এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • বনবিবির প্রার্থনা 

    albert banerjee লেখকের গ্রাহক হোন
    ০৫ অক্টোবর ২০২৬ | ৬৮ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • 00 | 01 | 02 | 03 | 04
    বন। বন। বন। শাল। পিয়াল। কাঁঠাল। হিজল। জারুল। শিমুল। অশ্বত্থ। বট। বটের ঝুরি। ঝুরির নিচে শিয়াল। শিয়ালের চোখে আগুন। আগুন। আগুন। আগুন। সেই আগুন যুদ্ধের না। সেই আগুন ক্ষুধার। ক্ষুধা। ক্ষুধা। ক্ষুধা। শিয়াল বলে – আমি শিয়াল। আমি বনের। আমি মাংস খাই। আমি রক্ত খাই। কিন্তু আমি মানুষের রক্ত খাই না। কারণ মানুষের রক্ত বিষ। বিষ। বিষ। বিষ। মানুষ যুদ্ধ করে। মানুষ মারে। মানুষ কাটে। মানুষ পোড়ায়। মানুষ হাসে। হাসে। হাসে। কে হাসে? সে হাসে। সে। সে। সে। যে সিংহাসনে বসে। যে মুকুট পরে। যে কর নেয়। যে প্রজা মারে। যে বন্দর চালায়। যে বাণিজ্য করে। সে হাসে। আমাদের কাঁদায়। আমি শিয়াল। আমি বনের। আমি কাঁদি না। আমি চিৎকার করি। চিৎকার। চিৎকার। চিৎকার। আমার চিৎকার শুনে বনের পাখিরা ওড়ে। ওড়ে। ওড়ে। আমার চিৎকার শুনে বনের হরিণেরা দৌড়ায়। দৌড়ায়। দৌড়ায়। আমার চিৎকার শুনে বনের সাপেরা গর্তে ঢোকে। ঢোকে। ঢোকে। কিন্তু আমার চিৎকার শুনে মানুষ ভয় পায় না। মানুষ। মানুষ। মানুষ। কারণ মানুষের কান নেই। মানুষের কান কর দিয়ে ভরা। কর। কর। কর। তাই সে শোনে না। সে শোনে না। শোনে না। শোনে না।

    হরিণ বলে। তার চোখ বড়। তার পা সরু। তার গা লোমে ভরা। লোমে। লোমে। লোমে। কখনো সেই লোমে কাঁটা। কখনো সেই লোমে রক্ত। কখনো সেই লোমে শিশির। শিশির। শিশির। শিশির ঝরে পড়ে। ঝরে পড়ে। ঝরে পড়ে। হরিণ বলে – আমি হরিণ। আমি বনের। আমি ঘাস খাই। আমি পাতা খাই। আমি ফুল খাই। আমি ফল খাই। আমি কারও ক্ষতি করি না। আমি কারও রক্ত খাই না। আমি কারও মাংস খাই না। আমি শুধু বাঁচি। বাঁচি। বাঁচি। বাঁচতে গেলে আমার দৌড়াতে হয়। দৌড়াতে হয়। দৌড়াতে হয়। কারণ বাঘ আসে। বাঘ। বাঘ। বাঘ। বাঘের নখ। বাঘের দাঁত। বাঘের চোখ। বাঘের লালা। বাঘের ক্ষুধা। ক্ষুধা। ক্ষুধা। আমি দৌড়াই। দৌড়াই। দৌড়াই। কখনো পালাই। কখনো পারি। কখনো পারি না। পারি না। পারি না। পারলে বাঁচি। না পারলে মরি। মরি। মরি। কিন্তু আজকাল বাঘের চেয়েও ভয়ঙ্কর কিছু আছে। মানুষ। মানুষ। মানুষ। মানুষ আসে। মানুষ জাল পাতে। মানুষ ফাঁদ পাতে। মানুষ তীর