

অলংকরণ: রমিত
বর্ষা এবারে এমন খেল দেখালো যে নতুনপল্লীর লোকজন বর্ষাকালের নাম বদলে নিনিওকাল রেখে দিল। সেই কত বছর আগে বৃষ্টিতে বেদম ভিজে একটা লোক মেঘদূতের নাম রেখেছিল আহাম্মক, আর এই এতদিনে গোটাগুটি বর্ষাকালের নামটাই বদলে দিল এরা। তা এদেরই বা দোষ কী? এই তো সব চাদ্দিকে হেঁকে ডেকে বলল সাবোধাআন খুউব সাবোধাআন সাংঘাতিক রাগী গরমকাল আসছে এবারে। সে নাকি একফোঁট্টাও বৃষ্টি ফিস্টি হবে না এবারে। ওম্মা কোথায় কি! বেজায় বৃষ্টি হচ্ছে আর এত্ত বড় বড় জলের ফোঁটা যে নতুনপল্লীর রাস্তার পাশের খোলা চৌবাচ্চাগুলো দশ মিনিটেই ভরে জল উপচে যাচ্ছে।
সেইসব কথাই হচ্ছিল দুগগাপুজোর মিটিঙে। নতুন ক'টা ফ্ল্যাট উঠে গিয়ে মাঠ তো উবেই গেছে সাথে রাস্তাটাও রোগা হয়ে গেছে খানিক। পুজোখানা হবেটা কোথায় তাই ঠিক করতেই কেটে গেল পুরো মিটিঙ। ঝন্টে আর গুলতি কোত্থেকে দৌড়ে এসে বলে আরে তোমরা এইসব বকর বকর করছ ওদিকে সেই তেত্তিরিশ লক্ষ না-নাগরিক মানুষজনের কী হল, কী করছে তার কোন খবর রাখো? অমানুষ নাকি গো তোমরা? অমনি সবাই মিলে উঠে দাঁড়িয়ে নানান সুরে হিজিবিজি কত কিসব বলতে লাগল। কেউ কারুর কথা শুনতেও পেল না বুঝতেও পারল না। সে এক মহা ক্যাডাভ্যারাস অবস্থা।
এদিকে গুরুর রোবট নম্বর তেরো পূর্ণ তিনের চার ওই মিটিংঘরের কোণার দেওয়ালে ঠেস দিয়ে বসে দুগাল চার্জ খাচ্ছিল। এইসব আশকথা পাশকথা শুনে তিংপাং করে লাফিয়ে দৌড়ে খুলিগুহায় ঢুকে পোস্টারের কাগজ, তুলি, রঙ টেনে নিয়ে পোস্টার লিখতে বসে গেল।
শুনুন শুনুন শুনুন। এতদ্বারা বন্ধু শত্রু ভদ্র অভদ্র সবাইকে অনুরোধ করা হচ্ছে আপনারা অতি সত্বর গুরুচন্ডা৯-র উৎসব সংখ্যার জন্য আপনার রচনা সর্বশ্রেষ্ঠ গল্প, কবিতা, উপন্যাস, রম্যরচনা, নাটক, মুক্তগদ্য, প্রবন্ধ, নিবন্ধ পাঠিয়ে দিন। রচনাটি যেন অতি অবশ্যই আপনার মৌলিক সৃষ্টি হয়।
অন্য রোবটরাও হাত লাগিয়ে ঝপাঝপ বেশ কখানা পোস্টার বানিয়ে ফেলল। গুরুপদ এতক্ষণ বটগাছের কোটরে বসে আধখানা চোখ বুজে ঝিমোচ্ছিল। যেই না পোস্টারগুলো নিয়ে রোবটরা বেরোতে যাবে অমনি সড়াৎ করে এক্কেবারে গুহার মুখটিতে নেমে পথ আটকে দাঁড়িয়ে বলল ‘'শোন বাপু আজকাল তোমাদের ওই মুখশোভা, কিচির মিচির, এইতো এক্ষুণি নামের সব মাচা হয়েছে না, ওতে নাচানাচি করলে পয়সাকড়ি পাওয়া যেতে পারে এই লোভে লোভে অনেকেই এর তার থেকে টুকে মুকে লেখা জমা করে। ওইটে ভাল করে যাচাই করে তবে ছাপিও বাপু। দ্যাখো গিয়ে তোমাদের পোস্টারখানাই টুকে একটু নেড়েচেড়ে দিয়ে দিল হয়ত।’’ তাই শুনে রোবটরা যখন এ ওর মুখের দিকে তাকাচ্ছে তখনই বটের ডালে একটা গেঞ্জি দুলতে দুলতে তিন আঙুল নাচিয়ে নাচিয়ে সুর করে বলে উঠল ‘'ক্লক ইট'।