এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  আলোচনা  পরিবেশ

  • নদী জোড়ো প্রকল্প, চিতা আন্দোলন এবং উন্নয়ন

    সোমনাথ মুখোপাধ্যায়
    আলোচনা | পরিবেশ | ০৮ আগস্ট ২০২৬ | ২৯২ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • অলংকরণ: রমিত



    সেই সেকালের গল্প - নলের জল 

    অনেকদিন আগের কথা। পাড়ায় পাড়ায় রাস্তা খুঁড়ে বড় বড় পাইপ বসানোর কাজ শুরু হয়েছে স্থানীয় মিউনিসিপ্যালিটির উদ্যোগে। তখন তো আর জেসিবি মেশিনের বালাই ছিলনা। গাইতি আর শাবল দিয়ে রীতিমতো শরীরের ঘাম ঝড়িয়ে মাটি কেটে গর্ত খোঁড়ার কাজ করতে হতো। যাইহোক সেই মাটি খোঁড়া আর পাইপ বসানোর কাজ দেখতে দেখতেই আমাদের সময় কেটে যেত। গোটা ব্যাপারটাকেই বেশ রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা বলে মনে হতো আমাদের। একসময় নলপথে এলো জল। সকাল - দুপুর - সন্ধ্যায় আসা জলের জোগানে আমাদের পাড়ার তখন একরকম জলভাসি অবস্থা। ঘড়ির কাটার নড়নচড়নের সাথে আম আদমির জলজীবন কেমন আশ্চর্যভাবে যুক্ত হয়ে গেল। আশেপাশের এলাকার লোকজন এই জল মহোৎসবে সামিল হয়ে রীতিমতো উত্তেজিত। দাবি উঠলো – আমাদের‌ও এমন পরিষেবার আওতায় আনা হোক। মানা হলো সেই দাবি। কিছুদিনের মধ্যেই ও পাড়াতেও এল নলের জল। আমাদের মতো তেনারাও তখন হৈচৈ বাঁধিয়ে উৎসবের মেজাজে। বেশ চলছিল। গোল তৈরি হলো দুই পাড়ার পাইপ জুড়ে দেবার পরে। ভাগিদার বাড়লে মাথাপিছু বখরায় টান পড়ে। আমাদের হলো তেমন দশা ! জলের গণতান্ত্রিক ভাগাভাগি নিয়ে শুরু হলো আকচাআকচি। দিন দিন আমাদের জলের ভাগে টান পড়তে শুরু করায় বাড়লো উদ্বেগ উৎকন্ঠা। পরের কাহিনি অনেক দূরে গড়িয়ে যাবে তাই আপাতত এই আলোচনা থেকে সরে গিয়ে আমরা যাব মন্দির শহর খাজুরাহোতে। 

    যতো খবর খাজুরাহোতে……

    খাজুরাহো,মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের এক মন্দিরশহর তথা বিখ্যাত পর্যটনকেন্দ্র। ফি বছর দেশ বিদেশের অগণিত মানুষ ভিড় করেন ইউনেস্কো স্বীকৃত এই ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটে। তবে আজ আপনাদের এখানে নিয়ে এসেছি সম্পূর্ণ আলাদা এক উদ্দেশ্য নিয়ে। এই মুহূর্তে মধ্যপ্রদেশের খাজুরাহোর দিকে সকলের নজর, কেননা এখানেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী মাননীয় শ্রী নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদী ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন “কেন - বেতোয়া নদী সংযোগ প্রকল্পের”। ২০২১ সালের ২২ মার্চ, নতুন দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে উত্তরপ্রদেশ ও মধ্যপ্রদেশ সরকারের মধ্যে এই দুই নদীকে খালের সাহায্যে যুক্ত করার এক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এর মুখ্য উদ্দেশ্যেই হলো প্রবল খরা পীড়িত বুন্দেলখণ্ড অঞ্চলে সেচের জল সরবরাহ করা। পশ্চিমঘাট পর্বতের পূর্ব ঢালের বৃষ্টিচ্ছায়া অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় এই এলাকায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ নগণ্য যা কৃষির সম্প্রসারণে কেবলমাত্র প্রবল বাধা সৃষ্টি করেনি, মানুষের জীবনযাপনের ন্যূনতম সুযোগকেও প্রবল ভাবে সীমায়িত করেছে। এইসব সমস্যার কথা মাথায় রেখেই এমন প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা ভাবা হয়। আজ পাঁচ বছর পর লাল ফিতের জট কাটিয়ে তা রূপায়ণের জন্য কাজ শুরু হলো বলা যায়।