ছোড়ে। মানুষ বন্দুক চালায়। মানুষ আমার মাংস নেয়। আমার চামড়া নেয়। আমার শিং নেয়। আমার হাড় নেয়। আমার সব নেয়। সব। সব। সব। কেন? কেন? কেন? কারণ মানুষ ক্ষুধার্ত। না। না। না। মানুষ ক্ষুধার্ত না। মানুষের পেট ভরা। মানুষের গুদাম ভরা। মানুষের ভান্ডার ভরা। তারপরও মানুষ নেয়। নেয়। নেয়। কারণ মানুষের লোভ। লোভ। লোভ। যে লোভের নাম কর। কর। কর। কর দিতে গেলে টাকা লাগে। টাকা পেতে বিক্রি লাগে। বিক্রি করতে পেলে পণ্য লাগে। পণ্য পেতে শিকার লাগে। শিকার করতে গেলে হরিণ লাগে। হরিণ আমি। আমি। আমি। তাই আমি মরি। মরি। মরি। কে মারে? সে মারে। সে। সে। সে। যে কর নেয়। যে লোভ করে। যে দর্প করে। যে দশ মাথা কাটতে এসেছে। যে দশ মুখ। যে দশ হাত। সে। সে। সে। যুদ্ধ? যুদ্ধ কে চায়? আমি চাই না। আমি চাই ঘাস। ঘাস। ঘাস। ঘাস খেলে বাঁচি। বাঁচলে দৌড়াই। দৌড়ালে বাঘ এড়াই। বাঘ এড়ালে শিকারি এড়াই। শিকারি এড়ালে বাঁচি। বাঁচলে ঘাস খাই। এই চক্র। এই চক্র আমার। এই চক্র ভালো। কিন্তু এই চক্র ভাঙছে। ভাঙছে। ভাঙছে। কে ভাঙছে? সে ভাঙছে। তার কর ভাঙছে। তার লোভ ভাঙছে। তার গর্ব ভাঙছে। তার হাত ভাঙছে। আমি ভাঙছি। ভাঙছি। ভাঙছি। আমার শিং ভাঙছে। আমার পা ভাঙছে। আমার হৃদয় ভাঙছে। আর আমি? আমি চিৎকার করি। চিৎকার। চিৎকার। চিৎকার। আমার চিৎকার শুনে বনবিবি জাগেন। জাগেন। জাগেন। বনবিবি। বনবিবি। বনবিবি।

    বনবিবি জাগেন। তার চুল বনের লতা। তার চোখ বনের তারা। তার হাত বনের ডাল। তার পা বনের শিকড়। তার বুকে বনের নদী। তার কণ্ঠে বনের গান। গান। গান। গান। বনবিবি বলেন – আমি বনবিবি। আমি বনের মা। আমি বনের রক্ষক। আমি বনের প্রাণ। আমি বনের শ্বাস। আমি বনের হৃদয়। আমি বনের সবকিছু। আমি বনের কিছুই না। আমি দেখি সব। আমি শুনি সব। আমি জানি সব। আমি জানি শিয়ালের ক্ষুধা। আমি জানি হরিণের ভয়। আমি জানি সাপের গর্ত। আমি জানি পাখির বাসা। আমি জানি গাছের কান্না। আমি জানি ফুলের হাসি। আমি জানি ফল। স্বাদ। আমি জানি পাতার শব্দ। আমি জানি শিকড়ের টান। আমি জানি সব। সব। সব। কিন্তু আমি জানি না মানুষ কেন এমন। মানুষ। মানুষ। মানুষ। মানুষ কেন মারে? মানুষ কেন কাটে? মানুষ কেন পোড়ায়? মানুষ কেন নেয়? মানুষ কেন লোভ করে? মানুষ কেন কর বাড়ায়? মানুষ কেন প্রজা মারে? মানুষ কেন বন্দর চালায়? মানুষ কেন বাণিজ্য করে? মানুষ কেন সিংহাসনে বসে? মানুষ কেন মুকুট পরে? মানুষ কেন? কেন? কেন? উত্তর নেই। উত্তর নেই। উত্তর নেই। কারণ মানুষ জানে না সে কী করছে। মানুষ ভাবে সে রাজা। মানুষ ভাবে সে ঈশ্বর। মানুষ ভাবে সে অমর। কিন্তু মানুষ মরে। মরে। মরে। মানুষ মরে পচে। পচে গলে। জানি , গলে মাটি হয়। মাটি হয়ে ঘাস হয়। ঘাস হয়ে হরিণ খায়। হরিণ হয়ে বাঘ খায়। বাঘ হয়ে মাটি হয়। আবার মাটি। আবার ঘাস। আবার হরিণ। আবার বাঘ। আবার মাটি। এই চক্র। এই চক্র বনের চক্র। এই চক্র ভালো। কিন্তু মানুষ এই চক্রে নেই। মানুষ এই চক্র ভেঙেছে। মানুষ ঘাস না হয়ে সোজা মরে। মানুষ মরে পচে না। মানুষ মরে জ্বলে। জ্বলে। জ্বলে। ছাই হয়। ছাই উড়ে যায়। বাতাসে। জলে। মাটিতে। মাটিতে মিশে না। শুধু থাকে। থাকে। থাকে। সেই থাকা অভিশাপ। সেই থাকা যন্ত্রণা। সেই থাকা শূন্যতা। শূন্যতা। শূন্যতা।

    শিয়াল আবার বলে। হরিণ আবার বলে। সাপ বলে। পাখি বলে। বাঘ বলে। সবাই বলে। একসাথে। একসাথে। একসাথে। আমরা সবাই। সবাই। সবাই। বনের পশু। বনের পাখি। বনের কীট। বনের পতঙ্গ। বনের গাছ। বনের লতা। বনের ফুল। বনের ফল। বনের শিকড়। বনের সব। সব। সব। আমরা বলি – বনবিবি, শোনো। শোনো। শোনো। আমাদের বাঁচাও। বাঁচাও। বাঁচাও। আমাদের রক্ষা করো। করো। করো। আমরা তোমার সন্তান। তোমার। তোমার। তোমার। আমরা তোমার কোলে জন্মেছি। তোমার কোলে বড় হয়েছি। তোমার কোলে খেলেছি। তোমার কোলে ঘুমিয়েছি। তোমার কোলে স্বপ্ন দেখেছি। তোমার কোলে প্রেম করেছি। তোমার কোলে মরেছি। আবার জন্মেছি। আবার মরেছি। আবার জন্মেছি। তোমার কোলে। কোলে। কোলে। তুমি আমাদের মা। মা। মা। মা আমাদের বাঁচাও। বাঁচাও। বাঁচাও। এই যুদ্ধ থেকে বাঁচাও। এই রক্ত থেকে বাঁচাও। এই আগুন থেকে বাঁচাও। এই ছাই থেকে বাঁচাও। এই কর থেকে বাঁচাও। এই লোভ থেকে বাঁচাও। এই গর্বরে দর্প থেকে বাঁচাও। এই মানুষ থেকে বাঁচাও। মানুষ। মানুষ। মানুষ। মানুষ আমাদের মারছে। আমাদের খাচ্ছে। আমাদের বেচছে। আমাদের পোড়াচ্ছে। আমাদের ছাই করছে। ছাই। ছাই। ছাই। বনবিবি, তুমি পারো। পারো। পারো। তুমি পারো বাঁচাতে। তুমি পারো রক্ষা করতে। তুমি পারো মানুষকে থামাতে। তুমি পারো কর কমাতে। তুমি পারো লোভ কমাতে। তুমি পারো চাহিদা কমাতে। তুমি পারো সিংহাসন কাঁপাতে। তুমি পারো মুকুট খসাতে। তুমি পারো সব। সব। সব। তুমি করো। করো। করো। আমাদের বাঁচাও। বাঁচাও। বাঁচাও।

