এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  আলোচনা  পরিবেশ  শনিবারবেলা

  • আরাবল্লি – উচ্চতার অঙ্কের ফাঁসে দুই বিলিয়ন বছরের পাহাড়

    দময়ন্তী
    আলোচনা | পরিবেশ | ২৯ আগস্ট ২০২৬ | ১৯৭ বার পঠিত
  • পর্ব ১ | পর্ব ২ | পর্ব ৩

    ছবি: রমিত 

    ছবি সূত্র (বনেপাহাড়ে)




    আরাবল্লি পর্বতমালার সাথে আমার পরিচয় সেই ক্লাস ওয়ানে, চিতোরের পুরানো কেল্লা, বাপ্পাদিত্য, শোলাঙ্কি রাজকুমারীদের পায়ে পায়ে, অবন ঠাকুরের রাজকাহিনীর মাধ্যমে। সেই আরাবল্লি পর্বতশ্রেণি, সেই ঘন অরণ্য এখন শুধু কল্পনায়ই দেখা যায়। বাস্তবে আরাবল্লি পর্বতশ্রেণী এখন এক মুমূর্ষু একটু বড় টিলার সারি মাত্র। আরাবল্লি বিশ্বের অন্যতম প্রাচীনতম পর্বতশ্রেণী, প্রায় ১৪০-২৫০ কোটি বছর পুরোন। হিমালয়ের চেয়েও অনেক প্রাচীন এই পর্বতশ্রেণী।

    এটি প্রায় ৬৯২ কিমি বিস্তৃত, গুজরাটের পালানপুর থেকে শুরু হয়ে রাজস্থান এবং হরিয়ানার মধ্য দিয়ে এসে দিল্লিতে গিয়ে শেষ হয়েছে (দিল্লি রিজ এর অংশ)।

    আরাবল্লির সর্বোচ্চ চূড়া হল গুরু শিখর (১৭২২ মিটার) রাজস্থানের মাউন্ট আবুর অংশ। এই পর্বতশ্রেনীর পরিবেশগত গুরুত্ব অসীম। এটি থর মরুভূমির পূর্বমুখী বিস্তার রোধে একটা প্রাকৃতিক প্রাচীর হিসেবে কাজ করে। দিল্লি ও সংলগ্ন এনসিআর অঞ্চলের বায়ুর মান, ভূগর্ভস্থ জলস্তর এবং জলবায়ু নিয়ন্ত্রণে এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এখানে শুষ্ক পর্ণমোচী বন এবং কাঁটাযুক্ত ঝোপঝাড় সমন্বিত বাস্তুতন্ত্র দেখা যায়। এই অঞ্চল চিতাবাঘ, নীলগাই, শজারু, হরিণ, ময়ুর ও আরো নানারকম প্রজাতির পাখি ও সরীসৃপের আবাসস্থল।

    বর্তমান সংকট

    বাঙালির পুজোর ছুটির একটা প্রধান গন্তব্য রাজস্থান তথা আরাবল্লি। রাহজস্থানের কেল্লাগুলোর সাথে জনপ্রিয়তায় পাল্লা দেয় মাউন্ট আবু বা বা থর মরুভূমিতে ডেজার্ট ট্রেকিং। এহেন আরাবল্লি ‘সংকটাপন্ন’ হিসাবে কিছুদিন ধরে সংবাদপত্রে জায়গা করে নিচ্ছে। কেন সংকট, কিসের সংকট? আসুন সংকটের কারণগুলো সংক্ষেপে দেখা যাক।

    ১) খনি (বিশেষত বেআইনি পাথর ও খনিজ খনন), নগরায়ণ এবং জমি-মাফিয়াদের কার্যকলাপের কারণে বিপুল পরিমাণে বন উজাড় হয়েছে।
    ২) হরিয়ানা ও রাজস্থানের বিভিন্ন অঞ্চলে আরাবল্লি পর্বতশ্রেনীর উল্লেখযোগ্য অংশ ইতোমধ্যে বিলুপ্ত বলে বিভিন্ন সমীক্ষায় উঠে এসেছে।
    ৩) ২০২২-২৪ সালে "আরাবল্লি সাফারি পার্ক" প্রকল্প এবং এর চারপাশের অঞ্চল নিয়ে আইনি ও প্রশাসনিক টানাপোড়েন যথেষ্ট আলোচিত হয়েছে।

    আরাবল্লির ক্রমশ "বিলুপ্ত" হয়ে যাওয়ার কথা মূলত ২০১৮ সাল থেকে শোনা যায়, তারপর এই বিলোপ ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে এবং সাম্প্রতিককালে (২০২৫-২৬) চরম আইনি লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। আরাবল্লিকে আস্তে আস্তে কেটেছেঁটে ছোট করে ফেলার গল্পটা অবশ্য বেশ পুরোন। প্রায় ষাট বছর আগে এই অঞ্চলের পাহাড়ি এলাকার বেশিরভাগ জমি ছিল গ্রামীণ সাধারণ সম্পত্তি, গ্রামবাসীরা গবাদি পশু চরাতে ব্যবহার করত। কিন্তু সত্তরের দশকে রাজস্ব কর্তৃপক্ষের সহায়তায় সন্দেহজনকভাবে এই জমি বেসরকারিকরণ হয়, এবং রিয়েল এস্টেট এজেন্টরা কম দামে আরাবল্লির জমি কিনতে শুরু করে, ভবিষ্যতে নগরায়ণের সময় বেশি দামে বিক্রির আশায়। সেখান থেকেই ক্ষতির শুরু। [১]

    ২০১৭ সালে বৈজ্ঞানিক সমীক্ষাঃ-

    Wildlife Institute of Indiaর ২০১৭ সালের সমীক্ষায় দেখা যায় প্রাচীর-সদৃশ আরাবল্লি রেঞ্জে অন্তত ১২টি ফাঁক (gap) তৈরি হয়েছে, যার মধ্য দিয়ে থর মরুভূমির গরম বাতাস, বালি ও ধুলো হরিয়ানা ও দিল্লি NCRএ এসে ঢুকছে।

    ২০১৮ সালে সুপ্রীম কোর্টের কঠোর আদেশঃ-

    সুপ্রিম কোর্ট-নিযুক্ত সেন্ট্রাল এমপাওয়ার্ড কমিটি (CEC) রিপোর্ট দেয় যে ১৯৬৮ সাল থেকে বিগত ৫০ বছরে রাজস্থানের আরাবল্লি এলাকায় ৩১টি পাহাড় সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। এই রিপোর্টের ভিত্তিতে ২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্ট রাজস্থান সরকারকে ১১৫.৩৪ হেক্টর এলাকায় বেআইনি খনন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বন্ধ করার নির্দেশ দেয়। আদালত আরো মন্তব্য করে যে এই পাহাড় নিশ্চিহ্ন হওয়াই সম্ভবত দিল্লির দূষণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। [২]