    যমুনার দুই সখী– কেন এবং বেতোয়া 

    নদীমাতৃক ভারতবর্ষের মধ্যভাগের দুই প্রতিনিধি হলো কেন ( Ken ) এবং বেতোয়া। কেন নদী সম্ভবত ভারতের একমাত্র নদী যাকে এখনও পর্যন্ত বাঁধের বাঁধনে বেঁধে ফেলা হয় নি। যমুনার সখী হয়েই সে আজ পর্যন্ত স্বচ্ছন্দ গতিতে বয়ে চলেছে আপনছন্দে। ৪২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নদীর উৎস মধ্যপ্রদেশের কাটনি জেলার বার্ণের শৈলশ্রেণির উত্তর পশ্চিম ঢালে অবস্থিত আহিরগাঁওন গ্রামের কাছে। কেন নদী তার গতিপথের প্রথম ২৯২ কিলোমিটার প্রবাহিত হয়েছে মধ্যপ্রদেশের মধ্য দিয়ে, পরবর্তী ৮৪ কিলোমিটার দূরত্ব উত্তর প্রদেশের মধ্য দিয়ে এবং অন্তিম ৫১ কিলোমিটার পথ দুই রাজ্যের সীমান্ত বরাবর বয়ে গিয়ে উত্তর প্রদেশের বান্দা জেলার চিল্লা ঘাটে যমুনার সঙ্গে মিশে গেছে। এই নদী প্রবাহের মাধ্যমে রেওয়া এবং সাতনা মালভূমি বিভাজিত হয়েছে দুটি আলাদা অংশে। মালভূমির গঠনগত বৈচিত্র্যের ফলে সৃষ্টি হয়েছে অনেকগুলো জলপ্রপাতের। পাথুরে মালভূমির ওপর দিয়ে বয়ে যাবার সময় তৈরি করেছে দীর্ঘ, সুগভীর গিরিখাত।

    অন্যদিকে সুপ্রাচীন বেত্রবতী বা হাল আমলের বেতোয়া নদীর উৎপত্তি সাবেক হোসাঙ্গাবাদ বা বর্তমানের নর্মদাপুরমের উত্তরে বিন্ধ্য পর্বতে। এখান থেকে মধ্যপ্রদেশের মধ্য দিয়ে উত্তর পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়ে ওরছার কাছে উত্তরপ্রদেশে প্রবেশ করেছে। পরিশেষে উত্তরপ্রদেশের হামিরপুর জেলায় যমুনার সঙ্গে মিশে গেছে। মালব মালভূমির ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া এই নদীটির অনেকটাই অনাব্য। সহযোগী কেন নদীর তুলনায় বেশ খানিকটা লম্বা এই নদীর দৈর্ঘ্য ৫৯০ কিলোমিটার। এর মধ্যে ২৩২ কিলোমিটার মধ্যপ্রদেশের মধ্য দিয়ে এবং বাকি ৩৫৮ কিলোমিটার দূরত্ব প্রতিবেশী উত্তরপ্রদেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এই দুই রাজ্যের লোকজীবনের সঙ্গে বেত্রবতী তথা বেতোয়ার গভীর সম্পর্ক 
    রয়েছে। প্রাচীন চেদী রাজবংশের রাজধানী একদা এই নদীর তীরেই অবস্থিত ছিল। যমুনার দুই সখী হিসেবে গণ্য এই দুই নদীকে ঘিরেই এই মুহূর্তে নতুন স্বপ্নের বীজ বপন করতে চাইছে দুই সরকার, সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে বিরোধ, বিতর্ক। সেই আলোচনায় যাবার আগে আমরা নদী জোড়ো প্রকল্পের বাস্তবতা নিয়ে খানিকটা আলোচনা করবো।

