এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ধারাবাহিক  উপন্যাস

  • অ্যান্টি পং ঃ (উপন্যাস ঃ পর্ব -২)

    নির্ঘাৎপাগল লেখকের গ্রাহক হোন
    ধারাবাহিক | উপন্যাস | ১০ আগস্ট ২০২৬ | ৬২ বার পঠিত
  • |
    ওদিকে মার্লিনস্পাইক মিউনিসিপ্যাল এলাকা জুড়ে এক অভুতপূর্ব কান্ড ঘটে চলেছে। যার যার বাড়িতে পায়খানা অক্ষত আছে, বাকিরা সেই সব বাড়িতে ঢুকে হয় পটি করছে, নয়তো তাদের পটিখানা বা প্যান ভাঙচুর করছে। চিৎকার করে বলছে, “জয় অ্যান্টি পং-এর জয়’।

    রাস্তাঘাটে এখানে ওখানে শয়ে শয়ে প্যাকেট রয়েছে পড়ে। সব গু ভর্তি। জায়গায় জায়গায় ধস্তাধস্তি-হাতাহাতি শুরু হয়ে গেছে। ট্রেনের প্ল্যাটফর্ম, পৌরসভা, থানা, নানান ক্লাব, নানান জায়গা থেকে শুরু করে বিভিন্ন পাবলিক ল্যাট্রিনে পটি করবার দীর্ঘ লাইন পড়েছে নানান জায়গায়।

    বাড়ির মহিলারা বাচ্চাদের নিয়ে স্থানীয় পুকুরের পাড়ে সার দিয়ে বসিয়ে পটি করাচ্ছেন। জিজ্ঞাসা করলে বলছেন যে ‘গণ-পটি উৎসব’ পালিত হচ্ছে।

    ক্ষোভ ক্রমশ পরিণত হচ্ছে মজাতে। যাদের ‘পটি কর্ম’ সমাধা হয়ে গেছে তারা মোবাইল নিয়ে নানান জায়গার ভিডিও তুলে ফেসবুক আর ইন্সটাগ্রামে পোস্টাতে শুরু করে দিয়েছেন। কোনও কোনও ফ্ল্যাট বাড়ির সিঁড়িতে বা রাস্তার ভ্যাটে ডাঁই করে পটির প্যাকেট রয়েছে পড়ে। সকালে ময়লা নিতে আসা লোকদের ভ্যানের মধ্যে পটির প্যাকেট ফেলা চলছে। সে নেবে না বলাতে জোর করে তার হাত থেকে গাড়ি কেড়ে এলাকার লোকজন নিজেরাই সেটা টানতে শুরু করেছেন। বলছেন, “যা, আজ তোর ছুটি। আমরাই এই গাড়ি টেনে পৌরসভার ভ্যাটে ফেলে আসব”।

    বাস, অটো, ট্রেন সব বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। স্লোগান উঠেছে, “আমাদের সুস্থভাবে পটি করতে দিতে হবে। পটি করা আমাদের মৌলিক অধিকার। চাল, ডাল, ভোজ্য তেল,ওষুধ,শিক্ষা, পায়খানার প্যান থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় সমস্ত জিনিস সামান্য কয়েকজন মুনাফাখোর শিল্পপতির হাতে তুলে দেওয়া যাবে না। ব্যাঙ্ক ও অন্যান্য সরকারি সংস্থা বেসরকারিকরণ করা চলবে না। ধর্ম নিয়ে ব্যবসা বা রাজনীতি করা চলবে না। দেশের সমস্ত মানুষের প্রয়োজনে আরও আরও কর্মসংস্থান করতে হবে। কৃষক ও শ্রমিক আইন ও অন্যান্য আইন মানবিক করতে হবে। দেশের সবার জন্য চাই শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ন্যায় বিচার, কর্মসংস্থান ও বাসযোগ্য পরিবেশ। দেশের ইতিহাস পাল্টানো যাবে না। নয়ত আন্দোলন চলবে; ঘরে ও বাইরে”।

