে কী প্রচার করেছিল যে গ্যাসের লাইনে কাজ হবে, গ্যাস থাকবে না? না। তেমন কিছু নাই। তিতাসের কাছেই গ্যাস নাই, আমরা কই থেকে পাব? পুরো শহর জুড়ে উলটপালট। মানুষ খাবে কী? যাদের সিলিন্ডারের গ্যাস আছে তারা তো রান্না করে খেতে পারছে কিন্তু আমরা? আমাদের তো লাইনের গ্যাস! মানুষ বাধ্য হয়ে রাইস কুকার কিনছে, ইন্ডাকশন চুলা কিনছে! যে হোটেল গুলো লাইন গ্যাসের উপরে নির্ভরশীল তারা অপ করে বসে আছে! আমার এক বন্ধুর মিষ্টির দোকান, বেশ বড় দোকান। ওর তো ব্যবসা করতে হবে, তাই ওর কাছে দুইটার অপশনই ছিল। সিলিন্ডার দিয়া ব্যাকআপ দিত। এখন তো আর ব্যাকআপ না, দৈনিকের ঘটনা! ওর অবস্থা কাহিল, দৈনিক ১২০০০ টাকার গ্যাস লাগে ওর! ব্যবসা চাঙে উঠতে বেশিদিন লাগবে?
    আমরা মফস্বল শহরে থাকায় আমাদের এদিকে বিদ্যুৎ মোটামুটি থাকে। সারাদিনে চার পাঁচ ঘণ্টা লোডশেডিং করে। কিন্তু একটু বাহির হলেই, গ্রামের দিকে, পল্লী বিদ্যুতের আওতায় যারা তারা শেষ! চার পাঁচ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পায় কিনা তা নিয়েই তর্ক করে ওরা! এই যখন অবস্থা তখন আমাদের সরকার প্রধানের কী উদ্যোগ এই ব্যাপারে? তিনি এবং তার পুরো মন্ত্রী সভা এবং তার সমস্ত চ্যালা চামুণ্ডারা এক যোগে প্রচার করে যাচ্ছে আমাদের কোন দায় নাই, সব দোষ লীগের! লীগ গেছে দুই বছর, এখনও লীগেরই দায়!
    লীগের দায় খোঁজার চেষ্টা করলাম। দেখলাম জ্বালানি সঙ্কটে লীগের দায় নাই। কিছুটা দায় আছে নোবেলম্যানের সরকারের। এলএনজি কিনে এনে জাহাজ থেকে নামানোর জন্য দুইটা টার্মিনাল আছে দেশের। দুর্ঘটনা ঘটে দুইটাই এখন বিকল। তাই জ্বালানি কিনেও নামাতে পারছে না সরকার। আচ্ছা, লীগের দায়টা কই এখানে? নাই। বরঞ্চ লীগ একটা তৃতীয় টার্মিনালের কাজ শুরু করেছিল, মহান নেতা ডক্টর নোবেলম্যান সেই কাজ বন্ধ করে দিয়েছিল, কারণ হিসেবে যুক্তি দেখিয়েছিল ঠিকমত টেন্ডার করে কাজ দেওয়া হয় নাই। লীগের সাথে সামিত গ্রুপের খাতির তাই তাকে কাজ দিয়েছিল। এমন কাজ এক্ষুনি বন্ধ করতে হবে! কাজ বন্ধ হয়েছে আর এদিকে দুইটা টার্মিনাল বন্ধ। যদি কাজ বন্ধ না হত তাহলে সেই টার্মিনাল এখন চালু থাকত, আর দেশ এমন বিপদে পড়ত না। বিএনপি এখন কী করছে? তারাও একই কাজ করছে। যেহেতু সময় কম তাই তারাও কোন টেন্ডারের ঝামেলায় না গিয়ে দ্রুত একটা টার্মিনাল বানানোর কাজ দিয়ে দিয়েছে কোন এক প্রতিষ্ঠানকে। এইটা খুব স্বচ্ছতার সাথে হয়েছে?
    সরকার প্রধান কী বলছে এই জ্বালানি সংকটের ব্যাপারে? আগে যে কথা গুলো পাগল ছাগলেরা বলত সেই কথা একটা দেশের প্রধানমন্ত্রী বলে যাচ্ছেন। তিনি জনসভায় বলছেন নাম বলছি না, আগের সরকারের সাহায্যে একটা দেশ পাইপ লাগিয়ে মাটির নিচ দিয়ে আমাদের সব গ্যাস নিয়ে চলে গেছে তাই দেশে এখন গ্যাস নাই! এগুলা ফাউল মার্কা কথা বিএনপির সস্তা নেতারা বলত আগে যে ইন্ডিয়া ওদের দেশে মেশিন বসায়া মাটির নিচ দিয়ে পাইপ এনে আমাদের সব গ্যাস নিয়ে নিছে। লীগ সরকার যখন সস্তায় সহজে জ্বালানি আনার জন্য ভারতের সাথে পাইপ লাইন স্থাপন করেছিল তখন এই আলোচনা প্রবল বাতাস পায়। কেউ কেউ বলেছে যার বাড়ির সামনে দিয়ে পাইপ লাইন গেছে ওইটা ফুটা করে গ্যাস নিয়ে নিন, দেশের গ্যাস চুরি করতে দিয়েন না, সব গ্যাস ভারত নিয়ে গেল! পরে দেখা গেল সেই পাইপ দিয়েই ইউনুস সরকার ডিজেল আনছে, বিএনপি সরকারও ডিজেল আনছে, এবং আরও যাতে দেয় সেই চেষ্টা করে যাচ্ছে। এর মধ্যে বলে তারেক ভাইয়া বলে বসল ভারত মাটির নিচ দিয়ে গ্যাস নিয়ে সব গ্যাস শেষ করে দিয়েছে! এইটা কিছু হইল?