    নদী জোড়ো প্রকল্পের ভালো - মন্দ 

    এই আলোচনার একদম গোড়াতে যে কাহিনির কথা বলেছিলাম সেই প্রসঙ্গেই ফিরবো, তবে এক্ষেত্রে নল বাহিত জলের পরিবর্তে নদী জলের কথা আসবে। উদ্বৃত্ত অঞ্চল থেকে ঘাটতি এলাকায় কিছু সরবরাহ করার মধ্যে তো কোনো অন্যায় বা অসঙ্গতি নেই। বরং বলা যায় যে এমনটিই একটি কাম্য বন্টন ব্যবস্থার আদর্শ ও লক্ষ্য হ‌ওয়া উচিত। এ ধরনের উন্নয়নমুখী কর্মসূচিকে স্বাগত জানাতে বাধা কোথায়? এই ভাবনাকে মাথায় রেখেই কেন নদীর বাড়তি জল খাল পথের মাধ্যমে বেতোয়া নদীতে পাঠানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে যে এই বাড়তি জলে বেতোয়া অববাহিকায় বসবাসরত মানুষজনের জলের ঘাটতি যথাযথ ভাবে মেটানো সম্ভব হবে।

    সভ্যতার একেবারে আদি পর্ব থেকেই মানুষ নদীর সঙ্গে এক নিগূঢ় সম্পর্কের বন্ধনে আবদ্ধ। নদীর জলে মিটেছে তার তৃষ্ণা, কৃষির প্রসার সুনিশ্চিত হয়েছে নদী জলের মাধ্যমে, জীববৈচিত্রের সরক্ষণ ও প্রবর্ধনে নদীর ভূমিকা অপরিসীম, নদীর পলি সমৃদ্ধ করেছে কৃষি জমিকে, গড়ে তুলতে সাহায্য করেছে জল চক্রের এক আশ্চর্য তন্ত্র। মানুষের আর্থ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে নদীর গুরুত্ব বলে শেষ করা যাবে না। 

    এই গুরুত্বের কথা মাথায় রেখেই ১৯৮০ সালে ভারতে নদীগুলোর মধ্যে সংযোগ স্থাপনের জন্য খসড়া পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। মনে করা হয়েছিল দেশের যেসব নদী অতিরিক্ত জল বহন করে সেই সব নদীর জলের একাংশ স্বল্প জলবাহী নদীতে নিয়ে আসা যায় তাহলে দেশজুড়ে একটা সুষম জলবন্টন ব‌্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে। পর্যাপ্ত জলের জোগানের অভাবে পিছিয়ে থাকা অঞ্চলগুলোও সমস্ত প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে জাতীয় উন্নয়নে সামিল হতে পারবে।
    নদী সংযোগ প্রকল্প প্রকৃতপক্ষে ছিল নদী অববাহিকাগুলোর মধ্যে এক কার্যকর সংযোগ সাধনের প্রয়াস যার আওতায় প্রাথমিক ভাবে ৩০ টি প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা ভাবা হয়েছিল। এই লক্ষ্য পূরণের জন্য ৩০০০ স্টোরেজ ব্যবস্থা স্থাপনের মাধ্যমে উত্তর ভারত ও উপদ্বীপীয় মালভূমির মোট ৩৭ টি নদীকে জুড়ে দেবার ইচ্ছে প্রকাশ করা হয়।

    নদীতে বাঁধ দিয়ে,বহতা নদীর জল ধরে রেখে তা দিয়ে মানুষের বহুমুখী কল্যাণ সাধনের যে পরিকল্পনার কথা বলা হয় এক্ষেত্রে আবার সেগুলোকে পেশ করা হলো– ৩৩ হাজার গিগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদন, ৩৫ মিলিয়ন হেক্টর জমিতে সেচের সুযোগ সম্প্রসারণ, জলপথ পরিবহনের সুযোগ সৃষ্টি, মৎস্য পালনের সুযোগ সম্প্রসারণ ইত্যাদি ইত্যাদি। এমন গালভরা প্রতিশ্রুতির কথা শুনতে শুনতে আমরা সবাই ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। আমরা সবাই একথা বুঝে গিয়েছি যে এই সব আলোকিত প্রতিশ্রুতির আড়ালেই আছে অন্য এক গভীর শূন্যতা,এক অপূরণীয় ক্ষতির হিসেব নিকেষ – জীববৈচিত্রের বিনাশ, বনভূমির ব্যাপক বিনষ্টি, বিপুল সংখ্যক মানুষের বাসভূমি লোপাট হয়ে যাওয়া, জীবন ও জীবিকার টানাপোড়েন। একথাগুলো বলা হয় না,বললেও কখনোই উচ্চকিত কন্ঠে নয়।

    আমাদের দেশের একটা বড়ো সমস্যা হলো যে সরকার সবসময়ই কিছু চটকদার প্রকল্পের রূপায়ণের বিষয়ে যতটা আগ্রহী, একেবারে মাটির কাছাকাছি থাকা মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অর্থবহ রূপান্তরে ততটা তাগিদ দেখিনা। এরফলে সাধারণ মানুষের জীবন ও জীবিকার লড়াই বাড়ে, পরিবেশ পরিমন্ডলের ভারসাম্য টালমাটাল হয়ে যায়। ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে ভারতীয় বন বিভাগের পক্ষ থেকে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য চূড়ান্ত ছাড়পত্র দেওয়া হলো। এ নিয়ে কোর্ট কাছাড়ি, আইনি লড়াই বিস্তর হয়েছে। পরিবেশবিদরা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় তাঁদের আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। তবে ‘কাকস্য পরিবেদনা’ ! জাতীয় স্বার্থের দোহাই দিয়ে প্রকল্পটি দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সপক্ষে স্পষ্ট রায় দিয়েছে উচ্চতম বিচারালয়। ফলে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে কেন – বেতোয়া নদী সংযোগ প্রকল্প।

    প্রকল্পের ঘোষিত রূপরেখা 

    ২০২৫ সালের ৮ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেট কেন - বেতোয়া নদী সংযোগ প্রকল্পের রূপায়ণের জন্য সবুজ সংকেত দেয়। আগেই বলেছি যে এই প্রকল্পটির প্রাথমিক লক্ষ্য হলো খরা পীড়িত বুন্দেলখণ্ড অঞ্চলে সেচের সুযোগ সম্প্রসারণ। সমগ্র প্রকল্পের রূপায়ণের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৪,৬০৫ কোটি টাকা। এই প্রকল্প ৮ বছরের মধ্যে সম্পূর্ণ করার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের ছাত্তারপুর জেলার পান্না ব্যঘ্র প্রকল্পের অন্তর্গত অংশে কেন নদীর ওপর দাউধন বাঁধ নির্মাণ করে কেন নদীর বাড়তি জল ধরে রেখে তাকে খালপথে পাঠিয়ে দেওয়া হবে বেতোয়া নদীতে। এরফলে বেতোয়া অববাহিকায় ১০.৬২ লক্ষ হেক্টর জমিতে সেচের প্রসার ঘটবে।উপকৃত হবে ৬৩ লক্ষেরও বেশি মানুষ।
    এই স্বপ্ন চিত্রকে সামনে ঝুলিয়ে রেখেই নতুন করে শুরু হতে চলেছে আধুনিক ভারতের প্রথম নদী সংযোগ প্রকল্পের কাজ।

    মুখরিত প্রতিবাদ 

    গত কয়েকদিন ধরেই ছাত্তারপুর জেলার কুপী গ্রামের মানুষেরা যাদের মধ্যে গ্রামের সাধারণ আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মহিলারা এক অভিনব প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন কেন - বেতোয়া নদী সংযোগ প্রকল্পের বিরুদ্ধে। বারানা নদীর ওপর চিতার মতো করে কাঠ পেতে শুয়ে শুয়ে চলছে তাঁদের এই প্রতিবাদী আন্দোলন। এই প্রকল্প রূপায়িত হলে এতদিনের ভিটেমাটি ছেড়ে বিবাগী হতে হবে তাঁদের কেননা কেন নদীর ওপর জলাধার তৈরি করে জল ধরে রাখার ফলে বানভাসি হতে হবে মানুষগুলোকে। এই প্রকল্প রুখে দেবার সামর্থ্য যে তাঁদের নেই সেই কথা খুব ভালো ভাবেই জানেন তাঁরা,তাই সরকারের কাছে তাঁদের দাবি পুনর্বাসনের উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের এবং সম্মানজনক ক্ষতিপূরণ দেবার। বেশ কয়েকবার প্রশাসনের সঙ্গে এই বিষয়ে আন্দোলনকারীদের কথাবার্তা হলেও সমস্যা মিটে যাবার সম্ভাবনা এখনও সুদূরপরাহত।

