এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  •  যে ভাই শত্রুর ছায়ায় বসে ছিল

    albert banerjee লেখকের গ্রাহক হোন
    ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ৩৭ বার পঠিত
  • সে। ভাই। না। ভাই নয়। ভাই ছিল। ছিল। ছিল। এখন নেই। নেই। নেই। শুধু আছে। আছে। আছে। শুধু আছে সেই শব্দ। ভাই। ভাই। ভাই। শব্দটা জ্বলছে আমার জিভে। পুড়ছে আমার তালু। গলে যাচ্ছে আমার দাঁত। ঝরে পড়ছে আমার গলায়। ঢুকছে আমার পেটে। নেমে যাচ্ছে আমার অন্ত্রে। মিশে যাচ্ছে আমার রক্তে। রক্ত। রক্ত। রক্ত। রক্তে মিশে যাচ্ছে ভাই। ভাই মিশে যাচ্ছে রক্তে। রক্ত মিশে যাচ্ছে ভাইয়ে। ভাই রক্ত। রক্ত ভাই। এক। এক। এক। আমরা এক ছিলাম। না। আমরা এক ছিলাম না। আমরা দুই ছিলাম। দুই। দুই। দুই। দুই হাত। দুই পা। দুই চোখ। দুই কান। দুই নাক। দুই জিভ। দুই হৃদয়। দুই আত্মা। দুই শরীর। কিন্তু এক রক্ত। এক মাংস। এক হাড়। এক মজ্জা। এক মা। এক বাবা। এক ঘর। এক উঠোন। এক আমগাছ। এক পুকুর। এক নৌকা। এক মাছধরা। এক ফুলতোলা। এক গান। এক নাচ। এক হাসি। এক কান্না। এক খেলা। এক লুকোচুরি। এক ঘুম। এক স্বপ্ন। এক দুঃস্বপ্ন। এক ভোর। এক সন্ধ্যা। এক রাত। এক তারা। এক চাঁদ। এক সূর্য। এক আগুন। এক জল। এক মাটি। এক বাতাস। এক আকাশ। এক সবকিছু। এক। এক। এক। কিন্তু এখন? এখন দুই। দুই। দুই। দুই রাজ্য। দুই ধর্ম। দুই পথ। দুই সত্য। দুই মিথ্যা। দুই ভালোবাসা। দুই ঘৃণা। দুই শান্তি। দুই অশান্তি। দুই বন্দর। দুই বাণিজ্য। দুই হিসাব। দুই খাতা। দুই মুক্তা। দুই মশলা। দুই সোনা। দুই রক্ত। দুই ছাই। দুই শূন্যতা। দুই পূর্ণতা। দুই অনন্ত। দুই মুহূর্ত। যা আসে না। কিন্তু আসবে। আসবে। আসবে।

    আমি বসে আছি। কোথায়? সিংহাসনে। না। সিংহাসনে নয়। সিংহাসন তো তার ছিল। তার। তার। তার। আমার নয়। আমার কখনো ছিল না। আমি চুরি করিনি। আমি পাইনি। আমাকে দেওয়া হয়েছে। দেওয়া। দেওয়া। দেওয়া। শত্রু দিয়েছে। বিজয়ী দিয়েছে। ধর্ম দিয়েছে। ন্যায় দিয়েছে। ইতিহাস দিয়েছে। তারা দিয়েছে। তারা। তারা। তারা। কারা তারা? তারা। যারা থাকে। যারা বাঁচে। যারা মারে। যারা খায়। যারা খায়। যারা খায়। যারা খায় না। যারা খাওয়ায়। যারা খাওয়া হয়। তারা। তারা। তারা। তারা আমাকে দিয়েছে এই সিংহাসন। এই মুকুট। এই রাজ্য। এই লঙ্কা। এই বন্দর। এই বাণিজ্য। এই হিসাব। এই খাতা। এই মুক্তা। এই মশলা। এই সোনা। এই রক্ত। এই ছাই। এই শূন্যতা। এই পূর্ণতা। এই অনন্ত। এই মুহূর্ত। যা আসে না। কিন্তু আসবে। আসবে। আসবে।