    বনবিবি হাসেন। হাসেন। হাসেন। তার হাসি বনের ফুলের মতো। তার হাসি বনের ফলের মতো। তার হাসি বনের নদীর মতো। তার হাসি বনের গানের মতো। তিনি বলেন – আমি পারি না। পারি না। পারি না। আমি বনবিবি। আমি বনের। আমি মানুষকে থামাতে পারি না। মানুষকে থামাতে পারে শুধু মানুষ। মানুষ। মানুষ। মানুষ যদি না থামে, কেউ থামাতে পারে না। না। না। না। আমি শুধু প্রার্থনা করতে পারি। প্রার্থনা। প্রার্থনা। প্রার্থনা। আমি প্রার্থনা করি – যেন বন বাঁচে। যেন পশু বাঁচে। যেন পাখি বাঁচে। যেন গাছ বাঁচে। যেন নদী বাঁচে। যেন মাটি বাঁচে। যেন বাতাস বাঁচে। যেন আকাশ বাঁচে। যেন সব বাঁচে। সব। সব। সব। কিন্তু মানুষ? মানুষ বাঁচবে কি? মানুষ যদি নিজেকে বাঁচাতে না চায়, কে বাঁচাবে? কে? কে? কে? আমি না। আমি না। আমি না। আমি শুধু বলি – মঙ্গল হোক। মঙ্গল হোক। মঙ্গল হোক। বনের মঙ্গল হোক। পশুর মঙ্গল হোক। পাখির মঙ্গল হোক। সবের মঙ্গল হোক। কিন্তু মানুষের? মানুষের মঙ্গল? মানুষ যদি নিজের মঙ্গল না চায়, কে চাইবে? কে? কে? কে? আমি না। আমি না। আমি না।

    তখন বনের পশুরা কাব্যের ছন্দে গায়। গায়। গায়। গায়। ছন্দটা প্রাচীন। ছন্দটা বনের। ছন্দটা মাটির। ছন্দটা জলের। ছন্দটা বাতাসের। ছন্দটা আগুনের। ছন্দটা আকাশের। ছন্দটা তারার। ছন্দটা চাঁদের। ছন্দটা সূর্যের। ছন্দটা বনের সবকিছুর। এবং কিছুই না-এর। তারা গায় – মঙ্গল হোক। মঙ্গল হোক। মঙ্গল হোক। শাল বাঁচুক। পিয়াল বাঁচুক। কাঁঠাল বাঁচুক। হিজল বাঁচুক। জারুল বাঁচুক। শিমুল বাঁচুক। অশ্বত্থ বাঁচুক। বট বাঁচুক। ঝুরি বাঁচুক। শিয়াল বাঁচুক। হরিণ বাঁচুক। সাপ বাঁচুক। পাখি বাঁচুক। বাঘ বাঁচুক। হাতি বাঁচুক। ময়ূর বাঁচুক। কাঠবিড়াল বাঁচুক। পিঁপড়ে বাঁচুক। মৌমাছি বাঁচুক। প্রজাপতি বাঁচুক। কীট বাঁচুক। পতঙ্গ বাঁচুক। ঘাস বাঁচুক। লতা বাঁচুক। ফুল বাঁচুক। ফল বাঁচুক। শিকড় বাঁচুক। নদী বাঁচুক। ঝরনা বাঁচুক। জল বাঁচুক। মাটি বাঁচুক। বাতাস বাঁচুক। আকাশ বাঁচুক। তারা বাঁচুক। চাঁদ বাঁচুক। সূর্য বাঁচুক। বন বাঁচুক। বনবিবি বাঁচুন। বাঁচুন। বাঁচুন। বাঁচুন। আর মানুষ? মানুষ বাঁচুক। না। না। না। মানুষ বাঁচুক না। মানুষ বাঁচলে বন মরবে। বন মরলে পশু মরবে। পশু মরলে পাখি মরবে। পাখি মরলে গাছ মরবে। গাছ মরলে নদী মরবে। নদী মরলে মাটি মরবে। মাটি মরলে বাতাস মরবে। বাতাস মরলে আকাশ মরবে। আকাশ মরলে সব মরবে। সব। সব। সব। তাই মানুষ বাঁচুক