    আন্দোলনে সামিল হ‌ওয়া মহিলারা ক্রমশই আত্মপীড়নের পথে হাঁটছেন। কখন‌ও গলায় দড়ির ফাঁস বেঁধে, আবার কখনও প্রতীকী চিতা সাজিয়ে মৃত মানুষের বেশে মানুষ আজ প্রতিবাদে মুখর হয়েছেন। মধ্যপ্রদেশের ছাত্তারপুর এবং পান্না জেলার মহিলা পুরুষ নির্বিশেষে সকলেই আজ মুখরিত প্রতিবাদে। এসব বিষয়ে প্রশাসন কখনোই খুব সংবেদনশীল হয়না, এক্ষেত্রেও তাঁদের আচরণ অনেকটাই তেমন নিস্পৃহ গোছের। আন্দোলনে সামিল মানুষদের দাবি, সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলোর সমস্ত মানুষকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন 
    দিতে হবে, বাড়াতে হবে পুনর্বাসনের আনুষঙ্গিক সুযোগ সুবিধা।






    People affected by Ken-Betwa river linking project postpone protest after administration’s assurance


    Police clear Ken-Betwa protest site in MP, end 15-day agitation; Protesters say leader detained


    Ken-Betwa Project: Tribal Women's Pyre Protest Against Forced Displacement and Rights Violations



    “ তোলপাড়িয়ে উঠলো পাড়া….."

    দুনিয়া জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে এই অভিনব কর্মসূচির ছবি। প্রশাসনকে পড়তে হয়েছে গভীর অস্বস্তিতে। এর থেকে নিজেদের মুক্ত রাখতে সরকার সমঝোতার পথ ছেড়ে জোরাজুরির ওপর ভরসা করেছে। ছাত্তরপুর সহ অন্যান্য এলাকার মানুষজনের স্বতঃস্ফূর্ত চিতা আন্দোলন গত ১৯ জুলাই ভোর বেলায় পুলিশ এসে জবরদস্তি করে ভেঙে দিয়েছে। এই আন্দোলনের নেতা অমিত ভাটনগর, যিনি বিগত দুই সপ্তাহ ধরে ভুখ্ হরতাল পালন করছিলেন তাঁকেও অনশন মঞ্চ থেকে বলপূর্বক গ্রেফতার করে নিয়ে গিয়েছে।
    নিরীহ মানুষের প্রতিবাদী আন্দোলনকে স্তব্ধ করতে সেদিন হাজির করা হয়েছিল ২০০০ থেকে ৩০০০ পল্টন, ১৫০ থেকে ২০০ গাড়ি। কোনো আলোচনা নয়, সমঝোতা নয় দমন পীড়নের বর্জিত প্রশাসনিক ব্যবস্থার ওপর আজ‌ও আস্থাবান এ দেশের প্রশাসন। দুঃখটা এখানেই।

    অতঃ কিম ?

    কেন বেতোয়া সংযোগ প্রকল্প বাস্তবায়নের আগেই নানা মহল থেকে নানান প্রশ্ন উঠে আসছে। পরিবেশবিদদের পাশাপাশি নদী বিশেষজ্ঞরাও অনেকেই সন্দিহান এমন ব্যয়বহুল প্রকল্পের সাফল্য নিয়ে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন যে এই প্রকল্প রূপায়িত হলে এই অঞ্চলের বাস্তুতন্ত্রের ওপর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। South Asia Network on Dams, Rivers and People এর কোঅর্ডিনেটর হিমাংশু ঠাক্কর গোটা প্রকল্পটিকেই বেআইনি সিদ্ধান্ত বলে অভিযোগ করেছেন। তাঁর মতে বিভিন্ন বিভাগের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র ছাড়াই এই প্রকল্পের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। পান্না জাতীয় উদ্যানের মধ্যে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য পরিকাঠামোর নির্মাণ করা হলে তা বন ও বন্যপ্রাণিদের অস্তিত্বের সংকটকে আরো ঘনীভূত করবে। পান্না জাতীয় উদ্যানের বাঘ এবং কেন ঘড়িয়াল স্যাঙচুয়ারির মেছো কুমীররা গভীর সংকটে পড়বে। পান্না জাতীয় উদ্যানের বাঘেরা ইতোমধ্যেই প্রতিবেশী বনাঞ্চলের দিকে পা বাড়িয়েছে।