    একদল বলছেন, “অ্যান্টি পং জিন্দাবাদ; অ্যান্টি পং জিন্দাবাদ” তো অন্যেরা বলছেন, “অ্যান্টি পং মাতরম; অ্যান্টি পং মাতরম”। আবার একদল বলছেন, “অ্যান্টি পং জীবতম; অ্যান্টি পং জীবতম;”।

    নানান বাড়ির বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা জানলা, ব্যালকনি দিয়ে উঁকি মেরে দেখছেন আর ফ্যাকফ্যাক করে হাসছেন, কারণ একেই ব্যাপারটা তাদের বেশ মজা লেগেছে আর নিজেদের বেডপ্যান থাকায় পটি করার কোনও অসুবিধা হয় নি। তারা ফোকলা দাঁতে খিলখিল করে হাসছেন। স্থানীয় নিউজ চ্যানেল আর সাংবাদিকরা বুম আর মোবাইল ক্যামেরা বাগিয়ে ইন্টারভিউ নিচ্ছেন। কার কত টাকার প্যান চুরি গেছে, কে কার বাড়িতে ঢুকে জোর জবরদস্তি পটি করে গেছে বা কোন প্রেমিক তার প্রেমিকার বা কোন নাগর আবার তার বিবাহিত প্রেমিকার বাড়ি পাহারা দিচ্ছে - এইসব নিয়ে নানান মজা কেচ্ছা মুচমুচে উড়ে বেড়াচ্ছে।

    যদিও পাশের বেশ কয়েকটা থানা থেকে বিরাট পুলিশ বাহিনী এবং র‍্যাফ আনিয়ে পরিস্থিতি অনেকটাই সামাল দেওয়া গেছে। জল কামান এনে থানাতে ও পৌরসভায় পটি করতে আসা লোকজনদের হটিয়ে দেওয়া হয়েছে। অনেকে অবশ্য লাইনে দাঁড়িয়েই প্যান্টে বা লুঙ্গিতে পটি করে জল কামানের জলে সর্বাঙ্গ ধুয়ে নাচতে নাচতে বাড়ি ফিরে গেছেন। কয়েকজনকে রাস্তায় ঐরকমভাবে পটি করার জন্য অ্যারেস্ট করা হয়েছে এবং পরে সতর্ক করে ছেড়েও দেওয়া হয়েছে।

    তবে ক্লাবগুলোতে তর্ক লেগে গেছে। সেখানে আবার ক্লাব কতৃপক্ষ জনে জনে দেখছেন যে যারা যারা গত পুজোর সময় চাঁদা দেন নি বা কম চাঁদা দিয়েছেন, তাদেরকে লাইনের সামনের দিক থেকে পেছন দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তারাও আগে লাইন দিয়েছেন বলে চিল চিৎকার করছেন। বলছেন যে পটি করতে না দেওয়ার মতো জঘন্যতম অপরাধ আর দুনিয়ায় নেই।কেউ কেউ পেতে রেখেছিলেন ইট। সেসব কারা আবার সরিয়ে ফেলায় সমস্যা হইচই শুরু হয়েছে। ষ্টেশনের প্ল্যাটফর্মের পাবলিক ইউরিনালে অবশ্য নানান মজা মস্করা সহযোগে মানুষজন পটি করছেন। পাহারায় রয়েছে সিভিক পুলিশ।

    বে-এলাকার লোক বাইক করে পটি করতে এসে লুটপাট চালিয়েছে এইরকম অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে।

    পৌরসভা থেকে টোটোতে করে কিছু কর্মী দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়েছেন। তারা মাইকে বলছেন, “বন্ধুগণ, বন্ধুগণ আপনার উত্তেজিত হবেন না। প্লিজ আপনারা উত্তেজিত হবেন না। রাস্তাঘাট অযথা নোংরা করবেন না। টেনশন একদম করবেন না। জায়গায় জায়গায় বায়ো-টয়লেট বসানোর বন্দোবস্ত চলছে। সেখানে ধীরে সুস্থে শৃঙ্খলা বজায় রেখে সবাই পটি করবেন। বাড়ির মহিলাদের অন্য যে যে বাড়িতে প্যান অক্ষত আছে সেখানে পটি করতে দিন। ফচকেরা আইন শৃঙ্খলা মেনে পটি করুন। কেউ যেন তাদের সঙ্গে অভব্যতা একদম করবেন না। আইন নিজের হাতে নেবেন না; পটি নিজের হাতে নেবেন না। তা না হলে প্রশাসন কিন্তু কড়া ব্যবস্থা নেবে। যাদের যাদের প্যান হাওয়া হয়ে গেছে বা ভাঙচুর হয়েছে আমরা দেখছি তাদের তাদের নতূন প্যান কেনার ক্ষেত্রে ভর্তুকি দেওয়া যায় কীনা। তবে ভর্তুকির পাওয়ার জন্য আবার নিজেদের অক্ষত পুরনো প্যান নিজেরাই ভেঙে ফেলবেন না। আর ফেসবুক বা ইন্সটাগ্রামে উল্টোপাল্টা কিছু পোস্টাবেন না। আমাদের কিন্তু সবদিকে নজর আছে। বন্ধুগণ…”