না। বাঁচুক না। বাঁচুক না। কিন্তু মানুষ যদি না বাঁচে, কে বাঁচাবে বনকে? কে? কে? কে? বনবিবি? তিনি তো বনের। তিনি মানুষকে বাঁচাতে পারবেন না। পারেন না। পারেন না। পারেন না। তাহলে? তাহলে কী? তাহলে এই চক্র। এই চক্র চলবে। চলবে। চলবে। মানুষ মারবে। বন মারবে। পশু মারবে। পাখি মারবে। গাছ মারবে। নদী মারবে। মাটি মারবে। বাতাস মারবে। আকাশ মারবে। সব মারবে। সব। সব। সব। তারপর আবার জন্মাবে। জন্মাবে। জন্মাবে। আবার মারবে। আবার জন্মাবে। আবার মারবে। আবার জন্মাবে। এই চক্র। এই চক্র অনন্ত। অনন্ত। অনন্ত। কে থামাবে? কে? কে? কে? কেউ না। কেউ না। কেউ না। শুধু কাব্যের ছন্দ চলবে। চলবে। চলবে। মঙ্গল হোক। মঙ্গল হোক। মঙ্গল হোক। কার মঙ্গল? কার? কার? কার? বনের মঙ্গল। পশুর মঙ্গল। পাখির মঙ্গল। গাছের মঙ্গল। নদীর মঙ্গল। মাটির মঙ্গল। বাতাসের মঙ্গল। আকাশের মঙ্গল। সবের মঙ্গল। সবের। সবের। সবের। কিন্তু মানুষের? মানুষের মঙ্গল? না। না। না। মানুষের মঙ্গল নেই। কারণ মানুষ মঙ্গল চায় না। মানুষ চায় কর। চায় লোভ। চায় ইগো। চায় সিংহাসন। চায় মুকুট। চায় সব। সব। সব। আর সেই সবের শেষে কী? কী? কী? ছাই। ছাই। ছাই। শুধু ছাই। ছাই। ছাই। আর সেই ছাইতে জন্মাবে নতুন বন। নতুন পশু। নতুন পাখি। নতুন গাছ। নতুন নদী। নতুন মাটি। নতুন বাতাস। নতুন আকাশ। নতুন সব। সব। সব। কিন্তু মানুষ? মানুষ থাকবে না। থাকবে না। থাকবে না। কারণ মানুষ ছাই হয়ে উড়ে গেছে। উড়ে গেছে। উড়ে গেছে। বাতাসে। জলে। মাটিতে। মাটিতে মিশে না। শুধু থাকে। থাকে। থাকে। সেই থাকা অভিশাপ। সেই থাকা যন্ত্রণা। সেই থাকা শূন্যতা। শূন্যতা। শূন্যতা।

    বনবিবি আবার বলেন। বলেন। বলেন। আমি বনবিবি। আমি বনের মা। আমি বলি – মঙ্গল হোক। মঙ্গল হোক। মঙ্গল হোক। কিন্তু মঙ্গল কে আনে? কে? কে? কে? মঙ্গল আনে মঙ্গলচণ্ডী। মঙ্গল আনে ষষ্ঠী। মঙ্গল আনে মনসা। মঙ্গল আনে চণ্ডী। মঙ্গল আনে কালী। মঙ্গল আনে দুর্গা। মঙ্গল আনে লক্ষ্মী। মঙ্গল আনে সরস্বতী। মঙ্গল আনে সব দেবী। সব। সব। সব। কিন্তু তারা আসেন না। আসেন না। আসেন না। কারণ তারা ব্যস্ত। তারা ব্যস্ত স্বর্গে। তারা ব্যস্ত মর্ত্যে। তারা ব্যস্ত পূজায়। তারা ব্যস্ত মন্ত্রে। তারা ব্যস্ত বলিতে। তারা ব্যস্ত সবকিছুতে। এবং কিছুই না-তে। তারা আসেন না। আসেন না। আসেন না। তাই বনবিবি একা। একা। একা। তিনি প্রার্থনা করেন। করেন। করেন। নিজের