    আরাবল্লি পাহাড়এর সংজ্ঞা সংক্রান্ত মামলার সূত্রপাত:-

    বিভিন্ন রাজ্যের খনন নীতিতে অসামঞ্জস্যের কারণে, সুপ্রিম কোর্ট ২০২৪ সালের মে মাসে একটি কমিটি গঠন করে "আরাবল্লি পাহাড়"-এর একটি অভিন্ন সংজ্ঞা নির্দেশ করার জন্য। রাজ্যভেদে "আরাবল্লি পাহাড়"-এর সংজ্ঞা আলাদা ছিল। শুধু রাজস্থানের ২০০২ সালের কমিটি রিপোর্ট অনুযায়ী একটি আনুষ্ঠানিক সংজ্ঞা ছিল, যেখানে স্থানীয় উচ্চতার চেয়ে ১০০ মিটার উঁচু ভূমিরূপকে পাহাড় বলা হত এবং সেই ১০০ মিটার উঁচু পাহাড় ও তার ঢালে খনন নিষিদ্ধ ছিল। হরিয়ানার আলাদা করে নিজস্ব কোনো সংজ্ঞা ছিল না। তারা বন বা "গ্যয়ের মুমকিন পাহাড়"কে অচাষযোগ্য জমি হিসেবে চিহ্নিত করত। [৩]

    নভেম্বর ২০২৫এ আদালতের বিতর্কিত রায়ঃ-

    কমিটি যা সুপারিশ করে আদালত সেই সুপারিশ গ্রহণ করে এবং জানায় যেকোনো ভূমিরূপ যা আশপাশের জমি থেকে ১০০ মিটার বা তার বেশি উঁচু, তাকেই কেবল "আরাবল্লি পাহাড়" ধরা হবে। এতে নতুন খনি ইজারার ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞাও ছিল।

    ডিসেম্বর ২০২৫এ রায়ের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়াঃ-

    এই সংজ্ঞা প্রকাশ্যে আসতেই রাজস্থান ও হরিয়ানা জুড়ে ব্যাপক আন্দোলন শুরু হয়। Down To Earthকৃত একটি বিশ্লেষণে দেখা যায় নতুন সংজ্ঞা গৃহীত হলে আরাবল্লির প্রায় ৫০ শতাংশ এলাকা খননের জন্য উন্মুক্ত হয়ে যেতে পারত। কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ একে "বিপজ্জনক পুনঃসংজ্ঞা" বলে আখ্যা দেন। চাপের মুখে ২৯ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট নিজের নভেম্বরের রায় স্থগিত রাখে এবং নতুন করে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয়।

    ২০২৬ - আদালতের নির্দেশঃ-

    তারপরে এই বছর ২১শে জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট জানায় বেআইনি খনন অপরিবর্তনীয় ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। খনি ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সামগ্রিক পর্যালোচনার জন্য আদালত একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়। ২৫শে মে ২০২৬ অবশেষে পাঁচ সদস্যের হাই পাওয়ার্ড কমিটি গঠন করে। এই কমিটিকে ৩১ আগস্ট ২০২৬-এর মধ্যে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ এই লেখা প্রকাশিত হবার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই রিপোর্ট জমা পড়ে যাবার কথা। এই সময় সুপ্রীম কোর্ট দৃঢ়ভাবে জানায় বিশেষজ্ঞ কমিটির রিপোর্ট বিশ্লেষণ করে ফলাফল সম্যকভাবে না বোঝা পর্যন্ত আরাবল্লির এক ইঞ্চি জমিতেও খনন করা যাবে না।

    উচ্চপর্যায়ের এই কমিটির সদস্যদের সংক্ষিপ্ত পরিচয় নীচে দেওয়া হল। [৪]
    ১) কাঞ্চন দেবী (চেয়ারপার্সন) - ICFRE-র মহাপরিচালক; ১৯৯১ ব্যাচের IFS অফিসার (মধ্যপ্রদেশ ক্যাডার)।
    ২) ড. সুভাষ আশুতোষ - প্রাক্তন মহাপরিচালক, ফরেস্ট সার্ভে অফ ইন্ডিয়া।
    ৩) ড. রাজেন্দ্র কুমার শর্মা - প্রাক্তন পরিচালক, জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া।
    ৪) ব্রিজ মোহন সিং রাঠোর - প্রাক্তন যুগ্ম সচিব, MoEFCC।
    ৫) প্রফেসর অশোক কে. ভাটনগর - প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান, উদ্ভিদবিজ্ঞান, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়।
    এছাড়া বিশেষ আমন্ত্রিত হিসেবে জগদীশ কৃষ্ণস্বামী (IIHS) ও লক্ষ্মীকান্ত শর্মা (সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অফ হরিয়ানা) কমিটিতে যোগ দিয়েছেন।

    তাহলে আমরা দেখলাম যে বিলুপ্তির প্রথম আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ২০১৮-তে হলেও সেই স্বীকৃতির তেমন কোন প্রভাব বা বিলুপ্তিকরণ প্রতিরোধে কোন সদর্থক পদক্ষেপ পরবর্তী সাত বছরের মধ্যে দেখা যায় নি। আসল সংঘাত শুরু হয় ২০২৫-এর শেষে, যখন সংজ্ঞা বদলের চেষ্টা জনরোষের মুখে পড়ে স্থগিত হয়ে যায়। এখন (আগস্ট ২০২৬) সবার নজর নতুন হাই পাওয়ার্ড কমিটির চূড়ান্ত রিপোর্টের দিকে। তবে মে মাসে গঠিত এই কমিটির স্বাধীনতা ও প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থান নিয়ে বিজ্ঞানী ও পরিবেশবিদগণ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। *The Wire*-এর রিপোর্ট অনুযায়ী চেয়ারপার্সন (ICFRE প্রধান) এবং সদস্য সচিব (পরিবেশ মন্ত্রকের একজন পরিচালক)। দুটো পদই প্রাতিষ্ঠানিকভাবে পরিবেশ মন্ত্রকের সচিবের অধীনস্থ, ফলে তাঁদের পক্ষে স্বাধীন, পক্ষপাতশুন্য বিশ্লেষণ প্রায় অসম্ভব। বিজ্ঞানী ও পরিবেশবিদগণ বলছেন আগের কমিটির দেওয়া রিপোর্ট ও সুপারিশ পর্যালোচনা করার জন্য গঠিত নতুন কমিটির অন্তত সমান বা তার বেশি স্বাধীনতা ও কর্তৃত্ব থাকা উচিত ছিল। দেখা যাচ্ছে যে কেন্দ্রীয় ক্ষমতাপ্রাপ্ত কমিটি (CEC) কমিটি সদস্যদের নাম প্রস্তাব করেছে এবং পরিবেশ মন্ত্রকই তা অনুমোদন করেছে। অর্থাৎ যে সংস্থাগুলো আগের বিতর্কিত রিপোর্ট তৈরি করেছিল, তারাই ফের নতুন কমিটি গঠনে ভূমিকা রেখেছে ফলে স্বার্থের সংঘাত ও প্রাতিষ্ঠানিক পক্ষপাতের গুরুতর আশঙ্কা রয়েছে। [৫]

