এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  আলোচনা  পরিবেশ  শনিবারবেলা

  • ক্ষত জমে অবিরত-পর্ব এক | কেন বেতোয়া ভারতের প্রথম নদী সংযোগ প্রকল্প – উন্নয়ন বনাম বাস্তুতন্ত্র ও মানুষের অধিকারের টানাপোড়েন

    দময়ন্তী
    আলোচনা | পরিবেশ | ১০ আগস্ট ২০২৬ | ৩৩৮ বার পঠিত | রেটিং ৪ (১ জন)
  • পর্ব ১
    শুরু হল পরিবেশ ও বিভিন্ন অপরিকল্পিত উন্নয়ন প্রকল্পের ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান ও মানুষ ও পরিবেশ এর ওপর তার প্রভাব নিয়ে দময়ন্তির নতুন ধারাবাহিক 'ক্ষত জমে অবিরত: বিনাশের রূপরেখা'। প্রথম পর্বে রইল কেন-বেতোয়া নদীর সংযোগ প্রকল্প ও তার সুদূরপ্রসারী প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা।

    ছবি: রমিত

    ছবি সূত্র (Ken Betwa Link Project (KBLP): Background, Features, Timeline & Status | UPSC)




    কেন বেতোয়ার নদী সংযোগ প্রকল্পের কথায় ঢোকার আগে একটা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বলি। মহারাষ্ট্রের পুণে শহরের জল সরবরাহ ব্যবস্থা মোটামুটি শহরের আশেপাশের কয়েকটি হ্রদে জমা বৃষ্টির জলের উপরে নির্ভরশীল। এই হ্রদগুলোর মধ্যে একটা ছাড়া বাকী সব কটাই মানুষের তৈরী। এর ফলে যে বছর বৃষ্টি খুব ভাল হয় সেবার পরের বছরের এপ্রিলের মাঝামাঝি অবধি মিউনিসিপালিটির নিত্য জল সরবরাহ ব্যবস্থা অক্ষুন্ন থাকে, তার পরে শুরু হয় অনিয়মিত সরবরাহ এবং ট্যাঙ্কাররাজ। চলবে পরবর্তী বর্ষা আসা পর্যন্ত। আর যে বছর বৃষ্টিপাত অপ্রতুল সেবার তো কথাই নেই, এমনকি ডিসেম্বর থেকেই ট্যাঙ্কারবাহিত জলের প্রয়োজন হতে পারে। ২০২২এ বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় ২০২৩ সালে মাঝারি ধরণের খরা হয়। এই বছর মৌসুমি বায়ু ঢুকতে দেরী করায় এবং প্রথমদিকে বৃষ্টিপাত বেশ কম থাকায় জুলাইয়ের শেষ অবধি জলের সমস্যা থাকে। কিন্তু এই বছরেই আবার অগাস্টে অত্যধিক বৃষ্টিপাতের ফলে দেশের নানাস্থানে বন্যা দেখা দেয়। এদিকে হিমাচল ও উত্তরাখন্ডের কিছু অংশে জুলাই অগাস্টে বিধ্বংসী বন্যা হয়। সেই সময় একদিন অফিসের ক্যাফেটেরিয়ায় দুই সহকর্মী আলাপ জোড়েন নদী সংযোগ নিয়ে। তাঁদের বক্তব্য এই যে হিমাচলে বিপাশার জল এমন সব ভেঙেচুরে ভাসিয়ে নিয়ে গেল, এটাকে কিছু খাল টাল কেটে মহারাষ্ট্র অবধি নিয়ে আসতে পারলেই আমাদের জলের সমস্যাটাও মিটে যেত আর ওখানেও অমন সব ধ্বংস হয়ে যেত না। আপাতভাবে এই কথা শুনতে বেশ ঠিকঠাক লাগে তাই না? আসুন একটু খতিয়ে দেখা যাক ব্যপারটা।

    ১৯৮০ সালে ভারত সরকার নীতিগতভাবে নদীগুলো সংযুক্তিকরণের পরিকল্পনা করেন। সেই সময় থেকেই আন্তঃনদী সংযোগ নিয়ে পরিবেশবিদদের প্রচুর আপত্তি আছে। আপত্তির মূল কারণগুলো হল



    ১) বাস্তুতন্ত্র ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি। এই নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো পরে।
    ২) ‘উদ্বৃত্ত’ ও ‘ঘাটতি’ অববাহিকার ধারণা নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে সংশয় আছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বৃষ্টিপাতের ধরণ পালটে যাওয়ায় ত্রিশ কি চল্লিশ বছর আগের তথ্য উপাত্ত নিয়ে পরিকল্পনা বিপজ্জনক হতে পারে।
    ৩) সামাজিক ও পুনর্বাসন সঙ্কট। বড় বাঁধ নির্মাণের ফলে বহু মানুষ, বিশেষত জনজাতি সম্প্রদায়ের মানুষ বহুল সংখ্যায় উচ্ছেদ হন এবং পুনর্বাসন প্রায় পানই না, এ প্রায় প্রতিটা বড় বাঁধ নির্মাণের পরে দেখা গেছে। সাম্প্রতিক উদাহরণ নর্মদাইয় সর্দার সরোবর বাঁধ।
    ৪) ভূতাত্ত্বিক ঝুঁকি। সুড়ঙ্গ, বড় খাল ও বড় বাঁধ নির্মাণের ফলে চ্যুতিরেখার কাছাকাছি অঞ্চলে ভূমিকম্পের সম্ভাবনা বাড়ে।
    ৫) অর্থনৈতিক বিকল্পের প্রশ্ন। হিমাংশু ঠক্কর, মেধা পাটেকর ও রামস্বামী আইয়ারের মত পরিবেশবিদ ও জল বিশেষজ্ঞরা বলেন বড় নদীদের মধ্যে সংযোগের বদলে জল সংরক্ষণ, ভূগর্ভস্থ অ্যাকুইফায়ার রিচার্জ, ওয়াটারশেড ম্যানেজমেন্ট ও ছোট আকারের সেচ প্রকল্প ও কৃষিতে জল সাশ্রয়ী পদ্ধতি অনেক কম খরচে বেশী টেঁকসই ও কম ক্ষতিকর।

    ২০১৯এ পুনর্নির্বাচিত হয়ে আসার পর থেকেই কেন্দ্রীয় সরকার এই নদী সংযোগ প্রকল্প নিয়ে গুরুত্ব সহকারে চিন্তাভাবনা শুরু করে। তারই ফলস্বরূপ “কেন বেতোয়া প্রকল্প” - ভারতের প্রথম আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প। এখানে মধ্যপ্রদেশের পান্না টাইগার রিজার্ভের ভেতর দিয়ে বয়ে চলা কেন নদীর "উদ্বৃত্ত" জল একটি ২২১ কিলোমিটার খাল (২ কিমি টানেলসহ) ও দাউধন বাঁধের মাধ্যমে অপ্রতুল জলের বেত্রবতী বা বেতোয়া নদী অববাহিকায় নিয়ে যাওয়া হবে। এটি ১৯৮০ সালের জাতীয় প্রেক্ষাপট পরিকল্পনার (National Perspective Plan) অংশ। এই পরিকল্পনায় সারাদেশে ৩০টি নদী সংযোগের প্রস্তাব রয়েছে। কেন বেতোয়া প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪৪,০০০ কোটি টাকা।

