এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • সরকার আসে সরকার যায় চা শ্রমিকদের কথা কে ভাবে? 

    selim khan লেখকের গ্রাহক হোন
    ২৯ আগস্ট ২০২৬ | ১২ বার পঠিত
  • বাংলাদেশে বর্তমানে চা বাগানের সংখ্যা ১৭০। এছাড়া উত্তরবঙ্গে ক্ষুদ্রায়তন চাষী ছাড়াও সারা দেশের বিভিন্ন এলাকাসহ পার্বত্য চট্টগ্রামেও চা চাষ বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এসব খাতে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ করেন ৯৭ হাজার স্থায়ী শ্রমিক। এছাড়া প্রতি বছর চা চাষের সঙ্গে অস্থায়ীভাবে আরো ৪০-৫০ হাজার শ্রমিক কাজ করেন। সব মিলিয়ে দেশে চা শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার।স্ট্যাটিস্টিক্যাল হ্যান্ডবুক অন বাংলাদেশ টি ইন্ডাস্ট্রি বুক ২০১৯-এর তথ্য মতে, দেশের ১৬৬টি (বর্তমানে ১৬৮টি) চা বাগানে স্থায়ী শ্রমিকের সংখ্যা ১ লাখ ৩ হাজার ৭৪৭। অস্থায়ী চা শ্রমিকের সংখ্যা ৩৬ হাজার ৪৩৭ এবং চা জনগোষ্ঠীর মানুষের সংখ্যা ৪ লাখ ৭২ হাজার ১২৫ জন।
    সকালের আলো ফোটার আগেই ঘুম থেকে উঠতে হয় চা শ্রমিকদের। একমুঠ মুড়ি আর এক কাপ চা খেয়ে কাজে নেমে পড়েন শ্রমিকরা। কাঠফাটা রোদে দিনভর সংগ্রহ করেন চা পাতা। দুপুরে এক ফাঁকে চা পাতার চাটনি মেখে খান ভাত, কখনো সঙ্গে থাকে মুড়ি কিংবা চানাচুর। বৃষ্টিতে ভিজে, খালি পায়ে, জোঁক আর বিষাক্ত সাপের সঙ্গে যুদ্ধ করে চা বাগানকে আঁকড়ে জীবন জীবন পার করছেন চা শ্রমিকরা।
    বংশ পরম্পরায় যে জমিতে চা শ্রমিকরা বসবাস করেন, সেই জমির ওপর কখনোই মেলে না অধিকার। তাই মাথা গোঁজার আশ্রয়টুকু ধরে রাখতে হলে পরিবারের কাউকে না কাউকে বাগানে কাজ করতেই হয়। দিনশেষে ২৩ কেজি পাতা তুললেই তবে পূরণ হয় মাথাপিছু লক্ষ্যমাত্রা। এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হলেই তবে ‘হাজিরা' হিসেবে গণ্য করা হয়। গাছ ছাঁটার সময় সারা দিনে অন্তত ২৫০টা চা গাছ ছাঁটতে হয়। কীটনাশক ছিঁটানোর বেলায় সারা দিনে অন্তত ১ একর জমিতে কীটনাশক ছিঁটানোর লক্ষ্যমাত্রার বোঝা কাঁধে নিয়ে কাজ করতে হয় তাদের।
    শ্রীলংকায় চা শ্রমিকের দৈনিক মজুরি সাড়ে পাঁচশ টাকার মতো। চা উৎপাদনকারী দেশ কেনিয়া ও ভারতে তা যথাক্রমে ৪৮৩ ও ২৫৬ টাকা। অন্যদিকে বাংলাদেশে প্রতিজন শ্রমিক দৈনিক ৮ ঘণ্টা কাজের বিনিময়ে পান ১৭৯ টাকা।২০১৫ সালের দিকে দেশে চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ছিল ৮৫ টাকা। আন্দোলনের পর সেটি বাড়িয়ে ১০২ টাকা এবং পরবর্তী সময়ে ১২০ টাকা করা হয়। ২০২২ সালে বৃহৎ শ্রমিক আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি বাড়িয়ে করা হয় ১৭০ টাকা। এরপর সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রতি বছর ৫ শতাংশ হিসেবে মজুরি বাড়ছে। এখন শ্রমিকরা দৈনিক মজুরি পাচ্ছেন ১৭৮ টাকা ৫০ পয়সা। আগামী আগস্টে মজুরি আরো ৫ শতাংশ বৃদ্ধির কথা রয়েছে। একই সঙ্গে শ্রমিকরা প্রতি সপ্তাহে ৩ দশমিক ৩ কেজি ভর্তুকি মূল্যে আটা বা চাল পান বাগান মালিকের কাছ থেকে (প্রতি কেজি ২ টাকা হারে)। এছাড়া বাগানের বাসস্থান, কৃষিজ জমি, স্কুল, প্রাথমিক চিকিৎসা, বোনাসসহ বিভিন্ন সুবিধা পেয়ে থাকেন শ্রমিকরা। কিন্তু দেশীয় বাস্তবতায় চা শ্রমিকদের জন্য দেয়া এসব সুবিধা খুবই নগণ্য।
    বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নিপেন পাল বলেন, ‘একজন চা শ্রমিক দৈনিক যে মজুরি পান সেটি খুবই নগণ্য। মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার জন্য যে সুবিধা পাওয়ার কথা তার সঙ্গে চা শ্রমিকদের মজুরি ও সুবিধার কোনো মিল নেই।’