    জমি মাফিয়া, রাজনৈতিক দল ও আমলাতন্ত্রের দুষ্টচক্র

    একটু আগে বলেছিলাম আরাবল্লির বর্তমান সংকটের মূল কারণ খনিজ উত্তোলনের জন্য অবৈধ খনন, ও জমি মাফিয়াদের দ্বারা রিয়েল এস্টেটের দ্রুত প্রসার। হরিয়ানার গুরুগ্রাম ও ফরিদাবাদে বনভূমির ক্ষয় ও জমিমাফিয়া সংযোগের চিত্রটা মূলত খনন থেকে রিয়েল এস্টেটে রূপান্তরিতকরণের এক জটিল চক্রের গল্প। প্রায় ষাট বছর আগে পাহাড়ি এলাকার বেশিরভাগ জমি ছিল গ্রামীণ সাধারণ সম্পত্তি, গ্রামবাসীরা গবাদি পশু চরাতে ব্যবহার করত। কিন্তু সত্তরের দশকে রাজস্ব কর্তৃপক্ষের সহায়তায় সন্দেহজনকভাবে এই জমি বেসরকারিকরণ হয়। রিয়েল এস্টেট এজেন্টরা কম দামে আরাবল্লির জমি কিনতে শুরু করে, ভবিষ্যতে নগরায়ণের সময় বেশি দামে বিক্রির আশায়। সেখান থেকেই ক্ষতির শুরু। ২০০৪ সালে সুপ্রিম কোর্ট ফরিদাবাদ, গুরুগ্রাম ও মেওয়াটে খনন নিষিদ্ধ করে, এবং ২০০৯ সালে এই নিষেধাজ্ঞা আরও ৪৪৮ বর্গকিমি এলাকায় বিস্তৃত হয়। কিন্তু ততদিনে বিশেষত ফরিদাবাদে ব্যাপক ক্ষতি হয়ে গিয়েছে। আগে যেসব এলাকায় হ্রদ ছিল না, এখন সেখানে হ্রদ সৃষ্টি হয়েছে, কারণ খননকারীরা মাটির অতি গভীরে খুঁড়ে ফেলায় প্রাকৃতিক জলাধার ফুটো হয়ে জল উপরে চলে এসেছে। [৬]

    খনন থেকে রিয়েল এস্টেটে রূপান্তর

    ২০০৯ সালে নিষেধাজ্ঞা জারির পর মাফিয়ারা কৌশল বদলায়। গুরুগ্রাম ও ফরিদাবাদ শহুরে এলাকা হওয়ায়, এখানে অবৈধ খনন এখন রিয়েল এস্টেটের ছদ্মবেশে চলে। জমি সমতল করার সময় মাটি থেকে তোলা পাথরের দাম প্রায়ই প্লটের নিজস্ব দামের চেয়েও বেশি হয়। বাস্তবে অবৈধ খনন আর রিয়েল এস্টেট এখন সমার্থক হয়ে দাঁড়িয়েছে। সক্রিয় পরিবেশকর্মীদের মতে এটি একটি নির্দিষ্ট প্যাটার্ন অনুসরণ করে ঘটে। প্রথমে গাছ কাটা হয়, তারপর জমি পরিষ্কার করে প্লটে রূপান্তর করা হয়, এবং শেষে তা দখল করে নির্মাণকাজ শুরু হয়। আর এই পুরো চক্রটা রাজনৈতিক দল ও আমলাদের সহায়তায় নিরুপদ্রবে চলে বলে অভিযোগ। ফরিদাবাদ ও গুরুগ্রামে জমির দাম আকাশছোঁয়া হওয়ায় জমি মাফিয়া ও রিয়েল এস্টেট কোম্পানিগুলো মরীয়া হয়ে আরো বেশী বেশী পরিমাণে জমি দখল করতে চায়। এই কাজে তাদের বড় সহায় রাজনৈতিক দল ও আমলাকুল। ২০১৯ সালের লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনের আগে ক্ষমতাসীন দল Punjab Land Preservation Act, 1900-এ সংশোধনী আনার উদ্যোগ নেয়, যা কার্যত আরাবল্লিতে খনন ও রিয়েল এস্টেটকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা হিসেবে ধরা যায়।
    [৭]

    বিরোধীতার পরিণাম

    খনন চালিয়ে যেতে ও জমির দখল বজায় রাখতে মাফিয়া-আমলা-রাজনৈতিক দলের দুষ্টচক্র যে কোন পদক্ষেপ করতে পারে। ২০২২ সালের জুলাইয়ে মেওয়াটের তৌরুতে নিযুক্ত এক হরিয়ানা পুলিশ কর্মকর্তা অবৈধ পাথর খনন তদন্তে গিয়ে পাথরবোঝাই ট্রাকের চাপায় নিহত হন, অভিযোগ, এই খুনের পেছনে খনন মাফিয়ারা। প্রায় একই সময় নুহ তেহশিলের পঞ্চগাঁওতে অবৈধ খননের তদন্তে গিয়ে ডিএসপি সুরেন্দর সিং মাফিয়াদের হাতে খুন হন। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে পুলিশ প্রায় ১৯০০টি মামলা নথিভুক্ত করেছে এবং ২৮০০-র বেশি পরিবাহী ট্রাক জব্দ করেছে, রাজ্য ৬৭ কোটি টাকা জরিমানা আরোপ করেছে। তারপরও, শুধু এক মাসেই ৩৬টি নতুন মামলা নথিভুক্ত হয়েছে যা প্রমাণ করে এই কার্যক্রম অব্যাহত। অভিযোগ দায়ের, মামলা ইত্যাদি আছে তাদের জায়গায় আর সেগুলোকে কাঁচকলা দেখিয়ে খনন ও জমি দখল চলছে আগের মতই। ফরিদাবাদে প্রায় ১,৪২৬ একর জমি দখল ও অবৈধ কব্জার সমস্যা এখনও কোন সমাধান হয়নি। এই পটভূমিতে ২০২৫ সালের নতুন সংজ্ঞা-বিতর্ক গুরুত্বপূর্ণ। গুরুগ্রাম-ফরিদাবাদের মতো এলাকায় নিচু উচ্চতার পাহাড়ি জমি সুরক্ষার বাইরে গেলে এই মাফিয়া-চক্র নতুন সুযোগ পেতে পারে বলে পরিবেশ কর্মীদের আশঙ্কা।