    সরকারের দাবি অনুসারে এই নদী সংযোগের ফলে

    • বুন্দেলখন্ড অঞ্চলের প্রায় ৪৪ লাখ মানুষকে ও উত্তরপ্রদেশে ২১ লাখ মানুষকে পানীয় জল সরবরাহ করা যাবে। বুন্দেলখন্ড হল দেশের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া খরাপ্রবণ অঞ্চলগুলোর মধ্যে একটা।
    • ১০ লাখ হেক্টরেরও বেশি জমিতে সেচের ব্যবস্থা করা যাবে।
    • ১০৩ মেগাওয়াট জলবিদ্যুত এবং ২৭ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুত বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে।
    • এই প্রকল্প সফল হলে দেশের অন্যান্য নদী সংযোগ প্রকল্পের পথ খুলে যাবে যা ভারতের বিস্তীর্ণ অংশে জল সরবরাহ ও জলসেচ ব্যবস্থার প্রভুত উন্নতি ঘটাবে।


    ২০২২ সালে মৌ সই হবার পরে ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে প্রধানমন্ত্রী মোদী খাজুরাহোতে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। দাউধন বাঁধ নির্মাণের দায়িত্ব পায় NCC Limited. চুক্তিমূল্য ৩৩৮৯ কোটি টাকা এবং কাজ শেষ করার সময়সীমা কার্যাদেশ থেকে ৭২ মাস। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে নির্মাণস্থানে কাজ শুরু হয়, এবং সেপ্টেম্বর ২০২৫ নাগাদ মূল অবকাঠামো নির্মাণকাজ শুরু হয়ে যায়। [সূত্র ১] সব মিলিয়ে ৪৪৬০৫ কোটি টাকা খরচের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ছত্তরপুর অঞ্চলে দাউধন বাঁধ নির্মাণের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে এবং কর্তৃপক্ষ ২০৩০এর মার্চ নাগাদ প্রকল্প সমাপ্তির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন।

    এতকিছু হইহই করে হয়ে চলেছে বটে কিন্তু প্রকল্পটার পরিবেশ সংক্রান্ত ছাড়পত্র নিয়ে বেশ গোলমাল রয়েছে। কেন বেতোয়া প্রকল্পের প্রথম পর্বের জন্য তিন ধরনের ছাড়পত্র প্রয়োজন হয়েছিল
    ১) পরিবেশ সুরক্ষা আইন ১৯৮৬-এর অধীনে পরিবেশগত ছাড়পত্র
    ২) বন্যপ্রাণ সুরক্ষা আইন ১৯৭২-এর অধীনে বন্যপ্রাণ ছাড়পত্র
    ৩) বন সংরক্ষণ আইন ১৯৮০-এর অধীনে বন ছাড়পত্র।

    ছাড়পত্রগুলোর বর্তমান অবস্থা কী সেটা এবারে একটু খতিয়ে দেখা যাক।
    পরিবেশগত ছাড়পত্র (Environmental Clearance) :- পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের বিশেষজ্ঞ মূল্যায়ন কমিটি ২৫ আগস্ট ২০১৭ শর্তসাপেক্ষে একটা অনুমোদন দিয়েছিল। এই ছাড়পত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে নদী ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ হিমাংশু ঠক্কর আদালতে যান। এরপরে পরিবেশবিদ মনোজ মিশ্র ও আরো কয়েকজন আলাদাভাবে সুপ্রীম কোর্টে অভিযোগ দায়ের করেন। এঁদের মূল অভি্যোগ ছিল এই প্রকল্পের পরিবেশগত অভিঘাত ঠিক করে বিশ্লেষণ করা হয় নি, বরং অত্যন্ত দায়সারাভাবে উপর উপর দেখেই ছাড়পত্র দিয়ে দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষজনের সাথেও বিস্তারিত আলোচনা করা হয় নি। পান্না ব্যাঘ্র সংরক্ষণ প্রকল্পের অন্তর্গত এলাকা প্লাবিত হলে উপদ্রুত অঞ্চলে বাঘ ও অন্যান্য পশুদের কোথায় কীভাবে স্থানান্তরিত করা হবে সেই সম্পর্কে কোন স্পষ্ট রূপরেখা ও নির্দেশনাও দেওয়া হয় নি। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন বাঘ সরানো মানে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ বাস্তুতন্ত্রকে সরানোর কথা ভাবা। এই ব্যপারটা এখনো জাতীয় সবুজ ট্রাইব্যুনালে (NGT) বিচারাধীন।

    বন্যপ্রাণ ছাড়পত্র (Wildlife Clearance):- ন্যাশনাল বোর্ড ফর ওয়াইল্ডলাইফ (NBWL) ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৬ শর্তসাপেক্ষে একটা ছাড়পত্র দেয়। কিন্তু ২০১৯ সালের সেন্ট্রাল এমপাওয়ার্ড কমিটি (CEC)-এর রিপোর্টে এই ছাড়পত্রকে বন্যপ্রাণ সুরক্ষা আইন ১৯৭২-এর ৩৫(৬) ধারা লঙ্ঘন করেছে বলে "অবৈধ" হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই ধারা বন্যপ্রাণীর উন্নতি ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করে। দাউধান বাঁধ তৈরীর ফলে পান্না টাইগার রিজার্ভের প্রায় ৬০০০ হেক্টরের কিছু বেশী মূল বনাঞ্চল (core forest area) জলের তলায় চলে যাবে। এতে বাঘ, ঘড়িয়াল ও শকুনের মত সংরক্ষিত ও বিপন্ন প্রাণীদের বিচরণক্ষেত্র ও নিরাপদ যাতায়াতের পথ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এই ছাড়পত্রও এখনও সুপ্রিম কোর্টে পর্যালোচনাধীন রয়েছে।

    বন ছাড়পত্র (Forest Clearance):- সরকারি তরফে তুমূল তৎপরতার পর মূলত সরকারী চাপে প্রকল্প অবশেষে চূড়ান্ত বন ছাড়পত্র পেয়েছে। প্রাথমিক শর্তসাপেক্ষ অনুমোদনের প্রায় ছয় বছর পর, এবং মধ্যপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে পাওয়া এই ছাড়পত্রের দুটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত অনুযায়ী প্রকল্পকে ক্যানাল পুনর্বিন্যাস করতে হবে এবং প্রস্তাবিত পাওয়ারহাউসগুলো মূল বনভূমি (Core Forest Area) থেকে সরাতে হবে।

    তাহলে দেখা যাচ্ছে প্রয়োজনীয় তিনটে ছাড়পত্রের মধ্যে আসলে একটা ছাড়পত্র কোনোমতে জোরজার করে পাওয়া গেছে। এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে সব ছাড়পত্র পাওয়া গেছে বলে দাবি করে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে বন্যপ্রাণ ছাড়পত্র সুপ্রিম কোর্টে এবং পরিবেশগত ছাড়পত্রের চ্যালেঞ্জ এনজিটিতে এখনও অমীমাংসিত রয়ে গেছে। অর্থাৎ মূল বৈধতার প্রশ্নটি এখনও আদালতে ঝুলে থাকা অবস্থাতেই নির্মাণকাজ এগিয়ে চলছে।

