“হায় রে! একটু কি ভালো করে হাগতেও পারবো না?”
“তোরা জিএসটির কী বুঝিস? কী বুঝিস তোরা? পুকুর-টুকুর বুজিয়ে দেদার ফেলাট তুলে ফেললি; জলাভূমি কি আর কিছু বাকি রাখলি? তারপর ফারদা-মারদা…। তার বেলা? আর এখন তো টাকা সমেত…”।
চায়ের ভাঁড়ের চা শেষ করে বিক্রম ফেলে দিল ডাস্টবিনে। বলল, “যেটা জানেন না সেটা নিয়ে আল্টপকা মন্তব্য করবেন না। জানেন হেগেল কে ছিলেন? ওঁর পুরো নাম জর্জ উইলহ্যাম ফ্রেড্রিখ হেগেল। ডায়ালেক্টিক যা আমাদের প্রকৃতিতে আছে, সমস্ত বস্তুতে, এমনকি আমাদের মধ্যেও আছে, সেই ডায়ালেক্টিকের কথা উনি প্রথম দুনিয়াকে বলেন; দুনিয়াকে জানান। দ্বন্দ্ব। ওঁর ব্যাপারে ফালতু কথা বলবার আগে ওঁর লেখা সায়েন্স অফ লজিক বইটা পড়ে নেবেন, পারলে। আসলে ওশিয়ানিয়ায় সাড়ে তিনটে ট্র্যাজেডি ঘটে গেছে আর সেগুলো হল…”
“সাড়ে তিনটে!”
“শেক্সপিয়ার…”, বুলবুল বিড়ি ধরাল।
“ছাগলের মতো কথা বোলো না, শোনো - ট্র্যাজেডিগুলো হল এক, বৌদ্ধ ধর্মের ভাঙন। দুই, বামপন্থীদের ভাঙন। তিন, জনতা দলের ভাঙন সঙ্গে মংগ্রেসের মধ্যে চরম কোন্দল, মংগ্রেসের নরম ফ্যাশিজম আর কোরাপশন …”।
“বুদ্ধিজীবী নাকি? নাকি বুদ্ধিবিচি?”
“নাহ মনা। যারা ওই ক্লাস টেন অবধি পড়ায় এটা তাদের বোঝার ক্ষমতা নেই”।
“আচ্ছা, এই তোদের ওদিকে এই সব প্যান কারা হাওয়া করল বা ভাঙল বল দিকি?”, বড় জগাই বিক্রমের কাছে জানতে চাইল।
“ও বলছে তো অ্যান্টি পং…”
“কী পং? আন্টি!!”
“আরে আন্টি না, আন্টি না। অ্যান্টি অ্যান্টি অ্যান্টি…”
“আমি আবার শুনেছিলাম… প্যান্টি…”, রতন ফুট কেটেই জিভ বের করে উপস্থিত মেয়েদের দিকে তাকাল।
“তা, এই নাম তো আগে শুনিনি বাপু! কোদাকার দল রে? বিদেশি না স্বদেশী?”
“ঠিক জানিনা খুঁড়ো”।
“হুম। বড়দা, মেজদা, ফারদা, মারদা অনেক দাদাই তো দেখলাম। কিন্তু এই আবার পিং পং কারা রে বাবা…?”
“খুব যে ফারদা, মারদা বলছ, বলি খুব যে বলছ, ওদিকে নিজের বউয়ের ‘স্বাস্থ্যসহযোগী’ কার্ড করাও নি? তার বেলা? তারপর ‘লক্ষ্মীর ঘটে’ বউমা টেকা নিল, নাতনির সাইকেল, কন্যামনশ্রী? প্রতি হপ্তায় একগাদা করে রেশন তুলছ? শিক্ষামনশ্রী? আরও কত কত শ্রী দিয়ে দিয়ে নিজের সামাজিক ও আর্থিক শ্রী নিলে বাড়িয়ে, তার বেলা?”