    গুরুগ্রাম ও ফরিদাবাদ রাজধানী দিল্লি লাগোয়া শহুরে এলাকা হওয়ায়, এখানে রিয়েল এস্টেটের ছদ্মবেশে বেআইনি খনন চালানো হচ্ছে। এখানে জমি সমতল করার সময় মাটি থেকে তোলা পাথরের মূল্য প্রায়ই প্লটের মূল্যের চেয়ে বেশি হয়।

    ২০২৫ সালের হরিয়ানা প্রশাসনের সমীক্ষা অনুযায়ী আরাবল্লির হরিয়ানা অংশে প্রায় ৭,০০০ বেআইনি স্থাপনা আছে, প্রধানত গুরুগ্রাম, তারপর ফরিদাবাদ ও নূহতে। একজন সমালোচকের দাবি অনুযায়ী অধিকাংশ সম্পত্তি রাজ্য কর্মকর্তা ও রাজনীতিবিদদের মালিকানাধীন অথবা জমিমাফিয়াদের পৃষ্ঠপোষকতায় চলে। ডাউন টু আর্থের এক প্রতিবেদনে পরিবেশবিদ ভাটনগরের বক্তব্য হল ফরিদাবাদ ও গুরুগ্রামে জমির দাম বাড়তে থাকায় জমি-মাফিয়া ও রিয়েল এস্টেট কোম্পানিগুলো তা দখল করতে মরিয়া হয়ে ওঠে, আর রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান ও আমলাতন্ত্র তাদের সমর্থন দেয়। ২০২২ এ খুন হওয়া ডিএসপি সুরেন্দর সিঙের হত্যার অভিযোগে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। একটি তদন্ত কমিশানও বসে। সেই কমিশান ২০২৩ এ রিপোর্ট দাখিল করে। ২০২৪এ কমিশান কাজ শেষ করে বন্ধ হয়ে যায়। ধৃত ১১জনের কোন শাস্তি হয়েছে বলে জানা নেই। ডেপুটি সুপারিন্টেন্ডেন্ট অব পুলিশের হত্যা তদন্তেরই যদি এই হাল হয় তাহলে প্রতিবাদী সাধারণ মানুষ ও পরিবেশকর্মীদের কি হাল বোঝাই যাচ্ছে। [৮]

    পরিবেশকর্মীদের প্রধান আপত্তি ও সরকারি জবাব

    আরাবল্লি পাহাড়ের নতুন সংজ্ঞা - প্রতিবাদী পরিবেশকর্মীদের আপত্তি হল ১০০ মিটার বা তার চেয়ে উঁচু ভূমিকেই পাহাড় ধরলে এই সংকীর্ণ সংজ্ঞায় আরাবল্লী রেঞ্জের বেশিরভাগ অংশকে সুরক্ষার বাইরে ফেলে দেবে। তাঁদের মতে এই নতুন সংজ্ঞা রেঞ্জের ৯০ শতাংশের বেশি এলাকাকে সুরক্ষার বাইরে রাখবে, যার ফলে খনন আরো সহজ হবে এবং অনেক বেশী সংখ্যায় হতে শুরু করবে। ফলে থর মরুভূমি সম্প্রসারিত হয়ে দিল্লি-এনসিআরের দিকে মরুকরণ ত্বরান্বিত করতে পারে। এর জেরে #SaveAravalli নামে জনআন্দোলন ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। সরকারের পক্ষে পরিবেশ মন্ত্রক বলছে, ঢাল ও পাদদেশ-সহ পুরো বাস্তুতান্ত্রিক একক সুরক্ষিত থাকছে, এবং সংরক্ষিত এলাকা, বন্যপ্রাণ অভয়ারণ্য, জলাভূমি ও ব্যাঘ্র প্রকল্পে খনন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। নতুন লিজ না দেওয়া পর্যন্ত টেকসই খনন পরিকল্পনা (MPSM) প্রস্তুত হবে না। বলাই বাহুল্য এতদিনের অভিজ্ঞতায় মাফিয়া রিয়েলটর, রাজনীতিবিদ ও আমলাদের দুষ্টচক্রকে বিশ্বাস করতে পারছেন না প্রতিবাদীরা। পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন এই মামলাটি ভারতের পরিবেশ-সংবেদনশীল ভূমি রক্ষার আইনি কাঠামোর ক্ষেত্রে একটি নজির হয়ে দাঁড়াতে পারে। [৯]

    হাই পাওয়ার্ড কমিটির কার্যকলাপ - সুপ্রীম কোর্ট দ্বারা গঠিত হাই পাওয়ার্ড কমিটির কার্যকলাপ ও বিশ্লেষণ প্রক্রিয়া নিয়ে কর্মী-সংগঠনগুলো তীব্র অসন্তুষ্ট। Aravalli Virasat Jan Abhiyaan অভিযোগ করেছে, কমিটি খননে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলো আদৌ পরিদর্শন করেনি এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের সঙ্গে কোন কার্যকরি পরামর্শ করেনি। কোটপুতলি-বেহরর জেলার যোধপুরা গ্রামে UltraTech সিমেন্টের চুনাপাথর খনি ও পাথর-ক্রাশারের কারণে বাসিন্দারা ভুগছেন, সেখানে কমিটি নির্ধারিত সময়সূচি সত্ত্বেও যায়নি। বরং গ্রাম থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে একটি হোটেলে এক ঘণ্টা ধরে মধ্যাহ্নভোজন করেছে। PUCL রাজস্থান ও অন্যান্য সংগঠন অভিযোগ করেছে, আজমিরের গণশুনানি খনন-শিল্পের প্রতিনিধিদের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল এবং শুনানিকে মাত্র এক ঘণ্টা বরাদ্দ করে "নিছক আনুষ্ঠানিকতায়" পরিণত করা হয়েছে। মাত্র চার দিনে নয়টি জেলার বিস্তারিত মূল্যায়ন সম্ভব নয় বলে তারা যুক্তি দিয়েছে। এই মাসের ৯ আগস্ট আজমিরে "খনন লবি" গণশুনানি দখল করে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সরকারি তরফে এর কোন জবাব পাওয়া যায় নি। [১০]