    May be an image of ‎text that says "‎100 টাকা অবিলুয়ে অরবিলষ ম্জুরা চুাই ক্তি দিতে হয়ে বান্ডিবায়ন বাক্চরায়ন দিতে করতেহরে বঘতে হবে করে 93 বরে দাও চা মমিকদের জন্য এতবুলেন্স টিতে م দিবে হবে IHN সরকার আসে সরকার যায় শ্রমিকদের কথা কে ভাবে? জরাজীর্ন বাসস্থান আর ম্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি উপেক্ষিত থাকায় यম্ষਾ, কুষ্ঠ, ম্যালেরিয়া ও জরায়ু ক্যান্সারে ভুগছেন চা শ্রমিকরা। মৌলভীবাজারে কুষ্ঠ রোগ মোট শনাক্তের ৮৩ ভাগই চা জনগোষীর মানুষ। ১৮ বছরের আগে বিয়ে হয়ে যাচ্ছে ৪৬ শতাংশ কিশোরীর এবং মা হয়ে যাচ্ছেন ২২ শতাংশ নৃূণতম স্যানিটেশন সুবিধা নেই ৬৭ শতাংশ পরিবারের। জরামু ক্যান্সারে ভুপছেন প্রায় ১৫ শতাংশ নারী।‎"‎
    আবার অধিকাংশ বাগানের মালিক শ্রমিকদের এই সামান্য মজুরিও নিয়মিত দেয় না। এক সপ্তাহ মজুরি দিলে পরের সপ্তাহ বকেয়া রাখে। এমন অবস্থায় কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে উঠছে চা-শ্রমিকের দিনাতিপাত।
    মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার ফুলতলা চা বাগানের শ্রমিক গায়েত্রী বুনার্জি বলেন,“আমরা অনেক কষ্টে থাকি, যা টাকা পাই সেটা দিয়ে কোনোমতে দিন পার করি। সেটাও যখন পাই না, তখন চলবো কিভাবে? আমাদের কি পেট নেই? না খেয়ে থাকবো?”
    সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে জরাজীর্ণ বাসস্থান আর স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি উপেক্ষিত থাকায় বিভিন্ন রোগে ভুগছেন চা শ্রমিকরা।
    দেশে যক্ষ্মা, কুষ্ঠ, ম্যালেরিয়া ও জরায়ু ক্যান্সারের প্রবণতা চা শ্রমিকদের মধ্যে বেশি বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। মৌলভীবাজার জেলায় প্রতি বছর যে পরিমাণ যক্ষ্মা রোগী শনাক্ত হয় এর অন্তত ৩৬ শতাংশ চা জনগোষ্ঠীর মানুষ। মৌলভীবাজার সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলায় গত চার বছরে ১৯ হাজার ৯১৪ যক্ষ্মা রোগী শনাক্ত হয়। এর মধ্যে শুধু চা বাগানের বাসিন্দা ৭ হাজার ২২০ বা ৩৬ শতাংশের বেশি।
    কুষ্ঠ রোগের চিত্রটা আরো ভয়াবহ। গত চার বছরে মৌলভীবাজারে ৭৬১ কুষ্ঠ রোগী শনাক্ত হয়। এর মধ্যে ৬৩১ জনই চা বাগানের বাসিন্দা। মোট শনাক্তের ৮৩ ভাগই চা জনগোষ্ঠীর মানুষ।
    ২০১৯ সালে সিলেট অঞ্চলের চা বাগানগুলোর স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে প্রথমবারের মতো জরিপ চালায় বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। জরিপের তথ্যানুযায়ী, অপুষ্টির কারণে চা বাগানের ৪৫ শতাংশ শিশুই খর্বকায়। ২৭ শতাংশ শীর্ণকায়। স্বল্প ওজনের শিশু ৪৭ দশমিক ৫ শতাংশ। তাছাড়া ১৮ বছরের আগে বিয়ে হয়ে যাচ্ছে ৪৬ শতাংশ কিশোরীর এবং মা হয়ে যাচ্ছেন ২২ শতাংশ। এছাড়া ন্যূনতম স্যানিটেশন সুবিধা নেই ৬৭ শতাংশ পরিবারের।
    এর আগে ২০১৮ সালে বেসরকারি সংস্থা সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি) গবেষণা করে জানায়, মৌলভীবাজারে চা বাগানের প্রায় ১৫ শতাংশ নারী জরায়ু ক্যান্সারে ভুগছে।
    চা শ্রমিকরা জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের দায় ক্রমাগতভাবে রাষ্ট্র অস্বীকার করে যাচ্ছে। সরকার আসে সরকার যায় চা শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মানের কোন পরিবর্তন হয় না, তাদের বিষয়টা সবসময় ই থেকে যায় উপেক্ষিত। যাদের রক্ত-ঘাম-শ্রমে আপনি টি স্টল কিংবা দামী এসি রুমে বসে দামী চায়ে তৃপ্তির চুমুক দিচ্ছেন তাদের খোঁজ নিয়েছেন কখনো? ভেবেছেন এই রক্তচোষা রাষ্ট্রের পরিবর্তন কীভাবে আনা যায়?
     

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লাজুক না হয়ে মতামত দিন