    নদী প্রবহন সংক্রান্ত যে তথ্যের ভিত্তিতে এই সংযোগ প্রকল্পটি
    কার্যকর করার কথা উঠেছে তা সাম্প্রতিক নয়, পুরনো। বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে আজ গোটা দুনিয়ার নদীগুলোর সংকটের সম্মুখীন। জলের জোগান ক্রমশই কমছে। এই অবস্থায় নদী সংযোগ প্রকল্পের মাধ্যমে কেন নদীর জল বেতোয়ায় পাঠানোর চিন্তা বুমেরাং হতে পারে। প্রখ্যাত পরিবেশবিদ রবি চোপড়ার মতে কোন্ তথ্যের ভিত্তিতে কেন অববাহিকাকে উদ্বৃত্ত অঞ্চল এবং বেতোয়া অববাহিকাকে ঘাটতি অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে তা মোটেই স্পষ্ট নয়। সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় হাইড্রোলজিক্যাল ডেটা আজ‌ও সর্বসমক্ষে প্রকাশিত করা হয়নি। তাই প্রকল্পের যৌক্তিকতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞ থেকে শুরু করে এলাকার সাধারণ মানুষ। বেতোয়া অববাহিকাকে ঘাটতি অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও সেখানে আগে থেকেই উন্নত সেচের সুযোগকে সম্প্রসারিত করা হয়েছে। সেখানে নতুন করে জল পাঠানোর অর্থ‌ই হলো তেলা মাথায় তেল দেওয়া। বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না এই প্রকল্পটির রূপায়ণকে ঘিরে।

    এই সময়ের সমস্ত উন্নয়ন পরিকল্পনাকে ঘিরেই বিরূপতা বাড়ছে। এই নদী সংযোগ প্রকল্পটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। সমাজের সমস্ত ক্ষেত্রের মানুষজন এই মুহূর্তে সরব হয়েছেন এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে। পৃথিবী যখন উষ্ণায়নের ফলে এক কোণঠাসা অবস্থায় এসে হাজির হয়েছে তখন ১০০ বর্গ কিলোমিটার অরণ্য ধংস করে বাঁধ ইত্যাদির নির্মাণ নিছকই এক পাগলামি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন এই প্রকল্পটি হতে চলেছে এক “অপ্রয়োজনীয় বাহুল্য” ( unnecessary excess) যা সমস্যাকে দূর করার পরিবর্তে তাকে বহুগুণ বাড়িয়ে তুলবে।

    বিশিষ্ট কনজারভেশন বায়োলজিস্ট রঘু ছান্দাওয়াতের মতে– দুই নদীকে জুড়ে দেবার এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত যা নির্বাচন বৈতরণী পার হবার জন্যই নেওয়া হয়েছে।
    তাহলে আগামী দিনে বুন্দেলখণ্ড কি এক দীর্ঘমেয়াদি বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে চলেছে ? আমাদের অপেক্ষা করে থাকতে হবে।