    বৃষ্টিপাত, মৌসুমি বায়ু ও উত্তর ভারতের সামগ্রিক জলবায়ুর উপরে প্রভাব - বিজ্ঞানী ও পরিবেশবিদরা প্রতিষ্ঠিত ভৌগোলিক নীতি এবং পর্যবেক্ষণভিত্তিক কিছু উদ্বেগ জানিয়েছেন। এই পর্বতশ্রেণি দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি মেঘকে হিমালয়ের দিকে পূর্বমুখী চালিত করে, যা উত্তর ভারতে বৃষ্টিপাত নিশ্চিত করে। এটি মৌসুমি মেঘের গতিপথকে নিম্ন হিমালয়ের দিকে ধাবিত হতে প্রভাবিত করে, যার ফলেই উত্তর ভারতের কোটি কোটি মানুষের জীবিকা ও কৃষি সহায়ক পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত সম্ভব হয়। এই পর্বতশ্রেণী শীতকালীন ঢাল হিসাবেও কাজ করে। শীতকালে মধ্য এশিয়া থেকে আসা ঠান্ডা পশ্চিমী বায়ু সরাসরি প্রবাহিত হতে না দিয়ে থেকে উত্তর ভারতের উর্বর সমতলকে রক্ষা করে। আরাবল্লি ২,৫০০ কিমি দীর্ঘ একটি বাস্তুতান্ত্রিক প্রাচীর তৈরি করে, যা থর মরুভূমি থেকে NCR ও গাঙ্গেয় সমভূমির দিকে আসা উষ্ণ, ধুলোভরা বাতাসকে বাধা দেয়। [১১]

    আরাবল্লির বিলুপ্তিকরণে জলবায়ুর উপরে প্রভাব ও তৎসম্পর্কিত সমস্যাগুলো নীচে সংক্ষেপে বলা হল।

    মরুভূমির এগিয়ে আসাঃ- ১৯৭৫-২০১৯ সালের মধ্যে প্রায় ৮% আরাবল্লি পাহাড় ও সংলগ্ন বাস্তুতন্ত্র (৫,৭৭০ বর্গকিমি) হারিয়ে গেছে, যা এই পর্বতশ্রেণির প্রাকৃতিক বাধা হিসেবে ভূমিকা দুর্বল করে দিয়ে থর মরুভূমিকে NCR-এর দিকে এগিয়ে আসার সুযোগ করে দিয়েছে। এতে মরুকরণ তীব্র হয়েছে, বায়ুদূষণ বেড়েছে এবং উত্তর-পশ্চিম ভারতে অনিয়মিত জলবায়ু প্যাটার্ন দেখা দিয়েছে। [১২]

    হরিয়ানা, রাজস্থানে ফাটল/ব্রিচঃ- রাজস্থানের আজমির থেকে ঝুনঝুনু এবং হরিয়ানার মহেন্দ্রগড় জেলা পর্যন্ত মোট ১২টি "ব্রিচ" (ফাঁক) তৈরি হয়েছে, যেখান থেকে থর মরুভূমির ধুলো দিল্লি-NCR-এ প্রবেশ করছে। [১৩]

    ধুলিঝড় ও অনিয়মিত বৃষ্টিঃ- বর্ষা আসার আগে যেসব মাসে ধুলিঝড় বিরল ছিল, একটা কি দুটো হত, এখন তা অনেক বেশি ঘন ঘন হচ্ছে। ফসলের ক্ষতি করছে এবং ফুসফুসের রোগ, শ্বাসের কষ্ট বাড়াচ্ছে। [১৪]

    শহুরে বন্যা ও তাপপ্রবাহঃ- ক্ষয়প্রাপ্ত বাস্তুতন্ত্র অতিরিক্ত তাপপ্রবাহ ও অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। যেমন গুরুগ্রামে ঘন ঘন শহর ভাসিয়ে বন্যা। [১৫]

    ভূগর্ভস্থ জল ও কৃষির সংযোগঃ- আরাবল্লির ফাটলযুক্ত কোয়ার্টজাইট ও শিস্ট শিলা বৃষ্টির জলকে গভীরে ভূগর্ভস্থ জলাধারে প্রবেশ করতে দেয়। গুরুগ্রাম ও ফরিদাবাদের মতো শহর প্রায় সম্পূর্ণভাবে আরাবল্লির জলস্তরের ওপর নির্ভরশীল। নীচু পাহাড় (যেগুলো জল প্রবেশের প্রবেশদ্বার) সুরক্ষা হারিয়ে খনন বা সমতলীকরণের শিকার হলে জলস্তর পুনর্ভরণ তীব্রভাবে কমে যাবে। ইতোমধ্যেই স্থানীয় কৃষকরা বাজরা, গম ও সরিষার মতো ফসলে উৎপাদনশীলতা ক্রমাগত কমতে দেখছেন, মাটি ক্ষয় ও জৈব কার্বন হ্রাসের কারণে। [১৬]

    আরাবল্লি ভূমিকম্প-প্রবণ অঞ্চলঃ- আরাবল্লি দিল্লি ফোল্ড বেল্ট (ADFB) ভারতীয় প্লেটের মহাদেশীয় অংশের তিনটি প্রধান শৈলশিরার একটি, যা মধ্য ভারত থেকে উত্তরদিকে হিমালয় চাপের নিচে প্রসারিত। এটি তার সম্পূর্ণ NE-SW গঠন প্রবণতা জুড়ে সক্রিয় ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল। বিশেষত দিল্লির কাছাকাছি অঞ্চলে অধিক সক্রিয়তা লক্ষ্য করা যায়। গবেষণায় দেখা গেছে গোটা ভূত্বকই ভূমিকম্পপ্রবণ, প্রায় ৪০ কিমি গভীরতা পর্যন্ত ভূমিকম্প ঘটে। দিল্লির ভূমিকম্প-সক্রিয়তা মূলত দিল্লি-হরিদ্বার রিজ নামক একটি ভূতাত্ত্বিক গঠনের সঙ্গে যুক্ত, যা আরাবল্লি পর্বতশ্রেণির নীচে থেকে গাঙ্গেয় সমভূমির নীচে প্রসারিত অংশের সাথে মিলে যায়। দিল্লি জোন৪-এ পড়ে, অর্থাৎ উচ্চ ভূমিকম্প-ঝুঁকির এলাকা, এবং এই অঞ্চলে ভূমিকম্প ঘটে পূর্ব বিদ্যমান ভূতাত্ত্বিক চ্যুতির (fault) কারণে, হিমালয়ের ভূমিকম্পের মতো টেকটোনিক প্লেট সাবডাকশনের কারণে নয়।

