এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • দেশের গণতন্ত্র কি বাঁচবে?

    Sujit Choudhury লেখকের গ্রাহক হোন
    ২৪ আগস্ট ২০২৬ | ১৩ বার পঠিত
  • সভ্যতার ইতিহাসে এ এক জটীল গুরুত্বপূর্ণ সময়। বিশ্বের অধিকাংশ দেশই বর্তমানে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থাকে সবচেয়ে বৈধ ও গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থা হিসেবে মেনে নিয়েছে; কারণ, অন্য রাজনৈতিক ব্যবস্থার তুলনায় এ ব্যবস্থা নীতিগতভাবে জনগণের হাতে শাসনভারের ক্ষমতা ন্যস্ত করে। বিগত ৫০ বছরে গণতন্ত্র ও পুঁজিবাদী ব্যবস্থায়, জনগণ, গণতান্ত্রিক আধুনিক রাষ্ট্রকে বিপুল অর্থনৈতিক সম্পদ ও প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতার অধিকারী করেছে। এখন এই বিপুল সম্পদ দেশের নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ব্যবহার করা যেতে পারে, বা তা মুষ্টিমেয় লোভী, ধনী ও ক্ষমতাবান মানুষের কুক্ষিগত হতে পারে। আর এটাই আমাদের সময়ের প্রকৃত সংঘর্ষ, যা বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র ভারতবর্ষে আমরা দেখছি।
     
    সাধারণ মানুষের ভোটের মাধ্যমে নাগরিকরা তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করে, যারা তাদের স্বার্থে দেশ পরিচালনা করবে; খাদ্য, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও শোষণমুক্ত জীবন নিশ্চিত করবে। কিন্তু অল্প সংখ্যক লোভী, ধনী কর্পোরেট, রাষ্ট্র ক্ষমতা ও রাষ্ট্রের সম্পদকে দখল করতে, ক্রমাগত নির্বাচিত প্রতিনিধি থেকে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে দখল করে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানকে তাদের স্বার্থে ব্যাবহার করার চেষ্টা করে চলেছে। এর জন্য তারা কখনও অর্থ বিনিয়োগ করছে তাদের নিজেদের পোষা, রাজনৈতিক নেতা বা দলের জন্য। তাদের মনোনীত প্রার্থীকে জেতানোর জন্য বিভিন্ন বয়ান বা আখ্যান (narrative) নিয়ন্ত্রণ; আর ইদানীং প্রযুক্তি-চালিত গণমাধ্যম ও সামাজ মাধ্যমের ব্যবহার করছে। আবার কখনও তাদের লাভের আইন প্রণয়নের জন্য অন্য দলের নির্বাচিত প্রতিনিধি কিনছে।এই সময়ে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মতো বড় গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে আমরা অতিলোভী, ধনীদের এই ক্ষমতা দখলের নানা চেহারা দেখছি।
     
    ধর্ম, বর্ণ, জাতিসত্তা, অঞ্চল, ভাষা, শ্রেণি ও মতাদর্শের পার্থক্য যে কোন সমাজের স্বাভাবিক। এই পার্থক্যগুলো বৈধ এবং গণতান্ত্রিক জীবনেরই অংশ। কিন্তু যখন এই বিভাজনগুলোকে ইচ্ছাকৃতভাবে উসকে দেওয়া হয়, তখন সেই সামাজিক বিভাজনই জন সাধারনকে শাসন করার রাজনৈতিক হাতিয়ার হয়ে উঠে। মানুষে মানুষে ঘৃণা ছড়িয়ে পড়ে, এবং এক ফলে, গণতন্ত্রের গভীরতর প্রশ্নরা—যেমন রাষ্ট্রের সম্পদের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে? প্রতিষ্ঠানগুলো কারা নিয়ন্ত্রণ করছে? সম্পদের সুফল কারা ভোগ করছে?—সেসবের উত্তর অধরাই থেকে যায়। বিপদটি আরও ঘনীভূত হয় যখন শক্তিশালী কর্পোরেট গোষ্ঠীগুলো কেবল নির্বাচিত সরকারকেই নয়, বরং অন্যান্য গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকেও দখল করতে শুরু করে, এবং গণতন্ত্র হয়তো বাহ্যিকভাবে টিকে থাকে, কিন্তু এর মূল সত্তা বা প্রাণশক্তি ক্রমশ ভেঙ্গে পড়ে। এই সময়ের প্রযুক্তি এই লড়াইকে আরও জটিল করে তুলেছে। সামাজ মাধ্যম এবং অ্যালগরিদম-চালিত তথ্যপ্রযুক্তি মানুষের ধারণা বা দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রভাবিত করছে, অপপ্রচার করে সামাজিক বিভাজনকে গভীর করছে এবং সত্য ও কৃত্রিমভাবে তৈরি বয়ানের মধ্যকার পার্থক্য মুছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
     
    এরই মধ্যে আশার আলো এই যে বিশ্বজুড়ে মানুষ ধীরে ধীরে এই উদ্বেগজনক বাস্তবতাটি উপলব্ধি করতে শুরু করেছে: সাধারণ মানুষ যখন তাদের মৌলিক চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন, তখন সম্পদ ও ক্ষমতা ক্রমশ মুষ্টিমেয় কিছু ধনীর হাতে কুক্ষিগত হচ্ছে। মাত্র কয়েক বছর অন্তর ভোটের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার দ্বারা এই গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না। একে বজায় রাখা সম্ভব হবে যখন রাজনৈতিক ক্ষমতা শেষ পর্যন্ত জনগণের জন্য ব্যবহার হবে এবং দেশের সম্পদের ব্যবহার জনগণের জবাবদিহির আওতায় থাকবে। তাই আমাদের সামনে প্রশ্ন কেবল এটা নয় যে, পরবর্তী নির্বাচনে জয়ী হবে কে? বরং প্রশ্ন হলো, এই ব্যাবস্থা কি আদৌ ‘জনগণের সরকার, জনগণের দ্বারা পরিচালিত ও জনগণের জন্য নিবেদিত’—এই স্বরূপ বজায় রাখতে পারবে? সময়মতো যদি অল্প সংখ্যক লোভী, ধনীর হাতে দেশের সম্পদ ও ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ রোধ করা না যায়, তবে হয়তো অনেক দেরি হয়ে যাবে, আমরা দেখবো যে, গণতন্ত্রের খোলস পড়ে ধনীর দালাল দেশ চালাচ্ছে।
     
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। মন শক্ত করে মতামত দিন