    তথ্যসূত্র 
    সর্বভারতীয় প্রথম শ্রেণির দৈনিক পত্রিকা।


    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক।
  • আলোচনা | ০৮ আগস্ট ২০২৬ | ২৯২ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • albert banerjee | ০৮ আগস্ট ২০২৬ ১৪:০৮742139
  • লস অ্যাঞ্জেলস অ্যাকুয়েডট (ওয়েন্স লেক) পার্ট ২ ​​​​​​​হবে। ​​​​​​​
  • অরিন | ০৮ আগস্ট ২০২৬ ১৬:১৩742142
  • সাংঘাতিক বিপজ্জনক প্রকল্প | এদের এনভায়রনমেন্টাল ইমপ্যাক্ট এসেসমেন্ট এর রিপোর্ট টা পড়লে দেখা যায় যে রিস্ক এর মধ্যে শুধু বাঁধের কথাটাই ভাবা হয়েছে অন্যান্য ব্যাপারগুলো ভাবাই হয়নি |
    বিশেষ করে ভূগর্ভস্থ জলস্তরের মারাত্বক ক্ষতি হবে তাই নিয়ে একটি কথাও বলা নেই |
  • সৌমেন রায় | ০৮ আগস্ট ২০২৬ ১৮:৫৯742146
  • আমাদের সমস্যাটার গোড়াটা বলেছেন। সব সরকারের চটকদারি পছন্দ, প্রকৃত সমাধান নয়। সমস্ত বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে যখন আপত্তি আসছে তখন এই প্রকল্প রূপায়ণে তাড়াহুড়ো করাটা চটকদারি ছাড়া আর কি ?আমাদের দেশের সবকিছু যেন ভোটকেন্দ্রীক।অবিলম্বে সব পক্ষের মধ্যে আলোচনা হোক।
    লেখক কে অশেষ ধন্যবাদ। তিনি বিভিন্ন জায়গা থেকে বিভিন্ন রকমের খবর ও সেই সংক্রান্ত তথ্য আমাদের সামনে তুলে ধরছেন।
  • Somnath mukhopadhyay | ০৮ আগস্ট ২০২৬ ১৯:২৫742148
  • @ অরিন বাবু ও সৌমেন রায়
    মতামতের জন্য দুজনকেই ধন্যবাদ। নদী সংযোগ প্রকল্প নিয়ে এই মুহূর্তে আদিবাসী অধ্যুষিত মধ্যপ্রদেশের ছাত্তারপুর জেলা উত্তাল। খুব সম্প্রতি নদী বিশেষজ্ঞ হিমাংশু ঠাক্কর এই প্রকল্পের ভ্রান্তি গুলো তুলে ধরেছেন।সরকার আন্দোলনের মুখে কিছুটা নরম হয়ে আদিবাসীদের দাবি দাওয়া নিয়ে নতুন করে আলোচনায় বসার কথা ঘোষণা করেছেন। আমাদের নজর রাখতে হবে পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহের দিকে।
  • পৌলমী | ০৮ আগস্ট ২০২৬ ২২:৪৬742150
  • পরিবেশকে নষ্ট করে এমন উন্নয়ন কোন্ উপকার করবে আমাদের? সাধারণ গ্রামীণ মহিলারা যেভাবে অভিনব প্রতিবাদ আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন তাকে লাখ লাখ কুর্ণিশ জানাই। এমন সুন্দর প্রতিবেদনের জন্য লেখককে অনেক ধন্যবাদ জানাই।
  • অরিন | ০৯ আগস্ট ২০২৬ ০২:৪১742153
  • পৌলমী,"পরিবেশকে নষ্ট করে এমন উন্নয়ন কোন্ উপকার করবে আমাদের?", করার কথা নয়। কারণ লেখাটা পড়ে আর নদী দুটোর ম‍্যাপ দেখলে মনে হয় এরা ঠিক নদী সংযুক্ত করছে না, একদিকের জল বাঁধ তৈরী করে অন‍্য দিকে চালান করছে। অবধারিতভাবে কেন নদীর বাঁধের downstream শুকিয়ে যাবে। বেতোয়ায় জল আসবে কিন্তু নদী যেহেতু আরেকটু উচ্চতায় বইছে, এদের জল আনার পর পাম্প করে জল ভরতে হবে।
     
    এর ফলে দুটো নদীর অববাহিকাতেই ground water recharge আর groundwater chemistry বদলে যাবে। এর পরিণতি ভয়াবহ। পশ্চিমবঙ্গে এবং গাঙ্গেয় বাংলাদেশে আর্সেনিকের সমস্যার কথা জানেন নিশ্চয়ই।
    আমি এই বিষয়গুলি নিয়ে এদের EIA তে একটি লাইনও পাইনি, এবং জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি একেবারেই উপেক্ষিত রয়ে গেছে।
    বিপর্যয় যে কোন সরকার সাধ করে ডেকে আনে, ভাবতে পারা কঠিন। এমনি এমনি ভারতের স্থান ১৭৭ টি দেশের মধ্যে ১৭৬ স্থানে পরিবেশ রক্ষণের মাত্রায় আসেনি।
  • Subrata Kumar Pal | ০৯ আগস্ট ২০২৬ ১০:৩৮742159
  • সারা দেশ জুড়ে এইরকম একটার পর একটা ভয়াবহ প্রকল্প চলছে বা শুরু হতে চলেছে। হিমালয় থেকে আন্দামান পর্যন্ত সর্বত্র। এর শেষ কোথায় কে জানে !!!!!!
  • #+: | ০৯ আগস্ট ২০২৬ ১০:৩৯742160
  • খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। প্রত্যেক নদীর‌ই একটা স্বতন্ত্র পরিচিতি বা আইডেন্টিটি আছে যা পরিবাহী অঞ্চলের ভূতাত্ত্বিক গঠনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সেই সব কিছুকে উপেক্ষা করে দুটো পৃথক সত্তার জলধারাকে মিলিয়ে দেওয়া হলে তার উভয়ের পক্ষেই ক্ষতিকর হবে।
    অরিন বাবুর বক্তব্যের মধ্যে যে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তার সঙ্গে সহমত পোষণ করছি। ভৌমজলের সঞ্চয়ে ঘাটতি হলে আখেরে তা হিতে বিপরীত হবে। মাটির গভীরে সঞ্চিত ভৌম জল নদীকেই পুষ্ট করে। মাকে ছেড়ে যেমন সন্তানরা বাঁচেনা, নদী মাকে ছেড়ে ওই অঞ্চলের মানুষ থাকবে কী করে?
     