    ভূতাত্ত্বিকরা মনে করেন, বড় আকারের নির্মাণ, খনন ও পাহাড়ের ভেতর দিয়ে টানেল খোঁড়া ভূগর্ভস্থ শিলাগঠন দুর্বল করে দিতে পারে এবং বিদ্যমান চ্যুতিরেখাগুলোকে বিঘ্নিত করতে পারে, যা এলাকায় ছোটখাটো ভূমিকম্প-সক্রিয়তার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিতে পারে। ২০২৬ সালের মার্চে রাজস্থানের সিকার জেলার কাছে ৩.৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্প রেকর্ড হয়, এবং ভূতাত্ত্বিকরা আরাবল্লি অঞ্চলে বেড়ে চলা খনন ও বহুতল নির্মাণ জাতীয় কার্যক্রমকে এর একটি সম্ভাব্য অবদানকারী কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। সাধারণভাবে ভূমিকম্প-বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত নগরায়ণ, খনন কার্যক্রম এবং মাঝারি-থেকে-উচ্চ ঝুঁকির এলাকায় অবকাঠামোর দ্রুত সম্প্রসারণের কারণে ভূমিকম্পের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। পূর্ব বিদ্যমান চ্যুতিগুলো অতিরিক্ত চাপ জমা হওয়া বা শিলা দুর্বল হয়ে যাওয়ার কারণে পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে। আরাবল্লি ধ্বংসের সঙ্গে সরাসরি বড় ভূমিকম্পের কার্যকারণ প্রমাণিত নয়, কিন্তু এটি ইতিমধ্যে একটি ভূমিকম্প-সক্রিয় অঞ্চল, এবং সেখানে ব্যাপক খনন ও নির্মাণ চ্যুতিরেখাকে অস্থিতিশীল করে ছোটখাটো কম্পনের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে ভূতাত্ত্বিকরা সতর্ক করছেন। বিষয়টি উদ্বেগের, সক্রিয় গবেষণা চলছে। [১৭]

    এখানে স্পষ্ট করে বলে রাখতে চাই এই সবগুলোই মূলত পরিবেশ বিশেষজ্ঞ, সরকারি প্রতিবেদন ও কর্মী সংগঠনগুলোর পর্যবেক্ষণ ও অনুমান-ভিত্তিক আশঙ্কা। অর্থাৎ আরাবল্লি কতটা ক্ষয় হলে বৃষ্টিপাত ঠিক কত শতাংশ কমবে এরকম পরিমাণগত, দীর্ঘমেয়াদি আবহাওয়াতাত্ত্বিক মডেলিং স্টাডির কোন রেফারেন্স আমি খুঁজে পাইনি। বৃষ্টিপাত ও মৌসুমি বায়ুর ওপর প্রভাব মূলত ভৌগোলিক নীতি (মেঘের দিক পরিবর্তন, প্রাকৃতিক বাধা অপসারণ) এবং স্থানীয় পর্যবেক্ষণ (ধুলিঝড় বৃদ্ধি, অনিয়মিত বৃষ্টি, তাপপ্রবাহ) থেকে যুক্তিসঙ্গত অনুমান (Logical Conjecture)। কিছু গবেষণা হয়েছে, কয়েকটি নীচে উল্লেখ করা হল।

    কিছু প্রাসঙ্গিক গবেষণা

    ১) “Simulating the impact of extended desertification on Indian hydro climate using ICTP-RegCM4.4.5.10 model" (ScienceDirect) — এই গবেষণায় থর মরুভূমির সম্প্রসারণ ভারতীয় গ্রীষ্মকালীন মৌসুমি বায়ুর ওপর কীভাবে প্রভাব ফেলে তা RegCM আঞ্চলিক জলবায়ু মডেল দিয়ে numerically পরীক্ষা করা হয়েছে। মরুকরণ বাড়লে নিম্নস্তরের বায়ুপ্রবাহ ও বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ার সম্পর্ক দেখানো হয়েছে। এটা "থর মরুভূমি"কেন্দ্রিক তবে যেহেতু আরাবল্লিই থর-এর বিরুদ্ধে বাধা, তাই এই মডেলিং প্রাসঙ্গিক। [১৮]

    ২) "Variability in Rainfall for Aravalli Range of Rajasthan, India" (Ecological Modelling, 2023, ResearchGate)। এটি সরাসরি আরাবল্লি অঞ্চলের বৃষ্টিপাত-পরিবর্তনশীলতা, ভূ-জলবায়ু সূচক এবং মরুকরণ সংবেদনশীলতা নিয়ে। [১৯]

    ৩) "Spatiotemporal Study of Land Degradation Impacting the Oldest Mountains of the Indian Subcontinent" (Geographies জার্নাল, MDPI, ২০২৬)। এটি ২০০১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত জমির ব্যবহার পরিবর্তন এবং RUSLE মডেল দিয়ে মৃত্তিকা-ক্ষয়ের স্থান কাল বিশ্লেষণ করেছে। [২০]

    হরিয়ানা ও রাজস্থানের বনক্ষয়ের তুলনা

    ১) হরিয়ানাঃ- CSE-র গবেষণা অনুযায়ী ২০০১-২০১৬ সালে হরিয়ানার আরাবল্লি এলাকায় বনাঞ্চল ৩৭% কমে গেছে, যা খনন ও নগরায়নের ফলেই কমেছে বলে মনে করা হচ্ছে। হরিয়ানার প্রাকৃতিক বনাঞ্চল রাজ্যের মোট ভূমির মাত্র ৩.৬%, যা গোটা দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন। ২০২৫এ ১০০মিটারের চেয়ে নীচু ভূমিখন্ডকে পাহাড় বলে গণ্য না করার রায়ে এটি আরও কমার আশঙ্কা। এতে বৈধ খনি রাজস্ব প্রভূত পরিমাণে বেড়েছে। ২০১৩-১৪ সালের ৫.১৫ কোটি টাকা থেকে ২০২৩-২৪ সালে ৩৬৩.৫ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। প্রশাসন তথা সরকারের কাছে যা অত্যন্ত লোভনীয়। রাজস্ববৃদ্ধি তো সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য বলেই গণ্য করা হয়। অবৈধ খননের ফলে রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণও যথেষ্ট। ২০২৩ সালে শুধু নূহ জেলার নাহারিকা, চিত্তোরা ও রাভা গ্রামে ৮ কোটি মেট্রিক টনের বেশি খনিজ উধাও হয়ে যায়, যাতে পাহাড় সমতল হয়ে যায় এবং রাজ্যের ২১০০ কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়। রাজস্থান থেকে অবৈধ খননকারীরা সীমান্ত পেরিয়ে ঢুকে এই ক্ষতি করছে বলে হরিয়ানা প্রশাসনের অভিযোগ। আরাবল্লির প্রায় ৪০% হরিয়ানার ছয়টি জেলায়, তাই গ্রিন ওয়াল প্রকল্পে রাজ্যের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ৩৩,৭০৬ হেক্টর বনভূমির মধ্যে ২৪,৯৯০ হেক্টরই ক্ষয়প্রাপ্ত বলে চিহ্নিত হয়েছে। [২১]