ছোট জগাই থাকতে না পেরে বলল, “আরে! রেশন তো দেয় সেন্ট্রাল গভর্নমেন্ট। আর বাকি দিয়েছে রাজ্য সরকার; কোনও দল নয়। তবে ওই লালমুখো সাহেবরাই ভালা ছেল দেখছি…”।
“কেন? এই যে মন্দিরা গান্ধীর সময়ে ব্যাং সরকারি হল, কয়লা সরকারি হল…, অনেক অনেক সরকারি কল কারখানা তৈরি হল, তারা ভালো ছেল না?”, বড় জগাই বললেন।
“হ্যাঁ। তাপ্পর তো নানান স্ক্যাম লেগে গেল। এ জি ও জি লো জি সুনো জি। কয়লা ব্লক নিয়ে কী হল? আর এই সরকারের সময় এসেছেন মাদানী!”।
“হ্যাঁ, ‘নাম শুনেছি মাদ্রানী / দেখছি তোমার ক্যাদ্রানী’।
“সেই তো। তারপর আদা-নি, রসুন-নি, পেঁয়াজ-নি…, আরও কত দেখব”।
“এতো দেখছি দেশ জুড়ে সব চোরেদের রাজত্ব! এক চোর আরেক চোরকে বলছে যে তুই চোর”। মদন দলুই দোকানে এসে চা-বিস্কুটের অর্ডার দিল। বলল, এ যেন ‘বড় চোর ছোট চোর মিলে / চুরি করে সকালে বিকেলে’”।
“আর চোর মচায়ে শোর… একদম ইন্ডিয়ার সেই লারেলাপ্পা সিনেমা। শশী কাপুর, মুমতাজ আর ড্যানী… আহ!! পুরো কাচ্চি বিরিয়ানী”, আবার ফোঁড়ন কাটল বুলবুল।
“তুই থাম, হতভাগা। ও সব ‘চোর মচায়ে শোর’ না। যাত্রাপালার নাম ‘চোরের মা, বাবা, বেয়াই, বোনাই, জগাই, মাধাই-এর বড় গলা…”, বলে মহেশ হাতি দাঁত বের করে ফ্যাকফেকিয়ে হাসছিলেন।
“এই, তুই আবার আমাদের দুজনকে টানতে গেলি কেন রে হতভাগা? অ্যাঁ?”, ছোট জগাই বুক চিতিয়ে চোয়াল শক্ত করলেন।
“কিন্তু আমি ভাবছি, যে এতোগুলো বাড়ির প্যান মাত্তর তিন ঘন্টায় ভাঙলই বা কে আর হাপিশই বা করল কারা?”, বড় জগাই কী যেন হিসাব কষছিলেন।
“কীসের হিসেব করছ গো খুঁড়ো?”, আবার মহেশ হাতি ফুট কাটল।
“না ভাবছি। আওয়াজ নেই, পত্তর নেই!”
“আরে, এ হল গে সাইলেন্সর হাতুড়ি…”
“কিন্তু সেডা হলেও দশ মিনিট করে যদি একটা প্যান ভাঙতে লাগে, তাহলে তিন ঘন্টায় …”
“সাড়ে…”
“অ্যাঁ …, ও হ্যাঁ সাড়ে তিন ঘন্টায়”।
“মেদিনীদেবীর গ্যাং মনে হচ্ছে…”, রাই টিপ্পনী কাটল।
“মেদিনীদেবী! সে আবার কে?”
“আহ! ছাড় না। কেন ভাট বকছিস?”, চোখ পাকিয়ে বলল বিক্রম। খালি হয়ে যাওয়া উল্টোদিকের বেঞ্চে বসল সে। তারপর বলতে থাকল, “কে কোন দল করছে, কতটা করছে, সেইসব নিয়ে নিজেদের মধ্যে মারামারি কাটাকাটি না করে, কোন দলের কী ইতিহাস, ভূগোল আছে বা ছিল, যে দেশে আপনি বসবাস করছেন বা যে পৃথিবীতে আপনি বসবাস করছেন, তার আইন-কানুন, তার অর্থনীতি, তার ইতিহাস যদি না জানেন, তাহলে যে কোনও রাজনৈতিক দল কিন্তু আপনাদের বোকা বানিয়ে যাবে; এক প্রজন্ম থেকে পরবর্তী প্রজন্ম। আর তারা এমনভাবে আপনাদের বোকা বানাবে সেটা আপনারা বুঝতেও পারবেন না”। একটু দম নিল বিক্রম।তারপর বলতে থাকল, “সামনে দিয়ে একটা সূচ গলে গেলে দেখবেন আপনারা সেটা নিয়ে একদম ফাটাফাটি করে ফেলছেন, চিল চিৎকার জুড়ে দিচ্ছেন, কিন্তু পেছন দিয়ে হাতি গলে গেলেও, আপনারা টের পাচ্ছেন না…”
“উদাহরণ দিয়ে বল?”