    প্রকল্পের বিরুদ্ধে শুধু যে আদালতে কেস দায়ের করা হচ্ছে তাই নয়, মাঠ পর্যায়েও অতি জোরালো প্রতিবাদ হচ্ছে। আপত্তির মূল কারণগুলো হল -
    ১) বাস্তুচ্যুতি ও ক্ষতিপূরণ :- ছত্তরপুর ও পান্না জেলার ২২টি গ্রামের ৭,১৯৩টি পরিবার বাস্তুচ্যুত হচ্ছে প্রতিবাদকারীরা দাবী করছেন পরিবারভিত্তিক নয়, বরং প্রতি ব্যক্তির জন্য ১২.৫ লাখ টাকা পুনর্বাসন প্যাকেজ দেওয়া হোক। [সূত্র ২]

    ২) পরিবেশগত ক্ষতি :- দাউধন বাঁধ নির্মাণের ফলে পান্না টাইগার রিজার্ভের প্রায় ৯৮ বর্গ কিমি এলাকা তলিয়ে যাবে, যেখানে বাঘ, ঘড়িয়াল ও শকুনসহ নানা প্রাণির বাস। প্রায় ১৭,১০১টি গাছ কাটার কথা ছিল, যার মধ্যে ১২,৪০০-এরও বেশি ইতিমধ্যে কাটা হয়ে গেছে। এর ফলে বাঘের বংশবৃদ্ধি ও জীবনধারণ বিপন্ন তো বটেই, পুনর্বাসন কর্মসূচীও বিপন্ন হয়ে পড়েছে। [সূত্র ৩]

    ৩) স্বচ্ছতার অভাব :- ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাবে উচ্ছেদের মুখে দাঁড়ানো পরিবারগুলোর অসন্তোষ বেড়েছে। [সূত্র ৪]

    ৪) অনৈতিক গাছকাটা ও বিক্রির অভিযোগ:- প্রতিবাদী নেতা অমিত ভাটনগর অভিযোগ করেন পানে ব্যবহৃত খয়ের তৈরীর জন্য মূল্যবান খয়ের গাছ (যা জর্দার কাঁচা উপাদান তৈরি করতেও ব্যবহৃত হয়) বেআইনিভাবে পাচার করা হয়েছে, যার ক্ষতির পরিমাণ ২,০০০ কোটি টাকারও বেশি। এখানে বলে রাখা যাক ইতোমধ্যেই ২০০০০ এর কিছু বেশী গাছ কাটা হয়ে গেছে। প্রকল্প শেষ হতে হতে আনুমানিক প্রায় কুড়ি লক্ষ গাছ কাটা হবে। যদিও প্রশাসন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। [সূত্র ৫]

    ৫) তথ্য গোপন :- কেন্দ্র গঙ্গা অববাহিকার আন্তর্জাতিক সংবেদনশীলতার অজুহাতে কেন বেতোয়া অববাহিকার জলবিদ্যা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করছে না।

    প্রতিবাদ আন্দোলনের নেতৃত্ব ও পটভূমি
    ছত্তরপুর ও পান্না জেলাজুড়ে ছড়িয়ে থাকা আন্দোলনের নেতৃত্বে আছেন অমিত ভাটনগর, স্থানীয় মানুষের কাছে ‘ভাইসাব’ নামে পরিচিত অমিত ছয় বছর ধরে ঘুরে ঘুরে গ্রামবাসীদের একত্রিত করে আন্দোলন গড়ে তুলেছেন। আন্দোলনে জনজাতি নারীদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। সম্প্রতি ছত্তরপুর জেলার কুপি গ্রামে বারনা নদীর তীরে জনজাতি নারীদের নেতৃত্বে জল সত্যাগ্রহ চিতা সত্যাগ্রহ ও আন্দোলনের অষ্টম দিন থেকে প্রতীকী ফাঁসি সত্যাগ্রহ শুরু হয় "ন্যায় দো, ইয়া মার দো" (হয় ন্যায় দাও, নয়তো মেরে ফেলো) স্লোগান তুলে এপ্রিল ২০২৬-এ প্রায় ৭০০০ পরিবার, ২২টি গ্রাম মিলে বিক্ষোভ শুরু হয়। চিতা আন্দোলনে পনেরো দিন ধরে বারনা নদীবক্ষে চিতা তৈরী করে তাতে শুয়ে নিজেদের জীবন জীবিকা ও গ্রামের প্রতীকী মৃত্যুর চিত্র তুলে ধরেন। সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য অষ্টম দিন থেকে গলায় ফাঁসির দড়ি নেন নিশ্চিত মৃত্যুর প্রতীক বোঝাতে। অমিত ভাটনগর এইসময় দীর্ঘ আঠেরো দিন অনশন করেন। প্রতিবাদীরা অভিযোগ করেন যে তাঁর অনশনের এগারোতম দিনেই কেবলমাত্র ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়।

    ১৯শে জুলাই ২০২৬ পুলিশ কুপি গ্রামে বারনা নদীর জলস্তর বৃদ্ধির অজুহাতে ধরনাস্থল ভেঙে দেয়। অমিত এরপরেও অনশন চালিয়ে যান। স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ার অজুহাতে মধ্যরাত্রে জোর করে তাঁকে তুলে নিয়ে গিয়ে ছত্তরপুরের সরকারি হাসপাতালের আইসিসিইউতে ভর্তি করা হয়, তিনি তখনো অনশন ভঙ্গ করতে রাজী হন নি। অবশেষে বিজাওয়ারে নিজের বাড়িতে ফেরার পরে সরকার পান্না ও ছত্তরপুরের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের নতুন করে যাচাই-বাছাই (ভেরিফিকেশন) করার নির্দেশ দেওয়ার পরই আঠেরো দিন পরে অনশন ভঙ্গ করেন অমিত। ভাটনগর দাবী করেছিলেন পুলিশ যেদিন ধরনাস্থল ভেঙে দেয় সেদিন তিনি ৪০০ কোটি টাকার অনিয়ম সংক্রান্ত নথি সংবাদমাধ্যমের কাছে তুলে ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। [সূত্র ৬]