    আমি বসে আছি। সিংহাসনে। পাথরের সিংহাসনে। পাথর। পাথর। পাথর। ঠাণ্ডা। ঠাণ্ডা। ঠাণ্ডা। আমার পিঠে লাগে। আমার কোমরে লাগে। আমার উরুতে লাগে। আমার হাঁটুতে লাগে। আমার পায়ে লাগে। আমার হাতে লাগে। আমার বুকে লাগে। আমার গলায় লাগে। আমার মুখে লাগে। আমার চোখে লাগে। আমার মাথায় লাগে। আমি ঠাণ্ডা। ঠাণ্ডা। ঠাণ্ডা। আমি পাথর হয়ে যাচ্ছি। না। আমি পাথর নই। আমি মানুষ। না। আমি মানুষ নই। আমি রাজা। না। আমি রাজা নই। আমি ভাই। না। আমি ভাই নই। আমি বিশ্বাসঘাতক। বিশ্বাসঘাতক। বিশ্বাসঘাতক। আমি বিশ্বাসঘাতক। আমি। আমি। আমি। আমি ভাইকে বিক্রি করেছি। আমি রক্তকে জলে মিশিয়েছি। আমি ভালোবাসাকে লোভে বদলেছি। আমি সত্যকে মিথ্যায় ঢেকেছি। আমি ন্যায়ের নামে অন্যায় করেছি। আমি ধর্মের নামে পাপ করেছি। আমি। আমি। আমি। আমি। আমি। আমি।

    আমি উঠে দাঁড়াই। পাথর থেকে। সিংহাসন থেকে। মুকুট খুলি। মাথা থেকে। মুকুট। মুকুট। মুকুট। ভারী। ভারী। ভারী। সোনার। সোনার। সোনার। কিন্তু সোনার নিচে কী? কী? কী? রক্ত। রক্ত। রক্ত। আমার ভাইয়ের রক্ত। শুকনো। কালচে। দাগ হয়ে। লেগে আছে মুকুটের ভিতরে। আমি মুকুট ছুঁই। আঙুল লাগে। আঙুলে লাগে। রক্ত লাগে। আমি আঙুল মুখে দিই। চাখি। চাখি। চাখি। স্বাদ। স্বাদ। স্বাদ। লবণ। লবণ। লবণ। লোহা। লোহা। লোহা। পচা। পচা। পচা। মিষ্টি। মিষ্টি। মিষ্টি। তিক্ত। তিক্ত। তিক্ত। স্বাদ। স্বাদ। স্বাদ। ভাইয়ের স্বাদ। ভাই। ভাই। ভাই। আমি ভাইয়ের স্বাদ চাখি। আমি ভাইয়ের রক্ত চাখি। আমি ভাইয়ের ছাই চাখি। আমি ভাইকে চাখি। আমি ভাইকে খাই। আমি ভাইকে গিলি। আমি ভাইকে হজম করি। আমি ভাই হই। ভাই আমি হই। এক। এক। এক। আবার এক। আবার এক। আবার এক।

    আমি সিংহাসন ছেড়ে নামি। পা ফেলি। মেঝেতে। মেঝে। মেঝে। মেঝে। মার্বেলের। ঠাণ্ডা। ঠাণ্ডা। ঠাণ্ডা। আমি হাঁটি। হাঁটি। হাঁটি। দরজার দিকে। দরজা। দরজা। দরজা। বাইরে। বাইরে। বাইরে। আমি বাইরে যাই। বাতাস লাগে। বাতাস। বাতাস। বাতাস। গরম। গরম। গরম। লঙ্কার বাতাস। লঙ্কার। লঙ্কার। লঙ্কার। আমার লঙ্কা? না। তার লঙ্কা। তার। তার। তার। আমার নয়। আমি চুরি করেছি। না। চুরি করিনি। আমি পেয়েছি। আমি পেয়েছি শত্রুর কাছ থেকে। আমি পেয়েছি বিজয়ের কাছ থেকে। আমি পেয়েছি ধর্মের কাছ থেকে। আমি পেয়েছি ন্যায়ের কাছ থেকে। আমি পেয়েছি ইতিহাসের কাছ থেকে। আমি পেয়েছি। পেয়েছি। পেয়েছি।