    ভাইয়া ওর তার চ্যালারা বলে দিল লীগ এত বছরে কোন একটা দেশীয় জ্বালানির জন্য চেষ্টা করেনি। আমদানি নির্ভর হয়ে গিয়েছিল। এদিকে পেট্রো বাংলা থেকে জানা যায় ১৫০ নতুন কুপ খনন করা হয়েছিল। লীগের নেতা আরাফাত একটা পোস্টে লিখেছেন -
    "২০০৯ সালে যখন শেখ হাসিনা সরকার দায়িত্ব নেয়, তখন দেশের গ্যাস উৎপাদন ছিল মাত্র ১৭৪৪ (mmcfd-এমএমসিএফডি)। সেই সীমাবদ্ধতা কাটাতে সরকার নেয় পরিকল্পিত উদ্যোগ। দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আমদানি—সবকিছু একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়া হয়।
    এর ফলও আসে দ্রুত। কোভিডের আগে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ২৭৫০ এমএমসিএফডি।
    ২০১৮ সালে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল যুক্ত হওয়ায়
    মোট সরবরাহ উঠে যায় ৩৫০০+ এমএমসিএফডিতে। বৃহৎ পরিকল্পনাও ছিল। সেখানেই থেমে থাকেনি পরিকল্পনা।
    কারণ, বাস্তবতা ছিল দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদন সময়ের সাথে কমবে। তাই ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবেলায় আগেভাগেই নেওয়া হয়েছিল বড় উদ্যোগ।
    ১৫০টি কূপ খনন, ওয়ার্কওভার ও ডিপ ড্রিলিং
    লক্ষ্য: ২০২৬-২৮ সালের মধ্যে ৯৮৫ এমএমসিএফডি নতুন গ্যাস যুক্ত করা
    পাশাপাশি নেওয়া হয় এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত
    মহেশখালীতে তৃতীয় FSRU (ক্ষমতা ৬০০ এমএমসিএফডি)
    পায়রায় চতুর্থ FSRU (Excelerate Energy)
    এই দুটি চালু হলে ২০২৬-২৭ সালের মধ্যে
    আরও প্রায় ১০০০ এমএমসিএফডি গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতো।
    এছাড়া মহেশখালীতে একটি ল্যান্ড-বেজড এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের কাজও এগোচ্ছিল, যা দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারতো। এর সঙ্গে যুক্ত ছিল বৃহৎ আকারে পেট্রোক্যামিক্যাল ইন্ড্রাস্ট্রি তৈরির কাজ। কাতার, কুয়েত ও জাপানের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ নিয়ে কার্যক্রম চলছিল।
    সব মিলিয়ে পরিকল্পনা অনুযায়ী—
    ২০২৪ সালে ৩১০০+ এমএমসিএফডি সরবরাহ ছিল
    ২০২৬ সাল নাগাদ তা বেড়ে হতে পারতো প্রায় ৪৫০০ এমএমসিএফডি অর্থাৎ—একটি স্থিতিশীল জ্বালানি ভিত্তি তৈরি হচ্ছিল। এগুলা সব বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এগুলা উদ্যোগ চালু থাকলে আজকে এই বিপদ আসত না বলে আমার ধারণা।"


    এগুলা তার বানিয়ে বানিয়ে বলা কথা না। বেশিরভাগ গুলোই যাচাই করে দেখেছি আমি, সব গুলাই সত্য। কিন্তু সরকার আছে দায় গছিয়ে দিয়ে বেঁচে যাওয়ার ধান্দায়। নতুন করে ৯০০ টেক্সটাইল মিল বন্ধ হয়েছে। বড় বড় গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রি তাদের ফ্যাক্টরি বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছে। ফু ওয়াঙ্গের মত কোম্পানি উৎপাদন বন্ধ করেছে। সরকার রাত আটটার পরে দোকানপাট বন্ধ করতে বলেছে। দেশে এখন বিদ্যুৎ আসছে কোথা থেকে? যে সব নিয়ে লীগের সকাল বিকাল গালি খাইতে হইত সেই সব বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকেই। বেশ কিছু কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র ছিল। আম বাম সবাই মিলে গালি দিত। এখন ওরাই বাঁচিয়ে রাখছে। দেশ বেচা চুক্তি করেছে আদানির সাথে, সেই আদানির বিদ্যুৎ এখন ভরসা।