    প্রশাসন যথারীতি যাবতীয় অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেছে। প্রশাসনের দাবী কেন বেতোয়া প্রকল্প জাতীয় স্তরে একটা অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। এই প্রকল্প সম্পূর্ণ হলে বুন্দেলখন্ড অঞ্চলে সেচ, পানীয় জল সরবরাহ ও সার্বিক উন্নয়নের সহায়ক হবে। এরই সাথে জল জঙ্গল জমির দাবীতে লড়া আদিবাসী নারী পুরুষ, কৃষক ও সমস্ত সমাজকর্মীদের উপরে নেমে আসছে সরকারি জুলুম ও পুলিশী দমনপীড়ন। প্রকাশিত রিপোর্ট অনু্যায়ী ধোন্ধান, পালাকুহা, কুপি, খারিইয়ানি প্রভৃতি গ্রামে লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস, অবাধে বিধিবহির্ভুত আটক, গ্রাম ঘেরাও, রাতের টহল ও লাউডস্পিকারের মাধ্যমে ভয় দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। ১৯ জুলাই ভোর ৫টায় প্রায় দুই থেকে তিন হাজার পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্মী ১৫০-২০০টি গাড়িতে করে এসে প্রতিবাদস্থল থেকে শত শত মানুষকে (আন্দোলনের নেতা অমিত ভাটনগর-সহ) তুলে নিয়ে যায়, এবং প্রতিরোধ করলে লাঠিচার্জ করা হয়। [সূত্র ৭] জাতীয় গণআন্দোলন জোট (NAPM) কেন বেতোয়া প্রকল্পের বিরুদ্ধে বিক্ষোভরত গ্রামবাসী ও কর্মীদের গ্রেফতার ও দমনের তীব্র সমালোচনা করায় তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা আন্দোলনকে স্তব্ধ করে দেওয়া ও গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ দমনের পরিকল্পিত প্রচেষ্টা। ধোন্ধান গ্রামে জোরপূর্বক উচ্ছেদের বিরুদ্ধে আদিবাসী নারীরা প্রতীকি 'চিতা আন্দোলন' পরিচালনা করেন। সেখানে শতাব্দী প্রাচীন বসতি ধ্বংসের হুমকির এবং ভূমি ও বন অধিকার আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। এমনকি ঘোর বর্ষাকালেও জোর করে ঘর ভাঙা ও স্থানান্তরের অভিযোগ উঠেছে। [সূত্র ৮] তবে এত হুমকী ধমকী মামলা মোকদ্দমাতেও আন্দোলনকারীরা দমে যান নি। সম্প্রতি তাঁরা চুলহাবন্দী আন্দোলন ঘোষণা করেছেন। সরকার তাঁদের দাবীগুলির সঠিক জবাব না দেওয়া পর্যন্ত প্রতীকীভাবে রান্না বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত। [সূত্র ৯]

    ক্ষয়ক্ষতির আনুমানিক হিসাব নিকাশ
    এই প্রকল্পের ফলে ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে সরকারি ও বেসরকারি সূত্রে বেশ কিছু ভিন্ন ভিন্ন হিসাব পাওয়া যায়। মূল পরিসংখ্যানগুলো নিচে দেওয়া হলো।

    বনাঞ্চল ও বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি
    ২০১৭ সালে মন্ত্রণালয় সূত্রে প্রাপ্ত মূল সরকারি নথি অনুযায়ী ১৮,০৪,৯৬২টি গাছ কাটা/ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং পান্না, ছত্তরপুর ও তিকমগড় জেলায় ৬,০১৭ হেক্টর বনভূমি জাতীয় জল উন্নয়ন সংস্থাকে (NWDA) হস্তান্তর করতে হবে। এর মধ্যে জলাধারের জন্য ৯,০০০ হেক্টর জমি ডুবে যাবে, যার ৫,৮০৩ হেক্টরই পান্না রিজার্ভের অংশ। অর্থাৎ পান্নার কোর এরিয়ার ক্রিটিকাল টাইগার হ্যাবিট্যাটের (CTH) ১০.০৭% বা ৫৫.৭৮ বর্গ কিমি জলমগ্ন হবে। [সূত্র ১০] কাটা পড়বে এমন গাছের সংখ্যা বেসরকারিই মতে ২৩ লাখ থেকে ৬০ লাখ পর্যন্ত অনুমান করা হয়েছে। [সূত্র ১১] রাজ্যসভায় জুলাই ২০৫এর বাদল অধিবেশনে সরকারের তরফে জল শক্তি প্রতিমন্ত্রী রাজ ভূষণ চৌধুরী জানিয়েছেন দাউধন বাঁধ ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোর জন্য প্রায় ১৭,১০১টি গাছ চিহ্নিত করা হয়েছে, যার মধ্যে ১২,৪০৪টি গাছ পান্না টাইগার রিজার্ভের ভেতরেই কাটা হয়ে গেছে। [ ওদিকে ক্যাম্পেইন ট্যু ডিফেন্ড নেচার এন্ড পিপল (CDNP) নামক পরিবেশবাদী সংগঠনের হিসাবে, প্রায় ১০,০০০ হেক্টরের বেশি সংরক্ষিত এলাকা এবং ৪৬ লাখ গাছ কাটা হতে চলেছে। যার অর্থ গুরুত্বপূর্ণ বাস্তুসংস্থানগত সুবিধা ও কার্বন শোষণ ক্ষমতা হারানো, যা জলবায়ু সংকটের এই সময়ে বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। সূত্র ১২]

    আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ
    ২০১৭ সালে প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ₹১৮,০৫৭ কোটি টাকা। এখন তা বেড়ে প্রায় ₹৪৪,০০০ কোটিতে পৌঁছেছে। প্রতিবাদী নেতা অমিত ভাটনগরের অভিযোগ, মূল্যবান খয়ের গাছ বেআইনিভাবে পাচার হয়েছে, যার ক্ষতির পরিমাণ ₹২,০০০ কোটিরও বেশি ((আগেই উল্লেখ করেছি)। [সূত্র ১৩]

    বাস্তুচ্যুতিজনিত কারণে মানুষের ক্ষতি
    একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে মোট ২৪টি গ্রাম এক শতাব্দী বা তারও বেশী সময় ধরে এই এলাকায় বসবাস করছে, যার মধ্যে ৮টি গ্রাম সম্পূর্ণ ডুবে যাবে এবং ১৬টি গ্রাম পান্না টাইগার রিজার্ভের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে। অন্য একটি হিসেবে জানা যাচ্ছে ছত্তরপুর ও পান্না জেলার ২২টি গ্রামের ৭,১৯৩টি পরিবার বাস্তুচ্যুত হচ্ছে। সরকারি পরিকল্পনা অনুসারে পান্না টাইগার রিজার্ভের বাঘ ও অন্যান্য প্রাণীকে অন্য কোথাও সরানো হবে না, বরং পান্না টাইগার রিজার্ভের এলাকা সম্প্রসারিত করা হবে। এই পরিকল্পনার মুশকিল হল বাঘেদের বিচরণ ও খাদ্য সংগ্রহের জন্য যথেষ্ট এলাকা ও শিকারের উপযুক্ত প্রাণী পাওয়া যাবে কিনা সেটা নিশ্চিত করে বলা যায় না। এদিকে ছোট গ্রামগুলোকে সম্প্রসারিত পান্না টাইগার রিজার্ভের বাফার এরিয়ায় স্থানান্তরিত করলে উপযুক্ত শিকার না পেয়ে বাঘেরা গ্রামগুলোতে সহজে শিকারের জন্য হানা দেবে। গবাদি পশু, পোষ্য প্রাণী এমনকি মানুষও সেক্ষেত্রে বাঘের শিকার হতে শুরু করবে। বাঘ বা ঢোলের (বুনো কুকুর) সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর মধ্যে এই সংঘর্ষ আরোই বৃদ্ধি পাবে। ঠিক এই সংঘর্ষের কারণেই তাড়োবা টাইগার রিজার্ভের কিছু বাফার এরিয়াকে বর্তমানে কোর এরিয়া হিসাবে চিহ্নিত করে সেখানকার গ্রামগুলোকে সরানো শুরু হয়েছে। পান্নাতেও ভবিষ্যতে তাইই করতে হবে, মাঝখান থেকে ঝরে যাবে কিছু নিরুপায় প্রাণ। [সূত্র ১৪]