    আমি হাঁটি। হাঁটি। হাঁটি। বন্দরের দিকে। বন্দর। বন্দর। বন্দর। লঙ্কার বন্দর। আমার বন্দর? না। তার বন্দর। তার। তার। তার। যে বন্দর সে বানিয়েছিল। যে বন্দর সে চালাত। যে বন্দরে জাহাজ আসত। যে বন্দরে পণ্য নামত। যে বন্দরে পণ্য উঠত। যে বন্দরে জাহাজ যেত। যে বন্দরে মুক্তা জ্বলজ্বল করত। যে বন্দরে মশলা সুগন্ধ ছড়াত। যে বন্দরে সোনা জমা হত। যে বন্দরে রক্ত ঝরত। না। রক্ত ঝরত না। রক্ত ঝরত যুদ্ধে। বন্দরে ঝরত না। বন্দরে ঝরত শুধু ঘাম। শ্রমিকের ঘাম। মাঝির ঘাম। বণিকের ঘাম। রাজার ঘাম। না। রাজার ঘাম ঝরত না। রাজা ঘামে না। রাজা শুধু বসে থাকে। রাজা শুধু দেখে। রাজা শুধু হিসাব রাখে। রাজা শুধু লাভ করে। রাজা শুধু খায়। রাজা শুধু খায়। রাজা শুধু খায়। আর আমি? আমি এখন রাজা। আমি এখন খাই। আমি এখন খাই। আমি এখন খাই। আমি খাই। খাই। খাই।

    আমি বন্দরে পৌঁছাই। বন্দর। বন্দর। বন্দর। কর্মব্যস্ত। জাহাজ আসছে। জাহাজ যাচ্ছে। পণ্য নামছে। পণ্য উঠছে। লোকজন ছুটছে। চিৎকার করছে। হিসাব হচ্ছে। টাকা বিনিময় হচ্ছে। মুক্তা জ্বলজ্বল করছে। মশলা সুগন্ধ ছড়াচ্ছে। সোনা জমা হচ্ছে। সব চলছে। সব ঠিক আছে। কিন্তু কিছুই ঠিক নেই। কিছুই। কিছুই। কিছুই। কারণ এই বন্দর। এই বাণিজ্য। এই লাভ। এই সব। এগুলো আমার ভাইয়ের রক্তে কেনা। এগুলো আমার বিশ্বাসঘাতকতায় কেনা। এগুলো আমার পাপে কেনা। এগুলো আমার অভিশাপে কেনা। এগুলো। এগুলো। এগুলো।

    আমি বন্দরের প্রান্তে দাঁড়াই। সমুদ্রের দিকে তাকাই। সমুদ্র। সমুদ্র। সমুদ্র। বিশাল। নীল। গভীর। সেই নীল। গণেশ পাইনের নীল। আমার ভাইয়ের নীল। আমার নিজের নীল। যে নীল আমি দেখি প্রতিটি জাহাজে। প্রতিটি পণ্যে। প্রতিটি মুক্তায়। প্রতিটি মশলায়। প্রতিটি সোনায়। প্রতিটি রক্তে। প্রতিটি ছাইতে। প্রতিটি স্মৃতিতে। প্রতিটি স্বপ্নে। প্রতিটি দুঃস্বপ্নে। প্রতিটি নিঃশ্বাসে। প্রতিটি স্পন্দনে। প্রতিটি হিসাবে। প্রতিটি খাতায়। প্রতিটি পাতায়। প্রতিটি অঙ্কে। প্রতিটি লাভে। প্রতিটি ক্ষতিতে। প্রতিটি জয়ে। প্রতিটি পরাজয়ে। প্রতিটি ভালোবাসায়। প্রতিটি ঘৃণায়। প্রতিটি শান্তিতে। প্রতিটি অশান্তিতে। প্রতিটি আমি। প্রতিটি সে। প্রতিটি আমরা। প্রতিটি শূন্যতা। প্রতিটি পূর্ণতা। প্রতিটি অনন্ত। প্রতিটি মুহূর্ত। যা আসে না। কিন্তু আসবে। আসবে। আসবে।