    কোনও কোনও দেঁড়েল আবার সেইসব টোটোকে রাস্তায় দাঁড় করিয়ে কী করতে হবে না হবে জেনে নিচ্ছে। এরমধ্যে কে বা কারা আবার দু’একটা টোটোর চাকার হাওয়া খুলে দিয়ে সটকে পড়েছে।

    এলাকা দোকানপাঠ সব বন্ধ। লুটপাট হতে পারে ভেবে ভয়ে লোকে দোকানই খোলেনি। পৌরসভা ও পুলিশ প্রশাসনের ওপর ক্ষোভে কেউ কেউ আবার চোরাগোপ্তা পটি ভর্তি প্যাকেট টোটো তাক করে ছুঁড়ে মেরেছে। কয়েক জায়গায় আবার হাতাহাতিও হয়েছে। বেগতিক দেখে বেশ কিছু টোটো প্রচার না করে পৌরসভায় গেছে ফিরে। পুলিশও অবশ্য হাতাহাতির খবর পেয়ে ধাওয়া করে সেইসব লোকজনকে মুহুর্তে হটিয়ে দিয়েছে।

    এখন বাজে সাড়ে দশ’টা। এই কিছুক্ষণ আগে স্নান সেরে ম্যাচিং শাড়ি, ব্লাউজ আর টিপ পরে সেজেগুজে নিজের গাড়িতে করে থানায় এসে ঢুকলেন এলাকার চেয়ারম্যান ম্যাডাম। নাম মনোডলি ড্যাং। সঙ্গে বেশ কিছু কাউন্সিলর ও সাঙ্গপাঙ্গ। এর মধ্যে অবশ্য ডি.এম. সাহেব এবং কমিশনার সাহেবের সঙ্গে কথা হয়ে গেছে। তারা একজন অ্যাসিস্টেন্ট কমিশনার এবং কমিশনারেটের ডি.সি.ডি.ডি. সাহেবকে পাঠাচ্ছেন। সঙ্গে আসছেন এস.ডি.ও. সাহেব।

    এদিকে মার্লিনস্পাইক থানায় ধোয়াটোয়ার কাজ চলছে, ফিনাইল সহযোগে। তদারকি করছেন কয়েকজন সিভিক। তারা নিজের মনে গজগজ করছেন, বলছেন, “এহ! পুলিশে চাকরি করতে এসে শেষে মানুষের পটি পরিষ্কারও করতে হল!ওয়াক থুঃ”।

    আরেকজন সিভিক গান গাইতে গাইতে রুম ফ্রেসনার স্প্রে করছেন। এইমাত্র অন্য থানার আধিকারিকরা চলে গেলেও তাদের থানার পুলিশ অবশ্য এলাকায় মোতায়েন করা আছে। সঙ্গে আবার গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিও চালু হয়েছে।

    চেয়ারম্যানকে ঢুকতে দেখে মার্লিনস্পাইক থানার ওসি হুই সাহেব মুখে রুমাল চাপা দিয়ে বললেন, “আরে, একটু দেখে আসবেন ম্যাডাম। এহ! চারধারে একেবারে ‘ইতি দুর্গন্ধ পুষ্পে’ করে দিয়েছে। থানার সব ক’টা ল্যাট্রিন পটি করে একদম ভাসিয়ে দিয়েছে ব্যাটারা। সব রাক্ষস! কী যে খায় আর কোথা থেকেই বা পেটের মধ্যে এত পটি জমা হয় বাবা বুঝি না! আমাদের নিজেদের পুলিশের লোকজন অবশ্য ব্যারাকে গিয়ে…। এই, দেখে আসবেন, জলে জলাকার তো। আবার পেছল খেয়ে পড়ে গেলে…”।