    নর্মদা বাঁচাও আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা মেধা পাটকরসহ প্রায় ৫০০ জাতীয় সংগঠন ও সামাজিক আন্দোলনের প্রতিনিধি এই আন্দোলনের সমর্থনে আবেদন জানিয়েছেন। এই পর্যন্ত যা যা লিখলাম তাতে আশঙ্কা হচ্ছে কেন বেতোয়া প্রকল্প আরেকটা সর্দার সরোবর প্রকল্প হতে চলেছে। কেন বলছি একথা? দুটো প্রকল্পের পরিসংখ্যানগুলো পাশাপাশি রাখলে একটা প্যাটার্ন দেখা যায়। আসুন দেখি একটু।

    কেন-বেতোয়া কি আরেকটা সর্দার সরোবর প্রকল্প হতে চলেছে?
    সর্দার সরোবর প্রকল্প বাস্তবায়িত হওয়ার পরে জানা যাচ্ছেঃ-

    • মধ্যপ্রদেশ, গুজরাট ও মহারাষ্ট্রের কয়েক লক্ষ মানুষ, বিশেষত আদিবাসীরা, ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ হয়েছেন এবং সরকার তাদের সঠিক পুনর্বাসনের কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করেনি। সর্দার সরোবর প্রকল্পের কারণে ২৪৫টি জলমগ্ন গ্রামের ২,৫০,০০০-এরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং সমসংখ্যক মানুষ প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোর কারণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
    • নর্মদা বাঁচাও আন্দোলনের হিসাবে, শুধু মধ্যপ্রদেশেই অন্তত ৪০,০০০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
    • ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত সাক্ষাৎকার নেওয়া (Oral History Narmada প্রকল্প) বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিরা এখনো বলছেন পুনর্বাসনস্থলে তাঁরা কখনোই পুরোপুরি পুনর্বাসিত বোধ করেননি। অনেকে পানই নি।
    • আন্দোলন প্রায় চার দশক ধরে চলেছে (১৯৮৫ থেকে), মেধা পাটেকরের নেতৃত্বে, এবং শেষ পর্যন্ত বাঁধ থামানো যায়নি। শুধু সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে সাময়িক বিলম্ব ও পুনর্বাসনের কিছু শর্ত আরোপিত হয়েছিল।
      [সূত্র ১৫]



    নির্মাণাধীন কেন বেতোয়া প্রকল্প সম্পর্কে যা এখন অনুমান করা হচ্ছেঃ-

    • ৭,১৯৩ পরিবার, ২২-২৪টি গ্রাম বাস্তুচ্যুত (নর্মদার তুলনায় সংখ্যায় অনেক কম) হবে।
    • ৬,০১৭ হেক্টর বনভূমি/সংরক্ষিত এলাকা, ১৭ হাজার থেকে ৪৮ লাখ (বিভিন্ন হিসাবে) গাছ কাটা পড়বে।
    • আন্দোলন মাত্র কয়েক বছরের পুরনো, এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে আছে।



    তাহলে দুটো প্রকল্প পাশাপাশি রাখলে দেখতে পাই
    ১) স্কেলের পার্থক্য বিশাল। সর্দার সরোবর প্রকল্পে লাখ লাখ মানুষ, কেন বেতোয়ায় হাজারখানেক পরিবার আক্রান্ত। কিন্তু প্যাটার্ন প্রায় অভিন্ন। দুই ক্ষেত্রেই আদিবাসী/বনবাসী জনগোষ্ঠী আক্রান্ত, অপর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসনের অস্পষ্ট পরিকল্পনা। স্বচ্ছতার অভাব এবং উন্নয়নের নামে গরীব জনগোষ্ঠীর উচ্ছেদ হওয়া।
    ২) সর্দার সরোবর প্রকল্প আমাদের দেখিয়ে দিয়েছে "অনুমান" আর "বাস্তবতা"র ফারাক কতটা হতে পারে। বাঁধ চালু হওয়ার তিন দশক পরও (২০২৩ সালের ওরাল হিস্ট্রির সাক্ষাৎকার অনুযায়ী) মানুষ বলছেন তাঁরা প্রকৃত অর্থে পুনর্বাসিত হনইনি। তাই কেন বেতোয়ার ক্ষেত্রে “ক্ষতিপূরণ পাবে" এই সরকারি প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবায়িত হবে তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় আছে। এইজন্য মেধা পাটেকর, দিব্যা আহিরওয়ার, হিমাংশু ঠক্কর নর্মদার নজিরকেই উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন।
    ৩) প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত-পরিবর্তনের নজির যদি দেখি তাহলে সর্দার সরোবর বাঁধের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের চাপে সরকার বাঁধের উচ্চতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত থেকে কিছুটা সরে আসতে বাধ্য হয়েছিল; যদিও গুজরাট সরকারের চাপে প্রাথমিক পরিকল্পনার তুলনায় বাঁধের উচ্চতা অনেকটাই বেশী রাখা হয়েছে। যাই হোক সেটা নিয়ে অন্য আরেকদিন লেখা যাবেখন। এখানে কেন বেতোয়া প্রকল্পের ক্ষেত্রে এখনো তেমন বড় বিচার বিভাগীয় হস্তক্ষেপ ঘটেনি। প্রকল্প সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে চলছে।
    ৪) প্রাণী-বাস্তুতন্ত্রের দিক থেকে কেন বেতোয়া প্রকল্পের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি আলোচিত। কারণ এটি সরাসরি একটা ব্যাঘ্র সংরক্ষণাগারের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে নর্মদা বাঁধের ক্ষেত্রে মূল উদ্বেগ ছিল মানুষের বাস্তুচ্যুতি ও নদীর প্রবাহ-পরিবর্তন।

    সংক্ষেপে বলা যায় হাতে পাওয়া তথ্য মিলিয়ে দেখলে কেন বেতোয়া প্রকল্প অনেকটা সর্দার সরোবর প্রকল্পের ছোট সংস্করণ হিসেবে দেখা যায়। একই ধরনের সামাজিক পরিবেশগত সংঘাত, তবে এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে থাকায় ফলাফল সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যায় না। একটা আস্ত টাইগার রিজার্ভ অর্থাৎ বড়সড় বাস্তুতন্ত্র ডুবিয়ে দেওয়ার ফল আরো ভয়ানক হতে পারে, যা আমরা এখন আন্দাজ করতে পারছি না।