শুনে নিজের মনে মনে হাসল বিক্রম। বলল, “বেশ। ১৯৯০ সাল নাগাদ যে নিও-লিবারিজম মানে মুক্ত অর্থনীতির যুগ ওশিয়ানিয়ায় শুরু হল, সেখানে আই.এম.এফ. বা তার বকলমে অ্যামেরিকা বা জি৭ ভুক্ত দেশ যা যা করতে বলেছে, তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো সেই সেই বিষয়গুলো কেউ খুব তাড়াতাড়ি, কেউবা ধীরে ধীরে ইমপ্লিমেন্ট করার চেষ্টা করেছে নিজেদের দেশে। এখন আমাদের দেশটা এমন একটা দেশ যার সামাজিক-অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক ও মানসিক চরিত্রে ‘সামন্তবাদ পরবর্তী এবং প্রাক পুঁজির’ নানান বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায়। অন্তত ১৯৪৭ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত এমনটাই ছিল। কিন্তু তারপরে সেই চরিত্রগুলো পাল্টাতে শুরু করে আর আজ এসে একটা ধর্মভিত্তিক ফ্যাসিবাদী পুঁজির খপ্পরে পড়ে গেছে, যাকে বলে ‘ক্রোনি ক্যাপিটালিজম’। বড় বড় স্ক্যাম আর চুরি জোচ্চুরির কথা বাদ দিলাম, জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেলেও সেই নিয়ে এলাকায় এলাকায় মুখে টুঁ শব্দ নেই; কারও কোনও কথা নেই। আর সুচের কথা বলতে গেলে বলতে হয় যে দেখবে পাড়ায় পাড়ায় কে কার দিকে তাকালো, কে কার সঙ্গে শুয়ে পড়ল, কে কার গাল টিপে দিল বা চুমু খেল - এইসব নিয়ে খুব চর্চা আছে, অথচ যেভাবে পঞ্জীস্কীমে টাকা হাওয়া বা ব্যাঙ্ক প্রতারনা বা শিক্ষা-স্বাস্থ্য-খাদ্য ইত্যাদিতে বেআইনি বা ক্যাশবন্দী বা কারখানায় লক আউট বা এলাকার পুকুর বোজানো বা গাছ সাফাই, পরিবেশ ধ্বংস, শ্রম আইন পাল্টানো, দেশের সরকারি প্রতিষ্ঠান পুঁজিপতিদের হাতে তুলে দেওয়া, অ-মানবিক সব আইন প্রণয়ন- সেইসব নিয়ে একেবারে স্পিকটি নট”।
“ক্রোনী আবার কী র্যা? হ্যান্সি ক্রোনী বলে এক পেলেয়ার…, বেটিং…”
“আরে! ধুত। ক্রোনী হল একটা দেশের সমস্ত পুঁজি ধর্ম আর বে-আইনের কামানো বগলের তলা দিয়ে মুষ্টিমেয় কিছু লোকের হাতে চলে যাওয়া। আর তার জন্য যথেচ্ছভাবে আইন বদলানো হচ্ছে মানুষের কথা না ভেবেই। তার মধ্যে আবার আছে জাত-পাত-ধর্ম বিদীর্ন সমাজ। একসময়ে ইন্ডিয়ার বাবাসাহেবের ‘অ্যানিহিলেশন অফ কাস্ট’ ব্যাপারটা একদল আমাদের এখানেও শুধু মেনেই নিতে পারেনি তা নয়, যে সভায় এখানকার লোকেরা সেই খসড়া প্রস্তাব পাঠ করতে চেয়েছিলেন, সেখানে তাদেরকে মারধোর করে, জামা আর খসড়া ছিঁড়ে মুখে কালি মাখিয়ে সেই সভা থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল”। আবার এক খুঁড়ি চা নিল বিক্রম। চুমুক মেরে বলতে থাকল, “হয়তো সেদিন যদি দেশকে জাতপাতের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করা হত, আজ তাহলে জাতপাত আর ধর্ম নিয়ে যারা যারাই রাজনীতি করছেন…, তারা সেটা করতে পারতেন না।”
“আমার বগলের তলা কিন্তু সাফ আছে। এই তোরটাও কি সাফ না চুল?”