কাছে। নিজের কাছে। নিজের কাছে। তিনি বলেন – আমি বনবিবি। আমি বনের মা। আমি বনকে বাঁচাব। বাঁচাব। বাঁচাব। আমি পশুকে বাঁচাব। বাঁচাব। বাঁচাব। আমি পাখিকে বাঁচাব। বাঁচাব। বাঁচাব। আমি গাছকে বাঁচাব। বাঁচাব। বাঁচাব। আমি নদীকে বাঁচাব। বাঁচাব। বাঁচাব। আমি মাটিকে বাঁচাব। বাঁচাব। বাঁচাব। আমি বাতাসকে বাঁচাব। বাঁচাব। বাঁচাব। আমি আকাশকে বাঁচাব। বাঁচাব। বাঁচাব। আমি সবকে বাঁচাব। সব। সব। সব। কিন্তু মানুষকে? মানুষকে? মানুষকে? আমি মানুষকে বাঁচাব না। বাঁচাব না। বাঁচাব না। কারণ মানুষ আমাকে বাঁচতে দেয় না। মানুষ আমার বন কাটে। মানুষ আমার পশু মারে। মানুষ আমার পাখি ধরে। মানুষ আমার গাছ পোড়ায়। মানুষ আমার নদী শুকায়। মানুষ আমার মাটি খোঁড়ে। মানুষ আমার বাতাস নোংরা করে। মানুষ আমার আকাশ ঢাকে। মানুষ আমার সব নেয়। সব। সব। সব। তাই আমি মানুষকে বাঁচাব না। বাঁচাব না। বাঁচাব না। আমি মানুষকে ছাড়ব না। ছাড়ব না। ছাড়ব না। আমি মানুষকে শাস্তি দেব। দেব। দেব। আমি মানুষকে কর দেব। কর। কর। কর। যে কর মানুষকে মারবে। যে কর মানুষকে খাবে। যে কর মানুষকে পোড়াবে। যে কর মানুষকে ছাই করবে। ছাই। ছাই। ছাই। তারপর সেই ছাই থেকে নতুন বন। নতুন পশু। নতুন পাখি। নতুন গাছ। নতুন নদী। নতুন মাটি। নতুন বাতাস। নতুন আকাশ। নতুন সব। সব। সব। আর মানুষ? মানুষ থাকবে না। থাকবে না। থাকবে না। কারণ মানুষ নিজেই নিজেকে শেষ করেছে। নিজেই। নিজেই। নিজেই। তার কর দিয়ে। তার লোভ দিয়ে। তার অহং দিয়ে। তার মাথা দিয়ে। তার দশ মুখ দিয়ে। তার অগুনতি হাত দিয়ে। তার সব দিয়ে। সব। সব। সব। আর সেই সবের শেষে কী? কী? কী? শূন্যতা। শূন্যতা। শূন্যতা। আর সেই শূন্যতার নাম – মঙ্গল। মঙ্গল। মঙ্গল। মঙ্গল হোক। মঙ্গল হোক। মঙ্গল হোক। বনের মঙ্গল। পশুর মঙ্গল। পাখির মঙ্গল। গাছের মঙ্গল। নদীর মঙ্গল। মাটির মঙ্গল। বাতাসের মঙ্গল। আকাশের মঙ্গল। সবের মঙ্গল। সবের। সবের। সবের। কিন্তু মানুষের?
     
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
    00 | 01 | 02 | 03 | 04
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • kk | ০৫ অক্টোবর ২০২৬ ২০:৩৯743027
  • ভালো লাগলো এই লেখা অ্যালবার্ট।
  • albert banerjee | ০৫ অক্টোবর ২০২৬ ২০:৫৬743029
  • থ্যাংক ইউ
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা মনে চায় প্রতিক্রিয়া দিন।