    আমি সমুদ্রের দিকে তাকাই। আমি জলের দিকে তাকাই। জল। জল। জল। জল আমার প্রতিবিম্ব দেখায়। প্রতিবিম্ব। প্রতিবিম্ব। প্রতিবিম্ব। আমি দেখি। আমি। আমি। আমি। কিন্তু আমি আমি নই। আমি সে। না। আমি সে নই। আমি সে ছিলাম। ছিলাম। ছিলাম। এখন আমি কে? কে? কে? আমি রাজা। না। আমি ভাই। না। আমি বিশ্বাসঘাতক। বিশ্বাসঘাতক। বিশ্বাসঘাতক। আমি বিশ্বাসঘাতক। আমি। আমি। আমি। আমার প্রতিবিম্ব বলে। প্রতিবিম্ব। প্রতিবিম্ব। প্রতিবিম্ব। প্রতিবিম্ব বলে। বলে। বলে। তুই বিশ্বাসঘাতক। তুই। তুই। তুই। তুই ভাইকে বিক্রি করেছিস। তুই রক্তকে জলে মিশিয়েছিস। তুই ভালোবাসাকে লোভে বদলেছিস। তুই সত্যকে মিথ্যায় ঢেকেছিস। তুই ন্যায়ের নামে অন্যায় করেছিস। তুই ধর্মের নামে পাপ করেছিস। তুই। তুই। তুই। আমি প্রতিবিম্বে হাত মারি। জল কাঁপে। প্রতিবিম্ব ভাঙে। টুকরো টুকরো হয়। হাজার টুকরো। প্রতিটি টুকরোয় আমি। প্রতিটি টুকরোয় ভাই। প্রতিটি টুকরোয় বিশ্বাসঘাতক। প্রতিটি টুকরোয় রাজা। প্রতিটি টুকরোয় শূন্যতা। প্রতিটি টুকরোয় মুহূর্ত। যা আসে না। কিন্তু আসবে। আসবে। আসবে।আমি জলের দিকে তাকাই। জল শান্ত হয়। আবার প্রতিবিম্ব। আবার আমি। আবার ভাই। আবার বিশ্বাসঘাতক। আবার রাজা। আবার শূন্যতা। আবার পূর্ণতা। আবার অনন্ত। আবার মুহূর্ত। যা আসে না। কিন্তু আসবে। আসবে। আসবে।

    আমি বন্দরের শ্রমিকদের দিকে তাকাই। তারা কাজ করছে। তারা ঘামছে। তারা কাঁধে বোঝা বহন করছে। তারা জাহাজ থেকে পণ্য নামাচ্ছে। তারা গুদামে পণ্য তুলছে। তারা হিসাবের খাতায় নাম লিখছে। তারা জানে না তারা কী বহন করছে। তারা জানে না এই পণ্যের প্রতিটি মুক্তায় লেগে আছে এক ভাইয়ের রক্ত। তারা জানে না এই মশলার প্রতিটি গন্ধে মিশে আছে এক মায়ের কান্না। তারা জানে না এই সোনার প্রতিটি আঁশে লেখা আছে এক বিশ্বাসঘাতকতার ইতিহাস। তারা শুধু কাজ করে। কারণ কাজই তাদের জীবন। কারণ কাজই তাদের মৃত্যু। কারণ কাজই তাদের সবকিছু। এবং কিছুই না।