    “হ্যাঁ। এই বয়সে সে এক সাংঘাতিক ব্যাপার হয়ে যাবে”। চেয়ারম্যানও মুখে রুমাল দিয়ে ওসির চেম্বারে ঢুকে গেলেন। সঙ্গে তিনজন কাউন্সিলার। গিয়ে বসলেন ওসির উল্টোদিকের চেয়ারে। বললেন, “ইন্টারনেট জ্যাম করে দিয়েছেন তো?”

    “সে আর বলতে? তবে একটু দেরী হয়ে গেছে। বেশ কিছু ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে আর ভাইরাল হয়ে গেছে”। ওসি তার নিজের চেয়ারে বসলেন।

    “লোকে যে এইসব ভিডিও ছড়িয়ে কী আনন্দ পায় বাবা বুঝি না। আরে ভাইরাল করলে ভাল কিছু কর…সেলফি টেলফি তোল। কে চপ ভেজে লক্ষপতি হয়ে গেল, কে চা বিক্রি করে কোটিপতি হয়ে গেল - এইসব অনুপ্রেরণামূলক ভিডিও ছাড়, তা না…”

    “বটেই তো। বটেই তো”।

    “তা কী রয়েছে সেই ভাইরাল ভিডিওতে?”, চেয়ারম্যান জানতে চাইলেন।

    “আর কী? খোলা জায়গায় বসে সব বাচ্চারা পটি করছে। ওই যে পুকুরের ধারে। ক্যাপশন দিয়েছে ‘আজাদী কী অমৃত পটি উৎসব’!। আর রাস্তায় ভ্যাটে পটি জমে ডাঁই হচ্ছে, প্ল্যাটফর্মের পাবলিক ইউরিনালে সবাই লাইন দিয়ে পটি করছে… এইসব আর কি? সঙ্গে ক্ষোভ, অশালীন শব্দ…। দাঁড়ান না। সব ক’টাকে অ্যারেস্ট করছি। সকাল থেকে খাইনি পর্যন্ত… উফফ!”

    “পৌরসভা আর থানার ভিডিও দেয় নি তো আবার?”

    “কে জানে। চিন্তা করবেন না, ওই আমাদের একজন এস.আই. আছেন, পাড়ুই, তিনি দেখছেন। পটি করে আসুক। ও আবার সকাল থেকে ডিউটি দিতে গিয়ে পটি করতে পারেননি। মানে বুঝতে পারছেন তো? যেমন আমার ব্রেকফাস্টটাই খাওয়া হয় নি…, তেমন অনেকের …”
    চেয়ারম্যান তার ফোনে ইন্টারনেট ট্রাই করে দেখলেন। সেখানেও কাজ করছে না। তিনি সঙ্গে থাকা ৩ জন কাউন্সিলারকে বললেন, “এই, আপনারা দলের ছেলেপুলেদের নিয়ে গিয়ে জায়গায় জায়গায় যান এবং মানুষজনদের শান্ত করুন। যান…”। তিনজন কাউন্সিলর মাথা নেড়ে চলে গেলেন। চেয়ারম্যান জিজ্ঞাসা করলেন, “আপনাদের একজন মহিলা এস. আই. আছেন না? তাকে তো দেখছি না?”

    “কার কথা বলছেন? ঐন্দ্রিলা?”

    “হ্যাঁ?”

    “উনি ম্যাডাম ছুটিতে আছেন। ওর মায়ের অপারেশন হবে”।

    “ও। বলুন এবার, কী বলছিলেন?”