    সরকারী দাবীর গ্রাফিকাল প্রোজেকশান
    সরাসরি জল শক্তি মন্ত্রণালয় বা NWDA প্রকাশ করা কোনো সরকারি ইনফোগ্রাফিক আমি খুঁজে পাইনি। এই সংখ্যাগুলো সংসদীয় জবাব, বিস্তারিত প্রকল্প প্রতিবেদন (DPR) এবং সরকারি বিবৃতি থেকে সংকলন করে সংগৃহীত সরকারি পরিসংখ্যান দিয়ে Claude AI Tool একটা তুলনামূলক চার্ট বানিয়ে দিয়েছে যাতে দেখা যায় প্রকল্পের দাবি করা সুবিধাগুলো রাজ্যভিত্তিক ও ক্ষেত্রভিত্তিক কেমন।



    দুটো চার্টেই সরকারের নিজস্ব দাবি করা সংখ্যা তুলে ধরা হয়েছে (Jal Shakti মন্ত্রণালয় ও সরকারি DPR সূত্রে)।

    সরকারি দাবী অনুযায়ী মধ্যপ্রদেশে ৪৪ লাখ ও উত্তরপ্রদেশে ২১ লাখ মানুষকে পানীয় জল সরবরাহ হবে। ৯.০৮ লাখ হেক্টর জমিতে সেচ (৭ লাখেরও বেশি কৃষক পরিবার উপকৃত হবে, প্রায় ২,০০০ গ্রামে), ১০৩ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ এবং ২৭ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ। উৎপন্ন হবে। [সূত্র ১৬]

    প্রতিবাদীদের দাবীর গ্রাফিকাল প্রোজেকশান



    কোনো একক প্রতিবাদী সংগঠন বা সংবাদমাধ্যম এমন আনুষ্ঠানিক ইনফোগ্রাফিক প্রকাশ করেনি। আমি Claude AI Tool এর সাহায্যে বিভিন্ন প্রতিবেদন (Down To Earth, The Quint, Vikalp Sangam) থেকে সংখ্যাগুলো সংগ্রহ করে চার্টে বসিয়েছি, যাতে তুলনাটা সহজবোধ্য হয়।
    এই চার্ট তৈরি হয়েছে প্রতিবাদীদের/পরিবেশবাদীদের মূল দাবি করা সংখ্যা দিয়ে।
    (গাছ কাটা) সম্পর্কে সরকারি সংসদীয় জবাব বলছে ১৭,১০১টি (০.১৭ লাখ), কিন্তু বিভিন্ন পরিবেশবাদী/গবেষণা সূত্র ২৩ লাখ থেকে ৬০ লাখ পর্যন্ত অনুমান করেছে। ওদিকে ২০১৭ সালের পুরনো সরকারি নথিতেই ছিল ১৮ লাখ (হাজার নয়)। এই বিশাল ফারাকই একটা বড় বিতর্কের বিষয়। কোন সংখ্যাটা সঠিক তা নিয়ে সরকার-পরিবেশবাদী মতানৈক্য প্রকট।

    বুন্দেলখন্ডের তীব্র জলাভাব মেটানোর কোন বিকল্প আছে কি?
    সরকার এই প্রকল্পের মুখ্য সুবিধা হিসাবে খরাপ্রবণ বুন্দেলখন্ডের জলাভাব মেটানোকে তুলে ধরছেন। পরিবেশ সংক্রান্ত ঝুঁকি ও ব্যাপকহারে ক্ষয়ক্ষতির কথা বললে সাধারণত ‘উন্নয়নবিরোধী’, ‘ব্যাগড়াবাদী’ ইত্যাদি নানা তকমা জোটে। আর ২০২৬ সালেও একটা বিস্তীর্ন এলাকা স্রেফ ‘খরাপ্রবণ’ বলে চিহ্নিত হয়ে হতদরিদ্র হয়ে থেকে যাবে এটাও কোন কল্যাণকামী রাষ্ট্রের কাম্য হতে পারে না। তাহলে এবার দেখা যাক নদীদের সংযুক্ত না করে, দাউধন বাঁধ তৈরী না করে বিকল্প কোন পথ নেওয়া যায় কিনা। একাধিক বিশেষজ্ঞ ও সংগঠন বিকল্প পথের সন্ধান দিয়েছেন। এদের মধ্যে সবচেয়ে সোচ্চার হলেন South Asia Network on Dams, Rivers and People (SANDRP) এর আঞ্চলিক সমন্বয়ক হিমাংশু ঠক্কর। তিনি বলছেন প্রাচীন ও জীববৈচিত্র্যপূর্ণ বনাঞ্চল ধ্বংস করে জলাধার নির্মাণ এবং নদীর মোড় ঘোরানো, বনের জলবিজ্ঞানগত অবদানকে উপেক্ষা করে করা নিছক বিবেচনাহীনতা।

    প্রস্তাবিত বিকল্প উপায়সমূহ:-
    ১) বৃষ্টির জল ধরে রাখা (Rainwater Harvesting)
    বুন্দেলখণ্ডের গড় বার্ষিক বৃষ্টিপাত ৯০০ মিমি-এর বেশি, যা যেখানে পড়ে সেখানেই ধরে রাখা গেলে বড় ধরনের বিরূপ প্রভাব বা বিশাল অর্থনৈতিক ব্যয় ছাড়াই বুন্দেলখণ্ডের জল সমস্যা দ্রুত সমাধান করা সম্ভব।
    ২) বিকেন্দ্রীভূত, স্থানীয় জল সংরক্ষণ কাঠামো পুনরুজ্জীবন
    বড় প্রকৌশল প্রকল্পের চেয়ে উপস্থিত জল সংগ্রহ কাঠামো পুনরুজ্জীবিত করা আর্থিকভাবে বেশী সাশ্রয়ী ও পরিবেশের জন্য কম ক্ষতিকর বিকল্প হবে। পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রের উপযোগী ও স্থানীয় অধিবাসী সম্প্রদায়কে জল সম্পদ ব্যবস্থাপনায় যুক্ত করা বিকেন্দ্রীভূত সমাধানই নতুন ও ব্যয়বহুল অবকাঠামোর চেয়ে বেশি যুক্তিসঙ্গত।
    ৩) গ্রাম ও বনাঞ্চলে ছোট পুকুর-জলাধারের ঘন নেটওয়ার্ক তৈরি
    সামাজিক ও পরিবেশগত ব্যয় অত্যধিক হলে, সরকারের উচিত বুন্দেলখণ্ডে সেচ পৌঁছানোর লক্ষ্য একই রেখে পদ্ধতি বদলানো। গ্রাম ও বনাঞ্চলে অল্প ব্যবধানে ছোট পুকুর ও জলাধার নির্মাণের ভিত্তিতে বিকেন্দ্রীভূত, স্থানীয় অধিবাসী সম্প্রদায় দ্বারা পরিচালিত জল সংগ্রহ ও ব্যবহারের মডেল বিবেচনা করা উচিত।
    ৪) কেন্দ্রীয় জল কমিশনের ভূমিকা পুনর্বিবেচনা
    শ্রী ঠক্কর মনে করেন, কেন্দ্রীয় জল কমিশন একটি স্বাধীন প্রযুক্তিগত প্রতিষ্ঠান না হয়ে বৃহৎ বাঁধের পক্ষে লবি হিসেবে কাজ করেছে, যা স্থানীয় জল ব্যবস্থা ও ভূগর্ভস্থ জল পুনঃপুরণে বিনিয়োগকে ক্রমাগত পিছিয়ে দিয়েছে।
    ৫) ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট থেকে শিক্ষা
    প্রায় ৪-৫ দশক আগেও বুন্দেলখণ্ড জল সংকটাপন্ন অঞ্চল হিসেবে পরিচিত ছিল না, কারণ তখন এখানে ঘন বনাঞ্চল ও স্থানীয় জল ব্যবস্থা ছিল। সেই ব্যবস্থা ধারাবাহিক অবহেলা ও ধ্বংসের মধ্য দিয়ে আজকের এই সংকটাপন্ন পরিস্থিতিতে পৌঁছেছে।
    [সূত্র ১৭]