    ২) রাজস্থানঃ- RGICS-এর ২০১৮ রিপোর্ট অনুযায়ী ১৯৭২-৭৫ সালে রাজস্থানের আরাবল্লি জেলাগুলিতে ১০,৪৬২ বর্গ কিমি বনভূমি ছিল, যা ১৯৮১-৮৪ সালের মধ্যেই কমে ৬,১১৬ বর্গ কিমিতে দাঁড়ায়। মাত্র এক দশকে প্রায় ৪১.৫% ক্ষয়। CEC-র রিপোর্ট অনুযায়ী লাল সিলিকা, গ্রানাইট ও অন্যান্য গৌণ খনিজের অবৈধ খননের কারণে রাজস্থানের ১২৮টি পাহাড়ের মধ্যে ৩১টি সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে গেছে। CAG রিপোর্ট অনুযায়ী ২০১১-১২ থেকে ২০১৬-১৭ সালের মধ্যে রাজস্থানে ৯৮.৮৭ লক্ষ মেট্রিক টন খনিজ অবৈধভাবে উত্তোলিত হয়েছিল, যা পূর্ববর্তী সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশও লঙ্ঘন করে। রাজস্থানে লাগাতার খনন গ্রেট ইন্ডিয়ান বাস্টার্ড’এর মতো গুরুতর বিপন্ন প্রজাতির বাসস্থানও প্রায় শেষ হওয়ার পথে।

    রাজস্থানে সমস্যা মূলত "পাহাড় হারিয়ে যাওয়া" (পুরো পাহাড় ধ্বংস) এবং বৈধ স্ট্যান্ডার্ড সংজ্ঞা না থাকা নিয়ে। কারণ রাজ্যের নিজস্ব ১০০ মিটার সংজ্ঞা আগে থেকেই ছিল, যা ছোট পাহাড়কে সুরক্ষার বাইরে রাখত। ফলে খনন চলেছে অবাধে। হরিয়ানায় সমস্যা আরও তীব্র, কারণ রাজ্যের নিজস্ব কোনো আনুষ্ঠানিক সংজ্ঞাই ছিল না। ফলে বৈধ ও অবৈধ খনন উভয়ই যথেচ্ছ অনিয়ন্ত্রিতভাবে চলেছে, এবং রাজ্যের বনাঞ্চলের হার এমনিতেই দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন হওয়ায় প্রভাব তুলনামূলক গভীর হয়েছে। [২২]

    আরাবল্লীর মোট বনক্ষয়ের একটা তুলনামূলক লেখচিত্র দিলাম।



    # লেখচিত্রটি AI Tool এর সাহায্যে আঁকা।

    উপসংহার

    এতক্ষণ পর্যন্ত আমরা যা দেখলাম তাতে জানা যাচ্ছে ২০২৫ সালের নভেম্বরে সুপ্রিম কোর্ট ১০০ মিটার উচ্চতা-ভিত্তিক সংজ্ঞা মেনে নেওয়ার পর ব্যপক প্রতিবাদের মুখে ডিসেম্বরে সেই রায় স্থগিত করে নতুন বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয়। ২০২৬-এর মে মাসে গঠিত পাঁচ সদস্যের হাই-পাওয়ার্ড কমিটি (HPC) ICFRE-র ডিরেক্টর জেনারেলের নেতৃত্বে কাজ করছে, এবং ২০২৬ সালের ৩১ আগস্টের মধ্যে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা। এই রিপোর্টের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্ট ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ পরবর্তী শুনানি করবে। কমিটির গঠন নিয়ে আশঙ্কা এখনও অমীমাংসিত। কমিটি মূলত প্রাক্তন সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত, যা স্বাধীন মূল্যায়নের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। জুলাইয়ে কমিটি জনসাধারণ ও স্টেকহোল্ডারদের কাছ থেকে ২১ দিনের মধ্যে মতামত আহ্বান করেছিল, যা প্রক্রিয়াগত স্বচ্ছতার দিক থেকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। যদিও সেই পদ্ধতিতেও বেশ কিছু অসঙ্গতি নির্দেশ করেছেন প্রতিবাদী পরিবেশকর্মীরা। তবে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের মতামত জানা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে প্রভাব কতটা পড়বে তা এখনও অস্পষ্ট।

    ওদিকে আইনি জটিলতা চলাকালীনও হরিয়ানার আরাবল্লিতে অবৈধ নির্মাণ অব্যাহত থাকার অভিযোগ উঠছে। পাঞ্জাব হরিয়ানা হাইকোর্ট এ বিষয়ে পৃথক তদন্ত কমিটি গঠনের কথা ভাবছে। এটি দেখায়, শীর্ষ আদালতের সংজ্ঞা বিতর্ক যতই চলুক, স্থানীয় স্তরে "জমি মাফিয়া" সমস্যা ও প্রশাসনের তরফে তার দমনে সদিচ্ছার অভাব একটি সমান্তরাল সংকট হিসেবে থেকে যাচ্ছে। এটি এখনও একটি অমীমাংসিত প্রক্রিয়া, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কিছু হয় নি। ৩১ আগস্টের রিপোর্ট এবং ৭ সেপ্টেম্বরের শুনানি আসল পরীক্ষা হবে, কমিটি কি সত্যিই বিস্তৃত সংজ্ঞা বহাল রাখবে, নাকি খনি শিল্পের চাপে সংকীর্ণ করবে।