    “মানে দিন কতক পরের স্বাধীনতা দিবস তো একেবারে পটিময় হয়ে গেল ম্যাডাম। ইসস… লকআপে থাকা কয়েদীগুলো পর্যন্ত হাসছিল, ফ্যাক ফ্যাক ফ্যাক করে। গা পিত্তি জ্বলে গিয়েছিল। উফফ বাবা! পিত্তি পড়ল বলে। সকালে খাওয়াই হয় নি …”

    “দাঁড়ান। কচুরি আনাই। দুজনে খাওয়া যাবে”।

    “সেই ভাল। ভাগ্যিস লোকজন থানা অ্যাটাক করে নি”। ওসি বাইরে থাকা একজন আর্দালিকে ডেকে কচুরি আনতে বললেন। নাক দিয়ে গন্ধ নিলেন, “নাহ। এই হাগুর… মানে পটির গন্ধটা এবার মনে হয় গেছে। তবে অতোগুলো লোক দুম করে থানায় পায়খানা করতে চলে এলে ঘাবড়ে যাব না? বলুন?”

    “আর কে আসছেন? আজকের মিটিং-এ?”

    “এস.ডি.ও. সাহেব, একজন অ্যাসিস্টেন্ট কমিশনার আর ডি.সি.ডি.ডি. সাহেব…”

    “ওহ! পৌরসভার অবস্থা কী?”

    “সেখানেও শুনেছি আগে অনেক লোকজন ছিল, পটি করছিল। এখন ডিস্পার্স করে দেওয়া হয়েছে…”।

    “তাই বুঝি?”

    “একটু ঘাবড়ে গেছেন মনে হচ্ছে। ঘাবড়ে গেলে না আপনাকে একদম ইন্ডিয়ার উর্বশী রওতেলার মতো লাগে… ইয়ে, মানে আপনার হয়ে গেছে তো?”

    “ধ্যাত। আপনি ভারী ইয়ার্কি মারেন কিন্তু…। তা কোন গ্যাং এইসব করল, কিছু খবর পেয়েছেন?”

    “তদন্ত চলছে…, তবে প্রাথমিক তদন্তে ‘অ্যান্টি পং’ বলে একটা দলের নাম উঠে এসেছে…”

    “ক্যা! ‘অ্যান্টি পং’! কী সব যে আজকাল হয়েছে। এই ইন্ডিয়ার কামতাড়া না ভামতারা। তারপর শরতপুর, নাইজিরিয়া, রোমানিয়া …। কী দিনকাল পড়ল!! মানে নাইজিরিয়া আর রোমানিয়ার লোক ফ্রড করতে এখানে চলে আসছে। কেন রে? ইওরোপে কর না। এখানে কি মালদার লোক বেশি থাকে নাকি?”

    “আরে মালদার না ম্যাডাম; মালদার না”।

    “তবে?”

    “ছাগল। শিক্ষিত অশিক্ষিত অনেক ছাগল এই দেশে থাকে। আর ওরা কপাৎ করে তাদের ঘাড়টা মটকে দেয়। কত্ত করে বারবার করে বলা হয় যে OTP দেবেন না, দেবেন না। আননোন লিংক-এ টাচ করবেন না, আননোন জায়গায় পটি করবেন না, অথচ সেই দেখো করছে…”

    আর্দালি কচুরি প্লেটে করে সাজিয়ে দিয়ে গেল। ধোঁয়া উঠছে। ওসি আবার গন্ধ শুঁকলেন। “আহ! যেন অমৃত। নিন ম্যাডাম। চটপট কেউ আসবার আগে খেয়ে নিন”।

    চেয়ারম্যানের মোবাইলে এম.পি. আর এম.এল.এ.-এর মেসেজ এসে ঢোকে। চেয়ারম্যান একবার দেখে তারপর কচুরি খেতে থাকে। বলে, “উফফ বাবা! সবার দেখছি আর তর সয় না”।

    “খেয়ে নিন তো। ওসব ফোন পরে ধরবেন”। হুই কচুরি মুখে দিয়ে চেবাতে থাকে। চেয়ারম্যানকে বলে, “আপনাকে একবার এফ.বি.আই. ডেকেছিল না? সেসব মিটেছে?”

    চেয়ারম্যানের হাতের থেকে কচুরি খসে মাটিতে পড়ে গেল।

    (আগামী সংখ্যায়)
     
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
    |
  • ধারাবাহিক | ১০ আগস্ট ২০২৬ | ৬২ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। মন শক্ত করে মতামত দিন