    যে রিজভি ভারতীয় আগ্রাসনের প্রতিবাদ জানাতে নিজের স্ত্রীর শাড়ি পুড়িয়ে ফেলেছিল সাংবাদিকদের সামনে সেই রিজভি এখন চুপ। কেউ আদানি বা লীগের এমন একটা চুক্তি নিয়েও কথা বলে না যেটা প্রমাণ করে লীগ দেশ ভারতের কাছে বিক্রি করে দিয়েছিল। কত অপেক্ষা করলাম এমন একটা চুক্তি দেখব যে দেশের সার্বভৌমত্ব দিয়ে দেওয়া হয়েছে ভারতকে বা দেশের সমস্ত খনিজ সম্পদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে ভারতকে বা এমন ধরণের কিছু। কিন্তু উল্টা দেখলাম ভারত আমাদের নানা সুবিধা বন্ধ করে দিয়ে বিপদে ফেলে! আমাদের পণ্য নাকি ভারতের পোর্ট থেকে রপ্তানি হত! সেই সুবিধা বন্ধ। এদিকে আলু পেঁয়াজ তো আছেই, না আসলেই বিপদ। এই সব বিপদে থাকব আবার সুযোগ পাওয়া মাত্র চিনেক নেক, সেভেন সিস্টার্স নিয়ে ডর দেখানোর চেষ্টা করব! এই হল আমাদের অবস্থা।

    আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভয়াবহ। খুন খারাবি লেগেই আছে। প্রথম আলো রিপোর্ট করেছে দুই এক মাসের মধ্যে ১৮ টি হত্যার ঘটনা ঘটেছে যেখানে পুরো পরিবারকে হত্যা করা হয়েছে। এখন চলমান হচ্ছে রংপুরের এক পরিবারের চারজনকে হত্যা। এইটা নিয়ে চলছে জল্পনা কল্পনা। আসামি ধরার পরেও কেউ বিশ্বাস করে না। কেন? কারণ এদের জজ মিয়া বানানোর অভ্যাস আছে। তার মধ্যে এখানে তো অনেক হিসাবেই মিলছে না। যাই হোক, এইটা নিয়ে সমানেই জানা যাবে হয়ত। কিংবা অপেক্ষা করতে হবে কোনদিন হয়ত সত্য বেড় হয়ে আসবে সেই পর্যন্ত। চাঁদাবাজি আগের থেকে একটু কমলেও থামে নাই। এখন একটু ধীর স্থিরে চাঁদাবাজি হচ্ছে। এর মধ্যেই খবর পাইলাম আমাদের এক বড় ভাই, লীগের রাজনীতি করত। তার দোকান বন্ধ, তালা দেওয়া। কারণ? পাঁচ লাখ চাঁদা দিতে হবে না হলে ওই দোকানের পজিশন ছেড়ে দিতে হবে! দারুণ না?

    বিএনপি সরকারে বসেই চীন সফর করে আসছে। ভারত সফর নিয়ে চলছে টালবাহানা। নানান শর্ত দিয়েছে। একটা হচ্ছে শেখ হাসিনাকে ফেরত দিতে হবে। আমি এই শর্তের আগামাথা কিছুই বুঝলাম না। যে মহিলা নিজেই যেতে চাচ্ছে ডিসেম্বরে সেই মহিলাকে ফেরত চাওয়া শর্ত মানে কী? নাকি মুখে এইটা তলে তলে বলা হচ্ছে যেন শেখ হাসিনাকে না পাঠানো হয়? এই মহিলা দেশে এসে দৈব বলেও যদি মরে যায় তবুও তারেক ভাইয়ার সাধের সরকারের অবস্থা তো কাহিল হয়ে যাবে! তাঁকে ফেরত চাওয়ার মানে কী?
    চীনের কোলে উঠার যে প্ল্যান তাতে এখন বড় বাধা আমেরিকা। আমাদের আমেরিকান পররাষ্ট্র মন্ত্রী কোন খেলা খেলে এইটাই দেখার বিষয়। এদিকে পাকিস্তান প্রেমে পাকিস্তানের সাথে মিলে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যেতে চাচ্ছে বাংলাদেশ। এই জিনিস আমাদের কোন কাজেই আসবে না শুধুমাত্র ভারতকে চাপে রাখা ছাড়া। যাই হোক, সামনে দ্রুত অনেক কিছুই ঘটবে। বাংলাদেশের রাজনীতি এখন হুট করেই উপমহাদেশের রাজনীতির ক্ষেত্রে একটা বড় ফ্যাক্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেখা যাক আমাদের কই নিয়ে যায় তারেক ভাইয়া। আমেরিকার সাথে যে চুক্তি আমাদের তা এখন চীনের কোলে উঠে যাওয়াকে আটকাতে পারবে? না সদলবলে আমরা চীনের কোলে উঠে যাব তা অচিরেই পরিষ্কার বুঝা যাবে বলে আমার ধারণা।
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • ব্লগ | ২৭ আগস্ট ২০২৬ | ১০ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। বুদ্ধি করে প্রতিক্রিয়া দিন