  • Somnath mukhopadhyay | ০৯ আগস্ট ২০২৬ ১৭:৩৭742166
  • @ সুব্রত কুমার পাল
    ধন্যবাদ পাল মশাই। লেখাটা পড়ে মনে যদি সামান্য জিজ্ঞাসার ঢেউ ওঠে তাহলেই জানবো রাস্তাতো সহী হ্যায়।
     
    @ #+:
    আপনাকেও ধন্যবাদ জানাই। এখন উন্নয়নের নামে যা চলছে তাতে করে আইডেন্টিটি ধরে রাখতে গিয়ে রীতিমতো হিমসিম অবস্থা। নদীর সংকট এতে বাড়বে বৈ কমবে না।
  • অরিন | ১০ আগস্ট ২০২৬ ০২:১১742172
  • নদীর সংকট যা হবার সে না হয় হবে, কিন্তু এক্ষেত্রে আরো কতগুলো বিপজ্জনক ব্যাপার ঘটবে যেমন ধরুণ জলে আর্সেনিক বা ক্রোমিয়াম যার ফল আজ থেকে পঁচিশ তিরিশ বছর পরে মানুষ উপলব্ধি করবে। সাধারণত এই সম্ভাবনাগুলো EIA করার সময় খতিয়ে দেখে তারপর মঞ্জুর বা নামঞ্জুর করা হয়। এখানে মনে হয় না ততটা খুঁটিয়ে দেখা হয়েছে। কিছুটা computational simulation modeling করা যেতে পারত যে নদীপথ বদলানোর সঙ্গে Floodplain কতটা প্রভাবিত হবে এবং কি ফল হতে পারে। এরা বাঁধ ভাঙার পর কি হবে তাই নিষে অনেকটা বিচার বিবেচনা করেছেন কিন্তু বাঁধ কেন ভাঙতে পারে তাই নিয়ে বিশেষ আলোচনা করেন নি। স্থানীয় মানুষের কথা যে একেবারেই ভাবেন নি বা বিচারের মধ‍্যে আনেননি সেটা অবশ‍্য প্রতিবাদের ধরণ এবং backtrack দেখলে আন্দাজ করা যায়। সাধারণত এই রকমের জল ট্রান্সফার করার পর বনাঞ্চলটিকে নষ্ট করে চাষযোগ‍্য করে ফেলা হয়, এরা সে উদ্দেশ‍্য প্রকাশও করেছে যেটি নিয়ে স্থানীয় মানুষ আপত্তি করছেন। কেন নদীর অববাহিকায় এরা কতটা জলের সদ্ব্যবহার করেছেন লেখা নেই। মানে নদী "না জুড়ে " অন‍্যভাবে জলের অভাব দূর করার কি উপায় ভাবা হয়েছিল?
  • অরিন | ১০ আগস্ট ২০২৬ ১৫:১৯742181
  • Somnath mukhopadhyay | ১০ আগস্ট ২০২৬ ১৫:২৫742182
  • এখন কংক্রিটের শাসন কাল চলছে।
  • sarmistha lahiri | ১০ আগস্ট ২০২৬ ১৮:৫২742188
  • এত সুচারুভাবে বিশ্লেষণাত্মক এই লেখাটি উপস্থাপিত করার জন্য লেখক কে ধন্যবাদ। শুধুমাত্র বর্তমানের ভুল পদক্ষেপ যেন ভবিষ্যতে র চরম সর্বনাশ ডেকে না আনে সেই বিষয়ে আমাদের সচেষ্ট হ ওয়া উচিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা মনে চায় মতামত দিন