    আমি একজন শ্রমিকের কাছে যাই। সে তরুণ। তার পিঠে ক্ষত। তার হাতে কড়া। তার চোখে ক্লান্তি। আমি জিজ্ঞাসা করি, "তুমি কি জানো এই বন্দর কার?" সে বলে, "রাজার।" আমি জিজ্ঞাসা করি, "কে রাজা?" সে বলে, "যিনি সিংহাসনে বসেন।" আমি জিজ্ঞাসা করি, "তুমি কি তাকে চেনো?" সে বলে, "না। আমরা রাজাকে চিনি না। আমরা শুধু কাজ করি।" আমি জিজ্ঞাসা করি, "তুমি কি জানো এই বন্দর কীভাবে তৈরি হয়েছে?" সে বলে, "না। আমরা শুধু জানি আমরা এখানে কাজ করি।" আমি জিজ্ঞাসা করি, "তুমি কি জানো এই বন্দরের জন্য কত রক্ত ঝরেছে?" সে থামে। সে আমার দিকে তাকায়। তার চোখে প্রশ্ন। তার চোখে ভয়। তার চোখে শূন্যতা। সে বলে, "আপনি কে?" আমি বলি, "আমি কেউ না। আমি শুধু একজন পথিক।" সে মাথা নাড়ে। সে আবার কাজ শুরু করে। সে বোঝা বহন করে। সে ঘামে। সে কাঁদে না। কারণ কাঁদলে কাজ থামে। আর কাজ থামলে পেট চলে না। আর পেট না চললে মৃত্যু। আর মৃত্যু মানে মুক্তি। কিন্তু মুক্তি কেউ চায় না। কারণ মুক্তি অজানা। আর অজানাকে সবাই ভয় পায়।

    আমি বন্দর ছেড়ে হাঁটি। আমি প্রাসাদে ফিরি। আমি সিংহাসনে বসি। আমি খাতা খুলি। আমি হিসাব করি। জাহাজ এল। জাহাজ গেল। পণ্য এল। পণ্য গেল। মুক্তা এল। মুক্তা গেল। মশলা এল। মশলা গেল। সোনা এল। সোনা গেল। লাভ হলো। লাভ হলো। লাভ হলো। কিন্তু এই লাভের ভিতরে কী? কী? কী? ক্ষতি। ক্ষতি। ক্ষতি। আমার ভাইয়ের ক্ষতি। আমার আত্মার ক্ষতি। আমার মানবতার ক্ষতি। আমার সবকিছুর ক্ষতি।

    আমি কলম থামাই। আমি জানালার কাছে যাই। আমি সমুদ্রের দিকে তাকাই। আমি ভাইয়ের মুখ দেখি। সে হাসছে। সে বলছে, "ভাই, তুমি কেমন আছ?" আমি বলি, "ভালো।" সে বলে, "তুমি রাজা হয়েছ?" আমি বলি, "হ্যাঁ।" সে বলে, "তুমি সুখী?" আমি চুপ করি। আমি সুখী নই। আমি কখনো সুখী ছিলাম না। আমি কখনো সুখী হব না। কারণ সুখ মানে শান্তি। আর শান্তি মানে মৃত্যু। আর আমি মরতে পারি না। কারণ আমি অমর। আমি অভিশপ্ত। আমি সেই ভাই। যে ভাইকে বিক্রি করেছে। যে রক্তকে জলে মিশিয়েছে। যে ভালোবাসাকে লোভে বদলেছে। যে সত্যকে মিথ্যায় ঢেকেছে। যে ন্যায়ের নামে অন্যায় করেছে। যে ধর্মের নামে পাপ করেছে। আমি সেই। আমি সেই। আমি সেই।

    আমি সিংহাসন ছেড়ে উঠি। আমি বন্দরে ফিরি। আমি সমুদ্রের তীরে দাঁড়াই। আমি জলের দিকে তাকাই। আমি আমার প্রতিবিম্ব দেখি। আমি আমার ভাইয়ের প্রতিবিম্ব দেখি। আমি আমাদের প্রতিবিম্ব দেখি। আমরা দুই। আমরা এক। আমরা দুই। আমরা এক। আমরা সেই জল। আমরা সেই সমুদ্র। আমরা সেই বন্দর। আমরা সেই বাণিজ্য। আমরা সেই হিসাব। আমরা সেই খাতা। আমরা সেই মুক্তা। আমরা সেই মশলা। আমরা সেই সোনা। আমরা সেই রক্ত। আমরা সেই ছাই। আমরা সেই শূন্যতা। আমরা সেই পূর্ণতা। আমরা সেই অনন্ত। আমরা সেই মুহূর্ত। যা আসে না। কিন্তু আসবে। আসবে। আসবে?
     

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। আদরবাসামূলক মতামত দিন।