“বাজে বকবক থামা দেকি। নাহ, ন্যায্য কতা বলেছে নাতি আমার। কি বল ছোট জগাই?”, বড় জগাই জিজ্ঞাসা করল।
“একদম। হক কতা। কবেই তো নজরুল লিখে গিয়েছিলেন, ‘জাতের নামে বজ্জাতি সব / জাত জালিয়াত খেলছে জুয়া’”। চতুর্দিকে খালি জুয়া খেলা চলছে। কোথাও জাতের জুয়া; কোথাও বজ্জাতের জুয়া”।
“তাহলেই ভেবে দেখুন। আপনি জাতপাতধর্মবর্ণের মীমাংসা না করে সেটাকে ফেলে রেখে দিলেন, যেটা পরে বিষবৃক্ষ হয়ে আমাদেরকে দংশন করছে, আর করেই চলেছে”।
“ইস! কী ভুল হয়ে গেছে…”
“হ্যাঁ। তাহলে এবার দেখুন, স্বাধীনতার সময় দেশ জাতপাতধর্মবর্ণ ইত্যাদিতে তো বিভক্ত ছিলই, তার ওপর আবার এসে জুটল রাজনীতির বৈষম্য। মানে আমাদের দেশের মানুষ এক হওয়ার বদলে টুকরো টুকরো হয়ে গেল আর নিজেদের মধ্যে জাতপাতধর্মবর্ণ-রাজনীতি-প্রাদেশিকতা নিয়ে শুরু হয়ে গেল লাঠালাঠি। এছাড়াও ছিল অর্থনৈতিক ভাগাভাগি, ওই যাকে বলে ‘ক্লাস’। ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হল বা হচ্ছে। অর্থাৎ বৈষম্যের চূড়ান্ত। সেই দেশ এগোবে কেমন করে?”
“তার মধ্যে নির্বিচারে চলছে পরিবেশ ধ্বংসের কাজ। আজ এতো রোগ কেন বাসা বাঁধছে আমাদের দেহে?”, রাই এবার দাদাকে সঙ্গত করতে থাকল। বলল, “কারণ দেশে যে পরিমাণ জনসংখ্যার বিস্ফোরণ ক্রমাগত গত ৭৫ বছর ধরে ঘটে চলেছে, যেভাবে রাসায়নিক কীটনাশক দিয়ে বেশি বেশি করে ফসল ফলানো হচ্ছে, যেভাবে জলের ভান্ডার বুজিয়ে ফেলা হচ্ছে, যেভাবে উন্নয়নের নামে এলোপাথারি গাছপালা কেটে ফেলা হচ্ছে, সেখানে আজ আমরা এমন একটা সময়ে দাঁড়িয়ে রয়েছি, একদিন না একদিন আমাদের সবার ক্যান্সার হতে বাধ্য। হ্যাঁ, বাধ্য। কত নতুন ধরণের রোগব্যাধি আবার নতুন করে ফিরে আসছে বলুন তো? করোনায় কত তাজা প্রাণ আমরা হারালাম শুধু না, অর্থনৈতিকভাবে সমস্ত কিছু এমনভাবে তছনছ করে দেওয়া হল যাতে আমরা আগামী দিনে কয়েকটি মুষ্টিমেয় পুঁজিপতিদের হাতে দাসে পরিণত হয়ে যাব। সেইদিন আসতে আর খুব বেশি দেরি নেই কিন্তু…”।
“এখন তাহলি করণীয় কি?”, বড় জগাইকে বেশ উদ্বিগ্ন দেখাল। উদ্বিগ্ন হয়ে বলল, “সত্যি, একসময় যে জল আমরা এমনি পেতাম, আর এখন কিনে খেতে হচ্ছে, তেল-চাল-ডাল-আনাজপাতির দাম সাধ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে রে। শিক্ষা-স্বাস্থ্য-খাদ্য মায় প্রকৃতি - সব বেসরকারি হাতে চলে যাচ্ছে…”।
“আমরা আবার কিন্তু ক্রমশ দাসে পরিণত হচ্ছি…”।
“তাহলি?”, ছোট জগাই বিক্রমের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করল। বাকিরাও তাকিয়ে আছে।
অঙ্কন চাকলাদার চোখ ছোট করে সব কিছু কথাবার্তা লক্ষ্য করে যাচ্ছে। কারণ তাকে থানায় রিপোর্ট করতে হবে।