    তবে সরকার এইসব কথায় কান দিতে নারাজ। খবরে প্রকাশ সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক গঠিত কেন্দ্রীয় ক্ষমতাপ্রাপ্ত কমিটি (Central Empowered Committee - CEC) প্রকল্প সম্পর্কে একটি সমালোচনামূলক প্রতিবেদন দিয়েছিল, যা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়েছে। দিল্লিতে VIDHI সেন্টার ফর লিগ্যাল পলিসি আয়োজিত এক আলোচনায় প্রাক্তন জল সম্পদ সচিব শশী শেখর ও প্রাক্তন মধ্যপ্রদেশ বন সংরক্ষক প্রধান জসবীর সিং চৌহানও প্রশ্ন তুলেছেন যে প্রকল্পটির জন্য সহজলভ্য, সস্তা, দ্রুত ও অধিকতর উপযুক্ত বিকল্পগুলো যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি কেন? CEC কমিটি প্রস্তাব করেছিল যে বুন্দেলখণ্ডের সেচ ও দারিদ্র্য দূরীকরণের লক্ষ্য সস্তা, স্থানীয় জল সংরক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমেই অর্জন করা সম্ভব। আর বাঘ সংরক্ষণ ও শকুন ঘড়িয়াল প্রভৃতি প্রজাতির পুনরুদ্ধার কর্মসূচির প্রকৃত ব্যয় হিসাব করলে প্রকল্পের অর্থনীতির চিত্র ভিন্ন দেখাবে। [সূত্র ১৮]

    তাহলে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে বিশেষজ্ঞরা মূলত বিশাল বাঁধ ও খাল ভিত্তিক প্রকল্পের পরিবর্তে বিকেন্দ্রীভূত, স্থানীয় অধিবাসীদের দ্বারা চালিত, কম খরচের স্থানীয় জল সংরক্ষণ পদ্ধতির পক্ষে সওয়াল করছেন। কিন্তু সরকারবাহাদুর তাতে কান দিতে নারাজ। মধ্যপ্রদেশে আবার তথাকথিত ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার। আর বৃহৎ বাঁধ মানেই প্রচুর টাকার খেলা, কাজেই কেন্দ্রীয় জল কমিশান নাকে কানে তুলো গুঁজে বড় বাঁধের পক্ষে সওয়াল করে গেছে। ফলে দেখা যাচ্ছে ভারতের প্রথম নদী সংযোগ প্রকল্পে বাঘ ঘড়িয়াল ও শকুনের বিচরণক্ষেত্র, আদিবাসীদের ভিটে ও জলবিজ্ঞানের হিসাব তিনটেই একসাথে প্রশ্নের মুখে।

    বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই লেখায় ব্যবহৃত সংখ্যাগুলো সময়ের সাথে (২০১৭ থেকে ২০২৬) এবং সূত্রভেদে অনেকটাই বদলেছে। এটা প্রকল্পের ধাপে ধাপে সংশোধিত পরিকল্পনা, বিভিন্ন সংস্থার আলাদা পদ্ধতি এবং সরকার বনাম পরিবেশ আন্দোলন কর্মীদের হিসাবের পার্থক্যের কারণে হয়েছে।

    [সূত্র ১] - https://www.deccanherald.com/amp/story/india%2Fmou-signed-for-implementing-ken-betwa-river-interlinking-scheme-965085.html
    Ken Betwa Link Project (KBLP): Background, Features, Timeline & Status | UPSC
    [সূত্র ২] - https://missionupsctracker.com/current-affairs/2026-07-26-tribal-protests-intensify-over-ken-betwa-river-linking-project
    [সূত্র ৩] https://www.business-humanrights.org/en/latest-news/india-villagers-protest-against-ken-betwa-link-project-citing-displacement-inadequate-compensation-lack-of-consultation/
    [সূত্র ৪] - https://inscript.me/ken-betwa-river-link-project-indias-first-river-linkage-program-causing-eviction-of-marginal-people-and-wild-life
    [সূত্র ৫] - https://www.thequint.com/opinion/ken-betwa-river-linking-project-hunger-strike-amit-bhatnagar
    https://www.thequint.com/opinion/ken-betwa-river-linking-project-hunger-strike-amit-bhatnagar)
    [সূত্র ৬] - https://www.downtoearth.org.in/environment/ken-betwa-link-leaves-tribal-families-fighting-for-fair-compensation
    https://www.business-humanrights.org/en/latest-news/india-villagers-protest-against-ken-betwa-link-project-citing-displacement-inadequate-compensation-lack-of-consultation/
    [সূত্র ৭] – https://countercurrents.org/2026/05/end-repression-defend-democratic-rights-ensure-justice-and-dignity-for-communities-resisting-the-ken-betwa-river-linking-project/
    https://www.downtoearth.org.in/dams/police-and-administration-forcibly-remove-people-participating-in-pyre-protests-against-ken-betwa-link-project
    https://www.counterview.net/2026/05/arrests-over-ken-betwa-protests-revive.html
    https://countercurrents.org/2026/05/end-repression-defend-democratic-rights-ensure-justice-and-dignity-for-communities-resisting-the-ken-betwa-river-linking-project/
    [সূত্র ৮] - https://www.downtoearth.org.in/environment/ken-betwa-project-tribal-women-stage-pyre-protest-in-protest-against-displacement
    https://www.downtoearth.org.in/governance/ken-betwa-project-protest-leader-to-end-fast-after-administration-orders-fresh-verification
    [সূত্র ৯] - https://www.asianews.it/en/south-asia/india/the-ken-betwa-project-reignites-tribal-protests
    [সূত্র ১০] - https://www.pressreader.com/india/hindustan-times-bathinda/20170515/282007557318671
    [সূত্র ১১] - https://qukut.com/ken-betwa-link-project-2026/
    [সূত্র ১২] - https://www.nationalheraldindia.com/national/over-17000-trees-to-be-felled-for-ken-betwa-project-centre
    https://vikalpsangam.org/article/condemn-the-violation-of-the-rights-of-project-affected-people-of-ken-betwa-interlinking/
    [সূত্র ১৩] - https://www.pressreader.com/india/hindustan-times-bathinda/20170515/282007557318671
    [সূত্র ১৪] - https://missionupsctracker.com/current-affairs/2026-07-26-tribal-protests-intensify-over-ken-betwa-river-linking-project
    [সূত্র ১৫] - https://askfilo.com/user-question-answers-smart-solutions/nrmdaa-baancaao-aandoln-kii-nrmdaa-baancaao-aandolner-kaarnn-3436363431343731
    https://oralhistorynarmada.in/impact-of-submergence-and-displacement/
    https://sriharsha.in/narmada-valley-displacement/
    [সূত্র ১৬] - https://www.indiawaterportal.org/rivers-and-lakes/displacement/ken-betwa-river-inter-linking-project-between-bundelkhands-thirst-and-a-forests-survival
    https://www.indiawaterportal.org/rivers-and-lakes/displacement/ken-betwa-river-inter-linking-project-between-bundelkhands-thirst-and-a-forests-survival)
    [সুত্র ১৭] - https://sandrp.in/2026/05/05/interview-on-interlinking-of-rivers-an-idea-delinked-from-realities/
    https://www.indiaspend.com/pipe-dreams-why-interlinking-ken-betwa-will-not-solve-bundelkhands-water-crisis
    https://sandrp.in/2026/05/16/yamuna-manthan-may-2026-ken-betwa-linking-needs-urgent-reassessment/
    [সূত্র ১৮] - https://thekashmirimages.com/2025/02/21/ken-betwa-link-project-politically-motivated-shouldve-never-been-approved-experts/)
    https://sandrp.in/2025/02/24/drp-nb-240225-unanswered-questions-on-ken-betwa-project/
    https://www.indiawaterportal.org/rivers-and-lakes/displacement/ken-betwa-river-inter-linking-project-between-bundelkhands-thirst-and-a-forests-survival