    তথ্যসূত্রঃ-
    [১] https://scroll.in/article/902835/illegal-mining-real-estate-government-inaction-are-swallowing-up-north-indias-ancient-aravallis
    [২] https://www.boneypahare.com/post/aravalli-itihas-bhugol-sabhyata-o-sangkat
    [৩]
    i) https://www.drishtiias.com/daily-updates/daily-news-analysis/protection-of-aravalli-hills
    ii) https://india.mongabay.com/2025/12/with-a-new-identity-the-aravalli-hills-stare-at-an-uncertain-future
    [৪]
    i) https://newsonair.gov.in/sc-to-constitute-expert-committee-for-holistic-examination-of-mining-in-aravallis/
    ii) https://aninews.in/news/national/general-news/supreme-court-to-constitute-expert-panel-to-define-aravalli-region20260226174826/
    iii) https://www.verdictum.in/court-updates/supreme-court/form-expert-committee-aravalli-hills-ranges-issue-extends-stay-on-mining-activities-1608788
    [৫]
    i) https://m.thewire.in/article/environment/scientists-environment-groups-urge-sc-to-reconstitute-committee-to-review-aravallis-definition
    ii) https://www.downtoearth.org.in/forests/the-supreme-courts-high-powered-committee-on-the-aravallis-gives-little-reason-for-hope
    [৬]
    i) ]https://scroll.in/article/902835/illegal-mining-real-estate-government-inaction-are-swallowing-up-north-indias-ancient-aravallis
    ii) https://www.fao.org/india/resources/success-stories/aravali-biodiversity-park--restoring-urban-biodiversity/en
    iii) https://scroll.in/article/902835/illegal-mining-real-estate-government-inaction-are-swallowing-up-north-indias-ancient-aravallis
    [৭]
    i) https://www.downtoearth.org.in/environment/why-the-land-and-mining-mafia-in-the-aravallis-can-t-be-touched-83846
    ii) https://www.pressreader.com/india/hindustan-times-amritsar/20191227/281762746167909
    iii) https://india.mongabay.com/2018/11/plunder-of-the-aravallis-risks-lives-in-north-india/
    [৮]
    i) https://scroll.in/article/902835/illegal-mining-real-estate-government-inaction-are-swallowing-up-north-indias-ancient-aravallis
    ii) https://www.pressreader.com/india/hindustan-times-jalandhar/20210216/281814286568014
    iii) https://www.tribuneindia.com/news/haryana/despite-notices-illegal-houses-mushroom-on-aravalli-land-466560
    iv) https://www.downtoearth.org.in/environment/why-the-land-and-mining-mafia-in-the-aravallis-can-t-be-touched-83846
    v) https://www.tribuneindia.com/news/haryana/illegal-construction-thrives-in-aravalli-despite-warnings/
    [৯]
    i) https://www.downtoearth.org.in/forests/uniform-definition-of-aravallis-accepted-by-supreme-court-will-be-catastrophic-for-indias-oldest-mountain-range
    ii) https://www.drishtiias.com/daily-updates/daily-news-analysis/protection-of-aravalli-hills
    iii) https://www.newsonair.gov.in/government-assures-no-immediate-threat-to-aravallis-ecology-counters-alarmist-claims/
    [১০]
    i) https://www.siasat.com/aravalli-committee-failed-to-visit-mining-impacted-villages-3522850/
    ii) https://www.counterview.net/2026/08/mining-lobby-hijacked-ajmer-hearing-on.html
    iii) https://countercurrents.org/2026/08/token-public-hearings-on-the-aravallis-condemned/
    [১১]
    i) https://www.pmfias.com/protection-of-the-aravalli-hills/
    ii) https://www.leftviews.in/environment-science-and-education-63031/views-12592/aravalli-range-height-definition-environmental-threat-59419
    iii) https://www.pmfias.com/protection-of-the-aravalli-hills/
    iv) https://www.nationalheraldindia.com/environment/explained-why-100-metre-rule-for-aravallis-poses-threat-to-delhi-ncr
    [১২] https://anantamias.com/current-affairs/aravalli-issue/
    [১৩] https://aravallibachao.org/
    [১৪] https://madrascourier.com/environment/the-aravallis-are-being-destroyed-the-fallout-will-be-severe/
    [১৫] https://www.pmfias.com/protection-of-the-aravalli-hills/
    [১৬]
    i) https://www.nationalheraldindia.com/environment/explained-why-100-metre-rule-for-aravallis-poses-threat-to-delhi-ncr
    ii) https://madrascourier.com/environment/the-aravallis-are-being-destroyed-the-fallout-will-be-severe/
    [১৭]
    i) https://link.springer.com/article/10.1007/s12040-022-01957-3
    ii) https://ddma.delhi.gov.in/ddma/earthquakes iii)https://vajiramandravi.com/current-affairs/delhi-earthquake/
    iv)https://www.orissapost.com/3-5-magnitude-tremor-recorded-in-rajasthan/
    v) https://vajiramandravi.com/upsc-exam/earthquake/
    [১৮] https://www.sciencedirect.com/science/article/abs/pii/S0022169421004522,
    [১৯] https://www.researchgate.net/publication/326778851_Variability_in_Rainfall_for_Aravalli_Range_of_Rajasthan_India
    [২০] https://doi.org/10.3390/geographies6010029
    [২১]
    i) https://www.drishtiias.com/daily-updates/daily-news-analysis/mining-in-aravalli-range
    ii) https://www.downtoearth.org.in/forests/uniform-definition-of-aravallis-accepted-by-supreme-court-will-be-catastrophic-for-indias-oldest-mountain-range
    iii) https://www.drishtiias.com/daily-updates/daily-news-analysis/mining-in-aravalli-range
    iv) https://www.tribuneindia.com/news/haryana/raj-miners-eat-into-nuh-aravallis-haryana-to-claim-costs-plug-gaps
    v) https://www.tribuneindia.com/news/haryana/state-to-revive-25000-hectares-under-aravalli-green-wall-project
    [২২]
    i) https://www.downtoearth.org.in/mining/aravallis-broken-beyond-repair-63812
    ii) https://m.thewire.in/article/environment/after-govts-clarification-fsi-says-it-hasnt-carried-out-study-stating-90-of-aravallis-left-unprotected
    iii) https://www.pressreader.com/india/hindustan-times-patiala/20181026/282102047663379
    iv) https://www.drishtiias.com/daily-updates/daily-news-analysis/mining-in-aravalli-range
    v) https://india.mongabay.com/2025/12/with-a-new-identity-the-aravalli-hills-stare-at-an-uncertain-future/


    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক।
    পর্ব ১ | পর্ব ২ | পর্ব ৩
  • আলোচনা | ২৯ আগস্ট ২০২৬ | ১৯৭ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • nandini | ৩০ আগস্ট ২০২৬ ১৪:০৯742427
  • পড়ছি। কত বছর আগে গেছলাম মাউন্ট আবু। এখন সেখানে আর তেমন ঠান্ডা পড়ে না। কেমন হয়ে গেছে সব।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। দ্বিধা না করে প্রতিক্রিয়া দিন