“আমি একটা কথা বলি তোমাদের”, বিক্রম আরেকটা চা নিল। উল্টোদিকে বেঞ্চিতে বসল। তারপর বলল, “কে কোন দল করছে, কে কোন জাত, ধর্ম, ভাষার লোক সেইসব নিয়ে নিজেদের মধ্যে মারামারি-লাথালাথি না করে দেশের আইন-কানুন, অর্থনীতি-সমাজ এইসব জানুন না”। সবাই হাঁ হয়ে শুনছে ওর কথা। বিক্রম বলে চলল, “সঙ্গে জানুন আপনার কী কী অধিকার আছে আর কী কী কর্তব্য আপনাকে পালন করতে হবে”।
“সংবিধান তো পাল্টে দিচ্ছে। ‘বিধান’ আর কোথায়? সব ‘সঙ’ পড়ে আছে”, বুলবুল আবার ফুট কাটল।
“কেন পাল্টে দিচ্ছে? কারণ আপনাদেরকে নানাভাবে ভাগ করে রাখা হয়েছে। আর আপনারা সেই নিয়ে রোজ রোজ কোনও না কোনও কোন্দল পাকাচ্ছেন। বলছেন তুই ভালো না, মুই ভালো”। দম নিল বিক্রম। বলল, “ধর্মে ভাগ, জাতপাতে ভাগ, বর্ণে ভাগ, প্রাদেশিকতায় ভাগ…। আমাদের রক্তের রঙ কী?”
“লাল…”
“সেখানে ভাগ আছে?”
“আছে, গ্রুপে ভাগ আছে”।
“বেশ। সবাই আমরা খাই আর পটি করি। কি করি তো? সেখানে ভাগ আছে?”
“হ্যাঁ। খাবার আমরা ভিন্ন ভিন্ন খাই। আর কারুর পটি ক্ষারীয়, কারুর বা অ্যাসিডিক, কারুর শক্ত, কারুর নরম, পাতলা…”।
“উফফ। বেশ। আমরা যে অক্সিজেন নিয়ে বেঁচে আছি, যে জল পান করি, আর যে রোদ আর জোৎস্নার আলোয় আলোকিত হই, তার ভাগ আছে?”
“নাহ”।
“কিন্তু আমাদের ভূপ্রকৃতিতে ভাগ আছে, জলবায়ুতে ভাগ আছে…”, অঙ্কন চাকলাদার বলে উঠল।
“সে তো পোশাকআশাকও আলাদা। তা বলে আমরা কি সেই ভাগ ক্রমাগত বাড়িয়ে যাব? নাকি বিভেদগুলো মেটাবো?”, একটু উত্তেজিত হয়ে গেছে বিক্রম।
রাই ওকে বলল, “Cool brother; Cool”.
বিক্রম ছাড়বার পাত্র নয়। বলল, “ওহ। তোমরা করলে সেটা দেশ হিতৈষীতা? আর আমরা করলেই দেশদ্রোহিতা?”
“অর্থাৎ বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক ধর্ম আর ধর্মের নামে সেখানকার ক্ষমতাসীন দল নানা দেশে দেশে যা যা করছে, করে চলেছে সেটা লীলা, আর আমরা করলেই বিলা?”, রাই সঙ্গত করল।
“হক কতা কইছে আমার নাতি আর নাদনি”। বড় জগাই বিড়ি ধরালো। বলল, “যত ভাগ ততই ভাগের ঘোলা জলে নেতাদের মাছ ধরার আনন্দ”।
“শোনো, ভাগই সত্য। ওই এক হওয়া কোনদিনও হবে না”, ছোট জগাই বলে উঠল।
“কেন হবে না?” রাই বলে উঠল। “জাতপাতধর্মবর্ণ, প্রাদেশিকতা, অর্থনীতিতে রাজনীতিতে সবার জন্য নির্দিষ্ট কিছু একই নিয়ম থাকবে না কেন?”
“একদম”। রাইকে সঙ্গত করল বিক্রম। “সকালে উঠলে আমাদের সবার তো ক্ষিদে পায়। কি পায় না? সেখানে ভাগ আছে? তারপর আমাদের হাত-পা-চোখ-নাক সবারই তো আছে…”।
(আগামী সংখ্যায়)
পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।