    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক।
    পর্ব ১
  • আলোচনা | ১০ আগস্ট ২০২৬ | ৩৩৮ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Somnath mukhopadhyay | ১০ আগস্ট ২০২৬ ১২:৩২742177
  • এও এক আন্দোলনের সূচনা হলো। এই লেখালেখির মাধ্যমে আমরা জনমতকে তুলে ধরি।
  • অরিন | ১০ আগস্ট ২০২৬ ১৪:০৩742179
  • সুলিখিত এবং বিস্তারিত ভাবে দময়ন্তী লিখেছেন। দুদিন আগে সোমনাথবাবুকেও লিখতে দেখলাম। যেহেতু মনে হয় আরো কয়েকচ্ পর্ব আসছে তাই আমার কমেন্ট পরে করব। আপাতত কতগুলো পয়েন্ট আমাদের বিবেচনা করা যেতে পারে:
    প্রথমত, এখানে ঠিক কি হচ্ছে সেটা পরিষ্কার নয়। দুটো পাশাপাশি নদী, তার মধ‍্যে একটি বহতা নদীতে বাঁধ দিয়ে সেখানে একটি স্থির (অপেক্ষাকৃত) জলাধার নির্মাণ করে সেখানে খাল কেটে অন‍্য নদীতে জল পাঠানো হবে। একে কি নদী সংযোগ বলা যাবে না জলের transfer বলা উচিত, কারণ এর ফলে দাউধন বাঁধের downstream কেন নদীর জলের পরিমাণ কমবে। তার একটি প্রভাব পড়বেই পরিবেশের ওপর। আপনি যদি এদের Environmental impact Report পড়ে দেখেন, এ নিয়ে প্রায় কিছু লেখা নেই।
    দ্বিতীয়ত, অবধারিতভাবে মধ‍্যভারতে তো বটেই, অন‍্যত্রও মশা জনিত এবং অন্যান্য Zoonotic disease বা বন‍্যপ্রাণী জনিত ভাইরাল অসুখের প্রকোপ বাড়বে, এই ব্যাপারগুলো নিয়েও কিছু আলোচনা চোখে পড়ল না। হয়ত দময়ন্তী পরে লিখবেন
    তিন, groundwater নিয়েও EIA নীরব।
     
    আমার এই প্রতিবেদন এবং সোমনাথবাবুর লেখা পড়েও মনে হল এক মারাত্মক কুফল হতে চলেছে যার প্রভাব কিন্তু উন্নয়নের যাই সুফল হোক তাকে ছাপিয়ে যাবে।
  • স্বাতী রায় | ১০ আগস্ট ২০২৬ ১৬:১৩742184
  • এই সিরিজ টা শুরু করার জন্য ভগবান বলে কেউ থাকলে যেন তোমার একাউন্টে অনেক পুণ্য জমা করেন।
    সরকারি প্রকল্পে কোন রকম ব্যুরোক্রেটিক জালি থাকবে না, ঘাপলা থাকবে না এমন আশা করি না। আর মানুষকে মানুষ বলে মনে না করার সমস্যা ১৯৪৭ থেকে ধাপে ধাপে বেড়েছে, কাজেই ক্ষতিপূরণ টুরন সময়ে ও উপযুক্ত মাপে আসবে এত আসা করি কি করে ?
    আমার কৌতূহল ছিল নদী জুড়ে দেওয়ার মতন খোদার উপর খোদকারি করাতে বাস্তুতন্ত্রের সম্ভাব্য ক্ষতির ব্যাপারটাতে। এদেশে নদী জুড়ে দেওয়ার আইডিয়া বোধহয় প্রথম আনেন কটন সাহেব, যতদূর জানি। যদিও তিনি করে উঠতে পারেননি। তার স্বপ্নের কৃষ্ণা গোদাবরীর সংযুক্তিকরণ হয় ২০১৫ নাগাদ। ইন্টারেস্টিংলি পরের দশ বছরে কী কী ইকোলজিকাল বদল হল, কী ধরনের নতুন সমস্যা তৈরি হল সেটা নিয়ে কিন্তু কোন মালটি প্যারামিটার সিস্টেমেটিক স্টাডি হয়নি। আমাদের দেশে প্রতি বছর রাশি রাশি ছাত্র বিশ্ববিদ্যালয় / ইনস্টিটিউট থেকে পাস করে বেরোয়, তাদের নিশ্চয় রিসার্চ প্রজেক্ট ও লাগে, তাদের কাজে লাগালেও হয়ত অনেকটা কাজের কাজ হত। এবং সেই ডেটা আজকের কেন বেতোয়ার আগে একটা ভ্যালিড আলোচনার জায়গা তৈরি করত। এই সব কিন্তু আমাদের দেশে হয় না। আমাদের দেশে আমরা যে কোন প্রজেক্টের শুরুতে প্রচুর চেঁচামেচি করি, কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদী কোন একাডেমিক বেসলাইন তৈরির চেষ্টা করি না। হ্যাঁ সরকারের কোন দায় পড়ে নি, এতকিছু ভাবার ক্ষমতা আছে কি না তাও জানা নেই, কিন্তু একাডেমিক রাও চাইলে কী কিছুটা গ্যাপ পূরণ করতে পারতেন না ?
     
    পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।
  • nandini | ১০ আগস্ট ২০২৬ ১৮:৩৩742185
  • খুব গোছানো চমৎকার লেখা। নিচে দেয়া সুত্রগুলো পড়িনি এখনও। পড়ব আস্তে আস্তে। বিকল্পগুলো দেখে ভাল লাগল। এগুল আমাদের গ্রামদেশে আগে ত মানত। এখনও মানলেই হয়।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ঝপাঝপ প্রতিক্রিয়া দিন